লুঙ্গি রভেলউিশন

০২ রা জুলাই, ২০০৭ রাত ১১:৫৫

শেয়ার করুন:                   Facebook

ফুল ফুটেছে থোকা থোকা
তাতির পুতে বড়ই বোকা
জোলার ছাওয়াল জোলারে
লুঙ্গি গামছা ঝোলারে
পান খাওয়ালি বিনা চুনে
তবু তাতি লুঙ্গি বোনে
তাতির পুত গো করি মানা
লুঙ্গি থুইয়া শাড়ি বানা
দেশ ভইরাছে মাইয়া লোকে
শাড়ি বানা থাকবি সুখে
সোনার দেশের মানুষরে কই
লুঙ্গি পরার পুরুষ কই?

বিশ্ব জুড়ে লুঙ্গির জ্ঞাতিগোষ্ঠী আর ব্যবহারকারীর সংখ্যাটি জানা থাকলে কবি আসাদ চৌধুরীর আফসোস ‘লুঙ্গি পরার পুরুষ কই’ Ñ হয়তো থাকতো না। এতো রিলাক্সড পোশাক বিশ্বে দ্বিতীয়টি রয়েছে কি না তা বিশেষজ্ঞদেরও জানা নেই। এ সরল পোশাকটির রয়েছে নানা গুণ, রয়েছে বহুমুখী ব্যবহার।
উত্তর ইনডিয়ার এক লোকগীতিতে লুঙ্গির প্রশস্তি গাওয়া হয়েছে এভাবেÑ যখন তুমি সাদা রঙের হও/তখন তুমি সাধারণ পোশাক/রঙটা উজ্জ্বল হলেই তোমার উপযুক্ত জায়গা উৎসবে/মাথায় বাধলেই তুমি পাগড়ি বনে যাও/দাপুটে শীতে তুমিই তো আমার কম্বল/বাতাস থাকলেই তুমি আমার নৌকার পাল/গোসলের পর টাওয়েল/গাছ থেকে পড়ন্ত আম ধরতে তুমিই আমার ফাদ/কাছাড় মেরে কৃকেট খেলতেও আমার সমস্যা হয় না/তুমি তো বিছানারই বিকল্প অথবা প্রয়োজনে শাল/মাঝে মধ্যে হয়ে যাওয়া থলে/তোমার গুণে কার না মন গলে।
দুই মিটার দৈর্ঘ্য নিয়েই সিলিন্ডার আকৃতির এ পরিধানটির নিজস্ব ভুবন। চেক হোক আর এক রঙা হোক Ñ একটি জবরদস্ত ফ্যাশন হওয়ার যাবতীয় সম্ভাবনা যে লুঙ্গির মধ্যে লুকিয়ে আছে, তা এখন ফ্যাশন ডিজাইনারও মানছেন। ওয়েস্টার্ন একাধিক ফ্যাশন ডিজাইনার বলেছেন, প্রাচ্যের পোশাক লুঙ্গির উপযোগিতা ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হলে বিশ্বে এ সরল পোশাকটির আবেদন অনেক গুণ বেড়ে যাবে এমনকি লুঙ্গি রেভলিউশন বা লুঙ্গি বিপ্লবও হয়ে যেতে পারে।
তামিল স্টার বিক্রম তার লেটেস্ট মুভি মাজা-তে লুঙ্গি পরে অভিনয় করেছেন। প্রসাদ বিধপা তো লুঙ্গিতেই সবচেয়ে বেশি স্বস্তি পান। লুঙ্গির প্রশস্তি গেয়ে এ ফ্যাশনগুরু বলেছেন, এটি একটি দুর্দান্ত ফ্যাশন স্টেটমেন্ট। লুঙ্গি হয়ে যেতে পারে দোপাট্টা অথবা পরিধানের একটি সক্রিয় অংশ। আমি শ্রী লংকা থেকে একটি লুঙ্গি আনিয়েছি। এটি সুতির নয়, শিফনের। ডেনিম জিন্সের ওপর এটি আমি স্বচ্ছন্দে পরি। অস্বাভাবিক মনে হলেও দেখতে চমৎকার। সাবকন্টিনেন্টের আবহাওয়ার দিক থেকে একমাত্র লুঙ্গিই সবচেয়ে উপযোগী পোশাক। এটি টাইট জিনস ও ট্রাউজারের চেয়ে অনেক উত্তম। অধিকাংশ লোকই তো রাতে লুঙ্গি পরে। আমি মনে করি, এটি যে কোনো সময় যে কোনো অনুষ্ঠানে পরা যায়।
বাংলাদেশের ভিলেন খলনায়ক ডিপজল বা এটিএম শামসুজ্জামান অনেক মুভিতে লুঙ্গি পরেই অভিনয় করেছেন, আর মিনি পর্দার স্টার আবুল হায়াত লুঙ্গির মডেলও হয়েছেন।
লুঙ্গি অতি সাধারণ ও সরল পোশাক। এক বা দুই গিট্টু দিয়েই তা পরা যায়। কোমরে জড়িয়ে পায়ের দিকে ঝুলিয়ে এটি পরতে হয়। বাংলাদেশ, ইনডিয়া, শ্রী লংকা ও মিয়ানমারে লুঙ্গি অতি সাধারণ দৃশ্য। মিয়ানমারে এটি জাতীয় পোশাক হিসেবেও স্বীকৃত।
লুঙ্গিকে সাউথ ইনডিয়ার আদি পোশাক ধরা হলেও দক্ষিণ এশিয়া, আফৃকাসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে লুঙ্গির প্রচলন রয়েছে। এটির রয়েছে নানা ডিজাইন ও রঙ। সাধারণত তুলা দিয়ে তৈরি হয়। তবে এক রঙা লুঙ্গির রয়েছে বাড়তি আবেদন। প্রবীণরা সাধারণত সাদা বা সাদা চেকের লুঙ্গি বেশি পছন্দ করেন। লুঙ্গির ওপর ও নিচে শাড়ির মতো সলিড স্ট্রাইপ থাকে। স্কার্টের মতো লুঙ্গিকেও বৃত্তাকারে সেলাই করতে হয়।
বিশ্বের নানা দেশের স্থানীয় ঐতিহ্য অনুসারে পুরুষ অথবা নারী-পুরুষ লুঙ্গি পরে। তবে বিশ্বের সব জায়গায় লুঙ্গি পরার আলাদা স্টাইল রয়েছে। যেসব অঞ্চলে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার কারণে ট্রাউজার বা প্যান্ট পরিধান স্বস্তিদায়ক নয়, সেখানে নানা ফর্মে লুঙ্গির অস্তিত্ব খুজে পাওয়া যায়।
বাংলাদেশ : বাংলাদেশে পুরুষদের অতি সাধারণ পোশাক লুঙ্গি। এটি উৎসবের পোশাক নয়। কিন্তু শ্রমজীবী মানুষ এটি উৎসবেও পরিধান করে থাকে। এ দেশে নানা অঞ্চলে নতুন বরকে লুঙ্গি উপহার দেয়ার প্রচলনও রয়েছে। বিভিন্ন উৎসবে স্কুলের শিক্ষক অথবা মসজিদের ইমামকে লুঙ্গি উপহার দেয়া হয়।
বাংলাদেশের নারীরা সাধারণত লুঙ্গি পরিধান করে না। তবে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকার কিছু নারী এখনো মিয়ানমারের সারং স্টাইলে লুঙ্গি পরে। চট্টগ্রামে এটি থামি নামে পরিচিত। অবশ্য উপজাতীয় নারীদের থামি পরিধান অতি স্বাভাবিক ব্যাপার।
লুঙ্গি পরিধান করে বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত সমাজ সাধারণত ঘরের বাইরে বেরোয় না। আরামদায়ক হলেও তাদের দৃষ্টিতে লুঙ্গি ইনফরমাল পোশাক। তবে শ্রমজীবী থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত সমাজের পুরুষরা রাতে লুঙ্গিই পরিধান করে।
সাউথ ইনডিয়া : কেরালায় নারী-পুরুষ লুঙ্গি পরে। এটি ওখানে ক্যাজুয়াল ড্রেস অথবা শ্রমজীবী মানুষের সাধারণ পোশাক। এখানকার লুঙ্গি সাধারণত রঙিন। ডিজাইনেও রয়েছে চমৎকারিত্ব। প্লেইন হোয়াইট লুঙ্গি এখানে মানডু নামে পরিচিত। সামাজিক উৎসবে কেরালার নারী-পুরুষ কাসাভু নামে সোনালি জরিদার মানডু পরে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে কাসাভুতে এমব্রয়ডারি করা থাকে। এখানে গেরুয়া রঙের লুঙ্গিও জনপ্রিয়। এটি কাভি মুনডে নামে পরিচিত।
অন্যদিকে মধ্য কর্নাটকে রঙিন লুঙ্গি মুনডা নামেই পরিচিতি পেয়েছে। লুঙ্গির মতো দু’ভাজ করা পোশাকটির নাম পাঞ্চে। অবশ্য পাঞ্চে এখানে ফরমাল ড্রেস নয়।
অন্ধ্র প্রদেশেও রয়েছে লুঙ্গির প্রচলন। তামিল নাড়–তে শুধু পুরুষরাই লুঙ্গি পরে। পরিধানের স্টাইল কেরালার মতোই। দক্ষিণ তামিল নাড়–তে লুঙ্গি কেইলি, শরাম বা চরাম নামে পরিচিত। এখানে ভেইতি বা ভেশতি নামে আরেকটি পোশাকের প্রচলন রয়েছে। এটি অবশ্য লুঙ্গি নয়, ধুতিরই একটি বিবর্তিত রূপ। প্যান্টের ওপর দিয়ে এটি পেচিয়ে পরা হয় ফ্যাশন হিসেবে।
ওয়েস্ট বেঙ্গলে লুঙ্গি অতি দ্রুত ধুতির জায়গা দখল করে নিচ্ছে।
মিয়ানমার : মিয়ানমারে লুঙ্গিকে লঙ্গি নামে ডাকা হয়। এখানে নারী-পুরুষ সবার সাধারণ পোশাক লুঙ্গি। পুরুষের লুঙ্গি পেসো ও নারীর লুঙ্গি থামি নামে পরিচিত। ফরমাল ও ইনফরমাল অনুষ্ঠানে তারা স্বচ্ছন্দে লুঙ্গি পরে।
মিয়ানমারে একটি অতি প্রচলিত প্রবাদ বাক্য হচ্ছে, যে পুরুষ পড়তে পারে না সে তো অন্ধ। আর যে নারী তাত বুনতে পারে না সে তো পঙ্গু।
দেশটির অধিকাংশ লুঙ্গি সিলিন্ডার আকৃতি হিসেবে বোনা হয়। এতে লুঙ্গিটি আর সেলাই করা লাগে না। তবে এসব লুঙ্গি দৈর্ঘ্যে সাড়ে ছয় ফুট হলেও প্রস্থ মাত্র আড়াই ফুট। পরিধানের পর তা হাটুর সামান্য নিচে নেমে থাকে।
বাংলাদেশের সমতল অঞ্চলের লোকজন যেভাবে পায়ের টাকনু পর্যন্ত ঝুলিয়ে লুঙ্গি পরে, মিয়ানমারবাসী তা করে না। আবার বাংলাদেশে লুঙ্গি গিট্টু দিয়ে পরা হলেও মিয়ানমারে লুঙ্গিতে মোটেও গিট্টু দেয়া হয় না। তারা লুঙ্গির বাড়তি অংশ পেচিয়ে দেহের ফাকে লুঙ্গির একটি অংশ এমনভাবে স্থাপন করে দেয়, যাতে হাত ছেড়ে দিলেও লুঙ্গিটি কোমরে আটকে থাকে।
পুরুষদের লুঙ্গি সাধারণত চেক প্যাটার্নের হয়। অন্যদিকে নারীদের লুঙ্গি (থামি) মাল্টি কালারড ও ফোরাল প্যাটার্নের হয়ে থাকে। পরিধানের পর থামি দেখতে অনেকটা ওয়েস্টার্ন স্কার্টের মতো।
মিয়ানমারের বিখ্যাত লুঙ্গির মধ্যে রাখাইন লুঙ্গি, কচিন লুঙ্গি, ইনলি লুঙ্গি, জিন মি লুঙ্গি, ইয়াও লুঙ্গি, শিক কুপ লুঙ্গি, দেবি লুঙ্গি অন্যতম।
সোমালিয়া : মধ্যযুগে স্পাইস রুট আবিষ্কৃত হওয়ার পর আফৃকান সোমালিয়ানরা এশিয়ানদের সংস্পর্শে আসে এবং মুসলিম বণিকদের কাছ থেকে লুঙ্গির ব্যবহার শেখে। লুঙ্গির সঙ্গে তারা কুফি বারাবি নামে একটি কোর্তা পরে। অবশ্য এটি তাদের ফরমাল ড্রেস নয়। ঘরে বিশ্রামকালে তারা লুঙ্গি পরে। এক সময় তারা শুধু সাদা লুঙ্গি পরতো। এখন ইনডিয়ান কালচারের প্রভাবে রঙিন লুঙ্গিও তাদের প্রিয়।
সার্কভুক্ত দেশ মালদ্বীপেও রয়েছে লুঙ্গির প্রচলন। মিডল ইস্টের দেশগুলোর মধ্যে ইয়েমেনের যে কোনো বয়সী পুরুষ লুঙ্গি পরে। এটাকে তারা মাউয়িস নামে ডাকে।
লুঙ্গির জ্ঞাতি ভাই
সারংকে যে কোনো বিবেচনায় লুঙ্গির জ্ঞাতি ভাই বলা চলে। পরিধানের প্রক্রিয়ায় ভিন্নতা আছে। নইলে এটাকে ধুতি বলাটাই অধিকতর যৌক্তিক হতো। অবশ্য ধুতি সর্বজনীন পোশাক হয়ে উঠতে পারেনি। কেননা এটার মধ্যে রয়েছে বিশেষ ধর্মীয় আবহ।
সারং হচ্ছে লম্বা এক খ- কাপড় যা কোমরে পেচিয়ে পরতে হয়। বলা যায় এটি অনেকটা স্কার্টের আদলে পরতে হয়। সাউথ এশিয়া ও সাউথ-ইস্ট এশিয়ার বিভিন্ন অংশ, আফৃকার বিভিন্ন দেশসহ অধিকাংশ প্যাসিফিক আইল্যান্ডে সারং একটি সাধারণ পোশাক। এটি সাধারণত উজ্জ্বল রঙের হয়। এতে নানা প্যাটার্নে প্রাণী, ফুল বা গাছের ছবি অঙ্কিত থাকে।
সারংয়ের সুবিধা হলো, এটি দেহের ওপরের অংশেও পরিধান করা যায়, যা লুঙ্গিতে মানাবে না। শুধু তাই নয়, মাঝে মধ্যে এটি ঘরের পর্দা, শাল, শিশু বহনকারী দোলনা হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
সারং নারী-পুরুষ উভয়েই পরতে পারে। মালয় জনগণ এটাকে শিয়েত নামে ডাকে। এটি এক গজ প্রশস্ত ও আড়াই গজ লম্বা হয়ে থাকে।
সারংয়ের মাঝখান বরাবর ক্রমশ সরু। এ সরু অংশে প্রায় এক ফুট প্রস্থের একটি উজ্জ্বল রঙের বাড়তি কাপড় থাকে। এটি সারংয়ের মাথা বা কিপালা নামে পরিচিত। এটি সারংয়ের সরু অংশের সঙ্গে টিউব আকারে জোড়া লাগানো থাকে। মালয়শিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ব্রুনেইয়ের যে কোনো ধর্মের লোকের এটি অতি সাধারণ পোশাক। মালয়রা সারং পরেই নামাজ পড়ে।
গাঠনিক দিক থেকে সারং ইনডিয়ার কেরালার মানডু, তামিল নাড়–র সরল বেশ কাছাকাছি। নর্থ আমেরিকায়ও সারং রয়েছে। তবে এসব অঞ্চলের সারং বেশ পাতলা বা হালকা কাপড় দিয়ে তৈরি হয়। হাতে বোনা তাত দিয়ে তারা সারং বানায় না। বরং তাদের সারংয়ের দুই প্রান্ত বেশ অলঙ্করণময় হয়ে থাকে। অবশ্য নর্থ আমেরিকায় নারীরা সুইমিংওয়্যারের কভার আপ হিসেবে সারং পরিধান করে।
সারং পরিধানের বা বাধার নিয়ম বিশ্বের সব অঞ্চলে এক নয়। কেউ সারংয়ের প্রান্ত কাপড়ের ভাজে গুজে, কেউবা গিট্টু মেরে, আবার কেউ বেল্ট দিয়ে বেধে এটি পরে। তবে সারং যেমন সেলাই যুক্ত হতে পারে, তেমনি ধুতির মতো সেলাই বিহীনও হতে পারে।
সারং পরিধানের স্টাইলে ভিন্নতা আছে, নামেও রয়েছে ভিন্নতা। পূর্ব আফৃকায় এটি কানগা, কিটোঙ্গা বা চিটোঙ্গা নামে পরিচিত। কেউ কেউ কিকোই নামেও ডাকে। মাদাগাস্কারে এটি লেমবা, মালাবিতে চিতেনজি, মরিশাসে প্যারিওস, মোজাম্বিকে ক্যাপুলানা, সোমালিয়ায় মায়িজ, সাউথ আফৃকায় কিকোই, জিম্বাবুয়েতে জেম্বিয়াস, শ্রী লংকায় সরমা, কম্বোডিয়ায় স্যামকাট সুহরং বা সুহরং, ইন্দোনেশিয়ায় কাইন সুরং, মালয়শিয়ায় কাইন, কাইন সারুং বা কাইন স্যামপিন, মিয়ানমারে লঙ্গি, ফিলিপিন্সে ম্যালং, ফিজি দ্বীপে সুলু, হাওয়াই দ্বীপে প্যারিও, পাপুয়া নিউ গিনিতে ল্যাপল্যাপ, রটুমায় হা ফেলি, সামোয়ায় লাভালাভা, তাহিতিতে প্যারুউ, টোঙ্গায় টিউপিনু নামে পরিচিত।
১৯৩৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মুভি দি হ্যারিকেনে বলিউড নায়িকা ডরোথি লেমুর সারং পরে অভিনয় করেন এবং সাড়া জাগান। পরে তিনি মিডিয়ায় দি সারং গার্ল নামে পরিচিতি পান। এছাড়া হলিউড নায়িকা মারিয়া মুনটেজ, গিলডা গ্যারি, মিরনা লো, জেন টিয়ারনি, ফ্রান্সেস ফারমার এবং মুভিটা সারং পরে অভিনয় করেছেন। অন্যদিকে হলিউড অভিনেতা জন হল, রে মিল্যান্ড, টাইরন পাওয়ার, রবার্ট প্রেস্টন ও সাবু দস্তগীরকে সারং পরে অভিনয় করতে দেখা গেছে। এ কারণে আমেরিকানদের কাছে সারং পরিচিত।
সরল পোশাক
লুঙ্গির ধরন ও ব্যবহারিক দিকটি বিবেচনায় আনলে যে কোনো ফ্যাশন সচেতন ব্যক্তি এটা বলতে বাধ্য হবে, পশ্চিমি বিশ্ব অনেকটা লুঙ্গির আদলে কিল্ট নামের পোশাককে ফ্যাশান দুরস্ত বলে গর্ববোধ করে সাউথ এশিয়ানবাসী তার চেয়েও ডাহা আধুনিক পোশাক বহু আগে থেকে পরিধান করছে। কারণ লুঙ্গি কটন বা সিল্কের এমন একটি টিউব যাতে কোনো জিপার লাগে না। এটা গিট্টু মেরে কোমর থেকে নিমিষেই পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত ঢেকে দেয়া যায়। এটি যেমন হাইজেনিক তেমনি দেহের উপযোগী।
নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে তাকালে লুঙ্গিকে যে কোনো বিবেচনায় একটি স্বাস্থ্যসম্মত অ্যাঙ্কেল-লেনথ স্কার্ট বলা যায়। বড় সাধাসিদে পোশাক যার নেই কোনো ফাংশনাল চ্যালেঞ্জ।
ফ্যাশনের দৃষ্টিতে তাকানো হয়নি বলেই লুঙ্গিকে এতোদিন ফ্যাশন সচেতন পোশাক বলা হয়নি। বিশ্বের যে কোনো প্রান্তের মানুষ অনায়াসে এ সর্বজনীন পোশাক অতি স্বল্প সময়ে অভ্যস্ত হয়ে যেতে পারে। এ কারণে লুঙ্গি একটি পর্যটন-বান্ধব পোশাক।
হিরোডেটাস থেকে মার্কো পোলো, লুইস থেকে কার্ক Ñ সবাই এক বাক্যে স্বীকার করে গেছেন বিদেশের মাটিতে সফলভাবে টিকে থাকার জন্য প্রথমেই তিনটি কাজ সেরে ফেলতে হয়। যেমন বিদেশি ভাষা শেখা, বিদেশি খাবার খাওয়া ও বিদেশি পোশাকে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া। বিশ্বখ্যাত পর্যটকদের ফর্মুলা অনুযায়ী অতি সহজেই লুঙ্গিতে অভ্যস্ত হওয়া যায়। কারণ লাঠি যেমন একটি সরল যন্ত্র, তেমনি লুঙ্গিও একটি সরল পোশাক।
লুঙ্গি বিপ্লব সামনেই
লুঙ্গি পরলে মানুষ কি মানুষের পর্যায় থেকে নিচে নেমে যায়? সামাজিক বলয়ে জিন্সের টাইট প্যান্ট না পরলে কি ব্যক্তির সেন্স অফ পাওয়ার কমে যায়? পৃন্স চার্লস ও সিন কনারি কিল্ট পরিধান করে অথবা ডেভিড বেকহাম ও ডেভিড বোয়ি সারং পরিধানের পরও যদি ব্যক্তিত্ব না হারান, তাহলে বাংলাদেশিরা লুঙ্গি পরলে কেন আত্মমর্যাদা হারাবেন?
সম্প্রতি লন্ডনের মেট্রোপলিটন মিজউজিয়াম অফ আর্ট এক্সিবিশনে বৃটেনের পুরুষ সেলিব্রেটিরা নৈতিক, সামাজিক ও জেন্ডার কোডকে চ্যালেঞ্জ জানানোর পাশাপাশি পৌরুষত্বের ধারণাকে পুনঃসংজ্ঞায়িত করার লক্ষ্যে অবলীলায় স্কার্ট পরে ক্যাটওয়াক করেছেন। কারণ সামাজিক বিবর্তনের প্রক্রিয়ায় নারীরা আজ পুরুষদের শার্ট, সুট-কোট এমনকি টাই পর্যন্ত দখল করে নিয়েছে। ড্রেস কোডে পরিবর্তন আনতে বৃটিশ পুরুষরা এতোটুকু সাহস দেখাতে পেরেছেন। আমাদের সমাজের পুরুষদের অতোটা সাহসী না হলেও চলবে। শুধু মানসিকতা পাল্টালেই ঐতিহ্যবাহী লুঙ্গির জাত পুনরুদ্ধার হবে।
লুঙ্গি আর স্কার্ট পরে বৃটিশ সেলিব্রেটিরা কি ভুল করেছেন? মোটেও না। কারণ ঐতিহাসিক বাস্তবতা হচ্ছে, অধিকাংশ সভ্যতায় স্কার্ট ছিল পুরুষেরই পোশাক। বরং গৃক, রোমান ও ইজিপশিয়ান সভ্যতায় পুরুষরা স্কার্ট পরিধানের মাধ্যমে তাদের যৌবন ও পৌরুষত্বের প্রমাণ ফুটিয়ে তুলতে সচেষ্ট থাকতো। এ তিনটা সভ্যতার পুরুষরা ছিল যুদ্ধবাজ। স্কার্ট পরিধান তাদের যুদ্ধংদেহি মনোভাবে মোটেও আচড় কাটতে পারেনি। প্রকৃতপক্ষে এ তিনটি সভ্যতায় পুরুষরা তাদের কোমর ঢেকেই পর্যাপ্ত স্বাধীনতা উপভোগ করেছে।
হালের পশ্চিমা ফ্যাশান ডিজাইনাররা এখন প্রাচীন কালচার থেকেই অনুপ্রেরণা খুজে নিতে চান। তারা স্কটিশ কিল্টের পাশাপাশি এশিয়া, আফৃকার প্রাচীন পোশাক কালচারকে আধুনিকতার পরশ দিয়ে আপন করে নিতে চাইছেন। তারা এটা মনে করছেন বিশ্বজনীন কালচারগুলো নতুন রূপে আয়ত্ত করে নেয়ার অর্থ হচ্ছে নিজের বর্তমান সমাজ-সভ্যতা যে গতিশীল ও প্রাণবন্ত, তা নতুন করে প্রমাণ করা যায়। ঠিক এ কারণে এশিয়া, আফৃকা আর মিডল ইস্টের সারং, ধোতি, লুঙ্গি, কাফটান, কামিজ, চাইনিজ, জোব্বা আর জাপানিজ কিমোনো পশ্চিমি বিশ্বের ফ্যাশান ক্যাপিটালগুলোর জাকালো ক্যাটওয়াকে ক্রমবর্ধমান হারে জায়গা করে নিচ্ছে। অথচ প্রাচ্য সমাজের পুরুষরা প্রচ- গরমের মাঝেও কোট-টাই পরে দর দর করে ঘামছে। আর পশ্চিমি ডিজাইনাররা বিভিন্ন জাতিগত পোশাক ঐতিহ্যকে অধিকতর আরামদায়ক ও স্বাস্থ্যসম্মত পোশাক হিসেবে উপস্থাপনের জন্য সতর্ক অধ্যবসায়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
ইস্ট ইনডিয়া কম্পানি ইনডিয়া সাবকন্টিনেন্ট শাসন কালে ইনডিয়ান ঐতিহ্যের গাউন, চুগা, বুক খোলা গাউন পর্যন্ত ধারণ করেছে। পরে এসব সাবকন্টিনেন্টাল পোশাক বৃটিশ রাজপরিবারেও জায়গা করে নে

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): লুঙ্গি ;

 

  • ২০ টি মন্তব্য
  • ৩৬৪ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ২ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ০৩ রা জুলাই, ২০০৭ রাত ১২:০১
comment by: মদন বলেছেন: খাইছে!
জটিল লেখা :)
২. ০৩ রা জুলাই, ২০০৭ রাত ১২:০৭
comment by: সাইমুম বলেছেন: মদন, নারে ভাই জটিল না।
৩. ০৩ রা জুলাই, ২০০৭ রাত ১২:২১
comment by: ত্রিভুজ বলেছেন: সাইমুম ভাই দেখি পুরাই ফর্মে.... আজ রাত কাবার হয়ে যাবে আপনার ম্যারাথন দুটো পোষ্ট পড়েই....


কবিতাটা চমৎকার...
লেখাটা পড়ে আবার মন্তব্য করবো....
৪. ০৪ ঠা জুলাই, ২০০৭ রাত ১০:৪৬
comment by: সাইমুম বলেছেন: তিন হাতওয়ালা ত্রিভুজ, ক্যামন আছো? ঝগড়া কি এখনো চলে?
৫. ০৫ ই জুলাই, ২০০৭ বিকাল ৩:৪০
comment by: আপন তারিক বলেছেন: এটা অশ্লীল পোস্ট!
৬. ০৫ ই জুলাই, ২০০৭ বিকাল ৩:৪৮
comment by: সাইমুম বলেছেন: ঠিক বলেছেন ভাইয়া। কাছে পেলে চোখ টিপে দিতাম।
কাল অফিসে আসুন । কথা আছে।
৭. ১৮ ই জুলাই, ২০০৭ বিকাল ৪:১৫
comment by: রাকিব বলেছেন: সাইমুম ভাই, সত্যই আপনি জিনিয়াস!
৮. ১৮ ই জুলাই, ২০০৭ রাত ১১:১১
comment by: সাইমুম বলেছেন: রাকিব : জিনিয়াস হচ্ছে কঠিন ব্যাপার-স্যাপার। এটার প্রয়োগ অন্তত আমার ব্যাপারে সঠিক হবে না। এটা আমার বিনীত বিনয় নয়, বাস্তবতা। বরং ব্লগে অনেক জিনিয়াসের সন্ধান পেয়েছি, যাদেরকে ঈর্ষা করতে ইচ্ছে করে। কৌশিক, অরূপ, মুখফোড়, সাদিক, অপবাক, সুমন চৌধুরী এই কাতারের। অন্তত আমার বিবেচনায়।
৯. ৩১ শে জুলাই, ২০০৭ রাত ৮:১৮
comment by: সাফায়েত বলেছেন: সাইমুম: লুংগী'র উপর এত গভীর এবং গবেষনাধর্মী লেখা আমার জীবনে প্রথম পড়লাম। ধন্যবাদ।
বাংলা উইকিতে কি দিয়েছেন? না দিলে পাঠিয়ে দিন এখনই.......
১০. ৩১ শে জুলাই, ২০০৭ রাত ৮:২৯
comment by: নাভদ বলেছেন: প্প্ব্লপ্প্বগু প্প্বক্কপ্প্ব্ত্রপ্প্ব্রপ্প্ম্কপ্প্বক্কপ্প্ম প্প্ব্ব ..........
১১. ৩১ শে জুলাই, ২০০৭ রাত ৯:৩৯
comment by: সাইমুম বলেছেন: সাফায়াত : না বাংলা উইকিতে দেইনি। আপনার ই-মেইল অ্যাড্রেস দিলে পাঠিয়ে দেবো। ধন্যবাদ।
১২. ৩১ শে জুলাই, ২০০৭ রাত ৯:৪০
comment by: সাইমুম বলেছেন: নাভদ : তোমার লেখা বুঝতে পারছিনা। সরি । ভাইয়া।
১৩. ০১ লা আগস্ট, ২০০৭ রাত ৮:২৯
comment by: সাফায়েত বলেছেন: সাইমুম:
১৪. ০১ লা আগস্ট, ২০০৭ রাত ৮:৪৮
comment by: মানুষ বলেছেন: বস, হঠাৎ লুঙ্গি ধরে টানাটানি শুরু করলেন যে?
১৫. ০১ লা আগস্ট, ২০০৭ রাত ৯:৫৪
comment by: সাইমুম বলেছেন: সাফায়াত : থ্যাংকস। কাল পাঠিয়ে দেবেন। এমএস ওয়ার্ডে জিপ করে পাঠালে হবে তো?
১৬. ০১ লা আগস্ট, ২০০৭ রাত ৯:৫৯
comment by: সাইমুম বলেছেন: মানুষ : অনেকে এখন দেশের গদি ধরে টানাটানি শুরু করেছে। কেউবা গদির খুঁটি ধরে ছুলতে চাইছে। আমি কিছুই টানতে পারলাম না। তাই লুঙ্গি ধরেই টানাটানি শুরু করলাম।
১৭. ০২ রা আগস্ট, ২০০৭ রাত ১:১০
comment by: এস এম মোমিন বলেছেন: পাইছি! সেরা পার্টি অইলো অজ্ঞান পার্টি আর সেরা বিপ্লব অইলো লুঙ্গি বিপ্লব বা লুঙ্গি রেভলিউশন।
১৮. ০২ রা আগস্ট, ২০০৭ রাত ১:২৪
comment by: সাইমুম বলেছেন: মোমিন : অজ্ঞান পার্টি কি তোমার হারূ পার্টির চেয়েও ভালো?
১৯. ০২ রা আগস্ট, ২০০৭ রাত ৯:৫২
comment by: সাফায়েত বলেছেন: সাইমুম: আপনার লেখা পেয়েছি, ধন্যবাদ।
২০. ০২ রা আগস্ট, ২০০৭ রাত ১০:২৯
comment by: সাইমুম বলেছেন: ওকে সাফায়াত। থ্যাংকস।

 



 


শখ : এখন নাই
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৪৫৪৫৪