somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আদালতে যা বলেছেন মাহমুদুর রহমান

২০ শে আগস্ট, ২০১০ দুপুর ১২:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আদালত অবমাননার মামলায় সুপ্রিমকোর্র্টের আপিল বিভাগে আত্মপক্ষ সমর্থন করে শুনানিতে অংশ নিয়ে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, 'চেম্বার মানেই সরকারের পক্ষে স্টে' শিরোনামে গত ২১ এপ্রিল প্রকাশিত রিপোর্টে আমার দেশ সত্য ঘটনা তুলে ধরেছে। নির্ভুল সংবাদ প্রকাশ করেছে। আদালত কিংবা বিচারককে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্য নিয়ে কোনো রিপোর্ট করেনি। শুনানিকালে মাহমুদুর রহমান বুধবারের অসমাপ্ত বক্তব্যের পাশাপাশি উত্থাপিত বিভিন্ন আইনি প্রশ্ন ও তার সম্প্রর্কিত বিভিন্ন বক্তব্যের জবাব দেন।
মাহমুদুর রহমান তার যোগ্যতা সম্পর্কে গত বুধবার আদালতের মন্তব্যের জবাবে বৃহস্পতিবার আদালতে বলেন, আমি বুয়েট থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং, আইবিএ থেকে এমবিএ এবং জাপানে ডিপ্লোমা করেছি। এছাড়া বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং জ্বালানি উপদেদ্বা হিসেবে দায়িত্ব পালন ছাড়াও বাংলাদেশে সিরামিকস সামগ্রী তৈরি এবং তা বিদেশে রফতানির ক্ষেত্রে আমি মুখ্য ভূমিকা পালন করেছি। অথচ এগুলোকে আদালত গতকাল 'এই সেই' বলে তাচ্ছিল্য করেছেন। তিনি বলেন, আমার ৩৪ বছরের পেশাগত জীবনে 'চান্স এডিটর' (আদালতের ভাষায়) হিসেবে ২ বছর দায়িত্ব পালন আমার কাছে সবচেয়ে বেশি সন্তুষ্টির এবং গৌরবের। আমি সম্পাদক থাকা অবস্থায় দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা মানবাধিকার, স্বাধীনতা, জাতীয় স্বার্থ এবং আইনের শাসনের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। এক্ষেত্রে আমার সহকর্মীদের ভূমিকার জন্য আমি গর্বিত। আমি তাদের 'স্যালুট' করি।
মাহমুদুর রহমানের কাছে আগের দিন বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক জানতে চেয়েছিলেন, তার সাংবাদিকতার কোনো ডিগ্রি আছে কী না। সম্পাদক হওয়ার জন্য কোনো ডিগ্রির প্রয়োজন নেই বা চান্সে সম্পাদক হওয়া প্রসঙ্গে মাহমুদুর রহমান বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাংবাদিক ইত্তেফাকের সাবেক সম্পাদক মরহুম তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া, ইংরেজি পত্রিকা অবজারভারের সাবেক সম্পাদক মরহুম আবদুস সালামসহ ১৩ জন সম্পাদকের এই পেশায় আসার বিবরণ উল্লেখ করেন।
মাহমুদুর রহমান বলেন, সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইনের ক্ষেত্রে সব নাগরিকের সমান সুযোগ পাওয়ার কথা থাকলেও আদালত অবমাননার ক্ষেত্রে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস 'পিক অ্যান্ড চুজ' নীতি নিয়েছে। তিনি আদালত নিয়ে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান ও সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ড. শাহদীন মালিকসহ অন্যদের বক্তব্য প্রসঙ্গ টেনে বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস তাদের বিরুদ্ধেও কেন একই ধরনের প্রসিডিংস ড্র করছে না। গত ১১ আগস্ট ঢাকায় 'বিচার বিভাগ, পলিসি নোট' শীর্ষক এক আলোচনা অনুষ্ঠানে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানের দেয়া বক্তব্য উদ্ধৃতি করে বুধবার আদালতে মাহমুদুর রহমান বলেছিলেন, ওখানে ড. মিজান বলেছেন যেখানে মানুষের বিচার পাওয়ার সুযোগ নেই, সেখানে কিসের বিচার? এখানে গরিব মানুষের জন্য আইন; যারা বড়লোক, ক্ষমতাসীন, তাদের জন্য আইন নয়। সাধারণ মানুষের ধারণা, পয়সা দিয়ে বিচার কিনে নিতে হয়। ড. মিজানুর রহমানের বক্তব্যে আরও বলা হয়, বিচার বিভাগ স্বেচ্ছায় পরাধীনতা বেছে নিচ্ছে।
ওই সেমিনারে ড. শাহদীন মালিকের বক্তব্য উপস্থাপন করে মাহমুদুর রহমান বলেন, সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও আইন বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেছেন, সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালতে যেভাবে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত হচ্ছে, এভাবে হওয়া উচিত নয়। ২০০৩ সাল পর্যন্ত হাইকোর্টের আদেশ স্টে করার এ ধরনের প্র্যাকটিস ছিল না। এটা এখন ব্যাপকভাবে দেখা যাচ্ছে। হাইকোর্টে একটি মামলা পাঁচ-সাতদিনেরও বেশি সময় শুনানির পর আদেশ হয়। চেম্বার জজের কাছে সেই আদেশ কয়েক সেকেন্ডে স্টে হয়ে যায়, এটা ঠিক নয়। এটা শোধরাতে হবে। বর্তমানে চেম্বার জজের স্থগিতাদেশ বড় বেড়ে গেছে, এটি কমানো উচিত। হাইকোর্টের আদেশের ওপর আপিল হলে তা স্টে না করে নিয়মিত আপিল শুনানি হওয়া প্রয়োজন।
আমার দেশ-এর রিপোর্টে বিচারপতির নামের আগে 'মাননীয়' শব্দ ব্যবহার না করায় বুধবার আদালতে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে মাহমুদুর রহমান ডেইলি স্টারে প্রকাশিত আদালতের রিপোর্ট উদ্ধৃত করে বলেন, প্রধান বিচারপতির নামের আগেও তারা 'অনারেবল' শব্দ ব্যবহার করেনি। বাংলাদেশের কোনো পত্রিকায়ই 'মাননীয়' শব্দ ব্যবহার করা হয় না, এমনকি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর নামের আগেও নয় --এটাই সংবাদপত্রে রিপোর্ট লেখার রীতি। এর মাধ্যমে আদালত অবমাননা হয়েছে বলে উত্থাপিত অভিযোগ ঠিক নয়।



২৩টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×