somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... আমার একখান বই বের অইছে
‘ভুবনগাঁয়ে তথ্যের জম্পেশ সমাবেশ নিত্য মনে করিয়ে দেয়, আমরা বাস করছি গোলকায়নের যুগে। কোনো তথ্যই ফেলনা নয়, যেমন করে সংসারে আবর্জনাও সার হয়।

চারপাশের চিরচেনা খুঁটিনাটি বিষয় আর পারিপার্শ্বিকতার মাঝে লেপ্টে আছে মানবজিজ্ঞাসার বয়েসী দলিল। অনেকটা অজান্তেই এসব বিষয় নিয়ে গবেষণা আর কোলাহল চলে, নানা মাত্রায়, ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। অথচ এসব গবেষণা আর কোলাহলের সিংহভাগই রয়ে যায় অজানা।

সাংবাদিকতা সূত্রে দৃশ্যত অনেক কিছু জানার সুযোগ পেয়েছি। অথচ এসব বিষয় গুছিয়ে জানতে গিয়ে বুঝতে পারলাম ‘কোনো কিছুই জানার মতো জানতে পারিনি।’
এই অতৃপ্তি থেকেই এই গ্রন্থের গ্রন্থণা শুরু।’

সবাইকে ধন্যবাদ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29538379 http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29538379 2012-02-10 13:48:20
শব্দের পোস্টমর্টেম -২১৮ (কন্যা )
হিন্দুশাস্ত্রে নয় প্রকার কন্যার উল্লেখ আছে। যেমন নটী, কাপালিকী, বেশ্যা, রজকী, নাপিতাঙ্গনা, ব্রাহ্মণী, শূদ্রকন্যা, গোপালকন্যা ও মালাকারকন্যা। আবার বাচস্পত্য অভিধানে অহল্যা, দ্রৌপদী, কুন্তী, তারা ও মন্দোদরী - এ পাঁচজন পঞ্চকন্যা নামে অভিহিত হয়েছেন।

প্রাচীন বাংলায় কন্যা শব্দটির বানান ছিল ‘কণ্যা’ ।
জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাস কন্যা শব্দের অর্থে লিখেছেন ‘যে স্ত্রী পতি কামনা করে’।
সাধারণ অর্থে কন্যা মানে দুহিতা, মেয়ে, অবিবাহিতা কুমারী (কন্যা পাবে কুতুলে, তুমি পাবে দানফল - কবিকঙ্কন চণ্ডী; কন্যা আছে চোখ বিধুঁনী, দিলাম তোমার দান; সারাটি পালঙ্ক বেড়ি দলমল ঢলে কন্যার মাথার এলোকেশ - দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার; জল ভরিতে যাও গো কন্যা তিন সন্ধ্যা বেলা - পূর্ববঙ্গ গীতিকা; কি করিলে আমরা দেশের উপযুক্ত কন্যা হইব? - বেগম রোকেয়া; ব্রাহ্মণ বলেন কন্যা কর অবধান - ক্ষেমানন্দ দাস; কন্যাকে গোছল দিল বিরল সুস্থলে - দৌলত উজির বাহরাম খান; কিন্তু ফকীরের রাজকন্যা লাভের বাসনা যে বামনের চাঁদ ধরার আশার মত নিতান্তই অলীক - শেখ ফজলল করিম; ঘরের বাহির হইলে জানিতে কারণ। প্রখর নূপুর দিয়া কন্যার চরণ - দৌলত উজির বাহরাম খান; সেই কন্যা হৈল জান মুখ্য পাটেশ্বরী - সৈয়দ আলাওল; মনের গুমর কন্যা মনে লুকাইয়া গোয়ালিনীর কাছে কয় হাসিয়া হাসিয়া - মৈমনসিংহ গীতিকা)।
খনার বচনে কন্যা মানে আশ্বিন মাস। অন্যদিকে আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে ঘৃতকুমারী, বড় এলাচী (স্থূলৈলা), পতিত কাঁকড়ী, কাঁকরোলকে (বন্ধ্যা কর্কটচী) কন্যা বলা হয়।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29389060 http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29389060 2011-05-31 15:33:27
শব্দের পোস্টমর্টেম -২১৭ (কদম) আবার আরবি কদম থেকে আসা বাংলা কদম অর্থ পদপে (জোর কদম চলরে চল; কেউ যান ঝটকে কেউ যান কদমে কেউ যান দুলকি চালে; কেতকী কদম যুথিকা কাসুমে বর্ষায় গাঁথ মালিকা - কাজী নজরুল ইসলাম; হিটলারের গ্যাস-চেম্বার তারই এক কদম পরে - সৈয়দ মুজতবা আলী); পা (হে প্রভু! তুমি শুধু একটি কদম ওঠাবার মত আলো ফেলো - শব্নম্, সৈয়দ মুজতবা আলী); ছুটন্ত ঘোড়ার ভঙ্গি বিশেষ।
সংস্কৃত কদম্ব শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হচ্ছে ‘যা বর্ষাকাল ঘোষণা করে’। কদং মানে বর্ষাকাল। আর ‘ অম্ব’ মানে শব্দ করা = ঘোষণা করা।
কদম্ব বলতে কদম ফুল বা গাছ বোঝায়। কদম্ব গাছ নানা ধরনের হয়। এদের মধ্যে কেলিকদম্ব, গিরিকদম্ব ধারাকদম্ব, ধূলিকদম্ব, নীপকদম্ব, ভূকদম্ব, মহাকদম্ব, রাজকদম্বের নাম অভিধানে পাওয়া যায়।

বাংলা ভাষায় একটি জনপ্রিয় গানের কলি হচ্ছে ‘প্রাণসখী রে, ঐ শোন কদম্বতলায় বাঁশী বাজায় কে?’ বাংলা ভাষায় রসকদম্ব নামে আরেকটি শব্দ আছে যাতে রসও নেই কদম্বও নেই। এটা এক প্রকার মিঠাই। গোলাকৃতি প্যাড়ার উপর সাগু দানা বসানো থাকে বলে এটা দেখতে লাগে কদম্বের মতো।

কদম্ব শব্দের আরেকটি অর্থ হচ্ছে ‘যা বিরহীকে দুঃখিত করে’। (স্মৃতি তার কদম্ব ছায়ায়, যমুনার নীল জলে বৃথা মাথা কোটে - বিষ্ণু দে; সেই কদম্বের মূল, যমুনার তীর, সেই যে শিখীর নৃত্য, এখনো হরিছে চিত্ত, ফেলিছে বিরহছায়া শ্রাবণতিমির; কেশর-কীর্ণ কদম্ববনে, মর্মর মুখরিল মৃদু পবনে, বর্ষণ হর্ষভরা ধরণীর, বিরহ বিশগ্ঙ্কিত করুণ কথা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর; তখন কেবল ভরিছে গগন নূতন মেঘে, কদম্ব-কোরক দুলিছে বাদল বাতাস লেগে - সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত; যাইতে যমুনাজলে, সে কালা কদম্ব তলে, আঁখি ঠেরে আমায় বলে মালা দে রাই আমার গলে - বাংলা গান)।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29387063 http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29387063 2011-05-27 19:37:31
শব্দের পোস্টমর্টেম -২১৬ (কাপড় )
বাংলায় যা কাপড়, হিন্দিতে তা কাপড়া। তবে মারাঠি ভাষায় তা বাংলার মতই কাপড়। মধ্যযুগের বাংলায়ও কাপড় শব্দের প্রয়োগ ছিল (কাপড় উসাস করে যেন মরায়ের বড় - ককিঙ্কন চণ্ডী)।

তবে বাংলা ও মারাঠিতে 'চোপড়' এখন কাপড়ের সহচর বা অনুচর শব্দে পরিণত হয়েছে। চোপা থেকে চোপড় শব্দটি এসেছে। চোপা মানে খোসা বা ছাল। এই চোপড় বা গাছের ছালও এক সময় মানবজাতির পরিধেয় বস্ত্র ছিল। মরাঠি ভাষায়ও কাপড়-চোপড় শব্দটি চালু আছে। তবে ওড়িয়া ভাষায় কাপড়-চোপড় মানে লুগা-পটা। লুগা শব্দটি সংস্কৃতে লাঙ্গল, লঙ্গুল থেকে এবং পটা শব্দটি সংস্কৃত পট্ট থেকে এসেছে।

অমরকোষে ত্বক, ফল, কৃমি, রোম - এ চারটিকে কাপড়ের উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অতসী গাছের ছাল হতে এক কালে যে কাপড় হত, তা ক্ষৌমা (ক্ষুমা) নামে পরিচিত ছিল। কবিকঙ্কণে ‘খুঞা’ শব্দটি তারই প্রমাণ।

তবে কেউ কেউ ক্ষৌমা অর্থে 'তসর 'নির্দেশ করেছেন। এটা সঠিক নয়, দাবি করে যোগেশচন্দ্র রায় তাঁর অভিধানে লিখেছেন, ‘অমরকোষ তা বলে না’।

যাই হোক, কাপড় বলতে এককালে বোঝাতো কার্পাসজাত বস্ত্র। বর্তমানে শুধু কার্পাস কেন পশম, নাইলন ইত্যাদি যে কোনো সুতোয় তৈরি বস্ত্রই কাপড়।

সংস্কৃত ‘কর্পট’ থেকে বাংলায় কাপড় শব্দটি এসেছে। কর্পট মানে ‘অতি জীর্ণ বস্ত্র’। এক সময় নাতা, ন্যাকড়া ও কাপড় একই অর্থে ব্যবহৃত হতো। অমরকোষেও এটার সাক্ষ রয়েছে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29375756 http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29375756 2011-05-05 18:04:36
শব্দের পোস্টমর্টেম-২১৫ (কলম) বাংলা ভাষায় সাধারণত ছয় প্রকার কলমের সন্ধান পাওয়া যায়। বাংলায় বানান একই হলেও এদের উৎস ভিন্ন। আরবি ‘কলম’ বা সংস্কৃত ‘কলম’ থেকে তৈরি কলম বলতে লেখনী বুঝায়।

যে সব গাছের বীজ হয় না বা যে সব গাছের বীজ থেকে উদ্ভূত গাছে উৎকৃষ্ট ফল পাওয়া যায় না এবং ফল পেতে অনেক দেরি হয়, সে- সব গাছের কলমাকৃতির (লেখনী কলমের মতো) শাখার কিছু অংশের ছাল ছাড়িয়ে সেখানে সারযুক্ত কাদামাটি বেঁধে অথবা আরো নানা পদ্ধতিতে যে চারা উৎপাদন করে গাছের অঙ্গজ বংশ বিস্তার ঘটানো হয় তাকে ‘কলম’ বলে। এ কলম আরবি ‘কলম’ বা হিন্দি ‘কলম’ থেকে এসেছে।

আবার অভিধান, সংবাদপত্র ইত্যাদির প্রতি পৃষ্ঠায় ছাপানো লেখার স্তম্ভাকৃতির ভাগকেও বলা হয় ‘কলম’। এটাকে কথ্য ভাষায় বলা হয় ‘কলাম’। এই ‘কলম’ বা ‘কলাম’ এসেছে ইংরেজি column থেকে।

তবে আদেশ, হুকুম, নির্দেশ, লিখিত বিধান বুঝাতে আমরা যে ‘কলম’ ব্যবহার করি, তার উৎসও আরবি। বাংলা বাগধারায় ব্যবহৃত কলমরদ করা মানে আদেশ বা সিদ্ধান্ত বাতিল করা।

আবার কলমা ধান বা শালি ধান অর্থে যে ‘কলম’ ব্যবহার করি তা এসেছে সংস্কৃত থেকে (কল্ + অম)। অন্যদিকে পলবিশিষ্ট লম্বা কাচখণ্ড বা স্ফটিক বোঝাতেও ‘কলম’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়। এই ‘কলম’ এর উৎস ইংরেজি column (এক হাজার চারশ চলি­শটা করে কাঁচের কলম চব্বিশ রঙের রামধনুকের মতো আভা দিচ্ছে - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর)।

সংস্কৃত কলম্ব থেকেও কলম শব্দটি এসেছে। এই 'কলম' শব্দের অর্থ শরগাছ বা খাগ, শাকের ডাঁটা। এককালে শরগাছ বা খাগের মুখ সরু করে কেটে তা দিয়ে লেখা হত। এ কারণে কলম শব্দটি খুব বেশি নতুন নয়। সংস্কৃত মেদিনীকোষ, হেমকোষ, বিশ্ব, ত্রিকাণ্ড, জটাবধ ও শব্দকল্পদ্রুমে কলম শব্দের অর্থ ‘লেখনি’ হিসেবে পাওয়া যায়। তবে অমরকোষে কলম শব্দটি নেই। অমরকোষ সাতশ শতকে রচিত। এ কারণে মনে করা হয়, ‘লেখনি’ অর্থে কলম শব্দটি সংস্কৃত নয়, আরবি ‘কলম’ থেকে এসেছে। তবে নালী শাক বা ঘাসের ডাঁটা যে লেখনি, তার অনুরূপ শব্দ লাতিন, গ্রিক, আরবি ইত্যাদি ভাষায় পাওয়া যায়। অথচ প্রাচীন সংস্কৃত সাহিত্যে লেখনিবাচক 'কলম' শব্দের প্রয়োগ নেই। পরবর্তী যুগের সংস্কৃত সাহিত্যেও লেখনি অর্থে কলম শব্দটি বিরল। অথচ হিন্দি, তেলেগু, উড়িয়া ও বাংলা ভাষায় লেখনি অর্থে কলম শব্দের প্রয়োগ অনেক বেশি পরিমাণে দেখা যায়।

সংস্কৃতে কলমের প্রতিশব্দ হচ্ছে বর্ণতুলি, বর্ণমাতা, বর্ণতুলিকা, অক্ষর তুলিকা। কিন্তু মুসলমানরা ভারতবর্ষ শাসন করার কালে আদালতে ফারসি দফতরে ও ফারসি লেখাপড়ায় কলমদান, কাগজ, কলম, দোয়াত-কলম (দবাত্-কলম), কলমবন্ধ, কলমতরাশ ইত্যাদি শব্দের বহুল প্রচলনের কারণে কলমের সংস্কৃত প্রতিশব্দগুলোর জায়গায় কলম শব্দের প্রচলন হয়ে যায়। অর্থাৎ সংস্কৃতেও কলম শব্দটি গৃহীত হয়।

অভিধানকার যোগেশচন্দ্র রায় বিদ্যানিধির মতে, ‘অন্তত মেদেনীকোষের সময় হইতে কলম সংস্কৃত শব্দ।’

আবার প্রাচীন কালে বঙ্গদেশে ভালো ধানকে ‘কলম’ বলা হত। পরবর্তীকালে এ ‘কলম’ ধানই কলমা ধান নামে পরিচিতি পায়। কালিদাসের এক শ্লোকে­ এ ‘কলম’ বা ‘কলমা’ ধানের বর্ণনা রয়েছে। শে­াকটি হচ্ছে :
‘আপাদপদ্মপ্রণতাঃ কলমা ইব তে রঘুম।
ফলৈঃ সংবর্দ্ধায়ামার্সু উৎখাত প্রতিরোপিতা:'

অর্থাৎ ‘তারা (বঙ্গোরা) কলমা ধানের মত পা পর্যন্ত নুইয়ে পড়ে রঘুর প্রভুত্ব স্বীকার করল। নানা ফল দিয়ে তার পুজা করল। তারা আবার স্বস্থানে প্রতিষ্ঠিত হল’। কালিদাস তাঁর শে­াকের মাধ্যমে এ কলমা ধান চাষের রীতির কথাও লিখেছেন ‘উৎখাত প্রতিরোপিতা’ অর্থাৎ এক ক্ষেতে বীজ পুতে চারা গজানোর পর অন্য ক্ষেতে তা রোপন করা। ধানগাছ রোপণের এটা এদেশীয় প্রাচীন রীতি। এখনো কিছু ধান দুধকলমা, জটা কলমা নামে পরিচিত।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29374195 http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29374195 2011-05-03 10:24:34
শব্দের পোস্টমর্টেম -২১৪ (হামবড়া )
অবশ্য বাংলা একাডেমীর অভিধানে হম শব্দের মূল হিসেবে দেখানো হয়েছে সংস্কৃত ‘অহং’ শব্দকে।

মধ্যযুগের বাংলায় হম শব্দটি সর্বনাম হিসেবে ‘আমি’ বোঝাতো (আজু রজনী হম ভাগে গমায়ল - বিদ্যাপতি)।

হিন্দির অনুকরণে 'হম' শব্দটি 'হাম' হয়ে যেতেই পারে। তাই বাংলায় ব্যবহৃত হামবড়া শব্দটি কে সরাসরি হিন্দি শব্দ বলা যায় কিনা, তা নিয়ে আরো গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ হামবড়ার বানানভেদ হচ্ছে হামবড়।

আবার আরবি ‘হুম্মা’ থেকে বাংলায় হাম শব্দটি এসেছে, যা দিয়ে এক প্রকার গুটিকাযুক্ত জ্বর বোঝায়। ইংরেজিতে এ জ্বর measles নামে পরিচিত। বাংলায় এই হামের কাব্যিক নাম হচ্ছে ‘মিলমিলে’।

ফারসি 'হম্' থেকেও বাংলায় হাম শব্দটি এসেছে। এ হাম মানে সমান বা সম। কিন্তু হামছায় বা হামছায়া মানে প্রতিবেশী (হামছায়া কারো অনাহারে যায় রয়ে -তালিম হোসেন; মাটির মানুষ সে তবু তার হামছায়া জিবরিল - গোলাম মোস্তফা)। শুধু তাই নয়, এ হাম থেকেই বাংলায় হামদম (বন্ধু, প্রেমিক, সাথী), হামদর্দী (সমবেদনা), হামদিল (সখা), হামরাহী বা হামরাই (সহযাত্রী) এসেছে।

এসব শব্দে 'হাম ' থাকার কারণে সেগুলিকে হিন্দি ঠাওর করার সুযোগ কোথায়? মধ্যযুগের বাংলায় ও ব্রজবুলিতে ব্যবহৃত হামার ও হামারি শব্দদ্বয় 'আমি' অর্থে সর্বনাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে (হামারি দুখের নাহি ওর -বিদ্যাপতি)। এ দুটি শব্দের মূল সংস্কৃত ‘অস্মদ’।

যাইহোক, বিশেষণে হামবড়া বা হামবড় মানে আমিই সবচেয়ে বড় বা আমিই সর্বেসর্বা, আত্মগর্বী, অহংকারী। আবার 'হামবড়াই' বিশেষ্য। এটার অর্থ আমি বড় - এই ভাব, অহমিকা, অহংকার (হামবড়াইয়ের সংহিতা কোড বেবাক কাটে - সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত)।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29368615 http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29368615 2011-04-24 20:01:52
শব্দের পোস্টমর্টেম-২১৩ (লোক)
সুশ্রুতে লেখা আছে, লোক দুই প্রকার - স্থাবর ও জঙ্গম। বৃক্ষ, তৃণ, লতা হচ্ছে স্থাবর এবং পশু, পক্ষী, কীট, মানুষ প্রভৃতি হচ্ছে জঙ্গম। এই স্থাবর ও জঙ্গম লোকদ্বয় উষ্ণ ও শীত ভেদে আবার আগ্নেয় ও সৌম্য এই দুই ভাগে বিভক্ত। অথবা ক্ষিতি, জল, অগ্নি, বায়ু ও আকাশ এই পঞ্চভূত ভেদে বিভক্ত। এই দুই লোকের মধ্যে ভূতের উৎপত্তি চার প্রকার - স্বেদজ, অণ্ডজ, উদ্ভিজ্জ ও জরায়ুজ। একমাত্র পুরুষ এই সব লোকের অধিষ্ঠাতা।

প্রাচীন বৌদ্ধ বাংলা ও প্রাকৃত ভাষার লুক্কো, লোঅ হচ্ছে সংস্কৃত লোক শব্দের সমতুল শব্দ। লোক শব্দটির গঠন হচ্ছে সংস্কৃত লুক (দেখা) + অ।

মূলানুগ অর্থে লোক মানে মানুষের আদি জন্মভূমি। যেমন ভূলোক হচ্ছে ভূভারত বা আর্যাবর্ত, দক্ষিণাপথ ও পূর্বোদ্বীপসনাথ ভারত। ভূর্বলোক মানে অন্তরিক্ষ -- তুরস্ক, পারস্য ও অপোগস্তান। স্বর্লোক হচ্ছে ত্রিনাক -- তিব্বত, তাতার ও মঙ্গোলিয়া। আবার মহর্লোক, তপোলোক ও ব্রহ্মলোক হচ্ছে পুরো সাইবেরিয়া যা ত্রিদিব নামে পরিচিত ছিল। আর জনলোক হচ্ছে বর্তমান চীন।

অন্যদিকে পাতঞ্জল দর্শন মতে, পৃথিবী থেকে ঊর্ধ্বে ধ্রুব পর্যন্ত গ্রহ-নক্ষত্র-তারকা বিরাজিত অম্মাদাদির দৃষ্টিতে যে অবকাশময় স্থান দৃষ্ট হয়, তার নাম ভুবর্লোক। তার উপরে রয়েছে পাঁচ প্রকার স্বর্গলোক। প্রথমে মহেন্দ্রলোক, তার উপরে মহর্লোক। তার উপরে প্রজাপতিলোক বা ব্রহ্মলোক। আবার ব্রহ্মলোক তিনভাগে বিভক্ত - জনলোক, তপলোক ও সত্যলোক।

লোক মানে পৃথিবী। লোক মানে সমূহ, মানুষ, জন, ব্যক্তি (দুঃখী লোকে দয়া করে ভয়ালকে ভয় হরে - কবিকঙ্কন চণ্ডী)। ভৃত্য, মজুর, মুটে, কুলি অর্থেও লোক শব্দটি প্রচল (সঙ্গে লোক আছে? না থাকলে একজনকে ডাক)।

বর্ণ বা জাতি বোঝাতেও লোক শব্দটি ব্যবগৃত হয় (তারা কি লোক?) জন্ম অর্থেও শব্দটি চালু (পরলোক, মনুষ্যলোক)। লোকপ্রিয় অর্থে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লোককান্ত শব্দটি চালু করেছেন।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29368558 http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29368558 2011-04-24 18:37:14
শব্দের পোস্টমর্টেম-২১২ (ল্যাংবোট )
হালে বাংলায় যেসব শব্দ ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে, তাদের মধ্যে ল্যাংবোট শব্দটি অন্যতম। কারণ চামচার দাপটে ল্যাংবোট এখন কোণঠাসা। ল্যাংবোট মানেও যে চামচা।

এককালে পালতোলা জাহাজের পেছনে শেকল বা কাছি দিয়ে বাঁধা ছোট নৌকাকে বলা হতো লংবোট (long boat )। নৌকায় কোন নাবিক থাকতো না। এটা মূল পালতোলা নৌকার সঙ্গে সাগরময় ভেসে বেড়াতো। এটা সব সময় দরকারে লাগতো না ঠিকই। কিন্তু তা একেবারে অপ্রয়োজনীয়ও ছিল না।

মূল জাহাজের পেছনে পেছনে সাগরময় ভেসে বেড়ানো লংবোটের চিত্র ও অনুষঙ্গ থেকেই বাংলায় ক্ষমতাবান ব্যক্তির সঙ্গে সব সময় লেফটে থাকা ব্যক্তিই ল্যাংবোট হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। শুধু লং শব্দটি ল্যাং হয়ে গেছে - এই যা।

আবার ইংরেজি jolly boat বাংলায় জালিবোট শব্দটি এসেছে। নদী বা সমুদ্রের তীরে যাওয়ার জন্য ছোট নৌকা যা জাহাজের সঙ্গে বাধা থাকে। এটাই জালিবোট। অন্যদিকে গাধাবোট হচ্ছে গাধার মতো মালবাহী ইনজিনবিহীন ভারী পোত বিশেষ যা নিজে চলতে পারে না বলে লঞ্চ দিয়ে টেনে ধীর গতিতে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নেওয়া হয়।

গাধাবোটের আলগ্ধকারিক প্রয়োগও আছে। অন্যের ওপর নির্ভরশীল বলে ধীরগতি বা ঢিলা লোককে গাধাবোটের সংগে তুলনা করা হয়।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29367206 http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29367206 2011-04-22 13:39:26
শব্দের পোস্টমর্টেম -২১১ (লেফাফাদুরস্ত)
আসলে মাকাল ফল বললেই ল্যাঠা চুকে যেতো। অথচ মাকাল ফল বুঝতে শেষ পর্যন্ত লেফাফাদুরস্তের ঘাড়ে চাপতে হলো! উপরে চমৎকার মসৃণ লাল অথচ ভেতরে কুৎসিত কালো, তাই হল মাকাল ফল। আর বাইরের সাজসাজ্জায়, আচরণে বা আদব-কায়দায় নিখুঁত কিন্তু আসলে কপট ও ফাঁকিবাজই হল লেফাফাদুরস্ত।

ফারসি লেফাফে আর দুরস্ত মিলে তৈরি হয়েছে বাংলা শব্দ লেফাফাদুরস্ত। ফারসি লেফাফে মানে বাইরের আচরণ, ছদ্মবেশ, আড়াল, আচ্ছাদন ইত্যাদি। আর দুরস্ত মানে ত্রুটিহীন বা ভুলহীন। তাই মূলগত দিক থেকে লেফাফাদুরস্ত মানে বাইরের আবরণটি বেশ মোহনীয়, ত্রুটিহীন। অবশ্য বাক্যভঙ্গিতে লেফাফাদুরস্ত শুধু পোশাকের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, তা আদব-কায়দার ভেতরও ঢুকে গেছে।

সৈয়দ মুজতবা আলী তাঁর ‘শব্নম্’ গ্রন্থে লেফাফাদুরস্তের সাদৃশ্যে ‘পোষাকীদুরস্ত’ শব্দটি লিখেছেন (পূজোর বাজারে প্রিয়জনের হাতে তুলে দেবার মত পোষাকীদুরস্ত করে)।

উল্লেখ্য, ইনভেলাপ বা খাম অর্থে আমরা যে 'লেফাফা' শব্দটি ব্যবহার করি, তাও ফারসি 'লেফাফে' থেকে তৈরি হয়েছে (যত লিখে যাই ততই ভাবনা আসে/লেফাফার ’পরে কার নাম দিতে হবে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29365552 http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29365552 2011-04-19 16:26:05
শব্দের পোস্টমর্টেম -২১০ (রাগ )
বাংলা ভাষায় রাগ শব্দটির উপযোগিতা বেশি। সংগীত শাস্ত্রে রাগ একটি বিশাল অধ্যায়। তবে বাংলা ভাষায় রাগ শব্দের কিছু বিশেষ ব্যবহার এখন আর নেই।

এক সময় সন্তোষ অর্থে ভোগ-রাগ শব্দটির ব্যবহার ছিল, এখন নেই। রঞ্জক পদার্থের তীব্রতা বোঝাতে রাগ শব্দের ব্যবহার ছিল (সরিষা-তেলের রাগ ক্রমে কমিয়া যায়; দইর রাগ দেখিয়া দই বসাইতে হয় - বাঙ্গালা শব্দকোষ)।

ঘরের চালের বক্রতা অর্থেও (খড়ের চালে রাগ না দিলে জল কাটে না - বাঙ্গালা শব্দকোষ) রাগ শব্দের ব্যবহার রয়েছে।

সংগীতে রাগ আবার ভিন্ন চিজ। সংগীতে রাগ হচ্ছে স্বরের প্রকার বিশেষ। এটি ছয় প্রকার। ব্রহ্মার মতানুসারে শ্রী (শীতে গেয়), বসন্ত (বসন্তে গেয়), পঞ্চম (গ্রীস্মে গেয়), ভৈরব (শরতে গেয়), মেঘ (বর্ষায় গেয়), ও নটনারায়ণ (হেমন্তে গেয়)।

ভারত ও হনুম মতে ভৈরব, মালবকোষ, হিন্দোল, দীপক, শ্রী ও মেঘ। মতান্তরে বৈরব, মালব, সারঙ্গ, হিন্দোল, দীপক ও মেঘ।

প্রত্যেক রাগের ছয় ছয় রাগিণী কল্পিত হয়েছে সংগীত শাস্ত্রে। যেমন ভৈরবের ভৈরবী, বাঙ্গালী, সৈন্ধবী, গুণকেলী, গুর্জ্জরী ও রামকেলী।

মেঘের মল্লারী, সৌরবী, সায়েরী, কৌশিকী, গান্ধারী ও হরশৃঙ্গার। নটনারায়ণের কামোদী, কল্যাণী, আভিরী, লাটিকা, সারঙ্গী ও হম্বীর। শ্রীরাগের মালশ্রী, ত্রিবেণী, গৌরী, কেদারী, মধুমাধরী ও পাহাড়ী। বসন্তের দেশী, দেবকিরী, বরাটী, তোড়ী, ললিতা ও হিন্দোলী। পঞ্চমের বিভাষ, ভূপালী, কর্ণাটি, বড়হাসিকা, মালবী ও পঠমঞ্জরী (ভারতকোষ)।

প্রাচীন সংগীতবিশারদরা তাদের সমকালীন স্বরবিন্যাসকে মুখ্য ছয় ভাগে ভাগ করলেও আবার প্রতিটি রাগকে কেউ পাঁচ ভাগে কেউবা ছয় ভাগে বিভক্ত করে এক এক ভাগকে রাগের স্ত্রী কল্পনা করে রাগিণী নাম দিয়েছেন। ‘ছয় রাগ ছত্রিশ রাগিণী’ নামের প্রবাদবাক্যটির উৎপত্তি এখন থেকেই। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। দেশকালপাত্র ভেদে এ বিভাজন এক থাকেনি, থাকতে পারেনি। কারণ অনেক পুরনো রাগ বা রাগিণী যেমন হারিয়ে গেছে, তেমনি পরিবর্তিতও হয়েছে। আবার নতুন রাগিণীও চালু হয়েছে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29365517 http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29365517 2011-04-19 14:48:22
শব্দের পোস্টমর্টেম -২০৯ (যথেষ্ট)
বাংলা অভিধানগুলোতে যথেষ্ট শব্দের অর্থ হিসেবে এখন প্রচুর, অনেক, খুব, ঢের ইত্যাদিকে বেছে নেয়া হয়েছে। অথচ যথেষ্ট শব্দের মূল অর্থ ‘যথা বা যা ইষ্ট বা ইস্পিত’। সোজা কথায়, যা মঙ্গলকর ও অভিপ্রেত।

এ কারণে একজন গবেষক বলেছেন, যথেষ্ট খাওয়া হয়েছে বললে হয়তো এখনও শব্দটির মূল অর্থটির কাছাকাছি যাওয়া যাবে। কিন্তু যখন বলা হয়, লোকটি যথেষ্ট মার খেয়েছে, তখন কি আর মূল অর্থে ফিরে যাওয়া সম্ভব হবে? কষ্ট যে কারো ইষ্ট হয় না।

সংস্কৃত যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট। সংস্কৃতে যথেষ্ট মানে ইচ্ছে মতো, ইচ্ছানুরূপ। কিন্তু বাংলায় প্রচুর (যথেষ্ট পরিমাণ পানি এখনো কুয়োটিতে রয়ে গেছে), ঢের বা খুব (যথেষ্ট হয়েছে, আর খেতে পারবো না)।

অভিধানকার রাজশেখর বসু অনেক, খুব অর্থে যথেষ্ট শব্দের ব্যবহারকে অশুদ্ধ বলেছেন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29365436 http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29365436 2011-04-19 12:13:46
শব্দের পোস্টমর্টেম-২০৮ (যৎপরোনাস্তি )
অভিধান প্রণেতা হরিচরণ বন্দোপাধ্যায় মতে, ‘যারপরনাই’ থেকে যৎপরোনাস্তি শব্দটি উদ্ভূত হয়েছে। তিনি শব্দটির গঠন দেখিয়েছেন এভাবে : যৎপর + ন + অস্তি।

তাঁর বঙ্গীয় শব্দকোষে শব্দটির অর্থে বলা হয়েছে, যাহার পর নাই, অত্যন্ত, অতিশয় (সীতা দেখিয়া যৎপরোনাস্তি আহলাদিতা হইলেন - সীতার বনবাস, শিবরতন মিত্র সম্পাদিত)।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29364843 http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29364843 2011-04-18 13:22:04
শব্দের পোস্টমর্টেম - ২০৭ (লাট ) সংস্কৃত লট্ট থেকেও বাংলায় লাট শব্দটি এসেছে। মূলে সংস্কৃত লট্ট অর্থ নষ্ট স্বভাব, দুর্জন। এ কারণে নষ্ট, দুষ্ট, গর্বিত, অহংকৃত, দাম্ভিক অর্থেও লাট শব্দটি প্রচলিত।

আবার বাংলায় লাট শব্দটি রঙ্গ তামাশা বা ব্যঙ্গচ্ছলে ইয়ার অর্থে ব্যবহৃত হয় ( কি লাট! খবর কি?)। প্রভু বা সর্বময় কর্তা অর্থেও লাট শব্দের প্রয়োগ রয়েছে (ভারি আমার লাট এসেছেন)।

সংস্কৃতেও লাট শব্দটি রয়েছে। আর সংস্কৃ ত 'লাট' অর্থ দক্ষিণ গুজরাটের প্রাচীন নাম, পণ্ডিত, রসজ্ঞ, জীর্ণ বস্ত্রাদি।

ইংরেজি lot শব্দ থেকেও বাংলায় লাট শব্দটি এসেছে। এ লাট মানে নিলামে একসঙ্গে বিক্রেয় দ্রব্য সমষ্টি, জমিদারির অংশ, নির্দিষ্ট দিনে দেয় খাজনা।

আবার ইংরেজি lord থেকেও বাংলায় লাট শব্দটি উদ্ভূত হয়েছে। এই লাট মানে গভর্নর রাজ্যপাল বা তার সমমানের পদস্থ কোনো কর্মকর্তা।

সংস্কৃত 'যষ্টি' থেকেও লাঠি অর্থে বাংলায় 'লাট' শব্দের উৎপত্তি হয়েছে। জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাস শব্দটির বিবর্তন দেখিয়েছেন এভাবে ষষ্টি> ষাট > লাট।

ব্রিটিশ শাসনামলে লাট বলতে জমিদারির এমন অংশ বিশেষ বুঝাতো যা বকেয়া খাজানার দায়ে কর্তৃপক্ষ প্রকাশ্য নিলামে বেচে দিতেন। সহজে নিলামযোগ্য হবার কারণে অধিক লাভের আশায় ইংরেজ সরকার নতুন অধিকৃত বা আবাদকৃত বিস্তৃত ভূখণ্ডের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভাগ বা লাট তৈরি করতো। এ লাটের নিলাম ক্রেতাকে লাটদার বা লাট খরিদ্দার বলা হতো। বাংলাদেশের খুলনা ও যশোর অঞ্চলে লাটদারের সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি। তারা ছিলেন মূলত নিম্ন শ্রেণীর মধ্যস্বত্বভোগী।

আবার দেশি শব্দ লাট মানে পাট ভাঙা বা এলোমেলো (জামাটি একেবারে লাট হয়ে গেছে), ধরাশায়ী (চোরটিকে মেরে লাট বানানো হয়েছে)। ক্রিয়াপদেও লাট শব্দের ব্যবহার আছে। লাট খাওয়া মানে উড্ডীয়মান বস্তুর উল্টোমুখো হয়ে নিচে পড়া বা পতনোল্ন্মুখ হওয়া (ঘুড়িটি দর্শনীয়ভাবে লাট খাচ্ছে)।

অন্যদিকে হিন্দি লাঠ্ থেকে বাংলায় আগত লাট শব্দের ব্যবহার এখন বিরল। এ লাটের অর্থ স্তম্ভ (ভারতের নানা প্রান্তে অশোক লাটের অস্তিত্ব রয়েছে)। সংস্কৃতে গুজরাটের প্রাচীন নাম হচ্ছে লাট।

তবে ইংলিশ ভাষাভাষীরা লাট শব্দটির অধঃপতন দেখে কেঁদেও দিতে পারেন। সোসিও-সাইকোলজিকাল কারণে লাট শব্দটি শেষ পর্যন্ত অবজ্ঞা আর গালির পর্যায়ে চলে গেছে। ‘হুকুম দেখ না, যেন লাট সাহেব’, ‘কোথাকার লাটবাহাদুর’, ‘ভারি আমার লাট সাহেব’, ‘আর লাটগিরি দেখাতে হবে না’, ‘কত্তো লাটবেলাট দেখলাম’, ‘তুমি আমার লাটের বাঁট’ - ইত্যাকার শ্লেষগুলো কিন্তু ঔপনিবেশিক ইংরেজদের প্রতি আমাদের ঘৃণা থেকেই তৈরি হয়েছে। সেই থেকে বাংলায় লাটকে আর জাতে তোলা সম্ভব হয়নি (পোড়ো জমি চষে শেষে স্বত্ব জমে লাট কি বেলাট/সে সন্ন্যাস তবে ছদ্মবেশ - জীবননান্দ দাশ)। কারণ বাংলায় প্রচলিত এই 'লাট' শব্দটি এসেছে ইংরেজি lord শব্দ থেকে।

বাংলায় এখন ব্যগ্ঙ্গার্থে মষ্ট বড় লোক আর অত্যন্ত ক্ষমতাধর ব্যক্তি বোঝাতে আমরা লাটের ঘাড়ে চাপি।

ইংরেজি লর্ড শব্দটি বাংলায় প্রথম 'লার্ড' হিসেবে ঢোকে আর নেটিভদের কল্যাণে তা শেষ পর্যন্ত লার্ডের আরেক দফা অধপতনের পর তা লাট হয়ে যায়।

বৃটিশ শাসনামলে ভারতের সব গভর্নর জেলারেলই লর্ড ছিলেন। লেফটেনেন্ট গভর্নর আর জেনারেলদের অনেকেও লর্ড ছিলেন। এ গর্ভনর জেনারেলই পরে হয়ে যান বড়লাট, লেফটেনেন্ট গভর্নর হন ছোটলাট আর জেনারেল হয়ে যান জঙ্গিলাট। এরা ছাড়া আর কারো পক্ষে লাট হওয়া সম্ভব ছিল না। কারণ লাট হতে হলে কমপক্ষে জাতে ইংরেজ হবার শর্ত ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্য তাদের শাসনামলেই বাঙালি সমাজে কত্তো তালবেতালের লাট জন্ম নেয় এবং তারা সবাই ব্যগ্ঙ্গার্থে লাট হয়েছেন। ইংরেজদের দুঃখতো এখানেই। কারণ তাদের শাসনামলেই তাদেরকে লর্ড শব্দের অধঃপতন দেখে ও শুনে যেতে হয়েছে।

তবে লাট আর লাটে ওঠা কিন্তু এক জিনিস নয়। কারণ লাটে ওঠা মানে নিলামে একসঙ্গে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত হওয়া বা লটারির মাধ্যমে নিলামে ওঠা। লাটগিরি দেখাতে গিয়ে ইংরেজ আমলে অনেক জমিদারের জমিদারি লাটে উঠেছিল। এই লাট শব্দটি কিন্তু ইংরেজি লর্ড থেকে আসেনি। এসেছে ইংরেজি লট (lot) থেকে। লট মানে সব, গুচ্ছ, স্তূপ ইত্যাদি। এই অর্থে খাজনার দায়ে লাটবন্দি করে জমিদারি বিক্রির জন্য লাটে তোলা হতো।

এখন জমিদারি আর নেই। কিন্তু লাটে ওঠা বন্ধ হয়নি। কারণ জমিদারির পরিবর্তে এখন ব্যবসা বাণিজ্য লাটে ওঠে। আর বর্তমানে লাটে ওঠার অর্থ হচ্ছে বারোটা বাজা বা বাজানো।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29363181 http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29363181 2011-04-15 14:16:13
শব্দের পোস্টমর্টেম - ২০৬ (লাইব্রেরি)
কাগজ আবিষ্কারের আগে মানুষ গাছের ছালেই লিখতো। বাংলা ভাষায় ‘পাততাড়ি’ শব্দটি তারই প্রমাণ।

এদিক থেকে লাইব্রেরি শব্দটি ইতিহাসগন্ধী। কারণ শব্দটি মানুষের লেখনীর একটি আদিম উপাদানকে এখনও ধারণ করে আছে।

codify শব্দটিও এ জাতীয়। এক সময় মানুষ কাঠের ফলকের ওপর অর খোদাই করেও যে লিখন কার্য চালাতো, তার প্রমাণ codify শব্দটি। শব্দটির মূলে রয়েছে লাতিন codex. লাতিন codex অর্থ কাঠের টুকরা।

বাংলা ভাষায় পাততাড়িই নয়, পত্র শব্দটিও এটা প্রমাণ করে, মানুষ এক সময় গাছের পাতার ওপর চিঠি লিখতো।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29363116 http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29363116 2011-04-15 12:00:07
শব্দের পোস্টমর্টেম -২০৫ (রামকান্ত) বাংলা একাডেমীর ব্যবহারিক বাংলা অভিধানে শব্দটির মূল অজ্ঞাত দাবি করা হয়েছে। হরিচরণ তাঁর অভিধানে সন্দেহের সাথেই লিখেছেন, ‘জুতার পাটির মত দীর্ঘ পুরু চামড়ার পাটি’।

অথচ দীনবন্ধু মিত্র তাঁর ‘নীলদর্পণ’ নাটকে রামকান্ত শব্দটি বেশ সাবলীল ভাবে ব্যবহার করেছেন (একজন মানুষকে মারিতে দুঃখ হইত, এখন দশজন মেয়ে মানুষকে নির্দ্দম করিয়া রামকান্ত পেটা করিতে পারি; চপরাও, শুয়ার কি বাচ্চা! রামকান্ত বড় মিষ্টি আছে - নীলদর্পণ)। বোঝা যাচ্ছে তিনি চাবুক অর্থে রামকান্ত শব্দটি ব্যবহার করেছেন।
হরিচরণ তাঁর অখিধানে লিখেছেন, ‘বোধহয় ইহার নির্মাতার নামে নামকরণ’।

তবে এটা ধারণা করা যায়, ইংরেজ আমলেই এ বাংলা স্ল্যাং শব্দটি সৃষ্টি হয়েছিল। আর অপশব্দ হবার কারণেই এটার মূল সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া বেশ কঠিন।

জ্ঞানেন্দমোহন তাঁর ‘বাঙ্গালা ভাষার অভিধান’-এ রামকান্ত শব্দের অর্থে লগুড়, হুড়ো, কোঁৎকা নির্দেশ করেছেন। তিনি শব্দটির ব্যাখ্যা দিয়ে লিখেছেন, ‘রামের মত পতি বাঞ্ছনীয় কিন্তু সীতা রামের হাতে পড়ে অনেক লাঞ্ছনাই সহ্য করেছিলেন। তা হতে বিদ্রুপার্থে বা বিপরীতার্থে’।

রামকান্ত শব্দের স্বাভাভিক অর্থ ধরে এগিয়ে গেলে এ জাতীয় সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া সহজ।

বাংলা একাডেমীর অভিধানে রামকান্তের সাথে শ্যামচাঁদের তুলনা করা হয়েছে। শ্যামচাঁদ মানে শ্রীকৃষ্ণ। কিন্তু কৌতুকে শ্যামচাঁদ মানে ‘নীলকর সাহেবদের প্রজা পীড়নের চাবুক’।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29361525 http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29361525 2011-04-12 16:02:20
শব্দের পোস্টমর্টেম -২০৪ (রাতা)
নরেন বিশ্বাসের ভাষায়, ‘আরবি লাল ফারসির মধ্য দিয়ে এসে ‘রাতা’কে একদম দেশছাড়া করেছে।’একই কায়দায় ফারসি ‘জমি’ এসে বাংলার ভুঁই খেত সব বেদখল করে ফেলেছে।’

ফারসি শব্দ ছাড়া বাংলা ভাষার সংসার কেমন অচল, নরেন বিশ্বাস তার একটি নমুনা দিয়েছেন এভাবে : ‘আমরা রোজদিন নরম গরম কোর্মা পোলাও না পেলেও বাগিচার গোলাপের গন্ধে, অন্দরে আতরের খুশবুতে, কিশমিশ আঙ্গুরের সুমিষ্ট রসে মশগুল থাকতে পারি। আফসোস, তাও হরহামেশা পাওয়া ভার, সেজন্যে মাঠে-ময়দানে জমায়েত হয়ে হাল জমানায় আমরা জিন্দাবাদ মুরদাবাদ আওয়াজে আসমান ফাটাই। কিন্তু তাতে কোন ফায়দা হচ্ছে না, নয়া জমানায় ওস্তাদরা কেবল সাগরেদদের ঠকিয়ে নিজেদের আখের গুছিয়ে নিচ্ছেন, আর হালফিল দুনিয়ার অসারত্ব জাহির করছেন।’


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29361437 http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29361437 2011-04-12 13:38:11
শব্দের পোস্টমর্টেম -২০৩ (রসাতল)
রসাতল মানে অধঃপাত, ধ্বংস, বিনাশ, অধোগতি ইত্যাদি। তাই আমরা রসাতলে যাই ভাষার কিশতিতে চড়ে, রূপকভাবে। সোজা কথায় ধ্বংস বা অধঃপতনের ব্যাপকতা বোঝাতে আমরা রসাতল শব্দটির ঘাড়ে চাপি।

রসাতেলের মূল কিন্তু ভারতীয় পুরাণ। স্বর্গ, মর্ত্য আর পাতাল নিয়েই ভারতীয় পুরাণের ত্রিভুবন। আবার পাতালের রয়েছে সাতটি স্তর। স্তরগুলো হচ্ছে অতল, বিতল, সুতল, তলাতল, মহাতল, রসাতল ও পাতাল। কিন্তু রসাতল বলতে যদি সর্বনাশের চরমসীমা নির্দেশিত হয়, তাহলে পাতালের দোষ ছিল কোথায়? পাতাল তো রসাতল থেকেও গভীর। আলবেরুনি তাঁর বিখ্যাত ভারততত্ত্বে পাতালের যে সাতটি স্তর বর্ণনা করেছেন, তাতে কিন্তু রসাতলকেই সবচেয়ে গভীর দেখানো হয়েছে। পরে পাতাল কেন সবচেয়ে গভীর হয়ে গেল, তা নিয়ে গবেষণা হতেই পারে।

এছাড়া বাংলা ভাষায় চতুদর্শ-ভুবন নামে একটি শব্দ রয়েছে। এটার অর্থ সপ্তস্বর্গ ও সপ্ত পাতাল। সপ্তস্বর্গ হচ্ছে ভূঃ, ভুবঃ, স্বঃ মহঃ জন, তপ ও সত্য।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29361414 http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29361414 2011-04-12 12:35:01
শব্দের পোস্টমর্টেম -২০২ (রূপসী)
আগে 'রুপসী' শব্দটি চালু ছিল। জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাস তাই শুরুতেই রুপসী শব্দটি রেখেছেন। তবে বর্তমানে রূপসীই চালু। বাংলায় একই অর্থে রূপসিনী শব্দটিও চালু রয়েছে (অলঙ আমার বাক্য শুন রূপসিনী - শীতলামগ্ঙ্গল)। এটাও ব্যাকরণ দুষ্ট শব্দ। কিন্তু চলছে। এটাকে আর পাল্টানোর দরকারও নেই।

সংস্কৃতে 'রূপস' শব্দের অর্থ রূপবান, সুন্দর (স্বর্ণরৌপ্য ঘর সব দেখিতে রূপস - কৃত্তিবাস; পিতাপুত্রে দুয়ে আটি গজালে গাঁথিল পাটি, গড়ে ভিঙা দেখিতে রূপস - কবিকঙ্কন চণ্ডী)। এ রূপস থেকেই বাংলায় স্বীলিঙ্গে রূপসী শব্দটি এসেছে। একই নিয়মে সুকেশী শব্দটি ব্যাকরণসম্মত হলেও মধুসূদন দত্ত তাঁর মেঘনাবধ কাব্যে 'সুকেশিনী' শব্দটি লিখেছেন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29359883 http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29359883 2011-04-09 19:02:35
মোবাইল অপারেটররা নামমাত্র দামে ফ্রিকোয়েন্সি পাচ্ছে : গত ১৫ বছরে সরকারের গচ্চা গেছে ৫ হাজার ২শ’ কোটি টাকা তাদের দাবি, গত ১৫ বছরের আয়-ব্যয়ের একটি সাদামাটা হিসাবকে বিবেচনায় এনে বিটিআরসি লাইসেন্স নবায়ন নীতিমালা তৈরি করেছে। এতে আগামী ১৫ বছরে দেশের মোবাইল সেক্টরের সম্ভাব্য বিকাশকে হিসাবে আনেননি। তাই ন্যূনতম ফি নির্ধারণ শতভাগ ইতিবাচক নয়। বিশেষত ফ্রিকোয়েন্সি চার্জ কমপক্ষে দ্বিগুণ ধরা হলে দেশের আয় বাড়তো। তারা মনে করেন, ২০১১ সালটি বাংলাদেশের টেলিকম সেক্টরের জন্য অতিগুরুত্বপূর্ণ বছর। কারণ, এই বছরই টেলিকম সেক্টরে এমন কিছু সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে যা আগামী ১৫ বছরের ভবিষ্যত্ নির্মাণ করে দেবে। তাই এখানে ভুল করার সুযোগ নেই।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সরকার ও বিটিআরসির সিদ্ধান্তহীনতার কারণে গত ১৫ বছরে এমনিতেই ৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা গচ্চা গেছে। অর্থাত্ ওই সময়ে দেশি-বিদেশি কয়েকটি টেলিকম অপারেটরের কাছ থেকে এই টাকা আদায় করতে পারেনি সরকার। কারণ, কয়েকটি টেলিকম অপারেটরের কাছে দেশের ফ্রিকোয়েন্সি বিক্রি না করে তা ফ্রি বরাদ্দ দিয়েছিল। তাদের মতে, এটি এমন দুর্নীতি যা ভারতের টেলিকম দুর্নীতির চেয়েও ভয়াবহ।
জানা গেছে, সম্প্রতি বিটিআরসি চারটি মোবাইল অপারেটরের লাইসেন্স নবায়নের খসড়া তৈরি করতে গেলে এই ভয়াবহ চিত্র বেরিয়ে আসে।
টেলিকম বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, যেখানে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ওই সময় ফ্রিকোয়েন্সি বিক্রি করেছিল ১৪.৬ বিলিয়ন ডলারে, নরওয়ে ৮৯.৬ মিলিয়ন ডলারে, সিঙ্গাপুর ১৬৫.৬ মিলিয়ন ডলারে, ইউকে ৩৫.৩৯ বিলিয়ন ডলারে, জার্মানি ৪৫.৮৭ বিলিয়ন ডলারে সেখানে বাংলাদেশ ৫টি মোবাইল ফোন অপারেটরের কাছে ফ্রিকোয়েন্সি তুলে দিয়েছে বিনা পয়সায়।
১৯৯৬ সাল থেকে টেলিকম অপারেটররা বাংলাদেশে ব্যবসা শুরু করে। ওই সময় থেকে তারা সম্পূর্ণ ফ্রি চার্জে সর্বমোট ৯২ মেগাহার্জ ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করে আসছে। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের ফ্রিকোয়েন্সির পরিমাণ ২২ মেগাহার্জ। রবি’র ১৪ দশমিক ৮ মেগাহার্জ, বাংলালিংক ১৫ মেগাহার্জ, এয়ারটেল ১৫ মেগাহার্জ, টেলিটক ১৫ দশমিক ২ এবং সিটিসেল ব্যবহার করছে ১০ মেগাহার্জ। ২০০৮ সালে ২২ মেগাহার্জ বিক্রি করা হয় কয়েকটি অপারেটরের কাছে। এর মধ্যে গ্রামীণফোন ৭ দশমিক ৪ মেগাহার্জ, বাংলালিংক ৫ দশমিক ১ মেগাহার্জ, রবি ৫ মেগাহার্জ কিনেছে, যা বিক্রি করে সরকার গত ৩ বছরে আয় করেছে ২ হাজার ১৬০ কোটি টাকা। অর্থাত্ এর আগে ১১ বছর সবগুলো অপারেটর হাজার কোটি টাকা দামের ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করলেও সরকারকে কোনো টাকা দেয়নি।
বাস্তবতা হচ্ছে, ২০০৮ সালে বিভিন্ন অপারেটরের কাছে ২২ মেগাহার্জ ফ্রিকোয়েন্সি বিক্রি করার পরও সংশ্লিষ্ট অপারেটরগুলোর কাছে অবিক্রীত ফ্রিকোয়েন্সি থেকে যায় আরও ৬৫ মেগাহার্জ, যা বিক্রি করা সম্ভব হলে সরকারের কোষাগারে আসতো আরও ৫ হাজার ২শ’ কোটি টাকা। অবিক্রীত ফ্রিকোয়েন্সির মধ্যে গ্রামীণফোনের ১৪.৬ মেগাহার্জ, সিটিসেলের ১০ মেগাহার্জ, রবি’র ১২.৬ মেগাহার্জ, বাংলালিংকের ১২.৬ মেগাহার্জ, টেলিটকের ১৫.২ মেগাহার্জ রয়েছে। কিন্তু এসব অপারেটর সরকারের কাছ থেকে ফ্রি ফ্রিকোয়েন্সি নিয়ে তা বিভিন্ন কোম্পানির কাছে বিক্রি করে একই সময়ে কোটি কোটি টাকা আয় করেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু চোখ-কান খোলা রাখলেই আগামী ১৫ বছরে সরকার মোবাইল ফোন অপারেটরদের কাছ থেকে কমপক্ষে ১৪ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা আয় করতে পারবে। হিসাব অনুযায়ী, এই আয়ের মধ্যে গ্রামীণফোনের কাছ থেকে আয় করা সম্ভব ৭ হাজার ৫৬ কোটি টাকা। বাংলালিংক থেকে ৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকা, রবির কাছ থেকে ৩ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা। সিটিসেলের কাছ থেকে ১ হাজার ২০ কোটি টাকা। আর এই টাকা দিয়ে চারটি যমুনা সেতু কিংবা ১০টি যাত্রাবাড়ি ফ্লাইওভার তৈরি করা সম্ভব। কারণ, যমুনা সেতুর বাজেট ছিল সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা। আর গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের বাজেটি ১৩শ’ কোটি টাকা।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, দেশের ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়নসহ টেলিকম সেক্টরের উন্নয়নের জন্য সরকার বিদেশি সাহায্য সংস্থাগুলোর কাছে একের পর এক হাত পাতলেও হাজার হাজার কোটি টাকার প্রাকৃতিক সম্পদ ফ্রি দিয়ে দিচ্ছে মোবাইল অপারেটরদের।
বর্তমানে দেশে জিএসএম প্রযুক্তির মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ৫টি ও একটি সিডিএমএ অপারেটর। বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিটিআরসির খসড়া নীতিমালা শতভাগ যৌক্তিক না হলেও এটি বাস্তবায়ন হলে মোবাইলফোন অপারেটরদের লাইসেন্স পেতে অবশ্যই তাদের ব্যবস্থাপনা পরিষদে ৫০ শতাংশ হারে বাংলাদেশী কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দিতে হবে। আর বিদেশি কর্মকর্তার সংখ্যা অবশ্যই মোট কর্মচারীর ১ শতাংশের বেশি হওয়া যাবে না। শীর্ষ ব্যবস্থাপনা পরিষদ যেমন সিইও, সিএফও, সিসিওসহ শীর্ষস্তরে দেশি-বিদেশি চাকরিজীবীর সংখ্যা হতে হবে ৫০ শতাংশ হারে। অথচ বর্তমানে মোবাইল অপারেটর কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের নিয়ম-কানুন, জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা না থাকায় বাংলাদেশী কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বর্ণবৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। কোনো জিএসএমভিত্তিক অপারেটর যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কোনো বাংলাদেশীকে সিইও হিসেবে নিয়োগ দেয়নি।
তারা বলেন, খসড়া নীতিমালায় সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, প্রতি বছর অপারেটরগুলোর মোট রাজস্ব আয়ের ১ দশমিক ৫ শতাংশ হারে সোস্যাল অবলিগেশন ফি সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার কথা বলা হয়েছে। যেটি বাস্তবায়ন হলে সরকার এই ফান্ড দিয়ে টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়নসহ ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যাপকভাবে কাজে লাগাতে পারবে।
নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, সব অপারেটরকে তাদের গ্রাহকদের জন্য গুণগত সেবা নিশ্চিত করতে হবে। কল ড্রপ, কল ভেঙ্গে যাওয়া, নেটওয়ার্ক সমস্যা এবং ভয়েস ও ড্যাটা সার্ভিসে যাতে কোনো সমস্যা না হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া প্রচুর পরিমাণে অভিযোগ কেন্দ্র, সার্ভিস সেন্টার থাকতে হবে। জরুরি ও টোল ফ্রি নম্বরগুলোর জন্য কোনো ধরনের চার্জ রাখা যাবে না।
২০০৭ সালে সেলুলার মোবাইল ফোন সংক্রান্ত টেলিকম সেক্টরের সার্বিক সংস্কার উপলক্ষে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছিল।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. রফিকুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে ৭ সদস্যের ওই কমিটিতে ছিলেন ড. মো. আবু সাইদ খান, মাহাবুব সারোয়ার, এটিএম তারিকুজ্জামান, মজিবর রহমান আল মামুন, তারেক এম বরকত উল্লাহ এবং রেজাউল কাদের। ওই কমিটি সরকারের সঙ্গে মোবাইল অপারেটরদের রেভিনিউ শেয়ারিং নির্ধারণ, মোবাইল টেলিফোনের শেয়ার পুঁজিবাজারে উন্মুক্তকরণ, মোবাইল টেলিফোনের বিভিন্ন চার্জ পুনর্র্নিধারণ, এই সেক্টরে দেশীয় জনবলের কর্মসংস্থান সুবিন্যস্তকরণসহ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মোবাইল অপারেটরগুলোকে তাদের গ্রাহকদের কাছ থেকে আয়কৃত ভাড়া ও কলচার্জের শতকরা ১৫ শতাংশ টাকা রেভিনিউ শেয়ারিং হিসেবে সরকারকে দিতে হবে। আর নতুন লাইসেন্স নবায়ন নীতিমালা সেই সিদ্ধান্তের আলোকেই তৈরি হয়েছে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29314707 http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29314707 2011-01-26 12:23:03
শব্দের পোস্টমর্টেম -২০১ (রমণী)
অন্যদিকে রামরাম বসু লিখেছেন : আছে যতনে পথে বোসে, কে রমণী সে, শ্যাম কি ধার কিছু তার।
আবার রমণীয় মানে সুন্দর, মনোহর। কিল্ন্তু ভারতীয় শাস্ত্রে রমণীয়ের বিশেষত্বে বলা হয়েছে ‘ক্ষণে ক্ষণে যল্ন্নবতামুপৈতি তদেব রূপং রমণীয়তায়া’ অর্থাৎ যে রূপ প্রতিণে নবীনত্ব প্রাপ্প্ত হয়, তা-ই রমণীয়।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29312799 http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29312799 2011-01-23 14:27:25
ট্রানজিট স্থায়ী হতে পারে
উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, ট্রানজিট সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে কোনো মন্ত্রণালয়ের প্রশ্ন তোলার অবকাশ রাখা হয়নি। আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতকে এ বারণে উপেক্ষা করা হয়েছে। আর দু'দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সিদ্ধান্তগুলোর সাথে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, পানিসম্পপদ মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও শিল্প মন্ত্রণালয় সংযুক্ত।

২০০৭ সালেই সরকার ভারতকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত নৌপথে কনটেইনার পরিবহনের অনুমোদন দেয়। এ জন্য পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনালের উন্নয়ন কাজ শুরু হয়, যা চলতি ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। পানগাঁও টার্মিনাল চালু হলে রেলওয়ের পাশাপাশি নদীপথেও ভারত থেকে কনটেইনারে পণ্য আসবে।

ত্রিপুরায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ভারী যন্ত্রপাতি পরিবহনে নদীবন্দর, সড়ক বা রেলপথের উন্নয়ন বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে করা উচিত ছিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ এটার ওপর ভারতের দাবি প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলে এটার ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে দেশটি স্থায়ীভাবে বাংলাদেশের কাছ থেকে পরিবহন সুবিধা চাইতে পারে।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে দিলিতে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে ভারত নিজ উদ্যোগেই আখাউড়া-আগরতলা রেললাইন স্থাপনের প্রস্তাব দেয়। এ রেললিংক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ভারত তার দীর্ঘদিনের চাহিদা অনুযায়ী রেল ট্রানজিট সুবিধা পেতে পারে।

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে এখন তিনটি রেললিংক চালু রয়েছে। এগুলো হলো গেদে-দর্শনা, সিংহাবাদ-রোহানপুর এবং পেট্রাপোল-বেনাপোল। এর সব ক'টি সংযোগই ব্রডগেজ রেললাইনের মাধ্যমে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রেললাইনগুলোও ক্রমান্বয়ে ব্রডগেজে রূপান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। ঢাকা ও কলকাতার মধ্যে মৈত্রী ট্রেন চালানোর জন্য ইতোমধ্যে রেললাইনকে ক্ষেত্রবিশেষে ডুয়েলগেজে রূপান্তর করা হয়েছে। আর বেনিয়া বিশ্বব্যাংক মালবাহী ট্রেন চালানোর জন্য বাংলাদেশকে পৃথক যমুনা সেতুর জন্য অর্থায়নের প্রস্তাব আগে থেকেই দিয়ে রেখেছে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29287057 http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29287057 2010-12-10 17:34:14
ট্রানজিট আমাদের কাঁদাতে পারে
আমরা হয়তো ভুলে গেছি, দেশের পারস্পপরিক সম্পর্ক নির্ভর করে উন্নয়ন-স্তরের ওপর। ইউরোপের সব দেশের ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট একই স্তরের এবং উন্নত। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো অর্থনৈতিক উন্নয়নের অভিন্ন স্তরে পৌঁছলে ট্রানজিট সবার পক্ষে উপকারী প্রমাণিত হয়। কিন্তু বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পার্থক্য শুধু আয়তনগত নয়, সব দিক দিয়ে। ভারত সামরিক-অর্থনৈতিক দিক দিয়ে অনেকটা উন্নত। এ রকম অসম অর্থনৈতিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে অর্থনীতি শাস্ত্র অনুযায়ীই ভারতের চাপে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যদিও ট্রানজিটকে ভারত অর্থনৈতিক বিষয় হিসেবে দেখানো হলেও, ভারতের মূল উদ্দেশ্য সামরিক কৌশলগত পূর্ব-উত্তর ভারতের সাতটি রাজ্যের বিদ্রোহ দমনে এবং ভবিষ্যতে চীনের সাথে কোনো যুদ্ধের আশঙ্কার সময় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দ্রুত সামরিক সরঞ্জাম এবং সৈন্য পাঠানোর জন্য ট্রানজিট তথা করিডোর পাওয়ার জন্য ভারত মরিয়া হয়ে উঠেছিল। এবং চীনের সাথে ভারতের কখনো যুদ্ধ শুরু হলে কিংবা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যের বিচ্ছিন্নতা পরিপূর্ণতা লাভের দিকে গেলে ভারত বাংলাদেশের অনুমতি না নিয়েই ট্রানজিট নামের এই করিডোর ব্যবহার করবে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে হিটলারের আত্রমণেল ভয়ে ফ্রান্স তার জার্মানির সীমান্তে অপ্রতিরোধ্য দুর্গ তৈরি করে। কিন্তু সমরবিশারদ হিটলার ফ্রান্সের সাথে যুদ্ধে না জড়িয়ে সহজে ফ্রান্স দখলের জন্য বেলজিয়ামের মধ্য দিয়ে ফ্রান্স দখল করে বসে। হিটলার বেলজিয়ামের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে পেরেছিল ট্রানজিট চুক্তির আওতায়। ওই দুর্গ ফ্রান্সের কোনো কাজে আসেনি। ভারত ও চীনের সাথে সম্ভাব্য যুদ্ধে ভারতএকই পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভারত ও বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে প্রমাণিত হয় বাংলাদেশকে দেয়া প্রতিশ্রুতি রা করার নৈতিক দায়িত্বের কোনো তোয়াক্কাই করে না ভারত (যেমন: গঙ্গার পানি বন্টন, সীমান্ত চুক্তির রেটিফিকেশন ও বেরুবাড়ী হস্তান্তর এমনকি সিডরের পর পাঁচ লাখ টন চাল বিক্রির প্রসঙ্গ)। ইতিহাসের সাক্ষ হলো : যে কোনো বৃহত্তর রাষ্ট্র তার সীমান্তবর্তী ছোট দেশকে ঠকাতে বা গ্রাস করতে কুণ্ঠিত হয় না। এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত মেক্সিকোর উত্তরাংশ দখল করে নিয়েছে, যেটা বর্তমানে নিউ মেক্সিকো প্রদেশ হিসেবে পরিচিত।

অস্ট্রো-হাঙ্গেরি ও জার্মানি দিয়ে পরিবেষ্টিত পোল্যান্ডকে তিনবার স্বাধীনতা হারাতে হয়েছে। কিন্তু দেশপ্রেমিক পোলিশরা দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় ঘোড়া দিয়ে জার্মান ট্যাঙ্ক বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করেছে। পোলিশদের মতো দেশপ্রেম থাকলেই কেবল একটি ছোট রাদ্ব্র বৃহৎ রাষ্ট্রের পাশেও দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করতে পারে।

সরকার সচেতন হলে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির পরিবর্তে সার্ক-চেতনা অনুযায়ী আঞ্চলিক চুক্তির দিকে এগিয়ে যেতে পারতো। কিন্তু আওয়ামী সরকার সে পথে এগিয়ে যেতে পারেনি। অনেকে বাংলাদেশ-চীন ট্রানজিটের স্বপ্ন দেখেন। স্বপ্ন দেখা ভালো। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, ভারত যখন নেপালের মতো ছোট রাষ্ট্রকে বড় রাদ্ব্র হয়েও এবং নিরপত্তার অজুহাতে ১৫-২০ মাইল ট্রানজিট দেয়নি, সেখানে বাংলাদেশ কেন ৫০০ মাইল ট্রানজিট দেবে?

সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় নৌ-ট্রানজিট চুক্তিতে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতও উপেক্ষা করা হয়েছে। ডিউটি, ফি, ট্যাক্স ও চার্জ গ্রহণের ব্যবস্থা না রাখায় এই ট্রানজিট চুক্তি আইডবলিউটিটি প্রটোকলের লংঘন এবং চুক্তির খসড়া ২০০৯ সালে ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত আইডবলিউটিটি চুক্তি অনুযায়ী হয়নি বলেও আইনমন্ত্রণালয় মতামত দিয়েছিল।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29286521 http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29286521 2010-12-09 19:21:46
ট্রানজিট : আর্থিক বেনিফিটের গ্যারান্টি নেই-৩
ভারত যে ছলে-বলে সো-কল্ড ট্রানজিট নিতে চাচ্ছে, তা এদেশবাসী কমবেশি জানেন। গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট অথবা প্রধান উপদেষ্টাকে নয়, ভারত বাংলাদেশের জেনারেল মইন উ আহমদকেই দেশটি সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এটার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল 'ট্রানজিট চুক্তি গেলানো'।

আমাদের এটা ভুলে গেলে চলবে না যে, জাতীয় স্বার্থের ধূয়া তুলে ভারত কিভাবে সিকিম, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কায় সেনাবাহিনী পাঠিয়েছিল। দিক্ষণ এশিয়ায় বন্ধুত্বের সব পরীক্ষায় ব্যর্থ রাষ্ট্রটির নামই তো ভারত। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের প্রতি ভারত তার পররাষ্ট্র নীতিতে মাত্র একটি নীতিদই পালন করেছে। আর তা হচ্ছে put pressure and meet the demand.

স্রেফ সেভেন সিস্টার্সের বিদ্রোহ দমন করতে ভারত তার সেনাবাহিনীর অর্ধেকটাই এখন জড়ো করেছে সেভেন সিস্টার্সে। শিঁলিগুড়ি করিডর দিয়ে ভারত সেভেন সিস্টার্সে এখন ঢুকছে। কিন্তু 'নিরাপত্তার অজুহাতে' নেপালকে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করার অনুমতি দেয়নি ভারত। শুধু তাই নয়, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় অসংখ্য জাহাজ ডুবির কারণে আমাদের চট্টগ্রাম বন্দর বেশ ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ ভারতের কাছে কলকাতা বন্দর সাময়িকভাবে ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছিল। তাও ভারত দেয়নি নিরাপত্তার অজুহাতে। এখানেই শেষ নয়। ভুটানের সঙ্গে ব্যবসা করতে নেপাল মাত্র ১৬ কিলোমিটারের ট্রানজিট চাইলেও ভারত তা দিতে রাজি হয়নি।

বিশ্বায়নের প্রেক্ষাপটে ট্রানজিট এখন অতি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক হাতিয়ার বিবেচিত। কিন্তু ভারতকে ট্রানজিট দেয়ার আগে আমাদেরকে অনেক কিছু ভাবতে হবে। কারণ ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় ব্রাহ্মণ্যবাদী নেতারা সেভেন সিস্টার্সের খনিজ সম্পদ শোষণ করার মাধ্যমে এলাকাবাসীকে আরও দরিদ্র বানানোর যে 'মহান' পরিকল্পনা নিয়ে এগুতে চাইছেন এবং সেই পরিকল্পনা ট্রানজিটের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করে ফেললে ভৌগোলিক সংলগ্ন সেভেন সিস্টার্সের অধিবাসীদের সঙ্গে বাংলাদেশের একটা স্থায়ী তিক্ততার সম্পর্ক রচিত হয়ে যাবে। এটা পৃথিবীর যে কোনো জাতির ব্যাপারে বাস্তব হতে বাধ্য। তাই বুঝে শুনে পা না দিলে তার মাশুল আমাদেরকে গুনতে হতে পারে।

তবে অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে, বর্তমান সরকারে কাছে এজেন্ডা মাত্র একটাই। আর তা হচ্ছে যত দ্রুত সম্ভব, কোনো প্রকার জরিপ ছাড়াই ভারতকে করিডর দিয়ে দেয়া। এটা বোধহয় ঠিক হচ্ছে না। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29284108 http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29284108 2010-12-05 15:41:34
ট্রানজিট : আর্থিক বেনিফিটের গ্যারান্টি নেই-২
আবার গত ৫০ বছর ধরে এখানে নানা কায়দায় বিদ্রোহ লেগেই আছে। সোজা কথায়, বাংলাদেশের সহায়তা ছাড়া সেভেন সিস্টার্সের উন্নয়ন ও বিদ্রোহ দমন মোটেও সম্ভব নয়। কিন্তু বাংলাদেশের গদিপ্রেমী 'খাই খাই' মার্কা রাজনীতিবিদরে কারণে ভারত ট্রানজিট নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে চিরস্থায়ী বেনিয়াবৃত্তিতে নামতে চাইছে। এ কারণেই প্রশ্ন উঠেছে, ভারতের সামরিক যুদ্ধে বাংলাদেশ কেন বিনিয়োগ করতে যাবে? অর্থাৎ এ চুক্তি বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার যেভাবে উঠেপড়ে লেগেছে, তা স্বাভাবিক দৃষ্টিতে দেখার সুযোগ নেই। ভারতকে যে কোনো মূল্যে করিডর দিয়ে 'ক্ষমতা' নিশ্চিত করতে চাইছে বর্তমান সরকার। এই দেউলিয়া মানসিকতা হচ্ছে পতনের পলা সবক।

আমাদের এটা ভুললে চলবে না যে, এলডিসি কান্ট্রি (লিস্ট ডেভলাপড কান্ট্রি) হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ১২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভারতের কাছে শুল্কমুক্ত পণ্য রফতানির দাবি করতেই পারে এবং দীর্ঘদিন ধরে তা করছে। কিন্তু ভারত তাতে মোটেও সায় দিচ্ছে না। সব সময় মুলো ঝুলিয়ে রাখছে।

ট্রানজিটের বিষয়টি সরকারের পক্ষ থেকে পরিষ্কার করা না হলে বাংলাদেশী জনগণের মাঝে একটা সন্দেহ থেকে যেতেই পারে। এ কারণে ট্রানটজট না দিয়ে ভারতের সঙ্গে বুঝে-শুনে স্রেফ ট্রানশিপমেন্ট চুক্তি করতে পারে। নানা পন্থায় বাংলাদেশী জনগণের কাছ থেকে সারচার্জ আদায় করে রেল ও সড়ক পথের উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব।
ট্রানজিট হলে ভারতীয় যানবাহন বাংলাদেশের সড়ক, রেল ও জলপথ ব্যবহার করবে। কিন্তু ট্রানশিপমেন্ট চুক্তি হলে ভারতীয় যানবাহন সেই সুযোগ পাবে না। কথাটা এ কারণেই বলা হচ্ছে, ট্রানজিট চুক্তি এক দিনেই বাস্তবায়ন করা যাবে না। সবার আগে নিশ্চিত হতে হবে, এদেশের জনগণ তা চাইছে কিনা। চাপিয়ে দেয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে পরে ঝামেলার চেয়ে আগেই ঝামেলা মিটিয়ে ফেলা ভালো।

মিডিয়া মারফত যা জানা গেছে, তার সারমর্ম হচ্ছে, যে সব সড়কে এবং যে সময়গুলোতে ভারতীয় ওভার ডাইমেনশনাল কার্গো (ওজন ২৯০ টন)চলাচল করবে, সেই সব সড়ক ও সময়গুলোতে ওই সব সড়কে বাংলাদেশী কোনো যান চলতে পারবে না। এটা হলো অনুমান। কারণ সরকার যদি করিডর চুক্তি করে থাকে, তাহলে এসব সড়কে মোটেও বাংলাদেশী যান চলতে পারবে না।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29283542 http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29283542 2010-12-04 18:29:11
ট্রানজিট : আর্থিক বেনিফিটের গ্যারান্টি নেই-১
উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতে (এনইআর) বাংলাদেশের জলপথ, রেলপথ, সড়কপথ ও সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করার মাধ্যমে ভারত যে পরিমাণ আর্থিক বেনিফিট পেতে যাচ্ছে, তার কত শতাংশ বাংলাদেশকে দেবে, ওটাই হতে পারতো বাংলাদেশের দর কষাকষির মূল এজেন্ডা। কিন্তু মহাজোট সরকারের আমলে এটা হয়নি। বরং ভারত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, 'ট্রানজিট ফি দেবো না'। যদিও অর্থমন্ত্রী শেষ পর্যন্ত বলেছেন, ট্রানজি ফি নেবো। কিন্তু তিনি জাতিকে এটা জানাকে পারেননি, ভারত ফি দিতে রাজি হয়েছে কিনা।
অথচ আইনগতভাবে বাংলাদেশ শুধু ট্রানজিট ফি-ই নয়, রেল, সড়ক, নৌপথ এবং সমুদ্র বন্দরের পরিচালন ব্যয় ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, পরিবেশের ক্ষতিজনিত ফি দাবি করতে পারে। লেভিও চার্জ করতে পারে। কিন্তু গোপণ চুক্তির প্রকাশিত ছিটেফোঁটা থেকে বোঝা যাচ্ছে, ভরত এসব অবকাঠামোসহ নতুন করে তৈরি যাবতীয় অবকাঠামো ব্যবহার করবে। কিন্তু সুদ গুণবে বাংলাদেশের নিরীহ জনগণ। ২০ বছর ঋণের সুদ গোনার পরও যদি টাকা বাকি থাকে, তাহলে জরিমানা হিসেবে প্রদত্ত ঋণের দ্বিগুণ টাকা ভারতকে পরিশোধ করতে হবে। কত বছরে পরিশোধ করতে হবে, তা জানা যায়নি।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে ২৫ বছরের যে মৈত্রী চুক্তি (নাকি গোলামি চুক্তি) করেছিল, সেই চুক্তি মেয়াদ শেষে নবায়ন করা হবে নাকি হবে না, সেটার একক ক্ষমতা ছিল ভারতের হাতে। যাক, মেয়াদ শেষে ভারত এ চুক্তি নবায়ন করেনি।

আসাম, মিজোরাম, নাগাল্যঅন্ড, মণিপুর, অরুণাচল,মেঘালয়ও ত্রিপুরা হচ্ছে সেভেন সিস্টার্স বা সাত বোন। এ সাত বোনের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত দেড় হাজার কিলোমিটারের বেশি। অন্যদিকে শিলিগুঁড়ি করিডরের মাধ্যমে সাত বোনের সীমান্ত মাত্র এক শতাংশ। আবার ভারতের মোট আয়তনের ৮ শতাংশ হচ্ছে এই সাত বোন। ভারতের মোট জনসংখ্যার মাত্র ৪ শতাংশ এখানে বাস করে। এখানকার অর্থনীতি স্থবির এবং গত ২৫ বছর ধরে এখানকার জাতীয় প্রবৃদ্ধি নিম্নমুখী।
'স্পেশাল ক্যাটাগরি স্টেটস' এর আওতায় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এখানকার যাবতীয় উন্নয়নের ৯০ শতাংশ মঞ্জুরি ও বাকি ১০ শতাংশ ঋণের মাধ্যমে করে থাকে। এখানে কৃষি উদ্বৃত্ত নেই। তবে এলঅকাটি শুধু জীববৈচিত্রের আধারই নয়। এখানে রয়েছে হাইড্রো-পটেনশিয়াল, তেল, গ্যাস, কয়লা ও বনজসম্পদ। আগরতলা থেকে কলকাতায় ১৫ টনের একটি পণ্যবাহী ট্রাকের ভাড়া ৫০ থেকে ৬০ হাজার রুপি। ট্রানজিট পেলে তা মাত্র ২ থেকে ৩ হাজার রুপিতে নেমে আসবে। রেল ট্রানশিপমেন্টের মাধ্যমে পণ্য পাঠানো হলে খরচ আরও কম হবে। কিন্তু টট্রানশিপমেন্ট চুক্তি ভারত মোটেও চাইছে না। কারণ ট্রানশিপমেন্ট চুক্তি হলে ভারতের সীমান্ত স্টেশন থেকে পণ্য বাংলাদেশী ট্রাকের মাধ্যমে ভারতের অন্য সীমান্ত এলাকায় যাবে। এতে বাংলাদেশ যদি কিছু টাকা পেয়ে ধনী হয়ে যায়, তাহলে দাদাদের তা সইবে কেন? তাছাড়া সমরাস্ত্র তো তখন পাঠানো মোটেও নিরাপদ হবে না।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29283069 http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29283069 2010-12-03 20:19:07
সিয়াকো বনাম সার্ক
বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে সার্কের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের উপর নির্ভর করে বসে থাকতে পারে না। বরং আঞ্চলিক সহযোগিতা চুক্তি অথবা ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্টের জন্য আসিয়ানের দিকে নজর দিতে পারে। নিজের পায়ে দাঁড়াতে শেখা উচিত বাংলাদেশকে। বাংলাদেশের স্মরণ করা উচিত আঠার শ' শতকে লর্ড পলমারস্টোনের সেই বিখ্যাত উক্তি : 'আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমাদের কোনো চিরস্থায়ী শত্রু নেই, নেই চিরস্থায়ী বন্ধুও। আমাদের রয়েছে স্থায়ী স্বার্থ।'

বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই ও মালদ্বীপ নিয়ে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক জোট সাউথ এশিয়া কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন বা সিয়াকো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাবে।

১৯৯২ সালের ১১-১৮ ডিসেম্বর বান্দুং নগরীতে ইন্দোনেশিয়া ও ইসলামিক ডেভলাপমেন্ট ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ইন্দো-আইডিবি সেমিনারে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই ও মালদ্বীপ নিয়ে অর্থনৈতিক জোট সিয়াকো গঠনের প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ। প্রস্তাবটির অনুকূলে সেমিনারে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দেশ সমর্থন জানায়। পরের বছর মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ইসলামিক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ১১তম সাধারণ সভায়ও সিয়াকো গঠনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। একই বছরের ডিসেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ইসলামিক কমন মার্কেট বিষয়ক আন্তর্জাতিক সেমিনারেও সিয়াকো অনুমোদন পায়। ১৯৯৪ সালে সিয়াকো গঠনের ব্যাপারে বাংলাদেশের পররাদ্ব্র মন্ত্রণালয় ব্রুনাই, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও মালদ্বীপের মনোভাব জানতে চেয়ে চিঠি দেয়। আর ১৯৯৬ সালে কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার দ্বিপক্ষীয় আলোচনার এজেন্ডা হিসেবে সিয়াকো ঠাঁই পায়।

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার আলোচনা ভেঙে পড়া, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের আদলে দক্ষিণ ও দক্ষিণ -পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আসিয়ানের ব্যানারে গড়ে উঠেছে একটি সফল ও বিকাশমান অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক জোট। আসিয়ানের আঞ্চলিক সহযোগিতা ও বাণিজ্যিক সাফল্যের আঞ্চলিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সার্বিক সহযোগিতা বাড়াতে দক্ষিণ ও দক্ষিণ -পূর্ব এশিয়ার ওআইসিভুক্ত ৫টি দেশ নিয়েও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট গঠনের প্রস্তাবটি দিন দিন জোরালো হয়ে উঠছে। এ প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক জোটই সিয়াকো নামে পরিচিত।

আমাদের মনে রাখা দরকার, পঞ্চাশের দশকের শেষ ভাগে এফটিএ বা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) গড়ে ওঠে। ৫০ বছরের ব্যবধানে ইইউর সদস্য সংখ্যা এখন ২৭ এবং ইউনিয়নটি এখন বিশ্বের অর্থনৈতিক পরাশক্তি।

কানকুন সম্মেলন ব্যর্থ হবার পর বিশ্বে এফটিএ চুক্তির আধিক্য বাড়ে। এতে এশিয়ান দেশগুলোও আঞ্চলিক ব্লক গঠনের দিকে ঝুঁকে পড়ে। ডবলিউটিএ বা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা ইতিমধ্যে দুই শতাধিক এফটিএ-কে স্বীকৃতি দিয়েছে। পাশাপাশি আরও ১৪০টি এফটিএ কার্যকর রয়েছে। পারস্পরিক বাণিজ্য পদ্ধতির বিকল্প হিসেবে বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মূল চালিকাশক্তি দেখা হচ্ছে এটিএ চুক্তিগুলোকে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন ডবলিউটিএ চুক্তিতে সমঝোতার প্রভাবক হিসেবে এফটিএ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তি হলে তা পর্যায়ক্রমে সিয়াকো চুক্তি বাস্তবায়নে সহায়তা দেবে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ -পূর্ব এশিয়ার এ পাঁচটি দেশের ৪২ কোটি ৩০ লাখ ভোক্তার জন্য সিয়াকো এফটিএর মাধ্যমে উপ-আঞ্চলিক বাজার গঠন সম্ভব হলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির দিকেই হাঁটবে। কারণ বাংলাদেশের ১৫ জনশক্তিকে জনসম্পদে পরিণত করার একটি আকর্ষণীয় পথ পেয়ে যাবে বাংলাদেশ। বিশেষত এ চুক্তি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ ও দক্ষিণ -পূর্ব এশিয়ার ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য, পর্যটন, ফরেন ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট (এফডিআই) ও জনশক্তি রফতানিতে নতুন গতি আসবে। বাড়বে রেমিটেন্স।

পূর্ব -এশিয়ান দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক অনেক প্রাচীন। আর এ সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে মালয়েশিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়ন করা হলে প্রস্তাবিত সিয়াকো গঠন সহজ হয়ে যাবে।

মধ্যপ্রাচ্যের অলস টাকা ব্যবহার করে মালয়েশিয়া আজ সমৃদ্ধির পথে হাঁটছে। মালয়েশিয়ার সঙ্গে কৃষি চুক্তি করে সার্কভুক্ত দেশ পাকিস্তানও এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিকে ছুটছে। বাংলাদেশও এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারে।

সিয়াকো গঠনের ব্যাপারে ওআইসির অনুমোদন রয়েছে। মালয়েশিয়ার ব্যক্তিত্ব ড. মাহাথির মোহাম্মদ ও ইন্দোনেশিয়ার বি.জে হাবিবি সিয়াকো নামের অর্থনৈতিক জোট গঠনের পক্ষে। ওআইসির সাবেক সহকারি মহাসচিব মোহাম্মদ মুহসিনও সিয়াকো গঠনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিচ্ছেন। আইডিবিও এ ব্যাপারে আগ্রহী। এখন শুধু সরকারি উদ্যোগ দরকার। সার্ক বাস্তব হতে পারলে সিয়াকো বাস্তব না হবার পেছনে কোনো কারণ নেই। সিয়াকো গঠনের যাবতীয় গ্রাউন্ডওয়ার্ক করা আছে। এখন শুধু সরকারকে এগিয়ে যেতে হবে। প্রায় ৮০ বছর আগে ইতিহাসবিদ মার্ক টয়েনবি বলেছিলেন, আগামী শতকে বিশ্ব অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে প্রাচ্য। তার এ ভবিষ্যদ্বণী আজ সফল হতে যাচ্ছে। বিশ্ব অর্থনীতির এ নতুন সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো ছাড়া আমাদের বিকল্প কোথায়?

বিদেশী এয়ারলাইন্সের সহায়তায় শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড বিমান সার্ভিস এখন সুনাম অর্জন করেছে। সিয়াকো গঠন করা হলে বাংলাদেশও তার বিমান সার্ভিসকে লাভজনক পর্যায়ে সহজেই উন্নীত করা সম্ভব। শুধু বিমান নয়, শিপিং, ব্যাংকিং,স্টক এক্সচেঞ্জ, হেলথ-সার্ভিসসহ বিভিন্ন সেক্টরে সিয়াকো গতি এনে দিতে পারে। কারণ পাঁচ দেশ একযোগে কাজ করলে বিনিয়োগ মার খাবার কোনো দুশ্চিন্তা থাকবে না। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, বাংলাদেশের ১৫ কোটি জনগণ মূলত জনসম্পদ। আইএলও এবং ইইউ ধারণা দিয়েছে, দক্ষতা বাড়াতে বাংলাদেশ সামান্য খরচ করলেই বছরে ৩০ বিলিয়ন ডলার আয় সম্ভব।

ওআইসির আন্তঃআঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক বাণিজ্যিক সহযোগিতার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে গঠিত হয়েছে গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি), এরাব কমন মার্কেট (এসিএম), এরাব মাগরেব ইউনিয়ন (ইউএমএ), ইকনোমিক কমিউনিটি অব ইস্ট আফ্রিকান স্টেটস (ইকোয়াস), ওয়েস্ট আফ্রিকান ইকনোমিক কাউন্সিল (সিইএও) এবং ইকনোমিক কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (ইসিও)।

যাই হোক, ২৩ লাখ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের ৪২ কোটি ৩০ লাখ জনগোষ্ঠী অধ্যূষিত সিয়াকো অঞ্চলের সম্মিলিত জিডিপি এক দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার আর ট্রেড ভলিউম হচ্ছে ৭৭ হাজার কোটি মার্কিন ডলার। প্রস্তাবিত সিয়াকোর কর্মক্ষম জনশক্তি হচ্ছে ১৯ কোটি ৪০ লাখ আর বার্ষিক জিডিপি হচ্ছে দেশ ভেদে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ৬ শতাংশ।

সিয়াকো বাস্তবায়িত হলে পর্যায়ক্রেমে সদস্য দেশগুলোর অবকাঠামো নির্মাণ, বিদ্যুৎ খাত, পুঁজিবাজার, ব্যাংকিং, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, পর্যটন, খাদ্য সঙ্কট মোকাবেলা, ম্যানুফেকচারিং রিলোকেশন, লজিস্টিক, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন খাতে বিনিয়োগের দরজা খুলে যাবে।

আঞ্চলিক এফটিএ চুক্তিবদ্ধ দেশগুলোর অভ্যল্ন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য পণ্য ও সেবা খাতে 'থার্ড মার্কেট' উপহার দিতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক বাজারে গতিশীলতা এখনও বিকাশের পথে। তাই বিনিয়োগের জন্য এটা একটি আদর্শ গন্তব্য। সিয়াকো আসিয়ানের আওতায় সার্ক অঞ্চলের দেড়শো কোটি ভোক্তার জন্য অর্থনৈতিক লিঙ্কেজ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১২ থেকে ১৩ শতাংশ, আসিয়ানে সংখ্যাটি ২৩ শতাংশ। কিন্তু ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে তা ৭০ শতাংশ।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সিয়াকো টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ ও ব্রুনাইয়ে তা গঠনের পর্যায়ে রয়েছে। এ কারণে সিয়াকো গঠনের সম্ভাবনাকে উপেক্ষা করার সময় নেই। দেশের স্বার্থে এ সম্ভাবনাকে আজ কাজে লাগাতে হবে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29282267 http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29282267 2010-12-02 15:26:59
যুক্তির মাতাল অশ্বে ট্রানজিট
আবার সরকারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এক শ্রেণীর সুশীল (এরা আবার স্বার্থের ডালে ডালে বাদুরের মতো ঝুলে থাকে) পণ্ডিতী দেখিয়ে দাবি করছেন, 'আরে ভাই ট্রানজিট হলো অর্থনৈতিক ইস্যু। এটার গায়ে রাজনীতির লেবেল সেঁটে দেয়া মোটেও ঠিক হচ্ছে না'।

অন্যদিকে তাত্ত্বিকরা বলছেন, 'কেন বেহুদাই ট্রানজিট ট্রানজিট করছেন? ভারত তো ট্রানজিটের ব্যানারে করিডরই চাচ্ছে?'

বাস্তবতা হচ্ছে, ট্রানজিট হচ্ছে বহুমুখী জটিল ইস্যু। এবং ভারত যা চাইছে তা মোটেও ট্রানজিট নয়, ঢাহা করিডর।

দেশ বিভাগের প্রাক্কালেই মোহাম্মদ আলী জিন্না প্রস্তাবিত পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে সড়ক পথে সরাসরি সংযোগের জন্য করিডর চেয়েছিলেন। কিন্তু কংগ্রেস নেতারা এটা অনুমোদন করেননি। সম্প্রতি রাশিয়া তার ভূখণ্ড কালিনানগ্রাদে যেতে লিথুয়ানিয়ার কাছে করিডর চায়। কিন্তু পায়নি। কয়েক বছর আগে বাংলাদেশ নেপালকে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহারের অনুমতি দেয়। কিন্তু নেপাল করিডর চাইলেও ভারত নিরাপত্তার অজুহাত তুলে তা দিতে রাজি হয়নি।

একটি বা একাধিক দেশের উপর দিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি দেশে পণ্য আনা-নেয়ার অনুমোদিত রুটই হলো ট্রানজিট (ভারত তো অন্য কোনো দেশে যাচ্ছে না। এ কারণে এটা করিডর)। যেমন জার্মানি ও অস্ট্রিয়া সুইজারল্যান্ডের ভেতর দিয়ে ইতালিতে পণ্য পাঠাচ্ছে ট্রানজিট চুক্তির আওতায়।

যাহোক, প্রশ্ন হচ্ছে ট্রানজিট কি শুধু অর্থূনৈতিক চুক্তি? মোটেও না। কারণ রাজনৈতিক সম্পর্কের উপরই অর্থনৈতিক চুক্তি বহুলাংশে নির্ভর করে। ইসরাইলের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো অর্থনৈতিক সম্পর্ক না থাকার মূল কারণ হচ্ছে রাজনৈতিক সম্পর্কের অনুপস্থিতি। আর অবিশ্বাস ও সন্দেহ থাকলে রাজনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে না। হয়তো চাপিয়ে দেয়া যায়। কিন্তু টেকসই হয় না।

সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ, ছিটমহল বিনিময় বিরোধ, সীমান্ত বিরোধ, বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি, আন্তঃসীমান্ত নদীর পানিবন্টন ও ব্যবস্থাপনা ইস্যুর সমাধান ছাড়া ভারতের সঙ্গে টেকসই অর্থনৈতিক সম্পর্ক কিভাবে গড়ে উঠতে পারে, তা কেউ জানে না। আমার বিশ্বাস ভারত গুজরাল ডকট্রিনকে শ্রদ্ধা জানালে এসব সমস্যার সমাধান কঠিন কিছু নয়।

স্রেফ বিগ ব্রাদারসুলভ আচরণ দেখাতে ৩৩০০ কিলোমিটার জুড়ে মানবাধিকার বিরোধী কাঁটা তারের বেড়া নির্মাণ, টিপাইমুখ বাঁধ তৈরি, পরিবেশ বিনাশী আন্তঃনদী সংযোগের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের এজেন্ডায় জিইয়ে রাখা দেশটিকে শর্তহীন ভাবে ট্রানজিট দিলে দেশ নতুন সঙ্কটে পা দেবে কিনা, তা আগে ভাবা উচিত নয় কি?

তা ছাড়া ট্রানজিটের সম্ভাব্য লাভ-ক্ষতি নিয়ে সরকার এখনো কোনো প্রাতিষ্ঠানিক জরিপ বা গবেষণাও চালায়নি। সরকার এটা করতে চায় বলেও মনে হচ্ছে না। কারণ জরিপ অথবা গবেষণা চালাতে গেলে চুক্তির শর্তগুলো আগে প্রকাশ করতে হবে।

২০০৭ সালে নয়া দিল্লিতে সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে ড. মনমোহন সিং 'ফুল রিজিওনাল কানেক্টিভিটি' তত্ত্ব আওড়িয়ে ছিলেন। এজন্য সাধুবাদও পেয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবতা আমাদেরকে কি বলছে?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29277205 http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29277205 2010-11-24 18:38:34
ট্রানজিট-ঋণের টাকা ব্যয় হবে যেসব খাতে
এবার প্রকল্পমাফিক প্রাক্কলিত ব্যয়ের খতিয়ানের দিকে চোখ বুলান।

১.ভারত থেকে ৬টা ড্রেজার কেনা বাবত ব্যয় ৪৯৯ কোটি ৫৬ লাখ ৯৭ হাজার ৫ শ' টাকা।

২. মেঘনা নদীর আশুগঞ্জ ঘাটে কন্টেইনার পোর্ট নির্মাণের জন্য ব্যয় হবে ২৫২ কোটি ২২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। এই টার্মিনালে শুধু ভারতীয় পণ্য সাময়িকভাবে রাখা হবে।

৩. ভারত থেকে ১০টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ (রেল ইনজিন) কেনা বাবত ব্যয় ২১৯ কোটি ৪৭ লাখ ৬২ হাজার ৫ শ' টাকা।

৪. ভারত থেকে ১২৫টি ব্রডগেজ প্যাসেঞ্জার কোচ কেনা বাবত ব্যয় ৩৭৩ কোটি ৪৫ লাখ ৫৮ হাজার টাকা।

৫.ভারত থেকে ১১৭টি রেলওয়ে ওয়াগন কেনা বাবত ব্যয় ৩৯ কোটি ৩৬ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।

৬.ভৈরব ও তিতাসে দুটি রেলওয়ে ব্রিজের জন্য ব্যয় হবে ৮৩৬ কোটি ১০ লাখ টাকা। এ দুটি ব্রিজ এককভাবে ভারতীয় কোম্পানি নির্মাণ করবে।

৭. ভারত থেকে ৩০০টি ডাবল-ডেকার বাস কেনা বাবত ব্যয় হবে ২০৯ কোটি ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

৮. ভারত থেকে ৫০টি বিলাসবহুল বাস কেনা বাবত ব্যয় হবে ৪১ কোটি ৮০ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

৯. সরাইল-ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া-সুলতানপুর-আখাউড়া সড়কের প্রায় সবটুকুই তৈরি হবে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। এ খাতে ব্যয় হবে ২৩৫ কোটি ৫০ লাখ ১৫ হাজার টাকা।

১০. ঢাকার জুরাইন ও মালিবাগে ২টি রেলক্রসিংয়ে ফ্লাইওভার বা উড়াল সেতু নির্মাণে ব্যয় হবে ২১৮ কোটি ৭৭ লাখ ৯৫ হাজার টাকা।

১১. বাংলাদেশের রামগড়ের সঙ্গে ত্রিপুরার সাবরুমের মধ্যূকার সংযোগ সড়ক নির্মাণে ব্যয় হবে ১৯১ কোটি ৯২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা।

১২. ভারতের বাহরামপুর থেকে বাংলাদেশের ভেড়ামারার মধ্যকার পাওয়ার গ্রিড লাইন নির্মাণে ব্যয় হবে এক হাজার ৫০ কোটি ৬৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা। ৫০০ মেগাওয়াটের গালভরা গল্প শোনানো হলেও আসলে পাওয়া যাবে আড়াই শ' মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। তাহলে এতো টাকা ব্যয়ে গ্রিডলাইন নির্মাণের যুক্তি কোথায়? সম্ভবত আবুল মাল সাহেব ভালো বুঝবেন।

১৩. ভারতের কারিগরী ক্ষমতা ব্যবহার করে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউটের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে ৬২ কোটি ১৫ লাখ এক হাজার টাকা। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29275342 http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29275342 2010-11-21 14:52:39
ট্রানজিটের নামে করিডর :ঋণ ডিপ্লোমেসি
ট্রানজিটের আজানুলম্বিত 'অবিশ্বস্ত' ওভারকোট চাপানো এই সো-কল্ড করিডরের মাধ্যমে ভারতের কানেক্টিভিটি ক্যামনে বাড়বে, তার হিসাব আগে লন। তারপর ক্যালকুলেটেরের বাটন টিপে টিপে ভারতের আর্থিক ও ভূ-রাজনৈতিক লাভের ব্যালান্সশিট বের করুন।

এই মুহূর্তে কলকাতা-আগরতলার দূরত্ব ১৬৮০ কিলোমিটার। কলকাতা থেকে মিজোরামের আইজলের দূরত্ব ১৫৫০ কিলোমিটার। আবার কলকাতা থেকে মেঘালয়ের শিলং ১১৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং কলকাতা থেকে নাগাল্যান্ডের কোহিমার দূরত্ব ১৪২০ কিলোমিটার।

ভারত করিডর পেলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই সব অঞ্চলের ভৌগোলিক দূরত্ব এক-তৃতীয়াংশের চেয়েও কমে যাবে যাবে!!

আবার ভারত-দাদা চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার শুরু করলে তখন চট্টগ্রাম-আগরতলার দূরত্ব হবে ২৪৮ কিলোমিটার, চট্টগ্রাম-আইজল ৬৫৫ কিলোমিটার, চট্টগ্রাম-শিলং ৫৭৫ কিলোমিটার এবং চট্টগ্রাম-কোহিমার দূরত্ব দাঁড়াবে ৪৪০ কিলোমিটারে।

এবার আসুন ঋণ-ডিপ্লোমেসিতে। করিডর প্রয়োজন ভারতের, বাংলাদেশের নয়। অথচ চড়া হারে সুদ দিয়ে ভারত থেকেই ৮৫ শতাংশ পণ্য কিনতে হবে বাংলাদেশকে। আর ভারত থেকে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করতে হবে শতভাগ ভাগ। এই খাতে বাংলাদেশীদের কোনো প্রবেশাধিকার দাদারা রাখেননি।

ঋণ-ডিপ্লোমেসির আসল কাহানি আরেকটু খোলাসা করে বলি। চুক্তি অনুযায়ী শতভাগ ভারতীয় বিশেষজ্ঞ নিয়োগের শর্ত রাখার কারণ আর কিছু নয়। ভারতীয়রা পণ্যের দাম যা স্থির করে দেবে, সেই দামেই বাংলাদেশ কিনতে বাধ্য থাকবে বাংলাদেশষ। কোনো আপত্তি চলবে না। অথচ নেতাদের মাঝে বিন্দুমাত্র দেশপ্রেম থাকলে তারা এটা সাফ বলে দিতে পারতেন, আমরা আন্তর্জাতিক দরপত্র আহবানের মাধ্যমে পণ্য কিনবো, পণ্যের গুণগত মান 'এই' পর্যায়ের হতে হবে। তখন ভারতের পক্ষে রাজি না হবার কোনোই যুক্তি ছিল না। কারণ করিডরের প্রয়োজন তো তাদেরই। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে , তখন ভারত তার নিজের স্বার্থেই স্বল্প মার্জিনে পণ্য সরবরাহ করতো। কিন্তু তারা শেখ হাসিনাকে দিয়ে এমন চুক্তি করিয়ে নিয়েছে, যে চুক্তি মিডিয়ায় প্রকাশ করার নৈতিক সাহস এই সরকার রাখে না। বর্তমানে যা বলাবলি হচ্ছে, তা চুক্তির ফাঁস হয়ে যাওয়া ছিটেফোঁটা অংশ কেন্দ্রিক।

তবে বিশেষজ্ঞরা প্রাথমিক আলামত দেখে এটা অনুমান করছেন, ঋণ-চুক্তির গ্যাঁড়াকলে ফেলে ভারত শুরুতেই পণ্যের দাম তিন থেকে চারগুণ বাড়িয়ে নিলেও বাংলাদেশের বলার কিছু থাকবে না। ভারত এটা কেন করছে? উত্তরটা খুবই সহজ এবং খুবই কঠিন। সম্ভবত ভারতীয় নেতাদের কাছে দুটো জিনিস পরিষ্কার। প্রথমত, বাংলাদেশী নেতারা খুব একটা দেশপ্রেমিক নন। তাই তাদেরকে দিয়ে প্রথমেই 'অন্যায্য' শর্ত আদায় করে নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, এসব নেতা পল্টিও মারতে পারে। তাই প্রথম রাতেই বেড়াল মেরে দাও।
যাই হোক, ভারত পণ্যের দাম শুরুতেই তিন থেকে চার গুণ বাড়িয়ে নিলেও সুদ কিন্তু ম্যাংগো-পাবলিককেই গুণতে হবে।

আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি বলে ফেললেন, 'ট্রানজিট (সরি, করিডর) প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ নাকি দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে যাচ্ছে। সাবাশ দীপুমনি। অর্থনীতিতে এবারের নোবেল প্রাইজটা আপনি কেন যে পেলেন না, তা বুঝতে পারছি না।<img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" />

আমি আমাদের পররাষ্ট্রনীতির দেউলিয়াপনা আর অসহায়ত্ব নিয়ে মোটেও প্রশ্ন তুলবো না। কারণ দেশের স্বার্থের চেয়ে গদিরক্ষা বড় হয়ে গেলে সাধারণ জ্ঞান-গম্মি আশা করা যায় না<img src=(" style="border:0;" /><img src=(" style="border:0;" /><img src=(" style="border:0;" />

আমার কেন জানি মনে হচ্ছে, ট্রানজিটের ব্যানারে বাংলাদেশের উপর ভারতের বেনিয়াবৃত্তির নিয়ন্ত্রণ এদেশে হাজার বছর ধরে চলে আসা 'পুরুষতন্ত্র'-এর চেয়েও ব্যাপক হয়ে দেখা দিতে পারে।

জনাবে আলা পররাষ্ট্রমন্ত্রী!<img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /> আমারে একটু বুঝায়া কইবেন, ভারতের অর্থনৈতিক ও সামরিক যুদ্ধে ট্রানজিটের তকমা লাগিয়ে বাংলাদেশ কেন বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29274775 http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29274775 2010-11-20 12:51:42
সমুদ্রসীমা : জানি না আমাদের কপালে কী আছে!
বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সমুদ্র উপকূলের গঠন একই ধরনের নয়। একই ধরনের হলে দুই দেশের উপকূল থেকে সমদূরত্বের ভিত্তিতে সমুদ্রসীমা নির্ধারিত হলে ল্যাঠা চুকে যেতো।

শুধু বাংলাদেশ কেন, বিশ্বের যেসব অঞ্চলের উপকূল ক্রমশ ঢালু হয়ে সমুদ্রে নেমে যায়, সেখানে স্বাভাবিকভাবেই উপকূল থেকে অনেক দূরে গভীর সমুদ্র শুরু হয়। আর গভীরসমুদ্রই কৌশলগত আর খনিজসম্পদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

আন্তর্জাতিক আইনের বিধান হচ্ছে, বিবদমান দুটো বা ততোধিক দেশের সমুদ্র উপকূলের বৈশিষ্ট্যে ফারাক থাকলে দ্বিপক্ষীয় সীমা নির্ধারিত হবে 'ন্যায্যতার ভিত্তিতে'। নরওয়ে ও জার্মানি তাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমুদ্রসীমার বিরোধ এই ন্যায্যতা নীতির ভিত্তিতেই মীমাংসা করেছে।

ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) এই ন্যায্যতার নীতির ভিত্তিতেই জার্মানি সমুদ্রসীমায় ডেনমার্কের কাছ থেকে সাত হাজার বর্গকিলোমিটার এবং নেদারল্যান্ডসের কাছ থেকে পাঁচ হাজার বর্গকিলোমিটার সমুদ্র এলাকা বেশি পেয়েছে।

কূটনীতিক পর্যায়ে মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ না মেটায় বাংলাদেশ ২০০৯ সালের ১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ মিয়ানমারেরই অনুরোধে আন্তর্জাতিক ট্রাইবুরাল ফর দি ল' অব দি সী-তে (আইটিএলওএস) সালিসি মামলা পেশ করে। এই ট্রাইবুনালটি ২১ জন সমুদ্র বিশেষজ্ঞ নিয়ে গঠিত।

পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় আলোচনাও চলছে। ২০১০ সালের ৮-৯ জানুয়ারি চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে ঘোষণা করা হয় দুদেশ 'ন্যায্যতা' (প্রিন্সিপল অব ইকুয়িটি) এবং 'সমদূরত্ব' নীতি ( প্রিন্সিপল অব ইকুয়েল ডিসট্যান্স) মেনে নিতে সম্মত। মিয়ানমার কথা রাখলে এটা ধরে নেয়া যায়, বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরে খনিজসম্পদ অনুসন্ধানের ১৭টি ব্লক কাগজে-কলমে হারানোর আশঙ্কা আপাতত নেই। কিন্তু বাংলাদেশ যাই করুক, 'আনক্লস' অনুযায়ী সমুদ্রসীমায় নিজের দাবি প্রমাণ করতে হবে ২০১১ সালের জুলাই মাসের মধ্যেই। নইলে আম ছালা দুটোই যাবে।

এবার আসুন, বাংলাদেশের প্রস্তুতি সম্পর্কে জেনে নেই। ফরেন ডেস্কের মাত্র একজন কর্মবর্তা মামলাটি হ্যান্ডেল করছেন। দেশের স্বার্থ আদায়ে মিয়ানমারের মতো বাংলাদেশ কোনো গবেষণা সংস্থা বা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কোনো দফতর খোলার প্রয়োজন মনে করেনি। অদৃশ্য কারণে বড়ই বেহাল অবস্থায় বাংলাদেশ মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা লড়ে যাচ্ছে। কে জানে, শেষ পর্যন্ত আমাদের কপালে কি আছে!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29274353 http://www.somewhereinblog.net/blog/saimumblog/29274353 2010-11-19 12:26:30