somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাকিব শাহরিয়ার
বিবর্ন স্বপ্নাবলী নিয়ে অর্ধ জীবন্ত এক অস্তিত্ব আমি। খুব সতর্ক পায়ে হেটে চলি এই ভূমন্ডলে ও স্থির দৃষ্টিতে চেয়ে থাকি শূন্য পানে নিজের অস্তিত্বের ব্যাখ্যা খুঁজতে।

ধর্ষণ: দায়ী নারীর পোশাক না পুরুষ!!

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ১:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যারা মনে করছেন ধর্ষণের জন্য মেয়েদের পোশাক দায়ী নয়, তারা সম্ভবত এই প্রবাদটা ভুলে গেছেন যে পেটে খেলে পিঠে সয়। হ্যা, আমি বিশ্বাস করি ধর্ষকের লোলুপ দৃষ্টিতে একশ হাত পর্দার ভিতরে ও নারী নিরাপদ নয়। আবার এ ও বিশ্বাস করি কোন পুরুষই জন্মগত ভাবে ধর্ষক নয়। তাইলে সমস্যাটা কোথায়? সমস্যাটা চিন্তায়। নারী পুরুষ দুই পক্ষেরই। পুরুষ চায় নারী দশহাত পর্দা করে থাকবে আর নারী চায় সে তার সৌন্দর্য প্রদর্শন করে চলবে আর পুরুষ তাদের মায়ের বা বোনের জাতি ভেবে শ্রদ্ধায় চোখ নামিয়ে নেবে। আমার কাছে মনে হয় দু’দলেরই চাওয়ার পরিধিটা একটু বেশি। তেতুল তত্ত্ব যেমন মেয়েদের প্রতি একপেশে আবার এর সমালোচনাও পরুষদের প্রতি একপেশে। তাইলে সমাধান কি?


সমাধান হচ্ছে সৃষ্টিতত্ত্ব। সৃষ্টিতত্ত্ব মানে? সৃষ্টিতত্ত্ব মানে হচ্ছে নারী ও পুরুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য। ধর্মমত নির্বিশেষে এটা সবাই স্বীকার করবে যে নারী পুরুষ একে অপরের প্রতিযোগী নয় বরং সহযোগী। কিন্তু কিছু মহল সচেতন ও অবচেতন মনে ব্যাক্তি স্বার্থ উদ্ধারে এই সম্পর্কটা উল্টে দিচ্ছে। ফলে যা হবার তাই হচ্ছে। ক্ষেত্র বিশেষ পুরুষ নারীকে দাবিয়ে রাখতে চাচ্ছে আবার ক্ষেত্র বিশেষ নারী পুরুষকে দাবিয়ে রাখতে চাচ্ছে। প্রতিযোগিতা রূপ নিচ্ছে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আর তা নষ্ট করছে পরস্পরের শ্রদ্ধাবোধ ও সহমর্মিতা। যার একটা চরম পর্যায় হচ্ছে ধর্ষণ। অথচ যদি সৃষ্টিতত্ত্ব অনুযায়ী একে অপরের সহযোগী হত তো নারী ভাবতো আমি এমন কিছু করব না যাতে পুরুষের ডিসটার্ভ হয় আর পুরুষ ও একই কথা ভাবত আর বলছি না তাতে বন্ধ হয়ে যেত তবে এখনকার চেয়ে অনেক কমে যেত ধর্ষণ।


শুরুতে বলেছিলাম পেটে খেলে পিঠে সয়। ধর্ষণের ক্ষেত্রে মূলত তাই হয়। কিন্তু কিভাবে? নারী পুরুষের কথা বাদ দিলাম। ধরুন আপনি দেখতে খুব সুন্দরী, একটা পাবলিক বাসে করে কোথাও যাচ্ছেন। হঠাৎ আপনার পাশে একজন পুরুষ এসে বসল। আর বসেই তার পকেট থেকে আইফোনটা বের করলো আর আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ এর জন্য নিজে নিজেই বলতে থাকলো “শালার আইফোন চালাইয়া ও আর মজা পাই না। নাহ আইফোন ৮ আর চালামুনা টেন কিনমু টেন।” আপনি নিসন্দেহে তাকে মনে মনে ছোটলোক বলবেন আর সুযোগ পেলে ইচ্ছেমত জুতো মারতে চাইবেন। কিন্তু তার হাতের আইফোন ৮ টা আপনার ঠিকি হাতে নিয়ে দেখতে ইচ্ছে করবে; ইচ্ছে করবে এর ফিচারগুলো ঘেটে দেখতে যদি তাই ইচ্ছে হয় তবে হ্যা আপু আপনাকেই বলছি। সে যদি ছোটলোক হয় তো আপনিও তাই? ভাবছেন এত কঠিন কথা আপনাকে কেন বলছি? বলছি তার কারন এই ছোটলোকটা ভালো করেই জানে যে আইফোন ৮ সবার নাই যেমন আপনি জানেন যে আপনার মত সুন্দর স্ফীত বুক সবার নাই তাই আপনি তা প্রদর্শন করছেন। তো সে যদি ছোটলোক হয় তো আপনিও একই দোষে দুষ্ট। তবে সমস্যাটা হচ্ছে নিজের মুখের গন্ধ যেমন কেউ টের পায় না তেমনি নিজের সমস্যাটা কেউ দেখতে পায় না দেখে মানুষেরটা। আপনার যেমন অবচেতন মনে তাকে জুতা মারতে আবার তার আইফোনটা ছুয়ে দেখতে ইচ্ছে করছে সে ও অবচেতন মনে আপনাকে মক্ষীরানি ভাবছে তবে আপনার সৌন্দর্য ছুয়ে দেখতে ইচ্ছে করছে কিন্তু সচেতন মনের বাধায় আপনিও সে কিছুই করতে পারছেন না। ফ্রয়েডের মতে মানুষের মনটা ভাসমান বরফের পাহাড়ের মতই যার এক তৃতীয়াংশ শুধু দেখা যায় আর যা দেখা যায় তাই সচেতন সত্তা আর ডুবন্ত অংশটা অবচেতন সত্তা। এখানে সচেতন সত্তাটা হচ্ছে দুজন পাশাপাশি সিটে যার যার মতমত বসে আছে যাদের একজন হাতে আইফোন নিয়ে বিরবির করছে আর একজন গলায় ওড়না জড়িয়ে বুক দুটো বের করে বসে আছে। আর অবচেতন সত্তা হচ্ছে মেয়েটা ছেলেটাকে ছোটলোক বলে জুতা পেটা করে তার হাতের আইফোনটা টেনে নিয়ে ঘেটে দেখছে আর ছেলেটা মেয়েটাকে মক্ষীরানি ভেবে তার সৌন্দর্য স্পর্শ করছে। ফ্রয়েডের মতে মানুষের অবচেতন সত্তাই মানুষের মূল্যবোধ গঠন করে। যদি তাই হয় তো বুঝতেই পারছেন কিভাবে ধর্ষণের মূল্যবোধ গঠিত হচ্ছে; কিভাবে মা বোনের জাতিকে পুরুষ মক্ষীরানির জাতি ভাবতে শিখছে; কিভাবে একজন প্রেমিক পুরুষের মধ্যে একজন ধর্ষক পুরুষ বেড়ে উঠছে আস্তে আস্তে যে কিনা অনুকূল পরিবেশ পেলেই হায়ণার মত ঝাপিয়ে পড়েছে নারীদের উপর। বাছ-বিচার করছে না যে এ মেয়ে পর্দানশীন না বেপর্দা। ঐ যে বলেছিলাম পেটে খেলে পিঠে সয়। আর অন্যদিকে পর্দানশীন কোন মেয়ে ধর্ষিত হলে তথাকথিত প্রগতিবাদীরা বলছে হিজাব কখনো ধর্ষণ ঠেকাতে পারে না, ধর্ষণ ঠেকাতে ধর্ষকের দৃষ্টিভঙ্গী পাল্টাতে হবে। আবার আপত্তিকর পোশাক পড়া কোন মেয়ে ধর্ষিত হলে রক্ষণশীলরা হিজাবের পক্ষে সাফাই গাইতে থাকে।


তাই ধর্ষণ ঠেকাতে হলে পুরুষের মধ্যে অবচেতন মনে বেড়ে উঠা ধর্ষকটাকে বিনাশ করতে হবে। আর এটা করা যাবে নারীকে সম্মানিতভাবে তার সামনে উপস্থাপন করে যাতে পুরুষেরা তাদের পণ্য মনে করে ব্যবহার না করে মানুষ মনে করে সম্মান করে। আর সেটা সম্ভব হবে মার্জিত পোশাকে সজ্জিত নারীর জ্ঞান চর্চার মাধ্যমে; অমার্জিত পোশকে সজ্জিত সৌন্দর্য্যের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নয়।
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একেশ্বরবাদের নান্নামুন্না ঈশ্বর: আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে ভোগা ফটিকচাঁন ঈশ্বর নিজের নামটাই ঠিক করতে পারে না!

লিখেছেন উদাসী স্বপ্ন, ১৮ ই জুলাই, ২০১৮ ভোর ৬:৪৯

তো একেশ্বরবাদের ঈশ্বর নিয়ে আমার একটা হাস্যকর অবজার্ভেশন আছে। যদিও এই অবজার্ভেশন নিয়ে লেখার কোনো ইচ্ছে ছিলো না, কারন এসব লেখাতে কোনো মেরিট নাই। আপনাকে শুধু ইতিহাস ও প্রত্নতত্ব দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাতির বিবেক ড. জাফর ইকবাল আজ এত নিশ্চুপ কেন?

লিখেছেন পদ্ম পুকুর, ১৮ ই জুলাই, ২০১৮ সকাল ১০:৪১


কাওসার ভাই যেদিন ঢাকা থেকে সুন্দর একটা প্যাকেটে ‘হাত কাটা রবিন’ পাঠালেন, তখন আমি ক্লাস সেভেন বা এইটে পড়ি। ওটা পেয়েছিলাম বাই পোস্টে, তিরানব্বুই বা চুরানব্বুইয়ে। ড. জাফর ইকবালের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

টুকরো টুকরো সাদা মিথ্যা- ৫৬

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৮ ই জুলাই, ২০১৮ সকাল ১১:১১



১। ইরানী মুভিগুলো দেখার পর মানবিক দিক দিয়ে খুব তাড়িত হই। তাড়িত হতে ভালো লাগে। আজ দেখলাম- 'The White Balloon' । এটা ১৯৯৫ সালের ইরানী ড্রামা মুভি ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঘমামার ইন্টারভিউ

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ১৮ ই জুলাই, ২০১৮ সকাল ১১:২৮




অনেকদিন আগে সামু কর্তৃপক্ষ আমাকে একটা দায়িত্ব দিয়েছিল। সেটা ছিল সুন্দরবনে গিয়ে সুন্দরবনের রাজা ''দ্য গ্রেট রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার'' ওরফে বাঘমামার একটা এক্সক্লুসিভ ইন্টারভিউ নেয়া। অনেক অনেক দিনের চেষ্টা-চরিত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃষ্ণ জলে গাহনে

লিখেছেন মনিরা সুলতানা, ১৮ ই জুলাই, ২০১৮ দুপুর ১২:৩৪



শ্রাবণে পথচলায় আনন্দ রেশ থাকে,চিটচিটে ঘাম,রাস্তার ভেপেউঠা আঁচ অথবা আচমকা এক গাদা জমে থাকা জল।এ সবকিছুই বিরক্তি ছোঁয় ঠিক কিন্তু স্পর্শ করতে পারে না... ...বাকিটুকু পড়ুন

×