somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আসক্তি

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ১২:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছুডো বেলায় রচনা লিখতাম মাই হবি - আমার শখ । লিখতাম বাগান করা, ডাকটিকিট সংগ্রহ । এইসব কোনোটাই আদতে আমার শখ ছিল না । এখনও নাই । তয় ক্লাস ৬ -এ ডাকটিকিট সংগ্রহ করেছিলাম বটে । সেইরকম স্ট্যাম্প । ১৮৫৭ এর একটা ডাকটিকিট ছিল সব চাইতে এনটিক পিস । তাও আবার ইউএস এর । ঐটা আবার আমি লুকায় রাখতাম ।
আমার সবচাইতে বড় আর প্রিয় শখ হইল মুভি দেখা । ঐটা এখনও আছে । তয় আগে হিন্দি দেখতাম । ভারছিটিতে উঠার পর থিকে ইংলিশ দেখি । দশ বছর পর হয়তো অন্য কোনো ভাষার মুভি দেখব ।
তয় আমার শখের লিস্টি অনেক লম্বা ।
টিভিতে স্কী করা দেইখে আমার শখ হইছিল আমিও করমু ।
তখন আমার বয়স ৪/৫ হইব । মরুভুমির দেশে বরফ পামু কই । তাই ভাবলাম জনসন বেবী পাউডার দিয়া মেঝে ইসমুথ করুম । যেই ভাবা সেই কাজ । কিন্তু মেঝে পামু কই । সব ঘরতো কার্পেট দিয়া ঢাকা । কোনাকানচিও বাদ নাইক্যা । একমাত্র রান্না ঘরটাই বাদ পড়ছে । কিন্তু মা দেখলে তো আর পাউডার নষ্ট করতে দিবে না । আমার সেঝ চাচার রুমটাতে তখনও কার্পেট বিছানো হয়নাই । কি কারণে জানি না । উনার রুমকে টার্গেট করলাম । উনি তখন আপিসে । আমারই দিন তখন
যাই হউক সারা রুমটাতে পাউডার ঢাললাম । কিছুক্ষণ স্কী করার বৃথা চেষ্টা করলাম । দেখলাম পাউডার গুলা পায়ের সাথে লেগে যায় আর বার বার ঢালতেও হয় । কি আর করা । বিকল্প উপায় খুঁজতে লাগলাম । রান্না ঘরে উঁকি দিলাম । দেখি মা মনযোগ দিয়ে রান্না করতেছে । ফ্রীজটা খুললাম । দেখি ইয়া বড় একটা বাটার । আর যাবে কই । ঐটা দিয়া পুরা মেঝে লেপছি । তারপরের কাহিনী মনে নাই । তয় আমার মা বাপের কাছে নালিশ দিছিল । মামলা আদালতে টিকে নাইক্যা ।
যখন আমি দিত্বীয় কি তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ি, তখন একদিন আম্মুর লগে পাশের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে দেখি পুলাটা একটা ভিডিও গেম খেলবার লাগচে । মনটা উসখুস করতে লাগল বাসায় এসে । রাতে বাপের কাছে আবদার করেই ফেললাম আমার একটা ভিডিও গেম কিনন্যা দিতে হইব । টানা একমাস ঘ্যানঘ্যান করার পর একটা ভিডিও গেম পাইলাম । তারপর আমারে পায় কে । ইস্কুল থিকা আইসেই ড্রেস না খুইলাই বইসে পড়তাম ।
আমার বাপ আপিস থিকা না আসা পর্যন্ত ঐটা নিয়া পইড়া থাকতাম । তয় বিকাল ৪টা-৫টা বন্ধ থাকত । কারণ ঐ সময় কার্টুন দেখতাম । ঐটা মিস করন যাইব না । তিন তিনটা জয়স্টিকের বারোটা বাজাইয়া যখন বাপের কাছে আরেকটার আবেদন জানাইলাম সাফ মানা কইরা দিল । কিন্তু খেলা তো থামান যাইব না । কি আর করমু ভাঙ্গা জয়স্টিকের হ্যান্ডেল গুলা খুইলা তার-তুর প্যাচায়া বানাইলাম আমার সাধের জয়স্টিক । এরকম কিছুদিন ভালই চলল ।
যখন পঞ্চম শ্রেণীতে তখন আমার এক বান্ধবীর বাড়িত গিয়া আবিষ্কার করলাম কম্পুটার । আর যাবে কই । প্রিন্স অফ পারসিয়া - ১ দেইখা আমার কাছে মনে হইতাছিল এই গেমটা শুধু আমার জইন্যে ।
আবারও শুরু হইল ঘ্যানঘ্যান । এইবার বাপের মন গললো না । কিন্তু সে আরেকখান ভিডিও গেম কিইন্যা দিল । এইবারেরটা উন্নত মানের ছিল । চার লাখ গেম । পরে অবশ্য দেখি প্রথম ১০টা গেমেরই বিভিন্ন ভার্সন আরকি । তখন মনে হইত পুরানটাই ভালা । তয় গেম গুলান মজার ছিল । কনট্রা গেমটা ফেবারিট ছিল ।
সপ্তম শ্রেণীতে উঠে আরও দুইটা জিনিসের শখ হইল । একটা ব্রিক গেম আরেকটা ওয়াকম্যান । এইবার আর আবদার করি নাইক্যা । টেকা পয়সা জমায় কিনছিলাম । এর সাথে আবার যুক্ত হইছিল ফুন আলাপ । মানুষ মুবাইলে যত কথা কয় আমি মনে হয় টি.এন.টি তে এর চাইতে বেশী কথা কইছি । ইস্কুল থিকে আইসেই স্কুল ড্রেস কোনোরকমে খুইলেই কোনো না কোনো বান্ধবীরে ফুন করতাম । মাঝে মাঝে দেখতাম উপরতলার আন্টি ফোন করতে আসত । তখন আবার ভিওআইপি সিস্টেম না থাকায়, বেশীরভাগ মানুষ আমাগো বাড়িতে আইএসডি কল করতে আসত । ইস্কুল থেকে ফিরে যদি দেখতাম উপরতলার আন্টি আইছে, তইলে তখনি আইএসডি লক কইরে রাখতাম । আর যদি দেখতাম যে উনি অলরেডি কথোপকথন শুরু করছে বেহায়ার মত কইতাম যে জরুরি কল আইবো ফুন বিজি রাইখেন না ।
গল্পের বই পড়া শুরু করছি নাইনে উইঠে । এই শখ বরাবরই ছোটোবেলায় ছিল । কিন্তু বইয়ের অভাবে পারি নাই । ইস্কুলের বইগুলান যেদিন হাতে পাইতাম ঐদিনই শেষ কইরা ফেলাইতাম । সারাবছর আর বইগুলা ছুইতাম না পরীক্ষার সময় ছাড়া।
কম্পুটারের হাতে খড়ি ইস্কুলে হইলেও ঐটা পাইছি আফনের এইচএসসির পর । তখন ঝাপায় পইরে চ্যাট করতাম । ঐ শখটাও বাদ হইয়া গেছে দুই বছর পর । তারপর এসিএম-এর শখ হইছে । রাতদিন ঐটা নিয়া পইরা থাকতাম । অনার্স পাশের পর চাকরিতে জয়েন করে ঐটাও বাদ হইয়া গেছে প্রায় । ২০০৭ এর শেষে খেমোবুক সিনড্রোমে পড়ছিলাম । সারাদিন ফেসবুকে বইছে পাযল সলভ করতাম । তাও বাদ পইড়ে গেছে । এখন কিছুদিন হইল ব্লগ নিয়া পড়ছি । এইটাও আর ভাল লাগতেছে না খুব বেশী ।
জানি না ভবিষ্যতে ভাল না লাগার লিস্টি আর কত লম্বা হইবে .... :| :| :|
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ১:০১
৬টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×