somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শপথ

১৮ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৪:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দেশে এখন শুধু শপথ এর ছড়াছড়ি। এত সব শপথ যদি আসলেই বাস্তবায়িত হত তবে বিরাট কাজের কাজ হত। এখন চলছে দেশকে দারিদ্রমুক্ত করার শপথ। সরকারী দলের লোকজনেরা এই কাজে ঝাপিয়ে পড়েছেন। চারদিকে মিটিং, মিছিল, ব্যানার আর বক্তৃতার ছড়াছড়ি।

সবাই শপথ করছেন। অনেক বুদ্ধিজীবি, মডেল, মিডিয়ার লোকজনরা রয়েছেন এই কাতারে। তবে আমি আর বাদ থাকি কেন। না হলে মান সন্মান বুঝি আর থাকে না। তাই একটি শুভ দিন দেখে আমিও শপথ করলাম-আমি দেশকে একটি দারিদ্রমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলব। নিজেই নিজের পিঠ চাপরাতে ইচ্ছে করছে। অনেক বড় একটি কাজের কাজ হয়েছে।

এখন সমস্যা হল শপথতো করলাম কিন্তু বাংলাদেশের মত একটি দরিদ্র দেশকে আমি কিভাবে ক্ষুধা ও দরিদ্রমুক্ত দেশ করব সেটাইতো জানি না। এই দেশের কত জন লোক বেকার, কত জন লোক তিন বেলা খেতে পায় না-এই পরিসংখ্যান আমার কাছে নেই। এই দেশের লোকদের গড় আয় কত, আমাদের দেশের বার্ষিক বাজেট ঘাটতি কত- সে হিসেব করতে গেলে আমার মাথা ঘুরায়। আরে বোকার দল এটাতো অর্থনীতিবিদদের কাজ, আমার এটা নিয়ে মাথা ঘামিয়ে লাভ কি। আমার দরকার ছিল শুধু মাত্র শপথ করা তা আমি দায়িত্বপূর্ণ ভাবে সম্পাদন করেছি। সবাই করেছে, আমিও করলাম- ব্যাস। ক্যামেরার সামনে পোজ দিয়ে এখন বলতে পারব-আমি শপথ করেছি, আপনি করেছেন কি। মনে মনে বলব- আতলামি আর কাকে বলে রে।

চারদিকে রঙিন বেলুন আর রঙ বেরঙ এর ব্যানারে রাজপথ ছেয়ে যাচ্ছে। মিডিয়া হুমড়ি খেয়ে পড়েছে কে কার থেকে আকর্ষনীয় ভাবে সংবাদ উপস্থাপন করবেন। বিষয়- দেশকে দারিদ্রমুক্ত করার শপথ চলছে চারদিকে। যারা এই দলে যোগ দেবেন না, তারা আসলে দেশের ভাল চান না।

চারদিক আনন্দের বন্যায় ভেসে যাচ্ছে। এক দল দরিদ্র ক্ষুধার্ত শিশু রোদের মাঝে রাস্তার পাশে দাড়িয়ে বোঝার চেষ্টা করছে-আসলে কি হচ্ছে। এরা অপেক্ষা করে আছে খাবারের জন্য, এক টুকরো রুটির জন্যে। অলোচনা শেষ হলে যদি তাদের কিছু খেতে দেয়া হয় সেই আশায়। সবার আনন্দ তাদেরকে স্পর্শ করছে না।

এই মুহুর্তে ক্ষুধাটাই হচ্ছে বাস্তব, আর সব কিছুই অবাস্তব-মেকী।

২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×