সা¤প্রতিক কয়েকটি ঘটনা সারাদেশের মানুষের মধ্যে এক ধরনের আতংক বিরাজ করছে। প্রেমিকাকে গুলি করে হত্যা, প্রেমিকার চোখে গুলি করে আহত করা, প্রেমের ব্যর্থ হয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেয়া, বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় প্রেমিকার বাবা ও মাকে গুলি করে হত্যা করা, গার্লফ্রেন্ড এর মা বাবাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা।
হঠাৎ প্রেমিক প্রেমিকাদের এই ধরনের উন্মত্ততার কারণ কি? কি কারণে এরকম ঘটনা ঘটছে এ বিষয়টির একটি বিশ্লেষণ প্রয়োজন। আমাদের সমাজে নারীদের ক্ষেত্রে এটি একটি ভয়ানক সমস্যা। প্রেমের প্রস্তাবে ব্যর্থ হয়ে এসিড সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেছে অতীতে বহুবার। এবার প্রেমিকার পিতা মাতাকে হত্যা এবং আহত করার ঘটনা ঘটলো। এখানে আইনের প্রয়োগ যতোটা জরুরি, একইসঙ্গে প্রয়োজন মানসিকতার পরিবর্তন। এ রকম হিংস্র মনোবৃত্তিকে কখনোই প্রেম বলা যায় না।
তাছাড়া আরেকটি বিষয় আলোচনায় আসতে পারে। বর্তমান সময়ে সমাজের দিকে তাকালে এরকম অনেক নারীকেই আমরা দেখবো যারা হয় কখনো প্রেমে ব্যর্থ বা কথিত প্রেমিক দ্বারা প্রতারিত। এতে নারীরই অন্তর্দহন ঘটে সবচেয়ে বেশি। এমন অনেক ঘটনারই সন্ধান পাওয়া যাবে, যেখানে দীর্ঘ দিনের প্রেমের সম্পর্ককে পুরুষ নিজেই ছিন্ন করে, অথচ প্রেমিকার কোনো বক্তব্যই থাকে না। কিন্তু উল্টো ঘটনাতেই বিপত্তি বাধে। পুরুষ যেনো হিংস্রতা দিয়েই বিষয়টি প্রতিহত করতে চায়। এ হেন মানসিকতার বিষয়টি কেবল আইন দিয়ে কী প্রতিহত করা সম্ভব?
এখানে ধর্মীয়মুল্যবোধ এবংশিক্ষার বিষয়টি খুব নিবিড়ভাবে জড়িত। এ ঘটনাগুলো যেখানে ঘটছে, গবেষণায় দেখা গেছে এর অধিকাংশই অশিক্ষিত কিংবা মূঢ় শিক্ষায় শিক্ষিত কিংবা তথাকথিত উদার প্রগতিশীল। প্রকৃত শিক্ষা একদিকে যেমন মানবিক ঔদার্যকে প্রসারিত দেয়, তেমনিভাবে সমাজের কানাগলিতে আলো দেয়। আর পরিবারের তো একটি বড়ো ভূমিকা রয়েছেই। পরিবারে দুর্যোগ নেমে আসার অন্যতম কারণ পরিবারের অসচেতনতা আর অবজ্ঞারই। তাই পরিবারকে সচেতন হতে হবে, যেনো পারিবারিক শিক্ষার বিষয়টিতে কোনো ছেদ না থাকে। আর নিঃসন্দেহে এ শিক্ষা হবে নিজেদের সংস্কৃতির আদরে গড়া, ধর্মীয়মুল্যবোধ আর বিবেকবোধের ছাউনিতে ঘেরা।
এ বিষয় নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা করে জানা যায় দেশের চিরাচরিত মুল্যবোধকে প্ররিত্যাগ করে তরুন-তরুনীর অবাধ মেলামেশা, মাদকাসক্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া, অভিবাবকদেও উদাসীনতা ইত্যাদি বিষয়ই অন্যতম কারন। সমাজে ধর্মীয় এবং নৈতিকমূল্যবোধের কতটা অবয় হলে পরে এক জন মা-বাবা তার মেয়েকে বয়ফ্রেন্ডের সাথে রাতে একা রেখে নিজেরা ঘুমাতে যেতে পারে? পর্যবেক্ষক মহল বলছেন তরুন-তরুনীদের এই অবাধ মেলামেশার লাগাম এখনই টেনে ধরতে না পারলে ভবিষ্যতে আরো ভয়াবহ ঘটনার জন্ম হতে পারে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

