বুধবার গুলশানের বাসা, সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও বায়তুল মোকাররম মসজিদে মান্নান ভূইঁয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এসে এভাবেই তাকে মূল্যায়ণ করলেন রাজনৈতিক নেতারা।
সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দৌজা চৌধুরী বলেন, "মান্নান ভূঁইয়া সবার সঙ্গে সহাবস্থানে বিশ্বাস করতেন বলেই তিনি একজন ভালো রাজনীতিবিদ হতে পেরেছেন। তিনি মনে-প্রাণে অসাম্প্রদায়িক মননের মানুষ ছিলেন।"
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, "সফল একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন তিনি। এভাবে তিনি চলে যাবেন, তা ভাবতেও কষ্ট হচ্ছে আমার। আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে মান্নান ভূঁইয়াকে অভিবাদন জানাই।"
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার তার দলের দীর্ঘ সময়ের মহাসচিবকে একজন সৎ ও ন্যায়-নিষ্ঠ রাজনীতিবিদ হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি বলেন, "এমন মানুষ হয়তো আর আসবে না। একজন সফল রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন তিনি।"
মান্নান ভূঁইয়ার সঙ্গে ছাত্র রাজনীতি করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। তিনিও মান্নান ভূঁইয়াকে একজন সৎ নিষ্ঠাবান রাজনীতিবিদ হিসেবে মূল্যায়ণ করলেন।
তিনি বলেন, "একাত্তরে নরসিংদীর শিবপুরে তার নেতৃত্বে মুক্তাঞ্চল ঘোষণা করে পাকিস্তানিদেও বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন মান্নান ভূঁইয়া। দেশের ভেতরে থেকে দেশ মাতৃকার জন্য যুদ্ধ করার সাহসিকতা মান্নান ভূঁইয়ার ছিলো।"
শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া প্রয়াত এই নেতাকে মুক্তিযুদ্ধেও একজন সরব ব্যক্তিত্ব হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি বলেন, "তিনি চলে গিয়ে আমাদের শূণ্য করে গেছেন। দেশ একজন অসাম্ম্প্রদায়িক রাজনীতিবিদকে হারিয়েছে। যিনি কখনোই রাজনীতিকে পণ্য হিসেবে ব্যবহার করেননি।"
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী ছিলেন মান্নান ভূঁইয়ার ইতিহাস বিভাগের সহপাঠী।
বন্ধু সম্পর্কে মূল্যায়ণ করতে গিয়ে তিনি বলেন,"ছাত্রজীবন থেকে তাকে দেখেছি- সবসময় তিনি বঞ্চিত ও শোষিত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করতেন। একজন ভালো মানুষ হিসেবে আমি তাকে চিনি।"
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্ণর ফরাস উদ্দিন আহমেদ বলেন, "মান্নান ভূঁইয়া স্বাধীনতা সংগ্রামে অবদান রেখে গেছেন। তার চলে যাওয়া রাজনৈতিক অঙ্গণের বড় ক্ষতি, যা পুরণ হওয়ার নয়।"
এ ছাড়া টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু, সংসদের প্রধান হুইপ আব্দুস শহীদ, বাংলাদেশ নেজামী ই্সলাম পার্টির সভাপতি মাওলানা আবদুর রকিব ও মহাসচিব আবদুল লতিফ নেজামী, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক তারানা হালিম, তুষার আলো শিল্পী গোষ্ঠিসহ বিভিন্ন সংগঠন মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি জানান সমবেদনা।
এত কিছুর পরও আমি শেষে বলবো বেগম খালেদা জিয়াকে, 'আপনি যদি মৃত্যুর আগে তাঁকে একটি বারও দেখতে যেতেন তাহলে হয়তো একটু হলেও খুশি হতেন তিনি। যত কিছুই হোক দীর্ঘ ১১ বছর যে লোকটি আপনার এত বড় দলের মহাসচিব ছিলেন...।
এর ভুলের জন্য আপনাকে সারা জীবন অনুতপ্ত থাকতে হবে।'
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুলাই, ২০১০ রাত ১২:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



