হিমেল বিশ্বাস , শিক্ষিত যুবক কাজ করে বায়িং হাউজে আর সেতু লেখাপড়া শেষ করে কাজ করে বিভিন্ন দেশ বিদেশের প্রতিষ্ঠানের জরিপের কাজ। এদের মধ্যে পরিচয় হল মোবাইল ফোনের একটি ছোট্ট এসএমএস এর মাধ্যমে আর সেটি লিখেছিলো হিমেল সেতুকে ,'' ইউ আর স্কাই"।
ব্যাস, এতেই সেতুকে ভাবিয়ে তুললো। এরপর বেলালকে সেতুর ফোন এবং চলতে লাগলো তাদের কথা বলাবলি......এরপর.....
একদিন তারা দেখা করার ইচ্ছা করলো চন্দ্রিমাতে এবং প্রথম দেখাতেই সেতুর ভালো লাগলো কারন সে ছিলো নায়কদের মত স্মার্ট আর সুন্দর এবং আরও ভালো লাগলো যখন তাকে চোখ বন্ধ করতে বলাতে সেতু তা করলে বেলাল তার কপালের উপর আলতো করে হাত রেখে তার চুলগুলোকে সরিয়ে দিলো। তখন সেতুর যেন অন্যরকম একটি অনুভূতি যা তাকে বেলালের প্রতি বিশ্বাষ আর কাছে পাবার ইচ্ছা হয়েছিলো।
এভাবে চলতে লাগলো ৪/৫ মাস সম্পর্ক। এর ভিতরে ঘটে গেলো কয়েকটি ঘটনা। হিমেল বিশ্বাষের আসল নাম বেলাল সেতু জানতে পারলো আর সে বলেছিলো তার বাসা রাজশাহীতে কিন্তু আসল বাড়ি হলো যশোরে, এটাও সেতু জানলো। কিন্তু অধিক ভালোবাসা যে একজনকে কত অন্ধ করে দিতে পারে তার জ্বলন্ত প্রমান হলো সেতু নিজে। সে বেলালের ইচ্ছামত দুইজনের পরিবারের কোনো সদস্যকে না জিনিয়ে ভালোবাসার মেহে শুধুমাত্র একজন হুজুরের মাধ্যমে কলেমা পড়ে বিয়ে করে। কোনো রেজিষ্ট্রি ছাড়াই তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একসঙ্গে থাকতে লাগলো। মাঝে মাঝে তাড়া একসঙ্গে থাকে এরপরও দুই পরিবারের কেও জানতে পারে না। একপর্যায়ে সেতু প্রেগনেন্ট হলে নিজের ইচ্ছাতে এবরশন করে নেয়। এরপর দ্বিতীয় বারের মত যখন প্রেগনেন্ট হয় আর এটা সেতু লক্ষ্য করতে লাগলো যে, বেলাল যেন অনেক বদলে গেছে। সে আর আগের মত তার প্রতি যত্ন নেয় না। সময় দিতে চায় না। তখন সেতু বেলালকে চাপ দিতে থাকে নিয়ম মেনে অর্থাৎ কাবিন নামা করে যেন তাদের আবার বিয়ে হয়। কিন্তু তখনই দেখা দেয় বেলালের আসল রূপ। সে বলে আল্লাহর কলেমা পড়েতো বিয়ে হয়েছেই তার আর দরকার আছে কি? এরপরও সেতুর অনুরোধে বেলাল তা পরে করে এবং তখই সেতু বেলালকে বলে যে সে প্রেগনেন্ট। তখন বেলাল সেতুকে অনুরোধ করে আবার এবরশন করাতে, কারন এটা তার অর্থাৎ বেলালের পরিবারের কেউ মেনে নিবে না বিশেষ করে তার মা জানতে পাড়লে মারা যাবেন।
বেলাল সেতুকে বোঝাতে শুরু করে যে, এবরশন টা হলে পরে সময় সুযোগ বুঝে পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে মিউচুয়াল হলে তারপর না হয়.....
ধুরন্দর বেলালের কথায় সহজ সরল সেতু বিশ্বাষ করে দ্বিতীয় বারের মত এবরশন করলে বেলাল যেন পালিয়ে বাচেঁ। বেলাল এখন সেতুকে বলে তাদের সম্পর্ক তার পরিবার মেনে নিবে না।তার মা অসুস্থ, এটা জানতে পারলে তিনি বাচঁবেন না, আর তার মা তার জন্য পাত্রী দেখে যাচ্ছেন। তাই সে সেতুকে অনুরোধ করে সেও যেন এই সম্পর্কটা ভুলে যায়।
কিন্তু এটা কি সম্ভব একটি মেয়ের কাছে? দীর্ঘ প্রায় ১ বছরের সম্পর্ক , একি সঙ্গে থেকে ...এভাবে..!!!!
এদিকে সেতুতো এ কথা শুনে এক্কেবারেই ভেঙ্গে পড়েছে। যার কথা বিশ্বাষ করে জীবনে এত স্যাক্রিফাইস করলো আর সে কি-না এখন....এই কথা বলে কি আর কন্না ধরে রাখতে পারে? মেয়েদের প্রধান চাওয়ার মধ্যে অন্যতম হলো সুন্দর ফুটফুটে বাচ্চার মা হওয়া। কিন্তু ধরন্ধর, উদ্দ্যেশ্য প্রনোদিত বেলালের কারনে একটি সহজ সরল মেয়ে আজ অসহায়।
আপনারাই বলুন বেলালদের মতো ধুরন্দরদের কি শাস্তি হওয়া উচিৎ?
[কৃতজ্ঞতা জানাই রেডিও আমার এবং লাভগুরু অনুষ্ঠান কে।]
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১১ রাত ৩:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



