সুমনের ছবিগুলি
১৮ ই মে, ২০০৬ সকাল ৭:৪৪
সুমনকল্যান আমার ইশকুলে পড়তো । 4-5 বছরের ছোটো থাকায় দিশী বাংলা মিডিয়াম ইশকুলের নিয়ম মেনে তার সাথে বেশি খাজুর গড়ে ওঠে নি সে সময়ে । আলাপ জমে স্কুল ছাড়ার বেশ 3-4 বছর বাদে । সুমনের তখন সদ্য পাখা উঠেছে । কচি ও ফুঁয়ো ফুঁয়ো নরম লোমে ঢাকা । ছবি আঁকবে ঠিক করে ফেলেছে আর আমাকে ডাকতে শুরু করেছে 'মানিকদা' ব'লে । কারণ জিগ্যেস করলে ব'লে, 'এমনিই! তোমাকে ভালো লাগে ব'লে'। একথা ব'লেই সোঁ ক'রে এক পাক ঘুরে নেয় । ওরকমই ! এক পায়ের গোড়ালিতে ভর দিয়ে বাঁই ক'রে দুটো পাক - হাত উপরে তোলা , মুখে মৃদু হাসি , চোখদুটি কখনো বোজা । কখনো ফুটপাথে , কখনো ট্রামলাইনের টিটেনাসে । এটা নাকি ওর আনন্দ প্রকাশ ।
একদিন এক বাঁজা সন্ধ্যেয় খুব ছিলিম উড়েছিলো যেদিন ডিকি ভাইয়ের ঠেকে মুরগি কাটা হ'লো আর শিবুদা এনেছিলো নিজের ঠেকের 'গ্র্যান্টি' দেওয়া চোলাইয়ের ব্যাগ-ব্লাডারে একাকার । সেই সপ্তমীর রাতে , সুমন মুরগির রক্তে আঙুল ডুবিয়ে ডুবিয়ে ছবি এঁকেছিলো ডিকির ভাই ডিস্কো'র ঘিয়ে রঙের টি-শার্টে, নিরীহ দেওয়ালে , দেবস্থানে আর খুব মিহিসুরে কেঁদেছিলো বহুক্ষণ ।
সুমন এখনো ছবি আঁকে । পরিচিতি বেড়েছে তার । বরোদায় থাকে । ফোন ক'রে । ছবি পাঠায় । কাঁদে না তবে শুধু ভালো থাকা-না থাকার গল্প ব'লে , খামে ভ'রে পাঠায় ধুপকাঠি , হনুমান চালিশা , ছিট কাপড়ের টুকরো , কখনো খাঁচা ভরা বদরিকা পাখির ছবি , রাজ হাঁস ।
গত হপ্তায় এই ছবিটি পাঠিয়েছে সুমন । আপানাদের দেখতে দিলাম । সুমনের ছবিগুলি তুলে রাখা যায় এখানেই ভালোবেসে ।
প্রকাশ করা হয়েছে: আমার প্রিয়তম প্রিয়তমা বিভাগে ।
অতিথি বলেছেন:
বরোদাবাসী সুমনকে কাসেলবাসী সুমনের শুভেচ্ছা..(ভায়া শমিত)
অতিথি বলেছেন:
বাহ সুন্দর ছবি!!
অতিথি বলেছেন:
পিয়াল ভাই ছবি বুঝার কি আছে? আমিও তো বুঝি না ..নানারকম লালনীল দেইখা টাল হইয়া যাই..ওই টালত্বেই মোক্ষ..
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন:
জটিল, এক কোনে কেউ বইয়া আছে-এইডা ছাড়া বাকি আর কিছুই তো বুঝলামনা।
ছবি পাগল বলেছেন:
অপূর্ব ছবি তো !!!!!!!!!!!
শমিত বলেছেন:
অসীমবাবু আমাদের ইংরিজি পড়াতেন ইশকুলে , জ্ঞানী ফলতঃ ঈষৎ পাগলাটে , সংসার করেন নি , খদ্দর পরতেন হেঁটো ধুতি পায়ে কেড্স্। আমাদের ছাত্রদের মধ্যে - ঝানু নারকোল থেকে কচি পটল - সকলের কাছেই তিনি ছিলেন অসম্ভব জনপ্রিয় । কোলরিজ পড়াতে পড়াতে চলে যেতেন সমূদ্্র নাবিকের কথায় বৃষ্টি এসে গেলে আমাদের সকলকে নিয়ে চলে যেতেন মাঠের পাশের চিলতে বাগানে ক্যামন ঝটপট করছে দ্যাখো দ্যাখো জল পেয়ে কি আনন্দ ওদের ছুঁয়ে দ্যাখো একটা কম্পন টের পাবে একটা সম্পর্ক টের পাবে ...জীবনে কোনোদিন ওনার একটা কথা ভুলি নি , যেটা উনি প্রায়ই বলতেন । কবিতা , গান ও ছবি এ তিনটি জিনিষ নাকি বোঝার জন্য না ।
কবিতা পড়ার জন্য আর পড়ে অনুভব করার জন্য ।
গান শোনার জন্য আর শুনে অনুভব করার জন্য ।
ছবি দ্যাখার জন্য আর দেখে অনুভব করার জন্য ।
এগুলি বোঝার চেষ্টা তাঁর মতে ছিলো বাতুলতা ।
পিয়াল ভাই , আমি নিজেও দেখেছি এ তিনটি জিনিষ (সত্য বললে এরকম বিষয় আরো আছে!) বোঝার চেষ্টা করলেই নিজেই বহুৎ ঘেঁটে যাই । তার থেকে সুমন যে টালত্বের কথা বলছে সেটা অনেক বাঞ্ছিত ব'লে মনে হয় আমার ।
অবশ্য আপনার মত এরকম না-ই হতে পারে ।
অতিথি বলেছেন:
সৌরভ দাদার মতো জোড়জবরদস্তি অবসর দিয়া দিলো নাকি লোকজন? নতুন লেখা নাই অনেক দিন।
অতিথি বলেছেন:
হ্যা রায় মশাই দর্শন দিচ্ছেন না অনেককাল..
রাগ ইমন বলেছেন:
আপনার অসীম বাবুকে লাল সালাম। মহাজাগতিক সত্য বলে দিয়েছিলেন। আমি গান পাগল, বাজনা পাগল, কবিতা পাগল ও বটে। জীবনে গাছ পাতা ফুল পাখি, বড় জোর মানুষের মুখ, এর বাইরে আধুনিক ছবির ধার কাছ দিয়েও যাওয়ার সাহস কখনও করিনি । সুমনের ছবিটা দেখে চোখ [নাকি মন!] আটকে গেল। প্রথমে তো রং দেখেই মনে রঙধনু। পরে জ হুরীর একাগ্রতা নিয়ে বসে বসে মানুষ খুঁজে পেয়ে মনে হল বিশ্বজয় করে ফেলেছি। :-)
ধন্যবাদ এই জগতে টেনে আনার জন্য।
শমিত বলেছেন:
রাগী মন ও শেখ জলিল , সুমনকে জানাবো আপনাদের ভালোবাসার কথা , ও হয়তো ফোন হাতেই বাঁ-ই ক'রে এক পাক ঘুরে নেবে ...
অতিথি বলেছেন:
সুমনের জন্য অনেক ভালোবাসা রইলো।



















ছবি ও গান দুটোই আমার অসম্ভব প্রিয় বিষয়।
কন্ট্রাডিকটরী হয়ে যাচ্ছে?
আচ্ছা আসলে এটা ঘটে মাঝে মাঝে।
লেখাটা ছবিটিকে মহীয়ান করেছে।