somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আহ্ মরি বাংলা ভাষা

২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৪:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘটনাটা আমার এক বন্ধুর কাছ থেকে শোনা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল রেইড হচ্ছে। প্রতি ছাত্রের আইডেন্টিটি কার্ড পরীক্ষা করছে পুলিশ। হঠাৎ এক ছাত্রের আইডি কার্ড পরীক্ষা নিরীক্ষার পর ছাত্রটিকে জিজ্ঞেস করা হল ‘কোন সাবজেক্টে পড়?’ ছাত্রটি জবাব দিল ‘জিওগ্রাফি’। তখন পুলিশ অফিসার রেগে ধমক দিলেন,‘পুলিশের সঙ্গেও মিথ্যা বলা হচ্ছে না? কার্ডে লেখা ভুগোল আর বলছ জিওগ্রাফি !’ এরপর সিপাহীদের নির্দেশ দিলেন ‘পেটাও শালারে’। এরপর পুলিশদল ঢুকল আরও একটি রুমে। রুমে অবস্থানরত ছাত্রটিকে বলল ‘কোন ক্লাসে পড়?’ ছাত্রটি জানাল সে এমবিএ -তে পড়ে।পুলিশ অফিসারটি এবারও রেগে গেল। ‘সব শালাই দেখছি মিথ্যে বলা শিখে গেছে। এম এ আর বি এ কি কখনো একসাথে শেখা যায়?’ বলেই আবার নির্দেশ দিলেন সহকারীদের ‘পেটাও শালারে’। অপরদিকে একজন বহিরাগতকে ধরে পুলিস জানতে চাইল, ‘কোন ক্লাসে পড়?’ সে জবাব দিল আমি ইন্জিনিয়ারিং পড়ি। পুলিশ তো আর জানে না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্জিনিয়ারিং পড়া যায় কিনা? তাই বহিরাগতের কথায় সন্তুষ্ট হয়ে তাকে ছেড়ে দিল। যে দেশের মহান দেশসেবকদের এই অবস্থা সেই দেশে তো অন্যদের কথা বাদই দেওয়া যায়।
ব্রিটিশ শাসনামলে বাঙ্গালীদের একটা বড় অংশের ইংরেজির প্রতি বাড়তি আকর্ষণ জেগেছিল। তখন তাদের এই মেকি আচরণকে ডাকা হত ইংরেজিয়ানা নামে। তারপর ব্রিটিশ বিতাড়িত হয়ে এল পাকিস্থান। এরাও বাঙ্গালির মায়ের ভাষার দাবিকে অগ্রাহ্য করে উর্দুকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইল। বাঙ্গালীদের মধ্যে অনেকেই আবার তখন তাদেরকে সাধুবাদ জানিয়েছিল।এদের কথা কবি আবদুল হাকিম বলে গেছেন,- ‘যে জন বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গবানী / সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।’
এদেশের সন্তানরা একসময় ভাষার জন্য জীবন দিয়েছেন অথচ আমরা অনেকেই কথায় কথায় বিদেশী ভাষা ব্যাবহার করে তথাকথিত আধুনিক হতে চাই। এ অধুনিকতাও ও যে ঠিকমত হয় তা কিন্তু নয়, এখানেও থেকে যায় সমস্যা । ওই যে গোড়ায় গলদ থাকলে যা হয় আরকি। একবার এক ইংরেজিবোদ্ধা বড় ভাই আমাকে উপদেশ দিয়েছিলেন, ‘এই তোমার প্রোনাউনক্রিয়েশন(pronounciation) ওরং (Wrong) হচ্ছে,শুদ্ধ করে পড়।’ আমার এই বড় ভাইতো তবু স্বঘোষিত ইংরেজিবোদ্ধা কিন্তু দেশে অনেক সুপ্রতিষ্ঠিত ইংরেজিবোদ্ধা আছেন যারা কোন বিষয়ের উদাহরণ টানতে গিয়ে হরহামেশাই suppose ; ধরো কিংবা Example স্বরুপ উদাহরণ; টাইপের বানী ব্যাবহার ফেলবেন। বাংলা কবিতায় সনেটের প্রবর্তক মধুকবি মাইকেল মধুসুধন ও চেয়েছিলেন ইংরেজ হতে। প্রথম অবস্থায তিনি বাঙলা ও বাঙ্গালিকে অবজ্ঞা করে ইংরেজিতে কাব্য লেখা শুরু করেন।পরে ইংরেজি ভাষায় মনের ব্যাকুলতা প্রকাশ করতে না পেরে ফিরে আসেন বাংলায়। লেখেন ‘হে বঙ্গ ভান্ডারে তব বিবিধ রতন’..নিজেকে পরিচয় দেন যশোরের বাঙ্গাল বলে। বাংলা সাহিত্যেও আরেক খ্যাতিমান লেখক বঙ্কিমচন্দ্রও প্রথম উপন্যাস লিখেছিলেন ইংরেজীতে, পরে মনের ক্ষুধা মেটাতে বাংলায় লিখতে শুরু করেন। এই বাংলা ভাষায় সাহিত্য রচনা করে গেছেন নোবেল বিজয়ী রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জীবনানন্দ, শরৎচন্দ্র, মানিক, তারাশঙ্করের মত সাহিত্য দিকপাল। আজ বাংলা যেখানে বিশ্বে অন্যতম ভাষা হিসেবে স্বীকৃত সেখানে বাংলা নিয়ে কেন আমাদের এই হীনমন্যতা? আজ আমাদের নবীন প্রজন্ম , যারা তথাকথিত ইয়ো কিংবা ডিজুস জেনারেশন কালচারের মোহে অন্ধ তারা কি আসলেই জানে কোন দিকে ছুটছে তারা? দোষকি আমাদের বাংলা মা ও ভাষার নাকি অন্য কোথাও? বন্ধু বউ নিয়ে মমতাজের বাড়ির সামনে দিয়ে গেলে তার বুক যেমন একেবারে ফাইট্টা যায়, আর আমাদের বুকটাও ফাইট্টা যায় যখন দেখি এদেশের কোন সন্তান বাংলায় কথা বলতে পারে না। বলতে পারে না বললে হয়তো ভুল বলা হবে, কারণ তারা বলার চেষ্টা করে না। বাংলায় কথা বললে যদি মান ইজ্জতে ঘাটতি দেখা দেয়!
যখন কেউ জোর করে ইংরেজি বলতে চায, তখন তার জন্য খুব মায়া হয়, আহা বেচারা নিজেকে জাতে উঠানোর জন্য কত বড় রিস্কটাই না নিল। আবার কারো কারো ইংরেজি উচ্চারণ শুনলে তো মুখে পাথরচাপা দিয়েও হাসি আটকে রাখা যায় না। যার নিজের মাতৃভাষা শুদ্ধভাবে চর্চার এতটুকু আগ্রহ নেই তার কাছে বিদেশী ভাষার শুদ্ধ উচ্চারণ আশা করা নেহায়েই অন্যায় এটা নিশ্চয়ই সবাই বুঝবেন।
সত্যিই আমাদের রক্ত দিয়ে কেনা বাংলা ভাষাটা শুদ্ধভাবে চর্চার প্রতি আজ কারও যেন এতটুকু আগ্রহ নেই।ভাষা ব্যাবহারের নিয়ম কানুন বিধি ব্যাবস্থা থাকলেও তার সঠিক প্রয়োগের ব্যাপারে কারো নেই কোন সচেতনতা। আমাদের বাংলা অভিধান থাকলেও এটা মেনে চলছে কয়জন? প্রমান চাইলে হাতের কাছের কোন জাতীয় দৈনিকের পাতা উল্টিয়ে দেখুন। প্রত্যেকটি পত্রিকার আছে নিজস্ব বানানরীতি আবার একই বানান বিভিন্ন পত্রিকা করছে বিভিন্নভাবে - ফেব্রুয়ারি/ফেব্রুয়ারী, ঈদুল আযহা/ঈদুল আজহা...তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর।এসবের কারণে শুদ্ধ ভাষা চর্চা নিয়ে বিভ্রান্তি বাড়ছে বই কমছে না।
(হাত ব্যাথার কারণে সাময়িকভাবে স্থগিত। চলবে...)

সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৪:৪০
১০টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×