১
এক পাতি নেতা একটি সেলুনে ঢুকে দোকান মালিককে জিজ্ঞাসা করল,
: ‘আমি যদি এখন সিরিয়াল দিই, তাহলে আমার চুল কাটা শুরু করতে আপনার কত সময় লাগবে?’
নাপিত বলল,
: ‘ভাই আপনার আগে আরও ৬ জন আছেন। আমার মনে হয় ২ ঘন্টা লাগবে।’
এই কথা শুনে লোকটি চলে গেল। এর পর আবার একদিন ঐ লোকটি এসে একই প্রশ্ন করল এবং এবার নাপিত বলল- দেড় ঘন্টার কথা এবং লোকটি চলে গেল। ঐ পাতি নেতা আবার একদিন এসে একই কথা জিজ্ঞাসা করল। এইবারও নাপিত ২ ঘন্টার কথা বলল এবং লোকটি চলে গেল। এবার নাপিত একটা ছেলেকে ঐ নেতার পিছু পিছু যেতে বলল এবং বলল কোথায় যায় তা দেখতে। কিছু সময় পর ঐ ছেলেটি ফিরে এসে বলল, ঐ লোকটি আপনার বাড়িতে গেছে।
২
অনেকদিন পর দুই বান্ধবীর দেখা। বিভিন্ন বিষয়ে কথাবার্তার পর এক বান্ধবী আরেক বান্ধবীকে জড়িয়ে ধরে বলল-
: এবার তোর নিজের কথা বল। স্বামী-সংসার নিয়ে কেমন আছিস?
: আর বলিস না, গত পাঁচ বছর খুব সুখেই কাটিয়েছি। এবার বুঝি সেটা শেষ হতে চলল।
: কেন? স্বামীর সঙ্গে কি খারাপ সম্পর্ক যাচ্ছে?
: না, এ ব্যাপারে ওর কোনো হাত নেই। গত পাঁচ বছর ধরে তিনি তো দুর্নিতির অভিযোগে বিদেশে পলাতক ছিলেন। সামনের মাসেই তিনি দেশে ফিরে আসছেন।
৩
একদিন এক নামকরা রাজনীতিবিদ বের হলেন হাঁস শিকারে। অনেকক্ষণ ঘোরাঘুরির পর তিনি একটা হাঁস শিকার করলেন। কিন্তু হাঁসটা গিয়ে পড়ল বেড়া দেওয়া ক্ষেতের ভেতর। বেড়া টপকে ভেতরে ঢুকতে যাবেন এমন সময় হাজির জমির মালিক। সব শুনে মালিক বললেন,
: ‘হাসটা যেহেতু আমার ক্ষেতে পড়েছে সেহেতু হাঁসের অর্ধেকটা আমার।’
ক্ষেপে গিয়ে রাজনীতিবিদ বললেন,
: ‘হাঁসটা আমাকে না দিলে দুদিনের মধ্যে তোমার ক্ষেতের সবকিছু আমি নিলামে ওঠাব।’
জমির মালিক বললেন,
: ‘তাহলে ব্যাপারটা আমাদের এলাকার নিয়ম অনুযায়ী তিন থাপ্পড়ের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হোক। আমরা একজন আরেকজনকে তিনটা করে থাপ্পড় দেব। শেষ পর্যন্ত যে হার মানবে সে হাঁসটা পাবে না।’
রাজনীতিবিদ ভাবলেন, বেয়াদপ কৃষককে কষে তিনটা থাপ্পড় মারা যাবে, হাঁসটাও পাওয়া যাবে। তিনি রাজি হয়ে গেলেন। দুজন হাঁসটা নিয়ে গ্রামের মোড়লের কাছে গেলেন। কৃষকের কাছ থেকে সব শোনার পর থাপ্পড় পর্ব শুরু হলো। প্রথমে কৃষক তাঁর সর্বশক্তি দিয়ে রাজনীতিবিদের গালে কষে তিনটা থাপড় দিলেন। অনেক কষ্টে সহ্য করে এরপর রাজনীতিবিদ প্রস্তুতি নিলেন কৃষকের গালে থাপ্পড় মারার জন্য।
তখন কৃষক বলে উঠলেন,
: ‘আমি হার মানছি। হাঁসটা নেতা সাহেবকেই দেওয়া হোক।’
৪
এক নেতা যখন ভোটে দাঁড়ালেন, প্রচুর পোস্টার ছাপালেন। প্রেসের লোক এসে বলল, : ‘স্যার, এত পোস্টার ছাপালেন, বিলটা তো পাইলাম না।’
নেতা বললেন,
: ‘খাড়াও মিয়া, খালি সংসদে যাই, তারপর তো শুধু বিলই পাস করমু।’
৫
স্বৈরাচার এক শাসক নিজের ছবি দিয়ে স্ট্যাম্প বের করার পর একদিন খোঁজ নিতে গেলেন।
: কী, স্ট্যাম্পটা কেমন চলছে?
: স্ট্যাম্প তো চলছে না স্যার। সবকিছু ভালো হয়েছে কিন্তু ভালো আঠা দেওয়া হয় নাই।
: কী! ডাক তাকে। আঠার দায়িত্বে কে ছিল?
আঠার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসে বললেন,
: স্যার আঠা তো ভালোই দিয়েছি কিন্তু লোকজন তো আঠার দিকে থুতু দেয় না, থুতু দেয় উল্টো দিকে।
৬
একবার দশজন রাজনীতিবিদকে বহনকারী একটি হেলিকপ্টার দূর গ্রামে বিধ্বস্ত হলো। খবর পেয়ে রাজধানী থেকে উদ্ধারকারী দল রওনা হলো। ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পৌঁছাতে সন্ধ্যা প্রায়। দেখা গেল, গ্রামবাসীরা ইতোমধ্যে দশজনকেই দাফন করে ফেলেছে,
: সারিবদ্ধ দশটি কবর।
উদ্ধারকারী দলনেতা জানতে চাইলেন,
: সবাই কি ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন?
: কবর দেওয়ার আগ পর্যন্ত দুইজন বলছিলেন যে, তারা মারা যাননি। কিন্তু আমরা সে কথায় কর্ণপাত করিনি। জানেনই তো রাজনীতিবিদদের সব কথা বিশ্বাস করতে নেই!
৭
এক রাজনীতিবিদ মাতাল হয়ে দুই তলা থেকে জানালা দিয়ে মুত্রত্যাগ করছে । তখন আরেক মাতাল বলছে,
: আরে তোর পেশাব বেয়ে তো চোর উঠে যাবে ?
এ কথা শুনে প্রথম মাতাল বলল,
: আমি কি তোর মতো বলদ নাকি, আমি ছেড়ে ছেড়ে করছি যাতে চোর উঠে আর পড়ে যায় ।
৮
দুই ভদ্রলোক।
: রাজনীতিবিদদের নরকে যাওয়া উচিত।
: তাহলে আমাদের পৃথিবীটা নরক বানাবে কে?
৯
এক লোক সচিবালয়ের মুল প্রবেশ পথে তার জীর্ণ বাইসাইকেলটি রেখে ভেতরে ঢুকছিল।
হা হা করে ছুটে এলো দারোয়ান
: এই পথ দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রীর মতো লোক যাবেন। তুমি কী ভেবে সাইকেলটি এখানে রাখলে?
লোকটি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বললো,
: সাইকেলটি পুরানো হলেও তালাটি নতুন। উনাদের কেউ এটি চুরি করে নিয়ে যেতে পারবেন বলে মনে হয় না!
১০
একবার বনমন্ত্রী সুন্দরবন পরিদর্শনে গেলেন। গহীন জঙ্গলে তিনি কিছু লোহা-লক্কর পড়ে থাকতে দেখলেন। তৎক্ষণাৎ স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিলেন,
: এগুলো দেখে-শুনে রেখো।
সুতরাং নৈশপ্রহরী নিয়োগ দেওয়া হলো।
কিছুদিন পর তার কাজ তদারকি করার জন্যে নিয়োগ করা হলো একজন সুপারভাইজার । এই দুজনের ছুটিছাটা দেখার জন্যে নিযুক্ত হলো প্রশাসনিক কর্মকর্তা। আর তিনজনের বেতন-ভাতা হিসাব-নিকাশ করবেন সদ্য নিযুক্ত হিসাবরক্ষক।
এক্ষণে অর্থ মন্ত্রণালয়ের টনক নড়লো। তারা আপত্তি জানিয়ে বললো,
: এত লোকের বেতন দেওযা যাবে না, লোক কমাও।
বিষয়টি বনমন্ত্রীকে জানানো হলো। তিনি বললেন,
: সরকারি কাজকর্ম হবে দিনের আলোয়, রাতে লোক রাখার দরকার কী? তাই নৈশপ্রহরীর দরকার নেই। ওকে আগে চাকরি থেকে বিদায় করো!
১১
প্রথম বান্ধবী : জানিস, আমার স্বামী এখন কোথায় আছে?
দ্বিতীয় বান্ধব : কেন, কোথায়?
প্রথম বান্ধবী : র্যাব-এ।
দ্বিতীয় বান্ধব : ওয়াও! তোর স্বামী না পলিটিকস করতো। মতিগতি ফিরেছে তাহলে। তা কবে জয়েন করলো?
প্রথম বান্ধবী: গত রাতে র্যাব তাকে ধরে নিয়ে গেছে।
১২
সভাপতি পার্টির সভায় যোগ দিতে এসেই টেবিলের ওপর একটা চিরকুট পেলেন, তাতে লেখা- “গাধা !”
সভার বক্তৃতা দেবার সময় তিনি কথাটা ঘুরিয়ে বললেন,
: এমন অনেক উদাহরণ আছে- মানুষ চিঠি লিখে তার তলায় নিজের নাম সই করতে ভুলে গেছে । কিন্তু আজ আমি একটা নতুন জিনিস দেখলাম। এখানে এসে আমি একটা চিঠি পেলাম, তাতে লেখক নিজের নাম স্বাক্ষর করেছেন কিন্তু আসল চিঠিটাই লিখতে ভুলে গেছেন।
[ দে তালি........]
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


