somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পলিটিক্যাল শো [ পর্ব : পলিটিশিয়ান] :P

১৩ ই মার্চ, ২০১০ রাত ১:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কাউকে পরোয়া না করা এবং কাউকে তোষামোদ না করার ব্যাপারে দার্শনিক ডায়োজেনিসের খুব সুনাম ছিল। সেটা ছিল দিগি¦জয়ী বীর আলেকজান্ডারের শাসনামল। এক সকালে দার্শনিক ডায়োজেনিস তাঁর বাসার সামনে রোদ পোহাচ্ছিলেন। হঠাৎ আলেকজান্ডার এসে তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন,
: ‘আপনার জন্য আমি কী করতে পারি?’
ডায়োজেনিস বললেন,
: ‘আমি রোদ পোহাচ্ছি; আপনি সূর্যটা আড়াল করে দাঁড়িয়ে আছেন।
আপাতত একটু সরে দাঁড়ালেই হয়।’ আরেকবার, সেটি অত্যাচারী রাজা ডেনিসের আমলের ঘটনা। তাঁকে একদিন শাক দিয়ে রুটি খেতে দেখে সে-সময়কার আরেক দার্শনিক বললেন,
: ‘যদি রাজাকে একটু তোষামোদ করে চলতেন, তাহলে আর শাক দিয়ে রুটি খেতে হতো না!’
ডায়োজেনিস সঙ্গে সঙ্গে বললেন,
: ‘আপনি যদি শাক দিয়ে রুটি খেতে শিখতেন, তাহলে এমন এক অত্যাচারী রাজাকে তোষামোদ করতে হতো না।’






একদিন সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিলের স্ত্রী ও তাঁর ব্যক্তিগত সচিব এডওয়ার্ড মার্শ একটি রেলস্টেশনে চার্চিলের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। চার্চিলের সঙ্গে তাঁদের এক জায়গায় যাওয়ার কথা। ট্রেন ছাড়ে ছাড়ে অবস্থা, তবু চার্চিলের দেখা নেই। চার্চিলের স্ত্রী তখন স্বামীর প্রতি উষ্মা প্রকাশ করতে লাগলেন। তাঁর উদ্বেগ দেখে অস্থির হয়ে পড়েন এডওয়ার্ড মার্শ। একপর্যায়ে তিনি বলে বসেন, ‘উইনস্টন আসলে খেলোয়াড়সুলভ মনোভাবের অধিকারী। এ জন্য তিনি ট্রেনকে সব সময় আগেভাগে চলে যাওয়ার সুযোগ দিয়ে থাকেন।’




খাওয়া, ঘুম, নারীসঙ্গ আর ভাগ্য বিষয়ে জ্যোতিষীদের ওপর অগাধ বিশ্বাস-রাজা-বাদশাদের কারবার তো ছিল এমনই। প্রথা ভেঙে এর একটু বাইরে বেরোনোর চেষ্টা করেছিলেন ফ্রান্সের রাজা একাদশ লুই। উঁহু, ভুল ভাবলে চলবে না। প্রথম তিনটি জিনিসে একদমই তিনি প্রথা ভাঙার চেষ্টা করেননি। বিপ্লবী হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন কেবল জ্যোতিষশাস্ত্রের বেলায়। কিন্তু সেই বিপ্লবী মনোভাব হুমকির মুখে পড়ে, যখন রাজ্যের এক জ্যোতিষী রাজপরিবারের একজনের মৃত্যুর ব্যাপারে আগাম ভবিষ্যদ্বাণী করে সফল হয়।
ধর তক্তা মার পেরেক। রাজার সামনে হাজির করা হলো জ্যোতিষীকে। প্রজাদের মনে বিভ্রান্তি আর কুসংস্কার ছড়ানোর অপরাধে শাস্তি হবে তাঁর। রাজা মুচকি হেসে জিজ্ঞেস করলেন, আচ্ছা, তুমি তাহলে ভবিষ্যতবাণী করতে পার। তা বল তো দেখি, তোমার কবে মৃত্যু হবে? জ্যোতিষীও কম সেয়ানা নয়,
: ‘জাঁহাপনা, আপনার মৃত্যুর ঠিক তিন দিন আগে আমার মৃত্যু হবে।’
তারপর আর কি! রাজা জনা বিশেক বৈদ্য-কবিরাজ নিয়োগ দিলেন জ্যোতিষীর স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্য। আর জ্যোতিষীও ঘি-টি খেয়ে সুখে-শান্তিতে দিন কাটাতে লাগলেন।





একবার এক বিধ্বংসী ঝড় পশ্চিমবঙ্গের দিকে আসতে আসতে উড়িশ্যার দিকে ঘুরে গেল । সেই সময় মহাকরণ [ভারতের লোকসভা] থেকে বলা হল যে এই ঝড় আমাদের রাজ্যে না এসে যে অন্য রাজ্যে ঘুরে গেল তার সম্পূর্ণ কৃতিত্বই দাবি করতে পারেন রাজ্যের পূর্তমন্ত্রী ক্ষিতি গোস্বামী । উপকূলে ঘনীভূত সাইক্লোন অনেক চেষ্টা করেও এ রাজ্যের রাস্তার খানাখন্দ পেরিয়ে এখানে ঢুকতে পারেনি । শেষে বিরক্ত হয়ে অন্য দিকে চলে গেছে ।





টিওডর ড্রাইজার ছিলেন সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী আমেরিকান লেখক । জিনিয়াস, টাইটান, ফিন্যান্সিস্ট, আমেরিকা ট্রাজেডি ইত্যাদি বেশ কয়েকটি বই তিনি লিখেছিলেন । সোভিয়েত ইউনিয়নে তাঁর প্রায় সব বই-ই অনূদিত হয়ে প্রকাশিত হয়েছিল । তাঁর সম্পর্কে রসিকতা করে বলা হয় :
প্রশ্ন : টিওডর ড্রাইজার কী করে কমিউনিস্ট হলেন ?
উত্তর : তিনি প্রথমে হতে চেয়েছিলেন জিনিয়াস, কিন্তু তত মগজ ছিল না তাঁর মাথায় ; পরে তিনি হতে চাইলেন টাইটান, কিন্তু তাঁর শরীরে ছিল না তত শক্তি, ভাবলেন ফিন্যান্সিস্ট হবেন, কিন্তু টাকায় কুলোল না ; পরে তাঁর জীবনে ঘটল আমেরিকান ট্রাজেডি , ফলে তিনি হয়ে গেলেন কমিউনিস্ট ।




ভারতের আইনমন্ত্রী এন.এন. সরকার অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও সুরসিক ছিলেন। মন্ত্রী থাকাকালে তিনি লোকসভায় অবৈধ সন্তান ও ভাগ্য বিড়ম্বিত রক্ষিতাদের জীবন-জীবিকা সংস্থানের বিষয় সংবলিত একটি বিল উত্থাপন করেন।
একজন সাংসদ জানতে চাইলেন,
: আমি কি মাননীয় আইনমন্ত্রীকে প্রশ্ন করতে পারি- যারা রক্ষিতা রাখে সেইসব পুরুষ সম্পর্কে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি কী?
এন.এন. সরকার উত্তর দিলেন,
: আমাদের কাছে আপাতত এ ধরনের সম্পর্কের ব্যাপারে কোনো তথ্য নেই। আপনার মতো সম্মানিত সদস্যের যদি এ ব্যাপারে বাস্তব জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা থাকে, তবে আপনার সহায়তা পেলে আনন্দিত হবো!




নিজের ছেলেকে সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত করার জন্য এক মহিলা একবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের কাছে গিয়ে বললেন,
: ‘এটা আমার দাবি, এ পদটা আমার ছেলের প্রাপ্য। আমার দাদা কেসিংটনে যুদ্ধ করেছেন, আমার চাচা ব্লাডেনসবার্গ যুদ্ধের মাঠ থেকে পালিয়ে যাননি, আমার দাদা নিউ অরলিয়ান্সে যুদ্ধ করেছেন আর আমার স্বামী তো মন্টেরিরি যুদ্ধে মারাই গেলেন।’ ভদ্রমহিলার কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনে লিংকন বললেন,
: ‘ম্যাডাম, আমার ধারণা আপনার পুরো পরিবার দেশের জন্য অনেক করেছে। এবার অন্যদের একটু সুযোগ দেওয়া উচিত। ’





চীনা সম্রাট একবার বিজয়নগরের সম্রাটের জন্য এক ঝুড়ি পিচ ফল পাঠালেন। সঙ্গে একটি চিঠি। চিঠিতে লেখা
: ‘এ ফল খেলে আয়ু বাড়ে।’
ফলের ঝুড়িটি যখন সম্রাট কৃষ্ণদেবের সামনে তুলে ধরে চিঠি পড়ে শোনানো হলো, রমণ আর লোভ সামলাতে পারলেন না। একটি পিচ তুলে নিয়ে টুপ করে মুখে পুরলেন। আর যায় কোথা! ভীষণ খেপে গেলেন সম্রাট। বোমার মতো ফেটে পড়ে তিনি বললেন,
: ‘আমার জন্য পাঠানো ফল কিনা তুমি মুখে দিলে! তা-ও আবার আমি স্বাদ নেওয়ার আগেই! এক্ষুনি তোমার গর্দান যাবে।’
সম্রাটের হুকুমে সেপাইরা চেপে ধরল রমণকে। এক্ষুনি তাঁকে কতল করা হবে। কিন্তু রমণ একটুও ভয় পেলেন না। বরং বাঁকা হেসে বললেন,
: ‘চীনা সম্রাট যে কেমন বাটপার, এখনই প্রমাণিত হলো। তিনি লিখেছেন, এ ফল খেলে আয়ু বাড়ে, আর আমি মুখে দিতে না দিতে মারা যেতে বসেছি। নিজের প্রাণ যায় যাক, এ নিয়ে আমার চিন্তা নেই। সম্রাট বাহাদুর এ ফল খেলে কী যে হবে, সে কথাই ভাবছি।’
রমণের কথায় টনক নড়ল সম্রাটের। সঙ্গে সঙ্গে তিনি হুকুম রদ করলেন। প্রাণে রক্ষা পেলেন রমণ।



সাবেক রিপাবলিকান মার্কিন প্রেসিডেন্ট থিওডর রুজভেল্ট একবার এক সমাবেশে ভাষণ দিচ্ছিলেন। এমন সময় তাঁকে খেপাতে এক ব্যক্তি উঁচু গলায় চেঁচিয়ে উঠল,
: ‘স্যার, আমি একজন ডেমোক্র্যাট।’
রুজভেল্ট জানতে চাইলেন,
: ‘আপনি ডেমোক্র্যাট কেন, জানতে পারি?’
: ‘আমার দাদা ছিলেন ডেমোক্র্যাট, বাবা ছিলেন ডেমোক্র্যাট, কাজেই আমিও ডেমোক্র্যাট।’
: ‘এটা কোনো কথা হলো? আপনার দাদা আর বাবা গাধা হলে আপনিও কি গাধা হবেন?’
: ‘তা হব কেন, আমি তখন হব রিপাবলিকান।’


সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই মার্চ, ২০১০ রাত ২:৪৯
২১টি মন্তব্য ২১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×