এক মাছশিকারী গল্প বলছে-
: সেদিন জেটির ধারে ছিপ নিয়ে বসেছি । বসে আছি তো বসেই আছি । হঠাৎ ফাতনা নড়ে উঠল । স্বচ্ছ জলের ভিতর দিয়ে দেখি একটা পুঁটি মাছ টোপ গিলছে । এই ধর আমার কড়ে আঙুলের সাইজ । ওইটুকু মাছটাকে তুলব কিনা ভাবছি, এমন সময় দেখি বেশ বড় একটা রুইমাছ পুঁটিটাকে গিলে ফেলল। সবে টান দেবার উপক্রম করেছি । ওমা দেখি কি একটা বিশাল বোয়াল রুইটাকে কপাৎ করে খেয়ে ফেলল ! ওরে খাইছেরে বলে দিলাম ছিপে টান ।
: তারপর ? অধৈর্য শ্রোতা জানতে চান । তারপর কি হল ? আপনি কি বোয়ালটাকে তুললেন ?
: না আর তোলা হল কই ? পুঁটিমাছটাই যে বঁড়শি থেকে ছেড়ে গেল !
২
মৎস্যশিকারীদের আড্ডায় অত্যন্ত বিমর্ষ হয়ে বসেছিল মোজো । তা দেখে তার বন্ধু প্রশ্ন করল,
: কী দোস্ত ! আজ দেখছি মুড অফ ! নতুন করে কোন ঝামেলা হল না কি ?
: আর বোলো না। বউ আলটিমেটাম দিয়েছে, হয় বরাবরের মতো আমাকে মাছ ধরা ছাড়তে হবে, নইলে সে আমাকে বরাবরের মতো ছেড়ে চলে যাবে ! এতদিনের এত্তো এত্তো ভাল বউটাকে আমি আজ হারাতে চলেছি !
৩
: আচ্ছা বিভাস , যে বিশাল মাছটা তোমার সুতো ছিঁড়ে পালিয়ে গিয়েছিল, সেটা ঠিক কত বড় ছিল ?
: সে তো ভাই বলতে পারব না ? এটুকু জানি, আমার হুইলে ১০০ গজ নতুন সুতো ছিল । মাছটা টোপ গিলেই উজানে ছুটল । হুইলের সুতোও শেষ হল, আর আমি দেখলাম মাছটার ল্যাজ তখনও নৌকার ধার দিয়ে চলেছে ।
৪
সমুদ্রতীরে মাছ ধরছিলেন এক দম্পতি । স্বামীর বঁড়শিতে টোপ গিলল এক বিশাল স্যামন মাছ । কিন্তু হুইল গুটিয়ে সেটাকে তীরে আনার আগেই সুতো-মাছ সব জড়িয়ে গেল সমুদ্র কোরালের স্তুপে । স্বামী চিৎকার করে স্ত্রীকে বললেন ,
: ওগো জলদি কর ! ঝাঁপ দাও ! সাঁতরে চলে যাও ওই কোরাল রিফটার কাছে ! ডুব দিয়ে সুতোটা ছাড়াও । নইলে হাঙরগুলো মাছটাকে টুকরো টুকরো করে ফেলবে যে!
৫
এক প্রৌঢ় এবং এক যুবক মাছ ধরতে বেরিয়েছে । সেদিন তাদের ভাগ্য সুপ্রসন্ন ছিল । প্রচুর মাছ ধরে তারা দিনের শেষে যখন বাড়ি ফিরছে, তখন প্রৌঢ় বললেন-
: আজকের দিনটা দারুণ ছিল ! কি বল ?
: সত্যিই ! এত বড় বড় মাছ কখনও তুলিনি ! যুবকের উত্তর ।
: তাহলে আগামী কাল সকালে ফের আসব ! কী রাজি আছ তো ?
: আগামীকাল ? আগামীকাল যে আমার বিয়ে ! থাকগে, বিয়েটা না হয় একদিন পিছিয়ে দেব !
. . . .যুবকের ঘোষণা ।
৬
ছোট্ট ছেলেটি কাসে দেরি করে ফেলেছিল। চুপি চুপি কাসে ঢুকতে গিয়েছিল সুপারিটেন্ডেন্টের নজর এড়িয়ে । কিন্তু ধরা পড়ে গেল । সুপার খপ করে তাকে ধরলেন এবং দেরির জবাবদিহি চাইলেন । আমতা আমতা করে সে জবাব দিল
: আমি আজ মাছ ধরতে যাব ঠিক করেছিলাম, কিন্তু বাবা যেতে দিল না ।
সুপারের মুখ মৃদু হাসিতে উদ্ভাসিত হল । বিচক্ষন পিতা। তিনি বললেন । তোমাকে মাছ ধরতে যেতে না দিয়ে তিনি ঠিক কাজই করেছেন । কারণটাও তিনি নিশ্চই ব্যাখ্যা করেছেন , পড়ার সময় পড়া আর অন্য কাজের সময় অন্য কাজ তাই না ?
ছোট্ট ছেলেটি জবাব দেয়,
: না স্যার । তিনি তো বললেন, যা টোপ আছে, তাতে আমাদের দুজনের কুলোবে না !
৭
এক মৎসশিকারীর বাড়িতে অনেকদিন বাদে বন্ধু এসেছেন । ড্রয়িংরুমে দেখেন কাচের বাক্সে বড় একটা মাছ স্টাফ করে সাজিয়ে রাখা আছে । ব্যাপারটা কি জানতে চাইলে মাছশিকারী বললেন,
: গতবার মাছ ধরতে গিয়ে এটা পেয়েছিলাম । একা একটা ডিঙি নিয়ে বেরিয়েছিলাম । মাছটা টোপ গেলার পর কয়েক ঘন্টা আমার তো নাকানিচোবানি অবস্থা । ডিঙি সামলাই না মাছ সামলাই ! ডিঙি প্রায় উল্টে যায় এমন অবস্থা ! আর তুমি তো জানোই আমি সাঁতারও জানি না । সে এক জীবন-মরন অবস্থা ! হয় মাছ, না হয় আমি - যে কোন একজন বাঁচবে !
: তবে, বন্ধু উত্তর দিলেন, ডেকোরেশনের দিক থেকে মাছটাই ভালো হয়েছে বলে আমার মনে হয় !
৮
চার মহিলা ব্রীজ খেলছেন । ম্যান্টেলপিসের উপর স্টাফ করা বিশাল হাঙরটা সকলেরই দৃষ্টি আকর্ষন করছিল । গৃহকর্ত্রী বেশ গর্বের সঙ্গে বললেন -
: আমি এবং আমার স্বামী গভীর সমুদ্রে এই হাঙরটাকে ধরেছিলাম ।
: কিন্তু হাঙরটাকে বেশ মোটা লাগছে । ওটার পেটের ভেতর কী পোরা আছে ?
: আমার স্বামী !
৯
নদীর ধারে তাঁবু গেড়ে দুজন মাছ ধরছেন । ফিশিং ইন্সপেক্টর যথারীতি হাজির ।
: এই ছিপটা কার আমি জানতে চাই । ইন্সপেক্টর গম্ভীর গলায় বলেন ।
: আমার ।
: আপনি কি জানেন না, এখানে মাছ ধরা নিষিদ্ধ ?
: জানি ! তবে, সত্যি কথাই বলি, আমরা কিন্তু মাছ ধরছি না । আমরা একটা সুতোয় বিয়ারের বোতল বেঁধে সেটাকে নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছি মাত্র ! যাতে বিয়ারটা ঠান্ডা হয় । বুঝেছেন তো ?
: হুম ! ইন্সপেক্টরের গম্ভীর মুখ গম্ভীরতর হয় । আমার সারা জীবনের অভিজ্ঞতায় কখনও কোনও বিয়ারের বোতল দেখিনি যেটা কিনা বৃত্তাকার ঘোরে আর মাঝে মাঝে নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য জলের ওপর ভেসে ওঠে !
১০
দুটো গোল্ডফিশ ঝকঝকে অ্যাকোয়ারিয়ামের মধ্যে সাঁতার কাটছে । হঠাৎ একটি আরেকটিকে প্রশ্ন করে ,
: আচ্ছা আপনি ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন ?
দ্বিতীয় গোল্ডফিশটি উত্তর দেয়,
: বলো কি? ঈশ্বরে বিশ্বাস করব না ? অবশ্যই করি । দিনে দুবার আমাদের এ ঘরের জল পালটে দেন কে তাহলে ?
১১
অনেকন পাশে দাঁড়িয়ে অন্যের মাছ ধরা দেখছেন এক ভদ্রলোক । মাঝে মাঝে টিপ্পনী কাটছে । মৎস্যশিকারীর মেজাজও স্ফূটনাঙ্কের কাছাকাছি চলে যাচ্ছে । এক সময় দর্শক ভদ্রলোক প্রশ্ন করেন,
: আজ দেখি মাছ একদম ঠোকরাচ্ছে না। কি বলেন ?
ক্রুদ্ধ মৎস্যশিকারী উত্তর দিলেন,
: জানি না মশাই ! আর যদি ঠুকরেও থাকেও তারা একে অন্যকে ঠোকরাচ্ছে !
১২
ছোট্ট বৃন্ত তার মাকে জিজ্ঞেস করে : আচ্ছা মা, সব গল্পই কি শুরু হয় এক যে ছিল রাজা দিয়ে ?
মা : (বাপের দিকে তাকিয়ে ) না বাবা । কখনও কখনও তার শুরুটা হয় এরকম ,' সে মাছটা ছিল কম সে কম দশ ফুট লম্বা, লেজটা ধরলে আরও...'!
জুকস ও ছবিসত্ব :
গুগল মামা
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে আগস্ট, ২০১০ বিকাল ৩:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


