আমার প্রিয় পোস্ট

Never argue with idiots. They bring you down to their level and then beat you with experience

মাঝরাত্তিরের একডজন রাশিয়ান জোক্স

২৭ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১:৩৮

শেয়ারঃ
0 3 0


বাবা, মোরগ কেন ডাকে ? - শিশু পুত্রের সরল জিজ্ঞাসা ।
-কেউ মিথ্যা কথা বললেই মোরগ ডেকে ওঠে, রাশিয়ান পিতা উত্তরের ছলে নীতিশিক্ষা দেবার চেষ্টা করেন ।
- তাহলে খুব ভোরে সবাই যখন ঘুমিয়ে থাকে, তখন এক সঙ্গে এত মোরগ ডাকে কেন ?
- কারন তখন প্রাভদা, ইজভেস্তিয়া (কমিউনিষ্ট নিয়ন্ত্রিত রাশিয়ান দৈনিক) ছাপা হয় !


মেলার ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া রুশ বালককে আশ্বস্ত করে মিলিশিয়া বলছে,
- চিন্তা কোরো না, তোমার হারিয়ে যাওয়ার খবর আমরা রেডিও-র মাধ্যমে প্রচার করব । তোমার বাবা-মা সেই খবর শুনে তোমাকে এসে নিয়ে যাবেন ।
- তাহলে প্রচারটা বিবিসির মাধ্যমেই করবেন, রুশ বালকের তাৎনিক জবাব, আমার বাবা-মা বিবিসি ছাড়া অন্য কিছু শোনে না ।


প্রশ্ন : সোভিয়েত দেশে মাংসের এত আকাল কেন ?
উত্তর : ভেড়াগুলো মেতে আছে বিজ্ঞান নিয়ে, গাভীগুলো জেনারেলদের স্ত্রী হয়ে বসে আছে, পার্টি আর সরকারের বড় বড় পদগুলো দখল করে রেখেছে শুয়োররা, আর এসব দেখে মুরগি গুলো হাসতে হাসতে মরে গেছে ।


পোস্টারের দোকানে সোভিয়েত ক্রেতার প্রশ্ন :
- পলিটব্যুরোর সদস্যদের পোস্টার আছে ?
- আছে এই দেখুন । ( বিক্রেতা কয়েকটি ছবি বের করে দেখায় ।)
- না এগুলো চলবে না ।
- তবে এটা দেখুন । (কফিনে শায়িত লেনিনের ছবি দেখায় এবার ) এটা চলবে ?
- ঠিক এটা নয়, তবে পলিটব্যুরোর সবার এরকম ছবি দিতে পারবেন ?


সোভিয়েত কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির মিটিং চলছে । কমরেড পপস্কি উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, কমরেড স্তালিন আমি মাত্র তিনটি প্রশ্ন করতে চাই । যদি আমরা পৃথিবীর সবচেয়ে শিল্পোন্নত দেশ হয়ে থাকি, তাহলে আমাদের মোটর গাড়ি কলকারখানার কি হল ? যদি আমরা কৃষিতে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দেশ হয়ে থাকি, তাহলে আমাদের দৈনন্দিন রুটির কি হল ? যদি আমরা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পশুপালক দেশ হয়ে থাকি, তাহলে আমাদের রোজকার মাংসের কি হল ?
কমরেড স্তালিন রুষ্ট্র চোখে তাকালেন কমরেড পপস্কির দিকে । যেন তিনি বিশ্বাসই করতে পারছেন না এমন সব প্রশ্ন শুনতে হবে । তারপর তিনি বললেন ইতিমধ্যেই আমরা যথেষ্ট দেরি করে ফেলেছি । আজ আর এইসব প্রশ্নের জবাব দেবার মত অবকাশ নেই । পরবর্তী বৈঠকে আমি এইসব প্রশ্নের যথোচিত জবাব দেব ।
পরের সপ্তাহে মিটিং শুরু হল । পার্টির এক সদস্য উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, আমার শুধু একটাই প্রশ্ন আছে,
-কমরেড পপস্কির কি হল ?


গ্রাম থেকে এক বুড়ি এসেছেন ওয়ারশতে বেড়াতে । শহরের মাঝখানে স্তালিনের মূর্তি দেখে তিনি জানতে চাইলেন মূর্তিটা কার । এক সদ্য বিপ্লবী তাঁকে ব্যাখ্যা করে বললেন
- এটা মহান স্তালিনের মূর্তি । নাৎসি বাহিনীর হাত থেকে তিনিই আমাদের মুক্ত করেছেন।
- ঈশ্বর তাঁকে দীর্ঘজীবী করুক । বুড়ি বললেন, কমিউনিস্টদের হাত থেকেও যদি তিনি আমাদের মুক্ত করতেন !


স্তালিনের চুরুট গেছে হারিয়ে । ঘটনা ঘটেছে সকালবেলায় । সন্ধ্যের মধ্যেই মিলিশিয়া গ্রেপ্তার করছে শ-খানেক লোককে । ইতিমধ্যেই ক্রেমলিনের ঝাড়ুদার চুরুট খুঁজে পেয়েছে ডিভানের তলায় এবং স্তালিনের হাতে সেটা তুলেও দিয়েছে । স্তালিন তখন ফোন করলেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপকে
- আর কষ্ট করতে হবে না । চুরুট খুঁজে পাওয়া গেছে ।
- কিন্তু স্যার আমরা কি করি এখন ? যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের মধ্যে একজন ছাড়া বাকি সবাই স্বীকার করেছে যে তারাই চুরুট চুরি করেছে ।
- কী ? এখনও একজন স্বীকার করে নি ? তবে চালিয়ে যান তদন্ত !


স্থান : পেত্রোগ্রাদ । কাল : ১৯১৭ সাল । পাত্র-পাত্রী : এক দঙ্গল বিপ্লবী ও সাধারন নাগরিক ।
রাস্তাঘাটে বিপুল হইচই শুনে এক বৃদ্ধ তাঁর দাসীকে পাঠালেন ব্যাপার কি জেনে আসতে । সে ফিরে এসে খবর দিল বিপ্লব শুরু হয়ে গেছে !
- বিপ্লব, আহা কি দারুন ব্যাপার ! আমার বাবাও বিপ্লবী ছিলেন । কী ভালোই না লাগছে শুনতে । তা, এই বিপ্লবীরা কি চাইছে ?
- চাইছে দেশে যেন কোন ধনী না থাকে ।
- আর আমার বাবা চাইতেন, দেশে যেন কোন গরীব না থাকে ।


সফল বিপ্লবের পর বাড়ি ফিরে এসে বলশেভিক বলছে তার মা কে ,
- এখন সব পাওয়া যাবে দোকানপাটে । খাবার দাবার কাপড় চোপড়, যা চাও । বিদেশেও যেতে দেবে এখন থেকে ।
- ঠিক জারের আমলে যেমন ছিল তাই না ? খুশিতে ডগমগ হয়ে মা বললেন ।

১০
আমেরিকায় গেছে সোভিয়েত দেশের শ্রমিকদের একদল প্রতিনিধি ।
উদ্দেশ্য, মোটরগাড়ি কারখানা পরিদর্শন করা, সেখানকার ওয়ার্ক কালচারের হাল হকিকত সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হওয়া । মার্কিন গাইডকে প্রশ্ন করলেন এক শ্রমিক :
- এই কারখানার মালিক কে ?
- ফোর্ড
- আর এই কারখানার সামনে পার্ক করা অতগুলো দামী গাড়ি কার ?
- কারখানার শ্রমিকদের ।
এবার আমেরিকার শ্রমিক প্রতিনিধিদল ফিরতি সফরে গিয়েছে সোভিয়েত দেশের গাড়ি তৈরির কারখানা দেখতে । রুশ গাইডকে এক কারখানার শ্রমিকের প্রশ্ন :
- এই কারখানার মালিক কে ?
- কারখানার শ্রমিকরা ।
- আর কারখানার সামনে দাঁড় করানো ওই দামী গাড়িটা কার ?
- কারখানার ডিরেক্টরের ।

১১
কারখানার কাজে যেতে দেরী হয়ে গিয়েছিল । আর দেরী হলেই শাস্তি । তাই রুশ শ্রমিক বাসা থেকে স্রেফ দৌড় লাগালো কারখানার দিকে । প্যান্ট পরার সময় পায়নি সে । প্যান্টটা হাতে নিয়েই দৌড়চ্ছে সে । তবু তার দেরি হয়ে গেল কারখানায় পৌছতে । কারন পথে বহু মানুষ তাকে অসংখ্যবার থামিয়েছে, জানতে চেয়েছে প্যান্টটা কোথা থেকে কিনেছে, কত দাম, সে ওটা বিক্রি করবে কিনা ইত্যাদি ।

১২
স্তালিন বক্তৃতা দিচ্ছেন শ্রমিকদের সামনে :
- আপনাদের মঙ্গলের জন্য আমি আমার শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত বিসর্জন দিতে প্রস্তুত ।
উপস্থিত শ্রোতা শ্রমিকদের কাছ থেকে একটা চিরকুট এসে পৌছল তাঁর হাতে ।
তাতে লেখা :
- তাহলে আর দেরি করছেন কেন, কমরেড ?




( কমন পড়লে নিজগুনে মা করে দিয়েন পিলিজ )

 

সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ২:৪৯ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৭ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১:৪১
গোধুলী রঙ বলেছেন: ভেড়গুলো মেতে আছে বিজ্ঞান নিয়ে, গাভীগুলো জেনারেলদের স্ত্রী হয়ে বসে আছে, পার্টি আর সরকারের বড় বড় পদগুলো দখল করে রেখেছে শুয়োররা, আর এসব দেখে মুরগি গুলো হাসতে হাসতে মরে গেছে । =p~ =p~ =p~ =p~ =p~
২৭ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১:৪৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ।

=p~

২৭ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ২:০০

লেখক বলেছেন: ;)

৩. ২৭ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ২:০৫
মনির হাসান বলেছেন: ৩টা জটিল ... কি খবর মুন্না ?
২৭ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ২:৫৬

লেখক বলেছেন: :)

এই যে চলছে , পড়াশোনা প্রায় শেষ। নভেম্বর- ডিসেম্বরে ফাইনাল।
বাইরে যাওয়ার প্লান বানাইতাছি। দোয়া কইরেন ভাই।

আপনার কি অবস্থা?

২৭ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ২:৩৯

লেখক বলেছেন: :D

৫. ২৭ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ২:৩৯
মুভি পাগল বলেছেন: গোধুলী রঙ বলেছেন: ভেড়গুলো মেতে আছে বিজ্ঞান নিয়ে, গাভীগুলো জেনারেলদের স্ত্রী হয়ে বসে আছে, পার্টি আর সরকারের বড় বড় পদগুলো দখল করে রেখেছে শুয়োররা, আর এসব দেখে মুরগি গুলো হাসতে হাসতে মরে গেছে । =p~ =p~ =p~ =p~ =p~
২৭ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ২:৪১

লেখক বলেছেন: সোভিয়েত জোকসের মজাটাই এখানে।

=p~ =p~

৬. ২৭ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ২:৪৪
টেকিবাবা বলেছেন: একটাও কমন পড়ে নাই, সবগুলাই ব্যাপক মজার+++

আর কমন পড়লেও আপনার এই অনুরোধ রাখতে পারতাম না "( কমন পড়লে নিজগুনে মা করে দিয়েন পিলিজ )" স্যরি =p~
২৭ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ২:৪৯

লেখক বলেছেন: আমিও রাখতে পারতাম কিনা সন্দেহ আছে। :P ;)


টেকিবাবা আপনারে একটা কথা আগাম জানায়া রাখি আগামীকাল আপনার জন্য টেকি জোকস দিব, মিস করা যাইবো না কিন্তু। দোয়া রাখবেন।

৭. ২৭ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ৩:১৪
রোজারিও বলেছেন: আমি দুইখান শেয়ার করে যাই। গুছিয়ে লিখতে পারব কি না, জানি না, ভাল মনে নাই মনে হয়-

১. রাশিয়ায় পড়াশুনা করতে এসে এক বিদেশী ছাত্রের প্রতিক্রিয়া-- এত তাড়াতাড়ি একটা ঘর পেয়ে যাব সত্যিই ভাবিনি, সৌভাগ্যের ব্যাপারই বলতে হবে। উত্তরে প্রতিবেশী রাশান লোকটি বলল, প্রকৃত সৌভাগ্য ব্যাপারটা এখানে অন্যরকম। ধরো, মাঝরাত্তিরে কে,জি,বি-র এজেণ্টদের ধাক্কায় ঘুম ভাঙল, আর যখন তারা প্রশ্ন করল, আর য়্যূ সের্গেই বেস্তেনেভ-- আমি বললাম, হি লিভস টু দ্য নেক্সট ডোর।

২. স্ট্যালিন ছিলেন বিখ্যাত রুশ সাহিত্যিক পুশকিন-এর একজন যথার্থ ভক্ত। প্রেসিডেণ্ট থাকাকালীন সময়ে তিনি ঠিক করলেন, ক্রেমলিনের কাছেই পুশকিনের একটি ভাস্কর্য তৈরি করাবেন, এবং তাতে এই মহৎ রাশানের প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানো হবে। যথারীতি প্রকল্প ঘোষণা করলেন তিনি এবং পারিষদ ডাকলেন। প্রকল্পের সম্ভব্যতা যাচাই শেষে উপদেষ্টাগণ স্ট্যালিনকে সুপারিশ করলেন, পুশকিনের মূর্তি গড়ানো হবে সেটা ঠিক আছে, কিন্তু তাঁর হাতে স্ট্যলিনের একটি বই থাকা বাঞ্চনীয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, পুশকিনের কালে স্ট্যলিন তো এমনকি জন্মগ্রহণও করেননি। অতএব, একটি মস্ত ভাস্কর্য তৈরি হলো স্ট্যালিনের-- হাতে পুশকিনের একটি বই।
২৭ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ৩:২৩

লেখক বলেছেন: দুইটাই জোস।

অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

৮. ২৭ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ৩:১৫
টেকিবাবা বলেছেন: জোকস ভালা পাই, ঠিকাছে মিস করুম না। তয় আমার লাইগা দিবেন মানে? বাকি ব্লগাররা কি দুষ করলো? আপনিও দোয়া রাখবেন।
২৭ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ৩:২২

লেখক বলেছেন: আপনি টেকিবাবা তো তাই স্পেশালি আপনের লাইগা। ;) ;)

আর বাকি ব্লগাররা ? তারা তো সব আমারই মত ম্যাঙ্গো পাবলিক।
আমাদের জন্য টেনশন নিবেন না। শুধু দোয়া রাখবেন হে টেকিবাবা।

২৭ শে আগস্ট, ২০১০ ভোর ৪:০১

লেখক বলেছেন: =p~ =p~

১০. ২৭ শে আগস্ট, ২০১০ সকাল ৯:২৮
লেখাজোকা শামীম বলেছেন: জোকসগুলো বলে বলে দেয় বিপ্লব কেন মাত্র ৭০ বছর টিকেছিল।
২৭ শে আগস্ট, ২০১০ বিকাল ৪:১১

লেখক বলেছেন: বিপ্লবকে ঘিরে জনগণের যে স্বপ্ন ছিল তার অধিকাংশই পূরণ হয়নি অনেকে আবার বলে থাকেন জোকসগুলো আমেরিকান তথা পুঁজিবাদিদের অপপ্রচার।

কমেন্ন্টের জন্য ধন্যবাদ শামীম ভাই।

১১. ২৭ শে আগস্ট, ২০১০ সকাল ১০:৫৩
কালীদাস বলেছেন: জটিল লাগল জোকসগুলো!!++++++++
নাহ, সোভিয়েট জোকসগুলোর বই না কিনলেই না :P :P
২৭ শে আগস্ট, ২০১০ বিকাল ৪:১৪

লেখক বলেছেন: সোভিয়েতোভস্কি কৌতুকভটা কিনতে পারেন।
আমার জানামতে রাশিয়ান জোকস এর জন্য এটাই বেষ্ট।

ধন্যবাদ।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৬৩০ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
অন্য সবার মতোই জীবনে স্বপ্ন ছিল অনেক। তবে আপাতত বাসা টু অফিস টু ক্লাস টু ঘুম। এক সময়ের স্বপ্ন গল্পকার...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই