১
কাউকে পরোয়া না করা এবং কাউকে তোষামোদ না করার ব্যাপারে দার্শনিক ডায়োজেনিসের খুব সুনাম ছিল। সেটা ছিল দিগ্বিজয়ী বীর আলেকজান্ডারের শাসনামল। এক সকালে দার্শনিক ডায়োজেনিস তাঁর বাসার সামনে রোদ পোহাচ্ছিলেন। হঠাৎ আলেকজান্ডার এসে তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনার জন্য আমি কী করতে পারি?’ ডায়োজেনিস বললেন, ‘আমি রোদ পোহাচ্ছি; আপনি সূর্যটা আড়াল করে দাঁড়িয়ে আছেন। আপাতত একটু সরে দাঁড়ালেই হয়।’ আরেকবার, সেটি অত্যাচারী রাজা ডেনিসের আমলের ঘটনা। তাঁকে একদিন শাক দিয়ে রুটি খেতে দেখে সে-সময়কার আরেক দার্শনিক বললেন, ‘যদি রাজাকে একটু তোষামোদ করে চলতেন, তাহলে আর শাক দিয়ে রুটি খেতে হতো না!’ ডায়োজেনিস সঙ্গে সঙ্গে বললেন, ‘আপনি যদি শাক দিয়ে রুটি খেতে শিখতেন, তাহলে এমন এক অত্যাচারী রাজাকে তোষামোদ করতে হতো না।’
২
একদিন সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিলের স্ত্রী ও তাঁর ব্যক্তিগত সচিব এডওয়ার্ড মার্শ একটি রেলস্টেশনে চার্চিলের জন্য অপো করছিলেন। চার্চিলের সঙ্গে তাঁদের এক জায়গায় যাওয়ার কথা। ট্রেন ছাড়ে ছাড়ে অবস্থা, তবু চার্চিলের দেখা নেই। চার্চিলের স্ত্রী তখন স্বামীর প্রতি উম্মা প্রকাশ করতে লাগলেন। তাঁর উদ্বেগ দেখে অস্থির হয়ে পড়েন মার্শ। একপর্যায়ে তিনি বলে বসেন, ‘উইনস্টন আসলে খেলোয়াড়সুলভ মনোভাবের অধিকারী। এ জন্য তিনি ট্রেনকে সব সময় আগেভাগে চলে যাওয়ার সুযোগ দিয়ে থাকেন।’
৩
খাওয়া, ঘুম, নারীসঙ্গ আর ভাগ্য বিষয়ে জ্যোতিষীদের ওপর অগাধ বিশ্বাস-রাজা-বাদশাদের কারবার তো ছিল এমনই। প্রথা ভেঙে এর একটু বাইরে বেরোনোর চেষ্টা করেছিলেন ফ্রান্সের রাজা একাদশ লুই। উঁহু, ভুল ভাববেন না। প্রথম তিনটি জিনিসে একদমই তিনি প্রথা ভাঙার চেষ্টা করেননি। বিপ্লবী হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন কেবল জ্যোতিষশাস্ত্রের বেলায়। কিন্তু সেই বিপ্লবী মনোভাব হুমকির মুখে পড়ে, যখন রাজ্যের এক জ্যোতিষী রাজপরিবারের একজনের মৃত্যুর ব্যাপারে আগাম ভবিষ্যদ্বাণী করে সফল হয়।
ধর তক্তা মার পেরেক। রাজার সামনে হাজির করা হলো জ্যোতিষীকে। প্রজাদের মনে বিভ্রান্তি আর কুসংস্কার ছড়ানোর অপরাধে শাস্তি হবে তাঁর (জি, ঠিকই ধরেছেন, শাস্তি মানে গর্দান নামের জিনিসটা নেওয়ার কথাই বলা হচ্ছে)। রাজা মুচকি হেসে জিজ্ঞেস করলেন, আচ্ছা, তুমি তাহলে ভবিষ্যদ্বাণী করতে পার। তা বল তো দেখি, তোমার কবে মৃত্যু হবে? জ্যোতিষীও কম সেয়ানা নয়, ‘জাঁহাপনা, আপনার মৃত্যুর ঠিক তিন দিন আগে আমার মৃত্যু হবে।’
তারপর আর কি! রাজা জনা বিশেক বৈদ্য-কবিরাজ নিয়োগ দিলেন জ্যোতিষীর স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্য। আর জ্যোতিষীও ঘি-টি খেয়ে সুখে-শান্তিতে দিন কাটাতে লাগলেন।
৪
ব্রেঝনেভের আমলের সোভিয়েত ইউনিয়নের গল্প এটি। ইথিওপিয়ার কমিউনিস্ট ফান্ডে সাহায্য করার জন্য স্কুলের ছাত্রদের দশ রুবল করে আনতে বলা হয়েছিল। সবাই আনল শুধু একজন ছাড়া । শিক মহাশয় কারন জানতে চাইলে সে উত্তর দিল :
- বাবা বলেছে ইথিওপিয়ায় কমিউনিস্ট পার্টিই নেই !
এক মাস পরে ইথিওপিয়ায় সমাজতান্ত্রিক সরকারকে সাহায্য করবার জন্য আবার ছাত্রদের দশ রুবল করে আনতে বলা হল। সেই ছাত্রটি আবার এল খালি হাতে, বলল
- বাবা বলেছে ইথিওপিয়ায় সমাজতান্ত্রিক সরকারই নেই !
আবার এক মাস পরে ছাত্রদের উপর নোটিশ। এবারও বাড়ি থেকে দশ রুবল করে আনতে হবে, কারন ইথিওপিয়ায় দুর্ভিক্ষ পীড়িত মানুষকে সাহায্য করা ।
এবার সেই বালক একসঙ্গে ত্রিশ রুবল এনে শিক্ষকমশায়ের হাতে দিল । বলল :
-বাবা বলেছে ইথিওপিয়ায় যদি দুর্ভিক্ষ থাকে, তাহলে সেখানে নিশ্চয়ই কমিউনিস্ট পার্টি আছে, আছে সমাজতান্ত্রিক সরকারও !
৫
ভারতের আইনমন্ত্রী এন.এন. সরকার অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও সুরসিক ছিলেন। মন্ত্রী থাকাকালে তিনি লোকসভায় অবৈধ সন্তান ও ভাগ্য বিড়ম্বিত রক্ষিতাদের জীবন-জীবিকা সংস্থানের বিষয় সংবলিত একটি বিল উত্থাপন করেন।
একজন সাংসদ জানতে চাইলেন, আমি কি মাননীয় আইনমন্ত্রীকে প্রশ্ন করতে পারি- যারা রক্ষিতা রাখে সেইসব পুরুষ সম্পর্কে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি কী?
এন.এন. সরকার উত্তর দিলেন, আমাদের কাছে আপাতত এ ধরনের সম্পর্কের ব্যাপারে কোনো তথ্য নেই। আপনার মতো সম্মানিত সদস্যের যদি এ ব্যাপারে বাস্তব জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা থাকে, তবে আপনার সহায়তা পেলে আনন্দিত হবো!
৬
এক-এগারোর পরে রাজনৈতিক রথি-মহারথিরা গণহারে গ্রেফতার হতে শুরু করেছেন। তাদের মধ্যে দুই নেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনা-খালেদাও আছেন। আর এই দুই নেত্রীকে রাখা হয়েছে শেরে বাংলা নগরের বিশেষ কারাগারে।
তো প্রায় প্রতিদিনই তাদের মামলা ও জেলখানার বন্দি জীবনের নানা দিক নিয়ে কারা উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি-প্রিজন্স) মেজর শামসুল হায়দার সিদ্দিকী সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন।
সেদিনও প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ২০-২৫ জন সাংবাদিক মেজর সিদ্দিকীকে ঘিরে ধরেছেন। ব্রিফিং চলছে...সবাই মন দিয়ে নোট নিচ্ছেন, বক্তব্য রেকর্ড করছেন। ব্রিফিং শেষে ২৪ ঘন্টার টিভি চ্যানেল সিএসবি-নিউজের (আধুনা লুপ্ত) এক ক্ষুদে সাংবাদিক হঠাৎ মেজর সিদ্দিকীর পুরো নাম জানতে চাইলেন। উনি একটু থতমত খেলেন। কারণ ততদিনে তিনি মিডিয়ায় খুব পরিচিত একটি নাম। তবু অমায়িক একটি হাসি দিয়ে তিনি বলেলেন, আমি মেজর শামসুল হায়দার সিদ্দিকী, ডিআইজি-প্রিজন্স।
ওই সাংবাদিকের পরের প্রশ্ন, মেজর শামসুল হায়দার সিদ্দিকী তো আপনার নাম; তো ‘প্রিজন্স’ কী আপনার ডাক নাম?
৭
নিজের ছেলেকে সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত করার জন্য এক মহিলা একবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের কাছে গিয়ে বললেন, ‘এটা আমার দাবি, এ পদটা আমার ছেলের প্রাপ্য। আমার দাদা কেসিংটনে যুদ্ধ করেছেন, আমার চাচা ব্লাডেনসবার্গ যুদ্ধের মাঠ থেকে পালিয়ে যাননি, আমার দাদা নিউ অরলিয়ান্সে যুদ্ধ করেছেন আর আমার স্বামী তো মন্টেরিরি যুদ্ধে মারাই গেলেন।’ ভদ্রমহিলার কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনে লিংকন বললেন, ‘ম্যাডাম, আমার ধারণা আপনার পুরো পরিবার দেশের জন্য অনেক করেছে। এবার অন্যদের একটু সুযোগ দেওয়া উচিত। ’
৮
রাজনীতিবিদ হিসেবে আব্রাহাম লিংকন যেমন সুপরিচিত ছিলেন, তেমনি তাৎণিক কোনো কথার জবাবও দিতে পারতেন চমৎকারভাবে। একবার এক লোক তাঁকে জিজ্ঞেস করে বসল, ‘মানুষের পা কতটুকু লম্বা হওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?’ তিনি ঝটপট উত্তর দিলেন, ‘আমার মনে হয়, একজন মানুষের পা ততটুকুই লম্বা হওয়া উচিত, যতটুকু লম্বা হলে তা মাটি ছুঁতে পারে।’
আরেকবার গৃহযুদ্ধের সময় এক ধর্মযাজক কথা প্রসঙ্গে তাঁকে বলেছিলেন, ‘মিস্টার প্রেসিডেন্ট, আসুন, আমরা বিশ্বাস রাখি এবং প্রার্থনা করি যে এই দুঃসময়ে ঈশ্বর আমাদের পে থাকবেন।’ প্রতি-উত্তরে লিংকন বললেন, ‘ঈশ্বর নিয়ে আমি মোটেও চিন্তিত নই। কারণ আমি জানি যে ঈশ্বর সব সময় ন্যায় ও সত্যের পক্ষেই থাকেন। এর চেয়ে বরং আসুন, আমরা প্রার্থনা করি, এই জাতিটা যেন সব সময় ঈশ্বরের পে থাকতে পারে।’
৯
চীনা সম্রাট একবার বিজয়নগরের সম্রাটের জন্য এক ঝুড়ি পিচ ফল পাঠালেন। সঙ্গে একটি চিঠি। চিঠিতে লেখা-‘এ ফল খেলে আয়ু বাড়ে।’ ফলের ঝুড়িটি যখন সম্রাট কৃষ্ণদেবের সামনে তুলে ধরে চিঠি পড়ে শোনানো হলো, রমণ আর লোভ সামলাতে পারলেন না। একটি পিচ তুলে নিয়ে টুপ করে মুখে পুরলেন। আর যায় কোথা! ভীষণ খেপে গেলেন সম্রাট। বোমার মতো ফেটে পড়ে তিনি বললেন, ‘আমার জন্য পাঠানো ফল কিনা তুমি মুখে দিলে! তা-ও আবার আমি স্বাদ নেওয়ার আগেই! এক্ষুনি তোমার গর্দান যাবে।’
সম্রাটের হুকুমে সেপাইরা চেপে ধরল রমণকে। এক্ষুনি তাঁকে কতল করা হবে। কিন্তু রমণ একটুও ভয় পেলেন না। বরং বাঁকা হেসে বললেন, ‘চীনা সম্রাট যে কেমন বাটপার, এখনই প্রমাণিত হলো। তিনি লিখেছেন, এ ফল খেলে আয়ু বাড়ে, আর আমি মুখে দিতে না দিতে মারা যেতে বসেছি। নিজের প্রাণ যায় যাক, এ নিয়ে আমার চিন্তা নেই। সম্রাট বাহাদুর এ ফল খেলে কী যে হবে, সে কথাই ভাবছি।’
রমণের কথায় টনক নড়ল সম্রাটের। সঙ্গে সঙ্গে তিনি হুকুম রদ করলেন। প্রাণে রা পেলেন রমণ।
১০
সাভিয়েত ইউনিয়নে তখন কমিউনিস্ট শাসন চলছে। এমন অবস্থায় সোভিয়েত ইউনিয়নের স্কুল পরিদর্শনে এসেছেন প্রেসিডেন্ট জোসেফ স্টালিন স্বয়ং। কাস ফাইভে ঢুকে তিনি একজন ছাত্রকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমার পিতা কে?’ ছেলেটিকে আগেই সব শেখানো ছিল তাই সে তাড়াতাড়ি উত্তর দিল
‘কমরেড স্টালিন, স্যার। তিনি আমাদের সবার পিতা।’
স্টালিন মুখে মৃদু হাসি ফুটিয়ে তুলে ছেলেটার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। এরপর পাশেই আরেক ছাত্রকে প্রশ্ন করলেন,
‘তোমার মা কে?’
‘এই দেশ আমাদের মা। এই দেশ আমাদের সবার মা।’
স্টালিনের মুখে এবারও হাসি ফুটল। এবার তিনি কাসের শেষের দিককার বেঞ্চে বসা এক ছাত্রকে প্রশ্ন করলেন ‘বড় হয়ে তুমি কি হতে চাও ইয়াংম্যান?’ ছেলেটি উত্তর দিল ‘যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এতিম হয়ে যেতে চাই স্যার!’
১১
একবার এক বিধ্বংসী ঝড় পশ্চিমবঙ্গের দিকে আসতে আসতে ওড়িশ্যার দিকে ঘুরে গেল । সেই সময় মহাকরণ [ভারতের লোকসভা] থেকে বলা হল যে এই ঝড় আমাদের রাজ্যে না এসে যে অন্য রাজ্যে ঘুরে গেল তার সম্পূর্ণ কৃতিত্বই দাবি করতে পারেন রাজ্যের পূর্তমন্ত্রী ক্ষিতি গোস্বামী । উপকূলে ঘনীভূত সাইকোন অনেক চেষ্টা করেও এ রাজ্যের রাস্তার খানাখন্দ পেরিয়ে এখানে ঢুকতে পারেনি । শেষে বিরক্ত হয়ে অন্য দিকে চলে গেছে ।
১২
পাকিস্থান আমলের দ্রুত গতির এক ট্রেনের নাম পাঞ্জাব মেইল।
কাসে শিক পড়াচ্ছেন। তিনি খুব দ্রুত পড়াচ্ছিলেন। কাসে একজন খুব স্মার্ট ছেলে ছিলো, পড়া বুঝতে না পেরে সে বলে উঠলো,
সার, আই ক্যান নট ফলো ইওর পাঞ্জাব মেইল।
সার ছিলেন সেই ছাত্রের থেকেও স্মার্ট। তিনি সাথে সাথে উত্তর দিলেন-
পাঞ্জাব মেইল ডাজ নট ওয়েট ফর দা থার্ড কাশ প্যাসেঞ্জার।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে আগস্ট, ২০১০ ভোর ৫:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


