আমার প্রিয় পোস্ট

তবু সে তো স্বপ্ন নয়, সব-চেয়ে সত্য মোর, সেই মৃত্যুঞ্জয়

মাননীয় প্রধান মন্ত্রীঃ আমাদের দায় ছিল না, নেই

২৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৩৬

শেয়ারঃ
0 2 0

১৯৪৭ সালে আপনি জন্মগ্রহণ করেন। ২০ বছর বয়সে আপনি বিবাহিত হন। ২৪ বছরে আপনি প্রথম মা হন। ২৮ বছর বয়সে আপনি পিতা-মাতা ও ভাইদের হারান এক মর্মান্তিক বর্বরোচিত ঘটনায়। তখন থেকে ৩৪ বছর বয়স পর্যন্ত আপনি প্রবাসী জীবন যাপন করেন। ডঃ কামাল হোসেন সেনাশাসকের কাছে আর্জি করে আপনাকে ফেরত আনার ব্যবস্থা করেন। আপনি তারপর ২৯ বছর এ দেশের রাজনীতির কেন্দ্রে। এর মধ্যে তিন বার বিরোধী নেত্রী, এবং দু' বার প্রধান মন্ত্রী নিযুক্ত হয়েছেন।

আপনি দেশে ফিরে ডঃ কামাল হোসেন ও কাদের সিদ্দিকীকে জাতীয় রাজনীতি থেকে বহিষ্কারের ব্যবস্থা করেন। এই দুজনই ১৫ই আগস্টের বেদনাদায়ক ঘটনার পরে সব চেয়ে মর্মাহত হয়েছিলেন, এবং তা প্রকাশ করার সাহস দেখিয়েছিলেন; অথচ আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতা তখন হয় আপনার পরিবারের খুনীদের সাথে যোগ দিয়েছেন, নতুবা 'চাচা, আপন জান বাঁচা ' বলে পালিয়েছেন। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর একবার বলেছিলেনঃ ঐ লোকটা আমার বিরুদ্ধে লেগেছে কেন, আমি তো কখনো তার কোন উপকার করি নি। আপনি সেরকম প্রাবাদিক কৃতঘ্ন নন। আপনার কারো বিরুদ্ধে যাওয়ার আসল কারণ হলো আপনি তাদেরকে নিজের ক্ষমতা অর্জন বা ধারণ করার জন্য কতখানি বিপজ্জনক মনে করেন, সেই সহজ হিসাব। তাই, যদিও সবাই আপনাকে নিজ পরিবারের স্বার্থের প্রতি চরম অনুগত মনে করে, আত্মীয় কিন্তু কিছুটা সংস্কারপন্থী আমুকে আপনি ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত করেছেন নিজের নিরাপত্তার জন্য। পক্ষান্তরে অনাত্মীয় দীপু মনির জন্য এমন লোভনীয় (তিনি ইতোমধ্যে প্রায় ৪০ বার নিষ্ফল বিদেশ ভ্রমণ করেছেন মনের আশ মিটিয়ে) পদটি রেখেছিলেন আপনার জেলে অন্তরীন থাকা কালে আনুগত্যের পুরস্কার হিসেবে। আপনাকে কেউ অকৃতজ্ঞ বলতে পারবে না।

আপনার এই চাণক্য-সুলভ প্র্যাক্টিকাল বুদ্ধি তারিফ পেতে পারে। আপনার পিতার কথাই মনে করিয়ে দেয়। তিনিও সিনিয়র জিয়াঊর রহমানকে এড়িয়ে শফিউল্লাহকে প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করেছিলেন, নিজের প্রতি বেশি অনুগত ভেবে। শফিউল্লাহ সাহেব সম্প্রতি বলেছেন, এটা এক ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু সেই সময়ে তাঁর কোন ভুল নিয়ে আলোচনা করার সাহস কারো ছিল না। তিনি সব রকম বিরোধিতা স্থায়ীভাবে অপসারণের উদ্দেশ্যে একদলীয় বাকশাল প্রবর্তন করেন রুশ-ভারত পন্থীদের পরামর্শে, এক স্বাক্ষীগোপাল সংসদকে দিয়ে দেশের সংবিধান পরিবর্তন করে। তিনি মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের জন্য সব খবরের কাগজ বন্ধ করে দেন, শুধু চারটে সরকারী দৈনিক রেখে। সব সরকারী কর্মচারী, এমনকি সেনাবাহিনীকেও বাকশালে যোগদান করতে তিনি বাধ্য করেন। খুব কম জনই প্রতিবাদ করার সাহস পেয়েছিল। খন্দকার মোশতাকও করেন নি। কিন্তু বিদ্রোহের বীজ তিনি বপন করেছিলেন জিয়াউর রহমান, ফারুক রহমান এদেরকে অপমান করে, মোশতাককে অবজ্ঞা করে, যদিও আওয়ামী লীগের আদি যুগে এই 'চাচা' আপনার পিতার সিনিয়র ছিলেন।

আপনার পিতা যেমন গণতন্ত্রে বিশ্বাস করতেন না, আপনিও করেন না, তাই দলের সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আপনি একাই নেন। যাঁরা সংস্কারের কথা বলেছিলেন, আপনার পরিবার তন্ত্রের তাঁরা শত্রু। আপনি তাঁদের আর কখনই ক্ষমতার কাছাকাছি আসতে দেবেন না বলে ঠিক করেছেন।আপনার কাজিন শেখ সেলিম সেনাবাহিনীর কাছে আপনার ঘুষ গ্রহণের ইতিহাস বলে দিলেও আপনি তাঁকে আমুর মত শত্রু মনে করেন না, কারণ সেলিম এক বুদ্ধিহীন ব্যক্তি, যাঁকে আপনি বিপদ মনে করেন না। বরং তাঁর নতুন কুটুম খাম্বা পার্টির টুকুকেও আপনি সব মামলা থেকে রেহাই দিয়েছেন, এবং শেষ খবর অনুসারে টুকুর পার্টনার কুখ্যাত গিয়াসুদ্দিন মামুনকেও জেল থেকে মুক্তির ব্যবস্থা করেছেন। 'দেশের চাইতে দল বড়, দলের চাইতে, পরিবার', আপনার পিতার এই নীতিতে আপনি গভীরভাবে বিশ্বাসী। অন্যদিকে আপনি বৃদ্ধ পন্ডিত কামাল হোসেনকে এখমো বিপজ্জনক মনে করেন, তাই তাঁর 'দুর্নীতির' প্রমাণ বার করার নির্দেশ দিয়েছেন।

আপনার পিতার মধ্যে একটা গুণ ছিল, তিনি কালক্রমে শত্রুতা ভুলে যেতেন। সাকা চৌধুরীর পিতা ফকা চৌধুরী যখন স্বাধীনতার পরে কারাগারে মারা গেলেন, তখন তিনি সাকার মত নচ্ছার রাজাকারদেরকেও অভয়বাণী দিয়েছেন - 'মনে কর, আমিই এখন থেকে তোদের বাবা'। কিন্তু আপনার কাছে শত্রুর সংজ্ঞা পারিবারিক এবং তা স্থায়ী। সাকা যখন 'সোনা' চোরাকারবারি নিয়ে আপনার মন্তব্যের জবাবে একটা বিশ্রী রসিকতা করেছিলেন, আপনার দলের অনেকে তার প্রতিবাদ করলেও আপনি মনে হয় ব্যাপারটা কিছুটা উপভোগ করেছিলেন। পরে সাকা আপনার বাড়িতে বিয়ের কার্ড দিতে এলে আপনি তাকে মিষ্টি খাইয়েছিলেন। সাকাকে আপনি কখনই তেমন শত্রু মনে করেন নি, তাঁর দুর্বিনীত অশ্লীল আচরণকে বরং প্রশয়ই দিয়েছেন। আসলে জামাতকেও আপনি তেমন অপছন্দ করেন না, যেমন করেন পৃথিবীতে একটি মানুষকে, যাঁকে আপনি সব সময়েই নিজের সংসারের জন্য এক বিপদ মনে করেছেন, এবং তা সংসারের ওপরে বিরাগ চলে আসার পরেও স্থায়ীভাবে বাসা বেঁধে আছে, এখনো।

আপনার সাথে আপনার স্বামীর সম্পর্ক নিয়ে আমি বেশি কিছু বলতে চাই না। তিনি ভালো ছাত্র ছিলেন বটে, কিন্তু তাঁর অনেক ত্রুটি ছিল। আপনাকে অভিনন্দন যে, এত গরমিল থাকা সত্ত্বেও আপনাদের ছাড়াছাড়ি হয় নি, যা হয়েছে আপনার ছোট বোনের ক্ষেত্রে। আপনার ধৈর্য প্রশংসনীয়। কিন্তু শুধু একটি ব্যাপার আপনি সহ্য করতে পারেন নি, যখন তিনি আপনার পরিবার মেধাহীন বলে খোঁটা দিতেন। এর জবাবে আপনি এক ডজন ডক্টরেট সংগ্রহ করেছেন, মখা আলমগীর ও দূতাবাসগুলির সাহায্যে। আপনার স্বামী যখন স্কয়ার হাস্পাতালে মৃত্যুশয্যায়, আমরা দেখলাম আপনি ঘরের বাইরে থেকে এক নজর তাঁকে ঘেরা যন্ত্রপাতি দেখে চলে গেলেন। তাঁর মৃত্যুতে আপনি দুঃখিত হয়েছেন নিশ্চয়ই, কিন্তু স্বস্তির নিঃশ্বাসও ফেলেছেন। আপনাদের ছেলে বিদেশ থেকে ফেরার আগেই তাড়াতাড়ি তাঁকে সমাহিত করা হয়।

১৯৯৬ সালে আপনি প্রথমবার প্রধান মন্ত্রী হলেন। আপনার পরিবারের হত্যাকারী/পরিকল্পনাকারীদের অনেকেই গ্রেফতার হলো । অনেকেই ভেবেছিলেন, পাঁচ বছর দীর্ঘ সময়, এর মধ্যেই বিচার ও শাস্তি চূড়ান্ত হয়ে যাওয়া সম্ভব। কিন্তু কোন অজ্ঞাত কারণে প্রক্রিয়াটা অত্যন্ত শ্লথ গতিতে চলতে লাগল। নতুন একটা কথা শোনা যেতে লাগল - জাতির কলঙ্ক। মনে হলো কতিপয় আওয়ামী নেতা ও হৃদয়হীন অমানুষ সেনা কর্মকর্তার দুষ্কৃতির, বা তাদের সমর্থক রাজনৈতিক দলের দায়ভার সমগ্র জাতির ওপর ন্যস্ত করা হয় সুকৌশলে, যাতে গিল্টি কন্সায়েন্স থেকে আপনার প্রতি জনগণের আনুগত্য বাড়ে। এ কৌশল অনেকটাই সফল হয়েছিল প্রথমে। কিন্তু আপনি আনাড়ির মতো কথা বলে বিচারকদের পর্যন্ত খেপিয়ে দিয়েছিলেন, যার ফলে আদালত দেশের প্রধান মন্ত্রীকেও ভর্ৎসনা করে এবং সতর্ক করে দেয়। আপনার পরিবারের ও দলের সীমাহীন দুর্নীতির কথা সংবাদে সব প্রকাশিত না হলেও লোকমুখে ঘুরতে থাকে। পরবর্তীকালে সামরিক সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আপনার আত্মীয় সেলিম, আপনার সেক্রেটারী জলিল, সবাই গোপন কথা বের করে দেয়। আপনি যে সঙ্গত কারণেই জনপ্রিয়তা হারিয়ে নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন, তা প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে আপনার প্রতিপক্ষ দলের এবং কতিপয় সিভিল সার্ভেন্টের কিছু কারচুপি থাকতেও পারে, কিন্তু আপনার বিজয়ী হওয়ার কোন সম্ভাবনা ছিল না। আপনার প্রিয় প্রেসিডেন্টকেও পরাজয়ের জন্য আপনি গালাগালি করতে পেছপা হন নি।

বাংলাদেশের মানুষের স্মৃতি দীর্ঘমেয়াদী নয়। আপনার প্রতিপক্ষ দল দ্বিতীয় দফা সুযোগ পেয়ে দুর্নীতিতে আপনাদের আগের আমলের রেকর্ডকেও যখন ছাড়িয়ে গেল, তখন এক অনুকূল সরকার ও নির্বাচন কমিশন অলৌকিক পার্থক্যে আপনাদের ফিরিয়ে আনল। এবারেও আপনার অন্যতম ট্রাম্প কার্ড ছিল আপনার পরিবারের জঘন্য হত্যাকাণ্ডের বিচার ও শাস্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ওয়াদা। আবার আপনারা বললেন, এটা নাকি জাতির কলঙ্ক। না, জনগণ আপনার দলকে সেজন্য নির্বাচিত করে নি, তারা করেছে আপনার বিপক্ষ দলের দুর্নীতির জন্য। মামলার এই নিষ্পত্তির ব্যাপারটা প্রয়োজন ছিল, কিন্তু তার দায়ভার জনগণের ছিল না, ছিল আপনার,আপনার দলের এবং আপনার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের।

পাঁচ জনের শাস্তি হয়েছে। এখন যদি আপনি দাবি করেন বাকি ছ জনের শাস্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা পর্যন্ত আপনাকে ক্ষমতায় রাখা জাতির দায়, তাহলে জাতি তা মানবে কেন? আপনারা দুই দলের নেতারা মিলে বা গুটি কয়েক ব্যক্তি মিলে যে অপকর্ম করবেন, জাতির সাথে তার কি সম্পর্ক? আমাদের কষ্টার্জিত সম্পদ দিয়ে কেন আমরা আপনাদের সমগ্র পরিবারের জন্য প্রাসাদ, গাড়ী, নিরাপত্তার ব্যবস্থা করব?

আমাদের কখনোই কোন দায় বা কলঙ্ক ছিল ন, এখনো নেই। আপনি যদি আপনার পরিবারের স্বার্থের জন্য দেশবাসীর স্বার্থ বিসর্জন দিতে চান, আপনার পিতার মত এক অসহনীয় স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চান, দেশবাসী তা প্রতিহত করবে। আপনি বা আপনার প্রতিপক্ষ এদেশের প্রধান মন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতম ব্যক্তি নন-- না শিক্ষায়, না মেধায়, না চরিত্রে, না গণতন্ত্রের প্রতি বিশ্বস্ততায়।

আপনার সোনার ডিম্ব প্রসবিনী হাঁস এখন মৃত। আমাদের নেতা আমরা খুঁজে নেব।

 

সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:৩৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৫০
দিদুমিয়া বলেছেন: ভাইরে কারে কি শোনান.....শুধু শূধূ সময় নষ্ট!!!!
২. ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:০৪
কিবর বলেছেন: ভালুই লেকছেন। আমনের মেধা আছে । চেষ্টা করতে থাকেন, একদিন একটা কিছু হয়ে যাবেন।
৩. ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:০৭
স্তব্ধতা' বলেছেন: খুব সুন্দর লেখা।''আপনি বা আপনার প্রতিপক্ষ এদেশের প্রধান মন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতম ব্যক্তি নন-- না শিক্ষায়, না মেধায়, না চরিত্রে, না গণতন্ত্রের প্রতি বিশ্বস্ততায়। ''....এই সত্য কথাটি কবে আম জনতার বোধগম্য হবে?...তবে শেষ বাক্যে 'আপনার' এর জায়গায় 'আপনাদের' শব্দটিকে বেশী প্রযোজ্য বলে মনে হয়েছে।সরাসরি প্রিয়তে।+++++
৪. ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:১১
হুলো-বেড়াল বলেছেন: জ্বালাময়ী পোষ্ট....+++ দিলাম আর প্রিয়তে নিলাম
৫. ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:১২
মঈনউদ্দিন বলেছেন: খারাপ না! ভালই লেখছেন, চালিয়ে যান, এক দিন আমাদে বিবেক জাগবেই
৬. ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:১২
হুলো-বেড়াল বলেছেন: আপনার লেখার ভক্ত হয়ে গেলাম...
৭. ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:১৫
মেঘের পরে মেঘ বলেছেন: কিছু কিছু বক্তব্যে যুক্তি আছে। এই ক'দিনে অনেক কিছু জানলাম।
৮. ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৩২
অমাবশ্যার চামচিকা বলেছেন: অনেক তথ্যবহুল পোষ্ট। ধন্যবাদ।
৯. ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৪২
মোঃ আতিকুর রহমান (আকাশ) বলেছেন: লেখাটি সময়োচিত, তাই ভালো লাগলো। কিন্তু আমি যদি দেশের একজন হ্ই তাহলে আমার কি এ মহান নেতা খুনের বিচার চাওয়া উচিত না? সে যে দলই ক্ষমতায় থাকুক। বড় বড় নীতি কথা বলার চাইতে আগে খুনির বিচার করা দরকার।
১০. ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৪৬
সাইফ শামস বলেছেন: জনাব,
আদ্যোপান্ত পাঠ করিলাম। জনস্বার্থে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তুলিয়া ধরিয়া একটি ধন্যবাদযোগ্য কাজ করিয়াছেন।
রচনার ছত্রে ছত্রে আপনার মেধা, উন্নত রুচি ও মননশীলতার দ্যুতি বিচ্ছুরিত হইতেছে। কালোত্তীর্ণ রচনা হিসাবে ইহা নিশ্চিতই বিদগ্ধজনের হৃদয়ে স্থায়ী হইবে। সন্দেহ নাই এইরূপ রচনাই হইবে অনাগত প্রজন্মের নিকট সকল অনুপ্রেরণার উৎস।
আপনার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করিতেছি।
১১. ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৪৭
চিটির বাক্স বলেছেন: দারুন হইছে।
তয় কুকুর কি আর মানুষের কথা বুজে? পাগলা কুকুর বন্ধি থাকলে ভাল আর ছেঁড়ে দিলেই পাগল!!
১২. ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৫৪
লুথা বলেছেন:
অসাধারণ

শেখ মুজিবের হত্যার বিচার হইছে, খুব ভালো...তার আত্মা শান্তি পাবে...

এখন আল্লাহ'র ওয়াস্তে যদি অন্য সব খুন খারাবির বিচার হইলে খুব খুশি হইতাম...

হাছিনা বাপের বিচার পাইছে দেইখা খুব খুশি কিন্তু এমন লাখো পরিবার আছে যারা নিজের বাপ-ভাই-মা-চাচা-মামা হত্যার ন্যায় বিচারের আশায় মরতেছে...

এমন অনেক পরিবার আছে, যাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে খুন করা হইছে এবং তারা কোন বিচার পাচ্ছে না... তারা না পারতেছে চলতে, না পারতেছে আদালতে যাইতে...

সব হত্যার বিচার চাই, নাইলে দেশ কোনদিন কলংকমুক্ত হবে না... দেশ সেইদিন কলংকমুক্ত হবে , যেদিন সব হত্যার ন্যায়বিচার পাওয়া যাবে...সেদিনই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে...

আরো একটা কথা, ৩০ লাখ মানুষ জীবন না দিলে এবং আরো কোটি মানুষ যুদ্ধ জয়ের জন্য সংগ্রাম না করলে কোন ব্যক্তি/পার্টি ৭১ এ সফলতা আনতে পারতো না...ইতিহাসে ব্যর্থতার কম নজির নাই...

চামচামি করতে গিয়ে মানুষ অনেক সময় নিজেও বুঝে না সে কি বলতেছে...অনেকে দেখলাম খুব খুশি, জুতা মারতেছে, বিক্ষোভ করতেছে লাশ দাফন করতে দিবে না বলে...খুব ভালো...কেও নিজের এলাকার বদনাম করতে চায় না..

কিন্তু এইসব সাহসী জনতা এতোদিন কোথায় ছিলো ?? তারা ৯১/২০০১ এ কি করে জামাত-বিএনপি'কে ক্ষমতায় নিয়ে আসে ??

ইতিহাস এইটা বলে, মাত্রাতিরিক্ত কোন কিছুই ভালো না...
১৪. ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৫৭
লুথা বলেছেন:
এই পাবলিকের পোস্টটা একটু পডেন... হা হা প গে ;);)

Click This Link
১৫. ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:১০
উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: "ডঃ কামাল হোসেন এরশাদের কাছে আর্জি করে আপনাকে ফেরত আনার ব্যবস্থা করেন।"


হাসিনা ফেরত আসেন ১৭ই মে। তখন এরশাদ নয়, জিয়ার শাসন চলছিল।
১৬. ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:২২
অলস ছেলে বলেছেন: ডঃ কামাল হোসেন এরশাদের কাছে আর্জি করে আপনাকে ফেরত আনার ব্যবস্থা করেন। ?????????

:(

সরকারের সাথে সমঝোতার মাধ্যমে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার ১৩ দিনের মাথায় জিয়াকে হত্যা করা হয়। ঐ সময় ধুরন্ধর সেনা প্রধান এরশাদ অন্য চাল চালতে ব্যস্ত ছিলো। কিন্তু ড. কামাল হোসেনের কাছ থেকে কি আর্জি কিভাবে পেলো আর কিভাবে অনুমতি দিলো এটা বুঝা সম্ভব হচ্ছে না।
১৭. ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:২৫
মাসুদ রানা* বলেছেন: লেখাটি অনেক ভালো হয়েছে। প্রিয়তে রাখলাম।



উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: "ডঃ কামাল হোসেন এরশাদের কাছে আর্জি করে আপনাকে ফেরত আনার ব্যবস্থা করেন।"


হাসিনা ফেরত আসেন ১৭ই মে। তখন এরশাদ নয়, জিয়ার শাসন চলছিল।



লেখককে এই বিষয়টা একটু ক্লিয়ার করার অনুরোধ রইলো।
১৮. ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:৪৩
সাজ্জাদ এইচ ভূঁইয়া বলেছেন: মনে হচ্ছে অনেক দিন পর একটা ভাল লেখা পড়লাম।
১৯. ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:৪৯
নীল লাল সবুজ বলেছেন: হাসিনা ফেরত আসেন ১৭ই মে। তখন এরশাদ নয়, জিয়ার শাসন চলছিল।
২৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:০৮

লেখক বলেছেন: অত্যন্ত দুঃখিত। আমি সেনাশাসক লিখতে গিয়ে এরশাদ লিখেছি। জিয়া-ই অনুমতি দিয়েছিলেন। তবে কামাল হোসেন সব বন্দোবস্ত করেছিলেন।। শেখ হাসিনা ফিরে আসার পর পরই জিয়া তাঁর বন্ধু মঞ্জুরের হাতে রহস্যজনকভাবে নিহত হন। সেই ক্যু এর সঙ্গত কোন কারণ আজও খুঁজে পাওয়া যায় নি। তবে সেটিতে এরশাদ নিশ্চিতভাবে জড়িত ছিলেন। এরশাদ ওয়াজেদ সাহেবের আত্মীয়।

২০. ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:৩৪
মো: মাহবুব হোসেন বলেছেন: ''ডঃ কামাল হোসেন এরশাদের কাছে আর্জি করে আপনাকে ফেরত আনার ব্যবস্থা করেন।''
শেখ হাসিনা দেশে আসেন জিয়াউর রহমানের শাসনামলে, এরশাদের সময় নয়।
''আপনি এদেশে ফিরে ডঃ কামাল হোসেন ও কাদের সিদ্দিকীকে জাতীয় রাজনীতি থেকে বহিষ্কারের ব্যবস্থা করেন।''
শেখ হাসিনা , ডঃকামাল হোসেন ও কাদের সিদ্দিকী কে বহিস্কার করেন আওয়ামি রাজনীতি থেকে , ""জাতীয় রাজনীতি থেকে নয়""।

এখনও তারা জাতীয় রাজনীতিই করছেন।নাকি?????

জাতীয় রাজনীতিতে তারা নিস্প্রভ হন তাদের নিজ গুনে।

শেখ হাসিনা যে কারো কারো কাছে চরম এলার্জি এটা আর নতুন কি?

''আপনি বা আপনার প্রতিপক্ষ এদেশের প্রধান মন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতম ব্যক্তি নন-- না শিক্ষায়, না মেধায়, না চরিত্রে, না গণতন্ত্রের প্রতি বিশ্বস্ততায়। ''

যোগ্যতা টা কি?


''আমাদের নেতা আমরা খুঁজে নেব। ''


আর কবে?
অজথা গিবত না গেয়ে নেতা খুজতে থাকুন।
নাকি বলবেন, এটা আবার আওয়ামি লীগের দালাল?
২৪. ৩০ শে জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৫৭
লুথা বলেছেন: বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন: সুবিচার লাগবো....... সুবিচার........???? বা;লাদেশে সুবিচার চলিতেছে, সম্পূর্ন র;গীন.........!!!!!!!!!!!!!!!

১৭ টি চুরি ও চান্দাবাজীর মামলার চার্জশীট ভুক্ত আসামীর মামলা হাওয়া খেয়ে বেরাচ্ছে........!!!

সুবিচারের ঠেলায় বিরোধী দলের নেত্রীর বাসায় রাত সারে তিনটায় পুলিশ যায় সমন নিয়ে....!!!

সুবিচারের ঠেলায় ১৮ বছরের সাজা পাওয়া আসামী মাফ পায় প্রধানমন্ত্রীর ইশারায়......!!!

সুবিচারের ঠেলায় বিরোধীদলের নেতা নির্যাতনের ফলে জেলেই মারা যায়.....!!!

সুবিচারের ঠেলায় হাজারীর ৪ টা খুনের মামলায় বেইল হয়ে যায়.....!!!

সুবিচারের ঠেলায় ৫০ জন বিডিআরকে মেরে গামছা দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়.......!!!

সুবিচারের ঠেলায় ৭৫ জন আর্মি অফিসারকে যারা মেরেছে সেই লেদার লিটন, নানক,আজম,তাপস, শেখ সেলিমরা হাওয়া খেয়ে বেড়ায় .....!!!


সুবিচার লাগবো....... সুবিচার........???? বা;লাদেশে সুবিচার চলিতেছে, সম্পূর্ন র;গীন.........!!!!!!!!!!!!!!!
২৫. ৩০ শে জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:৩৮
দূর আকাশের নীল তারা বলেছেন: কিছু ভুল তথ্য থাকলে লেখাটি দারুন।
আপনি বা আপনার প্রতিপক্ষ এদেশের প্রধান মন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতম ব্যক্তি নন-- না শিক্ষায়, না মেধায়, না চরিত্রে, না গণতন্ত্রের প্রতি বিশ্বস্ততায়।
এই সত্য কথাটি কবে আম জনতার বোধগম্য হবে?

আপনার পিতা যেমন গণতন্ত্রে বিশ্বাস করতেন না, আপনিও করেন না, তাই দলের সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আপনি একাই নেন। যাঁরা সংস্কারের কথা বলেছিলেন, আপনার পরিবার তন্ত্রের তাঁরা শত্রু। আপনি তাঁদের আর কখনই ক্ষমতার কাছাকাছি আসতে দেবেন না বলে ঠিক করেছেন।
আম্মালীগ আর বিম্পী দুইদলের জন্যই কতাডা ঠিক। পিতার জায়গায় স্বামীও হইব।

অনেকেই ভেবেছিলেন, পাঁচ বছর দীর্ঘ সময়, এর মধ্যেই বিচার ও শাস্তি চূড়ান্ত হয়ে যাওয়া সম্ভব। কিন্তু কোন অজ্ঞাত কারণে প্রক্রিয়াটা অত্যন্ত শ্লথ গতিতে চলতে লাগল।
খালেদা নানী (যদিও উনি এখনও নিজেকে ২০বছরের তরুণী মনে করেন) যে পাঁচ বছর বিচারের ফাইল গুলা উনার আচঁলের তলায় উম দিয়ে রাখছিল, এইডা বাদ দিলেন কেন?
চালায় যান, ভালাই লেখচেন।

 

মোট সময় লেগেছে ০.০৩৯৭ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আমি পথভোলা এক পথিক এসেছি ...
ফাগুন প্রাতের উতলা গো চৈত্র রাতের উদাসী
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই