somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ত্রিভুজের বৃত্ত

১০ ই মে, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আগে ত্রিভুজের কোণ নিয়ে এক ধাঁধা দিয়েছিলাম, ইন্টারনেটে একজন যাকে লিখেছেন সব চেয়ে কঠিন জ্যামিতিক ধাঁধা। উত্তর পাই নি। এখন সমাধান লিখতে গিয়ে দেখলাম, অনেক বড় হয়ে যাচ্ছে। তাই নতুন পোস্ট হিসেবেই দিলাম। যে দু 'একজন আগে হয়তো দেখেছিলেন, পরে ভুলে গেছেন, এখন হয়তো আবার একবার নিজে চেষ্টা করে এর চাইতে ভালো সমাধান পেতে পারেন।

_____________________________________________

আজকাল আর আগের মত হুট করে চলে আসে না। মোবাইলে দিনক্ষণ ঠিক করে নেয় দু দিন আগেই। আজ এসে সেই একই চেয়ারে বসল। জানতাম, তাই মুছে রেখেছিলাম। অনেক দূরের পথ, অনেক জ্যামের পথ, হয়তো একটু শ্রান্তিও ছিল। পানি চাইল, একটু খেয়েই রেখে দিল। আসলে আমি খেয়াল করে দেখেছি ও সব সময় কেমন নার্ভাস। কিছু বলতে গেলেই প্রথমে কথা আটকে যায়, তারপর একটু সুস্থির হয়ে বলে; এমনকি মোবাইলেও।

আজকাল ফেবুতে কবিতা লেখা শুরু করেছে। একটু একটু করে পাখি ডানা মেলছে। বেশ মজা লাগে দেখতে। মূল পাঠক ও উৎসাহদাতা স্বামীটি। আমার লোভ হয় কিছু মন্তব্য লিখতে অথবা শুধু পছন্দের কথা জানাতে, কিন্তু কষ্টে আত্মসংবরণ করি। স্বামী খুশী, ও খুশী, সুতরাং আমিও খুশী, কিন্তু তা আমার মনেই থাক।

আমার টেবিলে এক রাশ কাগজ, তাতে এত আঁকিজুকি। বোধ হয় ভয় পেল একটু।
- কি, অনেক কাজ আছে বুঝি?
- না, কাজ আছে, তবে এখন না। আর এই কাগজগুলো কোনো কাজের কাগজ না।

ও একটু মনোযোগ দিল ওপরের পাতাগুলোয়।
- দেখছি সব ত্রিভুজ আর ত্রিভুজ, এতো জ্যামিতি। আমার এসব অংক একদম ভালো লাগে না। তার ওপর আবার কি সব উপপাদ্য আছে মধ্যমা, উপবৃত্ত অন্তর্বৃত্ত নিয়ে। দেখলে জ্বর আসে।

- হা হা! ওই সব জটিল অংক এখন আমিও ভুলে গেছি। আসলে ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত শেখা অংকের চাইতে জটিল কিছুই সারা জীবন প্র্যাকটিকাল কোনো কাজে লাগে নি। সব একাডেমিক এক্সেরসাইজ।

'একাডেমিক' শব্দটা শুনে ওর মুখটা একটু বিষণ্ণ হয়ে গেলো। ওর নতুন শ্বশুড়বাড়ির দাবি ও ভালোভাবে পাশ করুক। আমি জানি সেটা হওয়ার নয়। আমার মনটা খুব ভার হয়ে গেল। লঘু করতে চাইলাম।
- আসলে আমি ইন্টারনেটে পাওয়া একটা ধাঁধা ব্লগে দিয়েছিলাম। অনেকদিন হয়ে গেল কেঊ পারে নি, এখন উত্তরটা বার করছি। এটা আসলে কাজ না, একটা খেলা।

- কেউ কেউ কাজ আর খেলা গুলিয়ে ফেলে। যা হোক, উত্তর ইন্টারনেটে নেই? গুগল করলেই সব পাওয়া যায়।

- নাহ, এটার উত্তর বোধ হয় নেই। তবে ভারি বদ ধাঁধা। আগে চেষ্টা করি নি, ভেবেছিলাম এক ঘন্টাতেই হয়ে যাবে। কিন্ত তিন দিন হলো, এখনো বাগে আসে নি। কেমন জানি সব যুক্তি চক্রাকারে ঘুরতে থাকে। যে লোকটা প্রথম ছেড়েছিল, তারও নাকি অনেক দিন লেগেছে। সে বলেছে ইমেইলে চাইলে উত্তর পাঠাবে। প্রশ্নই আসে না।

- অহংকার মানুষের পতনের মূল। বলেই একটু লজ্জা পেল। এ কথা আমাকে এখন শোনানোর অর্থ হয় না।

- তোমার কবিতায় এত দুঃখের কথা থাকে কেন? তোমার তো কোন দুঃখ নেই।
- কবিতা তো যা মনে আসে লিখি, নিজের জীবনের সাথে কি সম্পর্ক?
- হ্যাঁ তা-ও হতে পারে। তবে যারা পড়ে, তারা ভাবতে পারে, স্টেটাসে মনের আসল কথার কিছু প্রতিধ্বনি আছে। একটু সাবধানে লিখো, না হলে কেঊ আবার ভুল বুঝবে।

ও একটু চুপ করে রইলো। তার পর বললঃ
- আজকে মা দিবসে একটা লিখেছি, তাতে কোন দুঃখ নেই।

আমি জানি ও নিজের পরিবারের সাথে এখনো খুব এটাচড। অবশ্য স্বামীকেও পছন্দ করে। কিন্তু শ্বাশুড়ীর সাথে বেশি মিল-মহব্বত নেই, বেশ ভয় পায়। শুধু এই উপমহাদেশে নয়, সারা পৃথিবীতেই এই ছবি। আমি আমার কাগজগুলো সরিয়ে রাখলাম।

- কি ব্যাপার? ত্রিভুজ সলভড?
- এটা সল্ভেবল বলেছে, তাই হতে বাধ্য। হয়ে গেছে শেষ পর্যন্ত। তবে অনেক সমস্যার কোনো সমাধান নেই। সেগুলোর পেছনে সময় নষ্ট না করে বোধ হয় ভুলে যাওয়াই ভালো।

মোবাইলে রিং এলো। উদবিগ্ন স্বামী জানতে চায় ও কোথায়।

- এই তো চলে আসছি। জ্যামে আটকে গেলে সময় লাগে, জানো না?

ও চলে গেলে আমি শেষের দুটি পাতা রেখে কাগজগুলো ডাস্টবিনে ফেলে দিলাম। এর থেকেও সুন্দর সমাধান বোধ হয় সম্ভব ছিল। কিন্তু আমার আর ধৈর্য নেই। বহুকষ্টে ত্রিভুজের বৃত্ত থেকে বেরিয়েছি।

__________________________________________

সমস্যাঃ





সমাধানঃ

ব্রুট ফোর্স পদ্ধতিঃ

এনালিটিক জ্যামিতি ও ম্যাথেমেটিকা ব্যবহার করেঃ

k = Pi/180; (* degrees to radians converter*)
Clear[x1,x2,y1,y2];
eq1=y1= = Tan [80 k] x1; (* line of left side of triangle *)
eq2=y1= =Tan[ 120 k] ( x1-1); (* line of 60 degree from lower right corner *)
sol1=NSolve[{eq1,eq2}, {x1,y1}] ;
(* gives co-ordinates of left point of intersection *)
eq3= y2= = Tan[100 k] (x2-1); (* line of right side of triangle *)
eq4=y2= =Tan[70 k] x2; (* line of 70 degrees coming from lower left corner *)
sol2= NSolve[ {eq3,eq4}, {x2,y2}];
(* gives co-ordinates of right point of intersection *)
xangle = (70-ArcTan [ (y2-y1)/(x2-x1)]/k )/.sol1 /.%
(* 70 minus angle of joining line ( in degrees) is the angle required *)


উত্তরঃ 20

.....................................................................................................

জ্যামিতিক পদ্ধতিঃ



ED প্রবর্ধিত করে ভূমি CBএর বর্ধিতাংশের সাথে M বিন্দুতে ছেদ করাই। MN রেখা এভাবে আঁকি যাতে কোণ NMC = 30 হয়। তাহলে কোণ MNC = 70, কারণ কোণ MCN = 80.
MN রেখা EBকে O বিন্দুতে ছেদ করল। OC যুক্ত করি।

এখনঃ
MNC ও EBC ত্রিভুজদ্বয়ের কোণগুলি সমান সমান, সুতরাং তারা সমরূপ ( similar)।
সুতরাং
MC/EC = MN/EB= NC/BC= a (say)

একইভাবে MOB ও EON ত্রিভুজদুটি সমরূপ বলে
MB/EN= MO/EO = OB/ON = b (say)

MC = MB+ BC, EC = EN + NC ইত্যাদি ব্যবহার করে এই অনুপাতগুলো একটু সরল করলে দেখা যাবে a= b = 1.
এখন MC=EC হওয়ায়
কোণ EMC = কোণ MEC = 1/2 ( 180- 80) = 50
সুতরাং কোণ DEB = 70- 50 = 20 .
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মে, ২০১১ রাত ৮:৩৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×