আজ তার জন্মদিন ছিল। জানতাম আজ অন্য কাজে ব্যস্ত থাকব, তাই ফেবুর দেয়ালে আগের দিনই শুভেচ্ছা জানিয়েছিলাম। পরে এক সময় উত্তর দেখলাম - 'ধন্যবাদ, কিন্তু এখনো তো সময় হয় নি!' সে মেয়ে ভাবে আমি তার জন্মদিন গোলমাল করে ফেলেছি! রামানুজম না হতে পারি, কিন্তু প্রিয় সংখ্যা কখনো ভুলি না।
পরে আজ ফেবুতে দেখছিলাম কত অনুরাগীর বার্তা! একজন ছাড়া সবারটার নিচেই তার 'লাইক' , এমন কি একটু বিলম্বে হলেও আমারটির নিচেও। কেউ কেউ কলেজ জীবনে সেই শহরের পাড়ার ছেলে ছিল, আর বেশির ভাগই আত্মীয় - নিজের বা শ্বশুরবাড়ির। একজন মনে হয় সহপাঠী ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে, তারপরে চলে গেছে অন্য সম্ভাবনাময় পেশায়। তার বার্তা বেশ মজার ঃ '**** তারিখে আমার হৃদয় ভেঙ্গে গেছে। আজ বোধ হয় আমি মরেই যাবো।' তারিখটা ওর বিয়ের। এ বার্তার নিচে কোন 'লাইক' দেয় নি; মনে হলো গল্প আছে পেছনে। তবে কি সাহস মেয়ের, মোছে নি এটিও। ভাবতে লাগলাম তার নতুন পরম বন্ধু স্বামীটি কিভাবে দেখবে এক পরাজিত প্রতিদ্বন্দ্বীর নিষ্ফল আকুতি। তবে ভাবনার বেশি কিছু নেই। স্বামীটি খুবই মেধাবী ছাত্র ছিল, যা ও আমাকে বেশ গর্বের সাথে একদিন বলছিল, আর আমার বেশ মজা লাগছিল এই ভেবে যে, আমাদের মেয়েরা সম্পূর্ণ অপরিচিত একজন মানুষকে হঠাৎ একদিন বিয়ে করে কত অল্পদিনেই তাকে ভালোবাসতে শুরু করতে পারে।
ওর বয়স বাইশ হলো। কিন্তু আমি জানি মনের দিক দিয়ে ও ১২ বছরের বালিকা। ওর পরিবারের সবাই জানে কত ছেলেমানুষ ও। ওর স্বামী নাকি এই স্বভাবটি বেশ পছন্দ করে। সব হিতাকাংক্ষী বন্ধুর জন্যই এটা সুসংবাদ। শ্বাশুড়ী যা খুশী ভাবুক।
সুন্দরী মেয়েরা প্রায়ই প্রোফাইল ছবি বদলায়। এখন এক মুগ্ধ স্বামীর ক্যামেরায় ক্ষণে ক্ষণে ধরা দিচ্ছে নিত্য নতুন মোহনীয় রূপে। অসুবিধা নেই, আমার হার্ড ডিস্কে এখনো ৫০০ গিগা বাকি আছে।
নাহ, এই সব ফালতু চিন্তা না করে বরং মাথা খাটিয়ে অংক করলে জট ছড়ানো যেতে পারে।
প্রশ্নঃ
১, ২, ৫, ২২, ৯৪, ?
আই কিঊ টেস্টে এ রকম প্রশ্ন প্রায়ই থাকে। এই সিরিজটি একটু অন্য রকম। দাবা খেলায় রাণী চলে যেতে পারে যত ঘর খুশী, কিন্তু রাজা যায় মাত্র এক ঘর। এই সিরিজ সেই সীমিত গতির ছকের সাথে জড়িত। সেই সহপাঠী ছেলেটির মন নড়ে নি, বান্ধবীর উড়ে গেছে কোন সুদূরে।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মে, ২০১১ রাত ১২:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



