somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক লাখ ডলারের গসাগু

১০ ই জুন, ২০১১ রাত ৯:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আজ ও এসেছে ছ'মাস আগের রূপে। নিরাভরণ ছাত্রীর মত, সাধারণ সালোয়ার কামিজ, প্রসাধনীর কড়া সুবাসও নেই। যেন এই মাত্র কোন ক্লাস করে ক্লান্ত হয়ে এলো। বিয়ের উত্তেজনাও আস্তে আস্তে থিতিয়ে পড়ে, মানুষ বোধ হয় ফিরে যেতে চায় ধীর-স্থির রিলেক্সিং অভ্যস্ত আগেকার জীবনে। সম্পূর্ণ সম্ভব না, কোন কোন দিক দিয়ে।

অবশ্য সুন্দর ও সব সময়ই। বিধাতা সত্যি কত যত্ন নিয়ে কোন কোন মানুষকে বানান!

এখনো ফেবুতে ইশারায় কতজনের হা-হুতাশ। ও লক্ষ্মী মেয়ের মত সান্ত্বনা দেয় - "আল্লাহ পাক তোমার জন্য আরো ভালো কিছু রেখেছেন।" পড়ে আমার বেশ হাসিই পায়। ও মনের দিক দিয়ে সত্যি কি ছেলেমানুষ! ফেবুতে স্বামীর সাথে প্রেমালাপ করে। হিন্দী সিরিয়ালের পছন্দের কথা সবাইকে জানায়, যা কখনো আমার দেখা হয় না। একবার জানি কার ওপরে বেশ রাগ করে কড়া কিছু লিখেছিল। এক আত্মীয়া আতংকিত হয়ে জানতে চেয়েছিলেন কি হয়েছে। ও বলে নি। আমার মাঝে মাঝে এমন ভয় হয়! এমনও তো হতে পারে কোন ছেলেকে ও অতীতে কোন সময় অজস্র বানান ভুলে ভরা এক চিঠি লিখেছিল, বা কাছাকাছি দাঁড়িয়ে ফান-পোজ দিয়ে ছবি তুলেছিল; এখন সে ব্ল্যাক মেইল করার ভয় দেখাচ্ছে। আজকাল মেয়েদের খুব সাবধান থাকতে হয়, অনেক ছেলে এত বজ্জাত হয়!
_______________________

আজও আমার টেবিলে অনেক কাগজ।
-কি , সেই অঙ্কের ধাঁধার খেলা? সময় নষ্ট।
-এই প্রব্লেমটা সল্ভ করতে পারলে ১ লাখ ডলার পুরস্কার আছে।
ওর বড় চোখ আরো বড় হয়ে যায়।
- এক লাখ ডলার? একটা প্রব্লেমে?
আমি হাসলাম।
- আমেরিকার ক্লে ইন্সটিটিউট সাতটা প্রব্লেমের প্রতিটার সলিউশনের জন্য এক মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।রাশিয়ার পাগলা গণিতবিদ গ্রিগরি পেরেলমান এর মধ্যেই একটার সমাধান দিয়ে ফেলেছে, কিন্তু পুরস্কার নিতে অস্বীকার করেছে। এই লোক তাকে দেয়া ফীল্ডস পদকও নেয় নি। তবে আমার এটা সেই মিলেমিয়াম প্রব্লেমের কোনটি নয়।
না, আমার বোঝা উচিত ছিল ও ফীল্ডস পদকের নাম শোনে নি। একটু কনফিউজড চোখে তাকালো।
-অংকে তো কোন নোবেল নেই, তাই না?
- নোবেল তো প্রতি বছর দেয়া হয়। ফীল্ডস দেয়া হয় চার বছর পর পর, শুধু গণিতে। যদিও টাকা অনেক কম, এক দিক দিয়ে নোবেলের চেয়ে বড়।
ও যেন কি মনে করবার চেষ্টা করল। তারপরে হঠাৎ খুঁজে পেল।
- আচ্ছা, বাংলাদেশের এক কেমিস্ট নাকি টেকনলজীর নোবেল প্রাইজ পেয়েছে - এক মিলিয়ন ডলার।

আমি একটু দ্বিধায় পড়ে গেলাম। কাগজে এভাবেই খবরটা ছাপা হয়েছিল বটে। আরসেনিক ফিল্টার উদ্ভাবনের জন্য একটা আঞ্চলিক পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল, তাতে প্রথম পুরস্কার পেয়েছিল এক বাংলাদেশী। এটাকে নোবেলের তুলনীয় বলা কি ঠিক? তার ভাই চৌকষ বাক্যবাগিশ রাশিয়ার ডিগ্রীধারী অধ্যাপকটি মিডিয়াকে সেভাবেই বুঝিয়েছিল। রাশিয়া-ফেরতদের আমি কেন জানি খুব ভয় পাই। বিষয় পালটালাম।

- আচ্ছা, গ্রেটেস্ট কমন ফ্যাক্টরকে জানি কি বলে বাংলায়, অনেক আগে করেছি, ভুলে গেছি।
ওর মুখ খুব উজ্জ্বল হয়ে উঠল। এই জিনিসটি ও জানে। না, তাকে খুশি করতে না, আমি আসলেই ভুলে গেছিলাম।
- গসাগু।
- ঠিক, এখন মনে পড়ছে। আমি যা চেষ্টা করছি তার নাম বীল'স কঞ্জেকচার।
কাগজে তাকে বড় বড় করে লিখে দেখালামঃ

A^x + B^y = C^z

এই সমীকরণে সব রাশি যদি পজিটিভ পূর্ণ সংখ্যা হয় , আর x,y, z যদি ২ এর ওপরে হয়, তাহলে দেখাতে হবে যে A,B,C-এর এক মৌলিক সাধারণ উৎপাদক থাকবে।

আমি জানি ও অংক পছন্দ করে না।
- হুঁহ, এটা আবার একটা অংক হলো। গসাগু লোকে ক্লাস ফাইভে করে।

আমি একটা সত্যিকার দীর্ঘশ্বাস ফেললাম।
- যদি আবার ক্লাস ফাইভে ফিরে যেতে পারতাম।
ও আমার চোখের দিকে তাকিয়ে তাড়াতাড়ি চোখ নামিয়ে ফেলল। হঠাৎ উঠে পড়ল।
-যাই। কাজ আছে।
____________________

ও চলে যাওয়ার পরে আমি হঠাৎ ভাবতে শুরু করলাম - আমাদের তিন জনের মধ্যে কোন সাধারণ উৎপাদক নেই। ও সুন্দর, গৌর, লম্বা। বাকী দুজন নয়। আবার বাকী দুজন সরকারীভাবে 'মেধাবী', ও বেচারীর একাডেমিক ভাগ্য খুবই খারাপ। ও খুবই সরল, বাকি দুজন জটিল। ও আর ওর স্বামী একই এলাকার, আমি অন্য জেলার। ও আর আমি একই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছিলাম, ওর স্বামীর পাঠ অন্যখানে।

তবে আমরা তিনজনই ওর শুভাকাংক্ষী - গসাগু।



৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×