" কিছু কি ভুল করলাম ? " --- এদিক ওদিক তাকাচ্ছে রাকেশ। সোনালী পাড়ের লাল শাড়ী , লাল টিপ , লাল কাঁচের চুড়ি , শিউলী ফুলের মালা , আলতা --- সবই তো ঠিক আছে।
তাহলে ??
ওহ আচ্ছা , সিঁদুর দেয়া হয়নি । আলতো করে রাধিকার সিঁথীতে সিঁদুর পড়িয়ে দিলো রাকেশ । ঠিক যেমনটা রাধিকা চেয়েছিল ।
ছোটবেলায় কতবার যে ওরা জামাই-বউ সেজেছে ! ভোড় বেলার প্রথম কাজ শিউলী কুড়িয়ে দু'জনে দু'টো মালা গলায় দিয়ে তুলসি তলায় চক্কর দেয়া । কাকা-কাকি মা'র বিয়েতে কি যেন সব মন্ত্র পড়েছিল ওরা , মনেও নাই ছাই !
মন্ত্র মনে না থাকলে কি হবে , বিড় বিড় করে অভিনয় ঠিক চালিয়ে নিতো দু'জনে । কোমরের ভাঁজ থেকে মায়ের চুরি করা সিঁদুরের কৌটা বের করে রাধিকা বলতো " হা করে দাঁড়িয়ে আছো যে বড় ? সিঁদুর পড়ানোর কথা কি রোজ রোজ মনে করিয়ে দিতে হবে ? "
মনে হলেই হাসি পায় !!
ছেলে বেলা থেকে আজ অবদি কেউ ওদের এই খেলায় বাঁধা দেয়নি । দেবেই বা কেন ? এ যেন একই আত্তার দু'টি দেহ মাত্র ।
কাকা বাবু আর বাবা যখন ওদের বিয়ের কথা পাকা করছিল , রাধিকা তখন আড়াল থেকে রাকেশ কে ভেংচি কেটে দিলো দৌড় । পাজি মেয়ে !! একবার ঘরে তুলি , তারপর দেখাবো ভেংচি কাটার মজা !
তবে আজ রাধিকা এমন চুপ করে আছে কেন ? এখনও কেন ভেংচি কেটে দৌড় দিচ্ছেনা মেয়েটা ? রাকেশের কেমন দিশেহারা লাগছে !
" এই রাধিকা , আজ তো সিঁদুর দিতে ভুল করিনি । তবে কেন রাগ করে আছিস ? " --- তবুও রাধিকা নিঃশ্চুপ !
মাত্র তিনদিনের কালাজ্বরে কাউকে কিছু বুঝতে না দিয়ে রাধিকা চলে গেল । যাবার সময ওর জন্য আনা লাল শাড়ি , চুড়ি , আলতা --- সব বুকের সাথে আঁকড়ে ধরে ছিল ।
আজ রাকেশ সিঁদুর দিতে ভোলেনি ! শুধু এই শেষ খেলায় রাধিকা আজ ভেংচি কাটেনি !!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

