সহজ সরল একটা মেয়ে , বান্ধবী তাকে একটু স্মার্ট করার উদ্দেশ্যে অনেক সময় নিয়ে ইন্টারনেট ব্রাউজিং শিখিয়েছে ।
কত মানুষের সাথে কথা হয় ! কত যে কথা হয় ! সময় কেমন করে যায় টেরই পাওয়া যায় না ! চ্যাটিং করতে করতে টাইপিং স্পিডটাও দারুণ বেড়েছে
ছেলেটির সাথে প্রথম আলাপেই ভালো লাগলো । কি সুন্দর ইংরেজি লিখে ! কি সোজা সাপটা কথা বারতা ! মেয়েটি মুগ্ধ ! ছেলেটা চায়নার একটা বড় কম্পানিতে চাকরী করে । হংকং , সেনঝিন , শাংহাই , গুয়াংঝু বড় বড় সব শহরের নানান রঙ চঙা গল্প !
দিন গড়ায় - একদিন হঠাৎ ছেলেটির ফোন , " আমার মা খুব অসুস্থ , আমি দেশে এসেছি ! "
আনন্দে আর সময় কাটতে চায় না । বিকাল ৫ টা আর বাজে না । অফিস থেকে বের হয়ে অধির অপেক্ষা। তারপর দেখা ! কত কথা ! কত মুগ্ধতা ! কত স্বপ্ন ! প্রতিদিন রিক্সায় ঘোরা , আইসক্রিম খাওয়া আর রঙিন স্বপ্ন দেখা।
" চলো তোমার মাকে দেখে আসি "
" মা তো আই.সি.ইউ তে , কাউকে ঢুকতে দেয় না । গিয়ে লাভ নেই "
সাতদিন পর চায়না ফিরে যাবার সময় হলো ।
" তোমার মা কে তো দেখতে যাওয়া হলো না ? "
" নো প্রবলেম - ঈদে বাড়ি এসে একবারে নিয়ে যাবো । বলবো মা দেখতো তোমার ছেলের পাশে মেয়েটাকে কেমন মানায় ?"
লজ্জায় রাঙা হয় মেয়ে আর রঙিন স্বপ্নে হারায় আবার। চোখের পানিতে বিদায় দেয় চায়না প্রবাসী জালের প্রেমিক কে।
ক'দিন পর , বনানী মোড়ে কেমন চমকে উঠে ! দূরত্ব বেশি না - সেই পোষাক , হাতের নীল ব্রেসলেট , ঘড়ি , হাত নেড়ে কথা বলা ।
ছিঃ কি ভাবছি ! ভুল ও তো হতে পারে । দূরু দূরু বুকে একটু কাছে এগিয়ে যায় । " সেই মানুষ ! " খুব মগ্ন হয়ে কার সাথে কথা বলছে।
বাংলাদেশী নম্বরটায় কল করে মেয়েটি। একটু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটা পকেট থেকে মোবাইল বের করলো !!!!!!!!!!!
হায়রে প্রেমের জাল , নাকি জালের প্রেম

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

