রিকশা করে অফিস থেকে ফিরছি ।
স্থান : কাফরুলের কোন একটা আধো অন্ধকার গলি
সময় : সন্ধ্যা ৭ টা
এই ধরনের গলি দিয়ে পাশাপাশি দুটো রিকশা চলা খুব কষ্টের । গুন্ডা মার্কা চেহারার এক লোক রাস্তার ঠিক মাঝখান দিয়ে হাঁটছেন। আমার কিছু সামনেই একটা সি.এন.জি। উল্টো দিক থেকে আসা একটা রিকশাকে সাইড দিতে গিয়ে সেই লোকটির গায়ে কিঞ্চিত ধাক্কা লেগেছে। এতবড় একটা অপরাধের জন্য তিনি প্রথমে সি.এন.জি তে বসা যাত্রীদের কে নামতে বাধ্য করলেন এবং অতঃপর সিএন.জি ড্রাইভারকে নামিয়ে ঘুষি , চড়-থাপ্পর চলতে থাকলো। ড্রাইভার আকুতি করছেন , " ভাই আমি ইচ্ছা কইরা ধাক্কা দেই নাই , রিকশাডা সাইড দিতে গিয়া লাইগ্যা গ্যাছে , আমারে মাইরেন না ভাই "
ধাক্কা লাগায় আবার কথাও বলে ? কত্তবড় সাহস !
তিনি পকেট থেকে কি যেন একটা বেড় করে ড্রাইভারের চোখ বরাবর মারলেন। আধো অন্ধকারে সবকিছু ঠিকমত না দেখতে পারলেও ড্রাইভারের গগন বিদারী চিতকার শুনতে ভুল হয়নি আমার। কারো কিছু বলার সাহস নেই । বুঝলাম তিনি স্থানীয় বিশিষ্ট কেউ। শুধু গুঞ্জন শুনলাম , " গ্যাছে রে , চোখ টা গ্যাছে " । দেখতে না পেলেও ড্রাইভারের চিতকারে বেশ বুঝতে পারছিলাম যে চোখ খানি আসলেই গ্যাছে ।
খুব অবাক হলাম যখন আশে পাশের আরোও কিছু ছেলে সেই বিশিষ্ট বড় ভাইকে তোষামোদ করে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। একদিক থেকে ভালো হয়েছে , ড্রাইভারের আরেকটা চোখতো অন্তত বাঁচলো। এর চাইতেও অবাক হলাম , ঘটনার সামনেই একটা ফার্মেসি । ফার্মেসির লোকটি তড়িঘড়ি করে দোকান বন্ধ করে দিলো। সবার চোখে মুখে আতংক , ভয় এবং ড্রাইভারের জন্য সহমর্মীতা । যা নেই , তা হলো প্রতিবাদ করার সাহস ।
ভীড় বাড়তে লাগলো । ড্রাইভারের গা রক্তে ভেসে যাচ্ছে। আমিও ভয়ে বিকশা ওয়ালাকে বললাম ঘুরে যেতে । কারণ আমিও ভীতুদের দলে ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



