যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যাপারে আ'লীগের যে কমিটমেন্ট তা বাস্তবায়নে এই প্রতিবেদন সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে বলে আমার মনে হয়। যুদ্ধাপরাধীদের বিপক্ষে জনমত তৈরিতে সাধারণত একটি দল তথা জামাতকেই ফলাও করা হয়। এর যৌক্তিক কারণও নিশ্চয় রয়েছে। তবে যুদ্ধাপরাধীদের তালিকা প্রণয়ন করতে গিয়ে আ'লীগের কোনো নেতাকর্মীর নাম যদি চলে আসে তবে আ'লীগ সরকারের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকার্য সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবার ব্যাপারে আশঙ্কা থেকে যায়। আর সুজনের প্রতিবেদনে খোদ আ'লীগেও যুদ্ধাপরাধী থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেল। অবশ্য ঐ প্রতিবেদনে জামাতের দু'জন এমপিকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে গণ্য করা হলো না কেন- তা বোধগম্য নয়।
গতকালের সুজনের সেই প্রতিবেদনটি সত্যিই যদি নিরপেক্ষ ও যথার্থ হয়ে থাকে, তবে স্বীকার করতে হবে যে, জামাত নেতাদেরও অনেকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ থেকে মুক্ত এবং যুদ্ধাপরাধী কেবল জামাত নয় বরং অন্যান্য দলের মাঝেও ঘাপটি মেরে রয়েছে এবং নানারকম সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে। সেই সংখ্যা যত নগণ্যই হোক না কেন।
সুতরাং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে যে তালিকা প্রণয়ন করা হবে সেটি নিরপেক্ষভাবে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে করা উচিত। জামাত এ ব্যাপারে বহু আগ থেকেই অভিযুক্ত বলে সুবিধাবাদী অনেক যুদ্ধাপরাধী অন্যান্য দলেও ঘাপটি মেরে বসে থাকতে পারে বলে আমার মনে হয়। অন্তত সুজনের গতকালের প্রতিবেদন সেটিই বলে।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখন একটি গণদাবি। এ দাবি বাস্তবায়নে আ'লীগ যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সেটি তাদের রক্ষা করতে হবে। তবে বিচারকার্যে নিজ দলের যুদ্ধাপরাধীদের অন্তর্ভূক্ত করা না হলে কিংবা অন্য কোনোভাবে তাদের রেহাই দেয়া হলে তা হবে নীতিগর্হিত।
যুদ্ধাপরাধ জাতির বিরুদ্ধে এক অমার্জনীয় অপরাধ। কোনো দলের আশ্রয়েই যেন এই অপরাধীরা পার পেয়ে যেতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জানুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


