somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তরুন-তরুনীদের বেহায়া, অবৈধ, আশ্লীল অসামাজিক কর্মকান্ড ।ফলাফল, মারাত্বক সামাজিক অবক্ষয় । (সমস্যার কারন এবং সমাধান)।

০৪ ঠা জুন, ২০১১ রাত ১১:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেকদিন আগে প্রথম যেবার ঢাকা এসেছিলাম, বন্ধুদের সাথে গিয়েছিলাম “বোটানিকাল গার্ডেন এবং জিয়া উদ্যান এ” । ওখানে যে সব আশ্লীল কর্মকান্ড দেখেছিলাম তাতে মনে হয়েছিল , আসলেই আমাদের তরুন সমাজ এগিয়ে!!!!! (রসাতলে) যাচ্ছে ।

অনেক আভিজ্ঞতা হয়েছিল আমার । আবাক হয়েছিলাম এটা কি আমাদের দেশ , না কি আদিম যুগে চলে এসেছি এই আমি ।এদের লজ্জা বলতে কি অবশিষ্ট আর কিছু নেই । দিবালকে সকলের সামনে তারা আপত্তিকর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে যা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয় । স্কুল , কলেজ , ভার্সিটি , বস্তি সব জায়গার নর পশু গুলো তাদের পশুপ্রবিত্তি দমন করার জন্য মরিয়া হয়ে এসেছে এসব ভ্রমন স্থানে ।ভালো মানুষগুলি লজ্জায় মাথা নিচু করে তাড়াতাড়ি সরে পড়ছে সেখান থেকে, নিজের সম্মান তো বাঁচাতে হবে । ভালো মানুষের জায়গা আর এখানে নেই ।

পত্রিকা খুলতেই চোখে পড়ল আশুলিয়া থেকে গাবতলি , এই ১৬ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের পাশ দিয়ে বয়ে চলা তুরাগ নদী ও তার আশে পাশে চলছে অনেক তরুন তরুনীদের আশ্লীল কর্মকান্ড । তরুন তরুনীদের এসব আশ্লীল কর্মকান্ড চলছে ঘন্টা প্রতি ৫০০ থেকে ১০০০ টাকায় ভাড়া করা নৌকায় এবং টং ঘর এ ।
শুধু কি ঢাকায়, এই সব অশ্লীল কর্মকান্ড চলছে সারা বাংলাদেশ জুড়ে ।আমার জন্মস্থান রাজশাহীর অবস্থাও করুণ । রাজশাহীর ভদ্রা পার্ক ,চিড়িয়াখানা, পদ্মার চর, শিমলা সহ বিভিন্ন জায়গায় চলছে অসামাজিক কর্মকান্ড । এহেন কোন কাজ নেই যা এখানে হচ্ছে না।

শুধু কি তাই, স্কুল , কলেজ , ভার্সিটি ইত্যাদি সহ “সর্বস্তরের” খারাপ তরুন তরুনীরা তাদের পশুপ্রবিত্তি দমনের জন্য খুঁজে নিচ্ছে সাময়িক ও স্থায়ি ভাবে ফাঁকা হওয়া বাসাবাড়ি । স্কুল , কলেজ , ভার্সিটি , প্রাইভেট , কোচিং ফাঁকি দিয়ে তারা অবাধে চালিয়ে যাচ্ছে আপত্তিকর ঘুরাফেরা ও মেলামেশা । বাবা-মা রা প্রথম প্রথম কিছু বুঝতে পারেন না , আর যখন বুঝতে পারেন তখন আর সময় থাকে না । আর অনেক বাবা-মা এগুলোকে অধুনিক যুগের কালচার হিসাবে দেখেন , অবশেষে ঘটে যখন দুর্ঘটনা তখন তাদের টনক নড়ে , কিন্তু তখন আর কিছুই করার থাকে না ।

এমনকি এসব আশ্লীল ও অসামাজিক কর্মকান্ড চলছে রিক্সায় হুড তুলে । রাস্তায় হাজারো লোক দেখছে কিন্তু বেহায়া কপত-কপতি গুলোর নেই কোন লজ্জা । আর কেউ তার প্রতিবাদ করলে হয় ইভটিজিং যা কিনা এখন যৌন হয়রানি নামে পরিচিত ।

ফলাফল :- বেহায়া তরুন-তরুনিদের এসব আশ্লীল ও অসামাজিক কর্মকান্ডের ফলে ঘটছে,

১। সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ।

২। ধর্মীয় মূল্যবোধের অবক্ষয়

৩। মানুষ একজনের প্রতি আর একজন বিশ্বাস হারাচ্ছে ।

৪। বাড়ছে পারিবারিক কলহ , ঘটছে অনেক দাম্পত্য জীবনের অবসান ।

৫। সমাজের কোমোলমতি শিশুরা বেড়ে উঠছে এক অশ্লীল পরিবেশে যা তাদেরকে মানষিক ভাবে বিপর্যস্ত করছে ।

৬। বাড়ছে দোষীদের আত্মহত্যার হার ।তাদের অনেকে অবৈধ মেলামেশার পর প্রত্যাক্ষিত হয়ে বেছে নেয় আত্মহত্যার পথ ।

৭। এছাড়াও তারা বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্যের সাথে জড়িয়ে পড়ছে ।

৮। মারাত্বকভাবে বাড়ছে ইভটিজিং এর হার ।

৯। বেহায়া তরুন-তরুনিদের এসব অবৈধ, আশ্লীল ও অসামাজিক কর্মকান্ডের ফলে বেড়ে চলেছে সমাজ এ অবৈধ শিশুর হার ।তাদের অবৈধ মেলামেশার ফসল তারা ফেলে যায় বিভিন্ন জায়গায় । অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটি চরম সত্য ।



### আমরা বাঙ্গালিরা শুধু মাত্র যারা খারাপ কাজ ঘটা্য তাদেরকে এক তরফা ভাবে দোষী সাব্যস্ত করি এবং ছি ছি ছি করতে থাকি । বলতে থাকি , দেশটা রসাতলে গেল , সমাজটা নষ্ট হয়ে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে গেল ।
এইটা ঠিক না , এই ভাবে কখনো সমস্যার সঠিক সমাধান করা যায় না ।সমস্যার সঠিক সমাধান করতে হলে আমাদেরকে সমস্যার সঠিক কারনগুলো খুজে বের করতে হবে এবং সেগুলোর সমাধান বের করতে হবে । তবেই আমরা পারবো আমাদের দেশকে, সমাজকে , পরিবারকে এবং আমাদের প্রান-চঞ্চল তরুন-তরুনীদেরকে অবৈধ, আশ্লীল ও অসামাজিক কর্মকান্ড হতে মুক্ত করতে ।

সমস্যার কারন :-
তরুন-তরুনিরা এসব বেহায়া, অবৈধ, আশ্লীল ও অসামাজিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন কারনে এবং মাধ্যমে । সেগুলো হল :-

১। ধর্মীয় আনুশাসন এর অবমাননা ।


২। আমাদের সংস্কৃতি বহি:ভূত বিভিন্ন আপ-সংস্কৃতির আশ্লীল ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার চ্যানেল ।
এই আশ্লীল ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার চ্যানেল গুলো সম্বন্ধে আমরা সবাই জানি যার দ্বারা আমাদের তরুন সমাজ ব্যাপক ভাবে প্রভাবিত ।

৩। বাবা-মা এর অবহেলা ও দায়িত্বহীনতা ।যার ভূমিকা অনেক বেশি ।
ছেলে-মেয়ে কোথায় যায় , স্কুল , কলেজ , ভার্সিটিতে ঠিক মত যাচ্ছে কি না , না কি ফাঁকি দিয়ে অন্য কথাও যাছে , মোবাইল ফোন এ কার সাথে কথা বলছে , মেয়েরা অশ্লীল পোষাক পরে বাইরে যাচ্ছে কি না , ছেলে-মেয়ের বিয়ে করা প্রয়জনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে কি না ইত্যাদি অনেক বাবা-মা খেয়াল রাখেন না ।

৪। মোবাইল ফোন এর সহজলোভ্যতা এবং অপ-ব্যবহার ।
মোবাইল ফোন সহজলোভ্য হওয়ায় এবং এটি ব্যবহারে কোন সুনির্দিষ্ট নিতিমালা না থাকায় তার অপ-ব্যবহার এই সমস্যার একটি আন্যতম কারন ।

৫। খারাপ বন্ধু-বান্ধবিদের কু-প্ররোচনা ও উৎসাহ ।
দোস্ত , আমগো যদু ওই কাজ (অশ্লীল কাজ) করছে , তুই ও পারবি , এইডা কর , ওইডা কর । এই ধরনের কু-প্ররোচনা ও উৎসাহ আমাদের তরুন-তরুনীদেরকে বেহায়া, অবৈধ, আশ্লীল ও অসামাজিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িয়ে ফেলছে ।

৬। সরকার ও সংশ্লীষ্ট প্রসাশনের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতা ।
কোথায় কোথায় নির্লজ্জ তরুন-তরুনীরা অবৈধ মেলামেশা করছে সেসব জায়গা সম্বন্ধে সংশ্লীষ্ট প্রসাশনের দায়িত্বপ্রাপ্তরা জানে ।কিন্তু কোন ব্যবস্থা নেয় না ।এ ব্যপারে সরকারেরও কোন মাথা ব্যাথা নেই ।



সমাধানের সঠিক উপায় :- সমস্যা সমাধানের কিছু কিছু উপায় ,

১। নিজেদের মাঝে ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলতে হবে , তা মেনে চলতে হবে এবং আন্যকে তা মানতে উৎসাহিত করতে হবে ।

২। আমাদের সংস্কৃতি বহি:ভূত বিভিন্ন আপ-সংস্কৃতির আশ্লীল ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার চ্যানেল চিরস্থায়ি ভাবে বন্ধ করে দিতে হবে ।

৩। বাবা-মা কে ছেলে-মেয়েদের প্রতি সজাগ এবং দায়িত্বশীল হতে হবে ।

৪। মোবাইল ফোন ব্যাবহারে সু-নির্দিষ্ট নিতিমালা প্রনয়ন করতে হবে ।

৫। খারাপ বন্ধু-বান্ধবিদের কাছ থেকে সব সময় দূরে থাকতে হবে ।ভালো বন্ধু-বান্ধবিদের সাথে সময় কাটাতে হবে ।

৬। সরকার ও সংশ্লীষ্ট প্রসাশনের দায়িন্তপ্রাপ্তদেরকে সঠিক ভাবে দায়িত্বশীল হতে হবে ।

৭। নিজেকে সব সময় ভাল কাজের সাথে যুক্ত রাখতে হবে ।

৮। ভালোদেরকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে হবে ।

৯। সমস্যা এবং এর সমাধানের উপায় নিয়ে লিখালিখি এবং আলোচনা করতে হবে ।



আবশেষে বলতে চাই সুখী, সুন্দর সমাজ গঠনে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে । অশ্লীলতা বিবর্জিত সমাজ আমাদের সকলের কাম্য । যদি আমরা আমাদের সমাজের এই ভয়ানক ব্যাধিকে দূর করতে না পারি , আগামী প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না । সবার কাছে আমার প্রশ্ন আপনি কী আপনার সুন্দর , ফুটফুটে , নিস্পাপ বাচ্চাটির জন্য রেখে যেতে চান এক ভয়ানক ব্যাধিগ্রস্থ অশ্লীল সমাজ ?


### “সামহয়ার ইন ব্লগ” এর মডারেটর এর কাছে আমার একটি আকুল আবেদন ,লিখাটি কিছুদিনের জন্য প্রথম পাতায় রাখা হোক , যাতে করে বিষয়টি সবার নজরে পড়ে এবং সচেতন হয় । সবাই সচেতন হলেই সমাজ এই ভয়ানক ব্যাধি থেকে রক্ষা পাবে । ###

সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই এপ্রিল, ২০১২ বিকাল ৫:১০
৬৭টি মন্তব্য ৫৯টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×