নতুন বছরে সুন্দর ভাবে কিছু দিয়ে শুরু করব মনে করেছিলাম কিন্তু হল না। সপ্তাহ খানিক বিরত থেকেছি ব্লগে লেখা থেকে। কিন্তু আজ সরকারের একটি মানবতা লঙ্গিত রিপোর্ট পড়ে ব্যথিত হই। বাংলাদেশে নির্বাচন করে দুই টার্ম ক্ষমতায় থাকা কারো পক্ষে সম্ভব নয় যদি স্বৈরাচারি বা অন্যভাবে না আসে। তাই সহজে শেখ হাসিনা তার ভবিষ্যত জানেন। তাই তিনি দেশে এত অপকর্ম ও অবনতি সত্ত্বেও বিরোদল দমনে আদা জল খেয়ে লেগেছেন। কিন্তু দিন তো আর বেশি নয়। নৌকার পাল চিড়ে গেছে।
তলায় ফুটো হয়ে গেছে। আর কতদিন সেচন করবেন।
আওয়ামী সরকারের আমলে সারাদেশে মানবাধিকার লংঘনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আসক যে পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে, তা রীতিমতো ভয়াবহ। ক্ষমতাসীন আওয়ামী সরকারের তথাকথিত গণতান্ত্রিক (?) চর্চার জোয়ারে গত বছর র্যাব-পুলিশের ক্রসফায়ার ও হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে ১০০ নাগরিকের। গণপিটুনিতে মারা গেছে ১৩৪ জন, ক্ষমতাসীন দলের কর্মী-ক্যাডার নামধারী সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা বিরোধী রাজনৈতিক দল বিশেষ করে বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীদের উপর ৪১৯টি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে এবং এতে আহত হয়েছে ৭ হাজার ২৪৫ জন, মৃত্যু হয়েছে ৬০ জনের। ১১৫ জন নিখোঁজ বা অপহরণের পর লাশ পাওয়া গেছে ১৫ জনের। কারা হেফাজতে মারা গেছে ১১৬ জন, যা আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি। এছাড়া যৌন হয়রানির কারণে আত্মাহুতি দিয়েছে ৫০০ ছাত্রী, তরুণী ও গৃহবধূ।
৩৪ ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৭ হাজার ছাত্রী, তরুণী ও গৃহবধূ। সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশের নাগরিক হত্যা, শাসক দলের কর্মী-ক্যাডার নামধারী সন্ত্রাসীদের হাতে সারাদেশে বেপরোয়াভাবে ছাত্রী, তরুণী, গৃহবধূ- নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, ধর্ষণের পর খুন, গৃহপরিচারিকা নির্যাতন ও হত্যা, যৌতুকের কারণে নির্যাতন ও হত্যা, এসিড সন্ত্রাসের শিকার হওয়া, সালিসের নামে নির্যাতন ও সংসার ভেঙ্গে দেয়া। শাসক দলের কর্মী-ক্যাডার নামধারী সন্ত্রাসীরা সারাদেশে বেপরোয়া হয়ে অবৈধ মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
শুধু তাই নয়, সন্ত্রাসীরা সারাদেশে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতি, রাহাজানি, টেন্ডারবাজি ও দখলবাজি করে সাধারণ মানুষকে সর্বস্বান্ত করেছে। সাংবাদিক হয়রানি ইত্যাদির শিকার হয়েছে বিপুলসংখ্যক মানুষ। ঘটনাগুলোর মধ্যে আমিনবাজার ট্র্যাজেডি, লিমনের পঙ্গুত্ববরণ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কাদেরের নির্যাতন এবং গোপালগঞ্জের শেখ সরোয়ার হোসেনের বড় ছেলে বিপ্লবকে ঢাকার শ্যামলী থেকে ধরে শেরেবাংলা নগরে নিয়ে গিয়ে র্যাব তার দুই পায়ে গুলী চালিয়ে চির পঙ্গু করা ইত্যাদি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটন দেশের মানুষের মনে গভীর রেখাপাত করেছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



