সীমান্তে যা কিছু ঘটছে তা নিয়ে রাষ্ট্র চিন্তিত নয়। সীমান্তে হত্যা অতীতে ঘটেছে, এখনও ঘটছে এবং ভবিষ্যতেও ঘটবে। সব কাজ ফেলে রেখে শুধু এদিকে দৃষ্টি দেয়ার প্রয়োজন আছে বলেও সরকার মনে করে না।’
এটা কি বাংলাদেশের এজনমন্ত্রীর মুখে শুভা পায়।
এটা কি বাংলাদেশের মন্ত্রী না ভারতের মন্ত্রী! তাহলে আর সীমান্তটা রেখেছ কেন? ওটাও তুলে দাও। ভিনদেশি সৈন্যরা সীমান্তে পাখির মতো গুলি করে আমার দেশের মানুষ মারছে, দেশের সরকারের মন্ত্রী ও সরকার সাধারণ সম্পাদক বলছে রাষ্ট্র তা নিয়ে চিন্তিত নয়! এ ধরনের হত্যাকাণ্ড অতীতে হয়েছে বর্তমানে হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হবে! শুধু তাই নয়, সরকারের এত কাজ, সে সব ফেলে রেখে বিদেশি সৈন্যদের হাত থেকে দেশের নাগরিকদের রক্ষা করার কোনো প্রয়োজন আছে বলেও তারা মনে করে না!
এই থেকে বুঝা যায় এদের স্বদেশ প্রীতির চেয়ে ভারত প্রীতি বেশী।
এই মন্ত্রীকেই মানুষ ভোট দিয়েছে। এই এদেরই দেশের মানুষ সরকারে বসিয়েছে। জান-মাল-ইজ্জত দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব হেফাজত করার দায়িত্ব যাদের ওপর তারাই যদি বলেন ভিনদেশি সৈন্য কর্তৃক দেশের মানুষ হত্যা নিয়ে রাষ্ট্র চিন্তিত নয়, এ ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটতেই থাকবে এবং এদিকে দৃষ্টি দেয়ার কোনো প্রয়োজন তারা বোধ করছেন না !
আসলে তারা দাদাদের বিরুদ্ধে কিছু বলতে সাহস পান না কারণ দাদারা ক্ষমতার উৎস। দাদার মনে যদি কাদা লাগে তবে আগামি বর্ষায় বৈতরণী বেয়ে কূলে যাওয়া অসম্ভব হয়ে যাবে। এমন সব কথাবার্তা শুনি আজকাল বিভ্রান্তিতে পড়ে যাই। কথায় বলে অল্প শোকে কাতর অধিক শোকে পাথর। মানুষের যেন হয়েছে সেই অবস্থা। একের পর এক ধাক্কা, চমক, চমক তো নয় বিস্ময়, সেই বিস্ময়টাকেই এক সময় দেখা যায় আঘাত হয়ে দাঁড়িয়েছে। আঘাতে আঘাতে জর্জড়িত মানুষ নিজেই এখন যেন বোধহীন অনুভূতিহীন জড়বস্তুতে পরিণত। কোনো কিছুতেই কারও কোনো প্রতিক্রিয়া নেই।
রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল, সংবিধানের সুস্পষ্ট লংঘন, সরকার হিসেবে নেয়া শপথের খেলাপ। তবুও তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় উঠনি। কারণ গল্লা যার হাতে তার কথা শুনে। আর গল্লা হল পুলিশ বাহিনী। তারা তাদের পোষা প্রাণীর মত ব্যবহার করে। কিন্তু দিন তো আর বেশি নয় দাদারাও বাধাঁ দিয়ে জনরোস ঠেকাতে পারবে না। যতই সেনা অভ্যুথ্থান কাল্পনিক পরিকল্পনা করে জনস্রোত বদলাতে পারবে না। এই দেশেরই মানুষ আকাশচুম্বী জনপ্রিয় নেতা শেখ মুজিবুর রহমান কে ধূলির সাথে মিশিয়ে দিয়েছিল। তারা সবাই দেশের লোক ও খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।
সৈয়দ সাহেব আপনি এ কথা বলতে পারেন না। রাষ্ট্র আপনার একার নয় বা আপনিই রাষ্ট্র নন। দেশের নাগরিকরা যদি ভিনদেশি সৈন্যের গুলির শিকার হয়ে যায় রাষ্ট্রের জন্য তা অবশ্যই চিন্তার বিষয়। আপনি ভারত সরকারের মন্ত্রী নন, বিএসএফের কমান্ডার নন, সীমান্তে গুলি করে বাংলাদেশীদের হত্যা করার ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে থাকবে—এ কথা আপনার মুখে মানায় না। বিদেশি সৈন্যদের হাত থেকে দেশের মানুষকে রক্ষা করার প্রয়োজন আপনারা বোধ করেন না, তাহলে কোনটাকে আপনারা বেশি প্রয়োজনীয় বোধ করেন! অবলীলায় বলে দিলেন! বলার আগে একবার ভাবলেনও না কি এর ইমপ্লিকেশন! বিএসএফ যদি এখন মনে করে সরকারের মন্ত্রীই যখন বলেছে হত্যাকাণ্ড ঘটতেই থাকবে তাহলে আর পরোয়া কি! যদি তারা বাংলাদেশ সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর বক্তব্যকে লাইসেন্স টু কিল ধরে হত্যার মহোত্সবে মেতে ওঠে!
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিছুদিন আগে ডক্টরেট ডিগ্রি আনতে ত্রিপুরা গিয়ে স্বীকার করে এসেছেন ভারতের স্বার্থে কাজ করতে গিয়ে দেশের ভেতর তাকে বেশ গাল-মন্দ শুনতে হচ্ছে। তারপরও ভারতের ঋণ তিনি
শোধ করে যাবেনই। দেশে ভিন্ন অর্থ হয়েছে তার এ কথার। এসব কারণে ‘ভারতের সেবাদাস’ তিলক কপালে এমনভাবে
সেঁটে যাচ্ছে খোদ দিল্লিও নাকি চিন্তিত হয়ে পড়েছে পঁচাশি শতাংশ মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশে শেখ হাসিনাকে আর একটার্ম ক্ষমতায় রাখা যাবে কীভাবে তা নিয়ে!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



