ইদানিং মনটা ভালো যাচ্ছে না। কেন যাচ্ছে না তার কারণ খোজায় আমি অতো ব্যস্ত নই। আমরা তো আবার কোন কিছুর কারণ খোঁজা ছাড়া কিছু মানতে পারি না। আমাদের সব কিছুর জন্য চাই প্রমান, দলিলপত্র। মনতো আর অতো দলিল পত্র নিয়ে ঘুরে বেড়ায় না। অনেকে আবার যুক্তি খুঁজে বেড়ায়। সে যাই হোক, অনেকেই অনেক সময় বলে ওঠে, আমি বড্ড একা, মনের ভিতর সকল অনুভূতি যেনো মৃত হয়ে যাচ্ছে। এর কারণ আবার অনেকে বের করে বলেছেন, বন্ধুহীনতা মানুষকে একা করে দেয় এবং ভিতরকার অনুভূতিগুলোকে ফিকে করে দেয়। কথা ঠিক। তবে আমরা বুঝি না। আমরা ভাবি আমাদের তো অনেক বন্ধু। আমরা আবার একা হলাম কি করে! আসলে বন্ধু বেশে বসে থাকা মানুষগুলোর সাথে আড্ডায় তাদের হাসির মাঝে লুকিয়ে থাকে স্বার্থপরতা, থাকে ঈর্শা। আমাদের দুঃখে সমবেদনার আড়ালে তারা সাপের মতো ফনা তুলে চুপিসারে ওৎ পেতে থাকে। সুযোগ পেলেই তারা বসিয়ে দেয় বিষাক্ত ছোবল। আর ঠিক তখনই আমরা বুঝতে পারি সে তো আমার বন্ধুই ছিল না।এসব আমি বুঝে গেছি তাই হয়তো আমার বন্ধুহীনতা আমার একাকিত্বের জন্য দায়ী।
আবার হয়তো প্রতিদিনকার একঘেয়েমী জীবনও একাকিত্ব কিংবা হতাশা কিংবা মন খারাপের জন্য দায়ী। অনেকে সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষ করে ঘরে ঢুকে কাছের মানুষের ঘর্ষণে পূর্ণ উদ্যম ফিরে পায়। কিন্তু আমি পারি না। সারাদিনের ধারাবাহিক ক্লান্তিতে আমি ও আমার শরীর হয়ে পড়ে বিপর্যস্ত। সারাদিনের মিথ্যাচারিতা, নকল হাসিতে হয়ে পড়ি ক্লান্ত। তাই ঘর আমার কাছে নিস্তব্ধতার জায়গা। নিজেকে কিছুক্ষণ একাকী দর্পনে দেখার জায়গা। এবং নির্জনে দীর্ঘ সময় ঘুমের সাথে বসবাস করার জায়গা।
এই বিষন্নতা, এবং দুঃখের তীব্রতা অনেকে ভোলার জন্য প্রেম করে বসে। ভাবে, একজন আপন মানুষ পাশে থাকলে হয়তো তার সাথে সেই বিষন্নতার কথাগুলো শেয়ার করা যাবে। কিন্তু আসলে প্রেমও যে মূল্যহীন। প্রেমের জন্য দরকার হয়ে পড়ে অনেক কৌশল। দিতে হয় অনেক বুদ্ধিমত্তার পরীক্ষা। ভালোবাসি কিনা তার প্রমাণ দিতে হয় বার বার। একে-অপরের কাছে ছোট হয়ে যাওয়ার ভয়। তাই অনেক সাবধানতা অবলম্বন করে প্রেম করা। এতো দিকে নজর রেখেও যদি একটু ভুল হয়ে যায় তবেই দেখা দেয় বিপত্তি। প্রেম যেনো সেখানেই শেষ। ভালোবাসা সেখানে কোনদিন ছিল কিনা তা নিয়েই তখন সন্দেহর উদ্রেক হয়। তখনই বোঝা যায়, অতীতের সকল প্রেম-ভালোবাসায় ছিল না কোনো সত্যিকারের অনুভূতি। সবই ছিল শুধুই ছলনা। যেখানে নিজেকে প্রমাণের জন্য সর্বক্ষণ তৈরী থাকতে হয় এবং ভুলের কোন মাফ নেই সেখানে যে ভালোবাসা নেই তা আমি বুঝেছি ঠিকই। তাই ওসব আমার কাছে এখন আরও হতাশায় ডোবার আয়জন মাত্র।
তারপরও পৃথিবীতে কিছু বিরল মুহূর্ত ঘটে যখন হঠাৎ মনটাকে ভালো করে দেয়। সারাদিনের স্টেইজ শো শেষে যখন প্রকৃতির অপার একটা সৌন্দর্য চোখে ধরা দেয় তখন মনটা ক্ষণিকের জন্য হলেও হারিয়ে যায় সকল হতাশা থেকে। আজ এমনই একটি মুহূর্ত ঘটেছে। এমনই এক সৌন্দর্য আমার মনটাকে নাচিয়ে তুলেছে। আকাশের সেই বিশাল পিন্ডটি আজ আমাকে প্রশান্তি দিয়েছে। যেখানে কোন কিছুর অস্তিত্ব নেই। যার কোন আলো নেই বরং অন্যের ধার করা আলোতে জলজল করে সে। তার পবিত্রতা পৃথিবীর প্রতিটি মানুষকে মুগ্ধ করে। সেই মৃত পিন্ডটি। সেই চাঁদ। যা কিনা দিলো প্রশান্তি। সমস্ত কষ্টেরা যেনো উড়াল দিলো অজানায়। আজ এমনই একটি বিরল মুহূর্ত এসেছিল আমার জীবনে। এমনই হয় হয়তো, জীবন্ত কিছুই মনকে এনে দিতে পারে না কোন প্রশান্তি অথচ মৃত চাঁদ মানুষকে দিয়ে যেতে পারে প্রাণশক্তি। দিয়ে যেতে পারে সৌন্দর্যের মাঝে বেঁচে থাকার নতুন আশা। আর তাই আমরা সবাই সমস্বরে বলি- হে চাঁদ, তুমি দীর্ঘজীবী হও।
তবে বড্ড ভয় হয়। কারণ, কোন এক দিন নাকি সেই চাঁদে মানুষের বসবাস শুরু হবে। এই স্বার্থপর মানুষগুলো তো তখন চাঁদের পবিত্রতা নষ্ট করবে। তখন একটি অনন্ত চাঁদের মৃত্যু হবে। আর সেই সাথে সেই মৃত্যু সংক্রমিত হবে কষ্টে থাকা মানুষগুলোর মাঝে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



