নির্বাচন কমিশনের সিমানা পরিবর্তনের পর ঢাকা-১০ এখন হয়েছে ঢাকা-১১। এই আসনটি যে কোনো দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তেজগাঁ-শিল্পাঞ্চল এবং রমনা নিয়ে ঢাকা-১১। বিগত আমলে এই এলাকায় আওয়ামীলীগ এবং বিএনপি উভয় দলই শাসন করে গেছে। ৯১ তে মেজর মান্নান আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে পরাজিত করেন। ৯৬ তে আওয়ামীলীগ কৌশল পাল্টায় এবং ডা:এইচ বি এম ইকবালকে নমিনেশান দেন। ভোটে তিনি মেজর মান্নানকে পরাজিত করেন। তারপর ২০০১ এর নির্বাচনে বিতর্কিত ডা: ইকবালকে আওয়ামীলীগ নমিনেশান দেয় এবং সেই সুযোগ নিয়ে বিএনপি পুনরায় আসনটি রক্ষা করে।
এরপর বিভিন্ন সমস্যায় মেজর মান্নান বিএনপি থেকে পদত্যাগ করার পর পুনরায় নির্বাচন হয় এই আসনটিতে এবং মোসাদ্দেক আলী ফালু বিএনপি প্রার্থী হন। মেজর মান্নান কুলা প্রতিক নিয়ে বিকল্প ধারা থেকে নির্বাচন করেন। কিন্তু ফালুর কাছে তিনি পরাজিত হন। কথিত আছে সেই নির্বাচনে মেজর মান্নান জয়ী হয়েছিল; কিন্তু জোট সরকারের প্রশাসন ফালুকে জয়ী ঘোষনা করেন।
যাই হোক। বিগত আমলে যেই এই আসনটি পেয়ে থাকুক না কেনো তেমন কেউই এই আসনটির খুব একটা উন্নতি করতে পারেননি। ছিনতাই-ডাকাতি এই এলাকার সবচাইতে বড় একটা সমস্যা। এমনকি চোখের সামনে আমি ফেনসিডিল বিক্রি করতে দেখেছি।
২০০৮ এর নির্বাচনে এই আসনের বিএনপি পদপ্রার্থী পরিচিত এই মাত্র আমার হাতে এসে পৌছেছে। তাই শুধুমাত্র তাঁর পরিচিতিটাই তুলে ধরি।
নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০০৮
ঢাকা-১১ আসনে চারদলীয় ঐক্যজোট মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী
জনাব মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন।
তিনি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানার আন্দিরপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৬১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন একজন সরকারী চাকুরীজীবী। মো: শাহাব উদ্দিন স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মাধ্যমিক স্তর শেষ করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
শিক্ষাজীবন শেষ করে তিনি নিজেকে ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠীত করেন। এবং বর্তমানে তিনি সরকারীভাবে সি.আই.পি নির্বাচিত।
তাঁর উল্লেখযোগ্য কর্মকান্ডের মধ্যে হলো,
১. ঢাকার গুলশানে প্রতিষ্ঠা করেছেন শাহাব উদ্দিন মেডিকেল কলেজ ও পাঁচশত শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল যেখানে গরীব রোগীদের ফ্রি চিকিৎসা দেয়া হয়।
২. নোয়াখালীর নান্দীয়াপাড়া ডিগ্রি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা।
৩. এছাড়াও নান্দীয়াপাড়ায় তিনি তার মায়ের নামানুসারে মাদ্রাসা, হেফজখানা ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করেছেন।
৪. মানব কল্যানকর কর্মকান্ডের মধ্যে মেডিকেল কলেজ থেকে প্রতি বছর কিছু সংখ্যক মেধাবী ও দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রীদের বিনা বেতনে পড়ানো হয়।
৫. রাজনৈতিক জীবনে তিনি জিয়া পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান।
---------------------------------------------------------------------------------
সমস্ত কিছু বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তার রাজনৈতিক জীবন সম্পর্কে খুব একটা পরিষ্কার করা হয়নি। বরং তার পরিচিত দেয়া হয়েছে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে। তাছাড়া তার সম্পদের বিবরণও পরিচিতিতে আসা উচিত।
তিনি আসলেই মানব কল্যানের জন্য রাজনীতিতে এসেছেন নাকি অর্থের সমুদ্রকে মহা-সমুদ্রে রূপান্তরিত করার জন্য রাজনীতিতে এসেছেন সেটাও ভাববার বিষয়।
বিএনপির এই নতুন প্রার্থী জনগণকে কতটা মুগ্ধ করতে পারে সেটা দেখার সময় এখনও আছে তাই আমিও অপেক্ষা করছি। আর সেই সাথে আওয়ামীলীগ প্রার্থীর পরিচিতির অপেক্ষায় থাকলাম এবং আপনাদেরও রাখলাম।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



