আমার প্রিয় পোস্ট
- বেগম খালেদা জিয়া: সাধারণ থেকে অসামান্য একজন হয়ে উঠা- (ফটোব্লগ-১) - রায়হান রাহী
- রাংলাই এর সাক্ষাৎকার - সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র
- জোয়ার ভাটার নিঝুম দ্বীপ। - সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র
- কবুতরের উড়াল প্রতিযোগীতা। - সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র
- ::::ফটো ব্লগঃ সঙ্গি সাথী, পশু পাখি :::: - সৌম্য
- খাবারের পর আমাদের সাতটি ভুল !!!!!! - জলপাই আলম
- বানাবেন নাকি একটা নিজেস্ব অনলাইন রেডিও স্টেশন? - চাচামিঞা
- গুগল নিয়ে ঘাঁটাঘাটি - ফিউশন ফাইভ
- হুমায়ুন আজাদের কিছু নির্বাচিত প্রবচন - জানজাবিদ
- নিউজউইকে সেক্টর কমান্ডার নাজমুল হকের দুষ্প্রাপ্য সেই সাক্ষাৎকার - ফিউশন ফাইভ
- ওই ছোটোলোকের পোলাটা কিন্তু বীরপ্রতীক ছিল - অমি রহমান পিয়াল
- ফটোগ্রাফিতে মুক্তিযুদ্ধ এবং একজন কিশোর পারেখ - কাঊসার রুশো
- Guerrillero Heroico - ক্যামেরার পেছনের মানুষটি - বিপ্লবী স্বপ্ন
- চে’ গুয়েভারাঃ স্মরণীয় উদ্ধৃতি - বিপ্লবী স্বপ্ন
- ব্লগের ইতিহাসে সর্বাধিক পঠিত পোস্ট কোনটা?
- আসিফ মুভি পাগলা
- ফরিদপুরের হাবিবুর রহমান ইমরানের উদ্ভাবন, জলে-স্থলে চলার উপযোগী গাড়ী - জারনো
- ব্লগারদের বই নিয়ে আহমাদ মোস্তফা কামালের রিভিউ : ছাপা কাগজে একটুকরো 'ব্লগ' - ফিউশন ফাইভ
- চাণক্য-শ্লোক : কে ছিলেন চাণক্য? - মো. আবুল হোসেন, শিবচর, মাদারিপুর
- অপরবাস্তব- ৪ এর প্রকাশনার সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করুন, ২০০৯ এ লেখা আপনার সেরা পোস্টটির মনোনয়ন দিন - আবদুর রাজ্জাক শিপন
- জীবনানন্দের মৃত্যু রহস্য - আহমদ আবদুল হালিম
- অর্ন্তজালের বাংলা ওয়েব সাইটগুলোর একটা তালিকা তৈরী করলাম। - একজন ব্লগার
- কেন কিনবেন বই যখন ফ্রী পাচ্ছেন? - তামিম
- উত্তরাধুনিক কবিতার বৈশিষ্ট্য : একটা মনোজ্ঞ বিতর্কালোচনা পরিমার্জিত/রিপোস্টেড - সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই
- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এর একটি সাক্ষাতকার - ফকির ইলিয়াস
- তাৎক্ষণিক সাক্ষাতকারে নোবেল বিজয়ী হেরটা মুলার - ফকির ইলিয়াস
- কিংবদন্তীর নর্তকীর কূপ - টনি
- ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত ডিএমসির ছাত্রী নাহিদা মৃত্যুর প্রহর গুনছে - অণৃণ্য
- বাংলা বানান চেক করার টুলের লিংক চাই - টিপু
- জীবনানন্দ দাশ : কবিতায় খুঁজি বাংলার রূপ - একরামুল হক শামীম
- অপারেশন মোনায়েম খান কিলিং (এক) - বিপ্লব রহমান
- অবিস্মরণীয় চট্টগ্রাম যুববিদ্রোহ এবং মহানায়ক মাস্টারদা সূর্যসেন -- শেষ পর্ব - আবু নাঈম
- ছোটগল্প : জোছনার ধবল গায়ে গ্রহণ লাগা চাঁদ - আবদুর রাজ্জাক শিপন
- সে এক পাথর আছে কেবলি লাবণ্য ধরে... - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- জলপাই প্রেম - ভাঙ্গা পেন্সিল
- স্বাধীনতা আর মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কর্পোরেট ফাজলামি : শেষ কোথায়? - ফারহান দাউদ
- ব্লগ কী? - ফাহমিদুল হক
- ঘুরে আসুন বৌদ্ধবিহার ,ময়নামতি জাদুঘর, চণ্ডিমুড়া মন্দির, ইংরেজ কবরস্থান (বিশ্বযুদ্ধে নিহত সৈনিকদের সমাধিসৌধ ),কুমিল্লা। - সোহান বাশার
- Question and Answer Round......PM Vs BM Officers........Is this country We live in???? - দাম
- আর্মী ও প্রধানমন্ত্রীর কথা ৩ টা ফাইল - ব্লগে নতুন
- পাঠক সমীপেষু (গল্প) - হিমালয়৭৭৭
- এই লেখাটি আপনাদের নজরে না এনে পারলাম না!!কেউ কি একবার জিজ্ঞেস করেছেন ১৬৮ আর্মি আর তাদের পরিবার কোথায় গেল?? - ড়ৎশড়
- ভাষা আন্দোলন, কবিতা - তানজু রাহমান
- ভাগীরথীকে নিয়ে লিখা আমার ছোটগল্প - মেঘ
- লেখা দিন ১০ তরুনের প্রেমের গল্প বইয়ের জন্য আরও একজনের লেখা নেয়া হবে - পান্থ বিহোস
- রবীন্দ্রনাথের বিশ্ববেদনা। - ইমন জুবায়ের
- তাজউদ্দীন আহমদের রাজনৈতিক ভূমিকা - একরামুল হক শামীম
- নবী - রাসূলদের সমাধিক্ষেত্র সমূহ এবং অন্যান্য ! - জেমসবন্ড
- শ্রীলংকায় পিতা আদম (আঃ) এর পবিত্র পায়ের ছাপ এবং আদমের সেতু !! - জেমসবন্ড
- সত্যিই আশ্চার্য্য !!!!!!!!!!! - অনীয়ম
- অগুনিত মেহেরের গল্প। - সৌম্য
- অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে? / শহীদ জননী জাহানারা ইমাম - অমি রহমান পিয়াল
- আসুন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে আন্দোলন গড়ে তুলতে একসাথে মিলিত হই - জামাল ভাস্কর
- মাননীয় নেত্রী শেখ হাসিনা, ১৬ বছর পরও কি আপনার এই বক্তব্য অনুদিত হবে না? - অমি রহমান পিয়াল
- প্রকাশিত হল মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ই-সংকলন ফিরে দেখা একাত্তর - ব্রিগেড সিক্সটিন
- ১৯৭১ : নারী ও মূল্যবোধ (পর্ব-১) - আইরিন সুলতানা
- ১৯৭১ : বীরাঙ্গনা অধ্যায় - আইরিন সুলতানা
- আল-জাজিরার ভিডিও দেখুন -মুক্তিযুদ্ধে স্বজন হারানোর কথা শুনুন - আল-কায়ামতি
- অপূর্ব এক পরিবর্তন - অমি রহমান পিয়াল
- ফায়ারফক্সে প্রথম আলো পড়ুন সহজে - আশাবাদী!!
- ব্লগের বর্ষসেরা পোস্ট- চোরকাঁটা ইশ্টাইল কিস্তি ২ - চোরকাঁটা
- BNP Secretary Khandakar Delwar Hossain: PAIJAMA DOWN !!! - এক প্রযুক্তিবিদ
- ২০০৮ : আপনার চোখে ব্লগের বর্ষসেরা লেখা কোনটি? (আপডেট-১২ : একটি বিশেষ ঘোষণা) - ব্রিগেড সিক্সটিন
- হায়দার হোসেনের নতুন এ্যলবাম স্বপ্ন শুধুমাত্র শোনার জন্য - নিঃসঙ্গ
- ভ্লগীয় প্যারোডী- ৪ - চোরকাঁটা
- সুরক্ষিত করুন আপনার সৃষ্টিকর্ম - রতন সুন্দর পাড়ই
- প্রেম - কত প্রকার ও কি কি - সবিস্তারে বর্ননা (১৮+ পোস্ট) ♥♂♀ - নাফিস ইফতেখার
- ব্লগার বন্ধুদের জন্মদিনঃ ডাটা ব্যাংক - মিলটন
- আজ জন্মদিন তোমার, শেরিফ আল সায়ার - মিলটন
- নবীন লেখকলেখিকাদের জন্য :: কিভাবে বই বের করবন। পর্ব-২ - সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই
- মহান মুক্তিযুদ্ধ ও মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী / রনেশ মৈত্র - ফকির ইলিয়াস
- সম্রাট অশোক ও রহস্যময় ৯ মানব! - আলেক্সান্দার দ্যুমা
- প্রেমিক নজরুলের সাতকাহন ~ফজিলতুন্নেসা পর্ব-৩~ - বিবর্তনবাদী
- তরুণ লেখকদের পাণ্ডুলিপি প্রসঙ্গ... - খন্দকার সোহেল
- সশস্ত্র বাহিনীতে গণহত্যা (১৯৭৫-১৯৮১) একটি প্রামাণ্য দলিল - শওকত হোসেন মাসুম
- সকল ব্লগারের নামের লিস্ট ও লিংক এক জায়গায় জড়ো করা হচ্ছে, আপনারা সহযোগীতা করুন - বহুরূপী মহাজন
- অরুন্ধতী রায়ের সাক্ষাৎকার : শাবাশ নতুন ভারত! - ফারুক ওয়াসিফ
- এন্টি গল্প > প্রাতঃকালে ঈশ্বরদর্শন > - মনজুরুল হক
- শ্রীমঙ্গলের নীল কন্ঠ চা কেবিন। - গুপী গায়েন
- যে বই গুলো পড়া দরকার (সবগুলোর লিস্ট) - সপ্নীল
- প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম সমাচার। - কুম্ভকর্ণ
- পূর্ণেন্দু পত্রীর কয়েকটি কবিতা - রাহা
- আমাদের নতুন উপহার: যে কোন সাইটে ফোনেটিক কিবোর্ড - নোটিশবোর্ড
- তিনি আমার বাবা - রণদীপম বসু
- সেই কালোরাতে ইথারে খুনীরা যা বলেছিলো.... - অমি রহমান পিয়াল
- লাইলাতুল মিরাজের বিষ্ময়যাত্রা: বোঝার চেষ্টা করছি... - বিবেক সত্যি
- মেধাহীন 'করপোরেট' মেরুকরণ, গড্ডালিকার নর্দমা, ডিজুস তারুণ্য - সাঈফ শেরিফ
- কেন লেখেন? - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- ফিরে আসা বলে কিছু নেই - মুকুল
- ১৯৭১-এ দৈনিক সংগ্রাম (পর্ব-৩) - সবাক
- বুটের তলায় দেখি ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইল - সামী মিয়াদাদ
- মুক্তি পেয়েও আরিফের ফেরারী যাপন - অমি রহমান পিয়াল
- বৃষ্টিমুখর দিনরাত্রি - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- সাইফুল্লাহ হুজুরের বিশেষ শাস্তি ----- একটি সিম্পল ছোট গল্প - নোবেলজয়ী
৭১ - এর সাহসী "মা"
২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৫৮
মা শব্দটার মর্ম কিংবা গভীরত্ব অনেক। মা'র যে পরম মমতা তা কখনোও কেউ ব্যাখ্যা করতে যায়ও না। সন্তানকে দশমাস দশদিন পেটে ধারণ করার পর প্রসবের যে যন্ত্রণা তা মা ছাড়া আর কেই বা অনুভব করতে পারে!
তবে আমাদের সমাজে মা মানে খুব অসহায় একজন মানুষ। যার কাজ শুধু আচলে চোখ মুছা আর অঝোরে কেঁদে যাওয়া। ইতিহাসও মাদের সাহসের কথার চেয়ে অসহায়ত্বের কথাই বেশী বলে। যেমন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধে মাদের অবদান কি? এই প্রশ্নের উত্তর হিসেবে সকলেই বলবে, তাঁর ত্যাগ। তাঁরা তাঁদের অমূল্য বুকের ধনকে মুক্তিযুদ্ধে যেতে দিয়েছেন। তাঁরা অনেকে হারিয়েছেন তাদের সন্তানকে। তাঁরা কেঁদে চলেছেন; এসব গল্পই আমরা শুনি। কিন্তু তাঁদের সাহসের কথা কেউ বলে না। কেউ বলে না মা'রা খুব সাহসের সাথে তাঁদের ছেলেদের যুদ্ধে পাঠিয়েছেন। তাঁরা তখন মায়ার সমস্ত বন্ধন ছিঁড়ে ছেলেকে অনেকটা উৎসর্গ করেছেন। তারা এজন্য আফসোস করেননি কখনও! এসব কথা ইতিহাস বলে না।
একবার একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অনুষ্ঠানে এক শহীদ মুক্তিযোদ্ধার মাকে আনা হয়েছিল। তিনি খুব গরীব ছিলেন। শহীদ মুক্তিযোদ্ধার মাকে অর্থ সহায়তা প্রদান এবং ছেলের স্মৃতিচারন করবার জন্য। সেই মা মঞ্চে উঠেই অঝোরে কাঁদলেন; তারপর বললেন, এদেশে ৩০ লক্ষ মানুষ শহীদ হয়েছিল এ কথাই বার বার বলা হয় কিন্তু কেউ বলে না সেই ৩০ লক্ষ মানুষের মা ছিল। ৩০ লক্ষ মাও যে শহীদ হয়েছিল। সে কথা কেউ বলে না।
তারপর তিনি তাঁর ছেলেকে নিয়ে কিছু স্মৃতি কথা বললেন। অর্থ সহায়তার বিষয়ে বলেন, টাকা দিয়ে কি করবো!! টাকা দিলে দু'বেলা না হয় পেট ভরে খেতে পারবো। টাকা যখন শেষ হয়ে যাবে! তখন? তখন কি হবে? আমার এই টাকা চাই না। আপনারা আমার ছেলেকে মনে রাখবেন এতেই আমি খুশী।
মারা হয়তো এমনই হয়। খুব শান্ত এবং বাস্তববাদী। মা'রা অঝোরে কাঁদবেন ঠিকই কিন্তু সেই কান্নার শব্দ বুঝতে দেবেন না কাউকে। তারা সাহসের সাথে যে কোনো বাস্তবতার মোকাবেলা করে যাবে। ৭১-এ বাস্তবতা ছিল সে রকম। ছেলেকে যুদ্ধে পাঠাতে হবে না হলে দেশ স্বাধীন হবে কি করে! অনেক মা'রা মায়ার বন্ধন ছিড়তে পারেননি। তাই ছেলেকে যুদ্ধে যেতে বাধা দিয়েছেন। কিন্তু সেই ছেলে ঘর থেকে পালিয়ে চলে গেছে যুদ্ধে। এতে মা কষ্ট পেয়েছেন। ছেলে হারাবার বেদনায় কেঁদেছেন ঠিকই কিন্তু মনে মনে গর্ব করেছেন নিশ্চই।
যতযাই হোক মুক্তিযুদ্ধের সময়গুলোতে সব মা'রাই ছিল ত্যাগী, সাহসী, ধৈর্যশীল এবং সহনশীল তো বটেই।
যেমন, বাংলাদেশের সাহসী মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হালিম চৌধুরী জুয়েল একজন ক্রিকেটার ছিলেন। তিনি যুদ্ধে শহীদ হন। জুয়েলের মৃত্যুর খবর যখন তার মা কাছে এসে পৌছায়। তখন তিনি বলেন,
যে ক্রিকেটকে ভালোবাসতো, সে স্টেনগান হাতে নিল, আমি মা হয়ে মানা করিনি। নিজের চোখে যখন দেখলাম অসংখ্য মানুষ মিলিটারীর হাতে প্রাণ দিচ্ছে তখন বাছাকে আমি মানা করি কিভাবে? আমি জানতাম স্বাধীনতার জন্য যারা জীবন প্রাণকে উৎসর্গ করে তার পরিণতি কি হয়। তাই ছেলের মৃত্যুতে আমি অবাক হইনি।
আবার, বাংলাদেশের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা কাদের সিদ্দিকি বীরউত্তম; মুক্তিযোদ্ধাদের মাদের কথা বলতে গিয়ে যুদ্ধের সময়কার একটি ঘটনার উদ্ধৃতি দেন। তিনি বলেন,
কাউলজানী বাজার থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে বাদিয়াজানে ঘাটের সোজা পাঁচশত গজ পূর্বে কাউলজানীর চৌধুরী বাড়ি। ... এই বাড়ির বা পাড়ায় পঁচিশ ত্রিশজন তখন মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেছে। আমি মাত্র মিনিট খানেক হলো বৈঠকখানায় বসেছি। এর মধ্যেই রঞ্জুর মা এলেন। এসেই রঞ্জুর খোঁজ খবর নিলেন। একটু পরে এলেন ডা. শাহজাদা চৌধুরীর মা। তিনিও ছেলের খোঁজ-খবর নিলেন। এরপর চৌধুরী বাড়ির সবচাইতে ধনী পরিবারের একজন মা, তার সঙ্গে দশবছরের একটি ছেলে নিয়ে এলেন, নাম নজরুল ইসলাম চৌধুরী। মায়ের বয়স চল্লিশ-পয়তাল্লিশ। তিনি এসেই তাঁর ছেলে হাত আমার হাতে দিয়ে বললেন, ওর বাবা ছয় সাত মাস আগে হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন। আমাদের পয়সা কড়ির অভাব নেই। এই-ই আমার একমাত্র ছেলে। একে দেখাশোনার করার অভিভাবকের অভাব আছে। তুমি আমার বড় ছেলে, এর দায়িত্ব বাবা, তুমি নাও।
এভাবেই মা'রা সেদিন তার সন্তানকে সাহসের সঙ্গে পাঠিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে। সেই মা'দের অবদান ইতিহাসে তেমন একটা চোখে পড়ে না। যে মা'রা তাদের অমূল্য সম্পদকে এভাবে দেশের জন্য ত্যাগ করেছেন তারা কেউ কোনো ধরনের ক্ষতি পূরণ দাবি করেননি। সব ধরণের অর্থসাহায্য তারা খুব বিনয়ের সঙ্গে ফিরিয়ে দিয়েছেন। তারা তাদের অন্তরে তাঁদের ছেলেদের লালন করছেন তাঁদের মতো করে। যেমন, জাহানারা ইমামের বাসার দেয়ালে রুমির সামরিক পোশাক পরা তৈল ছবি দেখা যাবে। গেরিলা যোদ্ধা রুমির কখনও সে পোশাক পরা হয়নি। এটা হয়তো ছেলের স্বপ্ন ছিল। তাই কল্পনায় সেই পোশাক পরিয়ে ছেলেকে তিনি ফ্রেম বন্দি করেছেন। যার নিচে লেখা- আবার অসিবো ফিরে এই বাংলায়।
৭১-এ অধিকাংশ মা'দের সন্তান যুদ্ধে গিয়েছিলেন একটি স্বাধীন দেশের স্বপ্ন বুকে নিয়ে। সে শহীদ যোদ্ধাদের মা'রা যখন দেখেন এ জাতি সেই স্বাধীনতার মূল্য দিচ্ছে না। তখন বেদনায় কাতর সেই মাদের কথা একটু ভাবুন তো। রুমির সেই স্বপ্ন যেমন মা তার কল্পনা দিয়ে সাজিয়ে একটা চিত্রে দাঁড় করিয়েছেন সে রকম এই দেশটার স্বপ্ন তারা কি করে নিজের কল্পনায় দাড় করাবেন!
শেষ করবো একটি ভিন্ন ধরনের একটি গল্প দিয়ে। অন্যধরনের মা।
বীরাঙ্গনা শেফা তাঁর জবানবন্দিতে বলেছিল,
হঠাৎ অনেক লোকের আনাগোনা, চেচামেচি কানে এল। একজন বাঙ্কারের মুখে উকি দিয়ে চিৎকার করল, কোই হ্যায়; ইধার আও। মনে হলো আমরা এক সঙ্গে কেঁদে উঠলাম। ঐ ভাষাটা আমাদের নতুন করে অতঙ্কগ্রস্ত করল। এরপর কয়েকজনের মিলিত কন্ঠ, এবারে মা আপনারা বাইরে আসুন। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। আমরা আপনাদের নিতে এসেছি। চিরকালের সাহসী আমি উঠলাম। কিন্তু এতো লোকের সামনে আমি বিবস্ত্র, উলঙ্গ। দৌড়ে আবার বাঙ্কারে ঢুকতে যাচ্ছিলাম। কিন্তু যেই বলিষ্ঠ কন্ঠ আমাকে আওয়াজ দিয়েছিল, “কোই হ্যায়” বলে, সেই বিশাল পুরুষ আমাকে আড়াল করে দাড়িয়ে নিজের মাথার পাগড়ীটা খুলে আমাকে যতটুকু সম্ভব আবৃত করে করলেন। ভেতর আরও ছয়জন আছে বলায় আশপাশ থেকে কিছু লুঙ্গি, শার্ট জোগাড় করে ওরা একে একে বেরিয়ে এলো এবং ওদের কোন রকমে ঢাকা হলো। আমি ওই শিখ অধিনায়ককে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে কেঁদে ওঠলাম। ভদ্রলোক আমার মাথায় হাত দিয়ে বললেন, রো মাৎ মাই...
এই বীরাঙ্গনা স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে গিয়েছিল। বিয়েও হলো। প্রথম সন্তানের নাম তার শশুরবাড়ির লোকজন দিলেন আরমান। কিন্তু শেফা ওকে ডাকে "যোগী" বলে। এর কারণ হচ্ছে, সেই শিখ ভারতীয় সেনার নাম ছিল যোগন্দির সিং; যে তার পবিত্র শিরস্ত্রাণ খুলে শেফার অপবিত্র উলঙ্গ দেহটাকে ঢেকে দিয়েছিল। আর তাঁকে মাতৃ সম্বধণ করেছিল। তাই শেফা মনে মনে সেই শিখকে তাঁর প্রথম সন্তানের মর্যাদা দিয়েছিল। এজন্যই সে তার প্রসবকৃত প্রথম সন্তানকে যোগী বলে ডাকে। আরমান যেনো তাকে সারা জীবন এভাবে হেফাজতে রাখে!
মা না হয়েও শেফার মন তখন সেই ভারতীয় সেনার জন্য মমতায় ভরে গিয়েছিল। যোগন্দির সিং শেফার উলঙ্গ দেহ ঢেকে দিয়ে শেফার হৃদয়ে সন্তানের জায়গা করে নিয়েছিল। এটা হয়তো খোদ সেই সেনাও জানে না। আর ইতিহাস জানবে কিভাবে!!
ইতিহাস বরাবর মাদের ভুলে যায়। তাদের পবিত্র আত্মা, পবিত্র মমতা, অসীম সাহসের কথা কেউ বলে না। মাদের ইতিহাসেও অসহায় করে রাখা হয়েছে।
প্রতিটি যোদ্ধার মা এক একজন রত্নগর্ভা। যেই রত্নগর্ভ মা'রা শহীদ যোদ্ধাদের নিজ দেহের অভ্যন্তরে লালিত করেছেন তার জন্য এ জাতি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। এ জাতির উচিত প্রথমে তাদের সম্মানে ভূষিত করা।
এতো কিছুর পরও সন্তান হারানোর বেদনা বুকে নিয়েও তারা বাংলার পতাকা উড়ায়। এ পতাকা যে তাদের সন্তানের স্বপ্ন। সন্তানেরা এ পতাকার জন্যইতো বিলিয়েছে প্রাণ! তাই সন্তানের স্বপ্ন পূরণ হবার খুশীতে তারা ভুলে যায় সন্তান হারাবার বেদনা আর গর্বের সাথে গেয়ে ওঠে-- আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি।
---------------------------------------------------------------------------------
তথ্যসূত্র:
১. সরদার ফজলুল করিম, পৃষ্ঠা: ১৭৬
২.কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম, ১৯৯২, পৃষ্ঠা: ২৭৯
৩.নীলিমা ইব্রাহিম, আমি বীরাঙ্গনা বলছি, ঢাকা, জাগৃতি প্রকাশনী, পৃষ্ঠা: ১৬
৪.মালেকা বেগম, একাত্তরের নারী, দিব্যপ্রকাশ, সপ্তম অধ্যায়।
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।
এই রত্নগর্ভা মাদের জানাই সম্মান এবং শ্রদ্ধা।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
লিপিকার বলেছেন:
মন ছুঁয়ে গেলো......এর চেয়ে বেশি কিছু বলার মত ভাষা নেই....
লেখক বলেছেন: এটাই সত্য। এটাই ইতিহাস। বাংলার মা'রা অসহায় নয়! শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের মাও একজন মুক্তিযোদ্ধা।
জাতির কাছে তা স্পষ্ট করতে হবে।
পারভেজ বলেছেন:
হৃদয় ছোঁয়া লেখা
লেখক বলেছেন: মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
শামীম দ্যা রক্ বলেছেন:
চোখের পানি আটকালো না!! দারূন। আপনাকে অশেষ ধর্নবাদ।
লেখক বলেছেন: "মা" মানেই তো মমতাময়ী। তাঁদের কথা শুনতে গেলে চোখের পানি আসবেই।
ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।
লেখক বলেছেন: কারা মাইনাস দিয়ে যায় তা নিশ্চই বুঝতে পেরেছেন। তারা কুলাঙ্গার ছাড়া আর কিছুই না।
পোষ্টটি পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
পতাকা দেখি
বাংলাদেশ দেখি
স্বপ্ন দেখি -
তেমন বাংলাদেশের যেমনটি দেখেছিল মা তোমার ছেলে!
লেখক বলেছেন: একমত আপনার সাথে।
আমরা সবাই আসলে সেই স্বপ্নটিই দেখি যেই স্বপ্ন আমাদের বীর যোদ্ধারা দেখেছিলেন।
স্বপ্নগুলো আজও জীবিত। তবে তা আমাদের পূরণ করার দায়িত্ব।
নিহন বলেছেন:
প্রিয়তে .......
লেখক বলেছেন: কোথায়? কোন প্রিয়তে রেখেছেন?
আপনার প্রিয়তে তো দেখলাম না.........![]()
রাফা বলেছেন:
পরে পড়বো।আপাতত প্রিয়তে রাখলাম।ধন্যবাদ
লেখক বলেছেন: পড়া শেষ হলে মতামত জানাবেন আশা করছি।
ধন্যবাদ।
ওমর হাসান আল জাহিদ বলেছেন:
খুবই ভাল লাগল। অসংখ্য ধন্যবাদ এমন চমৎকার বীরত্বের কাহিনী আমাদের সামনে তুলে ধরার জন্য।
লেখক বলেছেন: মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। এরকম আরো কত যে অজানা কাহিনী আছে আমাদের একাত্তরকে ঘিরে তা ভাবাও যাবে না।
আমি এমনই কিছু বিরল ঘটনা যা সত্য কিন্তু রয়ে গেছে আড়ালে।
ভালো থাকবেন।
আইরিন সুলতানা বলেছেন:
এক একাত্তর নিয়ে দেখুন কত অজানা কাহিনী; কত ভিন্ন আবেগ । আপনাকে ধন্যবাদ এই জন্য যে একটি ভিন্ন ভাবনাকে তুলে এনেছেন ।
"আক্রমণ" এই পোস্টের লিংক দিয়ে এসেছিল আমার ব্লগে; তাকেও ধন্যবাদ তার সচেতনতার জন্য ।
লেখক বলেছেন: আক্রমণতো রীতিমতো ব্লগে একটা আন্দোলন করছে। তার নিঃশব্দ প্রতিবাদ কয়জন লক্ষ করছে কে জানে!!!
তবে তাঁর যৌক্তিক দাবি কেনো কর্তৃপক্ষ মানছে না তাও জানি না।
আক্রমণকে ধন্যবাদ জানানো ছাড়া আর কিই বা বলতে পারি।
ইতিহাসের এই ভিন্ন প্রসঙ্গ অত্যন্ত গভীরভাবে আমাদের ভাবতে হবে। একাত্তরে মা'রা যে অসহায় নয় সেটা আমাদের বলতে হবে। তারাও যে মুক্তিযোদ্ধা।
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
অদৃশ্য বলেছেন:
সায়ার ভাই...........দারুন একটি লিখা..........দেরিতে পড়লাম। খুব খুব ভালোলাগা জানালাম। মন ছুয়েছে।সবসময় ভালো থাকুন।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ অদৃশ্য ভাই।
"মা" শব্দটাই আবেগে ভরিয়ে দেয়। তারউপর সাহসী মা। যাঁরা তাঁদের নিজ গর্ভের সন্তানকে যুদ্ধে পাঠিয়েছেন দেশ রক্ষার জন্য।
আপনিও ভালো থাকুন।
কাকশালিখচড়াইগাঙচিল বলেছেন:
কে এটাতে - দিল? .........বাচ্চা!!!!!!!!!!!!
লেখক বলেছেন: হুমম.....আমরা গালাগালি থেকে দূরে থাকি! ![]()
এস্কিমো বলেছেন:
পড়তে পড়তে শেষ দিকে এসে নিজেকে অসহায় মনে হচ্ছিলো। গলা ধরে এলো, চোখ ঝাপসা হয়ে আসছিলো। ভাবছিলাম - আমরা কি হেরে যাচ্ছি। না, আমাদের বিজয়ী থাকতেই হবে। বিচার হবেই সেই নরপশুদের।
লেখক বলেছেন: চমৎকার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ এস্কিমো ভাই।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। আপনাদের জন্যই তো লিখা। যখন শুনি কোনো লেখা কারও ভালো লেগেছে তখন খুব উৎসাহ পাই।
ভালো থাকবেন।
পতত্রী বলেছেন:
"এদেশে ৩০ লক্ষ মানুষ শহীদ হয়েছিল এ কথাই বার বার বলা হয় কিন্তু কেউ বলে না সেই ৩০ লক্ষ মানুষের মা ছিল। ৩০ লক্ষ মাও যে শহীদ হয়েছিল। সে কথা কেউ বলে না।"-একজন মামা,
তুমি আর কাদবে না বলো.........
আমরা আবার যুদ্ধে যাব......
খুনীর খুনে হাত লাল করে তবেই মুক্তি.......।
লেখক বলেছেন: মন্তব্য খুব ভালো লাগলো।
ধন্যবাদ।
জেরী বলেছেন:
অনেক সুন্দর প্রকাশ ভাইয়া।
লেখক বলেছেন: ![]()
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন বলেছেন:
অসাধারণ! বিষয়টি ভীষণ আবেগপ্রবণ!...
চোখ বাঁধ ভাঙে...
এমন অসাধারণ লেখা উপহারের অনুরোধ থাকলো...
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
ব্লগে আপনি নবাগত। তাই স্বাগতম সাম.ইনে।
লেখক বলেছেন: মা ভালো আছে আপু।
দোয়া করবেন।
আমার জন্যও করবেন। যেন বড় হতে পারি।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...


















খুব হৃদয়স্পর্শী একটি লেখা। অনেক ভাল লাগল।