বাংলা নববর্ষের এই প্রহরে হয়তো আমার এই পোষ্টটি খুবই অমূলক। হয়তো কেউ কেউ এড়িয়েও যাবেন। বলবেন, আমার এই পোষ্ট সকলের বিরক্তির উদ্রেক করবে। তবে সত্যি কথা বলতে কি! আমি একটু বেশীই ইতিহাস প্রেমী। বিশেষ করে একাত্তর আমাকে বড্ড বেশী নাড়ায়। নিজের যে কোনো লেখাকে ইতিহাসের দিকে নিয়ে যাওয়াটা আমার একটা অভ্যাস হয়ে দাড়িয়েছে। যদিও আমার জন্য এ কাজটা মোটেও বিরুক্তির নয়। আমি এই কাজটি করতে খুবই ভালোবাসি। যেমনটি এই নববর্ষের দিনটিও আমার কাছে ইতিহাসটাই মূখ্য হয়ে দাড়িয়েছে। তাও আবার একটি কবিতা নিয়ে।
কারণটি আমি স্পষ্ট করেই বলি। কবিতাটি বাংলাদেশের ইতিহাস এবং নববর্ষের সাথে একটি সম্পর্ক রয়েছে। যারা জানেন তো জানেন। জানলেও আমি আবার বলবো। কবিতাটি স্বাধীন বাংলার প্রথম বৈশাখী কবিতা। এমনকি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত প্রথম কবিতা। কবি, মুস্তফা আনোয়ার কবিতাটি লিখেছিলেন। এবং পাঠও করেছিলেন তিনি স্বয়ং। এই ব্যক্তিটি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের একজন অন্যতম উদ্যোক্তা।
যাইহোক। আপনারা নিশ্চই জানেন, ৭১-এ যুদ্ধের সময় নববর্ষ পালন ছিল নিষিদ্ধ। পাকিস্তানি সামরিক জান্তারা নববর্ষ পালন নিষিদ্ধ ঘোষনা করেছিল। কিন্তু তাতে কি! আমার দেশের ঐতিহ্যের একটি অন্যতম অংশ হচ্ছে বৈশাখ পালন। সাহসী কবি মুস্তফা আনোয়ার কবিতাটি আবৃত্তি করেন। আর সাথে সাথে বাংলার ইতিহাস হয়ে গেলো কবিতাটি। স্বাধীন বাংলাদেশের নববর্ষের প্রথম কবিতা।
কবিতাটির নাম- বৈশাখের রুদ্র জামা।
বৈশাখের রুদ্র জামা আমাকে পরিয়ে দে মা
আমি তোর উজাড় ভাঁড়ারে বারুদের গন্ধ বুক ভরে নেব।
এখন তোর ভীষণ রোগ, গায়ে চুলো গন্ গন্ করছে,
আমাকে পুড়িয়ে দিলি মা।
নাৎসী হাওয়া তোর
পিদিমে ফুঁ দিতেই, চপ চপ করে ভিজে গেল মুখ
এতো রক্ত কেনরে মা, এত রক্ত কোন দিন আমি দেখিনি- দেখিনি মা।
আমি জানি আমার শার্টের রক্তের দগদগে চিহ্ন
তোর পতাকার বুকের ভিতর দাউ দাউ জ্বলছে
আমি রক্তের প্রতিশোধ নেব মারে
রক্তের বদলে আমি রক্ত শুষে খাব।
যেন আমি এক রক্তপায়ী রাগী ঈশ্বরের
গরগরে কন্ঠস্বর হয়ে গেছি।
ঘর নেই, বোন নেই, ভাই নেই, নেই নেই,
মারে আমার কিছুই নেই-শুধু রাইফেল
দাঁতে দাঁত চেপে খুঁজে ফেরে শত্রুর খুনি ছাউনি,
লোভাতুর হাত শুধু চায় শত্রুকে হত্যার
হত্যার, হত্যার এই বিনিদ্র রক্তাক্ত উল্লাস।
এবার নববর্ষের দেয়া তোর বৈশাখী জামায়, ওদের রক্তে ভিজিয়ে তোর পায়ে এনে দেবো মারে।
বৈশাখের রুদ্র জামা আমাকে পরিয়ে দে মা।
কবি মুস্তফা আনোয়ারের এ কবিতা বাংলা নববর্ষের ইতিহাস। এই কবিতাটি তাঁর কোনো বইয়ে গ্রন্থভুক্ত হয়নি। তাই হয়তো নিজের কবিতার মতো কবি নিজেও অন্ধকারে রয়ে গেলো।
সকলকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাই।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ২:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



