আত্মহত্যাকে “না” বলুন!
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
বাংলাদেশে দিন দিন আত্মহত্যার হার বেড়েই চলছে। স¤প্রতি একটি পত্রিকায় দেখলাম, শহুরে ১৪ শতাংশ নারী আত্মহত্যার কথা ভাবেন। আর এর অধিকাংশই হলো বিবাহিত। ব্যপারটা খুবই উদ্বেগের। জুরাইনের ফারজানা রিতা তার দুই সন্তানকে নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এই ঘটনা বর্তমানে বলতে গেলে টক-অব-দ্যা-সিটি। প্রতিদিন নিত্য-নতুন তথ্যে পত্রিকাগুলো পাঠকদের চমকে দিচ্ছে। কালের কন্ঠ রিতার ডায়রী থেকে অংশবিশেষ প্রকাশ করছে। তার উপর দিনের পর দিন কিভাবে অত্যাচার হয়েছে তা-ই ফুটে উঠছে লেখায়। তবে এখানে প্রশ্ন হলো, রিতা শশুরবাড়ির অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে অন্য কোন উপায় অবলম্বন না করে কেন আত্মহত্যাকেই বেছে নিলেন। আর তিনি বেছে নিয়েছেন তা বুঝলাম। কিন্তু রিতার বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলা যায় যে, তিনি তার দু-সন্তানকে আত্মহত্যায় উদ্বুদ্ধ করেছেন। কারণ, নাবালক দুই সন্তান জীবনের মানেটাই তো এখনও বুঝতে শেখে নি। তারা আত্মহত্যা করবার মতো এমন সিদ্ধান্তে যাবে কেন? রিতা তার ডায়রিতে সমাজকে উল্লেখ করে লিখেছে, নিজের চেয়ে বেশী কাউকে ভালোবাসবেন না। কিন্তু রিতা নিজেকে ভালোবাসার প্রমাণ দিয়ে যেতে পারেন নি। এমনকি ডায়েরিতে এও বলেছেন, তিনি তার দুই সন্তানকে অনেক ভালোবাসেন। সেটারও প্রমাণ তিনি দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। আত্মহত্যার পাশাপাশি তিনি হত্যাতেও লিপ্ত হয়েছেন। আর তা হলো তার দু-সন্তানকে হত্যা। এটাও অনুসন্ধানের বিষয় হতে পারে, তিনি আত্মহত্যার পূর্বে তার দুই সন্তানকে হত্যা করেছেন কিনা। কিন্তু পুলিশ কিংবা আমাদের সমাজ সে বিষয়ে ভাবছেই না। যা ভবিষ্যতে আত্মহত্যার প্রবণতাকে উস্কে দিতে পারে। মানুষ এমন ভাবতে পারে, আত্মহত্যাই সমস্ত সমস্যার সমাধান এবং অন্যকে শাস্তি দেয়ার একটা উপায়। তখন তো সমাজের জন্য তা অবশই মঙ্গলকর নয়। যে কোন সমস্যার মূলে আমাদের পৌছানো উচিত। আমরা মূলে পৌছাই না। তারা আত্মহত্যা করেছেন এবং শশুরবাড়ি দায়ি। সুতরাং শশুরবাড়ি লোকদের শাস্তি। ঘটনা এখানেই শেষ। কিন্তু এমন কয়টা ঘটনা শাস্তি দিয়ে থামানো যাচ্ছে? এই প্রশ্নও তো আসতে পারে। যেতে হবে মানুষের মনের গভীরে। সেখানে কি চলছে? মানুষ কেন আত্মহত্যাকে বেছে নিচ্ছে? ঠিক কখন মানুষ আত্মহত্যার কথা ভাবেন? কিভাবে তাদের কাউন্সিলিং করা যেতে পারে? পরিবারের সদস্যরা কিভাবে তাকে সাপোর্ট করবে? মানুসিক অশান্তিগুলো কি কারণে তৈরী হচ্ছে? সেই কারণগুলো সমাধানের উপায় কি? বর্তমানে পরকিয়ার জন্য শহরে অনেক সংসার ভেঙে যাচ্ছে। একজন মানুষ ঠিক কখন পরকিয়ার আশ্রয় নেয়? পরকিয়া প্রেম থেকে কিভাবে তাকে সরিয়ে আনতে হবে? মানুষ যাতে পরকিয়া প্রেমকে শান্তির আশ্রয়স্থল না ভাবে সে ব্যপারে কি করা যেতে পারে? সমাজের মানুষকে এসকল অবক্ষয়ের হাত থেকে কিভাবে রক্ষা করা যেতে পারে সেটাও বের করতে হবে।
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আমাদেরই খুজে বের করতে হবে। সরকারের উচিত হবে, মনোবিজ্ঞানীদের সহায়তা নেয়া। তারা সমাজের এই কালো জায়গাগুলো থেকে বের হওয়ার পথ বের করুক। কারণ, বিগত মাসখানেক ধরে চলছে, হত্যা, আত্মহত্যা। আর ইভটিজিং তো বর্তমানে চরমে পৌছে গেছে। এছাড়াও তো কিছুদিন আগে মায়ের পরকিয়ার কারণে পুত্রকে প্রাণ দিতে হয়েছে। যদিও মা বলছে সে পূত্র হত্যার সাথে জড়িত নয়। কিন্তু তিনি হত্যাকান্ডটির একটি কারণ। এ সবই মানুষের মস্তিষ্কের বিকৃতি। মানুষ অস্থির হয়ে উঠছে। মানুষের অস্থিরতায় ফাঁদে পড়ছে তারা নিজেরাই। যার কারণে হত্যা এমনকি নিজেকে হত্যা করতেও তারা পিছ-পা হচ্ছেন না।
২.
রিতার ডায়েরির ২য় পর্ব পড়ে মনে হয়েছে রিতার অসহায়ত্ব। অসহায় রিতার বাবা নাই; শক্ত ভিত নাই। তাই স্বামির এবং শশুরবাড়ির মানসিক অত্যাচারে সে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। রিতার মতোই বাংলার অসংখ্য পরিবারে অসংখ্য নারীরা রয়েছেন। তাদের গল্প কেউ জানছে না। পরিবারের মান-সম্মান রক্ষার্থে চুপ মেরে আড়ালে কাদছে। তাদের কান্নার শব্দ কেউ পাচ্ছে না। পরিবারের সম্মানের কথাটা এ জন্য বললাম কারণ, আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপটে একটি মেয়ের সংসার ভেঙে যাওয়ার ঘটনা খুব একটা ভালো চোখে কেউ দেখে না। আবার পুলিশের কাছে অভিযোগ দিতে গেলে হাজারো প্রশ্নের সম্মুক্ষিণ হতে হবে। আদালতে নোংরা নোংরা প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। আর যদি কোন মতে তা মিডিয়াতে চলে আসে। তাহলে তো কেল্লা ফতে। চোদ্দ পুরুষের ইতিহাস ছাপবে পত্রিকায়। এ সবই আমাদের সামাজিক বাধা। আমাদের মিডিয়াকে বুঝতে হবে, তারা কি অন্যায়ের বিপক্ষে প্রতিবেদন দিচ্ছেন নাকি একটি মানুষের অতিত ইতিহাসের গল্প অন্যকে বলছেন। মানুষকে মটিভেট করা হচ্ছে না। কিংবা সেই মেয়েটির পাশে মিডিয়া পুরোপুরি যাচ্ছে না। তারা থেকে যাচ্ছে মেয়েটির সাথে অতিতে কি হয়েছে শুধু সেই ঘটনার মধ্যেই। কিন্তু মেয়েটির বর্তমান মানসিক অবস্থা কেউ ভেবে দেখে না। যেমন, রিতার কথাই যদি বলি, রিতা ডায়েরি লিখেছেন। সে ডায়েরি প্রকাশ হচ্ছে পত্রিকায়। আমার মতে, একজন মানুষের ব্যক্তিগত অনুভূতি এভাবে প্রকাশ হওয়া অনেকটা উলঙ্গ হয়ে যাওয়া। আর তাছাড়া সুইসাইডাল নোট কিংবা ডায়েরি প্রকাশ হলে অনেকের মতে উল্টো প্রতিক্রিয়াও ঘটতে পারে। যেমন, যারা জীবনটাকে অনেকটা সিনেমেটিক ভাবেন কিংবা স্বপ্নের দুনিয়ায় বাস করেন; বাস্তবতার সাথে যাদের দূরত্ব অসীম। তারা এসকল ব্যপারগুলোকে ব্যবহার করতেও উৎসাহিত হবে। এর মানে অনেকটা এরকম দাড়ায়, আমি যদি রোমাঞ্চকর একটি নোট কিংবা ডায়েরির পাতা লিখে ভরাতে পারি তারপর আত্মহত্যা করতে পারি তবে আমাকে অত্যাচারকারী শাস্তি পাবে। আমাদের সমাজে অবশ্যই এ ধরনের মনোভাব গড়তে দেয়া যাবে না। আমার নিজেরও অনেক বন্ধুর কাছে শুনেছি তাদের প্রেমিকারা কিছু থেকে কিছু হলে আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে বসে। এই মনবৃত্তি থেকে সমাজকে বের করে আনতে হবে। আত্মহত্যা যদি আইনগতভাবে অপরাধই হয় তবে তার নোট কিংবা ডায়েরি প্রকাশের তো কোন দরকার নেই। কারণ মৃত ব্যক্তিটিও অপরাধি। আত্মহত্যাকারীর প্রতি সহানুভূতির দৃষ্টি দেয়াও আমাদের বন্ধ করতে হবে। যাতে করে যারা আত্মহত্যাপ্রবণ মানসিকতা বয়ে বেড়াচ্ছেন তারা সাবধান হয়ে যায়। আত্মহত্যাই সমাধান নয়। আমাদের মিডিয়াকেও আত্মহত্যাকে “না” বলার প্রচারণা চালাতে হবে। সমাজে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আনতে হবে। এবং সকলকে বুঝতে দিতে হবে, আত্মহত্যাকারী এবং যার কারণে আত্মহত্যার পথ অন্যে বেছে নেয় দু-জনই সমান অপরাধী। সমাজিকভাবে এর বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাতে হবে।
৮টি মন্তব্য ১টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।
শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন
মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪
মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন
শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন
পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।