সে মেধাবী যুবক। অসম্ভব প্রাণশক্তির অধিকারী। পরিশ্রম করতে পারে অক্লান্ত। তার সমস্যা একটাই যে সে খুব সহজেই মানুষকে বিশ্বাস করে, বাস্তবতার জটিল অংকগুলো করে খুব সহজ হিসেবে।
বিগত দুই বছর সে পার্টনার শিপে গড়ে তুলেছিল ব্যবসা। যদিও ব্যবসা শুরু করার কথা ছির এককভাবে। কিন্তু একজন ব্যবসায়ী তাকে স্বপ্ন দেখালেন আরো বড়। তাকে বললেন পূঁজি নিয়ে চিন্তা না করে বড় আকারে ব্যবসার পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়ন করতে।
সহজ সরল হিসেবে পটু বলেই সে চরম বাস্তবতা ভুলে গিয়েছিল। তাই ব্যবসা শুরু করার পর তাকেই বিনিয়োগ করতে হয়েছিল প্রায় ৭৫% পূঁজি এবং অক্লান্ত পরিশ্রম। তারপর যখন ব্যবসা মোটামোটি জমে উঠছে বা আয় শুরু হওয়ার পর্যায়ে এসেছে তখন নিজ মূর্তিতে আর্বিভূত হলেন সেই দরদী বিনিয়োগকারী। বিভিন্ন অভিযোগ এনে তাকে সরে যেতে বাধ্য করলেন নিজের মমতায় গড়া প্রতিষ্ঠান থেকে। যে প্রতিষ্ঠানে পরতে পরতে জড়িয়ে আছে তার মেধা, প্রজ্ঞা, নিজের অর্জিত সকল সঞ্চয় এবং বউয়ের গহনা বিক্রির টাকা।
ঐ মহৎ বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানটি কুক্ষিগত করে পরিচালনার দায়িত্ব দিলেন এমন ব্যক্তিদের যারা তোষামোদে পটু। তোষামোদে আর যাই অর্জন করা যাক ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব নয়। ফলে প্রতিষ্ঠানটি গত চারমাস যাবৎ ধুকতে ধুকতে এখন বন্ধ।
এখন সেই মেধাবী এবং অক্লান্ত পরিশ্রমী যুবক চরম হতাশাগ্রস্থ। সে এইবার ঈদে তার একবছর বয়সী পুত্র সন্তানকে এক সেট কাপড় দিতে পারে নাই অথচ গত ঈদেও সে চারজন রিক্সাচালককে রিক্সা কিনে দিয়েছিলো। তার ব্যক্তিগত কোন ঋণ নেই। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের কাজ চালাতে গিয়ে তাকে ঋণগ্রস্থ হতে হয়েছে। সেই ঋণ পরিশোধ করতে যেয়ে এখন সে চোখে অন্ধকার দেখছে।
গত দেড় মাসে সে হন্যে হয়ে ঘুরেছে ৫% সুদে ১,৫০,০০০/-(দেড় লক্ষ) টাকা ঋণ গ্রহনের জন্য কিন্তু কেউ সাড়া দেয়নি। পুরো রোজার মাসে সে তার আতœমর্যাদা ভুলে জাকাত-এর জন্য হাত পেতেছে। তাঁকে যারা চিনে তারা হেসে উড়িয়ে দিয়েছে। তাঁরা বিশ্বাস করতে চায়নি অক্লান্ত পরিশ্রমী এই প্রানবন্ত যুবকটির এই অবস্থা হতে পারে। । শুধু তার ঋণ গুলো পরিশোধের জন্য সে এখন কিডনী বিক্রি করতেও পিছপা নয়। সে জানে বেঁচে থাকলে দু’মুঠো খাবারের সংস্থান সে করতে পারবে।
গতকাল সে এসেছিলো আমার কাছে। আমি কোনভাবে তাকে সাহায্য করতে পারি কিনা। যাওয়ার সময় করুন সুরে জিঞ্জেস করেছিল, ভাইয়া আমি এখন কি করব!! মাঝে মাঝে মনে হয় সব কিছু ফেলে আতœহত্যা করি!! কিন্তু ছেলেটির মুখ ভেসে ওঠে। সব কিছু ছেড়েছূড়ে চলে যেতে ইচ্ছে করে। কিন্তু সেটাও পারিনা। ছিনতাই রাহাজানী করতে ইচ্ছে করে কিন্তু সেটাও পারবো বলে মনে হয়না। আসলে মানুষকে কষ্ট দিতে শিখে নাই। আপনি বলতে পারেন আমি এখন কি করব!!
আমি তাকে কিছুই বলতে পারি নাই। শুধু কাঁধে হাত রেখে সহানুভূতি জানানো ছাড়া। প্রাজ্ঞ পাঠক আপনারা কি বলত পারবেন সে এখন সত্যিই কি করবে!!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



