somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রধানমন্ত্রীর সংবিধান লংঘন: আমরা এই সব মিথ্যুকদেরই ভোট দিয়েছিলাম

২২ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ৮:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

২০ জুলাই ২০০৯ইং প্রথম আলো পত্রিকার প্রথম পাতায় ”আমি আর মন্ত্রিসভায় নেই/ পদত্যাগের ৪৮ দিন পরে সোহেল তাজ” শীর্ষক একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী -

১. সোহেল তাজ ৩১মে ২০০৯ পদত্যাগ পত্র প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দিয়েছেন।

২. সোহেল তাজ বলেছেন,
ক) আমি দাযিত্বজ্ঞানহীন নই,
খ) ৩১ মে থেকে আমি আর মন্ত্রী নেই
গ)এখন আমাকে মন্ত্রী হিসেবে অভিহিত করা হবে সংবিধান লংঘনের শামিল।

৩. ৪ জুন সোহেল তাজ মন্ত্রণালয়ের দপ্তরে যান। বেরিয়ে যাওয়ার সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ” আমি অসুস্থ ছিলাম। তাঁর মতে, আর পদত্যাগের বিষয়টি অস্তিত্বহীন। যে বিষয়টি অস্তিত্বহীন, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা ঠিক নয়। (প্রথম আলো)

হরবোলার বোলঃ
একজন মন্ত্রী শপথ নেন সংবিধান সমুন্নত রাখবার জন্য। অথচ নিজেকে জাহির করবার মানসে কত সহজে তারা সংবিধান লংঘন করেন তার নমুনা উপরোক্ত মন্তব্যগুলো বিশ্লেষণ করলেই পরিষ্কার হযে যায়। দাযিত্ববান একজন মন্ত্রী তার পদত্যাগের ৪৮ দিন পরে টেলিফোনে পত্রিকায় ফোন করে জানান যে তাকে মন্ত্রী হিসেবে অভিহিত করা সংবিধান লংঘনের শামিল। তিনি ৩১মে থেকে আর মন্ত্রী নেই। অথচ ৪ জুন তিনিই বলেছিলেন তার পদত্যাগের বিষয়টি অস্তিত্বহীন। অর্থাৎ পদত্যাগের পর থেকেই তার পদত্যাগ কার্যকর জেনেও নিজেকে মন্ত্রী হিসেবে নিজেই পরিচয় দিয়েছেন। ৪৮ দিন সেই পরিচয়েই চলেছেন। আজ তার দায়িত্ববোধ উথলে উঠেছে। তাই আমেরিকা থেকে ফোন করে এই সকল লম্বা লম্বা কথা বলতে কোন ধরনের লজ্জাবোধ করেন না!!

পরম শ্রদ্ধেয় তাজউদ্দিন আহমেদ-এর সুযোগ্য(!!) পুত্রের লজ্জাবোধ থাকতে না পরে, বা সংবিধান লংঘনকে অধিকার মনে করতে পারেন। কিন্তু আমরা লজ্জিত হই। আরো বেশী লজ্জিত হই যখন নিজ মিথ্যাচার আর সংবিধান লংঘনকে প্রতিষ্ঠিত করবার জন্য এই সুযোগ্য (!!) পুত্র তার পিতার নামটি অকপটে ব্যবহার করেন।

৪. সংবিধান অনুসারে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের সঙ্গে সঙ্গে তা কার্যকর হয়ে যায়। পদত্যাগপত্র প্রত্যাখানের কোন সুযোগ নেই। সংবিধানের ৫৮(১) এর (ক) উপধারায বলা আছে ”প্রধানমন্ত্রী ব্যতীত অন্য কোন মন্ত্রীর পদ শূন্য হইবে, যদি তিনি রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করিবার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নিকট পদত্যাগপত্র প্রদান করেন। (প্রথম আলো)

৪. প্রধানমন্ত্রীর সংস্থাপন বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, সোহেল তাজের একটা রাজনৈতিক ভবিষ্যত আছে। হুট করে কোন সিদ্ধান্ত নিলে তাঁর সমস্যা হতে পারে ভেবে প্রধানমন্ত্রী ছুটি দেন। এখন এ বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচরে নেবেন বলে জানান তিনি। (প্রথম আলো)

হরবোলার বোলঃ
প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগ পত্র জমা দেয়ার পরেও তিনি তা গোপন রেখেছেন। পদত্যাগপত্রটি কার্যকর করেন নাই। তার উপদেষ্টার মতে সোহেল তাজের একটি রাজনৈতিক ভবিষ্যত আছে। অর্থাৎ দেশের সংবিধানের চাইতে নিজ দলের এক ব্যক্তির রাজনৈতিক ভবিষ্যত অত্যন্তগুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ নিজ দলের একজন ব্যক্তির রাজনৈতিক ভবিষ্যত রার জন্য প্রধানমন্ত্রী অবলিলায় সংবিধান লংঘন করেছেন। অথচ সংবিধান রা এবং সমুন্নত রাখার শপথ তিনি নিয়েছেন। এই লজ্জা কোথায় রাখি। প্রধানমন্ত্রী কি ভুলে গেছেন যে তার জনকের নাম শেখ মুজিবর রহমান। দেশের মানুষ যাকে ভালোবেসে ডাকেন 'বঙ্গবন্ধু' শ্রদ্ধার সাথে উচ্চারন করেন 'জাতির পিতা'।

প্রধানমন্ত্রীর সংস্থাপন বিষয়ক উপদেষ্টার নির্লজ্জতা প্রসঙ্গে কিছু বলবার নেই। তবে তার কথা বলার ধরন দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, উনার মত উপদেস্টা যার আছে তার কুমন্ত্রণা দেয়ার মত লোকের প্রয়োজন নাই।

৫. ২জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সাহারা খাতুন মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তাঁকে (সোহলে তাজ) ১৫ দিনের ছুটি দেয়া হয়েছে। তার পদত্যাগ সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না। (প্রথম আলো)

হরবোলার বোলঃ
সোহেল তাজ স্বারাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। আর সাহার খাতুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী। তাই নিশ্চিত ভাবেই বলা যায় যে, পদত্যাগ পত্রের একটি অনুলিপি সাহারা খাতুনের পেয়েছেন। তিনিও অবলিলায় মিথ্যা বলেছেন এবং সংবিধান লংঘন করেছেন।

আমরা এই সকল মিথ্যুকদের ভোট দিয়েছিলাম। আসুন আয়নার সামনে দাড়িয়ে নিজেদের প্রতি 'ছিঃ' শব্দটি উচ্চারন করি। নিজেদের প্রতি নিক্ষেপ করি নিজেদের থুঃথুঃ।
১২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×