somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি অপরাধী কিন্তু ক্ষমা চাইবো কার কাছে!!

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আসিফ। বয়স ৯ অথবা ১০ বৎসর। আমার নতুন অফিসের নতুন লোক। সুন্দর করে কথা বলে। তার জন্য আজ নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছে। কিন্তু ক্ষমা চাইবো কার কাছে!!

আমি একজনকে বলেছিলাম ১৫-১৬ বৎসর বয়েসী একটি ছেলে প্রয়োজন। যে অফিসে সকাল ৯:৩০ থেকে বিকাল ৩:০০টা পর্যন্ত কাজ করবে। তার কাজ হবে দোকান থেকে ফটোকপি করিয়ে আনা এবং গুরুত্বপূর্ণ চিঠিপত্র পৌছে দেয়া। ৩:০০টার পর কোন ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টারে কাজ শিখবে। যাতে একটি সম্মানজনক পেশায় নিয়োজিত হতে পারে। তার নির্দিস্ট বেতন থাকবে। এছাড়া সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার এবং টেনিং সেন্টারের ব্যয় আমিই বহন করবো।

ঐ লোক কোরবানী ঈদের সপ্তাহখানেক আগে আমার কাছে আসিফকে নিয়ে এলেন। অল্প বয়েসী ছেলে। তাকে দিয়ে কাজ হবেনা। কিন্তু ছেলেটার বৃত্তান্ত শুনে তাকে আর না করতে পারিনি। বয়স'তো আর কম হলোনা কিন্তু এখনো খুব সহজে 'না' বলতে শিখি নাই। ঐ লোককে বললাম ও আপাতত থাকুক। আপনি একজন কাজের লোক ঠিক করে দিন।

আসিফ আরো ছোট থাকতেই তার মা মারা গেছে। বাবা আবার বিয়ে করেছেন। বিয়ের পর আসিফকে তার নতুন মা (সৎ মা শ্বদটি আমার কাছে আপত্তিকর মনে হয়। তাই ব্যবহার করলাম না।) এক লোকের কাছে বিদেশ নিয়ে যাবার জন্য বিক্রি করে দিয়েছিলেন। এই বিক্রির বিষয়ে তার বাবারও সম্মতি ছিলো। তার চাচা এবং চাচী জানতে পেরে তাকে ২০,০০০/-(বিশ হাজার) টাকা জরিমানা দিয়ে আসিফকে ছাড়িয়ে আনে।

নিম্নবিত্ত চাচা এবং চাচীর মানবিকতায় সে চাচা-চাচীর কাছেই থাকে। চাচাকে বাবা এবং চাচীকে মা বলে ডাকে। তার চাইতে ৪ বৎসরের বড় চাচাতো ভাই আরিফকে আপন ভাই বলেই জানে। দুই ভাই এখন কাজ করে পাশাপাশি অফিসে। বাবা কঠিন রোগভোগের পর এখন সম্পূর্ণ প্যারালাইজড। তার চা আর পানসিগারেটের দোকানটা চালান আরিফ-আসিফের মা। আর এই দুই ভাই স্বচ্ছলতার জন্য এই কঁচি বয়সেই কাজ করে ।

আসিফ আজ অফিসে এসে শুধুই ঘুমাচ্ছিলো। নতুন অফিসে এমনিই কাজের চাঁপ কম। তাছাড়া ওর বিশেষ কোন কাজ নেই। ওর গায়ে হাত দিয়ে শিউরে উঠলাম। গা জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে। জিজ্ঞেস করতে জানালো আগের রাত থেকে জ্বর। কোন ওষুধ খায় নাই। এই শীতের সকালে নাস্তা খেয়েছে পানিভাত। তারপর পৌনে একঘন্টা হেটে পৌচেছে অফিসে। কারন ডিউটিতে না এলে যদি চাকুরীটা চলে যায়!!

আমি তাড়াতাড়ি ওকে নিয়ে বাড়ি ফিরলাম। বাড়ি ফিরবার আগে পাড়ার এক ডাক্তারের সাথে আলাপ করে ওষুধ নিলাম। তারপর আমার মা'র কাছে ওকে বুঝিয়ে দিয়ে আবার অফিসে গিয়েছি। পাশের অফিস, যেখানে আসিফের ভাই আরিফ কাজ করে সেখানে গিয়ে আরিফকে কিছুটা বকাঝকা করলাম। কারণ বাচ্চাদের নিয়ে এই ধরনের কান্ডকারখানা দেখলে নিরীহ আমারও মাথায় রক্ত চড়ে যায়। প্রচন্ড ক্রোধ জন্ম নেয়।

ঐ অফিসের স্বত্বাধিকারী একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানীর মালিক। তিনি আমাকে অনুরোধ করলেন চা খাবার জন্য। ভদ্রতার খাতিরে না করতে পারলাম না। তিনি একথা সেকথার পর বললেন, 'ভাই, আপনিতো এই বদমায়েশগুলোর সাহস বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এদের অভ্যাস খারাপ করে দিচ্ছেন। এরা আদর পেলে মাথায় উঠে।' আমি জানতে চাইলাম আমি আদর করলাম কোথায়!! তিনি যা জানালেন তা অনেকটা এরকম যে, আমি ঈদে আসিফকে কাপড় দিয়েছি, সালামী দিয়েছি (এবার ঈদে আমার মন বেশ খারাপ অর্থ সংকটের কারণে। বিস্তারতি লিংকে দেখুন Click This Link) তাই তাকেও আরিফকে সালামী দিতে হয়েছে। আমি আসিফকে একটি নাইট স্কুলে আসবার পরদিনই ভর্তি করে দিয়েছি এখন আরিফ পড়ালেখা শিখতে চাইছে। সর্বশেষ আসিফকে আমি ডাক্তারের কাছে নিয়ে গিয়েছি এখন তাকেও এই কাজ করতে হতে পারে। আমি তাকে কিছুই বলিনি। কারন এই যার ভাবনা তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ। আর মানসিকভাবে অসুস্থ মানুষের সাথে কোন সু্স্থ বিষয়ে আলোচনা চলতে পারেনা।

ঘন্টা দুয়েক আগে বাড়ি ফিরে দেখলাম ড্রইং রুমের সোফায় আসিফ আরাম করে ঘুমাচ্ছে। জ্বর ছেড়ে গেছে। আমি তাকে ঘুম থেকে জাগালাম। মা তাকে নিজ হাতে নাস্তা করিয়ে দিলো যেমন নিজের নাতী-নাতনীদের দেন। তারপর আমাকে বললেন যেন অবশ্যই একটা পাউরুটি আর মিল্কভিটা বা মার্কস গুড়ো দুধ কিনে দেই ওকে। জ্বর নিয়ে রাতে ভাত খাওয়া ঠিক হবেনা। আমি তাকে নিজে তার বাড়িতে পৌছে দিয়ে এসেছি পাউরুটি এবং দুধ সমেত। তার চাচী আর ভাইকে বলে এসেছি সকালে এসে আমি ওকে নিয়ে যাবো। যখন ফিরার সময় বললাম, "কিছু বলবে বাবা!!" সে কিছূই বলেনি। তার চোখদুটো ছলছল করছিলো। আর ক্রমশ সে সংকোচিত হয়ে যাচ্ছিল।

আমি আসিফ আর আরিফের মত বদমায়েশের (!!) সাহস বাড়িয়ে দিচ্ছি!! বদমায়েশগুলোর অভ্যাস খারাপ করে দিচ্ছি!! তাদের আদর দিয়ে মাথায় উঠবার জন্য প্ররোচিত করছি। এটা অবশ্যই অপরাধ। কিন্তু ক্ষমা চাইবো কার কাছে!!




সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৩২
২৯টি মন্তব্য ২৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×