somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কর্পোরেটদের অবাধ অধিকার, অলিখিত কপিরাইট আর কতিপয় আত্নমগ্ন তৃপ্ত শামুক ও বেলাজ ভাম

২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মন ভালো নেই। মন ভালো নেই পত্রিকার পাতায়, টিভি চ্যানেলে আর বিজ্ঞাপনে। কোথায় চলেছি আমরা!! কিছুই করতে পারিনা। শুধু বলতে পারি। যেমন জ্বরে আক্রান্ত প্রিয়তম সন্তানের গরম কপালে হাত রাখতে পারি, তার কষ্টটুকু অনুভব করবার চেস্টা করতে পারি। এর বেশী আর কি করতে পারি। সবকিছু দেখে দেখে শুধু বলতেই পারি। জানি তাতে কারো কিছু যায় আসেনা। তবু বলার অভ্যাস ছাড়তে পারছি না।

কর্পোরেটরা আমাদের কাছে থাকার মূলমন্ত্র শিখাচ্ছে। কাছে থাকা মানে গ্রামীণ ফোনে কথা বলা। ড. ইউনুস বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। নোবেল প্রাইজ অর্জনের পর তার নিজের ব্রান্ডিং পোক্ত হয়েছে। তিনি সামাজিক ব্যবসার কথা বলেন। কিন্তু কর্পোরেট অগ্রাসনের বিরুদ্ধে কিছু বলেন না। কর্পোরেটদের সবকিছুকে ব্যবসায়িক পণ্যে পরিণত করার অপ কৌশলের বিরুদ্ধে তিনি কৌশলগত কারনেই নীরব। বাণিজ্যই শেষ কথা। বাকি সব তকমা আঁটা ভন্ড নৈতিকতা। কর্পোরেট প্রথম আলো আর গ্রামীন ফোন মিলে উদ্ভাবন করে দুনিয়া কাঁপানো ত্রিশ মিনিট। উপস্থাপক আসাদুজ্জামান নূর জানালেন এই ত্রিশ মিনিটেই বাঙালীর জন্ম। বাঙালীর জন্ম সম্পর্কে অতি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার এই ত্রিশ মিনিট তত্ব। মহান ভাষা আন্দোলনের দীর্ঘ ধারাবাহিকতা আর বাঙালীর হাজার বছরের ইতিহাসকে ত্রিশ মিনিটের কর্পোরেট ব্রাকেটে বন্ধী করা হলো সাড়ম্বরে । ভবিষ্যতে দেখা যাবে স্বাধীনতার ইতিহাস ৭মার্চের ভাষণ আর বিজয় দিবসকে নিয়াজীর আত্নসমর্পনের দলিলের স্বাক্ষরদানের কয়েকঘন্টার ব্রাকেটে বন্ধী করা হবে। সবকিছুতে কর্পোরেটদের অবাধ অধিকার, অলিখিত কপিরাইট।

মহান একুশে, স্বাধীনতা দিবস আর বিজয় দিবস চ্যানেল আইয়ের কল্যাণে কেকা ফেরদৌসীর রান্নার রেসিপি প্রর্দশনের উপলক্ষ্যে পরিণত হয়েছে। রান্নার রেসিপির মাধ্যমে এই মহত অর্জনগুলোর প্রতি কি প্রকাশ করা হয় তা চ্যানেল আই কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবেন। যে মা তার সন্তানকে হারিয়েছেন তিনি বসে বসে দেখবেন দেশবিদেশের রান্না। তিনি দেখবেন এটিএন-এ ইভা রহমানের নিজেকে ব্রান্ডিং করার সংগীতানুষ্ঠান। তরুনরা এই দিবসগুলিতে ছুটি কাটাবে আর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শুনবে গালভরা বক্তৃতা আর সংগীতের নামে বাদ্যযন্ত্রের উৎপাত। গত কয়েক বছরে ঢাকা শহরে বিজয় দিবস উদযাপন মানে জোরে জোরে হিন্দী গান বাজানোর পরব।

নতুন প্রজন্মকে কর্পোরেট বাস্তবতা শিখাতে হবে। তাদের ভিতরে এই চেতনা জাগানো যাবেনা যে, এই দেশের আশিভাগ মানুষ দারিদ্রসীমার নীচে বাস করে। তারা নিত্যদিন খেতে পায়না। তারা বৃষ্টিতে ভিঁজে, শীতে কাঁপে। তাদের জন্য মৌসুমী সাহায্য নয় দরকার দীর্ঘমেয়দী পরিকল্পনার বাস্তবায়ন। নতুন প্রজন্মকে বলতে হবে ত্বক ফর্সা করা ক্রীম মাখো। যদি তা না মাখ তবে সাফল্য সূদর পরাহত। আফটার শেভ লোশন না মাখলে নারীরা আকৃষ্ট হবেনা। বডি স্প্রে মাখলে তোমার প্রেমিকা লেপ্টে থাকবে তোমার দেহের সাথে। সাফল্যের জন্য খাও বোতলাজাত পুষ্টিকর খাবার। রাত জেগে যদি মোবাইল ফোনে কথাই না বলো তবে কি প্রেম করো বলো!! বালিকা, তোমার ত্বকের রং কালো, তুমি বেঁচে আছো কি ভাবে!! সুন্দরী এবং স্মার্ট হতে হলে ত্বক সাদা হতে হবে। চুলে মাখতে হবে শ্যাম্পু। তোমার ঋতুকালীন সময়ে যদি কর্পোরেটদের প্যাড না পড়ো তবে ঘোর বিপদ। তোমার আর্থিক সংগতি কম। সমস্যা নেই তোমার জন্য আছে মিনি প্যাক। এই সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ দিয়ে তুমি কেন কর্মসংস্থান, শিক্ষাব্যবস্থা, খাদ্য, বস্ত্র আর বাসস্থান নিয়ে ভাববে। যাদের এসব নেই তাদের নিয়ে কর্পোরেটরা ভাবেনা, তোমাদেরও ভাবতে হবেনা। এইসব বিষয়ে ভাবা নেতাদের আর বিদেশী দাতাদের কাজ।

হে তরুন, হে নতুন প্রজন্ম তোমদের নিজেদের ইতিহাস সম্পর্কে জানার দরকার নেই, নিজেদের সফলভাবে গড়ে তোলার দরকার নেই। তোমরা ক্রীম মেখে ফর্সা হও, এনার্জী ড্রিংক খেয়ে শক্তিশালী হও। তোমরা মোবাইল ফোনে কাছে থাকো আর ক্যাম্পফায়ারে শোনো বাংলা লিংকের জাগরনের গান। বডি স্প্রে মেখে জড়িয়ে রাখো শরীরে শরীর। তোমরা গড়ে ওঠো ভোক্তা হিসেবে। কর্পোরেটরা তাদের পন্য কিনবার জন্য বিভিন্ন কৌশলে তোমাদের প্রস্তুত করছে। তোমরা প্রস্তুত হও। এক্ষেত্রে কেউ তোমদের উপহাস করবে না, পথ দেখাবে না। তোমাদের অজান্তে তোমদের এই মগজ ধোলাইয়ের বিরুদ্ধে সুশীল সমাজ আর বিজ্ঞ বুদ্ধিজীবিরা, প্রচার মাধ্যম আর নৈতিকতা বিক্রির ফেরিওয়ালারা, সালাহউদ্দীন কাদের চৌধুরী আর শাহারিয়ার কবিররা কোন আপত্তি করবেননা। কর্পোরেটদের কর্মকান্ডে তারা তৃপ্ত শামুকের মত মুখ লুকিয়ে রাখবেন। কারণ কখন কোন ফায়দা লোটা যায় কে জানে!!

আমার আড়াই বছর বয়সী সন্তান মুমিত ঘুমাচ্ছে। ওর গায়ে জ্বর । ওর দিকে তাকিয়ে ভাবছি ভবিষ্যত। আমার চৌত্রিশ বছর বয়সী চোখ দিয়ে চারদিকে দেখি নিজের ভিতর মুখ গুটিয়ে রাখা কতিপয় বুদ্ধিমান তৃপ্ত শামুক আর সুশীল নামের কতিপয় বেলাজ ভাম। বাবা তোর নিষ্পাপ চোখে কি দেখিস তুই, কর্পোরেটরা তোকেও পুতুল বানাবে। দিনে দিনে তুইও মানুষ থেকে ভোক্তা হয়ে উঠবি। কারন কর্পোরেটদের প্রয়োজন ভোক্তা, মানুষ নয়।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:০২
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×