প্রশ্ন হলো কি ভাবে সম্ভব!!!!
প্রথমত: প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্যদের ভাষ্যমতে ১ ঘন্টা ডে=লাইট সেভিংস (অর্থাৎ এগারোটা বাজার সময় দেশের বারোটা বাজিয়ে ফেলার পদ্ধতি যা বর্তমানে রদ করা হয়েছে)-এর মাধ্যমে ২৫০ থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত সাশ্রয় করা সম্ভব।
সুতরাং ১০ টার সময় যদি ১২টা বাজানোর অর্থাৎ ২ ঘন্টা ডে লাইট সেভিংসের সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয় তবে যৌক্তিকভাবেই ৫০০ থেকে ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত সাশ্রয় করা সম্ভব।
দ্বিতীয়ত: সম্প্রতি বিইআরসি এসি/শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র পিক আওয়ারে বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করেছে। এছাড়া ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে এসি চালাতে না করেছে। এই নির্দেশ লংঘন করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে সাবধান করে দেয়া হয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত বিইআরসি'র চেয়ারম্যান এবং অন্যান্য দায়িত্বশীলদের ভাষ্য অনুযায়ী এসি/শীতাতপ যন্ত্র ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপের ফলে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত সাশ্রয় হবে।
এবার একটি সহজ অংক করি।
প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি এক সভায় বলেছেন দেশে বর্তমানে ১০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি রয়েছে।
আমরা জানি যে,
১ ঘন্টা ডে লাইট সেভিংসের মাধ্যমে বিদ্যুত সাশ্রয় ২৫০ থেকে ৩০০ মেগাওয়াট।
সুতরাং,
২ ঘন্টা ডে লাইট সেভিংসের মাধ্যমে বিদ্যুত সাশ্রয় হবে ৫০০ থেকে ৬০০ মেগাওয়াট।
আবার,
এসি/শীতাতপ যন্ত্র নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বিদ্যুত সাশ্রয় হবে ৩০০ মেগাওয়াট।
অর্থাৎ ২ঘন্টা ডে লাইট সেভিংস আর এসি/শীতাতপ যন্ত্র নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সাশ্রয়কৃত বিদ্যুতের পরিমাণ (৬০০+৩০০)=৯০০ মেগাওয়াট।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী বিদ্যুতের ঘাটতির পরিমান ১০০০ মেগাওয়াট। কিন্তু উপরোক্ত বিষয়গুলো সম্পাদন করা হলে বিদ্যুতের ঘাটতি দাড়াবে ১০০০-৯০০= ১০০ মেগাওয়াট মাত্র।
অতএব প্রমানীত যে,
সরকারের সদিচ্ছা থাকলে অতি দ্রুত বিদ্যুত সমস্যার সমাধান করা সম্ভব এবং লোডশেডিং-এর পরিমান ৯০ ভাগ হ্রাস করা সম্ভব।
যদি উপরোক্ত উপায়ে বিদ্যুত সমস্যার সমাধান এবং লোডশেডিং-এর মাত্রা না কমে তবে কিসের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী এবং তার নীতি নির্ধারকরা ডে লাইট সেভিংসের মাধ্যমে বিদ্যুত সাশ্রয়ের হিসাব দিয়েছিলেন!! কোন পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে এসি/শীতাতপ যন্ত্র নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বিদ্যুত সাশ্রয়ের হিসাব দিলেন!!
আমাদের অর্থাৎ জনগনের ট্যাক্সের টাকায় সরকার কেন এই সব ক্লাউনদের পোষে!!! জনগন রং তামাশা দেখার জন্য তার কষ্টার্জিত আয় থেকে ট্যাক্স দেয়না। জনগন ট্যাক্স দেয় নূন্যতম নাগরিক সেবা পাওয়ার জন্য। এটা তার অধিকার। কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্য, সার্কাসে টিকিট কেটে যাদের রং তামাশা দেখার কথা তাদের রং তামাশা বিনা টিকেটে আমরা দেখতে পাই।
কতজন কত কিছু পোষে। কেউ এক্যুরিয়ামে মাছ পোষে, কেউ বিড়াল পোষে। গরু -ছাগল পোষে। কুকুর পোষে। আর আমরা বোকা জনগন ট্যাক্স দেই। আমাদের ট্যাক্সের টাকায় সরকার ক্লাউন পোষে। আগে ছিলো এনালগ ক্লাউন। এখন সব ডিজিটাল ক্লাউন।
লোডশেডিং-এর বাম্পার উৎপাদন: রপ্তানীর উদ্যোগ প্রয়োজন
Click This Link
বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে আশুকরনীয় (করুণ রম্য)
Click This Link
বিদ্যুৎ সমস্যাঃ সরকার যে কারণে খুঁটি কিনিয়া থাকে
Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা এপ্রিল, ২০১০ ভোর ৫:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


