somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইভ টিজিং: শোক নয় চাই প্রতিরোধ, পুরুষ থেকে হয়ে উঠি পুরুষমানুষ

০৫ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ২:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইভ টিজিং। এক ভয়াবহ মানসিক ব্যধি। এই ব্যধিতে আক্রান্তদের কারনে কোন বালিকাই নিরাপদ নয়। যে বালিকা বা কিশোরীর মুখে লেগে থাকার কথা ছিলো অপাপবিদ্ধ হাসি। যার মুখরতায় মুখর হতো বাড়ি। যার চোখে ছিলো টলটলে অভিমানী অশ্রু আর স্বপ্নের দোলা। তার ঠোঁটের কোন বেয়ে গড়ায় বিষের ফেনা। তার মুখরতা জুড়ে অপার নীরবতা। চির নীরবতা। যাদের কারনে বালিকার নীরবতা। এই সুন্দও মমতাময় পৃথিবী থেকে বিদায়। হেমলক বিষপান। তারা থেকে যায় আগের মতই। কিছু দিন তোলপাড়। কিছু দিন গা ঢাকা। তারপর প্রত্যাবর্তন। নতুন শিকাড়ের খোঁজে পদচারনা।


ইভ টিজিং। এই ইভটিজিং-এর কারনে ঘটা কিছু কিছু করুন ঘটনা স্থান পায় সংবাদপত্রের পাতায়। আত্নহত্যা হলে প্রথম পাতায় আর উত্যক্ত হলে সংবাদটি স্থান পায় ভিতরের পাতায়। ছোট করে। এটাই অলিখিত রীতি। আত্নহত্যা হলে সরগরম মিডিয়া। তৎপর প্রশাসন। কিছু মানবন্ধন। সংবাদ সম্মেলন। তারপর ধীরে ধীরে নিশ্চুপ হয়ে যাওয়া। ভুলে যাওয়া। আমরা ভুলে যেতে ভালোবাসি খুব। ভুলে যাওয়া আমাদের প্রিয়তম অসুখ।


বাস্তবতা খুবই করুন। ইভটিজিং-এর বিস্তার ভয়াবহ। অধিকাংশ খবরই থেকে যায় খবরের কাগজের বাইরে। ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার বাইরে। প্রতিটি গার্লস স্কুল আর কলেজের আশেপাশে কারা ভীড় করে থাকে। দেখার কেউ নেই। কেন স্কুল আর কলেজ আরম্ভ হওয়ার আগে আর ছুটির পরে তাদের দাড়িয়ে থাকতে হয়। তারা অচেনা কেউ নয়। তারা আমাদের কারো ভাই, কারো সন্তান। তারা আমাদের মতই পুরুষ। পুরুষ মানুষ। সত্যিই কি তারা মানুষ!!


বাংলা চলচ্চিত্রে অনেক আগে থেকেই ইভটিজিং-এর ব্যবহার হয়ে আসছে। উদাহরনের জন্য চলচিত্রের 'চুমকী চলেছে একা পথে/সংগী হলে দোষ কি তাতে' (রিমিক্স কালচারে নতুন করে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে ) গানটিই যথেষ্ট। সংগী হলে কি দোষ তা ইভটিজাররা সেইদিনও বুঝে নাই, আজও বুঝে না। এছাড়া সম্প্রতি ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার নাটক আর বিজ্ঞাপনে ইভ-টিজিংকে উপভোগ্য করে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ধারাটি অব্যাহত আছে একটি কোমল পানীয়র বিজ্ঞাপনের বিশাল জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর থেকে। ঐ বিজ্ঞাপনের জিংগেলের প্রথম লাইনটি ছিলো 'তোমার জন্য মরতে পারি ও সুন্দরী'। সচেতনতার আর দায়িত্বশীলতার পরকাষ্ঠা মিডিয়াকে সচেতন হতে হবে। কিন্তু সচেতন করবে কে!! কর্পোরেট কালচারে নতজানু মানসিকতা। বাণিজ্যই শেষ কথা।


সকল পুরুষই মানুষ নয়। কেউ কেউ শুধুই পুরুষ। কারো কারো চোখে বিকার আর অন্তরে লালসা। আর লালসার শাব্দিক প্রয়োগে যাদের জিহ্বা সচল। তাদের কাছে কেউ নিরাপদ নয়। আমার বোন বা আমার মেয়ে নিরাপদ নয়। আপনার বোন বা মেয়েও নিরাপদ নয়। তাদের নিজের বোন ও মেয়েও নিরাপদ নয়। এদের পশুর সাথে তুলনা করে পশুদের হেয় করবার অধিকার আমার নেই, আমাদের নেই। আমি বারবার লজ্জিত হই। কারন তারা দেখতে পুরুষ মানুষের মত। আমাদের মত।


ইভটিজিং-এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার দায়িত্ব ইভটিজিং-এর মুখোমুখি হওয়া মেয়েটির পরিবার বা তার সহপাঠিদের নয়। ইভটিজিং-এর বিরুদ্ধে সচেতন হতে হবে ইভটিজিংকারী পরিবার সদস্যদের। সোচ্চার এবং সক্রিয় হতে হবে আমাদের। অর্থাৎ আমরা যারা নিজেদের পুরুষ মানুষ হিসেবে দাবী করি তাদের। আমাদের দুটি বিষয়ে সক্রিয় হওয়া এখনই প্রয়োজন, প্রথমত : ইভটিজিং -এর বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি করার ল্েয তৎপর হওয়া, দ্বিতীয়ত: ইভটিজিং-এর জন্য শুধু আত্নহত্যায় প্ররোচনা ও উত্যোক্ততার জন্য সাধারন আইন নয়, ইভ-টিজিং-এর জন্য নতুন আইন প্রণয়ন ও কার্যকর করার বিষয়ে সোচ্চার হওয়া, তৃতীয়ত: অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিতের বিষয়ে সরব থাকা।


উপরোক্ত বিষয়ে আপনাদের বিশেষত যারা আমার মত পুরুষমানুষ তাদের মতামত আশা করছি।

১৪টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×