somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... এলিজি নয়, অক্ষমতার বাক্য বিন্যাস মাত্র...

১.
কোন ক্ষোভ, রাগ, বিদ্বেষ, আক্রোশ, মোহ, ভালবাসা, স্বার্থ অথবা যুক্তিহীন আবেগ থেকে এই লেখা নয়। এই লেখাটি বাংলাদেশের বর্তমান সময়ের একজন অতি সাধারন মানুষের চরম অক্ষমতা আর গাঢ় র্নিলিপ্ততার স্থির চিত্রের শব্দরুপ। এই স্থির চিত্রে আমি, আপনি, সে অর্থাৎ আমাদের মত বর্তমান সময়ের সকল সাধারন মানুষ বন্দী।

২.
গতকাল সকালে সময় টেলিভিশনে খবর দেখছিলাম। ব্রেকিং নিউজ টেলপে দেখতে পেলাম সাগর আর রুনির খুন হওয়ার সংবাদ। চ্যানেল বদল করে এটিএন বাংলায় গেলাম। সেখানে তখনও নাটক চলছে। শুধুমাত্র নিউজ টেলপে দেখলাম পরিকল্পিত খুনের সংবাদটি। মাছরাঙা টেলিভিশনেও একই অবস্থা। যে দুই চ্যানেলের জন্য নিবেদিত ছিলেন রুনি আর সাগর সেই দুই চ্যানেলকে শোক প্রকাশ করবার জন্য লেগে গেছে অনেকটা সময়। রাতের খবরে তাদের কফিনে ফুল দিবার সময় নিবেদিত স্ত্রী প্রেমিক এক চ্যানেলের মালিককে ছবি তোলার জন্য পোজ দিতে দেখা গেল।


৩.
রাতের সংবাদে দেখলাম মেঘকে। আমার সন্তানের সমবয়সী। সে তার বাবা-মার কবরে মাটি দিচ্ছে। এই দৃশ্য সহ্য করবার মত নয়। এই দৃশ্য দেখে সারারাত ঘুমহীন কেটেছে। মেঘ এখনও বুঝতে পারছেনা সে কি হারিয়েছে। দিনে দিনে সে বাবা-মার অভাব অনুভব করবে। আমরা যে যার মত তার কথা ভুলে যাব। আমরা নিজেদের সন্তানকে নিয়ে (যদি মৃত্যুবরণ না করি। কারণ অস্বাভাবিক মৃত্যুই এখন স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি) মগ্ন হব। আনন্দিত হব। মেঘ নিসঙ্গ থেকে নিসঙ্গতর হবে। তাতে আমাদের কি!


৪.
এই অস্বাভাবিক মৃত্যু কি খুব বেশী অস্বাভাবিক! গতকাল বারবার নিজেকে এই প্রশ্ন করেছি। কিন্তু উত্তরে যে বিষয়গুলি সামনে এসেছে তাতে আতংক আরও বেড়ে গেছে। যেমন : -

ক) আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে অপহরণ করে হত্যা ও গুম নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হল। দেশী মিডিয়ার গন্ডি পেরিয়ে বিশ্ব মিডিয়ায় স্থান করে নিল। তখন কোন এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানালেন তিনি বিষয়টি পত্রিকা পড়ে জেনেছেন। অথচ বিষয়টি পত্রিকার মাধ্যমে শুধু নয়, গোয়েন্দা সংস্থা এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমেই তার জ্ঞাত হবার কথা ছিল। প্রায় প্রতিটি সময়ে দেখা যায়, তিনি বলেন বিষয়টি সর্ম্পকে জানেন না। তাহলে তিনি জানেন কি! গতকালও প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেবার পরে তিনি ৪৮ ঘন্টার মধ্যে অপরাধীদের ধরবার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে ধরবার জন্য যদি প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক নহিসত প্রাপ্ত হয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিতে হয় তবে আমরা আমজনতা কতটা নিরাপদ এটা ভাবলেই মেরুদণ্ড বেয়ে শীতল স্রোত নেমে যায়।

খ) মুনীর মিশুক এবং তারেক মাসুদের মৃত্যুর পরে ড্রাইভিং লাইসেন্স বাণিজ্য নিয়ে পত্রিকাগুলি সরব হয়। এই অবৈধ লাইসেন্সগুলির জন্য সুপারিশকারী নৌপরিবহন মন্ত্রী। তিনি প্রকাশ্যে অবৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেন। তার সহযোগী হলেন তৎকালীন যোগাযোগ মন্ত্রী জনাব আবুল হোসেন। একটা সময় মিডিয়ার চাপে নাগরিকরা নাটক দেখার সুযোগ পেলেন। মনি কাঞ্চন যোগের মত আবুল আর ইলিয়াস কাঞ্চন যোগ দেখা গেল।

গ) স¤প্রতি এল জি আর ডি মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মিডিয়ার সামনে জানান দিলেন সীমান্তে বি এস এফের হত্যাকান্ড অতীতে চলেছে, বর্তমানে চলছে এবং ভবিষ্যতেও চলবে। জাতীয় সংসদের মত পবিত্র(!!) জায়গায় বললেন এ্যাকসিডেন্ট ইজ এ্যাকসিডেন্ট।

ঘ) চিহ্নিত অপরাধীদের মামলাগুলিকে রাজনৈতিক হয়রানীমূলক মামলা হিসেবে বিবেচনা করে কতগুলি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে তা মিডিয়া সংশ্লিষ্ট অনেকেই অবগত আছেন। এখানেও নেতৃত্বে ছিলেন মন্ত্রী পরিষদের কয়েকজন মাননীয় সদস্য।

ঙ) যে সকল কলেজে ছাত্র রাজনীতি আছে সেখানে ছাত্রলীগ এক আতংকের নাম। অথচ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগকে সামলানো ও শুধরানোর পরিবর্তে তাদের কার্যক্রমকে হালাল করবার জন্য ছাত্রলীগে বহিরাগতদের প্রবেশ আর শিবিরের ষড়যন্ত্র তত্ব উপস্থাপন করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।

চ) বিচারে প্রমানিত হত্যা মামলার আসামীকে মহামান্য রাস্ট্রপতি সাধারন ক্ষমা উপহার দিতে লজ্জিত বা কুণ্ঠিত হননা। অপরাধ অপেক্ষা সংসদীয় পদ্ধতির রাস্ট্রপতির কাছেও দলীয় পরিচয় প্রধানতম বিষয়।


৫.
মেঘ, মেহেরুন রুনি আর সাগর আমার কেউ নয়। তারা বেঁচে থাকলো কি মরে গেল, মেঘের শূন্যতা পূরন হবে কি হবেনা তাতে আমার কিছুই যায় আসেনা। অথচ কাল সকাল থেকে আজ দুপুর পর্যন্ত মেঘ, সাগর আর রুনির মুখগুলি বারবার চোখের সামনে ভেসে উঠেছে। তাদের মুখগুলির পাশাপাশি ভেসে উঠছে কিছু অশ্লীল মুখ। আর সেই অশ্লীল মুখগুলি ক্রমশ পরিণত হচ্ছে শুকরের মুখে। আমি আর দশজনের মতঅক্ষম, সাগর বা মেহেরুন রুনিদের বাঁচাতে পারিনা, তাদের মৃত্যুতে বিদ্রোহ ও বিক্ষোভে ফেটে পড়তে পারিনা। আমি আর দশজনের মতই এতটা অক্ষম যে, অশ্লীল মুখগুলিকে শুকুরের মুখে পরিণত হওয়া থেকেও বিরত রাখতে পারিনা।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29539591 http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29539591 2012-02-12 14:12:05
বান্দারবানের দুর্ঘটনা, নান্দনিক বাঁকে বাঁকে মৃত্যুর ভয়াল ফাঁদ

১.
বর্তমান সময়ে সড়ক দুর্ঘটনা নিত্যদিনের স্বাভাবিক বিষয়। প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় খরচ হয়ে যায় খুচরো মানুষ। দুর্ঘটনায় প্রানহানীর সংখ্যা বেশী হলে অথবা গুরুত্বপূর্ণ কেউ মৃত্যু বরণ করলে পত্রিকার প্রথম পাতার জৌলুস বারে, লাল হেডিং-এর সংবাদ হয়। অডিও ভিজুয়াল মিডিয়ার সংবাদে কয়েক সেকেন্ডের ফুটেজ হয়। যে পরিবারের সদস্যটি দুর্ঘটনার শিকাড় হন, তাদের কাছে এই ফুটেজ, এই সংবাদ সবই অর্থহীন। সড়ক দুর্ঘটনা এখন সকালের নাস্তা খাবার মত, দুপুরের বিষন্নতার মত স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে গেছে।

২.
গতকাল সকালে ফোন পেলাম। শুনলাম ভয়ানক দুর্ঘটনার কথা। বাংলাদেশের অন্যতম পশ্চাদপদ উপজেলা থানচি থেকে বান্দারবান সদরে আসার পথে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। বান্দারবান জেলা পরিষদের সদস্য অং প্রু জানালেন দুর্ঘটনাস্থলেই সতেরো জন মৃত্যুবরণ করেছেন। হাসপাতালে নিয়ে যাবার সময় মারা গেছেন আরো চার জন। গুরুতর আহত হয়েছেন সাত থেকে আটজন। গুরুতর আহত না বলে মৃত্যুর সাথে লড়ছেন বলা ভাল। দুর্ঘটনার কারন বাসের স্টিয়ারিং ফ্রি/ অকার্যকর হয়ে যাওয়া। দুর্ঘটনার জন্য বাস চালক দায়ী কারণ তিনি পরীক্ষা করা ছাড়াই বাস নিয়ে বের হয়েছেন আর দায়ী বিপজ্জনক সড়ক।

৩.
বান্দারবান দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। দিনে দিনে বান্দারবানের প্রতি পর্যটকদের আকর্ষন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু বান্দারবান বা পার্বত্যজেলাগুলির উন্নয়নের প্রতি স্পষ্ট অবহেলা বিদ্যমান। একথা সত্য যে, গত কয়েক বছরে বান্দারবানে নতুন নতুন সড়ক হয়েছে। বান্দারবানের সরল আদিবাসীগোষ্ঠী আর শান্তিপ্রিয় বাঙালীরা সড়ক পেয়েই আনন্দিত। সড়কের বাকগুলিতে কোন চিহ্ন বা নির্দেশিকা নেই। বাঁকের শেষ মাথা পর্যন্ত না পৌঁছালে বোঝা যায়না বাক পেরিয়ে রাস্তাটি কোন দিকে মোড় নিয়েছে। সড়কটি কতটা নিরাপদ সে প্রশ্ন অবান্তর। কারণ নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভাল। বান্দারবানের এই কানা মামা সড়কের নান্দনিক বাঁকে বাঁকে মৃত্যু ওত পেতে থাকে।

৪.
বান্দারবান থেকে থানচি পর্যন্ত যাবার সড়কটি অধিকাংশ স্থানেই সরু। কিছুদুর পরে পরেই রয়েছে অতি বিপজ্জনক বাঁক। সড়কের কোন কোন স্থানে দুটি গাড়ি একসাথে ক্রস করতে পারেনা। এমন সড়কেও চলে জোড়ে গাড়ি চালানোর প্রতিযোগিতা এবং বিপজ্জনক ওভারটেকিং। ওভারটেকিং-এর ক্ষেত্রে ভাড়া করা জীপ এবং চান্দের গাড়ির চালকদের অপার উদ্দীপনা। এই উদ্দীপনার ছোবলে প্রাণ হারায় নিরীহ যাত্রীরা। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সাথে পার্বত্য অঞ্চলের একটা জায়গায় ভীষণ মিল রয়েছে। সেই মিলটা হল পার্বত্য অঞ্চলগুলিতেও গাড়ি চালক ও পরিবহন ব্যবসায়ীদের কাছে সাধারণ যাত্রীরা জিম্মি। প্রতিদিন মৃত্যুকে সাথে নিয়ে চলাফেরা করেন সাধারন যাত্রীরা।

৫.
দুধ দেয় গরুর লাথিও ভাল। আভ্যন্তরীন পর্যটন ক্ষেত্রে বান্দারবান এক দুধ দেয়া গরু। কিন্তু তার লাথ দেয়ার ক্ষমতা নেই। সরল আদিবাসী আর বাঙালীরা জীবন যাপনের কঠিন বৃত্তে আবদ্ধ। সামান্য সড়ক হয়েছে এতেই তারা খুশী। নিরাপদ সড়কের জন্য আন্দোলন করার সময় তাদের নেই। পরিবহন ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি হওয়া সম্পর্কেও তাদের কোন অভিযোগ নেই। সড়কে বাস চলছে এটাই বা কম কিসে। অতি সামান্য প্রাপ্তী আর উন্নয়নে এই জটিলতাহীন মানুষগুলি কৃতজ্ঞতায় আপ্লুত হয়।

৬.
সংশ্লিষ্ট সরকারী বিভাগ এবং বিশেষত জেলা পরিষদের কাছে সবিনয় নিবেদন করছি, বান্দারবানের সড়কগুলি নিরাপদ করার ব্যবস্থা নিন। আপনাদের আন্তরিক উদ্যোগে আর সদিচ্ছাতেই সড়কগুলি নিরাপদ হতে পারে। বান্দারবানের আভ্যন্তরীন পরিবহনের সাথে জড়িতদের প্রশিক্ষন দিন। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিন। সড়কের বিপজ্জনক বাঁকগুলি এবং প্রয়োজনীয় স্থানে নির্দেশিকা চিহ্ন দিন। আপনাদের চেষ্টায় বান্দারবানে গত কয়েক বছরে অনেক সড়ক তৈরী হয়েছে। কিন্তু এই সড়কগুলিকে নিরাপদ রাখার বিষয়টিও আপনাদেরই নিশ্চিত করতে হবে। সড়ক যদি বিপজ্জনক হয় তবে সেই সড়কের প্রয়োজন কি!

৭.
বান্দারবানের সাম্প্রতিক সড়ক দুর্ঘটনায় যারা চলে গেছেন তারা ফিরে আসবেন না। তাদের শূণ্যতায় পরিবারগুলি প্রতি মূহুর্তে বিদ্ধ হবে। এই মর্মান্তিক দূর্ঘটনায় হতাহতদের প্রতি শোক প্রকাশ করবার ভাষা আমার জানা নেই। শোকের ভাষা জানবার প্রয়োজনও নেই। সাত জন মৃত্যুবরন করুন আর সাতাশজন করুন তাতে আমাদের কি! আমরা ফিরে যাব পত্রিকার অন্য সংবাদে। আমরা নিমগ্ন হব সংবাদ শেষে অন্য অনুষ্ঠানে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29523032 http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29523032 2012-01-15 23:07:33
তিন দেবশিশুর মৃত্যু ও বিরামহীন সাইকোপ্যাথিক যাত্রা

১.
প্রচন্ড অসহ্যকর অবস্থার দুই দিন যাবত সময় কাটাচ্ছি। গতকাল সকাল থেকে কিছু খেতে পারছিনা। শুধু চা আর পানি খাচ্ছি। খাবার খেতে নিলেই তিনটা শিশুর মুখ চোখের সামনে ভেসে উঠছে। বারবার ভেসে উঠছে। নিষ্পাপ, করুণ, অসহায় আর যন্ত্রণাকাতর তিনটা দেবশিশুর মুখ।

২.
বিজয়ের বয়স মাত্র আট বছর। শৈশবের উজ্জল সময়ে মুখর হবার কথা তার। কিন্তু বাস্তবতা অনুযায়ী বাস্তব সবসময় চলেনা। যে সময়ে বাবা-মার সাথে তার অভিমান করবার কথা সেই সময়টাতে সে দেখেছে বাবা-মার কলহ। সরল রেখার মত জীবন চলেনি তার। যখন আদর আর স্নেহ পাওয়ার ও অনুধাবন করবার বয়স, বাবা-মার প্রতি প্রগাঢ় ভালবাসা আর টান থাকবার বয়স ঠিক তখনই তাকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। আর তার ছোট বোন সাড়ে তিন বছরের সাদিয়াকে হত্যা করা হয়েছে গলা টিপে। তাদের অসহায় বেদনার্ত চোখগুলো, বর্বরতার সময় তাদের অবাক ও বিস্ময় মিশ্রিত চাহনীগুলো ঘাতককে বিন্দুমাত্র স্পর্শ করে নাই।!! আর দশ জনের মত আমি বিষয়টাকে স্বাভাবিকভাবে নিতে পারছিনা। একজন মানুষ কতটা পাষন্ড ও বর্বর হলে এমন আচরণ করতে পারে! কতটা পাষন্ড হলে!! সে কি কারো সন্তান নয়! তার কোন সন্তান নেই!

৩.
আড়াই বছরের রিয়াকে নিয়ে মা গিয়েছিলেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। ডাক্তারের রুমে শিশুসহ ঢোকা নিষেধ। তাই বাইরে দুইজনের কাছে সামান্য সময়ের জন্য রেখে গিয়েছিলেন রিয়াকে। সেই রিয়াকে খুঁজে পাওয়া গেল সাড়ে তিনঘন্টা পরে, খুঁজে পাওয়া গেল মর্গে। তাকে হত্যা করা হয়েছে। তার ছোট নরম তুলতুলে শরীরে পাওয়া গেছে আঘাতের চিহ্ন। সে কার কাছে কি অপরাধ করেছিল, কার পাকা ধানে মই দিয়েছিল জানিনা। শুধু অনুমান করতে পারি ইবলিশও এতটা নিষ্ঠুর হতে পারেনা। এটা কি কোন সাইকোপ্যাথের কাজ!

৪.
এই তিন মৃত্যু নিয়ে আগামী দুই তিনদিন পত্রিকাগুলো মুখর থাকবে। চা-এর টেবিলে আলোচনা হবে। আবার নতুন কোন ঘটনা ঘটবে। সবাই সেটা নিয়ে মাতবে। আমরা ভুলে যাবো তিনজন দেবশিশুর প্রতি মানব সভ্যতার এই চরম হিংস্রতার কথা। আজকাল আমরা খুব সহজে সবকিছু ভুলে যেতে পারি। আমরা খুব সহজে অতি স্বাভাবিকভাবে সবকিছু মেনে নিতে পারি। এই সকল ঘটনা আর আমাদের আর স্পর্শ করেনা।! আমরা প্রতিবাদে ফেটে পড়তে পারিনা! শুধু নিজের মধ্যে নিজেকে নিয়ে গুটিয়ে যেতে পারি। আমরা সকলেই কি এক একজন সাইকোপ্যাথ অর্থাৎ মানসিক রোগী হয়ে যাচ্ছি।

৫.
আমি বাসায় পত্রিকা রাখিনা। কারণ পত্রিকা পড়লেই মন খারাপ হয়ে যায়। কিন্তু অফিসে পত্রিকা রাখতেই হয়। পত্রিকা পড়তে এখন ভয় পাই। এই তিনমুখ, এই তিন মৃত্যু আমার পত্রিকা ভীতিকে আরো প্রকট করে দিয়েছে। এখন আমি অফিসে বসে ঘন্টায় ঘন্টায় বাসায় ফোন করি। আমার সন্তানের বয়স প্রায় চার বছর। তার নিরাপত্তার চিন্তায় আমি কারো উপর ভরসা রাখতে পারছিনা। আমিও কি সাইকোপ্যাথ হয়ে যাচ্ছি?

৬.
মেনে না নিবার মত সবকিছুকে মেনে নিবার এবং স্বাভাবিক হিসেবে গ্রহন করবার এক অদ্ভূত ক্ষমতায় আমরা আজ ক্ষমতাবান । আমাদের সমাজ আর রাষ্ট্র সবকিছু সহ্য করবার আর মেনে নেবার মহান সভ্যতায় শিক্ষিত হয়ে ক্রমশ পরিপূর্ণ সাইকো সমাজ আর রাস্ট্রে পরিণত হচ্ছে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29516832 http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29516832 2012-01-05 18:03:29
অক্ষমের মন্তব্য প্রতিবেদন: যুদ্ধাপরাধীদের বিচার লাভজনক এক রাজনৈতিক ফিকির

১.
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ভোটারদের প্রভাবিত করবার জন্য শুধুমাত্র রাজনৈতিক ফিকির ছিল তা মহাজোট তথা আওয়ামী তাদের কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্রমাগত স্পষ্ট হচ্ছে। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রধান ইস্যু হবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আর তাই বিচার করবার চাইতে বিচার নিয়ে নাটক মঞ্চায়নের বিষয়ে আওয়ামী লীগ এখন অতি আন্তরিক ও নিবেদিত প্রান। যারা প্রকৃতই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চান তারা ক্রমাগত হতাশায় নিমজ্জিত হচ্ছেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে রাজনৈতিক বাণিজ্য বন্ধ করা না গেলে আমাদের শুধু একের পর এক নাটকই দেখে যেতে হবে।


২.
সম্প্রতি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবার বিষয়টিকে রাজপথের সস্তা রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করার খেলায় মেতেছে মহাজোট তথা আওয়ামী লীগ। ক্ষমতাসীনরা মাত্র তিন বছরে ভুলে গেছে যে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রশ্নে জাতির আপোষহীন সমর্থনের কারণেই তারা বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছে। কিন্তু ক্ষমতাসীন হবার পর থেকেই ট্রাইবুন্যাল গঠন নিয়ে আইনমন্ত্রীর স্ববিরোধী বক্তব্য, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আর প্রতিমন্ত্রী লাগামহীন একই বক্তব্য প্রদান যতটা বেগবান ছিল, মূল কাজের গতি ছিল ততটাই ক্ষীণ। ক্ষমতা গ্রহনে তিন বছরের মাথায় এসে যদি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়টিকে ময়দানের বিষয়ে পরিণত করতে হয় তবে এটাই সত্য যে আওয়ামী লীগ যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে বাণিজ্য করতে গিয়ে তাদের সংগঠিত হবার আর জনমতে প্রভাব ফেলবার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে সময় দিয়েছে। আর এই সময় প্রদান এই কারণে যে, যেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে একটি দীর্ঘ মেয়াদী রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের ফন্দিতে পরিণত করা যায় আর নির্বাচনের সময় তা ঝোলা থেকে বের করে প্রদর্শন করা যায়।


৩.
সরকারী দলের মন্ত্রী, সাংসদ ও নেতারা যখন দ্রুত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে বক্তব্য দেন তখন শংকিত হই। এই শংকার কারন এই যে, যাদের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাস্তবায়ন করবার কথা, যারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবার জন্য ম্যান্ডেট পেয়েছেন তারা বিচার কাজ বাস্তবায়ন না করে আন্দোলন করেন কিসের জন্য? কার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেন? বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারী দলকে যদি নির্বাচনী ইশতেহার পালন ও রক্ষা করতে বাধ্য করবার জন্য সরকারী দলের মন্ত্রী, সাংসদ আর নেতাদের রাজপথে আন্দোলনে নামতে হয় তবে সরকার যারা চালাচ্ছেন তারা কাদের প্রতিনিধিত্ব করছেন? যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়ে পূর্ণ ম্যান্ডেট পেয়েও ধীরে চলো নীতি কাদের খুশী ও রক্ষা করবার জন্য?


৪.
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য গঠিত ট্রাইবুন্যাল আর্ন্তজাতিক মানের। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য দলীয় মনোনয়নে যে সকল আইনজীবীকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে তাদের ভূমিকা পুরো বিষয়টিকে রম্য বিষয়ে পরিণত করেছেন। দেলোয়ার হোসেন সাইদীর বিরুদ্ধে যে সকল সাক্ষী স্বাক্ষ্য দিয়েছেন তাদের বক্তব্য এবং অতীত রেকর্ড এতটাই শুদ্ধ ও তথ্যবহুল(!!!!!!) যে, যুদ্ধাপরাধীদের জন্য গঠিত ট্রাইবুন্যালে তারা কিভাবে স্বাক্ষী হিসেবে কাঠগড়ায় দাড়ানোর সুযোগ পান সে বিষয়ে একটা গবেষনা হতে পারে। ছিচকে চোর আর যুদ্ধকালীন সময়ে যার বয়স মাত্র বারো বছর ছিল তেমন ব্যক্তি ছাড়া সাঈদীর মত চিহ্নিত রাজাকারের বিরুদ্ধে স্বাক্ষী পাওয়া গেলনা! ইচ্ছাকৃতভাবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ এবং দীর্ঘায়িত করে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী তথা মহাজোটিয় নির্বাচনী মূলা হিসেবে ব্যবহার করবার অভিপ্রায় এখন স্পষ্ট।


৫.
সাজেদা চৌধুরী বলেছেন, ঘর ঘর থেকে রাজাকারদের ধরে নিয়ে আসতে। অথচ মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে উনার ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগের টিকেটে বিজয়ী ৮৮ জন সংসদ সদস্য প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান আর গভর্ণর টিক্কাখানের সরকারের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রকাশ করেছিলেন। তাদের সদস্যপদ পুর্নবহাল করবার আবেদন করেছিলেন। তৎকালীন পাকিস্তান সরকার এই ৮৮ জনের নাম, পিতার নাম, ঠিকানা ও সংসদীয় এলাকার নামসহ গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে প্রকাশ করে। এই তালিকায় ৮৪ নম্বরে ছিলেন সাজেদা চৌধুরী। মহাজোটের অন্যতম শরীক জাতীয় পার্টি। জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক প্রেসিডেন্ট হোমো এরশাদ। ১৯৭১-এ পাকিস্তান আর্মির এই অফিসার পকিস্তানে বসে কি ভূমিকা পালন করেছিলেন! কাদের স্বার্থে কাজ করেছিলেন! আত্নীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ মূসা বিন শমসের, আওয়ামী লীগের বর্তমান কোষাধ্যক্ষ আশিকুর রহমান, আওয়ামী লীগের এম পি মোসলেম উদ্দিনসহ আরো অনেকের নাম নিয়ে এই তালিকাকে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘায়িত করা যায়। যারা অখন্ড পাকিস্তান চেয়েছিল সেই ব্যক্তিদের সাথে নিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্রিয়াকে বাস্তবায়ন করার চেস্টা আর নদীর ঢেউয়ে আঙ্গুল দিয়ে রংহীন ছবি আঁকা একই কথা।


৬.
স্বাধীনতার পরবর্তী প্রতিটি সরকারের আমলেই মুক্তিযুদ্ধের মত মহা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার ইতিহাসকে বির্তকিত করা হয়েছে এবং বিকৃতি ঘটানো হয়েছে। ১৯৭১ সালে অসীম সাহসী মুক্তিযোদ্ধারা প্রাণপন যুদ্ধ করেছিলেন একটি প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। সেই প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনীর সাহস শূণ্যের কোঠায় নেমে এসেছির গেরিলাদের একের পর এক আঘাতে। প্রতিরোধ গড়তে না পেরে পাকি সেনাবাহিনী ধারাবাহিকভাবে বর্বরতার মাইলস্টোন স্থাপন করে। তাদের জঘন্য বর্বরতা বাস্তবায়নে আন্তরিক ছিল এই দেশের মানুষরুপী ইবলিশবৃন্দ। অথচ আজ মহাজোট সরকার আর তাদের তবলাবাদক সুশীলবৃন্দ যুদ্ধাপরাধীদের এমনভাবে ফোকাস করছেন যেন মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল মূলত রাজাকারদের সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের। এই প্রচারণার অংশ হিসেবেই পকিস্তানী পত্রিকা পরোক্ষভাবে পাকিস্তানী সেনাবহিনীকে নির্দোষ প্রমাণের দাবী করতে পারে। যুদ্ধাপরাধীদের জন্য গঠিত আর্ন্তজাতিক মানের ট্রাইবুন্যালে ইয়াহিয়া খান, মোনায়েম খান, নিয়াজীসহ তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্যদের অর্থাৎ মূল আসামীদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হবে কবে!


৭.
ক্ষমতাগ্রহনের প্রায় তিন বছর হয়ে গেলেও সরকার নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী নির্বাচিত এমপি এবং মন্ত্রীদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ করতে পারে নাই। অথবা করে নাই। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়টিতে সমগ্র জাতির অকুণ্ঠ সমর্থন ছিল এবং আছে। সেই সমর্থন তারা তাদের ভোটের মাধ্যমেই প্রদান করেছিল। সেই সমর্থনকে নিয়ে ছেলেখেলা করছে মহাজোট আর স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তি হিসেবে বিবেচিত কিন্তু বর্তমানে লক্ষ্য ও আদর্শ ভ্রষ্ট আওয়ামী লীগ। বিএনপি জামাতকে পালন করবে, যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করবে প্রকাশ্যে। একই কাজ আওয়ামী লীগ করবে কৌশলে আর গোপনে। আজ আওয়ামী লীগ আর বিএনপির আদর্শ ও লক্ষ্যের মধ্যে পার্থক্য এতটুকুই ।


৮.
লক্ষ্য ভ্রষ্ট উদভ্রান্তদের সঠিক পথে আনবার জন্য প্রয়োজন গণ জাগরন। যে যার জায়গা থেকে তাদের সঠিক পথে থাকবার জন্য সাধ্যমত বাধ্য করি। কারণ ভোটের ক্ষমতা আমাদের। আর এই কারনেই অন্তত পাঁচবছর পরপর এসে তারা জনগনের কাছে স্বপ্ন ফেরি করে আর বিগত দিনের ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থন করে। আসুন এই ক্ষমতাকে আমরা কেন্দ্রীভূত করি আর প্রয়োগ করি সবসময়। আদর্শহীন লক্ষ্যভ্রষ্টদের জানিয়ে দেই শেষ পর্যন্ত কিন্তু আমরাই শতকরা ৯৯ ভাগ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29515524 http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29515524 2012-01-03 18:22:42
বাংলাদেশের সংবাদপত্র এক আজব জিনিস... বাংলাদেশের সংবাদপত্র এক আজব জিনিস। এদের একটি চরিত্র আছে। কিন্তু সেই চরিত্রটি যে কি তা সুস্থ্য মস্তিষ্কের পাঠকের কাছে বড়ই রহস্যময়। একটা সময় দৈনিক ইত্তেফাক হয়ে উঠেছিল বাংলা চলচিত্রের বিজ্ঞাপন প্রকাশের একমাত্র মাধ্যম। পত্রিকায় সংবাদ অপেক্ষা বাংলা ছবির বিজ্ঞাপন দেখতে দেখতে অস্থির মানুষ হাঁপিয়ে উঠেছিল। এটি ইত্তেফাক অনুধাবন করবার আগেই ইনকিলাব ইত্তেফাকের স্থান দখল করতে শুরু করে। তবে ইনকিলাবের জয়যাত্রা অতি অল্প সময়ে থেমে যায় তার সরকার তথা এরশাদশাহীর তোষামদীর কারনে।

২.
একটা সময় দৈনিক আজকের কাগজ, দৈনিক ভোরের কাগজ আর জনকন্ঠ এসে পত্রিকার ধ্যান ধারনা পাল্টে দেয়। কিন্তু সেই পত্রিকাগুলো নিজেরা বদলাতে পারে নাই। তারা সংবাদ পরিবেশন অপেক্ষা দলীয় চরিত্র সংরক্ষণে নিজেদের সম্পৃক্ততা ও আনুগত্য প্রকাশে বেশী সচেতন হয়ে যায়। এই দেশের সংবাদপত্র পাঠক যে কোন রাজনৈতিক আদর্শেরই হোক না কেন, সে সংবাদপত্রের নিকট নিরপেক্ষ ও সত্য সংবাদ প্রত্যাশা করে। তাই সংবাদ পত্রের একটি নতুন ধারা সৃষ্টি করলেও পত্রিকাগুলোর বর্তমান সত্যিকার প্রচার সংখ্যা দু:খজনক।

৩.
দুই টাকার পত্রিকা যে কতটা শক্তিশালী হতে পারে তার প্রমান আমাদের সময়। যাত্রা পথে এই পত্রিকার জনপ্রিয়তা ছিল আকাশচুম্বী। জনপ্রিয়তা আর সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখায় এই সংবাদপত্র বাসের যাত্রাপথ ছেড়ে স্থির বাসাবাড়ীতেও স্থান করে নেয়। কিন্তু ওয়ান ইলেভেনের সময় এই কূল রাখি এবং ঐ কূল রাখি চরিত্রের জন্য জনপ্রিয়তায় ধ্বস নামে। বর্তমানে পত্রিকাটি একটি বাণিজ্যিক গ্রপ কিনে নিয়েছে। এখন পত্রিকাটির চরিত্র কি হবে তা সময়ই বলবে।

৪.
দৈনিক পত্রিকার মধ্যে প্রথম আলো প্রথম কর্পোরেট ইমেজে আত্নপ্রকাশ করে। এই পত্রিকার সংবাদ এবং অন্যান্য কার্যক্রম পাঠক প্রিয়তার অধিকাংশ অর্জন করে নেয়। কিন্তু জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা পত্রিকাটির ওয়ান ইলেভেনের ভূমিকা, দেশবাসীকে দেশপ্রেম শিখানো, বদলে যাও, বদলে দাও নামক ফালতু শ্লোগান আর অতিসম্প্রতি কানিজ আলমাসের প্রতি পক্ষপাতিত্ব ও অর্ধসত্য সংবাদ পরিবেশন তাদের চরিত্রকে স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর করে তুলেছে। পারসোনার বিজ্ঞাপন এবং পারসোনার পক্ষে একটি অর্ধসত্য রিপোর্টই প্রমান করে কিসের বিনিময়ে সম্পাদকের সাথে সুসম্পর্কের কারনে একটি অর্ধসত্য রিপোর্ট করানো যায়।

৫.
প্রথম আলোর প্রতি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আত্নপ্রকাশ করে কালের কণ্ঠ এবং বাংলাদেশ প্রতিদিন। যতদূর শোনা যায়, বাংলাদেশের সংবাদপত্রের ইতিহাসে সব চাইতে বেশী বাজেট নিয়ে আত্নপ্রকাশ করে পত্রিকা দুইটি। কিন্তু সম্প্রতি পত্রিকা দুইটি বিশেষতত বাংলাদেশ প্রতিদিন নারায়ণগঞ্জের নির্বাচন নিয়ে গড ফাদার শামীম ওসমানের যে ভাবে বন্দনা করছে তাতে ,মনে হয় তিনি বিশ্বনেতা। বঙ্গবন্ধু আদর্শের একমাত্র কান্ডারী। বাংলাদেশ প্রতিদিন বর্তমানে শামীম ওসমান প্রতিদিন হয়ে গেছে।

৬.
সংবাদ পাঠক এখন বোকার দল নয়। তারা বোঝে কোন সংবাদের কি উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্য। কোন সংবাদরে কতটুকু সত্য। আর এই সত্য অনুসন্ধানে তারা একাধিক সংবাদপত্রও পড়ে। অথচ সংবাদপত্রের সম্পাদকরা এই সত্য জানেন না, বা জানতে চাননা । কারন তারাও কোন না কোন রাজনৈতিক দলের আদর্শের সৈনিক। তাদের নেতারাই জানতে চাননা বা মানতে চাননা, তারা জেনে বা মেনে কি করবেন।

৭.
বাংলাদেশের সংবাদপত্র এক আজব জিনিস। এর একটি চরিত্র আছে। তবে চরিত্রটি এতই মিহিন যে, আছে বলে বোঝা যায়না।

বিশেষ দ্রষ্টব্য:
খুব অল্প কথায় লিখলাম। অনেকটা সারাংশের মত। তবে বাংলাদেশের সংবাদপত্র নিয়ে বিস্তারিত লেখার ইচ্ছে আছে।
সতত শুভ কামনা আপনার জন্য, সকলের জন্য।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29467466 http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29467466 2011-10-16 22:23:35
অক্ষমের মন্তব্য প্রতিবেদন : হরতাল চক্র ও অসুস্থ মানসিকতার দুই দশক

১.

পূর্ণ উদ্যমে হরতাল চক্র শুরু হল। আগামী সংসদ নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত এই চক্র চলমান থাকবে। আমাদের তথাকথিত দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক নেতারা তাদের প্রবল দেশপ্রেমের টানে স্বদেশকে হরতাল চক্রে আবদ্ধ করে ফেলেছেন। যে জাতির জন্য তারা এই চক্র তৈরী করেছেন সেই জাতি মনেপ্রাণে এই চক্র থেকে মুক্তি চায়। কিন্তু এই চক্র থেমে গেলে ক্ষমতায় যাওয়া বা ফিরে আসা সহজ হবেনা। অর্থাৎ জনগন মূল কথা নয়, মূল কথা হল ক্ষমতায় যাওয়া।


২.

বিএনপি জামাত জোট হরতাল করে কি আদায় করতে চায়? সহজ উত্তর জনগনের ভোটের অধিকার বা তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা। অথচ এই তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিএনপি'র কাছে গ্রহনযোগ্য ছিলনা। কারন এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে ক্ষমতায় পুনরায় আসা অসম্ভব ছিল। তাই আওয়ামী লীগ, জামাত, জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য দলকে কঠোর আন্দোলনে যেতে হয়েছিল।

১৯৯৪ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত ৭০ দিন হরতাল করেছিল আওয়ামীলীগ, জামাতসহ অন্যান্য দলগুলো। এর মধ্যে ৯৬ ঘন্টার হরতাল ছিল একটি, ৭২ ঘণ্টার হরতাল দুইটি, ৪৮ ঘন্টার হরত পাঁচটি। প্রতিটি হরতাল শেষে দেশবাসীকে হরতাল প্রত্যাখান করবার জন্য সরকার এবং হরতাল সফল করবার জন্য বিরোধীদল অভিনন্দন জানিয়েছেন। অভিনন্দিত জনগন অভিনন্দনের বদলে রাজনীতিকদের শুভবুদ্ধি উদয়ের প্রার্থনা করেছে। বিএনপি তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চায় নাই তাই তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহালের দাবীতে হরতাল আহ্বানের কোন নৈতিক অধিকার তাদের নাই। কিন্তু নষ্ট রাজনীতির ধারকরা নৈতিকতার ধার ধারেননা।


৩.

আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ সর্বশেষ নির্বাচন পর্যন্ত বলে এসেছেন তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের মূল রুপকার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই ব্যবস্থা প্রর্বতনের কারনে দেশে গণতন্ত্র সুসংহত হয়েছে। এই ব্যবস্থার রুপরেখা দিয়ে শেখ হাসিনা তার রাজনৈতিক দূরদর্শিতা প্রমান করেছেন। তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রর্বতনের জন্য ১৯৯৬ সালের ৩ ও ৪ জানুয়ারী ৪৮ ঘন্টার হরতাল পালন করেছিল আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এবং জামাত। সেই সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, " দাবি আদায় না করে ঘরে ফিরবেন না। সবাই মাঠে নেমে পড়ুন। যে কোনো ত্যাগ স্বীকারের জন্য প্রস্তুত থাকুন।" তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এতটাই জরুরী ছিল যে তিনি আরও বলেছিলেন, "প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ভেবেছেন রোজার মাসে হরতাল হবে না। ইচ্ছা মতো ভোট চুরি করে একদলীয় নির্বাচন করিয়ে নেবেন। কিন্তু তিনি জানেন না রোজার মাসেও যুদ্ধ হয়েছিল।'

১৯৯৬-এর ক্ষনস্থায়ী সংসদের মাধ্যমে তত্বাবধায়ক সরকার বিল পাস করতে বাধ্য হয় বিএনপি সরকার। তত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান শপথ গ্রহন করেন। সেই মহেন্দ্রক্ষনে তত্বাবধায়ক সরকারের সাফল্য কামনা করে শেখ হাসিনা নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেছিলেন এই বলে,"জনগণের অপরিসীম ত্যাগ ও তিন দলের আন্দোলনের ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার দাবি বিএনপিকে মানতে বাধ্য করা হয়েছে।" এখানেই শেষ নয়, আবেগাপ্লুত কন্ঠে ও দৃঢ় চিত্তে বলেছিলেন " "ন্যায় ও সত্যের সংগ্রাম সব সময় জয়ী হয়।"

আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে বলেন যে, তিনি জনগনের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করেছেন। আপনার "ন্যায় ও সত্যের সংগ্রামের সব সময় জয়ী হয়"- এই মহত বাক্যের অবস্থান আজ কোথায়! তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য ৭০ দিন হরতাল পালনের মধ্য দিয়ে তত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আপনি জনগনের ভোটের অধিকারের কি করেছিলেন!!


৪.

আমাদের রাজনীতিকদের লোভ কতটা প্রকট তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষমতায় থাকাবস্থায় এবং ক্ষমতার বাইরে থাকাবস্থায় তাদের অবস্থান দেখলেই পরিষ্কার হয়ে যায়। ক্ষমতা লাভের পরেই তারা ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত হিসাবে পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেন। তার জন্য যা যা করা প্রয়োজন তা করতে বিন্দুমাত্র লজ্জিত বা কুণ্ঠিত হননা। ক্ষমতা লাভের পরে জনমতের প্রতি আর তাদের শ্রদ্ধা থাকেনা, আস্থাও থাকেনা। তখন সরকারের সমালোচনা করা মানেই দেশের শুক্রতে পরিণত হওয়া। য়ৌক্তিক সমালোচনার জবাবেও ক্ষমতাশীল রাজনৈতিক দলের চামুচ শ্রেনীর কর্মীরা নেড়ী কুকুরের মত কামড়াতে আসেন। প্রধান প্রধান নেতাদের কথা উল্লেখ না করাই ভাল।

অপর পক্ষে, ক্ষমতার বাইরে থাকলে তারা জনগনের ভোট নামক ক্ষমতাটি নিয়ে অতি আবেগাক্রান্ত হয়ে পড়েন। ভোট নামক ক্ষমতাটির অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য হরতাল ডেকে ডেকে জনগনকে অতিষ্ঠ করে তোলেন।


৫.

তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে যে কয়টি নির্বাচন হয়েছে প্রতিটিতে পরাজিত দলের নেত্রী সূক্ষ্ম কারচুপি, স্থূল কারচুপি, প্রহসন, ষড়যন্ত্রসহ নির্বাচনকে বিভিন্ন উপধীতে নির্বাচনকে ভূষিত করেছেন। আর বিজয়ী দল নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠ ও জনমতের প্রতিফলন হিসাবে অভিহিত করেছেন। বিজয়ী এবং পারজিত প্রার্থী দুজনের একজনও ভেবে দেখেন নাই কেন ও কি কারনে জনগন কাকে ভোট দিয়েছে! জনগন তার ভোটাধিকারের মাধ্যমে কি ম্যাসেজ দিচ্ছে।

পারজিত হলেই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ। কারন ক্ষমতায় যেতে না পারার কষ্ট। আর বিজয়ী হলে সুষ্ঠ নির্বাচন। ক্ষমতায় যেতে পারার অবাধ আনন্দ। একই সাথে বিপরীতমূখী মানসিকতা পোষন একধরনের মানসিক অসুস্থতা। এই রকম মানসিকতা পোষনকারী ব্যক্তি মানসিক রোগী এবং তার উত্তম চিকিৎসা প্রয়োজন।


৬.

যে কোন মূল্যে ক্ষমতালাভ এবং যে কোনভাবে ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার বাসনাও একটি মানসিক রোগ। এই রোগের প্রকোপেই হরতাল নামক প্রতিবাদের কার্যকর ভাষাটির অপব্যবহারের চক্রে আবদ্ধ হয়ে ১৯৯১ থেকে ২০১১ সাল অর্থাৎ প্রায় দুই দশক ধরে প্রিয় স্বদেশ ও সাধারন দেশবাসী চরম যাতনা ভোগ করছে। ৎ


৭.

প্রতিটি হরতালে কত টাকার ক্ষতি হয় তার একটা সঠিক হিসাব হওয়া প্রয়োজন। দুই নেত্রী এবং তাদের নেতৃত্বাধীন দল ও জোটের কাছ থেকে সেই পরিমাণ টাকা আদায়ের জন্য একটি আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন। তারও আগে প্রয়োজন অসুস্থ মানসিকতার চিকিৎসা নিশ্চিত করার মাধ্যমে হরতাল চক্র হতে দেশ ও দেশবাসীকে মুক্ত করা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29407882 http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29407882 2011-07-06 01:20:46
মুমিতের জন্য রূপকথা: একদিন সব প্রজাপতি সাদা ছিলো..

মুমিতের বয়স তিন পেরিয়েছে। তিন বছর বয়স অতিক্রম করবার পরে নতুন উপসর্গ দেখা দিয়েছে। প্রতিরাতে ওকে গল্প শোনাতে হয়। গল্প না শুনলে ওর ঘুম আসেনা। এই গল্পটা ওকে বলেছি। ওর খুব ভালো লেগেছে। তাই বারবার বলতে হয়। ভাবলাম ওর খুব পছন্দের গল্পটা লিখেই ফেলি। তাই লিখে ফেলা এবং আপনাদের সাথে শেয়ার করা।

মুমিত: বাবাই, আমাকে কালো প্রজাপতিটার গল্পটা বলোনা।

বাবা: কোন কালো প্রজাপতি বাবাই?

মুমিত: ঐ যে কাল রাতে বললা যে। ঐ যে সব প্রজাপতি সাদা ছিল। আর লক্ষী দুইটা প্রজাপতি ছিল। গুটুল গুটুল সাদা প্রজাপতি।

বাবা: অনেক অনেক দিন আগের কথা। ধরো বাবাই, অনেক দিন আগেরও যে অনেক দিন আগে ছিলো সেই তখনকার কথা। সেই সময় সব প্রজাপতি ছিলো সাদা। ধবধবে সাদা।

মুমিত: ওদের পাখায় অন্য কোন রং ছিলোনা! ওদের কোন রঙিন পাখা ছিলোনা!!

বাবা: না বাবাই। সব প্রজাপতি ছিলো ধবধবে সাদা। সেই ধবধবে সাদা প্রজাপতিরা সাদা সাদা ফুলে উড়ে বেড়াত। সাদা সাদা ফুলের মধু খেত।

মুমিত: শুধু সাদা আর সাদা। আমার গোলা কবুতরের মত সাদা!

বাবা: হুম সোনা। মনে কর প্রজাপতিরা যখন সাদা ছিলো, সেই সময় কোন একটা দেশে সবুজ একটা জঙ্গল ছিলো। সেই জঙ্গলে অনেক বড় বড় গাছ ছিল। সকালবেলা রোদের আলো সেই গাছগুলোর ফাঁক দিয়ে ঘাসে এসে নামতো। আর জঙ্গলের সবার ঘুম ভাঙতো। শুধু পাখিরা রোদ্র আসার আগেই জেগে উঠত।

মুমিত: পাখিদের ঘুম আগে ভাঙতো কেন বাবা?

বাবা: সেটা জানিনা বাবাই। মনে হয় ওরা তারাতারি ঘুমিয়ে যেত। আর সকাল বেলা সূর্যের ঘুম ভাঙাবার জন্য তারাতারি জেগে কিচিরমিচির করত।

মুমিত: তাই বলো। আমি ভাবলাম যে ওরা ঘুমায়ই না। আমার মত লুকিয়ে লুকিয়ে জেগে থাকে।

বাবা: জঙ্গলের বিশাল একটা গাছে ছিল ছোট ছোট দুইটা বাবু প্রজাপতির বাড়ি। ঐ বাড়িতে তাদের সাথে থাকতো একটা বাবা প্রজাপতি। আর একটা মা প্রজাপতি। বাবু দুইটা ছিল গুটুল গুটুল। তাদের পাখাগুলো ছিল নরম নরম। তুলতুলে আর সাদা সাদা।

মুমিত: গাছটা কি অনেক বড় ছিল? নারকেল গাছটার মত লম্বা!

বাবা: হ্যা বাবাই। অনেক বড় ছিল। প্রতিদিন বাবা আর মা প্রজাপতিটা ঘরের বাইরে যেত। বাইরে না গেলে বাবু প্রজাপতিদের জন্য খাবার আনবে কেমন করে! তাই প্রতিদিন সকাল হলেই বাবা আর মা প্রজাপতিটা বাইরে যাওয়ার জন্য পাখা মেলে দিত। বলো’তো বাবাই যাওয়ার আগে ওরা বাবু প্রজাপতিদের কি বলে যেত ?

মুমিত: এ্যাই বাবুরা, তোমরা দুষ্টামী করনা।

বাবা: ঠিক। ঠিক। আর কি বলে যেত?

মুমিত: একা একা বাইরে যেওনা।

বাবা: ঠিক বলেছো। আর কি বলে যেত?

মুমিত: তোমরা লক্ষী হয়ে ঘরে থেক।

বাবা: তুমি দেখি সব জানো। কিন্তু বাবু প্রজাপতিদের সারাদিন ঘরে থাকতে আর ভালো লাগতোনা।

মুমিত: কেন! ওদের বাবাই কি ওদের বেড়াতে নিয়ে যেতোনা?

বাবা: না বাবাই। ওরা সারাদিন ঘরে বসে থাকতো। কারন ওদের পাখাগুলো তখনও সারাদিন উড়বার জন্য পুরোপুরি শক্ত হয় নাই। ওরা বের হলে যদি ওদের পাখি খেয়ে ফেলে!! ওদের পাখাগুলো যদি পানি লেগে ভারী হয়ে আসে!! এইসব ভেবে ভেবে ওরাও ঘর থেকে বের হতনা।

মুমিত: সারাদিন ঘরে থাকতে আমার ভালো লাগেনা। আমার বৃষ্টি ভিজতে ভালো লাগে।

বাবা: ওদেরও ভালো লাগেনা। একদিন ওরা ভাবল যাই কাছাকাছি ঘুরে আসি। খুব বেশী দূরে যাবোনা। এই ভেবেই পাখা মেলে দিল বাতাসে। গাছের পাতারা বলল, “খুব সাবধান”। গাছের ডালেরা বলল “খুব সাবধান”। প্রজাপতিরা বলল, “আমরা খুব দূরে যবোনা। একটু শুধু উড়বো”। ওরা উড়তে শুরু করল।

মুমিত: ওদের পাখা কি নরম নরম ছিলো! আমার হাতের মত?

বাবা: না নরম ছিলোনা। একটু একটু শক্ত হয়েছিল। ওরা উড়তে উড়তে দেখে একটা অনেক বড় কি যেন দাড়িয়ে গাছের পাতা খাচ্ছে। তার লম্বা গলা। লম্বা লম্বা চারটা পা। গায়ে খয়েরী ছোপ ছোপ। ওরা গিয়ে বলল” আঙ্কেল আপনার নাম কি?” গাছের পাতা চিঁবুতে চিঁবুতে বলল “আমার নাম জিরাফ”। তখন বাবু প্রজাপতিটা বলল জিরাফ… লম্বা গলা.. জিরাফ….লম্বা ঠ্যাং…। তোমার নাম জিরাফ…জিরাফ…জিরাফ…

মুমিত: ওরা আগে জিরাফ দেখে নাই। তাই না বাবাই?

বাবা: হ্য বাবাই। ওরা জিরাফ দেখে নাই। হাতি দেখে নাই। জেব্রা দেখে নাই। সব দেখছে আর অবাক হচ্ছে। অবাক হচ্ছে আর দেখছে।

মুমিত: হাতি দেখে ওরা কি বললো?

বাবা: ওরা হাতি দেখে বললো. “কি মোটা মোটা পা। লম্বা শূড়। বড় বড় কান। চোখটা ছোট। হাতির চোখটা ছোট। হাতির চোখটা ছোট।” আর জেব্রা দেখে বলল,” সাদা দাগ..কালো দাগ.. জেব্রা.. জেব্রা..জেব্রা। সাদার উপর কালো দাগ। না..না.. কালোর উপর সাদা দাগ। না..না.. কালো দাগ আর সাদা দাগ জেব্রা..জ্রেবা..জেব্রা…”

মুমিত: আর কি কি দেখলো?

বাবা: অনেক কিছু দেখলো বাবাই। দেখতে দেখতে ওদের খিদে পেয়ে গেছে। ওরা গেল ফুলের মধু খেতে। মধু খেতে গিয়ে দেখে জঙ্গলের সব ফুল সাদা। সেই ফুলেরা তাদের কারো নাম বলল “বেলী’। কারো নাম ‘হাস্নেহেনা’, কারো ‘রজনীগণ্ধা’ বা ‘শিউলী’ বা ‘কাঁঠাল চাঁপা’। সব সাদা সাদা ফুল। সেই ফুলে মধু খেতে খেতে আর খেলা করতে করতে ওদের ঘরের কথা মনেই হলোনা।

মুমিত: একা একা এত বেশী বাইরে থাকা ঠিকনা, তাই না বাবাই?

বাবা: তুমি সেটা জানো। কিন্তু ওরা’তো সেটা জানেনা। ওরা ঘরের কথা ভুলেই গেছে। সূর্যমামা আস্তে আস্তে পশ্চিম দিকে যাচ্ছে আর আস্তে আস্তে বিকেল হচ্ছে। তখন বেলী ফুল বাবু প্রজাপতি দুটোকে বলল,” অনেক হয়েছে এবার ঘরে যাও। একটু পরেই সন্ধ্যা নামবে।”

মুমিত: সন্ধ্যা নামলে অন্ধকার হয়ে যাবে! ওরা ঘরে যাবে কেমন করে?

বাবা: সেই কথা ওরা ভেবেই দেখলনা। ওদের’তো তোমার মত বুদ্ধি ছিলোনা। ওরা উড়তে উড়তে চলে গেল জঙ্গলের শেষ মাথায়। জঙ্গলের শেষে একটা মাঠ। এই মাঠটাকে বলে তেপান্তরের মাঠ। ওরা সেই মাঠের উপর দিয়ে উড়তে উড়তে দেখতে পেল একটা বাগান। সেখানে কত রংয়ের ফুল। এমন রঙিন ফুল ওদের জঙ্গলে দেখে নাই। লাল রংয়ের ফুল, নীল রংয়ের ফুল, হলুদ রংয়ের ফুল, কমলা রংয়ের ফুল, বেগুনী রংয়ের ফুল। কত যে রংয়ের ফুল! সেই ফুলে ফুলে ঘুরতে ঘুরতে ওদের খুব আনন্দ হচ্ছিল। ওরা ঘরে ফিরবার কথা একদম ভুলে গেল।

মুমিত: ওরা কি ঘরে ফিরবেনা! ওদের আব্বু আম্মুর কষ্ট হবেনা!

বাবা: ওরা তো ফুলে ফুলে মধু খাচ্ছে। হঠাৎ করে একটা বড় কালো প্রজাপতি কোথা থেকে উড়ে এল। এসেই বলল,” আমার বাগানে কে মধু খায়রে? আমার বাগানে কে খেলা করে? আমি ওদের পাখা ভেঙে দিব।” এই চিৎকার শুনে বাবু প্রজাপতি দুটো ভয়ে কাঁপতে লাগলো। তখন কালো প্রজাপতিটা বাবু প্রজাপতি দুটোকে বাগানের ভিতরে একটা গাছের অন্ধকার কোঠরে আটকে রাখল। বাবু প্রজাপতি দুটো কান্না করতে করতে বলল, ”আমাদের ছেড়ে দাও। আমরা আর কখনই তোমার বাগানে আসবোনা। তোমার ফুলে ফুলে নাচবোনা। উড়ে উড়ে খেলবোনা।” কিন্তু কালো প্রজাপতিটা একটা বিচ্ছিরি হাসি দিয়ে বলল, “তোদের কত্ত বড় সাহস। আমার বাগানে এসে ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়াস। কাল দুপুর বেলায় সূর্য যখন ঠিক মাথার উপরে থাকবে তখন আমি তোদের নরম নরম গুটুল গুটুল পাখা গুলো ভেঙে দিব।” প্রজাপতি দুটো কান্না করতে লাগল।

মুমিত: ওরা খুব ভয় পাচ্ছে। তাই না বাবাই?

বাবা: প্রচন্ড ভয় পাচ্ছে। যদি ওদের পাখাটা ভেঙে ফেলে তাহলে ওরা উড়বে কেমন করে! বাবা-মার কাছে যাবে কেমন করে! এই দিকে হয়েছে কি শোন বাবাই। বাবা প্রজাপতি আর মা প্রজাপতিটা ঘরে ফিরে দেখে ওদের বাবু দুটো নেই। তখন গাছের পাতা আর ডালেরা বলল বাবু দুটো ঐ দিকে গেছে। বাবা প্রজাপতি আর মা প্রজাপতি ঐ দিকে উড়ে গেল। গিয়ে দেখে একটা জিরাফ পাতা চিবুচ্ছে। জিরাফটা বলল বাবু দুটো ঐ দিকে গেছে। বাবা আর মা প্রজাপতিটা ঐ দিকে গিয়ে দেখে একটা হাতি দাড়িয়ে আছে। ওদের হাতিটা বলল দুটো গুটুল গুটুল বাবু প্রজাপতি ঐ দিকে উড়ে গেছে। ঐ দিকে যেতেই বেলী ফুল বলল তোমাদের বাবু দুটো উড়তে উড়তে বনের শেষ প্রান্তে গেছে। বনের শেষ প্রান্তে দাড়িয়ে ছিলো জেব্রা। জেব্রাটা বলল যে, দুইটা বাবু প্রজাপতি তেপান্তরের মাঠের উপর দিয়ে উড়ে উড়ে গেছে। বাবা প্রজাপতি আর মা প্রজাপতি তেপান্তরের মাঠে ওদের খুঁজতে শুরু করলো। সেই মাঠে থাকতো একটা বুড়ো পাখি। সেই বুড়ো পাখিটা বলল “তোমার বাবুরা দৈত্য প্রজাপতির বাগানে গেছে। দৈত্য প্রজাপতি ওদের বন্দী করে রেখেছে।”

মুমিত: দৈত্য প্রজাপতিটা কি খুব দুষ্ট!

বাবা: এই গল্পের দৈত্য প্রজাপতিটা খুব দুষ্ট। ওর দুটো পাখা কালো বলে ওর নিজের উপরেই খুব রাগ হয়। তাই সাদা সাদা প্রজাপতিদের ধরে ধরে পাখা ভেঙে দেয়।

মুমিত: তারপর বাবা আর মা প্রজাপতিটা কি করল?

বাবা: বাবাই, দৈত্য প্রজাপতির কথা শুনেই বাবা প্রজাপতি আর মা প্রজাপতির ভীষন ভয় হল। তারপর ভাবলো ভয় পেলেও বাবু প্রজাপতি দুটোকে দৈত্য প্রজাপতির হাত থেকে ফিরিয়ে আনতে হবে। তাই ওরা জঙ্গলের সব প্রজাপতিকে বলল ” কাল সকালে আমরা আমাদের বাবু প্রজাপতিদুটোকে আনতে দৈত্য প্রজাপতির বাগানে যাবো। ” তখন সব প্রজাপতি বলল. “তোমার লক্ষী লক্ষী দুটো বাবু। কেন যে কথা না শুনে উড়তে গেল!!! এখন দৈত্য প্রজাপতি আমাদের পাখাও ভেঙে দিবে।” বাবা আর মা প্রজাপতিটা বলল “আমরা বাবুদের আনতে যাবোই যাবো।” এই কথা শুনে অন্য একটা বাবু প্রজাপতি বলল, “আমিও তোমাদের সাথে যাবো।” তখন সব প্রজাপতিরা বলল, “আমরাও তোমাদের সাথে যাব।” সকাল হতে না হতেই সব প্রজাপতি আকাশে তাদের সাদা সাদা পাখা মেলে দিল। ওদের যেতে দেখে হাতি জিজ্ঞেস করল “তোমরা সবাই মিলে যাচ্ছ কোথায়!” প্রজাপতিরা বলল, ”আমাদের বাবু বাবু দুটো প্রজাপতিকে দৈত্য প্রজাপতি আটকে রেখেছে। আমরা ওদের মুক্ত করতে যাচ্ছি।” হাতি বলল আমিও তোমাদের সাথে যাবো।

মুমিত: দৈত্য প্রজাপতিটা কি হাতির চাইতেও বড়?

বাবা: না বাবাই। হাতির’তো কোন দুষ্ট বুদ্ধি নাই। কিন্তু দৈত্য প্রজাপতিটার দুষ্ট বুদ্ধি আছে। এই দুষ্ট বুদ্ধির দিক দিয়ে ও হাতির চাইতে বড়।

মুমিত: ও.. তাই বলো। দৈত্য প্রজাপতির খারাপ মগজটা বড়!!!

বাবা: হা: হা: হা:… খারাপ মগজটা বড়। সাদা সাদা প্রজাপতিদের সাথে হাতিকে দেখে জিরাফ বলল, “হাতি ভাই, কোথায় যাও!” হাতি বলল যে, আমি একটু দুষ্ট প্রজাপতির কাছে যাচ্ছি। দুইটা বাবু প্রজাপতিকে দুষ্ট প্রজাপতি আটকে রেখেছে। তখন জিরাফ বলল, “আমিও যাবো আর জেব্রাও যাবে। আমরা লক্ষী দুইটা প্রজাপতিকে কাল উড়ে যেতে দেখেছি।”

মুমিত: খুব ভালো হবে। দৈত্য প্রজাপতি ভয়ই পাবে। তাই না বাবাই?

বাবা: আমারও মনে হয় ভয় পাবে, বাবাই। সবাই মিলে দৈত্য প্রজাপতির বাগানের সামনে এসে দাড়ালো। তখন দৈত্য প্রজাপতিটা ঘুমোচ্ছিল। বাগানের সামনে এসে বাবা আর মা প্রজাপতিটা বলল,”দৈত্য প্রজাপতি, তোমার অনেক শক্তি। আমরা তোমার সাথে যুদ্ধ করে পারবোনা। তুমি আমাদের বাবু প্রজাপতি দুটোকে ছেড়ে দাও।”
এই কথা শূনে দৈত্য প্রজাপতিটা রেগে আগুন। চোখ না খুলে চিৎকার করে বলল,” আমি কাউকে ভয় পাইনা।একটুও ভয় পাইনা। আমি যাদু করে সবাইকে আমার বাগানের গাছের পাতা বানিয়ে দেব। আমি কাউকে ছাড়বোনা।” বাবা আর মা প্রজাপতিটা আবার বলল, “দয়া করে তুমি বাবু প্রজাপতি দুটোকে ছেড়ে দাও। আজ আমাদের সাথে হাতি এসেছে, জিরাফ এসেছে আর জেব্রাও এসেছে। আমরা তোমার বাগানে আর কখনই আসবোনা।”

মুমিত: তারপর কি বাবু প্রজাপতি দুটোকে ছেড়ে দিলো!!

বাবা: না বাবাই। দুষ্ট প্রজাপতিটা বাবু দুটোকে ছাড়লো না। তখন হাতি আর জিরাফ আর জেব্রা আর সকল প্রজাপতি ঢুকে পড়ল বাগানে। সেই বাগানে বাবু প্রজাপতি দুটোকে খুজতে লাগল। শব্দ পেয়ে চোখ খুলে দৈত্য প্রজাপতি অবাক। এত সাদা প্রজাপতি আজ কোথা থেকে এলো! দৈত্য প্রজাপতিটা ভেবেই পেলোনা। আর তাদের সাথে সত্যি সত্যি হাতি, জিরাফ আর জেব্রা দেখে দৈত্য প্রজাপতিটা ভয়ও পেয়েছে। অনেক অনেক সাদা প্রজাপতি দেখে অবাক হয়ে আর হাতি, জিরাফ, জেব্রা দেখে ভয় পেয়ে দৈত্য প্রজাপতিটা সব মন্ত্র গেছে ভুলে।

মুমিত: হা: হা: হা: এবার ভালো হয়েছে। মন্ত্র আর পড়তে পারবেনা। দুষ্ট মগজ আর দুষ্টামী করতে পারবেনা।

বাবা: সেটাই মনে হচ্ছে বাবা। সাদা প্রজাপতিরা বাবু প্রজাপতি দুটোকে খুঁজে পেলো একটা গাছের অন্ধকার ফোকড়ে। সেখান থেকে বাবা আর মা প্রজাপতি বাবু দুটোকে বের করে আনলো। সবাই মিলে দৈত্য প্রজাপতিটাকে বলল, “এই যে আমরা আমাদের বাবু প্রজাপতিকে মুক্ত করে এনেছি। তুমি আমাদের পাতা বানালে না!”। দৈত্য প্রজাপতিটা রাগে আর লজ্জায় কাঁপতে লাগলো। কিন্তু কোনভাবেই মন্ত্র মনে করতে পারলো না। সবাই আবার বলল, “আমরা এখন তোমাকে একটুও ভয় পাইনা। এই বাগানের রঙিন ফুলের সব মধু আমরা খাবো। আমরা এখানে খেলবো। যদি পারো তবে আমাদের পাতা বানিয়ে দাও।” দৈত্য প্রজাপতিটা কোন মন্ত্রই মনে করতে পারছেনা। সে সব মন্ত্র ভুলেই গেছে। তাই রাগে, দু:খে আর কষ্টে সে কালো কালো বিশাল দুইটা পাখা মেলে উড়ে গেল অনেক দূরে। কত দূরে যে গেল সেই কথা কেউ জানেনা।

মুমিত: বাবু প্রজাপতি দুটো কি করল!

বাবা: বাবু প্রজাপতি দুটো আর সব প্রজাপতি মিলে বাগানে ফুলে ফুলে মধু খেল। খেললো। উড়ে উড়ে বেড়ালো। রাতে ওরা ঘুমোতে গেল। সকাল বেলা ঘুম থেকে জেগে ওরা সবাই অবাক। কাল যে লাল ফুলের মধু খেয়েছিলো তার পাখায় লাল রংয়ের ছোপ আকা। যে হলুদ ফুলের মধু খেয়েছিলো তার পাখায় হলুদ রংয়ের বাহার। আর যে নীল ফুলের মধু খেয়েছিলো তার পাখায় নীল নীল আভা। আর যে লাল আর হলুদ ফুলের মধু খেলছিলো তার পাখায় লাল আর হলুদের কারুকাজ। সব সাদা সাদা প্রজাপতির সাদা সাদা পাখা হয়ে গেছে রঙিন। সেই থেকেই প্রজাপতিরা পেল রঙিন রঙিন পাখা।

মুমিত: টুকটুকে লাল-নীল ঝিলিমিলি ছবি আঁকা পাখা?

বাবা: ঠিক বলেছো বাবাই। তুমি তো অনেক কিছু জানো। তবে যারা ঐ বাগানের মধু খায়নি তাদের পাখা কিন্তু সাদাই রয়ে গেল। তাই এখনও মাঝে মাঝে ছোট ছোট সাদা পাখার প্রজাপতি তোমার জানালায় উড়ে আসে।

মুমিত: কাল আমি যে সাদা প্রজাপতিটা ধরেছিলাম ও মধু খায়নি। তাই না বাবাই?

বাবা: সেটাই মনে হচ্ছে। এখন ঘুমাও বাবা। আর তুমি যদি সেই সাদা প্রজাপতিটাকে ছেড়ে না দিতে তবে সব সাদা প্রজাপতি তোমার স্বপ্নে এসে ওকে ছেড়ে দিতে বলতো। ওরা ভাবতো তুমি একটা দৈত্য প্রজাপতি।

মুমিত: আমি আর প্রজাপতি ধরবোনা। আমি দৈত্য প্রজাপতি হবোনা। আমি তোমার বাবাই প্রজাপতি। তুমি আমার চুলে বিলি কেটে দাও। আমি ঘুমাবো।


আমি মুমিতের চুলে বিলি কাটতে থাকি। এইসব রুপকথা একদিন ওর কাছে অর্থহীন মনে হবে। তাতে কি! পিতা আর পুত্রের এই সব স্মৃতি কথনই অর্থহীন হয়না। তাছাড়া, যাপিত জীবনের এই সব ছোট ছোট ঘটনাগুলোর চাইতে মহামূল্যবান আর কি আছে!!

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29405502 http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29405502 2011-07-01 16:08:36
প্রজেক্ট ছাগলিয়াফাইং ক্যারেক্টার ইন্সটালেশন (জটিল সাইন্স ফিকশন) আলমগীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়। রাজধানী শহরের খুব কাছের একটি শিক্ষা প্রতিস্ঠান। ইট পাথর কাঠের খাঁচার পরিবর্তে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি সবুজ আর নীরবতায় পরিপূর্ণ। নিসর্গের মাঝে শিক্ষালাভের মনোরম সুযোগ খুব কম বিশ্ববিদ্যালয়েই আছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি সেই গুটিকয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম।


২.
লোকালয় থেকে দূরের এই শিক্ষাপ্রতিস্ঠানে খুব গোপনীয়ভাবে চলছে একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প। মানুষের মাঝে অন্য কোন প্রানীর চরিত্র সংস্থাপনের গবেষনা করছেন কয়েকজন মেধাবী বৈজ্ঞানিক। তারা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, প্রাথমিকভাবে একজন মানুষের ভিতর ছাগলের চরিত্র সংস্থাপন করা হবে। কারন মূলত ছাগল একটি শান্ত প্রাণী। কোন মানুষের ভিতর ছাগলের চরিত্র সংস্থাপন কার হলে তার স্বভাবে যে পরিবর্তন ঘটবে তা সকলের নিকট বোধগম্য হবেনা। বোধগম্য না হবার কারণ হল মানব সমাজে ছাগলের গুণাবলী সম্পন্ন ব্যক্তির সংখ্যা অনেক।


৩.
গবেষকগণ মানুষ খুঁজতে শুরু করলেন। তারা খুব গোপনে মানুষ খুঁজছেন। কিন্তু গোপন এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়ল গুঁজব হয়ে। গুঁজবের উৎস অনুসন্ধান করে এগিয়ে এলেন একজন। এই মহত ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবিধাবাদী সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠান আন্দোলনে নিবেদিত প্রান এক ছাত্র সংগঠনের সভাপতি। তিনি গবেষকদের জানালেন একমাত্র ছাগল সমাজেই প্রকৃত সুবিধাবাদী সমাজতন্ত্র রয়েছে। তাই তিনি ছাগলের চরিত্র আয়ত্ব করতে চান।


৪.
গবেষকরা সফলভাবে ছাগলের চরিত্র সংস্থাপন করলেন। তারপর তাকে পর্যবেক্ষন করতে শুরু করলেন। প্রথম এক সপ্তাহ কিছুই বোঝা গেলনা। তারপর ধীরে ধীরে ছাগলভাব প্রকাশ হতে শুরু করল। একসময় দেখা গেল সবুজের প্রতি তার অগাধ ভালবাসা। বর্ষাকাল তার প্রিয় ঋতু। কারন জ্ঞানীরা বলেছেন এই বর্ষকালেই ছাগলে বাঘের গাল চাটতে পারে। বর্ষাঋতু এলেই সে বিষন্ন হয়ে বাঘের গাল খুঁজতে শুরু করে। কারনে বিনা কারনে যাকে তাকে গুঁতোতে আসে। অন্য ছাগল প্রকৃতির ব্যক্তিদের সান্নিধ্য সে উপভোগ করে। বিশেষ করে হার্বাল মাদক তথা গাঁজার প্রতি তার প্রকট আকর্ষন।


৫.
সুবিধাবাদী সমাজতান্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য নিবেদিত সংগঠনের সভাপতি অধ্যায়ন করতেন প্রাচীন মানববিদ্য ও এর ক্রমবিকাশ বিষয়ক বিজ্ঞান নিয়ে। ছাগলিয়াফাইং ক্যারেক্টার ইন্সটালেশনের পরে তার অর্জিত বিদ্যা আর ছাগল চরিত্র মিলে এক অদ্ভূত দূরারোগ্য সাইকোলিজিক্যাল ডিসঅর্ডারে সে আক্রান্ত হল । এই সাইকোলিজিক্যাল ডিস অর্ডার তার কাছের লোকরা বুঝতে পারলেও সে তা বুঝতে পারত না।


৬.
গবেষকরা নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে সাইকোলিজিক্যাল ডিসঅর্ডার-এর বিষয়টি গোপন করে গেলেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি জানান হয়নি। সে একসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ সমাপ্ত করলেন। মানুষ এবং ছাগলের দ্বৈত চরিত্র নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিরে এলেন রাজধানী শহরে।


৭.
বদি ভাই এককালে সমাজন্ত্র প্রতিস্ঠার জন্য নিবেদিত প্রান কর্মী ছিলেন। কোন এক সমাজতন্ত্রী পার্টির পলিটবুরোর সদস্যও ছিলেন। কিন্তু চরিত্রের ভিতর সুবিধাবাদী তেজ প্রবল হওয়ায় ধীরে ধীরে পূঁজিবাদের পূঁজারী হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলেন। পূঁজার বদৌলতে বদিউর রহমান বদি এখন মিডিয়া মোগল।

বদিউর রহমান বদি মানুষরুপী ছাগল চিনতে ভুল করেননা। তিনি তার একটি গালভরা কিন্তু বানিজ্যের ক্ষেত্রে অলাভজনক প্রকল্পে নিয়োগ দিলেন ঐ ব্যক্তিকে।


৮.
প্রকল্পে নিয়োগ পেয়ে তার ম্যা ম্যা অবস্থা। বাণিজ্যক্ষেত্রে অর্থহীন প্রকল্পটিতে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে কেউ কেউ অর্থপূর্ণ এবং গুরুত্বপূর্ণ করার জন্য চেস্টা করলেন। কিন্তু ছাগলিফাইড হওয়ার কারনে তিনি এই সকল ব্যক্তিকে গুঁতোতে শুরু করেন। তাদের দেখলেই ঢুঁস মারবার জন্য এগিয়ে আসেন। বদিউর রহমান বদি ভাই তার কালেকশনে এমন আজব চরিত্রের একজনকে যুক্ত করতে পেরে আনন্দিত হলেন। তবে অনেক খুঁজে মধ্যপ্রাচ্য থেকে একজন রাখাল যোগার করে দিলেন। কারন তিনি জানেন ছাগলের জন্য মারের উপর ওষুধ নাই। অবশ্য ছাগলের বিনোদনের জন্য দেশ থেকেই একজন স্বেচ্ছাসেবী চামচাকেও ম্যানেজ করে দিলেন।


৯.
সবকিছু ভালো চলছে। বদি সাহেবের মত মিডিয়ামোগলের অফিসে চাকুরী। নিজের চাইতে অধিক যোগ্যতার লোকগুলোকে ঢুঁস মারা আর গুতোনো। পেট্রো ডলারের দেশ থেকে রাখালের নির্দেশনা পালন। দেশী চামচার স্বেচ্ছাসেবায় শ্রম। তবুও মাঝে মাঝে ভিতরে কেমন একটা পরিবর্তন অনুভূত হয়। নিজেকে যেন তিনি নিজেই বুঝতে পারেন না।


১০.
দিন শেষে তিনি ঘরে ফিরেন। আয়নার সামনে দাড়ান। তারা চেহারাটা কেমন যেন আস্তে আস্তে পরিবর্তন হয়ে ছাগলের আকার ধারন করে। আগে মাঝে মাঝে হত। কিন্তু এখন নিয়মিত হচ্ছে। নতুন উপসর্গ যোগ হয়েছে। এখন কোন কথা বলতে শুরু করলেই হঠাৎ হঠাৎ "ম্যা...ম্যা"শব্দটি গলা দিয়ে বের হয়ে যায়। তিনি তখন কাশি দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেস্টা করেন।

এই বিষয়গুলো তাকে ভাবায়। তিনি কিছুই বুঝতে পারেননা। মাঝে মাঝে ভাবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের কাউকে বিষয়টি জিজ্ঞেস করতে হবে। তারাই বিষয়টির যথাযথ ব্যাখ্যা করতে পারবেন। কিন্তু ব্যস্ততার কারনে তার আর যাওয়া হয়না।


বি: দ্র: এই গল্পটি একটি বিজ্ঞান ভিত্তিক কল্পকাহিনী মাত্র। কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ঘটনার সাথে এই গল্পের মিল কাকতাল মাত্র। তবে কেউ যদি গল্পের নায়কে সাথে তার কোনরুপ মিল খুঁজে পান তবে তা প্রকাশ করুন এবং খোঁজ নিন আপনার শিক্ষাপ্রতিস্ঠানে অথবা এর আশেপাশে কোন গোপনীয় গবেষনা কার্যক্রম চলমান আছে কিনা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29291595 http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29291595 2010-12-17 23:55:04
মহান বিজয় দিবসে একটি অস্বাভাবিক(!) পোস্ট আজ মহান বিজয় দিবস। জাতি আজ পরম প্রাপ্তীর ক্ষনকে উদযাপন করবে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ধারাবিহকতার চূড়ান্ত পরিণতি আমাদের মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং অর্জন। অথচ স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকেই আমরা বদলে গেছি। প্রতিদিন আমরা স্বাধীনতা সংগ্রামের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য আর নি:স্বার্থ দেশপ্রেম থেকে সরে গেছি। ঐক্যবদ্ধ অর্জনকে দ্বিধা বিভক্ত করেছি এবং দ্বিধাবিভক্ত করে চলেছি প্রতিদিন, প্রতিক্ষন।

২.
১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর থেকে ২০১০-এর ১৬ই ডিসেম্বর। এই দীর্ঘ সময়ে স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস যতটুকু বিকৃত হয়েছে আর কিছু হয় নাই। বিনএনপি-এর শাসনামলে আমলে প্রতিষ্ঠিত করার চেস্টা চলেছে যে, শহীদ রাস্ট্রপতি মেজর জিয়াউর রহমান ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক। আর আওয়ামী শাসনামলে মেজর জিয়াউর রহমানকে একজন পাকিস্তানী গুপ্তচর হিসেবে চিহ্নিত করার চেস্টা চলছে। অথচ তার স্বাধীনতার ঘোষনা যতটুকু বিতর্কিত হউক তিনি যে একজন বীর সেক্টর কমান্ডার ছিলেন এই বিষয়ে কোন বিতর্ক নেই। অপর পক্ষে, আওয়ামী শাসনামলে স্বাধীনতা-কে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর একক অর্জন হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেস্টা চলেছে এবং চলছে। ৭ মার্চের ভাষনকে স্বীধনতার ঘোষনা পরিপূরক করবার চেস্টা করা হচ্ছে। প্রকারন্তরে, বিএনপি স্বাধীনতা সংগ্রামের এই মহান নেতাকে চিত্রায়িত করার চেস্টা করছে একজন পলায়নপর সুবিধাবাদী ব্যক্তি হিসেবে। কারন তিনি ২৫ মার্চ রাতে আত্নসমর্পন করেছিলেন। অর্থাৎ আমাদের সম্মিলিত মহান অর্জন এখন দুই ব্যক্তির উত্তরসূরীদের কর্মকান্ডে দুই ব্যক্তির নামে দখল স্বত্ব নির্ধারন ও প্রতিষ্ঠার বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে।

৩.
মহান স্বাধীনতা অর্জনের চার দশক অতিক্রান্ত হল। আজ পর্যন্ত আমরা মহান মুক্তিযোদ্ধাদের একটি নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নহীন তালিকা পায় নাই। যাদের দায়িত্ব ছিল এটি সম্পাদনের তারা বিবেকের তাড়নায় তাড়িত হন কিনা জানিনা। তাদের প্রতি “ছি:” শব্দটি উচ্চারন করতেও করুনা বোধ করি।

৪.
মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষন বা ২৬ মার্চের স্বাধীনতা ঘোষনার মাধ্যমে শুরু হয় নাই। মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধ একটি ধারাবাহিক সংগ্রামের পরিণতি। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে বা বেগবান হয়। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় অনেকের নিরলস অবদান রয়েছে। অথচ তাদের নাম খুব সুচতুরভারে মুছে ফেলার চেস্টা চলছে। আজকের প্রজন্ম ওসমানী সম্পর্কে অজ্ঞ, মাওলানা ভাসানী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক সম্পর্কে অজ্ঞ। মুজিব নগর সরকারের সদস্যদের সম্পর্কে আজকের প্রজন্ম অজ্ঞ। তরুন প্রজন্মকে জানান হচ্ছে খন্ডিত ইতিহাস। কারন যত কম জানবে ততবেশী দখলী সত্ব প্রতিষ্ঠার আন্দোলন মানবে।

৫.
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখন শস্তা রাজনৈতিক কৌশল। এই বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে সরকারের আচরন রহস্যময় এবং ধারাবাহিক নতুন নতুন ইস্যু তৈরী করে বিচার পক্রিয়া বিলম্বের চেস্টা স্পষ্ট দৃশ্যমান। এই বিচার কর্মকান্ডের সবচাইতে বড় ফাঁক হচ্ছে হানাদার পাকিস্তানী বাহিনীর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ না এনে তাদের এদেশের দোসরদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হচ্ছে। বিচার কার্যক্রমও খন্ডিত হচ্ছে। অথচ পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীসহ তাদের সকল এদেশীয় দোসরদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সকলকে বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং বিচারকার্য সম্পাদন করে শাস্তি প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। আশংকা হয়, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কর্মকান্ড আবার আগামী নির্বাচনের ভোটের হিসাবের সমন্বয়ক না হয়ে দাড়ায়।

৬.
মহান বিজয় দিবস উদযাপন আজ শুধু উদযাপনেই সীমাবদ্ধ। আমাদের অর্জিত মহান স্বাধীনতাকে আজ পর্যন্ত আমরা অর্থবহ করে তুলতে পারি নাই। এই ব্যর্থতা আমাদের সকলের। এই লজ্জা দুটি প্রধান রাজনৈতিক দল ব্যতীত আমাদের সকলের।

বি:দ্র: মহান স্বাধীনতা দিবসে এমন একটি মন খারাপ করা পোস্ট প্রদানের জন্য দু:খিত। তবে যা বলার তা সরাসরি বলতেই ভালবাসি। তাই এই করুন ও লজ্জাস্কর কথাগুলো সরাসরিই বললাম।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29290723 http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29290723 2010-12-16 13:18:23
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের চমক... সবই দেখি তানা..না..না.. ১.
আজ ১৪ ডিসেম্বর। আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। জাতির জীবনে এক আবেগঘন দিন; এক গভীর শোকময় অধ্যায়। ঢাকায় ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর হতে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয় তাদের স্মরনেই এই দিবসটি পালন করা হয়। ২৫শে মার্চ রাতে যে নিধনযজ্ঞ শুরু হয়েছিল তার ধারাবাহিকতায় খুন করা হয় জাতির মেধাবী সন্তানদের। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের প্রথম প্রহরে হানাদার বর্বর পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী এবং তাদের এদেশীয় দোসরদের হাতে নিহত দেশের সকল বুদ্ধিজীবীর প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।

জাতি শ্রদ্ধায় এবং শোকে পালন করবে এই দিবসটি। কারন, আমাদের পরম সৌভাগ্য যে কর্পোরেট কোম্পানী আর কর্পোরেট মিডিয়ার কালো থাবা এখনও দিনটিকে উৎসবের মোড়কে আবদ্ধ করতে পারে নাই। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, মহান স্বাধীনতা দিবস আর বাংলা নববর্ষ অনেক আগেই কর্পোরেটদের বাণিজ্য উপকরণে পরিণত হয়েছে। বিশেষত মহান ভাষা আন্দোলনকে গ্রামীন ফোন আর দৈনিক প্রথম আলো - এই দুই কর্পোরেট প্রতিস্ঠান মিলে কয়েক মিনিটের একটি আন্দোলন হিসেবে প্রদর্শন করতে চেয়েছে।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে বর্বর হানাদার বাহিনী নরপিশাচের মত বাঙালী নিধন শুরু করেছিল । সেই ভয়াল রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক, ছাত্র এবং অন্য কর্মচারীরা মৃতুবরণ করেন। রোকেয়া হলও তাদের পৈশাচিক আক্রমন থেকে রক্ষা পায়নি। তবে বাঙালি এই নিধনযজ্ঞ দেখে স্তব্ধ হয়ে যায়নি। ভীত হয়ে পরাজয় মেনে নেয়নি। বরঞ্চ নির্মম নৃশংস এই নিধন বাঙালীর দ্রোহের আগুনকে দারুনভাবে জ্বালিয়ে দিয়েছিল। সেই দ্রোহী আগুনের আলোয় বীর বাঙালী অল্প সময়ের মাঝেই সুসংগঠিত হয়ে বর্বর হানাদার বাহিনীর ওপর পাল্টা আঘাত হানতে শুরু করে। প্রশিক্ষিত একটি সেনাবাহিনীর বর্বরতাকে অগ্রাহ্য করে তাদের পর্যদুস্ত করে তোলে।


২.
পূর্বেই উল্লেখ করেছি, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস মূলত ঢাকায় ১০ ডিসেম্বর থেকে ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ তারিখের মধ্যে যে সকল মেধাবী সন্তানদের হত্যা করা হয় তাদের স্মৃতির প্রতি স্মরন করে পালিত হয়। কিন্তু যুদ্ধের দীর্ঘ নয় মাসে অসংখ্য মেধাবী শিক্ষক, ডাক্তার, প্রকৌশলীসহ বহু দক্ষ পেশাজীবীদের হত্যা করা হয়েছে। যাদের হত্যা করা হয়েছে তাদের প্রতি অভিযোগ ছিল তারা আওয়ামী লীগ সমর্থক অথবা মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তাকারী। কেউ কেউ ছিলেন অন্ধ আক্রোশের শিকাড়। অনেককে হত্যা করা হয়েছে বিদ্বেষবশত বা উন্মত্ত প্রতিহিংসায়। প্রকৃতপক্ষে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের এদেশীয় দোসরা যখন যাকে হত্যা করার প্রয়োজন মনে করেছে তাকেই হত্যা করেছে। লাশ গুম করেছে অথবা গনকবর বা নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছে। পাকিস্তানী বাহিনী এবং তাদের এদেশীয় দোসরা যুদ্ধের শেষভাগে আক্রোশ, প্রতিহিংসা আর একটি নতুন জাতিকে মেধাশূণ্য করার জন্য পরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবীদের খুন করেছে। এই হত্যাকান্ডও যুদ্ধাপরাধ বা বর্তমান সরকারের সংশোধিত ভাষ্য যুদ্ধকালীন সময়ে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।

স্বাধীনতার পর থেকেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়টি শস্তা রাজনৈতিক কৌশল আর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং বর্তমানেও ব্যপকভাবে হচ্ছে। মাননীয় আইনমন্ত্রী বলেছেন যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়ে এই মাসেই তিনি একটি চমক দিবেন। তিনি নতুন কি চমক দিবেন তিনিই জানেন। কারন মন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই তিনি শুধু চমক দিয়েই যাচ্ছেন। কাজের কাজ কি হচ্ছে তিনিই ভালো বলতে পারবেন। তার এক তথ্যের সাথে পরবর্তী তথ্যের মিল বা ধারাবাহিকতা নেই বললেই চলে। ক্ষমতাগ্রহনের পর থেকেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম পরিচালনার বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহন এবং পরবর্তীতে ইউটার্নে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন এখন তার স্বাভাবিক আচরন বা চমকে পরিণত হয়েছে। তার এই সকল চমক যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়ে সরকারের আন্তরিকতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বারবার।


৩.
আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের বিভিন্ন অনুস্ঠানে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী এবং সরকারী দলের নেতারা আবার নতুন করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করবেন। তাদের এই দৃঢ় অবস্থান লোক দেখানো কর্মকান্ডের বেশী কিছু নয়। কারন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়ে আন্তরিকতা থাকলে ক্ষমতা লাভের এক বছরের মধ্যেই বিচার কার্যক্রম শুরু করা যেত। অন্তত বুদ্ধিজীবীদের হত্যায় জড়িতদের সাধারন আইনেও বিচারের আওতায় আনা যেত। সেটা করা হয় নাই, কারন মৃত বুদ্ধিজীবী এবং মুক্তিযোদ্ধা অপেক্ষা পার্টি পালিত বুদ্ধিজীবী এবং ভোটের রাজনীতি আজ অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তব প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের রাজনীতি এখন এক উর্বরা বাণিজ্য ক্ষেত্র। বাণিজ্যে লাভই মূলকথা। তেমন রাজনীতিতে যে কোনভাবেই ক্ষমতাসীন হওয়া মূল লক্ষ্য। ব্যবসার ক্ষেত্রে যেমন আপোষ আর হিসাব করতে হয় তেমনই রাজনীতির ক্ষেত্রেও আজ আপোষ আর হিসাবই মূল ভূমিকা পালন করে। তাই আজ সফল ব্যবসায়ীরা রাজনীতিবিদ আর জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ বা তাদের স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যগন সফল ব্যবসায়ী।

অত্যন্ত কষ্টকর সত্য এই যে, স্বাধীনতার পরবর্তী বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন সরকার থেকে শুরু করে স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের সরকার এবং তাদের দু'জনের উত্তরসূরীদের কোন সরকারই যুদ্বাপরাধীদের বিচারের বিষয়ে এবং বুদ্ধিজীবীদের হত্যাকান্ডের বিচারের বিষয়েও আন্তরিক ছিলনা এবং এখনও নাই। তারা শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসকে কিছু শোকাচ্ছন্ন কথামালা আর দৃপ্ত শপথ গ্রহনের আনুস্ঠানিকতার ব্রাকেটে আবদ্ধ রাখতে সচেষ্ট ছিলো এবং আছে। বুদ্ধিজীবী হত্যার সহযোগীদের বিচারের জন্য বিশেষ আইনের প্রয়োজন ছিলনা। হত্যা এবং লাশ গুমের বিচারের আইনেই রাস্ট্র মামলা দায়ের, পরিচালনা এবং দোষীদের শাস্তি প্রদান নিশ্চিত করা যেত।


৪.
১৯৭১ সালে সাধারন থেকে অসাধারন হয়ে ওঠা মুক্তিযোদ্ধারা প্রশিক্ষিত এক ভয়ংকর সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন । অথচ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্রিয়া, আসামী বা সন্দেহভাজনদের তালিকা, সরকারের প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্য মন্ত্রীদের বক্তব্য পর্যলোচনা করলে এই ধারনা জন্মাতে বাধ্য যে নিজামী, গোলাম আজম আর দেলোয়ার হোসেন গং বা জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করেছিলেন। ইতিহাস বিকৃতির এই ধারাবাহিক প্রচারনার বিরুদ্ধে যাদের সোচ্চার হওয়া উচিত ছিল তাদের অধিকাংশই আজ কোন না কোন বৃহদ রাজনৈতিক দলের অনুগত এবং বাধ্যগত সুবিধাভোগী কর্মী, পদলেহনে আজ তারা পান যথার্থ তৃপ্তি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ১৯৭৩ সালে উপমহাদেশে শান্তি রক্ষার লক্ষ্যে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত পাকিস্তানি সৈনিকদের ক্ষমা করে দিয়েছিল। এই শান্তিরক্ষার ধারনার সাথে বর্তমানে যোগ হয়েছে ভোট আর ক্ষমতালাভের হিসাব। সেই হিসাবের আলোকেই চলছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সকল কার্যক্রম। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়টি বর্তমান ডিিসরকারের প্রধান এজেন্ডাগুলোর অন্যতম ছিল। কিন্তু ভোট, বাণিজ্য, ক্ষমতালাভ আর স্বার্থসিদ্ধির এক জটিল গোঁজামিলের হিসাব মিলাতে গিয়ে সরকারের বয়স বাড়ছে। কাজের কাজ কিছুই হচ্ছেনা।

মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী সংগঠন আওয়ামী লীগ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিশ্চিত ও শাস্তি বাস্তবায়নে পাশে নিয়েছে হোমো এরশাদকে। আওয়ামীলীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের সবচাইতে শক্তিশালী দল এরশাদের জাতীয় পার্টি। অথচ ১৯৭১ সালে এরশাদ-এর ভূমিকা ছিল বিতর্কিত। যুদ্ধকালীন সময়ে তিনি সকল আনুগত্য নিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানেই ছিলেন । মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিতে চাওয়া এবং যোগ দেয়া সেনাসদস্যদের বিচারের জন্য যে মার্শাল ল কোর্ট গঠন করা হয়েছিল তিনি সেই কোর্টের সদস্য হওয়ার সৌভাগ্য(!) অর্জন করেছিলেন। বাস্তবতা হল আজ নীতিহীন ভোটের হিসাব আওয়ামীলীগকে বাধ্য করেছে বিতর্কিত এক লোককে নিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করার কর্মযজ্ঞ সম্পাদনে এগিয়ে(?) যেতে।


৫.
আমি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই। খন্ডিত বিচার নয়। দলীয় বিচার নয়। নয় প্রতীকী বিচার। আমার ধারনা এই স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে আপনিও বিচার চান। আপনিও আমার মত খন্ডিত, দলীয়, প্রতীকী বিচার চাননা। আসুন আমরা একতা বদ্ধ হই। আমরা মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে পাকিস্তানী সেনা এবং তাদের এদেশীয় দোসরসহ সকল যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে নিজনিজ অবস্থান থেকে লড়াই চালিয়ে যাই। আমরা সকলে সোচ্চার না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবেই ব্যবহৃত হবে। ভোটের হিসাব আর ক্ষমতায় যেয়ে ফায়দা লোটার শস্তা বাক্যে পরিণত হবে আমাদের পরম চাওয়া "যুদ্ধাপরাধীদের বিচার" শব্দযুগল।

৬.
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে সকলের নিকট আবেদন, আসুন আমরা খোলস ছেড়ে বের হয়ে আসি। আমরা পোষা বেড়াল নই। আমরা উচ্চকিত হলেই আমার গলা থেকে আর মিউ মিউ শব্দ বের হয়না। আমরা সম্মিলিত হলেই আমাদের কণ্ঠস্বর মিউ থেকে হালুমে পরিণত হয়।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29289230 http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29289230 2010-12-14 01:39:30
বিব্রত ঈশ্বর এবং ধ্যাত শালা মিস হয়া গেল (ফান পোস্ট).. বিব্রত ঈশ্বর

অর্পিতা অসম্ভব রুপবতী। অর্পিতা ওর পিতার আদরের কণ্যা আর ওর মাতার চোখের মনি। তারা কখনও ওর সাথে খারাপ ব্যবহার করেন না। শাসনের বিধি নিষেধও নেই।

অসম্ভব সুন্দরী মেয়ে একটা অযোগ্য গোয়াড় ছেলের প্রেমে পড়বেনা এটা বাঙালী সমাজে অসম্ভব। আর ষোল বছর বয়সে সব কিছুই রঙিন ও স্বপ্নময়। সেই স্বপ্নের মোহজালে বিদ্ধ অর্পিতা সেই অযোগ্য ছেলের হাত ধরে পালিয়েছে। গাঢ় প্রেমের টানে গোপন পলায়ন।

আর দশটা বাঙালী মেয়ের মত অর্পিতা চিঠি লিখে গেছে। বাবা আর মাকে চিন্তা করতে না করেছে। তার কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চেয়েছে। তাদের সুখের জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতে বলেছে।

চিঠি পড়ে বাবা মা হতভম্ব। আদরের সন্তানের এমন কৃতকর্মের জন্য দুজনই গভীর দু:খে আপ্লুত। দুজন বিলাপ করছেন। অর্পিতার বাবা বিলাপ করছেন,”হা ঈশ্বর তুমি এটা কি করলে…হা ঈশ্বর তুমি এটা কি করলে…”। অর্পিতার মা অশ্রু বিসর্জন করছেন আর মাঝে মাঝে বলে উঠছেন, “মা অর্পিতা, ফিরে আয় মা.. ঈশ্বর এই ছিলো তোমার মনে… তুমি আমার মেয়ে কে ফিরিয়ে দাও.. ঈশ্বর তুমি অর্পিতাকে আমার কাছে ফিরিয়ে দাও…”।

অর্পিতার বাবা-মার বিলাপে ঈশ্বরের দরবার বারবার প্রকম্পিত হচ্ছে। দেবদূতরা সন্দেহজনক দৃষ্টি নিয়ে ঈশ্বরের দিকে তাকাচ্ছেন। তাদের দৃষ্টির ভাষা ঈশ্বর বুঝতে পারছেন। তারা যেন বলতে চাইছে , “হা ঈশ্বর আপনিও… ছি: ছি: ছি:..”।

সংসার সাজানোর স্বপ্ন নিয়ে অর্পিতা চলছে। অর্পিতার বাবা-মার বিলাপ চলছে। ঈশ্বরের প্রতি দেবদূতদের দৃষ্টিপাত চলছে। শুধু ঈশ্বর ভাবছেন অর্পিতার বাবা-মা কেন তাকে দোষারোপ করছেন!! তিনি তো তাদের মেয়েকে নিয়ে পলায়ন করেন নাই।

অর্পিতার বাবা-মা’র বিলাপ নিয়ে ঈশ্বর ব্রিবত বোধ করছেন। দেবদূতদের দৃষ্টিবাণ তাকে চরম বিব্রত করছে।



ধ্যাত শালা মিস হয়া গেল

অনেক দিন পরে দুই বন্ধুর দেখা। একজন আজ নিবেদিত প্রাণ ধর্মযাজক। অন্যজন সফল ব্যবসায়ী। দু’জনের পছন্দের খেলা গলফ। বহুদিন পর দেখা হবার পরে দুজনের তুমুল আলোচনা। আগের দিনগুলোর স্মৃতি রোমন্থন।

স্মৃতিতাড়িত দুজন পুরানো দিনের মত গলফ খেলতে গেলেন। গলফ কোর্টে ব্যবসায়ী অতি উত্তেজিত হয়ে যান। তিনি অশালীন বাক্য আওড়ান। এটি তার পুরানো অভ্যাস। তাই ধর্মযাজক বন্ধু তাকে সাবধান করে দিলেন অশালীন কথা না বলার জন্য। কারন ঈশ্বর অশালীন বাক্যকে অপছন্দ করেন।

খেলার মাঠের চিত্র অনেকটা এরকম। ব্যবসায়ী প্রথমবার ব্যর্থ হলেন। আস্তে করে বলে উঠলেন, ‘ধ্যাত শালা .. মিস হয়ে গেল।” ধর্মযাজক তাকে সাবধান করে দিলেন অশালীন কথা না বলবার জন্য। আবার ব্যবসায়ী ব্যর্থ হলেন এবং বলে উঠলেন,” ধ্যাত কুত্তর বাচ্চা বল… যা শালা মিস হয়ে গেল।” আবার ধর্মযাজক তাকে সাবধান করে দিলেন। ব্যবসায়ী অনেক দিনের অনভ্যাসের কারনে আবার ব্যর্থ হলেন এবং চিৎকার করে উঠলেন, “শুয়োরের বাচ্ছা বল… কুত্তার বাচ্চা স্টিক… মামদার পো কোর্ট ….। যা শালা…আবার মিস হয়ে গেল।” এবার ধর্মযাজক বললেন, “তুমি আর একবার অশালীন কথা বললে আমি ঈশ্বরের কাছে তোমাকে শাস্তি দেবার জন্য প্রার্থনা করবো। ব্যবসায়ী তুমুল উত্তেজিত হয়ে আরো অশালীন গালিগালাজ শুরু করলেন।

ধর্মযাজক প্রার্থনা করছেন, “ঈশ্বর, তুমি এই অশালীন বাক্য বর্ষনকারীকে শাস্তি দাও। ঈশ্বর তুমি এই অশালীণ বাক্য ব্যবহারকারীর হাত হতে আমাদের রক্ষা কর।” ধর্মযাজকের প্রার্থনায় ঈশ্বর সাড়া দিলেন। গলফ কোর্টের উপরের আকাশে ভয়ানক কালো এক টুকরো মেঘ উড়ে এলো। বিজলী চমকাচ্ছে। সেই বিজলী থেকে আকাশ কাঁপিয়ে বজ্রপাত। বজ্রপাতে ধর্মযাজক মৃত্যুবরন করলেন। ব্যবসায়ী বন্ধু অবাক চোখে তাকিয়ে আছেন।

গলফ কোর্টে উপস্থিত সকলে গায়েবী আওয়াজ শুনলেন…” ধ্যাত শালা মিস…হয়া গেল….” ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29282739 http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29282739 2010-12-03 09:16:09
আমরা বাঘ…আমরা বাঘ…আমরা বাঘ… (ফান পোস্ট) পুলিশ সদস্যদের নির্বাচনের জন্য নির্বাচক কমিটি যুক্তরাস্ট্র পুলিশ, যুক্তরাজ্য পুলিশ এবং বাংলাদেশ পুলিশকে একটি দায়িত্ব দিল। দায়িত্বটি হল নির্ধারিত জঙ্গল থেকে ১০টি করে বাঘ ধরে নিয়ে আসতে হবে। সময় মাত্র চব্বিশ ঘন্টা।

যুক্তরাস্ট্র পুলিশ বাঘ ধরতে গেল। তারা তিনদিন পর দশটি বাঘ নিয়ে ফিরে এলো। নির্বাচকরা দেরীর কারন জানতে চাইলেন। যুক্তরাস্ট্র পুলিশের দলনেতা বললেন,” আমরা জঙ্গি হামলার সাথে জড়িত বাঘদের শুধু আটক করেছি। তাই দেরী হয়েছে। যদি যে কোন বাঘ আটক করতাম তবে ১২ ঘন্টার মধ্যেই ফিরতে পারতাম।”
নির্বাচকরা আনন্দিত হলেন।

যুক্তরাজ্য পুলিশ বাঘ ধরতে গিয়ে ফেরত এলো পাঁচ দিন পরে। তারা ধরেছে দশটি বাঘ। তাদের কাছে দেরীর কারন জানতে চাইলেন নির্বাচকরা। যুক্তরাজ্য পুলিশের দলনেতা বললেন, “আমরা দেখেছি কোন নিরাপরাধ বাঘ যেন হয়রানির শিকার না হয়। তাই যাদের ক্রিমিনাল রিপোর্ট আছে শুধু তাদেরই আটক করে নিয়ে এসেছি।”

নির্বাচকরা আনন্দিত হলেন।

বাংলাদেশের পুলিশ বাঘ ধরতে গিয়ে ফিরে এলো পনের দিন পর। তারা সাথে করে নিয়ে এসেছে তিনটি ছাগল। নির্বাচকরা দেরী হওয়ার কারন জানতে চাইলেন। বাংলাদেশ পুলিশ দলের দলনেতা জানালেন, ” স্যার আমরা ছয় ঘন্টার মধ্যেই দশটা বাঘ আটক করেছিলাম। তাদের নিয়ে আসবার সময় ওত পেতে থাকা অন্য সন্ত্রাসী বাঘেরা আমাদের উপর অতর্কিতে হামলা চালায়। আমরা পাল্টা গুলি চালালে পাঁচটি বাঘ মারা যায়। তবে সন্ত্রাসীরা তাদের চামড়া খুলে নিয়ে যায়। আর বাকী পাঁচটা বাঘ পালিয়ে যায়।”

নির্বাচকরা এবার প্রশ্ন করলেন, “আমরা ছাগল দিয়ে কি করবো?”

বাংলাদেশ পুলিশ দলেন দলনেতা বললেন, ” স্যার, আমাদের কাছে তিন দিনের রিমান্ডে দেন। দেখবেন এই ছাগল গুলিই বলবে ‘আমরা বাঘ…আমরা বাঘ….আমরা বাঘ….”]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29279598 http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29279598 2010-11-28 18:20:02
জ্বিনের বাদশা এই মাত্র আমাকে ফোন করেছিলেন..আমি বড়লোক হয়ে গেছি..
এই সুবর্ণ সুযোগ হেলায় হারাবেন না।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29276892 http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29276892 2010-11-24 04:16:12
সবাই উর্দ্ধে....আমরা এক উর্দ্ধমূখী জাতি...

এই দেশে সবাই সবার উর্দ্ধে। আমরা এক উর্দ্ধমূখী জাতি।

প্রমান-১
বাংলাদেশ একমাত্র দেশ যেখানে রাজনৈতিক নেতারা মিথ্যা বলার অধিকার ভোগ করেন। নিজেদের রং বদলান যখন তখন।

হরতাল প্রিয় নেত্রী এখন ক্ষমতাসীন। তিনি এখন হরতালের বিরুদ্ধে ক্রমাগত কথা বলছেন। হরতালে জনজীবন বিপর্যস্ত হয় এটিও বলছেন। তিনি শুধু বলছেন না যে তিনি তার আহ্বানে পালন করা হরতালে জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ায় লজ্জিত এবং ক্ষমাপ্রার্থী এবং দু:খিত।

কারন তিনি জবাব দিহীতার উর্দ্ধে।

প্রমান-২
গোলাম বিবির বাক্সের কল্যাণে বর্তমান বিরোধী দলীয় নেত্রী গণতন্ত্রের আপোষহীন নেত্রী যখন ক্ষমতাসীন ছিলেন তখন হরতালের বিরুদ্ধে ক্রমাগত কথা বলে গেছেন। আজ হরতালের পক্ষে কথা বলছেন। তিনি বলছেন না যে, তার সময়ে হরতালে বাধা দানের জন্য তিনি অনুতপ্ত, ক্ষমাপ্রার্থী এবং লজ্জিত।

কারন তিনি জবাবদিহীতার উর্দ্ধে।

প্রমান-৩
এই দেশে একজন রিকশা চালক চাইলেও ট্রাফিক আইন ভাঙতে পারেন। কারন তিনি আইনের উর্দ্ধে।

প্রমান-৪
এই দেশে পুলিশ চাইলে যে কোন আসামীকে ছেড়ে দিতে পারেন। যে কোন নির্দোষ ব্যক্তিকে আসামীতে পরিণত করতে পারেন।
কারন তিনি সত্যের উর্দ্ধে।

প্রমান-৫
এখানে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছে করলেই বাজারকে অস্থির করতে পারেন। যে কোন অবস্থায় দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে মুনাফা লুটতে পারেন।
কারন তিনি সুবিবেচনার উর্দ্ধে।

প্রমান-৬
এই দেশের বাণিজ্যমন্ত্রী বক্তব্য প্রদান করে দায়িত্ব শেষ করতে পারেন।
কারন তিনি সমালোচনার উর্দ্ধে।

প্রমান-৭
এই দেশের কর্পোরেট সংবাদপত্র বিজাতীয় সংস্কৃতিকে আমদানী ও প্রতিষ্ঠিত করে, সেনাশাসকের নেতৃত্বাধীন তত্বাবধায়ক সরকারের তাবেদারী করে দেশের অবিতর্কিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিতর্কিত করে লজ্জাহীনভাবে আবার দেশকে ভালোবাসার ক্যাপসুল গিলাতে পারে।

কারন তারা সকল লজ্জাহীনতার উর্দ্ধে।

আরো প্রমান আছে। আসুন আমরা একটি উর্দ্ধমূখী লিস্ট বানাই।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29276733 http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29276733 2010-11-23 21:46:35
এক পোস্টার দো কাহানী (একটি চরম মর্মান্তিক ফান পোস্ট)..

যে পত্রিকা এত গভীর আহ্বান জানায় সেই পত্রিকার মালিক পক্ষ অবশ্যই দেশকে নিয়ে অনেক ভেবেছেন। মা'কে নিয়ে অনেক ভেবেছেন। এই দেশের মূল জনসংখ্যার ৮০ ভাগ লোক দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করে। এই দেশ বা মা নিজেও দরিদ্র। তাই দেশ তথা মায়ের স্বাস্থ্য উন্নয়নের মহত উদ্দেশ্যে তারা এই দেশে আমদানী করেছেন বিদেশী মুরগীভাজা তথা


এখানেই শেষ নয়। এর আগেই তারা দেশ তথা মায়ের জন্য আমদানী করেছিলেন বিদেশী কিমারুটি অর্থাৎ

পিজা হাটের পিজ্জা।

হয়তো আগামী দশ বছরে মায়ের স্বাস্থ্যের জন্যই আসবে চেইন পাব বা বার। মায়ের বিনোদনের জন্য আসবে চেইন ডিসকো। সবকিছুতো মায়েরই জন্য।

এরা যে কত কিছু করে রে......

বাণিজ্য মূল কথা, বাকী সব চতুরতা ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29269589 http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29269589 2010-11-10 05:26:19
নূর হোসেন, আমরা গাধার পিঠে উল্টো হয়ে বসে আছি.. আমরা সামনে যাচ্ছি..

আজ আওয়ামী লীগ নূর হোসেন দিবস উদযাপন করবে। নূর হোসেন শরীরে 'গণতন্ত্র মুক্তি পাক' শ্লোগান লিখে মিছিলে গিয়েছিল। কিন্তু ঘাতকের গুলি তাকে ঘরে ফিরতে দেয়নি। নূর হোসেন যে আদর্শ, বিশ্বাস এবং স্বপন নিয়ে মিছিলে গিয়েছিল সেই আদর্শের ধারকরা আজ তার হত্যাকারীর পরম সখা। ১৯৯৬ সালে নূর হোসেনের আদর্শের দল বিপুল জনপ্রিয়তা নিয়ে ক্ষমতায় আসীন হয়। ক্ষমতাকে মসৃন করতে তারা ঘাতক এরশাদের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলিকে একে একে দূর্বল করতে থাকে। যাদের ১৯৯৬-২০০০ সময়কালের আওয়ামী লীগের ঐক্যমতের সরকারের কথা মনে আছে তাদের নিশ্চয়ই এটাও মনে আছে ঐক্যমত বাস্তবায়নের জন্য স্বৈরাচার এরশাদ কত সহজে উপহার হিসেবে একের পর এক জামিন পেয়ে গেলেন। তার বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো পরিণত হতে শুরু করল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মামলা হিসেবে।

আওয়ামীলীগের নেতৃত্বাধীন ঐক্যমতের সরকারের পর ক্ষমতাসীন হয় বিএনপি'র ডালভাতের সরকার। তারা এবার আর এরশাদকে কদর করতে ভুল করে নাই। তারাও এরশাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে। অবশ্য শাসনামলের শেষ দিকে চতুর এরশাদ ডিগবাজী দিয়ে পুরানো বন্ধুদের সাথে যোগ দিয়ে মহাজোট গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। নিজেদের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক দল হিসাবে দাবী করা আওয়ামীলীগ ‍‍নিবর্াচনী ‍বৈতরনী পার আর সরকার গঠনের জন্য স্বৈরাচারের প্রাণ পুরুষ এরশাদকে নিয়ে জোট গড়ে। এই মহাজোট গড়ার জন্য গণতন্ত্রের মানসকণ্যার কোনরুপ দ্বিধাবোধ বা লজ্জা নামক অনুভূতিটি ক্রীয়াশীল হয়েছিল কিনা জানা নাই।

আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটের অন্যতম নির্বাচনী ওয়াদা 'যুদ্ধাপরাধীদের বিচার' সম্পাদন। ১৯৭১ সালে হোমো এরশাদের ভূমিকা ছিলো বিতর্কিত। তিনি তখন অবস্থান করতেন পশ্চিম পাকিস্তানে। যতদূর জানা যায় তিনি সেখানে বাঙালী অফিসারদের বিচারের জন্য যে মার্শাল কোর্ট গঠন করা হয়েছিল তার সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তার ভূমিকা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারনা পাওয়া যায় তার একটি সাম্প্রতিক মন্তব্যে। মাসখানের আগে তিনি বলেছেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আওয়ামীলীগের একক নির্বাচনী এজেন্ডা, মহাজোটের বা জাতীয় পার্র্টির এজেন্ডা নয়।' মহাজোটের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের কোন নেতাই এরশাদের এই বক্তব্যের উত্তরে কিছু বলেন নাই। কারন তারাও সত্যটা জানেন। অথচ বিতর্কিত যুদ্ধাপরাধীর সাথে জোট গড়ার ক্ষেত্রেও স্বাধীনতা যুদ্বে নেতৃত্ব দেওয়া দলের নেত্রী বা কোন নেতা হীনমন্যতায় ভুগেন নাই। কারন ক্ষমতাই শেষ কথা, বাকী সব বাতুলতা।

আজ আওয়ামী লীগ মহা সমারোহে শহীদ নূর হোসেন দিবস পালন করবে। মহাজোটের অন্যান্য শরীক দলও দিবসটি পালন করবে। নূর হোসেনের চেতনা বাস্তবায়নের কথা বলবে। অথচ মহাজোটের শরীক একটি দল যে এই দিবসটি ভুলে যেতে চায় তাদের পালের গোদাকে নূর হোসেন হত্যাকান্ডের জন্য বিচারের মুখোমুখি করবে না। কারন গণতন্ত্রের জন্য জীবন উতসর্গ করা নূর হোসেন অপেক্ষা জীবিত এরশাদ ভোটের রাজনীতিতে অনেক বেশী লাভজনক। নেতাদের কাছে গণতন্ত্র বাজে কথা, নূর হোসেন ফালতু সেন্টিমেন্ট( বছরের একটি দিনে যাকে নিয়ে বড়জোড় হইচই করা যায়), কাজের জিনিস হল ভোটের হিসাব আর মসনদ লাভের তরীকা। তাই স্বৈরাচার আর গণতন্ত্র মিলেমিশে একাকার। মহাজোট একদিন আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবে। অবশ্য ডিজিটাল গণতন্ত্র আমরা পেয়ে গেছি।


নূর হোসেন-এর শ্লোগান ব্যর্থ হয়নি। গণতন্ত্র মুক্তি পেয়েছে। গণতন্ত্র মুক্তি পেয়েছে দেশ থেকে। এমন এক দেশ থেকে যেখানে মীরজাফররা কখনো মরে না। আমাদের ইতিহাস বিজয়ের ইতিহাস, আমাদের ইতিহাস মীর জাফরদের পূনঃ বাসিত করার ইতিহাস।


নূর হোসেন, আমরা গাধার পিঠে উল্টো হয়ে বসে আছি। আমরা সামনে যাচ্ছি। আমরা গণতন্ত্রে আছি, স্বৈরতন্ত্রেও আছি। আমরা ক্ষমতালোভী মৌমাছি। তুমি লোভহীন মরে গেছ সেই ভাল।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29269570 http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29269570 2010-11-10 03:07:21
শেষ প্রশ্ন (ফান পোস্ট) মানসিক হাসপাতাল। একজন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। তার সমস্যা তিনি কাঁচ সহ্য করতে পারেন না। দীর্ঘদিন যাবৎ চিকিৎসা চলছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার আরোগ্য লাভের জন্য নিরলস চেষ্টা করে যাচ্ছেন।


২.
দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে তিনি এখন সুস্থ। তিনি এবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাবেন। নতুন করে জীবন শুরু করবেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে রিলিজ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছেন। কিন্তু সমস্যা সৃস্টি করলেন একজন বয়স্ক ডাক্তার। তিনি বললেন, মেডিক্যাল বোর্ডের সামনে রোগীকে উপস্থিত করতে হবে। তার একটা ইন্টারভিউ নিতে হবে। রোগী যদি ইন্টারভিউয়ে নিজেকে স্বাভাবিক প্রমান করতে পারেন তবেই তিনি রিলিজ পাবেন।


৩.
পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট মেডিক্যাল বোর্ড। চারজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আছেন। আর আছেন ঝামেলা সৃষ্টিকারী বয়স্ক ডাক্তার। রোগী বোর্ডের কাছে ইন্টারভিউ দিচ্ছেন।

১ম ডাক্তার: আপনি কি মনে করেন আপনি সুস্থ?
রোগী: জ্বি স্যার। আমি মনে করি আমি সুস্থ। জীবনের লম্বা একটা সময় কাঁচ কাঁচ করে নষ্ট হয়ে গেল। কেন যে এমন হয়েছিল আজও বুঝতে পারিনা।

২য় ডাক্তার: জীবনে অনেকগুলো সময় নস্ট করে ফেলেছেন। এখন এই সময় কিভাবে পূরন করবেন?
রোগী: স্যার হারানো সময় কি আর ফিরে আসে! তবে জীবনটা নতুন করে শুরু করবার চেস্টা করব।

৩য় ডাক্তার: কি ভাবে নতুন করে শুরু করবেন?
রোগী: হাসপাতাল থেকে বের হয়ে এই কস্টকর অতীত ভুলে যাব। তারপর একটা ছোট ব্যবসা করবো। একটা ভালো মেয়েকে বিয়ে করবো। সে যেন হয় মমতাময়ী। যেন আমার অতীত স্মৃতি নিয়ে কটাক্ষ না করে। এমন অসাধারন একটা মেয়েকে খুঁজে পাওয়া সহজ হবেনা। তবুও এমন একটি মেয়েকেই বিয়ে করবো।

৪র্থ ডাক্তার:বিয়ের পরে কি করবেন?
রোগী:বিয়ের পরে মানুষ কি করে! সংসারী হব। তবে বিয়ের পরে প্রথমেই বউকে নিয়ে হানিমুনে কক্সবাজার যাব। দুজন মিলে অনেক মজা করবো। হাতে হাত রেখে সমুদ্র সৈকতে ঘুরে রেড়াবো। সূর্যোদয় দেখবো। সমূদ্রের ঢেউয়ে ভিজবো। দুইহাতে নুড়ি কুড়াবো।

চারজন ডাক্তার কড়া চোখে বয়স্ক ডাক্তারের দিকে তাকালেন। তারা আগেই জানতেন রোগী সুস্থ। শুধু শুধু সময় নষ্ট করার কোন অর্থ হয়! রোগীকে রিলিজ দেয়ার বিষয়ে এখন আর কোন বাঁধা নেই।


৫.
ইন্টারভিউ বোর্ডে পিনপতন নীরবতা। চারজন সদস্য বয়স্ক ডাক্তারের দিকে তাকিয়ে আছেন। তাদের চোখে ক্রোধ আর বিষন্নতা। তাচ্ছিল্য করে একজন বললেন," আপনি শেষ প্রশ্নটা করুন। প্রমান করুন যে উনি অসুস্থ। বয়স্ক ডাক্তার তাচ্ছিল্য অগ্রাহ্য করে প্রশ্ন করতে নড়েচড়ে বসলেন।

বয়স্ক ডাক্তার: আপনি মমতাময়ী একজন মেয়ের হাতে হাত রেখে সমুদ্র সৈকতে ঘুরে রেড়াবেন! সূর্যোদয় দেখবেন! সমূদ্রের ঢেউয়ে ভিজবেন! দুইহাতে নুড়ি কুড়াবেন!
রোগী: জ্বি স্যার। জীবনটা উপভোগ করবো। হানিমুন উপভোগ করবো।
বয়স্ক ডাক্তার: জীবন উপভোগ করবেন। বেশ ভালো কথা। কিন্তু আপনি নুড়ি দিয়ে কি করবেন?
রোগী: দু'হাত ভরে নুড়ি কুড়াবো। তারাপর হোটেলের জানালার কাঁচে ছুড়ে ছুড়ে মারবো। কক্সবাজারের সব হোটেলের কাঁচ নুড়ি মেরে মেরে ভেঙে দিব। কাঁচ ভাঙতে যে কি আনন্দ!!!!


(এই জোকসটি ইংরেজীতে পড়েছিলাম। খুবই সংক্ষিপ্তাকারে। নিজের মত করে লিখলাম। আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম।

সতত শুভ কামনা আপনার জন্য, সকলের জন্য।)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29265999 http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29265999 2010-11-03 04:46:03
আমার প্রেমিকা জলের মত..
ফেরদৌসদের বাড়ির পাশে বড় পুকুর। সান বাঁধানো ঘাট। এই ঘাটে বসলে মন উদাস হয়ে যায়। এমন দুপুরে ফেরদৌস জানাল সে একজনকে ভালোবাসে। তার প্রেমিকা জলের মত। এই পুকুরকে দেখলেই মনে হয় তার প্রেমিকা দুই বাহু মেলে দিয়ে তাকে ডাকছে। আমি ভাবি প্রেমে পড়লে মানুষ কত কিছুই না বলে!

পুকুরে মাছ ধরা হবে। জাল ফেলা হয়েছে। ফেরদৌসও জেলেদের সাথে আছে। জাল টেনে তোলা হল। বড় বড় মাছ। মাছের তরপানি। মাছ মারার নেশায় কেউ খেয়াল করিনি ফেরদৌস নাই। টাটকা মাছ ভাজা খেতে গিয়ে ফেরদৌসের খোঁজ পড়ল। ও কোথাও নেই। খোঁজ খোঁজ খোঁজ। একজন বলল পুকুরে খুঁজতে। আমার মাথায় ওর বলা কথাগুলো ঘুরছে " জানিস বাবু, আমার প্রেমিকা জলের মত। সে আমাকে ডাকে। ডাকে বারবার। ডাকে অবিরত।"ফেরদৌসকে খুঁজে পাওয়া গেল। সানবাধানো ঘাটের ঠিক পাশে। নিথর দেহ। প্রানহীন। মুখে এক টুকরো স্মিত হাসি।

সবাই হারিয়ে যেতে পারেনা, কেউ কেউ পারে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29260520 http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29260520 2010-10-24 15:02:31
রোদ্রভূত রোদ্র ভুতের খপ্পরে,
ভাবছো তুমি শরতকালে,
আষাঢ়ে কোন গপ্পোরে!!

নাঁকী সুরে বলল আমায়
চাঁদের কঁনা পাঁপ্পুরে,
দু'টো ইঁলিশ মাঁছ কিঁনে দেঁ
ভীষঁণ ক্ষিঁধে বাঁপ্পুরে।


দিনের বেলা দেখছি ভূত
মারবো চোখে গাট্টা কি!
মাছের জন্য বায়না ধরে
নিছক শুধু ঠাট্টা কি!!


বললো ভূত ছ’মাস আঁগে
গিঁলেছিলাম ফঁরমালিন,
তাঁই’তো আঁর ঘূঁম আঁসেনা
জেঁগেই থাঁকি রাঁত্রিদিন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29257654 http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29257654 2010-10-19 11:54:47
অক্ষমের মন্তব্য প্রতিবেদন/ আর্সেনিক মৃত, ভূমিকম্প উন্মাদনা চরমে: ইহার পরে কি!!
আমাদের প্রধান সমস্যাসমূহ কি আমরা কস্মিনকালেও বুঝিতে পারি নাই। ইহা আমাদের ব্যর্থতা। এই প্রেক্ষাপটে, আমাদের সমস্যাসমূহ বিভিন্ন আর্ন্তজাতিক সংস্থা এবং দাতা সংস্থাসমূহ গভীরভাবে অনুধাবন করিবার ইজারা লইয়াছেন। তাহারা আমাদের জানাইয়া দেয় কখন কি লইয়া আমাদের চিন্তিত হইতে হইবে। আমরা সেই সকল নির্ধারিত বিষয়ে সকলে মিলিয়া চিন্তিত হই। বিভিন্ন মিডিয়া, এনজিও, সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কর্পোরেট বিজ্ঞাপনী সংস্থাসমূহ সেই সকল চিন্তাকে সফলভাবে দু:শ্চিন্তাতে পরিনত করিয়া থাকে। সেই দু:শ্চিন্তাকে সরল সাধারন মানুষের মাঝে ছড়াইয়া দেয়। ফলে সীমাবদ্ধ আতংক সার্বজনীন আতংকে রুপান্তরিত হয়। ইহার পরে তাহারাই সার্বজনীন দু:শ্চিন্তা ও আতংক হইতে আমাদের উদ্ধারের জন্য আহার নিদ্রা ভুলিয়া ঝাপাইয়া পড়ে। বর্তমান সময়ে সার্বজনীন আতংক ও দু:শ্চিন্তার জন্য নির্ধারিত বিষয় হইতেছে ’ভূমিকম্প’।

আজ যুব সংগঠন সমূহের সমন্বয়কারী একটি সংস্থার সভায় উপস্থিত থাকিতে হইয়াছিল। সভায় দেখিলাম সকলে ভুমিকম্প হইতে জাতীকে রক্ষার জন্য অত্যন্ত ব্যকুল। একটি এনজিও দাতাদের সহযোগিতায় ভূমিকম্প হইতে মানুষকে সচেতন করিবার মহত উদ্দেশ্যে লিফলেট, কার্ড, পোস্টারসহ অন্যান্য সামগ্রী প্রস্তুত করিয়া রাখিয়াছে। উক্ত সংস্থার প্রধান জানাইলেন হাজার হাজার কপি ছাপাইয়া তাহারা ফেলিয়া রাখিয়াছেন। কেহ বিতরন করিতে চাহিলে তাহারা ঐ সকল আকর্ষনীয় লিফলেট, পোস্টার ও কার্ড আনন্দের সহিত সরবরাহ করিবেন। বিভিন্ন সরকারী দপ্তরেও দেখিয়াছি বর্তমানে তাহারা ভূমিকম্প বিষয়ক কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার প্রদান করিবার জন্য উন্মুখ হইয়া থাকেন। অবস্থা এমন যে, ভূমিকম্প ব্যতীত অন্য কোন বিষয় নিয়া ভবিবার মতন সময় হাতে নাই। অন্য বিষয়ে ভাবনা রীতিমতন হারাম।

ভূমিকম্প লইয়া অবশ্যই ভাবিতে হইবে এবং জনগনকে সচেতন করিতে হইবে। ইহাতে দ্বিমত করিবার অবকাশ নাই। কিন্তু ভূমিকম্প বিষয়ে আতংক ছড়াইয়া জনজীবন বিশেষত নগরজীবনকে কেন আতংকিত করিয়া রাখিতে হইবে তাহা আমার মতন স্বল্প বুদ্ধির মানুষের নিকট বোধগম্য নহে। আতংকগ্রস্থ করিবার কথা বলিলাম পূর্বের কিছু ঘটনার অভিজ্ঞতার আলোকে।

নিকট অতীতে জাতির মূল সমস্যা ছিলো আর্সেনিক। সরকারের বিভিন্ন দপ্তর আর এনজিও সংস্থাগুলির বদৌলতে আর্সেনিক আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যহত করিয়াছিলো। পানি পান করিবার সময় মনে হইত গ্লাস ভর্তি আর্সেনিক পান করিতেছি। মিডিয়ায় আর্সেনিকের বিষয়টি এমন ফলাও করিয়া প্রচার করা হইয়াছিল যে আর্সেনিক হইতে মুক্তি না পাইলে জাতি ধ্বংস হইয়া যাইবে। এই দেশে কেহই আর বাঁচিয়া থাকিবেনা। কিন্তু আকস্মাত আর্সেনিক হইতে জাতিকে উদ্ধারের আগ্রহ সংশ্লিষ্ট এনজিও ও সরকারী দপ্তরসমূহ হারাইয়া ফেলিল। মিডিয়া নিশ্চুপ হইয়া গেল। যাহারা বিষয়গুলি পর্যালোচনা করিয়া থাকেন বা খোঁজ খবর রাখেন তাহারা জানেন আর্সেনিক বিষয়ে এখন আর বিশাল ফান্ড বা অনুদান নাই। সংশ্লিষ্ট এনজিও, সরকারী ও আধাসরকরী দপ্তর ও কর্পোরেট বিজ্ঞাপনী সংস্থাসমূহের দেশাত্ববোদ ও জনগণের প্রতি কল্যাণবোধ এতই প্রখর যে ফান্ড বা অনুদানের আকার সীমিত হইবার সাথে সাথে তাহারা নীরব হইতে দ্বিধা বোধ করেনা। জাতিকে আর্সেনিক গ্রাস করিলে এখন আর কাহারো কিছু যায় আসেনা। আর্সেনিক পরিস্থিতি কতখানি ভয়ংকর ছিল আর জাতিকে আতংকিত করিয়া আর্সেনিক মুক্তি অভিযানে সামগ্রীক পরিস্থিতির কতখানি উন্নতি হইয়াছে তাহার কোন পরিসংখ্যান নাই। যে সকল এনজিও আর্সেনিক খেদাও আন্দোলনে ভুমিকা রাখিতে পারে নাই তাহারা সুযোগপ্রাপ্ত এনজিওসমূহ, তাহাদের কনসালন্টেট ও এনজিও মালিক তথা কর্মকর্তরা যে কত প্রকার উপায়ে লাভবান হইয়াছে তাহা প্রকাশ করিতে কুণ্ঠিত হয় না।

আর্সেনিকের পূর্বে ছিলো এইডস। বর্তমানে এইডস-এর বাজার মন্দা। কারন দাতাদের ফান্ড বা অনুদান নাই। এইডস-এর পূর্বে ছিলো গণশিক্ষা। উপ আনুষ্ঠানিক শিক্ষার লেবেলে জাতিকে শিক্ষিত করিবার জন্য সে কি অক্লান্ত প্রচেষ্টা। জাতিকে শিক্ষিত করিবার অভিযানে একজন ছাত্রকে তিনটি উপ আনুষ্ঠানিক বিদ্যালয়ে পড়িতে দেখিয়াছি। কারন এই সকল বিদ্যালয়ে পড়িলে নানারুপ সহযোগিতা পাওয়া যাইত। উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষার সেই রমরমা ভাব এখন আর নাই। কারন দাতাদের ফান্ড বা অনুদান নাই। উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষার পূর্বে ছিলো ডায়রিয়া। ডায়রিয়ার পূর্বে ছিলো পরিবার পরিকল্পনা।

ভূমিকম্প অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভূমিকম্পের মতনই ভয়ংকর বিষয় অগ্নিকান্ড। প্রতিটি অগ্নিকান্ডের ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা একটি উচ্চমাত্রার ভূমিকম্পের তুলনায় অনেক কম। কিন্তু সামষ্টিক হিসেবে অগ্নিকান্ডে বার্ষিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমান অনেক বেশী। কিন্তু অগ্নিকান্ডের বিষয়ে সচেতনতা সৃস্টিতে ফায়ার সার্ভিস ব্যতীত অন্য কাহারো আগ্রহ দেখা যায়না। সড়ক দুর্ঘটনায় বছরে কত লোক প্রান হারান তাহার সঠিক কোন পরিসংখ্যান নাই। এই সকল দূর্ঘটনার অন্যতম কারন চালকদের অসর্তকতা। চালকদের নিরাপদ চালকে পরিণত করিতে এবং সড়ক দূর্ঘটনার হার হ্রাসের জন্য সচেতনতা সৃষ্টি করিতে ইলিয়াস কাঞ্চনের ’নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলন আর বুয়েটের একটি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ব্যতীত অন্যান্য এনজিও ও সরকারী দপ্তরগুলির কোন কর্মযজ্ঞ নাই। কারন দাতারা এই সকল বিষয়ে অর্থায়নে আগ্রহী নহে। ইহাছাড়া এইখাতে বিশাল ফান্ড বা অনুদান নাই।

বর্তমানে পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে লোভনীয় ফান্ড রহিয়াছে। ভূমিকম্প বিষয়টি পরিবেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তন কার্যক্রমের সহিত সম্পৃক্ত করা যায়। যতদিন ফান্ড আছে ততদিন সাধারন মানুষকে ভূমিকম্প বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি অপেক্ষা আতংকগ্রস্থ করিবার ধারা অব্যাহত থাকিবে। ফান্ড শেষ হইলে ভূমিকম্প বিষয়টি স্তিমিত হইয়া যাইবে। তখন মনে হইবে এই দেশে ভূমিকম্প হইবার কোন সম্ভবনা নাই বা কোনকালেই ভূমিকম্প বিষয়ে আতংক সৃষ্টির কার্যক্রম ছিলনা।

ভূমিকম্প উন্মদনা একদিন শেষ হইবে। তারপর আসিবে নতুন কোন বিষয়। এই চক্র চলিতেই থাকিবে। এই চক্র ভাঙিবার শক্তি সাধারন জনতার নাই। তাহারা শুধু আতংকগ্রস্থ হইতে পারে। তাহারা সরল আর নিরাপদ জীবন যাপনে মহান সৃষ্টিকর্তার আকুল করুনা কামনা করিতে পারে। মহান সৃষ্টিকর্তা ছাড়া তাহাদের কথা শুনিবার আর কেহ নাই। ইহাই সত্য, ইহাই বাস্তব।


পূর্বে পোস্ট করা অক্ষমের মন্তব্য প্রতিবেদন-এর লিংক

অক্ষমের মন্তব্য প্রতিবেদন// সেনানীবাসের বাসস্থান : আপোষহীন নেত্রীর পক্ষে আপোষ প্রস্তাব আর সার্কাস চক্র
Click This Link

অক্ষমের মন্তব্য প্রতিবেদন: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনিই বিষয়টি মিমাংসা করিয়া দিন
Click This Link

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29256254 http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29256254 2010-10-16 22:19:47
অক্ষমের মন্তব্য প্রতিবেদন// সেনানীবাসের বাসস্থান : আপোষহীন নেত্রীর পক্ষে আপোষ প্রস্তাব আর সার্কাস চক্র
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসিবার পরেই বিরোধী দলীয় নেত্রীকে বাসস্থান হইতে উচ্ছদের বিষয়ে উদ্যোগী হয়। ইহা অস্বাভাবিক কিছু নহে। বিগত আওয়ামী সরকার তথা ঐক্যমতের সরকারের আমলের শেষ ভাগে বঙ্গভবনকে গণতন্ত্রের মানসকণ্যা ও তাহার পরিবারের নামে চিরস্থায়ী বরাদ্ধ বাস্তবায়ন এবং নিরাপত্তা সংম্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় নিশ্চিত করিবার জন্য আগ্রহী হইয়া ওঠে। তাহাদের মুল যুক্তি ছিলো প্রধানমন্ত্রীর নিরাপদ জীবনের জন্যই নিরাপদ বাসস্থান প্রয়োজন। তাহারা সংসদে গণতন্ত্রের মানসকণ্যার জন্য গণভবন এবং তাহার বোনের জন্য অন্য আর একটি সরকারী বাসভবন বরাদ্ধ করে। কিন্তু বিরোধী দল ছিলো বিএনপি। তাহারা ও তাহাদের সমর্থক মিডিয়াগোষ্ঠী বিষয়টি লইয়া নেতিবাচক প্রচারনা চালায়।ভোটের রাজনীতিতে ইহা প্রভাব ফেলে। পরবর্তীতে বর্তমান বিরোধীদল তথা বিএনপি ক্ষমতাসীন হইলে এই বরাদ্ধ বাতিল করে। সুতরাং এইবার ক্ষমতায় আসিয়া গণতন্ত্রের মানসকণ্যা সেনানীবাসের বাসস্থান হইতে গণতন্ত্রের আপোসহীন নেত্রীকে উচ্ছেদ করিবার বিষয়ে আগ্রহী হইবেন না- ইহা আকাশকুসুম কল্পনামাত্র। প্রকৃতপক্ষে চিরস্থায়ী বরাদ্ধের বিষয়টি হইতেছে গণতন্ত্রেরে মানসকণ্যা এবং গণতন্ত্রের আপোসহীন নেত্রীর বৃহত্তর প্রতিহিংসার রাজনীতি চলমান রাখার নিয়ামক পক্রিয়া।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবি সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন আরও বলিয়াছেন, দেশের আইনজীবী সমাজ জনগণের সহিত একাত্মতা ঘোষণা করিয়া এই বিষয়ে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হইবে।" দেশের জনগন দলীয় লেজুড়বৃত্তি করিয়া জীবনযাপন করেনা। দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রনহীন উর্দ্ধগতি লইয়া আপনারা চিন্তিত নহেন। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি লইয়া আপনাদের উদ্বেগ নাই। বিদ্যুত-এর যন্ত্রনা লইয়া আপনার সোচ্চার নহেন। একজন সাধারন মানুষ কিভাবে দিনযাপন করিয়া থাকে তাহা জানিবার প্রয়োজন আপনারা কোন কালেই বোধ করেন নাই। আপনাদের নিকট সকল কিছুর উর্দ্ধে নিজ নিজ দলের নেত্রী। এই দেশে যাহারা লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি করিয়া থাকেন তাহাদের নিকট দুই নেত্রী ঈশ্বরের চাইতেও অধিক ক্ষমতাবান। সাধারন মানুষের কাজকর্ম আছে। আপনি বলিলেই তাহারা একজন নেত্রীর বাসস্থান উদ্ধারে ঝাপাইয়া পড়িবে ইহা হাস্যকর তথ্যের বেশী কিছু নহে। তবে সাধারন জনগনকে লেজুড়বৃত্তির অংশ বলিয়া অপমানিত করিবার অধিকার আর কতদিন ভোগ করিবেন!

মাহবুব হোসেন আরো বলিয়াছেন, "দীর্ঘ ৩০ বছর পর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও আক্রোশের বশবর্তী হইয়া বর্তমান সরকার খালেদা জিয়াকে ওই বাড়ি হইতে উচ্ছেদের নোটিশ দিয়াছে।" সরকার উচ্ছেদের নোটিশ কতদিন পরে দিয়াছে সেই প্রশ্ন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হইল সেনানীবাসের বাসস্থানের বরাদ্ধ সঠিক হইয়াছিল কিনা এবং বর্তমান বিরোধী দলীয় নেত্রী নিজ আর্থিক সামর্থ্যের কথা বিবেচনা করিয়া সেনানীবাসের ঐ বাসস্থান রাখিবার মত মৌলিক যুক্তি উপস্থাপন করিতে পারিবেন কিনা। সেনানীবাসের বাসস্থান মানে সেনাবাহিনীর কাছাকাছি থাকা। আহা ক্ষমতা আর বন্দুকের নলের প্রতি আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের (এরশাদের ক্ষমতা দখলের পরে গণতন্ত্রের মানসকণ্যা অভিনন্দন জানাইয়াছিলেন) যতটা আস্থা তাহা যদি সাধারন জনতার উপরে থাকিত!!

তিনি বলিয়াছেন, "উচ্ছেদের বিষয়টি শুধু অনৈতিক নহে, মানবিক মূল্যবোধের বিরুদ্ধ।" মানবিক মূল্যবোধ বলিতে কি বুঝাইতে চাহিয়াছেন তাহা ব্যাখ্যা করিলে ভালো হইত। বিরোধী দলীয় নেত্রী বা গণতন্ত্রের আপোসহীন নেত্রী কি অত্যন্ত গরীব। তিনি নিম্ন আয়ের মানুষ!! তাহার সন্তানরা কি বেকার!! যদি তাহাই না হইবে তবে একটি বাসস্থানকে দখলে রাখিয়া মানবিক মূল্যবোধের লংঘন করিয়াছেন তিনি নিজে। লেজুড়বৃত্তির রাজনীতির ধারক বাহক হিসেবে উকিল সাহেব কালো কোটের মতন কালো চশমাও পড়িয়াছেন। তাই অনেক কিছুই তাহার চোখ এড়াইয়া যাইবে। আদালতের রায়ের আলোকে আপনারা কেন সোচ্চার হইবেন না যে এইরুপ বরাদ্ধ যাহাদের রহিয়াছে এবং যাহারা আর্থিক সামর্থ্য থাকা সত্বেও এইরুপ বরাদ্ধের সুযোগ ভোগ করিতেছেন তাহাদের বরাদ্ধ অতি সত্বর বাতিল করিতে হইবে।

তিনি বলিয়াছেন, "খালেদা জিয়ার বাড়ির বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এটি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত। দেশের মানুষ কোনো অবস্থাতেই খালেদা জিয়াকে বাড়ি হইতে উচ্ছেদ করিতে দিবে না। আইনের মারপ্যাঁচে অথবা যেকোনো কারণেই হোক হাইকোর্ট ওই আদেশ বহাল রেখেছেন। ফলে দেশে আজ এক ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে।’ বিদ্যুতের অভাবে কলকারখানা বন্ধ, জনজীবন অতিষ্ঠ অথচ বিরোধী দলের নিকট মূল ইস্যু নেত্রীর সেনানীবাসে বরাদ্ধ পাওয়া বাসস্থান। যুক্তি প্রদর্শন করুন। সাধারন জনগন আবেগী দৃশ্য বাংলা চলচিত্রেই উপভোগ করিয়া থাকে। এই ধরনের আবেগী বক্তব্য দিয়া তাহাদের বিনোদন প্রদান হইতে বিরত থাকিলে শোভন হয়।


তিনি বলিয়াছেন, "আমরা আইনের শাসন ও গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। " আপনারা যে আইনের শাসন আর গণতেন্ত্র বিশ্বাস করেন তাহা আপনাদের আচরন দেখিলেই অনুধাবন করা যায়। আপনাদের নিকট গণতন্ত্র আর আইনের শাসনের জীবন্ত মূর্তি হইল দলীয় নেত্রী। আপনারা আশাহত হইবেন না। কারন বর্তমান সরকারী দলের নিকটও দেশ, জনগন, গণতন্ত্র আর আইনের শাসনের জীবন্ত মূর্তি হইল তাহাদের নেত্রী। এই দুইমূর্তি অন্ধ অনুগতদের কল্যাণে সকল কিছু উর্দ্ধে। আমরা এক অস্থির আশাহীন সময় অতিক্রম করিতেছি। এই পরিস্থিতি হইতে উত্তরনের পথ আমাদের জানা নাই।

প্রতি পাঁচ বছর পর পর আমরা মেলার মাঠে সার্কাসের দল পরিবর্তন করিযা থাকি। আমাদের নিয়তি এতই খারাপ যে, দুইটার বেশী সার্কাসের দল আমাদের নাই। বাকী যাহারা আছে তাহারা এই দুইটি সার্কাস দলে ক্লাউন আর অঙ্গসজ্ঝার অস্থায়ী চাকুরীতে নিযুক্ত আছে।




তথ্যসূত্র:


খালেদার সেনানিবাসের বাড়ি/ আদালতের বাইরে সমাধান করার দাবি
Click This Link



অক্ষমের মন্তব্য প্রতিবেদন: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনিই বিষয়টি মিমাংসা করিয়া দিন
Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29255848 http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29255848 2010-10-16 04:00:07
অক্ষমের মন্তব্য প্রতিবেদন: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনিই বিষয়টি মিমাংসা করিয়া দিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জানি আপনি এই আম লেখকের মন্তব্য প্রতিবেদনটি পড়িবেন না। এই মন্তব্য প্রতিবেদন পড়িবার মনন সময় আপনার নাই। আপনাকে কেহ এই মন্তব্য প্রতিবেদনটির কথা বলিবেনা। তাহাদেরও সময় নাই। তবুও যাহার বলিয়া যাইবার স্বভাব সে স্বভাবদোষেই বলিয়া যাইবে। ইহাই স্বাভাবিক। এই দেশে আম মানুষের সংখ্যাই বেশী। আমি যেমন স্বভাব দোষে মন্তব্য প্রতিবেদন লিখিতেছি তেমন আমমানুষদের কেহ কেহ স্বভাবদোষেই এই মন্তব্য প্রতিবেদনখানা পড়িবেন। ইহাই শান্তি।


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, নির্বাচনকালীন জনসভার কথাগুলো আপনার নিশ্চয়ই মনে রহিয়াছে। যখনই বিদ্যুত প্রসঙ্গে কথা বলিয়াছেন তখন জনসভার মানুষ করতালিতে আকাশ পাতাল কাঁপাইয়া দিয়াছে। বিদ্যুত লইয়া যে দূনীর্তির কথা বলিয়াছেন মানুষ তাহাতে ধিক্কার জানাইয়াছে। আপনি বলিয়াছিলেন আপনাকে সরকার গঠনের সুযোগদান করিলে আপনি বিদ্যুত সমস্যার আশু সমাধান করিবেন। আমরা তাহা বিশ্বাস করিয়াছিলাম। আশায় ভোট দিয়াছিলাম। আপনি সরকার গঠন করিয়াছেন। আপনার সরকার গঠনের পর হইতে বিদ্যুত পরিস্থিতি আরো অবনতির দিকে ক্রমাগত ধাবিত হইতেছে। এই পরিস্থিতি উত্তরনে আপনাদের কার্যকর আশু কোন পদক্ষেপ দেখা যায় নাই।


বিদ্যুত সমস্যার সমাধানে ঘড়ির কাঁটা লইয়া আপনার বিজ্ঞ উপদেষ্ঠারা শিশুদের মত আচরন করিয়াছেন। ক্ষমতাসীন সরকারের গৃহপালিত প্রচার যন্ত্র বিটিভি আর সরকার সমর্থক বুদ্ধিজীবিগন গদগদ ভাবে আত্নতৃপ্তির ঢেকুর তুলিয়াছিলেন। বিদ্যুত সমস্যার সমাধান এত সহজে করা যাইবে ইহা ডিজটাল সরকারের ডিজিটাল উপদেষ্ঠা ছাড়া আরা কাহারা উদ্ভাবন করিবে। আম জনগন ভাবিয়াছে আহা এই সরকারকে কেন দুইটা করিয়া ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় নাই। তাহাতে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ যথাযথ হইত।


মান্যবর বিদ্যুত ও জ্বালানী উপদেষ্টা আর তাহার ঢোল বাদক মন্ত্রী মহোদয় ও ব্যান্ডপার্টির অন্যান্য সদস্যগন কাগজে কলমে বিদ্যুত পরিস্থিতির মুখস্থ উন্নয়নের কথা বর্ননা করিতে কান্ত হইতেন না। উল্লেখ্য যে, বিদ্যুত ও জ্বালানী উপদেষ্টার বিষয়ে প্রশাসনে মুখরোচক অনেক ঘটনা প্রচলিত রহিয়াছে। এই জ্বালানী উপদেষ্টা সরাসরি জানাইয়াছিলেন ঘড়ির কাটা লাইয়া বার্ষিক খেলাধূলার বিষয়টি চলিতেই থাকিবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি বিজ্ঞ মানুষ। তাই ঘড়ির কাটা লইয়া শিশুতোষ খেলা বন্ধ করিয়াছেন। কিন্তু বিদ্যুত পরিস্থিতির উন্নয়ন কতখানি হইয়াছে তাহা আপনিই ভালো বলিতে পারিবেন। বিদ্যুত পরিস্থিতি উন্নয়নে নতুন যে আইন করা হইয়াছে তাহাতে কমিশনখোরদের জন্য বিশেষ সুবিধা রাখা হইয়াছে। কমিশন নিশ্চিত করিবার প্রতিযোগিতায় বিদ্যুত পরিস্থিতির উন্নয়ন কতখানি হইবে তাহা প্রশ্নযুক্ত। তবে কাহারো কাহারো যে পৌষমাস আসিবে তাহা চোখ বন্ধ করিয়া বলিয়া দেওয়া যায়। ইহার জন্য জৌতিষী হইবার প্রয়োজনা নাই।


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণ আপনার অন্যতম ওয়াদা ছিলো। আমরা আমমানুষ ১০ টাকা সের চাউল খাইবার জন্য বায়না ধরা উচিত নহে বুঝি। কিন্তু যখন কোন কারন ছাড়া চাউলের মূল্য বৃদ্ধি পায় আর সরকার নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করিয়া যায় তখন আমাদের অভিমান হওয়া কি অস্বাভাবিক! ডিজিটাল সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রীর কি ক্ষোভ প্রকাশ ব্যতীত আর কিছুই করিবার নাই। বিডিআর হত্যাকান্ডের সময় তিনি যেইভাবে জঙ্গী তত্ব প্রমানে ব্যস্ত হইয়াছিলেন তাহার শতভাগের মধ্যে যদি ১০ ভাগ বাজার নিয়ন্ত্রণে মুখর হইতেন তবে আমাদের বাজারভীতি দূর হইত। তিনি সিন্ডিকেট ভাঙিতে যাইয়া নিজেই সিন্ডিকেটের সদস্যপদ লাভ করিয়াছেন কিনা তাহা তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি নিশ্চয়ই জানেন যে চাউলের দামের সহিত সরকারের জনপ্রিয়তা এবং ভোটের রাজনীতি ওতপ্রোতভাবে জড়িত।


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি সিরাজগঞ্জের ঘটনার জন্য বিএনপি নেত্রীকে দায়ী করিয়াছেন। আপনি কি ঘটিয়াছিলো এবং কেন ঘটিয়াছিলো তাহা আজ জানাইয়া দিয়াছেন। ডিজিটাল সরকারের সংশ্লিষ্ট বিষয়ক মন্ত্রী (যিনি নিয়ম লংঘন করিয়া নিজের দপ্তর সাজাইয়া বিতর্কিত হইয়াছিলেন) কি কি ঘটিয়াছিলো তাহা গতকাল বর্ণনা করিয়া দিয়াছেন। আপনি প্রকৃত ঘটনা মূহর্তেই উন্মোচন করিয়া দিয়াছেন। ঘটনা উন্মোচন করিবার পরেও উক্ত বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রয়োজনীয়তা কেন হইল তাহা বোধগম্য নহে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জনপ্রতিনিধি বাবু হত্যাকান্ড কি কারনে ঘটিয়াছে এবং কাহারা ঘটাইয়াছে তাহাও আজ আপনি বলিয়া দিয়াছেন। পত্রিকার ছবি ভুল হইতে পারে, প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরন ভুল হইতে পারে। কিন্তু আপনি’তো আর ভুল হইতে পারেন না। যাহাই ঘটিয়া থাকুক আপনার বক্তব্যই চিরসত্য। আপনি সকল ভুলের উর্দ্ধে (একসময় বিরোধী দলিয় নেত্রীও সকল ভুলের উর্দ্ধে ছিলেন। সরকারের পক্ষ হইতে এইবার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করিলেই হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, প্রতিদিন সংবাদপত্রের কাগজে আপনার দলের অংগ সংগঠন সমূহের দ্বন্দ্বের সংবাদ পাঠ করিতে আর ভালো লাগেনা। নিজ দলের অংগ সংগঠনসমূহের মধ্যে ঘটিয়া যাওয়া ঘটনার প্রকৃত স্বরুপ উন্মোচনে আপনার সাফল্যের হার শুন্য।


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার সরকারের স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা স্বাস্থ্য বিভাগে নিয়োগের একটি মৌখিক নীতিমালা নির্ধারন করিয়া দিয়াছেন। আপনি তাহার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেন নাই। সুতরাং ইহা সরকারের নীতি এই বিষয়ে দ্বিমত নাই। সরকারের সমালোচনা করিলে বদলীর মতন স্বাভাবিক ঘটনা ঘটিতে পারে বলিয়াও তিনি জানাইয়াছেন। (স্বল্প বুদ্ধির মানুষ বলিয়া বুঝিতে পারিতেছিনা স্বাভাবিক ঘটনাটি কেন স্বাভাবিক ভাবে ঘটিবেনা!! স্বাভাবিক ঘটানাটি ঘটাইবার জন্য কেন সমালোচনা নামক একটি ক্রিয়ার প্রয়োজন হইবে!!)। আপনার আরেক গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম আর স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর নিকট হইতে জানিয়াছি পাবনায় প্রশাসনের উপর হামলার কোন ঘটনা ঘটে নাই। শুনিয়া খুব আরামবোধ করিয়াছি। আবার লজ্জিতও হইয়াছি। কারন এই দেশের পত্রিকাগুলি মিথ্যুকের এক শেষ। পাবনার ঘটনা লইয়া তাহারা কতকিছুই না বানাইয়া বানাইয়া লিখিয়াছে। এক একটা সরল ছবিকে জঘন্য মিথ্যাচার দ্বারা আবৃত করিয়াছে। মাননীয় উপদেষ্টা আর প্রতিমন্ত্রী মহোদয় না থাকিলে’তো আমরা সত্যের সন্ধানই পাইতাম না। জাতীয় সংসদে এই সকল পত্রিকার সম্পাদকদের লইয়া কান মলিয়া দেওয়া উচিত। আশার কথা এই যে পাবনার ঘটনায় বদলীর মত স্বাভাবিক ঘটনা ঘটিয়াছে।


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, টেন্ডার লইয়া, ছাত্রাবাসের দখল লইয়া, জমিজমার দখল লইয়া,বদলী লইয়া, নিয়োগ লইয়া আপনার দলের এবং অংগসংগঠনের সদস্যদের মধ্যে বিরোধ থাকিবে। ইহাই স্বাভাবিক। কারন এই সকল ক্ষেত্রে ও যথাযথভাবে কর্ম সম্পাদনে আপনার দলের সকলের গভীর দায়িত্ব রহিয়াছে। কেহ কেহ স্বার্থপরের মতন এককভাবে দায়িত্ব পালন করিবে আর বাকীরা চাহিয়া দেখিবে তাহা হইতে পারেনা। কর্ত্যরে প্রতি ভালোবাসা হইতে আর দায়িত্ববোধ হইতে মাঝে মাঝে বচসা সৃষ্টি হয়। মাঝে মাঝে হলের ছাদ হইতে বিবাদমান গ্র“পের অন্য কোন নেতাকে ফেলিয়া দেওয়া হয়। অহরহ লাশ পড়ে। কেহ কেহ ইহাকে নেতিবাচকভাবে প্রকাশ করিয়া থাকে। অথচ দায়িত্বপালন আর কর্তব্যবোধের মহান চেতনাটি যে পশ্চাতে রহিয়াছে তাহা ভাবিয়া দেখেনা। এই প্রোপটে আপনার নিকট অম ব্লগারের আবেদন, আপনার স্বাস্থ্য উপদেষ্টা যেমন স্বাস্থ্য বিভাগে নিয়োগের বিষয় এবং বদলীর বিষয়টিকে মিমাংসা করিয়া দিয়াছেন আপনিও সকল টেন্ডার, নিয়োগ, ঠিকাদারী, হলের দখলসহ অন্যান্য বিষয়গুলিকে মিমাংসা করিয়া দিন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি নির্ভুল ও বিজ্ঞ মানুষ। আপনার বন্টননীতি অবশ্যই আপনার দল এবং অংগসংগঠনসমূহ মানিয়া লইবে। সংবাদপত্র ও মিডিয়াসমূহকে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন হইতে বিরত রাখিবার জন্য ইহার চাইতে কার্যকর কৌশল আর কি হইতে পারে!


প্রতিদিন ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় আর সংবাদপত্রে লাশের ছবি দেখিতে দেখিতে ক্লান্ত হইয়া গিয়াছি। মিথ্যা সংবাদ পাঠ করিয়া মিথ্যার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করিতে করিতে জাহান্নামে যাইবার পথ পরিষ্কার করিতেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি আমাদের ইহকালকে মিথ্যামুক্ত করুন; আমাদের পরকাল আজাবমুক্ত হইবে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29253916 http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29253916 2010-10-13 00:42:15
দোতলা বাড়ীর ছাদে সজীব মাঘের সকাল..
'নাস্তটা খেয়েনে বাবা' বলে
নিজ হাতে মমতায় মাখাতেন মা
ধোয়া ওঠা সাদা ভাত,
নয়া আলু, পোয়াতী সীম আর
ইলিশের বাসী তরকারী, জলপাই ডাল
দোতলা বাড়ীর ছাদে সজীব মাঘের সকাল..


খোকা ইশকুলে যাবে
ঘুম ঘুম চোখে,
গাঢ় কুয়াশার ভোরে
মায়ের স্নেহের ওম
সঞ্চারিত নীল সোয়েটারে,
সূর্য ম্লান তাপহীন লাল
দোতলা বাড়ীর ছাদে সজীব মাঘের সকাল..


খোকা ইশকুলে গিয়েছিলো
জেনে ছিলো বহু জ্ঞান কথা
বাসী খাবার ভালো নয় শিখেছিলো সে
সরল অংক কষে ছিলো জটিল বিশ্বাসে
কেটে গেছে কতকাল উথাল পাথাল
আজ তাকে পিছুটানে স্বপ্ন মাতাল
দোতলা বাড়ীর ছাদে সজীব মাঘের সকাল...

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29252261 http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29252261 2010-10-10 02:08:30
রুপকথা: একটা হাতি পাখি হতে চেয়েছিলো..
সতত শুভ কামনা আপনার জন্য, সকলের জন্য।)


মুমিত: বাবা একটা গল্প বলো।
বাবা: কোন গল্প?
মুমিত : ঐ যে গল্প.. কাল বলছো না... ঐ ওটা।
বাবা: কাল তোমাকে তিনটা গল্প বলেছি। কোন গল্পটা বলবো বাবাই!! কিসের গল্প!!
মুমিত: ঐ যে একটা হাতির গল্প... একটা লাল প্রজাপতি...
বাবা: বুঝেছি... আচ্ছা আমরা যেন গল্পটার নাম কি দিয়েছিলাম... ” একটা হাতি..
মুমিত : পাখি হতে চেয়েছিলো..
বাবা : পুরোটা বলো...
মুমিত : একটা হাতি পাখি হতে চেয়েছিলো....
বাবা: এক দেশ ছিলো। ঐ দেশে ছিলো একটা জঙ্গল। অনেক বড় জঙ্গল। অনেক বড় বড় গাছ। লম্বা লম্বা ঘাস।
মুমিত: ঘাস কি অনেক লম্বা.. ঐ যে ডিসকভারীতে দেখায়..
বাবা: হু.. তার চাইতেও বেশী লম্বা । ঐ জঙ্গলে ছিলো বাঘ, হরিণ, বানর, ঘোড়া, জিরাফ আর একটা বড়
মুমিত : হা......তি....
বাবা: ঠিক। ঠিক। ঠিক। একটা বড় হাতি। হাতিটার সুন্দর একটা শূড় ছিলো। ছোট্ট একটা লেজ ছিলো। মোটা মোটা চারটা পা ছিলো। আর বড় বড় দুটো কান ছিলো।
মুমিত: বাবা, হাতির দাঁত ছিলোনা?
বাবা: ছিলো। সাদা সাদা দাঁত। দুইটা বড় দাঁত।
মুমিত: হাতি কি দাঁত ব্রাশ করে?
বাবা : না বাবা। হাতিদের দাঁত ব্রাশ করতে নেই।
মুমিত: আমি ব্রাশ করি। তুমি করিয়ে দাও। তারপর?
বাবা: ঐ হাতিটার মন খুব খুব খুউউব খারাপ। মুখটাকে এক্কেবারে গোমড়া করে রেখেছে। তাই দেখে জিরাফ বললো , ” ও হাতি ভাই, তোমার কি হয়েছে গো?” হাতি বললো, ” জিরাফ ভাই, দেখো আমি দৌড়াতে পারি। আমি সাঁতার কাটতে পারি। আমি লাফাতে পারি। আমি ঝাপাতে পারি। কিন্তু আমি উড়তে পারিনা।” তখন জিরাফ বললো, ”হাতিদের উড়তে নেই। জিরাফদের উড়তে নেই। তাই আমিও উড়তে পারিনা। কই আমার দেখি মন খারাপ হয়না।” এই কথা শুনে হাতি রাগ করে অন্যদিকে তাকিয়ে রইলো। আর জিরাফটা লম্বা লম্বা পা ফেলে লম্বা গলাটা নেড়ে নেড়ে দূরে চলে গেল।
মুমিত : ও হাতিটা রাগ করেছে। তারপর?
বাবা: হাতিটা'তো রাগ করে বসে আছে। হাতিটার একটু একটু কান্না পাচ্ছে। তখন কোথা থেকে একটা জেব্রা এলো। জেব্রার গায়ে সাদা কালো দাগ। হাতির কাছে গিয়ে জেব্রা বললো, ”বস্, আপনার কি মন খারাপ?” হাতি বললো, ” হুম জেব্রা মিয়া, দেখো আমি দৌড়াতে পারি। আমি সাতার কাটতে পারি। আমি লাফাতে পারি। আমি ঝাপাতে পারি। কিন্তু আমি উড়তে পারিনা।” তখন জেব্রা বললো, ”বস্, আমি সাদা কালো প্রানী। আমি সারাদিন ভাবি আহা আমি যদি আপনাদের মত রঙিন হতাম। কিন্তু যখন নদীতে পানি খেতে যাই তখন আমার ছায়া নদীতে পড়ে। আমি সেই ছায়া দেখি। সেই ছায়া দেখে আমি ভাবি জেব্রাদের এই সাদাকালো রঙই ভালো। ” এই কথা শুনে হাতির রাগ আরো বেড়ে গেল। আবার হাতিটার কান্না শুরু হল। হাতির কান্না দেখে জেব্রাটা সবুজ ঘাসের উপর দিয়ে সাদাকালো পা ফেলে ফেলে জঙ্গলের ভিতর চলে গেল।

মুমিত: জেব্রাটা এখন ঘাস খাবে। জেব্রাটার ক্ষিধে পেয়েছে?

বাবা: হুম। জেব্রা ঘাস খেতে গেছে। আর হাতিটা শুড় দিয়ে চোখ মুছছে। তবু ওর চোখ দিয়ে পানি বের হচ্ছে। চোখের পানিতে সাদা চকচকে দাঁতগুলো ভিজে যাচ্ছে। এমন সময় একটা গাছের উপর একটা ময়ূর ডেকে উঠলো। হাতি বললো, ”এ্যায় ময়ূর শব্দ করোনা। আমার কিন্তু মন ভালো নেই।” ময়ূর বললো, ” ভুল হয়ে গেছে হাতি কাকা। আর শব্দ করবোনা। কিন্তু তোমার মন খারাপ কেন?” হাতি বললো, ” দ্যাখ ময়ূরসোনা, আমি কত জোড়ে দৌড়াতে পারি। নদীতে সাতার কাটতে পারি। আমি লাফাতে পারি। আমি ঝাপাতে পারি। কিন্তু পাখির মত উড়তে পারিনা।” ময়ূর বললো, ”এইজন্য তোমার মন খারাপ, কাকা? আমি পাখি। আমিও’তো আকাশে পাখা মেলে কবুতরের মত উড়তে পারিনা। আমার কি মন খারাপ হয়? হয়না। হাতি কাকা তুমি মন খারাপ করোনা।” কিন্তু হাতির মন আরো খারাপ হয়ে গেল।

মুমিত: প্রজাপতিটা বলো। লাল প্রজাপতি..

বাবা: ঐ জঙ্গলে ছিলো একটা লাল প্রজাপতি।
মুমিত: আমি তোমার বাবাই প্রজাপতি। লাল প্রজাপতি।
বাবা: তুমি'তো আমার সব। ঐ প্রজাপতিটার কি যে সুন্দর দুটো পাখা ছিলো। লাল রংয়ের পাখা। তাতে সাদা, নীল, হলুদ আর গোলাপী রঙের ছবি আঁকা। ঐ প্রজাপতিটা উড়ছে আর খেলছে। খেলতে খেলতে উড়ছে। আর উড়তে উড়তে খেলছে। হঠাত দেখে কি একটা হাতি খুব কান্না করছে। তখন প্রজাপতি বললো, ” তুমি এত্ত বড় হাতি। তুমি বাবুদের মত কান্না করছো কেন? তোমাকে কেউ বকেছে?” হাতি বললো, ” দেখো প্রজাপতি তুমি দৌড়াতে পারোনা। আমি দৌড়াতে পারি। তুমি সাতার কাঁটতে পারোনা। আমি সাঁতার কাটতে পারি। তুমি লাফাতে পারোনা। আমি লাফাতে পারি। আমি ঝাপাতে পারি। কিন্তু আমি তোমার মত উড়তে পারিনা। আমি প্রজাপতি হতে চাই না। আমি পাখির মত উড়তে চাই।” প্রজাপতি বললো, ”হা:...হা:...হা:... এত্ত বড় হাতি নাকি পাখির মত উড়বে হা:...হা:..হা:...” হাতি রেগে কটমট করে তাকালো প্রজাপতির দিকে। প্রজাপতি হাসতে হাসতে উড়ে চলে গেল।
মুমিত: তারপর ?
বাবা: তারপর? ঐ জঙ্গলের রাজা ছিলো একটা বাঘ। বাঘের কাছে গিয়ে জিরাফ, জেব্রা, ময়ূর আর প্রজাপতি বললো, ” রাজা মশায়, আমাদের জঙ্গলের বড় হাতিটা পাখি হতে চায়। উড়তে চায়।” বাঘ বললো, ”হাতি হয়ে উড়তে চায়? হাতিকে এখুনি ডেকে আন?” রাজার ডাক শুনে হাতি এসে হাজির। হাতি বললো, ”রাজা মশাই, আমি দৌড়াতে পারি। আমি সাতার কাটতে পারি। আমি লাফাতে পারি। আমি ঝাপাতে পারি। কিন্তু আমি উড়তে পারিনা। আমি পাখির মত উড়তে চাই।” বাঘ বললো, ” সত্যি উড়তে চাও?” হাতি বললো,” সত্যি ... সত্যি... সত্যি...।” বাঘ বললো, ” তবে তুমি এই জঙ্গলের পরে একটা লাল মাটির পাহাড় আছে। সেই পাহাড় থেকে অনেক দূরে একটা নীল নদী আছে। সেই নদীর তীরে একজন যাদুকর বাস করে। তুমি তার কাছে যাও। সে তোমাকে উড়তে সাহায্য করতে পারে।” এই প্রথম হাতির মুখে হাসি ফুটলো।

মুমিত: বাবা হাতিটা কি যাদুকরের কাছে একা যাবে?
বাবা: হুম। কেন?
মুমিত: হাতিটা একা একা হারিয়ে যাবেনা?
বাবা: না যাবেনা। হাতিটাতো অনেক বড়। বড় হাতিরা হারিয়ে যায়না।
মুমিত: তারপর? ঐ যে নদীর যাদুকর কি করেছিলো!!
বাবা: হাতিটা এবার জঙ্গল থেকে দৌড়াতে দৌড়াতে লালমাটির পাহাড়ের দিকে গেল। পাহাড় ডিঙিয়ে গেল নদীর কাছে। সেখানে সত্যিই একজন যাদুকর বসে ছিলেন। হাতি বললো, ”যাদুকর, আমি শুধ উড়তে চাই। আপনি আমাকে একটা ঈগল পাখি বানিয়ে দেন।” যাদুকর বললো, ”আমি তোমাকে উড়তে সাহায্য করবো। তবে তুমি কি পাখি হবে সেটা বলতে পারছিনা।” হাতি বললো, ”ক্যানো?” যাদুকর বললো, ” আমি উড়বার মন্ত্র পড়ে তোমাকে ফুঁ দিবো। তোমার বুদ্ধি যদি বেশী থাকে তবে তুমি হবে ঈগল পাখি। বুদ্ধি যদি কম থাকে তবে হবে চিল বা কাক। আর যদি বুদ্ধি আরো কম থাকে তবে তুমি হবে শালিক বা দোয়েল। তোমার বুদ্ধিই ঠিক করে দিবে তুমি কোন পাখি হবে?” হাতি বললো, ”আমি উড়তে চাই। উড়তে চাই। উড়তে চাই। আপনি এখনই মন্ত্র পড়ে ফুঁ দিন।” যাদুকর বললো,” ভেবে দ্যাখো হাতি একবার পাখি হলে আমি কিন্তু আর তোমাকে হাতি বানাতে পারবোনা। কারন হাতিদের উড়তে নেই।” হাতি বললো,” আমি উড়বোই। আপনি মন্ত্র পড়ুন। আপনি ফুঁ দিন।”

যাদুকর একটা কাঠি হাতে নিলো। তারপর আস্তে আস্তে মন্ত্র পড়ে অনেক জোরে একটা ফুঁ দিলো। ফুঁ দেওয়ার সাথে সাথে হাতিটা পাখি না হয়ে একটা তেলেপোকা হয়ে গেল। যাদুকর বললো, ”উড়ো। এখন তোমার পাখা আছে। তুমি পাখা নাড়লেই তিরিংবিরিং করে উড়তে পারবে।” হাতিটা বললো,” আমি পাখি হতে চেয়েছিলাম। তুমি আমাকে তেলেপোকা বানালে কেন?” যাদুকর বললো, ”আমি তোমাকে তেলেপোকা বানাই নাই। তোমার বুদ্ধি এক্কেবারে নাই। তাই তুমি ছোট পাখি না হয়ে তেলেপোকা হয়ে গেছ।” হাতি বললো,” আমি তেলেপোকা হবোনা। হবোনা। হবোনা। তুমি আমাকে হাতিই বানিয়ে দাও। আমার আর উড়ার ইচ্ছা নাই।” যাদুকর বললো, ” আমি তোমাকে আর হাতি বানাতে পারবোনা। অন্যকিছুও বানাতে পারবোনা। অন্য কোন মন্ত্রই আমার জানা নেই।”

হাতিটা তেলেপোকা হয়ে কান্না করে। ফড়ফড়িয়ে উড়ে আর যাদুকরের চারপাশে ঘুরে। হাতিটা যাদুকরকে বলে ”আমি আবার হাতি হতে চাই। হাতি হতে চাই। হাতি হতে চাই।” আর যাদুকর বলে, ” তেলেপোকাদের হাতি হতে নাই। হাতি হতে নাই। হাতি হতে নাই।”

আচ্ছা মুমিত হাতি পাখি হতে চেয়েছিলো। হাতির পাখি হতে চাওয়া কি ঠিক? মুমিত বিজ্ঞের মত মাথা নেড়ে বলে,”না,,না..না..”। ওর চোখ ভর্তি ঘুম। আমি মাথায় হাত বুলিয়ে দেই। ও ঘুমিয়ে যায়। কে জানে রাতে স্বপ্নে হয়তো দেখবো ওর প্রিয় হাতিটা তেলেপোকা হয়ে উড়ছে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29250195 http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29250195 2010-10-06 02:53:20
স্যালুট: এক মা আর তাঁর ছয় কন্যা সন্তান

একজন মায়ের মনোবল ও ইচ্ছাশক্তির মধ্য দিয়েই একটি পরিবারের সকল সন্তানকে সর্বোচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করা যায়। তিনি এই কথাটিকে নিজের মনোবল আর কুশলী দক্ষতায় বাস্তবে রুপান্তর করেছেন।


তাঁর এই সাফল্যের কথা জানবার জন্য অরনীর প্রতিমাসের পক্ষ থেকে আমরা উনার মুখোমুখি হয়েছিলাম। ৭৪ বছর বয়সেও তিনি সাবলীল বলে গেলেন তার নীরব সংগ্রামের সেই সব দিনের কথা। তার স্মৃতি চারনের সময় সাথে ছিলেন স্বামী আলহাজ্ব আবদুল আউয়াল।


উনিশ শত পঞ্চান্ন সাল। সেই বছরের ৪ জুলাই জনাব আবদুল আউয়ালের সাথে পারিবারিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। শুরু হয় সংসার জীবন। তিনি ছিলেন মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার মেয়ে। আর স্বামীর বাড়ি ছিলো একই জেলার বাউসিয়া গ্রামে। কিন্তু স্বামীর কর্মস্থল ছিল ঢাকায়। সেই সুবিধা সংসার জীবনের শুরুতে ঢাকায় চলে আসেন। রামকৃষ্ণ মিশন রোডে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু ঢাকার প্রথম অভিজ্ঞতা সুখকর ছিলো না। ঢাকায় বসবাসের অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই স্বামীর কর্মস্থলে কিছু সমস্যা দেখা দেয়। স্বামীর কর্মস্থলে সহকর্মীদের সাথে সৃষ্টি হয় ভুল বোঝাবোঝি। জনাব আউয়াল অভিমান করে চাকরিতে ইস্তফা দেন। তিনি নতুন চাকুরি গ্রহন করেন। নতুন চাকুরীর সুবাদে ঢাকা ছেড়ে সিরাজদিখানে যেতে হয়। সেখানে ছিলেন প্রায় ৪ বছর।


১৯৬১ সনে জনাব আউয়াল ঢাকা পৌরসভার পুরাতন চাকুরীতে ফিরে আসেন। সেই বছরই ১৮ নং এস কে দাস রোডস্থ বাসায় ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। ১৯৭১ সাল। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের বছর। সেই বছরের মে মাসে ৩নং ডিস্টিলারী রোডের বাসায় বসবাস করতে শুরু করেন। পরবর্তীতে বাড়িটি ক্রয় করেন। বর্তমানে সেই বাড়িতেই বসবাস করছেন।


সেই সময় বিয়ের পরপরই সন্তান নেওয়ার রেওয়াজ ছিলো। কিন্তু বিয়ের পরে কয়েক বছর অতিক্রান্ত হলেও সংসারে কোন নতুন অতিথির আগমন ঘটে নাই। এই নিয়ে পরিবারের ঘনিষ্ট জনরা চিন্তিত ছিলেন। দুশ্চিন্তায় ছিলেন মাকসুদা বেগম দম্পতি। এই চিন্তাটি প্রবল হবার আগেই কোল আলো করে আসে প্রথম সন্তান। কন্যা সন্তান। মাকসুদা বেগম দম্পতির দুশ্চিন্তা দূর হয়। আর বন্ধ হয় কারো কারো সমালোচনাময় মুখ। তিনি একে একে ছয় কন্যা সন্তানের জননী হন। তখন আবার পরিবারের ঘনিষ্ট কেউ কেউ চিন্তিত হয়ে পড়েন। চলে কানাঘুষা। এত কণ্যা সন্তান দিয়ে কি হবে। সংসারের বাতি জ্বালাবে কে। নানা ধরনের নেতিবাচক সমালোচনা।


দৃঢ় মনোবলের মাকসুদা বেগম একটুও বিচলিত হন নাই। মাকসুদা বেগম-এর মতই দৃঢ়চেতা ছিলেন স্বামী আলহাজ্ব আবদুল আউয়াল। তারা মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন প্রতিটি সন্তানকেই মানুষের মত মানুষ করবেন। এই সমাজে প্রতিষ্ঠিত করে যাবেন সকলকে। ছয় সন্তানের পর তিন ছেলে। তারপর আবার এক মেয়ে। সর্বমোট দশজন। আবদুল আউয়াল-এর সরকারী চাকুরী। ব্যক্তিগত জীবনে সৎ ব্যক্তি। বড় পরিবার নিয়ে দিন যায়। চলে জৌলুসহীন সাদামাটা মধ্যবিত্তের টানপোড়নের সংসার।


এই জৌলুসহীনতা আর সাধ ও সামর্থ্যের ফারাক কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে নাই। জনাবা মাকসুদা বেগম মেয়েদের স্থানীয় মনিজা রহমান বালিকা বিদ্যালয়ে ভর্তি করে দেন। সাত মেয়েই কৃতিত্বের সাথে এই স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করেছেন। টানাটানির সংসারেও তিনি মেয়েদের জন্য গৃহশিক্ষকের ব্যবস্থা করেছিলেন। পড়ালেখায় ভালো করায় তার সকল মেয়েই বৃত্তি লাভ করেন। ফলে সবাই বিনা বেতনে স্কুলে পড়ার সুযোগ পান। দ্বিতীয় মেয়ের এস এসসি পরীক্ষার বোর্ড ফি সরকার মওকুফ করে দেয়। মাকসুদা বেগম বলেন ছেলেরাও সর্বোচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত। সবাই মাস্টার্স করেছেন। তবে পেশাগত ক্ষেত্রে মেয়েদের থেকে ছেলেরা কিছুটা পিছিয়ে। এছাড়া ছোট ছেলে দুই বছর বয়সে পোলিও আক্রান্ত হয়। ফলে সে শারীরিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। এই দূরারোগ্য ব্যধিতে সে মানসিকভাবেও কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ফলে তাকে স্কুলে পাঠানো এবং প্রচলিত শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা সম্ভব হয় নাই। ছোট ছেলে ব্যতীত সকল সন্তানই বিবাহিত।


জনাব মাকসুদা বেগমের সকল সন্তানই সমাজে প্রতিষ্ঠিত। উনার বড় মেয়ে প্রথিতযশা চিকিৎসক। তিনি ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনী বিভাগের প্রধনা। উনার বড় মেয়ের মেয়ে অর্থাৎ নাতনী মায়ের পথ ধরে চিকিৎসক। এছাড়া বাকী ছয় মেয়ে তারা শিক্ষকতা পেশায় জড়িত আছেন। দুইজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন। দুইজন ভিকারুন্নেসা নুন স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষকতা করছেন । দুই জন মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজে কর্মরত আছেন। শেযোক্ত দুইজনের একজন মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষিকা। মেয়েদের মধ্যে প্রায় সকলেই পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেছেন।


পরিবারের প্রতিটি সন্তানকে সুশিক্ষিত করা এবং প্রতিষ্ঠিত করা অত্যন্ত দুরুহ কাজ। আর এই কাজটিই নীরবে বাস্তবায়ন করে গেছেন মাকসুদা বেগম। কেমন করে তিনি সফল হলেন? কি ছিলো সফলতার কৌশল। আটপৌরে জীবনে অভ্যস্ত মাকসুদা বেগম খুব সরল করে বললেন কোন কৌশল বা মন্ত্র ছিলোনা। মনের ভিতর ছিলো দৃঢ় প্রতিজ্ঞা। নিজের সন্তানদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত করে যাবো। সংগে ছিলো স্বামীর সহযোগিতা। নিজের সন্তানদের এমনভাবে গড়ে তুলতে চেয়েছি যেন কারো কাছে হাত পাততে না হয়। এমনি স্বামীর কাছেও যেন নিজে জন্য হাত পাততে না হয়, মানসিকভাবে ছোট হতে না হয়। সমাজ ও পরিবারের বোঝা হয়ে যেন দিনযাপন করতে না হয়। সেই লক্ষ্যেই প্রতিটি সন্তানকে সুশিক্ষিত করবার জন্য নিরন্তন চেস্টা করে গেছি। আল¬াহ আমার প্রার্থনা কবুল করেছেন। আমার সকল সন্তানই পেশাগতভাবে এবং সমাজে প্রতিষ্ঠিত। এটাই সবচেয়ে বড় শান্তি। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। মাকসুদা বেগম প্রমান করেছেন বড় পরিবার এবং কণ্যা সন্তান কোন সমস্যা নয়। মূল হলো সঠিকভাবে সন্তানদের গড়ে তোলা। তাদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করা।


আলহাজ্ব মাকসুদা বেগম তার দীর্ঘ সংগ্রামের ফল হাতে হাতে পেয়েছেন। তিনি পরম করুনাময় আল¬াহর কাছে এর জন্য শুকরিয়া আদায় করেন। আজাদ প্রডাক্টস রত্নগর্ভা মা হিসেবে ২০০৭ সালের মা দিবসে সম্মাননা প্রদান করেছে। জনপ্রিয় স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল এটিএন তার সাক্ষাৎকার গ্রহন করেছে এবং একাধিকবার প্রচার করেছে। একজন শিক্ষিত মা মানে একটি শিক্ষিত জাতি। কিন্তু মাকসুদা বেগম প্রমান করেছেন একজন সচেতন মা, একটি সফল পরিবার। একটি সফল পরিবার সমাজ ও দেশের সম্পদ ও অহংকার।

এই মহিয়সী মা-এর বিনম্র শ্রদ্ধা আর শ্রদ্ধাপূর্ণ স্যালুট।

(অরনী যুব সংঘ একটি প্রাচীন যুব সংগঠন। ১৯৪৮ সালে এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়। অরনী যুব সংগঠন 'অরনীর প্রতিমাস' নামে একটি কমিউনিটি পত্রিকা প্রকাশ করছে। এই পত্রিকায় অরনীর সংগঠন এলাকার (গেন্ডারিয়ার ডিস্টিলারী রোড, এস কে দাস রোড, সাবেক শরাফৎগঞ্জ লেন) গুরুত্বপূর্ন সংবাদ প্রকাশিত হয়। এলাকার সাধারন মানুষদের মাঝ থেকে অসাধারনদের খুঁজে বের করা হয় কৃতজ্ঞতা আর শ্রদ্ধা জানানোর জন্য। অন্যদের উৎসাহিত করবার জন্য। বয়স্ক মানুষদের নিয়মিত সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয় সেই সব হারানো দিনের কথা জানবার জন্য। আমার সৌভাগ্য যে এই কমিউনিটি পত্রিকার সাথে আমিও প্রত্যক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট। আমার বাবা আজ আর বেঁচে নেই। তিনি ছিলেন এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক। অরনীর প্রতিমাসে প্রকাশিত আমার লেখা এই প্রতিবেদনটি সামান্য সম্পাদনা করে কমিউনিটির মাঝে সীমাবদ্ধ না রেখে আপানাদের সাথে শেয়ার করলাম। সতত শুভ কামনা আপনার জন্য, সকলের জন্য।)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29246916 http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29246916 2010-09-29 10:00:25
দু'টি হালকা প্রেমজ পদ্য ১.

একটা নদী
হঠাৎ যদি,
দুখ লুকিয়ে
যায় শুকিয়ে..


একটা তরা
দিশেই হারা,
নিজের দোষে
পড়লে খসে...


একটা পাখি
ভড়লে আঁখি,
নিবীর জলে
অ-কৌশলে...


একটা আকাশ
দীর্ঘ নিশ্বাস,
ছড়ালে মনে
খুব গোপনে...


তোমার কিছু যায় আসেনা
এমন তুমি আত্নমুখি,
নিজ পালকে রং লাগানোর
ব্যস্ততাতেই ভীষণ সুখি।



২.


যখন
তুমি ভাবলেশহীন
ভাঙো মনের কূল,
স্বার্থ হাওয়ার দাও উড়িয়ে
পর্দনশীন চুল,
অবেহেলায় ছুড়ে ফেল
অর্থবহুল দুল..

তখন
বৃষ্টি তুমুল
ভেজায় আমায়
বোধিবৃক্ষের মূল..

তোমার জন্য
নদী হয়ে
পাখি হয়ে
কল্পলোকের আকাশ হয়ে
করেছি কি ভুল!!
কি করেছি ভুল!!


(সেই নব্বই সালে দশম শ্রেণীতে থাকতে লিখেছিলাম। আমি ভীষণ অগোছালো। তখনকার অধিকাংশ লেখা হারিয়ে ফেলেছি। এই লিখাটি বাসার পুরানো কাগজের সাথে ছিলো। মা উদ্ধার করেছেন। আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। সতত শুভ কামনা আপনার জন্য, সকলের জন্য।)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29228488 http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29228488 2010-08-23 21:40:11
ঈশপ-এর গল্প আর নতুন দিকদর্শন
গল্পটি এরকম:

এক ছিলো খরগোশ আর এক ছিলো কচ্ছপ।

খরগোশের ছিলো দৌড়ের বড়াই আর কচ্ছপ ছিলো ধীর গতিতে চলতে অভ্যস্ত। এক দিন তারা দৌড় প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হলো। খরগোশ দৌড়ে এগিয়ে গের অনেক দূর। তারপর ভাবলো একটু বিশ্রাম নেয়া দরকার। বিশ্রাম নিতে গিয়ে তার চোখে ঘুম নেমে এলো।

অন্যদিকে কচ্ছপ ধীর গতিতে হাটতে লাগলো। একটা সময় ঘুমন্ত খরগোশকে অতিক্রম করে গেল। খরগোশের ঘুম ভাঙতেই বুঝতে পারলো। বেলা অনেক হয়েছে। ততক্ষনে কচ্ছপ তার গন্তব্যে পৌঁছে গেছে।

ঈশপের এই গল্পের নীতিবাক্য ছিলো: কখনও বড়াই করতে নেই।

নতুন দিকদর্শন:
১. যোগ্যদের ঘুমের সুযোগে অযোগ্যরাই জয়ী হবে।
২. ইতিহাস সবসময়ই জয়ীদের পক্ষই নেয়।
৩. যোগ্যতা- অযোগ্যতা মূল বিষয় নয়- জয়ই মূল কথা।

প্রিয় ব্লগার আপনি কি শিখলেন!! জানাবেন কি!!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29228406 http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29228406 2010-08-23 18:25:48
সিন্ডিকেট এবং একটি ডিজিটাল ছবির পোস্টার (ডিজাইনখান ভিতরে আছে)
সরকারের সাথে সিন্ডিকেটের সম্পর্ক বিষয়ক একটি ডিজিটাল ছবির পোস্টার প্রকাশ করিলাম।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29226582 http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29226582 2010-08-20 21:17:27
বানিঝ্য মন্ত্রীকে লইয়া দুইটা কালজয়ী (!!) পদ্য


বানিঝ্য মন্ত্রী ডিজিটাল থিম-১

চিনির দাম বাড়ছে বাড়ুক,
বাণিজ্য বোঝে মন্ত্রী ফারুক!
তেলের দাম বাড়ছে বাড়ুক,
জেগে ঘুমান লক্ষী ফারুক?
চালের দাম বাড়ছে বাড়ুক,
হাওয়া খাবেন সোনা ফারুক!!
ডালের দাম বাড়ছে বাড়ুক,
ফেন্সী শুঁকেন বাঁচাল ফারুক???

জনতার কষ্ট বাড়ছে বাড়ুক,
টেনশন ফ্রি ডিজিটাল ফারুক।



বানিঝ্যমন্ত্রী ডিজিটাল থিম-২

ফারুক খাঁন খান কি!
চিনি খেতে চান কি!!
চিনি তিনি খান না,
ডায়াবেটিস চান না।

ফারুক খাঁন খান কি!
তেল খেতে চান কি!!
তেল তিনি খান না,
কোলেস্টরল চান না।

ফারুক খাঁন খান কি!
ভাত খেতে চান কি!!
ভাত তিনি খান না,
ভাতঘুম চান না।

ফারুক খাঁন খান কি!
ডিম খেতে চান কি!!
ডিম তিনি খান না,
হাই ফ্যাঁট চান না।

ফারুক খাঁন খান কি!
বেগুন খেতে চান কি!!
বেগুন তিনি খান না,
বিখাউজ চান না।

ফারুক খাঁন খাঁন কি!!
খাঁনের শেষে 'কী' টা মিলুক
এটাই তিনি চান কি!!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29226367 http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29226367 2010-08-20 14:38:00
ন্ডা তেলেপোকা আন্ডা,
বেকুবের মাথা জুড়ে
ফুটে কত ফান্ডা।

চীনদেশে বাস করে
সাদা কালো পান্ডা,
কঁচি বাঁশ খেয়ে খেয়ে
পেট রাখে ঠান্ডা।

অসময়ে তুলো যদি
ঝগড়ার ঝান্ডা,
হাড়-গোড় ভেঙে দিলে
চলে যেও মান্ডা।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29224065 http://www.somewhereinblog.net/blog/sayeedahamed/29224065 2010-08-16 17:45:08