somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নীলাম্বর

১০ ই নভেম্বর, ২০১০ রাত ১১:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


তুই ছাড়া ভাল লাগেনা বন্ধু পাগলা হাওয়া
তুই ছাড়া ভাল লাগেনা বন্ধু পাগলা হাওয়া--------

দূরে, বহুদূরে আমাদের নীলাম্বর পুর গ্রামের সরু কাচা রাস্তাটার শেষ মাথাটা যেখানে অন্তিম আশ্রয় নিয়েছে সেখানটায় বিরাট এক অশ্বত্থ গাছ বেশ জাকিয়ে সুদীর্ঘকাল রাজত্ব করে চলছে। আশেপাশের ছোটখাট গাছগুলোর যেখানে টিকে থাকা দায় সেখানে সে স্বদম্ভে দাঁড়িয়ে নিজের অস্তিত্ত্বের কথা আর রাজত্ত্বের কথা ঘোষণা দিচ্ছে। তার রাজত্ত্বের কথা অন্যান্য স্বল্পায়ুর নিরীহ প্রজাতির বৃক্ষরাজীর না মেনেও উপায় নেই। কারণ কালের পরিক্রমায় এই এলাকায় বা এর গোড়ালী ঘেষে বয়ে যাওয়া হাঁটুপানির নীল নদীতে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর চাক্ষুস সাক্ষী সে। তাকে জিজ্ঞেস করলেই যেনবা অনর্গল বলে যাবে, না বলা সব কথা।

কোন কিছু না ভেবেই ধুপ করে অশ্বত্থ গাছের নিচে সুশীতল ছায়ায় বসে পড়লাম। বসতে না বসতেই একটা অচিন পাখি টুপ করে মাথায় বর্জ্য নিস্কাশন করলো। অনেক দিন পর কিনা তাই হয়ত উপযুক্ত দাম মিটিয়ে দিল। এলাকার কিছু দূরন্ত ছেলে মুহুর্তে জমায়েত হলো চারিদিকে। আমার মাথায় পক্ষীকূলের বিষ্ঠা দেখে আনন্দে নাচা শুরু করলো, যেন এমনতর আনন্দের হেতু আর হয়না। তাদের আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই নদীতে লাফালাফি শুরু করে দিল। ঐ কূলে মাঝিরা জাল দিয়ে মাছ ধরছে। চরে কিছু গৃহপালিত দলিত করছে সদ্য গজিয়ে উঠা সবুজ ঘাসের বুক আর একটা সারস এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছে । মাছরাঙা পাখিটি আড়চোখে চেয়ে রয়েছে পুটিমাছ পাওয়ার আশায়। কয়েকটি পানকৌড়ি ডুব-সাঁতার দিচ্ছে।
আমাকে অবাক করে দিয়ে অকস্মাৎ নীলার আগমন ঘটলো। এইক্ষণে তাকেই কী কল্পনা করেছিলাম! কোমড়ে একটা পানি ভর্তি কলস, তার নীল ওড়নাটা এগিয়ে দিল স্বলজ্জে।
কেমন আছো অম্বর?
-ঠিক যেমন টা থাকার কথা ছিল!
কেমন থাকার কথা ছিল?
-এখন যেমন আছি!
তোমার এই ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে কথা বলার অভ্যাসটা এখনো যায়নি!
-প্যাঁচময় জীবনের মানে যে এখনো খুঁজে পাইনি!
হিহিহি-দেখাচ্ছি জীবন কেমন পানির মত!
নীলার কলসে ভর্তি পানি মাথায় প্রবাহের সাথে সাথে অপার্থিব সুখানুভূতি হলো। কিন্তু এরপর তাকে ধারে কাছে আর কোথাও পাওয়া গেলনা। কি আর করা, ওড়নাটা ছেড়ে দিলাম পূবের হাওয়ায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই দূরের আকাশে বিলীন হয়ে গেল। এতক্ষণ সামনে থাকা দৃশ্যপটটি ধূসর থেকে ধূসরতর হতে লাগলো। মাঝিরা ফিরে গেছে বসতবাটিতে, শূন্য নৌকাটি পড়ে রয়েছে কিনারায়।
---------------------------------------------------------------------------
তুই ছাড়া ভাল লাগেনা বন্ধু পাগলা হাওয়া
তুই ছাড়া ভাল লাগেনা বন্ধু পাগলা হাওয়া----

-কিরে হানিফ গান শেষ হয়ে গেল কেন?
বস এইবার নিয়া পাঁচবার চালাইলাম। তবে আপনি চাইলে আবারও চালাই।
-নাহ! থাক আর চালানো লাগবে না। মাথায় কিসের ফেনা?
বস শ্যাম্পু করে দিছি।
-শ্যাম্পু করেছিস মানে?
বস আপনার অনেক চুল শাদা হইছে। তাই স্পিড হেয়ার ডাই মেখে চুল ঝকঝকে কালো করে দিছি। আগামী একমাস একদম গেলেজ দিবো।
-যে কয়টা চুল পাকছে তাতে তোর কালার মাখার কি দরকার আছিল। কালার করার আগে জিজ্ঞেস করবিনা--------! তা তোর বিল কত আসলো।
এই ধরেন চুল কাটা চল্লিশ টাকা, ফোম সেভ তিরিশ, শ্যাম্পু চল্লিশ আর ডাই করা আড়াইশ। সব মিলায় মাত্র তিনশ ষাইট টাকা।
-বলিস কিরে। তোর কাছে মাত্র তিনশ ষাইট! তা এখন কত দিব তাই বল?
বস তিনশ পঞ্চাশ টাকা দিলেই চলবো।

হানিফ কে তিনশ চল্লিশ টাকা গছিয়ে দিয়ে সেলুনের বাইরে চলে আসবো। এমন সময় হানিফের কন্ঠে উচ্ছ্বাস।
বস আপনার তোলা দৌলতপাড়ার জমিদার বাড়ীর ছবি পেপারে দ্যাখলাম।
-তাই নাকি! কেমন হয়েছে বলতো?
বস ছবি ভাল হইছে! কিন্তু একটু আন্ধার আন্ধার লাগতেছে।
-হুমম। আমার তোলা ছবির এই সমস্যা আলো ঠিক রাখতে পারিনা। সব ছবিতেই আন্ধার এসে ঘাপটি মারে।
তা তুই যে তিনশ চল্লিশ টাকা নিলি। মাস চলবো কিভাবে। পেপারে ছবি দিয়ে আর কয় টাকা পাই।
-বস চিন্তা নিয়েন না। আল্লায় চালাইবো।

----------------------------------------------------------------------------
তুই ছাড়া ভাল লাগেনা বন্ধু পাগলা হাওয়া
তুই ছাড়া ভাল লাগেনা বন্ধু পাগলা হাওয়া--------

কয়েকদিন আগে দৌলতপাড়ার জমিদার বাড়ীর ছবি উঠাতে গিয়েছিলাম। ছবি তোলায় যতটা না আগ্রহ তার চাইতে জমিদার বাড়ীর বৌ নীলাকে দেখার আগ্রহ ছিল বেশী। গিয়ে শুনলাম নীলারা আর ঐ বাড়িতে থাকেনা। এরপর কিছু সাদাকালো পটে ছবি তুলে ফিরে আসলাম।
----------------------------------------------------------------------------
তুই ছাড়া ভাল লাগেনা বন্ধু পাগলা হাওয়া
তুই ছাড়া ভাল লাগেনা বন্ধু পাগলা হাওয়া--------

ক্রিং ক্রিং ক্রিং
ক্রিং ক্রিং ক্রিং
-হ্যালো কে বলছেন?
আপনি কি অম্বর।
-জী অম্বর বলছি।
আপনি কে বলুন তো? বেশ পরিচিত কন্ঠ!
-আমাকে-আমাকে-আমাকে চিনতে পারছো না! আমি নী-------------


কালে কালে বিবর্তনের ধারায়
রজঃস্বলা তটিনী গিয়েছে ক্ষয়ে
স্রোতরেখা আঁকা সুখচিহ্ন তার
গেল বুঝিবা উদয়াস্ত রয়ে।

পটভূমে আঁকা সোনালী কাবিনে
সদা হাস্যোজ্জ্বল চন্দ্রাবয়ব
নীলিমায় উঁকি দেয়া রামধনু
হারায় যেন নিত্য সৌষ্ঠব।

শৈত্য আসে গেরুয়া বসনে
যেমন দাবদাহ উলম্ব লম্ফনে
নীলা রূপী প্রহেলিকা আসে
সময় গাড়ির উল্টো চলনে।

যুগে যুগে নীলাম্বর রবে
রবে কাশফুল ঘাসফুল জোছনা
ঢেউয়ে ঢেউয়ে বলবে সাগর
তটিনী আসুক পেরিয়ে মোহনা।


ছবিসূত্রঃ আন্তজাল
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ১০:১৪
৯৪টি মন্তব্য ৯৪টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×