১। নিরালায়
আকাশ পানে চেয়ে তুমি কি খুঁজো
তার চেয়ে ভাল নকশীকাথা বোনো
বোনো অবহেলা আর অবজ্ঞার চাদর
ভুল জোছনায় আকাশ খুঁজো না
তারা খসা দিনের রেশ টেননা।
আবার যদি আসো
নিঃশব্দে পেছন দরজায়
অথবা খিড়কী পথে এসো।
আড়মোরা ভেঙ্গোনা
আমার একলা অবসরে।
নিরালা প্রহরে।
পুঁথিমালা জপবো যখন
তোমার নামে
তখন না হয় এসো
এসো সঙ্গোপনে।
২। পুরনো মুখ
স্বর্নালী-সন্ধ্যা!
ফুরিয়ে আসে ক্রমশ
একটি দুটি জোনাক জ্বলে
সন্ধ্যাতারা জাগে
বারান্দায় হাত বাড়ায়
গাঢ় অন্ধকার।
দূরে রাতজাগা
পাখির ডাক
প্রদীপ নিভে আসে
রাত্রী ঝিমায়
জানালার শার্সিতে
একটি হাত
খুঁজে ফিরে
পুরনো সিন্ধুক।
খুঁজে ফিরে
হারিয়ে যাওয়া
প্রিয় মুখ।
৩। গতকাল রাত্রীটা
গতকাল রাত্রীটা ছিল নির্ঘুম
ছিল দুর্দান্ত শীতলতায় ঘেরা
শীতলতায় মেখে তোর মুখ
হয়নি তো কার্নিশে ভেড়া।
আসেনি তো মুখখানি
সমুখপানে
হয়নি তো আঁকা
তোর মুখ।
এলে পরে
পেতাম যেন
অম্ল মধুর সুখ।
৪। চন্দ্রমুখী
চালতা ফুলের চিবুক তোর
চন্দ্রমুখী মুখ
তোর কপালে সিঁদুর দেব
দেখবো তুলে চিবুক।
তোর চন্দনসুবাস মুখ।
রাত দুপুরে জ্বলবে তারা
জোছনা হবে তোর বদন
তোর বিহনে দেখবো আমি
সন্ধ্যাবাতির মরণ।
৫। অন্তত এক গ্লাস বিষ দিস
রাত বিহারে বের হয়েছিলি
জানিনা মনে করেছিস
হাওয়ায় লুটায়েছিলি আঁচল
দিয়েছিলি শিস।
তোর হেলাতে
রাতজাগা পাখি করে
নিশপিশ।
ভালবাসা না দিস
অন্তত এক গ্লাস
বিষ দিস।
৬। শতদল
হাজার রাতের পর
একটি রাত কি আসবে
গড়িয়ে মোহনায়
শতদল কি ভাসবে?
যেছিল চোখের তারায়
জল জোছনায়
পাপড়ী মেলে
আবার কি হাসবে?
৭। পুড়ে যাওয়া বীন
গড়িয়ে স্রোত
ভেসে গেছে
একটি দিন
পুড়ে গেছে
ছন্দ তার
পুড়ে গেছে
বীন।
৮। সুহাসিনী
সুহাসিনী তুই কোথায় আছিস
কেমন আছিস বলতো?
তোর সেই আধমরা স্বামীটা
আদর করতে পারে কি
ঠিক আগের মত?
খুবতো বলেছিলি
সম্বন্ধটা খুব ভারী
রাজকীয় তোর শ্বশুর বাড়ী
দিনে চৌদ্দবার বদলাবি শাড়ী।
কিছুদিন আগে
খবর পেলাম
তুই নাকি
মহিপুরের তিস্তার ঘাটে
কাপড় কাচিস উদোম পীঠে,
হাঁটু অব্দি তোর কাপড় উঠে
ঠোট ফেঁটে চৌচির
পঁচা সাবান পুরনো কাপড়ে
ঘষে ঘষে হচ্ছিস অস্থির।
ছেলেটা তোর
ক্ষুধার্ত পেটে
কাঁদছে বসে একা
দিদিমার ঘরে,
উটকো হাওয়ায় তোর ঘর
নড়বড় করে।
তোর অঙ্গে অঙ্গে
আঘাতের চিহ্ন
ঘা শুকিয়ে হয়েছে ক্ষত।
অথচ একটা দিন
তোর কোমল পেলব পায়ে
নজর পড়েছিল বলে
ষন্ডা বলেছিলি, বলেছিলি লোলুপ।
বলেছিলাম আমি
কেটে দেনা একটা কূপ,
তোর কাটা কূপে
ধূপ করে দেই ডুব।
রাখিস নি কথা
কাটিস নি কূপ।
যদি কোন দিন
উত্তরে চঞ্চল হাওয়ায়
উড়ে তোর
ছেড়া শাড়ীর আঁচল,
একটু টেনে
ঢেকে রাখিস
তোর চোখের জল।
হোসনা কভূ পূব আকাশে
রামধনু দেখে বিকল।
তোর অপেক্ষায় হতে চেয়েছি
নিশাচর পাখি,
হতে চেয়েছি রামধনু।
আধমরা স্বামীটা মরলে
দিস খবর।
তোর জন্য আবারও
হতে পারি
বৃষ্টির অঝরধারা,
অথবা সেই রামধনু।
অতপর:
কাছে আসলি যখন
পথে হয়েছে অনেক দেরি
তোর পথ আর আমার পথ
যেন দুই দিকে দুই বাড়ি।
তার চেয়ে ভাল দূরে থাকিস
ভাল থাকার চেষ্ঠা করিস
দিবো না আর তোকে
কোন আড়ি।
ছবি: নিজস্ব এ্যালবাম থেকে।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ১০:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



