বাকী অংশঃ
গবেষণা ও প্রশিক্ষণঃ শিশুশ্রমের মূল কারণ উদঘাটন ও নিরসনের সম্ভাব্য উপায় নির্ধারণ এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ভিত্তিক গবেষণা ও প্রশিণ পরিচালনা।
সুপারিশঃ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিশুশ্রম পরিস্থিতি, শিশুশ্রমের কারণ, প্রতিকারের উপায়, শিশুশ্রম নীতিমালা বাস্তবায়ন, ইত্যাদি বিষয়ে দ গবেষক সৃষ্টি এবং মাঠ পর্যায়ে কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য উপযুক্ত প্রশিণের ব্যবস্থাসহ আইন, বিধি, ইত্যাদি কার্যক্রম সংস্কারের ত্রে নির্ধারণ এবং কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হবে। তাছাড়া শিশুশ্রমের আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক ত্রেগুলোকে যতদূর সম্ভব বিজ্ঞানভিত্তিক সমন্বিত জরিপের মাধ্যমে তথ্য আহরণ, সংরণ, মূল্যায়ন এবং আহরিত তথ্যের নির্ভরযোগ্য ডাটাবেজ তৈরি করতে হবে।
পরিবীণ ও মূল্যায়নঃ নীতি বাস্তবায়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন, শিা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, সামাজিক সচেতনতা ও উদ্বুদ্ধকরণ, আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ, কর্মসংস্থান বা শ্রমবাজার, শিশুশ্রম প্রতিরোধ এবং শ্রমে নিয়োজিত শিশুর নিরাপত্তা ও পারিবারিক পুনর্মিলন সংক্রন্ত নীতির বাস্তবায়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন প্রত্য করা এবং গবেষণা ও প্রশিণ কর্মকাণ্ড সুষ্ঠুভাবে প্রতিপালিত হচ্ছে কিনা, দায়িত্বপ্রাপ্ত ও সহায়তাকারী সংস্থাসমূহ সঠিকভাবে নির্ধারিত ত্রেসমূহ বাস্তবায়নে তৎপর কিনা তা যথাযথ পরিবীণ, মূল্যায়ন ও সুপারিশ প্রদান করা।
সুপারিশঃ মূল সমন্বয়কারী সংস্থাগুলোর নেতৃত্বে দায়িত্বপ্রাপ্ত ও সহায়তাকারী সংস্থাসমূহ নির্দিষ্ট কর্ম পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রধান ল্যসমূহ বাস্তবায়নে সময়োপযোগী কার্যকর পদপে গ্রহণ করছে কিনা তা পরিবীণ ও মূল্যায়ন করতে হবে এবং শিশুশ্রম নিরসনের লøে দায়িত্বপ্রাপ্ত ও সহায়তাকারী সংস্থাসমূহকে দিক নির্দেশনা প্রদান করতে হবে।
ফোকাল মিনিস্ট্রি ও ফোকাল পয়েন্টঃ শিশুশ্রম বিষয়গুলো সরকারের প েদেখ্ভৈাল্ করার জন্য একটি নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয় থাকা আবশ্যক। শিশুদের বিষয়সমূহ মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং শ্রম সংক্রান্ত বিষয়সমূহ শ্রম ও কর্মসংস্হান মন্ত্রণালয় দেখা-শুনা করে থাকে। কিন্তু ‘শিশুশ্রম’এর বিষয়গুলো দেখা-শুনা করার সার্বিক দায়িত্ব এখনও কোন মন্ত্রণালয়ের উপর নির্দিষ্ট করা নেই। এ বিবেচনায় অপোকৃত সমাঞ্জস্যপূর্ণ বিধায় শিশুশ্রমের যাবতীয় বিষয়গুলো দেখা-শুনা করার সার্বিক দায়িত্ব ফোকাল মিনিস্ট্রি হিসেবে শ্রম ও কর্মসংস্হান মন্ত্রণালয়কে ঘোষণা করা যেতে পারে। অনুরূপভাবে শ্রম ও কর্মসংস্হান মন্ত্রণালয়ের শ্রম উইংয়ের যুগ্ম সচিবকে শিশুশ্রম সংক্রান্ত ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে চিহ্নিত করা যেতে পারে।
চাইল্ড লেবার ইউনিটঃ শিশুশ্রম নিরসনের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বের কারণে বাংলাদেশেও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তরঅৈধিদপ্তরসহ আন্তর্জাতিক দাতা সংস্হা, এন•জি•ও• ও স্হানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রকল্প-পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে। বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুদের ব্যাপক উপস্হিতি ও আই•এল•ও• কনভেনশন ১৩৮ অনুস্বারের (ৎধঃরভরপধঃরড়হ) আয়োজন সম্পন্ন্ করার প্রোপটে শিশুশ্রম পরিস্হিতির ইতিবাচক পরিবর্তনের নিমিত্ত শিশুশ্রম নিরোধক কার্যক্রমের আরো ব্যাপ্তি ঘটবে। জাতীয় শিশুশ্রম নীতি ২০০৮এৈ যে কর্মকাণ্ডের উল্লেখ করা হয়েছে সে সকল কর্মকাণ্ডের কার্যকর সমন্বয় সাধনের নিমিত্ত শ্রম ও কর্মসংস্হান মন্ত্রণালয়ের শ্রম উইং- এর যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে চাইল্ড লেবার ইউনিট গঠন করা যেতে পারে।
জাতীয় শিশুশ্রম কল্যাণ কাউন্সিলঃ জাতীয় পর্যায়ে শিশুশ্রম পরিস্হিতি পর্যবেণ ও দেখ্ভৈাল্ করার জন্যে সরকারী, বেসরকারী সংস্থা ও শিশুশ্রমের উপর বুৎপত্তিগত জ্ঞানের অধিকারী সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি কমিশন গঠন করা যেতে পারে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিশুশ্রম পরিস্হিতি পর্যবেণ করে সরকারকে পরামর্শ প্রদানকল্পে এ কমিশন ঞযরহশ ঞধহশ- এর দায়িত্ব পালন করবে। জাতীয় শিশুশ্রম নীতিমালা বাস্তবায়ন, শিশু ও শিশুশ্রম সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের নীতি নির্ধারক মহলে লবিং করা, শিশুশ্রম পরিস্হিতির গুরুতর বিপর্যয়ের শুনানী, তদন্ত ও প্রতিকারের সুপারিশসহ এ সকল বিষয়কে আইনের আওতায় নিয়ে আসাই হবে এ কমিশনের কাজ।
বেসরকারী সংস্হাসমূহের অংশগ্রহণঃ শিশুশ্রম নিরসন একটি চলমান এবং ব্যাপক কার্যক্রমের সমাহার। সরকারের একার প েবা আন্তর্জাতিক দাতা গোষ্ঠির একক অর্থানুকূল্যে এই বৈতরণী পার হওয়া সম্ভব নয়। এ বাস্তবতার আলোকে সরকারের পাশাপাশি দেশীxৈবদেশী বহু বেসরকারী সংস্হা এরই মধ্যে শিশুশ্রম নিরসনে নিজ নিজ কর্মসূচি মোতাবেক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এ সকল কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি সংস্হাসমূহ এ নীতিমালার আলোকে পুনর্বিন্যাস (ৎবফবংরমহ) করে নেবেন। ভবিষ্যতে শিশুশ্রম নিরসনে বাংলাদেশে কাজ করতে আগ্রহী দাতা সংস্থাসহ সরকারি-বেসরকারি সংস্হাসমূহ এ নীতিমালার আলোকেই তাদের কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করবেন।
উপসংহারঃ সুস্থ ও স্বাভাবিক শৈশবের নিশ্চয়তা সকল শিশুর জন্মগত ও সাংবিধানিক অধিকার। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, শিশুর এ মানবিক অধিকার থেকে আমাদের দেশের বহু শিশুই আজ বঞ্চিত। তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশ হিসেবে চরম অভাব অনটনে কেবল মাত্র বেঁচে থাকার তাগিদে আমাদের দেশের শিশুরা নেমে পড়ে জীবিকার সন্ধানে, বাধ্য হয় ঝুঁকিপূর্ণ বা নিকৃষ্ট শ্রমে। শোষণ-বঞ্চনা-অনুন্নয়ন থেকে সৃষ্ট দারিদ্র্যের কষাঘাতে পরিবারের ভরণ-পোষণের যোগান দেয়াই যেখানে দায়; সেখানে শিশুর অধিকারের আলোচনা কি বাতুলতা মাত্র? কিন্তু এ পালেও বইছে আজ পরিবর্তনের বাতাস। আমাদের শিশুদের অধিকার রার জন্য শত শত প্রতিবাদী কন্ঠকে এগিয়ে আসতে হবে। সরকারি-বেসরকারি, জাতীয়-আন্তর্জাতিক এবং সকল মহলসহ জনগণকেই প্রয়োজনীয় সম্পদ, আয়োজন, উদ্যোগ নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করতে হবে। “জাতীয় শিশুশ্রম নীতি ২০০৮” ঝুঁকিপূর্ণ বা নিকৃষ্ট শ্রমসহ সকল প্রকার শ্রম থেকে আমাদের শিশুদের প্রত্যাহার ও শিশুশ্রম প্রবাহ বন্ধ করার উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি। শিশু ও শিশুশ্রম সংক্রান্ত বিরাজমান আইন ও আইনের বিধিবিধানগুলোর পুনর্বিন্যাস এবং আমাদের দেশের সংবিধান অনুযায়ী কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা যায় তবে আমাদের শিশুরা আগামীতে আলোকিত সৃজনশীল মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


