somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... চা বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবন, অর্জন ও সাফল্য বাংলাদেশের চা শিল্প ও চা শ্রমিকরা হুমকীর মুখে। প্রতিকার কী?
( ধারাবাহিক-১৭ )
-সৈয়দ আমিরুজ্জামান
চা বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবন, অর্জন ও সাফল্যঃ
বিটিআরআই-এর চা বিজ্ঞানীদের উদ্‌ভাবিত প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা-জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা চা শিল্পের অগ্রগতি ও উন্নয়নে অবদান রাখতে সক্ষম। কিন্তু চা বাগানসমূহের কর্তৃপক্ষ চা বিজ্ঞানীদের উদ্‌ভাবিত প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা-জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা উৎপাদন বৃদ্ধি ও চা আবাদ সম্প্রসারণে প্রয়োগ করতে আগ্রহী বলে মনে হয় না। চা বিজ্ঞানীরা এ পর্যন্ত বিটি-১ থেকে বিটি-১৬ পর্যন্ত ১৬টি উচ্চ ফলনশীল ও আকর্ষনীয় গুণগতমান সম্পন্ন ক্লোন উদ্‌ভাবন করেছেন। বিটিআরআই-এর উদ্‌ভাবিত ক্লোন বিটি-২-এর বিশেষ সুবাস দেশী-বিদেশী ক্লোন উদ্‌ভাবন করেছেন। চা বিজ্ঞানীরা সর্বশেষ অধিক ফলনশীল উন্নতজাতের ক্লোন 'বিটি-১৬' আনুষ্ঠানিকভাবে বিমুক্ত করেছেন। বর্তমানে প্রতি হেক্টরে ১২৭০ কেজি চা উৎপাদিত হলেও অধিক ফলনশীল উন্নতজাতের ক্লোন 'বিটি-১৬' আবাদে ৩,০০০ কেজি'র বেশী চা উৎপাদিত হবে। এই জাতের চা বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করতে কয়েক বছর সময় লাগবে। এছাড়া চা বিজ্ঞানীরা নিরলস গবেষণা চালিয়ে উদ্‌ভাবন করেছেন কয়েকটি জেনারেটিভ ক্লোন সমন্বয়ে ৪টি বাইক্লোনাল বীজজাত বিটিএস-১, বিটিএস-২, বিটিএস-৩, বিটিএস-৪সহ একটি পার্লক্লোনাল বীজজাত। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28816335 http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28816335 2008-07-03 11:35:28
চা গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'বিটিআরআই'-এর ইতিকথা বাংলাদেশের চা শিল্প ও চা শ্রমিকরা হুমকীর মুখে। প্রতিকার কী?
( ধারাবাহিক-১৬ )
-সৈয়দ আমিরুজ্জামান
চা গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'বিটিআরআই'-এর ইতিকথাঃ
বৃটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে অবিভক্ত ভারতবর্ষে বর্তমান বাংলাদেশ ভূ-খন্ডে অবস্থিত চা বাগানগুলোকে আসামের জোরহাটস্থ 'টোকলাই' চা গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে সাইন্টিফিক এন্ড টেকনিক্যাল সাপোর্ট দেয়া হতো। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির পর এই সাপোর্ট বন্ধ হয়ে যায়। দেশ বিভক্তির প্রায় ৩ বছর পর এ অঞ্চলের চা শিল্পের সার্বিক উন্নয়ন ও বিপননের প্রয়োজনে ১৯৫০ সালে পাকিস্তান টি এ্যাক্ট প্রণয়ন এবং এই এ্যাক্টের আওতায় পাকিস্তান টি বোর্ড গঠিত হয়। পরবর্তীতে চা শিল্পের বিকাশে সাইন্টিফিক এন্ড টেকনিক্যাল সাপোর্টের জন্য পাকিস্তান টি বোর্ড ১৯৫২ সালে একটি চা গবেষণা স্টেশন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়। একজন মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নিয়োগ করে তৎকালীন ঢাকাস্থ কার্যালয়েই চা গবেষণা স্টেশনের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৫৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারী শ্রীমঙ্গলে 'পাকিস্তান চা গবেষণা স্টেশন' নামে স্থায়ী গবেষণা কার্যক্রম স্থাপিত হয়। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধত্তোরকালে এ প্রতিষ্ঠানের নামকরণ পরিবর্তন করে প্রথমে রাখা হয় 'বাংলাদেশ চা গবেষণা স্টেশন' ও পরবর্তীতে ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ চা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ( বিটিআরআই )-এ উন্নীত হয়। বর্তমানে এ ইনস্টিটিউটটি বাংলাদেশ ন্যাশনাল এগ্রিকালচার‌্যাল রিসার্স সিস্টেম (নার্স)-এর অন্তর্ভূক্ত ১০টি জাতীয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অন্যতম। বিটিআরআই শ্রীমঙ্গল শহর থেকে ৩.২ কি.মিঃ দূরে সমুদ্র সমতল থেকে ২৩.১ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। এ প্রতিষ্ঠানের সারাদেশে ৪টি উপকেন্দ্র রয়েছে। উপকেন্দ্রগুলোর ১টি মৌলভীবাজার জেলার কালিটিতে, ১টি সিলেট শহরে, ১টি চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়িতে ও সর্বশেষ ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত ১টি উত্তরবঙ্গের পঞ্চগড় জেলার তেতুলিয়ায় অবস্থিত। বিটিআরআই-এর ৮টি গবেষণা বিভাগ রয়েছে।
গবেষণা বিভাগগুলো হচ্ছেঃ- ১. মৃত্তিকা রসায়ন, ২. উদি্‌ভদ বিজ্ঞান, ৩. কৃষিতত্ত্ব, ৪. কীটতত্ত্ব, ৫. উদি্‌ভদ রোগতত্ত্ব, ৬. প্রাণ রসায়ন, ৭. প্রকৌশল, ৮. পরিসংখ্যান ও অর্থনীতি। এ প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের অন্যান্য চা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সমতুল্য। এই প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ভিত্তিক ফলিত গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা, উদ্ভাবিত লাগসই ও টেকসই প্রযুক্তি নিয়মিত চা শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া হলেও অধিকাংশ চা বাগানের মালিক বা কর্তৃপক্ষ তা কাজে লাগাচ্ছেন না। বিটিআরআই বার্ষিক কোর্স, সেমিনার, কর্মশালা, বার্ষিক প্রতিবেদন, প্রজ্ঞাপন, জার্নাল, প্যামপ্লেট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সহায়তায় প্রযুক্তি হস্তান্তর কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ চা বোর্ড]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28816168 http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28816168 2008-07-02 20:06:35
চা শ্রমিক জনগোষ্ঠীর দাবী বাংলাদেশের চা শিল্প ও চা শ্রমিকরা হুমকীর মুখে। প্রতিকার কী?
( ধারাবাহিক-১৫ )
-সৈয়দ আমিরুজ্জামান
চা শ্রমিক জনগোষ্ঠীর দাবীঃ
চা শ্রমিকদের মর্যাদাপূর্ণ জীবনধারণ উপযোগী মজুরী, বছরে ২টি উৎসব বোনাস, প্রতিটি চা বাগানে ১টি সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, প্রতিটি ফাঁড়ি বাগানে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, বাগান কর্তৃপক্ষের খরচে চা শ্রমিক সন্তানদের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়ার ব্যবস্থা, আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণসহ প্রত্যেক বাগানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক এমবিবিএস ডাক্তার-নার্স নিয়োগ, পর্যাপ্ত ওষুধপত্র সরবরাহ, বসতভিটার স্থায়ী বন্দোবস্ত দেয়াসহ চা শ্রমিকদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত ও পর্যাপ্ত ঘর-বাড়ি নির্মাণ, প্রয়োজনীয় আসবাব পত্র সরবরাহ, চা চাষ সম্প্রসারণকল্পে নতুন কর্মসংস্থান, বাগানের অনাবাদী জমিকে আবাদযোগ্য করা, চায়ের উৎপাদন ও গুণগতমান বৃদ্ধি করা, চা শ্রমিকদের শিক্ষিত সন্তানদের কর্মসংস্থান অথবা বেকার ভাতা প্রদান, ঘরে ঘরে বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসম্মত সেনিটেশন, রেশনে খাওয়ার উপযোগী উন্নত আটা বা চাল সরবরাহ, মাথাপিছু রেশনের পরিমাণ ৪ কেজি ধার্য্য করা, প্রতিটি বাগানে সাংস্কৃতিক বিকাশে সমৃদ্ধ গণ পাঠাগার, খেলাধুলার প্রয়োজনীয় উপকরণ সমৃদ্ধ ক্লাব নির্মাণ, সুস্থ রুচিসম্মত বিনোদনের ব্যবস্থা, চা শ্রমিক সন্তানদের জন্য পৃথক চাকুরীর কোটা নির্ধারণ, চা শ্রমিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, প্রতিটি চা বাগানের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের প্রকৃত হিসাব চা শ্রমিক জনগোষ্ঠীর কাছে প্রকাশ করা, চা শ্রমিকদের জন্য শেয়ার মালিকানা ঘোষণা করা, প্রতিটি বাগানের মুনাফার ২০% চা শ্রমিকদের মধ্যে বিতরণ করা, চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরী কমপক্ষে ২০০ টাকা নির্ধারণ করা, প্রতিটি বাগানে আইএলও কনভেনশন ও জাতিসংঘ ঘোষিত মানবাধিকার, নারী ও শিশু অধিকারসহ চা শিল্প শ্রম আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন ইত্যাদি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28816121 http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28816121 2008-07-02 17:12:50
দুর্দশাগ্রস্ত চা শ্রমিকরা, সংকটে চা শিল্পঃ সমাধান কী? বাংলাদেশের চা শিল্প ও চা শ্রমিকরা হুমকীর মুখে। প্রতিকার কী?
( ধারাবাহিক-১৪ )
-সৈয়দ আমিরুজ্জামান
দুর্দশাগ্রস্ত চা শ্রমিকরা, সংকটে চা শিল্পঃ সমাধান কীঃ
আমাদের দেশে চা প্রচলনের প্রথম দিকে বৃটিশ বেনিয়া কোম্পানীগুলো বিনামূল্যে চা পান করাতো ও চায়ের বহুমাত্রিক গুণাগুণ বর্ণনাসহ সাথে বিনামূল্যে কিছু চা দিয়ে দিতো। মানুষের মধ্যে চা পানের অভ্যাস গড়ে উঠলে চা বিক্রি হতে শুরু করে। আর সে সুবাধে বৃটিশরা কোটি কোটি টাকা মুনাফা লুটে নিয়ে গেছে এ দেশের মানুষের কাছ থেকে। চা আজ আমাদের দেশের মানুষের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ, অর্থনীতির অন্যতম প্রধান খাতসমূহের একটি। বিশ্ববাজারে ও আমাদের দেশের আভ্যন্তরীণ বাজারে চায়ের চাহিদা বিপুল হারে ক্রমাগতভাবে দিন দিন বাড়ছে।
শুধু পানীয় হিসেবেই নয়, চায়ের বহুমুখী ব্যবহারের সম্ভাবনাও বাড়ছে। টি কোলো, চকলেট, রং, মৃতদেহ সংরক্ষণ করাসহ বিভিন্ন কাজে চায়ের ব্যবহার বাড়ছে। চায়ের গুণ যতবেশী আবিস্কৃত হচ্ছে ততই এর চাহিদা বাড়ছে। কিন্তু সরকারী পরিকল্পনাহীনতা, লীজভুক্ত বাগানের পতিত অনাবাদী জমিতে চা আবাদের পরিকল্পনা না থাকা, টি বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর ২·৫% হারে চা চাষ সম্প্রসারণে সরকারী চাপ বা উদ্যোগ না থাকা, মালিকদের লুটপাট, চা বাগান রুগ্ন ঘোষণা করে ঋণের টাকা আত্মসাতের চেষ্টা, বাগানে উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা ইত্যাদি কারণে সংকট বাড়ছে। বাগানের নামে লীজ নেয়া জমি অন্য কাজে ব্যবহার, চায়ের গুণগতমান বৃদ্ধির চেষ্টা না করা, ছায়াবৃক্ষ নিধন, চা শ্রমিকদের মজুরী, শিক্ষা-স্বাস্থ্য, বাসস্থানসহ জীবনমান উন্নয়নে পদক্ষেপ না নেয়া, উৎপাদন বৃদ্ধির ব্যবস্থা না নেয়া ইত্যাদি কারণে চা শিল্প আজ হুমকীর মুখে। চিনি'র চাহিদা দিন দিন বাড়ছে অথচ কারখানা বন্ধ, উৎপাদন বৃদ্ধি না করার কারণে আমাদের দেশ আজ আমদানী নির্ভর হয়ে পড়ছে। বিশ্ববাজারে পাটের চাহিদা বৃদ্ধি সত্ত্বেও আমাদের দেশের পাটকল বন্ধ হচ্ছে। তেমনি চায়ের চাহিদা দেশে-বিদেশে দিন দিন বৃদ্ধি পেলেও চা শিল্প রক্ষায় উৎপাদন বাড়াতে না পারলে বাংলাদেশ অচিরেই আমদানীকারক দেশে পরিণত হবে। সে আশঙ্কা আজ দেখা দিয়েছে। এর পরিণতিতে বাংলাদেশ একদিকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের একটি অন্যতম প্রধান সুযোগ হাতছাড়া হবে, অন্যদিকে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক-কর্মচারী বেকার হবে। চা বাগানসমূহের ৭ লক্ষ অধিবাসীর এক বিশাল জনগোষ্ঠী কাজ, জীবিকা ও আশ্রয় হারাবে। জৌলুস হারাবে মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া, হবিগঞ্জ, সিলেট-এর মত বড় বড় শহরসহ অসংখ্য ছোটখাটো শহর। তাই আভ্যন্তরীণ চাহিদা, চা শ্রমিক-কর্মচারীসহ বিশাল জনগোষ্ঠীর স্বার্থ, বৈদেশিক বাণিজ্য-বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের কথা বিবেচনা করে চা শিল্প রক্ষা ও বিকাশের পরিকল্পনা-উদ্যোগ নিতে হবে।
একদল শোষক লুটপাটকারী দেশের কৃষি, শিল্প, খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদসহ ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ধ্বংস করে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত। চা শ্রমিকসহ সাধারণ জনগণের উদাসীনতা ওদের শোষণ-লুটপাট বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। ধ্বংস হবে আমাদের দেশের অর্থনীতি, বিপন্ন হবে আমাদের দেশের চা শ্রমিকসহ সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ। এটা হতে দেওয়া যায় না।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28815896 http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28815896 2008-07-01 23:59:25
গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়নে বাপেক্স ১৪ জুন মাগুরছড়া দিবস মাগুরছড়া ব্লো-আউটের ১১ বছর পূর্ণ
ক্ষতিপূরণ আদায়ে কিছু সুপারিশ
(ধারাবাহিক-১৯)
---সৈয়দ আমিরুজ্জামান
গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়নে বাপেক্সঃ
জালালাবাদ, মৌলভীবাজার ,বাংগুরা, ও সমস্ত গ্যাসক্ষেত্র বাপেক্স অতি সহজেই আবিস্কার করতে পারতো এবং সেক্ষেত্রে এর ১০০% গ্যাস বাংলাদেশের নিজের হতো। অথচ মৌলভীবাজার গ্যাসক্ষেত্র আবিস্কারের আগে অক্সিডেন্টাল সেখানে মাগুরছড়া কূপে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ১৫,০০০ কোটি টাকার গ্যাস সম্পদ বিনষ্ট করেছে। এই টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে বাংলাদেশ ঐ কোম্পানীর দায়িত্ব গ্রহণকারী ইউনোকলের কাছে ধরনা দিয়ে বসে থাকে কিন্তু তা পাওয়ার কোন আশা নেই। আর ছাতক গ্যাসক্ষেত্রে বিদেশী নাইকো রিসোর্স কোম্পানী আবারো বড় রকমের দুর্ঘটনা ঘটিয়ে বহু টাকার সম্পদ বিনষ্ট করেছে। কই, বাপেক্স যে এতো সংখ্যক কূপ খনন করেছে এ দেশে, কখনো তো দুর্ঘটনা ঘটায়নি। শাহবাজপুর কূপে এক সময় অতি উচ্চচাপ হেতু সমূহ সম্ভাবনা ছিল দুঘটনা ঘটার কিন্তু সেটি প্রতিহত করে স্থির সুরক্ষা করে বাপেক্স দুর্ঘটনা ঠেকায়। আর বিদেশী কোম্পানীদের এহেন ধ্বংসাত্বক কর্মকান্ডে সরকারী প্রতিক্রিয়া নতজানু ও নমনীয় কেন ? এটি সরকারের ভুল নীতি এবং দেশের জ্বালানী উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতার আরেকটি দিক। সরকার বিদেশী কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিতে আবদ্ধ হয় , সে চুক্তিতে দেশের র্স্বাথ সংরক্ষনে শক্ত শর্ত থাকে না। আবার চুক্তির শর্ত না মানলেও তারা পার পেয়ে যায়। অক্সিডেন্টাল দুর্ঘটনা ঘটিয়ে সমূহ ক্ষতি সাধন করার পরও তাদের চুক্তি নবায়ন করা হয়, পার্বত্য চট্রগ্রামে একটি বিদেশী কোম্পানি বছরের পর বছর কোনো কূপ খনন না করেও বার বার চুক্তি ভঙ্গ করেছে, কিন্তু তা সত্ত্বেও চুক্তি নবায়ন করা হয়েছে কয়েক বার। ছাতক গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়নে নিয়ম নীতি বহির্ভূতভাবে নাইকো রিসোর্স কোম্পানিকে এককভাবে আমন্ত্রন করা হয়েছে, সেখানে নাইকো ইতিপূর্বে অন্যান্য বিদেশী কোম্পানির সঙ্গে পিএসসি কার্যক্রম প্রতিযোগিতায় অদক্ষ হওয়ায় বাদ পড়ে। সরকারের এহেন কার্যক্রম জ্বালানি খাত উন্নয়নের পথে ভুল পরিকল্পনা ও বড়ো প্রতিবন্ধকতা তো বটেই। তবে হ্যাঁ সরকার তার পূর্বেকার কার্যক্রম নীতিসমূহ পূর্ণমূল্যায়ন করতে পারে, বিদেশীদের সঙ্গে সম্পাদিত সকল চুক্তি বাতিল ঘোষণা করে দেশীয় স্বার্থকে সংরক্ষিত করতে পারে, জ্বালানি অনুসন্ধান ও উন্নয়নের লক্ষ্যে বিদেশীদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় কোম্পানিকে অধিক হারে কাজে লাগাতে পারে। একটা সময় ছিল যখন বাংলাদেশ থেকে ভারতে গ্যাস রপ্তানীর লক্ষ্যে বিদেশী কোম্পানির সাথে সমঝোতা করতে যাচ্ছিলো, দেশের জনগণের প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ তা প্রতিহত করে। এ জন্য এ অর্থে সরকারকে সাধুবাদ জানানো যায় যে, জনগণের দাবিকে সরকার মূল্য দিয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা হচ্ছে, জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে নিজস্ব দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও কারিগরি উৎকর্ষতার মাধ্যমে তেল-গ্যাসক্ষেত্রকে উন্নত করতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদক্ষেপ নিবে। আর মৌলভীবাজারের মাগুরছড়া-সুনামগঞ্জের ছাতক গ্যাসফিল্ড ব্লো-আউটের হাজার হাজার কোটি টাকার সমুদয় ক্ষতিপূরণ জরিমানাসহ কড়ায়-গন্ডায় আদায়ে যথাযথ ভূমিকা ও কার্যকর উদ্যোগ নেবেন, সেই বুক প্রত্যাশায় রইলাম। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28815817 http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28815817 2008-07-01 19:25:02
জ্বালানী নীতি প্রসঙ্গে ১৪ই জুন মাগুরছড়া দিবস মাগুরছড়া ব্লো-আউটের ১১ বছর পূর্ণ
ক্ষতিপূরণ আদায়ে কিছু সুপারিশ
(ধারাবাহিক-১৮)
---সৈয়দ আমিরুজ্জামান
জ্বালানী নীতি প্রসঙ্গেঃ
সরকারের উচিত জ্বালনি খাতে আপস্ট্রিম এবং ডাউনস্ট্রিম উভয় ক্ষেত্রেই বিনিয়োগ বাড়ানো। সরকারের জ্বালানী নীতিতে তো দেশের নিজস্ব তহবিল থেকে তিন বা চারটি করে অনুসন্ধান কূপ খননের কথা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দেখছি বছরে একটি করেও নয় বরং তিন বা চার বছরে একটি করে অনুসন্ধান কূপ খননের জন্য অর্থ প্রদান করা হয় আবার সব সময় তাও নয়। দেশীয় কোম্পানি বাপেক্সকে গতিশীল করে সরকার জ্বালানীক্ষেত্রে যে অগ্রগতি সাধন করতে পারতো, তা করা হয়নি। বরং বিগত দশকে বাপেঙ্রে প্রতি চরম অবহেলা ও বিমাতাসুলভ মনোভাব এ প্রতিষ্ঠানটির যথেষ্ট ক্ষতি করেছে। নব্বইয়ের দশকে এমন একটা সময় গেছে যখন মনে হয়েছে সরকার বাপেক্সকে পঙ্গু করে বা বিলুপ্ত করতে চায়। সরকারী উচ্চ মহলের কর্তাব্যক্তিগণ বা স্বয়ং মন্ত্রী বা উপদেষ্টা মহোদয়গণ বাপেক্স সম্পর্কে নেতিবাচক বক্তব্যের মাধ্যমে অবমূল্যায়ন করেছেন অথচ বাপেক্স আরো একটি গ্যাসক্ষেত্র মুরাদনগরের শ্রীকাইলে আবিষ্কার করেছে।
আবিস্কৃত শ্রীকাইলে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে বাংগুরাতে একটি বিদেশী কোম্পানী (তাল্লো ) অপর একটি কূপ খনন করেছে এবং সেখানেও একটি গ্যাসক্ষেত্র আবিস্কৃত হয়েছে। এটি উল্লেখযোগ্য যে, বাপেক্স যে ধরনের যন্ত্রপাতি, রিগ ও খনন সামগ্রী নিয়ে কাজ করে শ্রীকাইলে গ্যাস আবিস্কার করেছে তা তুলনামুলকভাবে পার্শ্ববর্তী বিদেশী কোম্পানীর তুলনায় অনেক নিম্নমানের, পুরনো এবং অনেক অংশ মেরামত করা। বিদেশী কোম্পানী কূপ খননে নতুন ও অত্যাধুনিক ড্রিলিং রিগ ( টপ ড্রাইভ রিগ ) ব্যবহার করছে, সেখানে বাপেক্স ড্রিলিং করছে পুরনো এবং মেরামত করা রিগ দিয়ে। অথচ তা সত্বেও বাপেক্স গ্যাস আবিস্কারে সমানভাবে সার্থক হয়েছে। আর বাপেক্স তো ইতিমধ্যে অনুসন্ধান ছাড়াও গ্যাস উৎপাদন করে চলেছে তাদের আবিস্কৃত ফেঞ্চগঞ্জ ও সালদানদী গ্যাসক্ষেত্র এবং শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্রে শিগগিরই উৎপাদন শুরু করবে। তাহলে এটি নিশ্চিত যে, আমাদের দেশের ভূবিজ্ঞানী, খননবিদ কারিগরি ব্যক্তিবর্গ অনুসন্ধান ও উন্নয়নে যথেষ্ট সুদক্ষ। তাদেরকে যদি যথাযথভাবে অনুসন্ধান করতে আর্থিক জোগান দেওয়া হয় তবে আমাদের পক্ষে বিদেশীদের উপর নির্ভর করা প্রয়োজন ছিলনা এবং এখনো নেই। এখানেই সরকারের সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাব এবং এটাই জ্বালানী খাতে উন্নয়নের একটি বড় প্রতিবন্ধকতা। অয়েল এন্ড ন্যাচারাল গ্যাস কমিশন (ওএনজিসি ) বা মালয়েশিয়ার পেট্রোলসকে দেখুন। এ সংস্থাগুলো বিগত তিন/চার দশকে উত্তরোত্তর দক্ষতা বাড়িয়েছে, এখন তারা কেবল নিজস্ব দেশেই নয় বরং বিদেশে গিয়ে অন্য দেশের তেল গ্যাস অনুসন্ধান ও উন্নয়নের কার্যক্রমে লিপ্ত। আর সরকার কি করলো ? বাপেক্সের মত এরকম একটি সম্ভাবনাময় সংস্থাকে সরিয়ে দিয়ে সমগ্র দেশকে বিদেশী তেল কোম্পানীর হাতে তুলে দিয়েছে সরকার। এখন তারা যেটুকু গ্যাসই আবিস্কার করুক তার মাত্র ২১ ভাগের বেশীতো আর বাংলাদেশ পাবে না, আর ৭৯ ভাগের মালিকানা তাদের। আবার তাদের সে অংশটুকু তাদের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক মূল্যে বাংলাদেশকে কিনতে হবে। সর্বসাকুল্যে এ পন্থায় বাংলাদেশের লাভ নেই। তাই যে সমস্ত স্থানে দেশীয় কোম্পানীকে দিয়ে অনুসন্ধান করানো যেতো বিদেশীদের দিয়ে পিএসসি চুক্তি করানো সরকারের ভুল ও আত্মঘাতি পরিকল্পনার একটি অংশ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28815772 http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28815772 2008-07-01 16:51:48
বাংলাদেশে ভবিষ্যৎ গ্যাস ও জ্বালানী নিরাপত্তা অনুপস্থিত ১৪ই জুন মাগুরছড়া দিবস মাগুরছড়া ব্লো-আউটের ১১ বছর পূর্ণ
ক্ষতিপূরণ আদায়ে কিছু সুপারিশ
(ধারাবাহিক-১৭)
---সৈয়দ আমিরুজ্জামান
বাংলাদেশে ভবিষ্যৎ গ্যাস ও জ্বালানী নিরাপত্তা অনুপস্থিতঃ
বাংলাদেশে ভবিষ্যৎ গ্যাস নিরাপত্তা নেই। আর সে অর্থে তার জ্বালানী নিরাপত্তাও অনুপস্থিত, যেহেতু এখনো বাংলাদেশ ভীষণভাবে গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। পার্শ্ববর্তী বা অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশে বাণিজ্যিক জ্বালানী ব্যবহার বাংলাদেশের মতো একমুখী নয় বরং তা বহুমুখী (গ্যাস, তেল, কয়লা)। তাই তাদের পক্ষে ভবিষ্যৎ জ্বালানী নিশ্চয়তা অর্জন করা সহজতর। বাংলাদেশে গ্যাস ছাড়া অন্য নিজস্ব বাণিজ্যিক জ্বালানি ব্যবহার নেই বা খুব কম। মোট বাণিজ্যিক জ্বালানি চাহিদার ৭০% মেটায় গ্যাস, ২৪%মেটায় তেল। কিন্তু তা পুরোটাই আমদানিকৃত এবং কয়লা ৪% এবং এটিও আমদানিকৃত। বর্তমানে দিনাজপুরে বড়পুকুরিয়ায় একটি কয়লা খনি কয়লা উৎপাদন শুরু করতে যাচ্ছে এবং এ খনি সংলগ্ন একটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে এ কয়লা ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে এই একটি খনি থেকে উৎপাদিত কয়লা দেশের সামগ্রিক জ্বালানিক্ষেত্রে কিছু সাহায্য করবে বা গ্যাসের ওপর কিছুটা চাপ কমাতে পারবে বলে অনেকে আশা করেন, তবে উল্লেখ্যযোগ্যভাবে নয়। বাংলাদেশ যদি কয়লা উন্নয়ন পরিকল্পনা বড়ো আকারে বাস্তবায়ন করতে পারে । তবে তা গ্যাসের ওপর চাপ কমাতে সাহায্য করবে। তবে বিগত দিনের অভিজ্ঞতা বেশ একটা আশাপ্রদ নয় ১৯৯৬ সালে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি স্থাপনের কাজ শুরু হয় ২০০৩ সাল নাগাদ শেষ হবে বলে। এখন ২০০৫ সালের শুরুতেও তা চালু হলনা। তারপরও এ খনি থেকে কতটা কয়লা উত্তোলিত হবে তা নিয়ে দ্বিধা রয়েছে। এখানে মজুদ ৩০০ মিলিয়ন টন কয়লা থাকলেও বর্তমানে খনি পরিকল্পনায় প্রথম পর্বে ৩০ মিলিয়ন টন ও দ্বিতীয় পর্বে ৩০ মিলিয়ন টন কয়লা উত্তোলনের ব্যবস্থা বা পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরকারের হাতে এমন কোন পরিকল্পনা নেই যে, বাংলাদেশে খুব ব্যাপক আকারে কয়লা উত্তোলন শুরু হবে। গ্যাস ও কয়লা ছাড়া এ দেশে ও তেল সম্পদ তেমন কিছু পাওয়া যায়নি, হরিপুরে একটি অতি ছোট তেলক্ষেত্র , কয়েক বছর তেল উৎপাদনের পর বন্ধ হয়ে যায়। মার্কিন সংস্থা (ইউএসজিএস) ও পেট্রোবাংলার যৌথ সমীক্ষা রিপোর্টে এ মন্তব্য করা হয় যে, প্রয়োজনীয় ভূতাত্ত্বিক উপাদানের অভাব থাকার কারণে এদেশের তেল সম্ভাবনা ভালো। এ ছাড়া অন্যান্য জ্বালানি যেমন জলবিদ্যুৎ অতি সামান্য আকারে বিদ্যমান এবং এর বড় প্রসার বাংলাদেশে সম্ভব নয়। তেজষ্ত্র্নিয় জ্বালানির কারিগরি ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করতে পারবে না। আর অনেকে যে নবায়নযোগ্য বিকল্প জ্বালানি বা সৌরশক্তির কথা বলেন, তা বিশ্বে ব্যাপকভাবে প্রচলন শুরু হতে অন্তত আরো ৫০ থেকে ৬০ বছর সময় লাগবে। সুতরাং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা নেই।
(বি:দ্রঃ সময়ের অভাবে আপডেট করা সম্ভব হলো না। আমার ধারাবাহিক এই লেখাটি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছিল। এ ছাড়া আমার এই লেখাটি জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের সেমিনারে মূল প্রবন্ধ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28815727 http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28815727 2008-07-01 14:53:49
গ্যাসের বর্তমান মজুদ প্রসঙ্গে ১৪ই জুন মাগুরছড়া দিবস মাগুরছড়া ব্লো-আউটের ১১ বছর পূর্ণ
ক্ষতিপূরণ আদায়ে কিছু সুপারিশ
(ধারাবাহিক-১৬)
--সৈয়দ আমিরুজ্জামান
গ্যাসের বর্তমান মজুদ প্রসঙ্গেঃ
বাংলাদেশের পক্ষে বর্তমানে গ্যাস রপ্তানী করার অবকাশ নেই। দেশের বর্তমান মজুদ দিয়ে নিজস্ব প্রয়োজন মেটানো যাবে বড়জোর ২০ বছর। এরপর বাংলাদেশকে গ্যাস আমদানী করার পন্থা বের করতে হবে। গ্যাসের চাহিদা দিনদিন তো বেড়েই চলেছে। পেট্রোবাংলার হিসাব মতে, আগামী ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস বাংলাদেশের প্রয়োজন। বর্তমান অবশিষ্ট মজুদ ১২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস । সুতরাং ২০২০ সাল পর্যন্ত চলতেই কিন্তু নতুন আবিষ্কারের উপর নির্ভর করতে হবে। আর তারপরের দশক অর্থাৎ ২০২০ থেকে ২০৩০সাল পর্যন্ত গ্যাসের প্রয়োজন আরও প্রায় ১৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। তাহলে এই গ্যাস আসবে কোত্থেকে ? বাংলাদেশে আরও এ পরিমাণ গ্যাস আদৌ পাওয়া যাবে কিনা তাতে বড় রকমের সন্দেহ রয়েছে। ৯নং ব্লক নিয়ে খুবই আশা করা হয়েছিল যে ,এ ব্লকে বিশাল গ্যাসের মজুদ পাওয়া যাবে। যে দুটো গ্যাসক্ষেত্র আবিস্কৃত হয়েছে তা আকারে ছোট।
শ্রীকাইলে যে গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার হয়েছে তাতে ০·২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদ রয়েছে বলে প্রাথমিক জরিপে ধরা হয়েছে আর পার্শ্ববর্তী বাংগুরাতে আবিস্কৃত গ্যাসের মজুদ প্রায় ০·৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ দুটো মিলে ১ ট্রিলিয়ন গ্যাসও নয়। ভূ-তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে এমন কোনো সাক্ষ্য খুঁজে পাওয়া যায় না যে , বাংলাদেশে খুব বড় রকমের গ্যাস মজুদ আবিস্কার হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ (ইউএসজিএস) এবং পেট্রোবাংলার যৌথ সমীক্ষায় বলা হয়েছে , ২০০১ সালে প্রদত্ত রিপোর্টে ওরা বলছে বাংলাদেশে আগামী ৩০ বছরে প্রায় ৮ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আবিস্কারের সম্ভাবনা ৯৫ %। এর মানে ১০০% নিশ্চিত নই যে , আরও ৮ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে কিনা। এর বেশী তো নয়ই। তাহলে বলা যায় আমাদের ভবিষ্যৎ গ্যাস নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28815630 http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28815630 2008-07-01 10:42:46
ছাতক গ্যাসক্ষেত্র, টেংরাটিলা ব্লো-আউট ১৪ই জুন মাগুরছড়া দিবস মাগুরছড়া ব্লো-আউটের ১১ বছর পূর্ণ
ক্ষতিপূরণ আদায়ে কিছু সুপারিশ
(ধারাবাহিক-১৫)
--সৈয়দ আমিরুজ্জামান
ছাতক গ্যাসক্ষেত্র, টেংরাটিলা ব্লো-আউটঃ
ছাতক গ্যাসক্ষেত্র ১৯৫৯ সালে আবিস্কৃত হয় এই কূপটি ছাতক-১ হিসেবে পরিচিত। এই গ্যাসক্ষেত্রটি থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত প্রায় ২৭ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের পর কূপে অত্যাধিক পানি আসার কারণে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলে স্থগিত ঘোষণা করা হয়। এই গ্যাসক্ষেত্রটিতে মোট মজুদ প্রায় ৩৩২ বিলিয়ন ঘনফুট, যার অধিকাংশই উৎপাদন করা হয়নি। এই ক্ষেত্রটি থেকে গ্যাস উৎপাদন পুনরায় শুরুর লক্ষ্যে বাপেক্সকে পাশ কাটিয়ে সরকার কানাডিয়ান বহুজাতিক নাইকো রিসোর্স কোম্পানিকে ইজারা দেয়। এই কোম্পানি ছাতক- ১ এর কাছেই ছাতক-২ কূপটি খনন করা শুরু করে এ বছরের প্রথম দিন থেকে। ছাতক-২ ( টেংরাটিলা )কূপটিতে ব্লো-আউট অবশ্যম্ভাবী ছিলনা। এর যথার্থ কারণ সরকার গঠিত তদন্ত কমিটি খুঁজে বের করেছে। কূপ-নকশা এবং খননকর্মে ত্রুটির কারণে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। উপরোক্ত ত্রুটিটি ছিল ১৯৯৭ সালে মৌলভীবাজারের মাগুরছড়া কূপে সংঘটিত দুর্ঘটনার অনুরূপ। মাগুরছড়ায় দুর্ঘটনার পর তার কারণ তদন্ত করে দেখা যায় যে, কূপ খননকারী অক্সিডেন্টাল কোম্পানীর কূপ-নকশা এবং খনন পদ্ধতিতে ত্রুটি এবং এর সঙ্গে কোম্পানীর অবহেলা ও দায়িত্বহীনতাকে দায়ী করা হয়। একইভাবে টেংরাটিলা কূপেও কূপ-নকশা ও খনন কাজের একই ধরনের ত্রুটি হয়েছে। কূপটিতে যথাযথভাবে কেসিং না করার ফলে গ্যাস নরম বালি স্তরে চারদিকে ঢুকে পড়ে ও তা কূপের পরিপার্শ্বে ও বহু স্থান দিয়ে বের হতে থাকে। আর গ্যাসস্তর থেকে পুলিং আউট করার ফলে গ্যাস উপরে উঠে অনিয়ন্ত্রিতভাবে ভূ পৃষ্ঠে এসে দুর্ঘটনাটি ঘটায়।
মাত্র ১১ বছর আগে মাগুরছড়া কূপের দুর্ঘটনার কারণ যেখানে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেটি ছাতক-২ খননের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয়নি। একটি নতুন কূপ খনন করার পূর্বে তার আশপাশে পূর্বেকার খননকৃত কূপসমূহের সমূহ তথ্য ও খনন ইতিহাস বিবেচনায় আনা একটি প্রচলিত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। এই কূপের ভূগর্ভে কি ধরনের শিলা স্তর, কি ধরনের গ্যাস স্তর পাওয়া যায় এবং তাদের ব্যবহার কি রকম হবে- এ তথ্য সমূহ জানা থাকা সত্ত্বেও এ ব্লো-আউট গ্রহণযোগ্য হতে পারেনা।
ছাতক(টেংরাটিলা) কূপে দুর্ঘটনায় তিন ধরনের ক্ষতি হয়েছে। প্রথমত, ভূ গর্ভে মূল্যবান গ্যাস মজুদের একটি বড় অংশ পুড়ে এবং বাতাসে উড়ে গিয়ে বিনষ্ট হয়েছে। দ্বিতীয়ত, ঐ এলাকায় কৃষি ও প্রতিবেশের বড় রকমের ক্ষতি হয়েছে আর তৃতীয়ত, জনগণের সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
টেংরাটিলার যে গ্যাসস্তরটিতে এই ব্লো-আউট ঘটে তা একটি বড় আকারের গ্যাসস্তর। নাইকো কোম্পানী ও বাপেক্স যৌথভাবে ছাতক গ্যাসক্ষেত্রের মজুদ নতুনভাবে নির্ধারণ করে, মোট মজুদ প্রায় ৪০০ বিলিয়ন ঘনফুট, এ পরিমাণ গ্যাসের বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ২৩,৩৬০ কোটি টাকা। তার মধ্যে কেবল এ নাইকো ও বাপেক্স যৌথভাবে আবার এক বছর পূর্বেই ছাতক গ্যাসক্ষেত্রের মজুদ পুনর্মূল্যায়ন ও মজুদ পুনর্নির্ধারণ করে এবং তাতে বলা হয় যে , দুর্ঘটনাকবলিত এই গ্যাসস্তরে ১১৫ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদ রয়েছে যার বাজার মূল্য প্রায় ৬,৭১৬ কোটি টাকা। ছাতক গ্যাসক্ষেত্রের অন্য দুটি গ্যাসস্তর আরো গভীরে অবস্থিত। গ্যাস বিনষ্ট হওয়ার আর্থিক ক্ষতি ছাড়াও পরিবেশের ক্ষতি ও মানুষের সম্পত্তির যে ক্ষতি হয়েছে তার আর্থিক মূল্য যথাযথভাবে নির্ধারণ করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। সরকার গঠিত তদন্ত কমিটি ছাতক (টেংরাটিলা) দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ বাবদ কানাডিয়ান নাইকো রিসোর্স কোম্পানির উপর মাত্র ১০ কোটি টাকা জরিমানা নির্ধারণ করেছে। দেশপ্রেমিক ভূতাত্ত্বিকদের মতে, উক্ত জরিমানাকে অগ্রহণযোগ্য ও জনগণের সাথে উপহাস । বিদেশী বহুজাতিক কোম্পানীগুলো কতটা অদক্ষ এবং অযোগ্য তা ইতিমধ্যে সিমিটার, অক্সিডেন্টাল ও নাইকো কোম্পানীর কর্মকান্ড থেকেই তা স্পষ্ট হয়েছে। ক্ষতিপূরণ আদায় করার জন্য সরকারের কোন আগ্রহ নেই। ১৯৯৭ সালে মাগুরছড়া ব্লো-আউটে গ্যাস সম্পদ বিনষ্ট ও পরিবেশের ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত কমিটির রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। তদন্ত কমিটি এ ক্ষতির হিসাবটি সরকারকে রিপোর্ট দেয়। সরকার সে মোতাবেক অক্সিডেন্টাল কোম্পানীর কাছে ক্ষতিপূরণ দাবী করে। কিন্তু কোম্পানী ক্ষতিপূরণ দেবার কোন আগ্রহ দেখাচ্ছে না বলে সরকার পক্ষ জানায়। পরবর্তীতে অক্সিডেন্টাল কোম্পানী আরেক মার্কিন কোম্পানী ইউনোকলের কাছে অবৈধভাবে হস্তান্তর করে চলে যায়। পরে আবার ইউনোকল কোম্পানীও তাদের স্বত্ব শেভরনের কাছে বিক্রি করে চলে যায়। কিন্তু মাগুরছড়া ক্ষতিপূরণের বিষয়টি আর ফয়সালাই হলো না। গ্যাস ও তেল উত্তোলন সংক্রান্ত বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানীর সঙ্গে সরকারের সম্পাদিত চুক্তিগুলো ভয়াবহভাবে অসম,অযৌক্তিক, লুণ্ঠনভিত্তিক, জাতীয় স্বার্থবিরোধী ও দেশের জন্য ক্ষতিকর। সরকারের নমনীয় নীতির জন্যই দেশের অমূল্য গ্যাস সম্পদ ও পরিবেশ-প্রতিবেশ বিনষ্ট করেও বিদেশী কোম্পানী পার পেয়ে যাচ্ছে। আর কতদিন বাংলাদেশের জনগণের মূল্যবান এই গ্যাস সম্পদ নিয়ে বিদেশী কোম্পানীর খামখেয়ালী ও লুণ্ঠন সহ্য করে যাবে সরকার। এটি মোটেই জনগণের কাম্য নয়।
একটি গ্যাসকূপ খনন করতে বিদেশী বহুজাতিক কোম্পানীকে ডেকে এনে শেয়ার দেওয়ার প্রয়োজন নেই এ কাজ জাতীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্স নিজেই করতে পারে। বাপেক্সকে দিয়েই বাংলাদেশের সকল গ্যাসকূপ খনন করা বাঞ্চনীয়। এক্ষেত্রে সরকারের আর্থিক অসঙ্গতির কথা উঠা অবান্তর। ছাতক গ্যাসক্ষেত্রে মজুদ ৬,৭১৬ কোটি টাকার গ্যাস সম্পদ বা মাগুরছড়া গ্যাসক্ষেত্রে ১৪ হাজার কোটি টাকার গ্যাস বা এমবি-২, এমবি-৩, এমবি-৪, এমবি-৫সহ বাংলাদেশের সকল গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়নে প্রতিটি কূপে মাত্র ৪০ কোটি টাকা খরচের সঙ্গতি না থাকার যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। আর বাপেক্সের কারিগরি ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন করা অজ্ঞতা ও প্রতারণার সামিল। বাপেক্স ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করেছে এবং ফেঞ্চুগঞ্জ ও সালদানদী গ্যাসক্ষেত্রসমূহে কূপ খনন করে গ্যাস উৎপাদন চালু রেখেছে। তাই ছাতক গ্যাসক্ষেত্রে-মাগুরছড়া গ্যাসক্ষেত্রে, এমবি-২, এমবি-৩, এমবি-৪, এমবি-৫ সহ বাংলাদেশের সকল গ্যাসক্ষেত্রে বাপেক্সকে দায়িত্ব দিতে অসুবিধা কোথায় ছিল ?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28815480 http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28815480 2008-06-30 23:26:02
দেশের গ্যাস চাহিদা, সংকট ও বাপেক্স ১৪ই জুন মাগুরছড়া দিবস মাগুরছড়া ব্লো-আউটের ১১ বছর পূর্ণ
ক্ষতিপূরণ আদায়ে কিছু সুপারিশ
(ধারাবাহিক-১৪)
----সৈয়দ আমিরুজ্জামান
দেশের গ্যাস চাহিদা, সংকট ও বাপেক্সঃ
দেশে বর্তমানে উৎপাদিত গ্যাস দেশের চাহিদা পুরোপুরি মেটাতে পারছেনা । বর্তমানে দেশে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হয় যা গড় চাহিদার কিছু কম। ইতিমধ্যে যে সংখ্যক গ্যাসকূপ জাতীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের মাধ্যমে খনন করা উচিত ছিল, তা খনন করা হয়নি। বিগত কয়েক বছরে হাতেগোনা ক'টি কূপ খনন করা হয়েছে- যা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। দেশে যে হারে গ্যাস চাহিদা বেড়েছে, উৎপাদন কূপের সংখ্যা সে তুলনায় বাড়ে নি। তাই উৎপাদিত গ্যাস ও গ্যাস চাহিদার মধ্যে তফাৎটা রয়েই গেছে ও বৃদ্ধি পাচ্ছে । তদুপরি চাহিদা বলতে বোঝায় সাপ্রেসড ডিমান্ড , যা এ মুহুর্তে না পেলেই নয়। গ্যাস চাহিদার চেয়ে উৎপাদন অতিরিক্ত হলেও তা ব্যবহৃত হয়ে যায় । বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে, শিল্পায়নের ভিত্তি নির্মাণে, কৃষির বিকাশে, জ্বালানী ও সার সমস্যার সমাধানে দেশের গ্যাস সম্পদ কাজে লাগানো গেলে চাহিদা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাবে।
গ্যাস সংকটের অন্য কারণটি হলো গ্যাস সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার অপর্যাপ্ত অবকাঠামো। গ্যাস সঞ্চালন ও বিতরণের জন্য প্রয়োজনীয় পাইপ লাইন দেশব্যাপী গড়ে উঠেনি। আবার যেখানে পাইপ লাইন রয়েছে, তার পরিবহন ক্ষমতা চাহিদার তুলনায় কম।
গ্যাস ক্ষেত্রসমূহে বাপেক্সের মাধ্যমে পর্যাপ্ত উন্নয়ন কূপ খনন করে চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদন না বাড়ালে এ সংকট মিটবে না। সরকারী উদ্যোগে গত বছর মাত্র দু'টি উন্নয়ন কূপ খনন করা হয়। সরকার এ বিষয়ে স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। উন্নয়ন কূপ খনন করতে আর্থিক অসঙ্গতির কথা বলা হয় । অথচ পেট্রোবাংলা সরকারকে বছরে ২ হাজার কোটি টাকার উপরে প্রদান করে , এর শতকরা ১০ ভাগ অন্তত গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়নে ব্যয় করা হলে বিদেশনির্ভরতা ও অনগ্রসরতা থাকতো না। বাংলাদেশে গ্যাস উৎপাদন ও সরবরাহের ক্ষেত্রে কোনো স্ট্যান্ডবাই উৎপাদন কূপ নেই। দেশে যে পরিমাণ গ্যাস উৎপাদিত হয়, তার শতকরা ২০ভাগ গ্যাস উৎপাদন ব্যবস্থা স্ট্যান্ডবাই বা প্রস্তুত রাখা হলে জরুরী অবস্থা সামাল দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা যায়। যেমন, কোনো কূপে যদি সাময়িকভাবে গ্যাস উৎপাদন ব্যাহত হয়, তবে ঐ প্রস্তত রাখা কূপসমূহ চালু করে উৎপাদন বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
বাংলাদেশে বাণিজ্যিক জ্বালানীর ব্যবহার শতকরা ৭০ ভাগ গ্যাসনির্ভর। দেশে উৎপাদিত বিদ্যুতের শতকরা ৯০ভাগ তৈরি হয় গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে। তাই গ্যাস সংকট মানেই বিদ্যুৎ সরবরাহের সংকট সৃষ্টি। ঘন ঘন লোডশেডিং জনজীবন অতিষ্ঠ করে, শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত করে, ব্যবসা বাণিজ্যিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করে। দেশে উৎপাদিত গ্যাসের একটি বড় অংশ সার তৈরিতে ব্যবহৃত হয় গ্যাস সংকট সৃষ্টি হলে সার কারখানায় সার উৎপাদন ব্যাহত হবে। এসব সংকট থেকে পরিত্রাণ পেতেই সরকার তেল-গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়নে বিদেশী বিনিয়োগের জন্য বহুজাতিক কোম্পানীগুলোকে ডেকে নিয়ে এসে তাদেরকে শেয়ার দিয়েছে। পরিনামে দেশের জন্য তা হয়েছে আত্মঘাতী।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28815445 http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28815445 2008-06-30 21:03:53
মাগুরছড়া ও টেংলাটিলার ক্ষতিপূরণের জন্য আন্দোলনকারী বিভিন্ন দল ও জন সংগঠন ১৪ই জুন মাগুরছড়া দিবস মাগুরছড়া ব্লো-আউটের ১১ বছর পূর্ণ
ক্ষতিপূরণ আদায়ে কিছু সুপারিশ
(ধারাবাহিক-১৩)
---সৈয়দ আমিরুজ্জামান
মাগুরছড়া ও টেংলাটিলার ক্ষতিপূরণের জন্য আন্দোলনকারী বিভিন্ন দল ও জন সংগঠনঃ
'মাগুরছড়ার গ্যাস সম্পদ ও পরিবেশ ধ্বংসের ক্ষতিপূরণ আদায় জাতীয় কমিটি'('National Committee to realize the compensation for damaging gas resource & environment in Magurcherra'), তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট, গণমুক্তি ও জাতীয় সম্পদ রক্ষা সম্মিলিত আন্দোলন, তেল-গ্যাস লুন্ঠন প্রতিরোধ ছাত্র-যুব আন্দোলন, তেল-গ্যাস লুন্ঠন প্রতিরোধ প্রচার সেল, কমিউনিষ্ট পার্টি, জাসদ, ন্যাপ, গনতন্ত্রী পার্টি, গণফোরাম, সাম্যবাদী দল, কৃষক শ্রমিক সমাজবাদী দল, গণ-আজাদী লীগ, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি, ১১ দল, জাতীয় গণফ্রন্ট, ৫ বাম দল, বিপ্লব ঐক্য ফ্রন্ট, গণ সংহতি আন্দোলন, বাসদ, সিলেট বিভাগ উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদ, বাংলাদেশ পরিবেশবাদী আইনজীবি সমিতি (বেলা), জন উদ্যোগ, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান-সুপ্র।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28815410 http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28815410 2008-06-30 19:29:01
লাউয়াছড়া ন্যাশনাল পার্ক-রিজার্ভ ফরেষ্টের ভেতর পাইপ লাইন নির্মাণ, পরিবেশ-প্রতিবেশ ধ্বংস ১৪ই জুন মাগুরছড়া দিবস
মাগুরছড়া ব্লো-আউটের ১১ বছর পূর্ণ
ক্ষতিপূরণ আদায়ে কিছু সুপারিশ
(ধারাবাহিক-১২)
---সৈয়দ আমিরুজ্জামান
লাউয়াছড়া ন্যাশনাল পার্ক-রিজার্ভ ফরেষ্টের ভেতর পাইপ লাইন নির্মাণ, পরিবেশ-প্রতিবেশ ধ্বংসঃ
মার্কিন বহুজাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানী ইউনোকল মাগুরছড়া গ্যাসকূপ ব্লো-আউটের ক্ষয়ক্ষতি বাবদ হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ না দিয়েই বিস্ফোরিত গ্যাসকূপের কাছাকাছি ১৪ নং ব্লকের এমবি-৪ ও এমবি-৫ নামে ২টি কূপ খনন সম্পন্ন এবং এই ২টির গ্যাস কালাপুরে স্থাপিত প্রসেসিং প্লান্টে সঞ্চালনের জন্য পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের লাল তালিকাভূক্ত লাউয়াছড়া ন্যাশনাল পার্ক-রিজার্ভ ফরেষ্টের ভেতর দিয়ে পরিবেশ-প্রতিবেশ ধ্বংস করে গ্যাস গ্যাদারিং পাইপ লাইন নির্মাণ করেছে। ইউনোকল কোম্পানী প্রাথমিক পরিবেশগত মূল্যায়ন (Initial Environmental Examination-IEE) এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সাইট ক্লিয়ারেন্স (Site Clearence) পেলেও এনভায়রনমেন্টাল ইমপেক্ট এসেসমেন্ট (Environmental Impact Assessment-EIA) ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের এনভায়রনমেন্টাল ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট ( Environmental Clearence Certificate) ছাড়াই ঐ কাজ চালায়। পাইপ লাইন নির্মাণের কাজে ইউনোকল বনজ সম্পদ, বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ-প্রতিবেশের ব্যাপক ক্ষতি করছে বলে বনবিভাগ বহু আগেই অভিযোগ করেছে। অভিযোগে আরো বলা হয় যে, লাউয়াছড়া ন্যাশনাল পার্ক-রিজার্ভ ফরেষ্টের অভ্যন্তরে ব্যবহৃত ৮/৯ ফুট প্রশস্ত পায়ে হাটার পথকে গাড়ী চলাচলের রাস্তা দেখিয়ে প্রাথমিক পরিবেশগত মূল্যায়ন রিপোর্ট জমা করা সাপেক্ষে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সাইট ক্লিয়ারেন্স (Site Clearence) নিয়ে ইউনোকল উক্ত রাস্তাকে নির্মাণ কাজের সময় ২৫/৩০ ফুট চওড়া করে। লাউয়াছড়া বনাঞ্চলের ভেতর প্রায় পৌনে দুই কিলোমিটার পথে অসংখ্য গাছ, লতা,গুল্মাদি ও প্রাকৃতিক ঝোপঝাড় কেটে পরিস্কার করে পরিবেশ-প্রতিবেশের ব্যাপক ক্ষতি করা হয়েছে। এতে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সড়কের প্রায় সোয়া দুই কিলোমিটার অংশের প্রাকৃতিক উদি্‌ভরাজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টিলার মাটি কেটে ড্রেসিং ও লেবেলিং করায় ভূমিক্ষয়ের আশংকা দেখা দিয়েছে। গ্যাস গ্যাদারিং পাইপ লাইন নির্মাণ কাজে ভারী যানবাহন ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার, শ্রমিকের কোলাহল প্রভৃতি কারণে পরিবেশ বিনষ্ট এবং ন্যাশনাল পার্ক-রিজার্ভ ফরেষ্টের বন্যপ্রাণী বাইরে চলে আসার অভিযোগ করা হয়েছে। পাইপ লাইন নির্মাণকালীন সময়ে বনবিভাগ ও ইউনোকল ক্ষতিগ্রস্ত উদি্‌ভদের যে যৌথ জরীপ সম্পন্ন করে তাতে ইউনোকল স্বাক্ষর করেনি। বনবিভাগের এসব অভিযোগকে ইউনোকল গুরুত্বই দেয় নি। বরং ইউনোকলের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট এন্ডো এল ফথ্রপ এসব অভিযোগ ও বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকাতে ছবিসহ প্রকাশিত লাউয়াছড়া সংক্রান্ত সরজমিন প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন বলে দাবী করেছে। ইউনোকল প্রেসিডেন্ট এন্ডো এল ফথ্রপ প্রাথমিক পরিবেশগত মূল্যায়ন (Environmental Examination-IEE)কে এনভায়রনমেন্টাল ইমপেক্ট এসেসমেন্ট ( Environmental Impact Assessment-EIA)-ইআইএ হিসেবে চালিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া সাইট ক্লিয়ারেন্স (Site Clearence)কে পরিবেশ মন্ত্রনালয়ের এনভায়রনমেন্টাল ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট ( Environmental Clearence Certificate) বা ছাড়পত্র হিসেবে অভিহিত করেছেন। অথচ ইউনোকল কোম্পানী পরিবেশ মন্ত্রনালয়ের (Environmental Clearence Certificate) বা ছাড়পত্র পায়নি। এছাড়া (Initial Environmental Examination-IEE) প্রাথমিক পরিবেশগত মূল্যায়ন শেষে সাতটি সুনির্দিষ্ট শর্তের ভিত্তিতে সাইট ক্লিয়ারেন্স(Site Clearence) দেয়া হলেও পাইপ লাইন নির্মাণ কাজের সময় ইউনোকল সেগুলোও মেনে চলেনি।
শর্তগুলো ছিলঃ
১. শব্দ ও কোলাহল এড়ানোর জন্য হস্তচালিত কার্যক্রম পরিচালিত করা, ২. খননকাজ হাতে সম্পন্ন করা যাতে গাছের শিকড় ক্ষতিগ্রস্ত না হয়,
৩. গাছপালা না কাটা,
৪. বন্যপ্রাণীর জীবন যাত্রায় কোন প্রকার অসুবিধা যাতে না হয়,
৫. প্রতিদিন বিকেলের মধ্যে শ্রমিকদের সরিয়া নেয়া,
৬. বনের মধ্যে কোন ভারী স্থাপনা না রাখা,
৭. নির্মাণ কাজ শুরু করার আগে ইআইএ সম্পন্ন করা।
সরজমিনে লাউয়াছড়া ন্যাশনাল পার্ক-রিজার্ভ ফরেষ্ট পরিদর্শনে গেলে দেখা যায় যে,ইউনোকল সকল শর্তাবলী লঙ্ঘন করেছে। যেমন, ১. ভারী যানবাহন ও যন্ত্রপাতির ব্যবহার করা হয়েছে, ২. অসংখ্য গাছের শিকড় ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে,৩. অসংখ্য গাছপালা কাটা হয়েছে, ৪. বন্যপ্রাণীর জীবনযাত্রায় ব্যঘাত সৃষ্টি করা হয়েছে, ৫. বিকেলের মধ্যে কাজ শেষ না করা, ৬.লাউয়াছড়া ন্যাশনাল পার্ক-রিজার্ভ ফরেষ্টের ভেতর দিয়ে ভারী স্থাপনা বহন করা হয়েছে, ৭.নির্মাণ কাজ শুরু করার আগে ইআইএ সম্পন্ন না করা এবং ছাড়পত্র না নেওয়া।
কূপ খনন করার পরে কূপের বিষাক্ত বর্জ্য পদার্থসহ রাসায়নিক পানি ছড়া-খাল(ছোটনদী)তে ফেলে পরিবেশ দূষিত করা হয়েছে; ফলে উক্ত বিষাক্ত পানিতে ছড়ার বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, ব্যাঙ, সাপ, বিচ্ছু, কেঁচো,শামুক, ঝিনুক, পোকা-মাকড়, কাঁকড়া, অনুজীবসহ ইত্যাদি মারা গেছে বলে জানা যায়। ইউনোকল কোম্পানীর পূর্বসুরি অক্সিডেন্টাল কোম্পানীর সাথে সম্পাদিত পিএসসি চুক্তির মেয়াদ মাগুরছড়া ব্লো-আউটের পর ১৯৯৮ সালে শেষ হয়ে গেলে ঐ বছরেই নভেম্বর মাসে (Supplemental Agreement) বা সম্পূরক চুক্তি সম্পাদিত হয়। (Supplemental Agreement) বা সম্পূরক চুক্তির কিছুদিন পর অক্সিডেন্টাল কোম্পানী তাদের সমস্ত দায় দায়িত্ব ইউনোকলের কাছে হস্তান্তর করে বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যায়। অবস্থা বেগতিক দেখে ইউনোকলও তাদের স্বত্ব আরেক মার্কিন বহুজাতিক লুটেরা কোম্পানি শেভরনের কাছে বিক্রি করে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি ফয়সালা না করেই একরকম সামছিকার ন্যায় পালিয়ে যায়। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28815338 http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28815338 2008-06-30 14:32:48
সম্পূরক চুক্তি বাতিলএবং মাগুরছড়া গ্যাস ফিল্ডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য হাইকোর্টে মামলা ১৪ই জুন মাগুরছড়া দিবস
মাগুরছড়া ব্লো-আউটের ১১ বছর পূর্ণ
ক্ষতিপূরণ আদায়ে কিছু সুপারিশ
(ধারাবাহিক-১১)
--সৈয়দ আমিরুজ্জামান
হাইকোর্টে মামলাঃ
২০০৩ সালের ১১ মে ইউনোকলের ওপর রুলনিশি জারি করেছে হাইকোর্ট। কেন সম্পূরক চুক্তি বাতিল করা হবে না এবং মাগুরছড়া গ্যাস ফিল্ডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ প্রদানের আগে গ্যাস-তেল উত্তোলন বন্ধ রাখতে কেন ইউনোকলকে নির্দেশ দেয়া হবে না- এ মর্মে ২ সপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শানোর জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। একই সাথে সরকার ও পেট্রো বাংলাকেও কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। বিচারপতি মোঃ আব্দুর রশীদ ও বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান মিয়ার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। চট্টগ্রামের বিআইটির ইলেক্ট্রিক্যাল ও ইলেক্ট্রনিক বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. শামসুল আলমের রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ রুলনিশি জারি হয়। রিট আবেদনে বলা হয়, ১৯৯৫ সালের ১১ জানুয়ারি বাংলাদেশ সরকারের সাথে মার্কিন তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কোম্পানি অক্সিডেন্টালের চুক্তি হয়। এরপর ১৯৯৭ সালের ১৪ জুন মাগুরছড়া গ্যাস ক্ষেত্রে অগ্নিকাণ্ডে বিপুল অংকের ক্ষতি হয়। এ ব্যাপারে সরকার তদন্ত কমিটি গঠন করে। রিপোর্টে বলা হয় ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার জন্যে কোম্পানি দায়ী। ওদিকে ১৯৯৮ সালের ২৫ নভেম্বর ক্ষতিপূরণের কোন শর্ত না রেখেই ২য় দফায় সম্পূরক চুক্তি হয়। এ কারণে ওই চুক্তিকে চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন দাখিল করা হয় । শুনানীতে আইনজীবীরা বলেছেন, অক্সিডেন্টাল দেশের প্রচলিত পেট্রোলিয়াম ও পরিবেশ আইন না মেনে কাজ শুরু করে। এছাড়া, তারা কোম্পানির সকল দায়-দায়িত্ব ইউনোকলকে বুঝিয়ে দিয়েছে। তাই ক্ষতিপূরণ আদায়ের লক্ষ্যে ইউনোকলের প্রতি রুলনিশি জারির আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু হাইকোর্টের রুলনিশির কোনো সন্তোষজনক জবাব ইউনোকল দেয়নি। সরকার কর্তৃক আইসিসি কোর্টে মামলা করার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছিল। এছাড়া ২০০৪ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারী জাতীয় সংসদে গোলাম হাবিবের এক প্রশ্নের জবাবে তৎকালীন জ্বালানী প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেন মাগুরছড়া গ্যাসফিল্ডে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিপূরণের জন্য বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়ের করবে বলে জানায়। ক্ষতিপূরণ আদায়ের কোনো সুরাহা এখনো পর্যন্ত হয়নি। মাগুরছড়ার ক্ষতিপূরণ আদায়সহ ৫ দফা দাবিতে ঢাকার পল্টন ময়দান থেকে বৃহত্তর সিলেটের বিবিয়ানা,ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-খুলনা-মংলা অভিমুখে লংমার্চ করা হয়েছে। এতো আন্দোলনের পরও জনগণের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, মার্কিন বহুজাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানী ইউনোকল মাগুরছড়া গ্যাসকূপ ব্লো-আউটের ক্ষয়ক্ষতি বাবদ হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ না দিয়েই বিস্ফোরিত গ্যাসকূপের কাছাকাছি ১৪ নং ব্লকের এমবি-৪ ও এমবি-৫ নামে ২টি কূপ খনন কিভাবে সম্পন্ন হলো এবং কিভাবে এই ২টির গ্যাস কালাপুরে স্থাপিত প্রসেসিং প্লান্টে সঞ্চালনের জন্য পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের লাল তালিকাভূক্ত লাউয়াছড়া ন্যাশনাল পার্ক-রিজার্ভ ফরেষ্টের ভেতর দিয়ে পরিবেশ-প্রতিবেশ বিনাশী গ্যাস গ্যাদারিং পাইপ লাইন নির্মাণ সম্পন্ন করে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28815152 http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28815152 2008-06-30 01:01:49
'মাগুরছড়ার গ্যাস সম্পদ ও পরিবেশ ধ্বংসের ক্ষতিপূরণ আদায় জাতীয় কমিটি'র ১০ দফা ১৪ই জুন মাগুরছড়া দিবস
মাগুরছড়া ব্লো-আউটের ১১ বছর পূর্ণ
ক্ষতিপূরণ আদায়ে কিছু সুপারিশ
(ধারাবাহিক-১০)
--সৈয়দ আমিরুজ্জামান
১০টি দাবি নামাঃ
'মাগুরছড়ার গ্যাস সম্পদ ও পরিবেশ ধ্বংসের ক্ষতিপূরণ আদায় জাতীয় কমিটি'র পক্ষ থেকে ১০টি দাবি নামা উত্থাপন করা হয়েছে। দাবিসমূহ হচ্ছেঃ ১. মাগুরছড়ায় দায়িত্বহীনতার কারণে যে ব্লো-আউট ঘটেছে এবং গ্যাস সম্পদ, পরিবেশের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে তার জন্যে অক্সিডেন্টাল-ইউনোকল-শেভরনের কাছ থেকে কমপক্ষে ২৫ হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে আদায় করুন। এই ক্ষতিপূরণ আদায় না হওয়া পর্যন্ত অক্সিডেন্টাল-ইউনোকলের দায়িত্ব গ্রহণকারী শেভরনের সকল কার্যক্রম বন্ধ করুন এবং তাদের সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি আটক করুন।
২. মাগুরছড়ায় গ্যাসকূপ বিস্ফোরণের কারণে পরিবেশগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত আনারস, লেবু, ভূমি, বসত বাড়ি, পশু পাখি, প্রাকৃতিক শোষণ ব্যবস্থা, প্রাকৃতিক উৎপাদন, পশু পাখির বসতি, ভূপৃষ্ঠস্থ প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ, ভূগর্ভস্থ পানি স্তরের অধোগমন, প্রাণ বৈচিত্র, ভূমিস্থ অনুজীব, বনজ সম্পদ এবং মৃত্রিকার যে অপূরণীয় ক্ষতি, সেই ক্ষতিপূরণ আদায় করুন।
৩. মাগুরছড়ার গ্যাস সম্পদ, বন, পরিবেশ-প্রতিবেশ ধ্বংসের অপরাধে অক্সিডেন্টাল কোম্পানীর বিরুদ্ধে তার দেশের গাফিলতি আইন (Law of Negligence) কঠিন দায়িত্বের আইন (Law of Strict Liability) ও ক্ষতিপূরণের আইন (Law of Compensation) এর আওতায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়ের করুন
৪. গ্যাস ও তেল উত্তোলন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিদেশী তেল কোম্পানির সঙ্গে সম্পাদিত অসম, অযৌক্তিক, লুণ্ঠন ভিত্তিক, জাতীয় স্বার্থবিরোধী, দেশের জন্য স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদী ক্ষতিকর উৎপাদন অংশীদারী চুক্তিগুলো অবিলম্বে বাতিল করুন।
৫ গ্যাস ও তেল হলো জনগণের সম্পত্তি, এর মালিক সমগ্র জনগণ, তাই জনগণের অবগতির জন্য এ যাবৎকালে সংগঠিত সব আলোচনা, চুক্তি, আমলা-রাজনীতিবিদ-ব্যবসায়ীদের দুর্নীতি, বিদেশী কোম্পানির দেশীয় এজেন্টদের নাম ও তাদের প্রাপ্ত কমিশন সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে শ্বেতপত্র প্রকাশ করুন।
৬. বাংলাদেশের জন্য মূল্যবান খনিজ সম্পদ লুণ্ঠন, অপচয় করার প্রক্রিয়ায় জড়িত ক্ষমতাবান ব্যক্তি, আমলা, ব্যবসায়ী, রাষ্ট্র পরিচালনায় নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ যেই হোন না কেন তাদের চিহ্নিত করুন ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিন।
৭. বিদেশী কোম্পানিকে মুনাফা যোগান দেয়ার জন্যে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ-এর পরামর্শে দেশের উৎপাদনশীল খাত ক্ষতিগ্রস্ত করে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানো বন্ধ করুন।
৮. দেশের শিল্পায়ন ও উৎপাদনশীল সামগ্রিক উন্নয়ন চাহিদা বিবেচনা করে এবং তার সঙ্গে সমন্বিতভাবেই গ্যাস ও তেল অনুসন্ধান ও উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এই অনুসন্ধানের প্রক্রিয়ায় আগামীতে দেশীয় প্রতিষ্ঠান ও বিশেষজ্ঞদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রতিবছর দেশীয় কোম্পানি উত্তোলিত গ্যাস বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থের (বর্তমান ১৩০০ কোটি টাকা ) অন্তত শতকরা ২০ ভাগ গ্যাস অনুসন্ধান, উত্তোলন গবেষণা শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, প্রভৃতি কাজে ব্যয় করুন।
৯. দেশীয় প্রতিষ্ঠান বাপেকে পঙ্গু করা চলবে না। গ্যাস অনুসন্ধান উত্তোলনের দায়িত্ব প্রধানতঃ বাপেকে দিতে হবে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
১০. দেশের গ্যাস সম্পদ নিয়ে বিদেশী রাষ্ট্রদূত, প্রতিনিধি ও বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থার কর্মকর্তাদের কূটনৈতিক শিষ্টাচার বর্জিত, অনৈতিক, দায়িত্বহীন, ভ্রান্ত ও উস্কানীমূলক বক্তব্য প্রদানের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। দেশের মানুষকে বঞ্চিত করে জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে আত্মঘাতী গ্যাস রফতানি চলবে না। শহর-গ্রামে ঘরে ঘরে, উত্তরবঙ্গ-দক্ষিণবঙ্গসহ দেশের সর্বত্র এবং কলে-কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করতে হবে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28815082 http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28815082 2008-06-29 21:41:30
মাগুরছড়ার গ্যাস সম্পদ ও পরিবেশ ধ্বংসের ক্ষতিপূরণ আদায় জাতীয় কমিটি ১৪ই জুন মাগুরছড়া দিবস
মাগুরছড়া ব্লো-আউটের ১১ বছর পূর্ণ
ক্ষতিপূরণ আদায়ে কিছু সুপারিশ
(ধারাবাহিক-৯)
---সৈয়দ আমিরুজ্জামান
মাগুরছড়ার গ্যাস সম্পদ ও পরিবেশ ধ্বংসের ক্ষতিপূরণ আদায় জাতীয় কমিটি’ঃ
মাগুরছড়ায় মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানি অক্সিডেন্টালের দায়িত্বহীনতা, অবহেলা ও ত্রুটির কারণে গ্যাস কূপের যে বিস্ফোরণ ঘটেছিল এবং গ্যাস সম্পদ, বন, জীব বৈচিত্র, পরিবেশের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে তার যথাযথ ক্ষতিপূরণ অক্সিডেন্টালের দায়িত্ব গ্রহণকারী আরেক মার্কিন কোম্পানি ইউনোকল পরবর্তীতে নতুন স্বত্বক্রয়কারী শেভরনের কাছ থেকে আদায়ের নিমিত্তে আন্দোলন পরিচালনা করে আসছে 'মাগুরছড়ার গ্যাস সম্পদ ও পরিবেশ ধ্বংসের ক্ষতিপূরণ আদায় জাতীয় কমিটি'(''National Committee to realize the compensation for damaging gas resource & environment in Magurcherra''), তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট, গণমুক্তি ও জাতীয় সম্পদ রক্ষা সম্মিলিত আন্দোলন । জাহেদুর রহমান, আক্তার আহমদ চৌধুরী মামুন, সৈয়দ আমিরুজ্জামান, বেলায়েত হোসেন শিপার, শাহীরুল ইসলাম চৌধুরী, মুজিবুর রহমান রেনু, মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান (বর্তমানে যুক্তরাজ্য প্রবাসী), সৈয়দ গাউছুজ্জামান রুমান, জয়নাল চৌধুরী, নারী নেত্রী সৈয়দা তাহমিনা বেগম সীমা, পি·সুচিয়াং করডর, কবি সৈয়দ মিজানুর রহমান, দত্তরাম বর্মন, পারভেজ রশিদ চৌধুরী, লুৎফুর রহমান লুদু, কবি সৈয়দ নোমান আজমী ও খুরশেদ আলমকে নিয়ে গঠিত ১৭ সদস্য বিশিষ্ট 'মাগুরছড়ার গ্যাস সম্পদ ও পরিবেশ ধ্বংসের ক্ষতিপূরণ আদায় জাতীয় কমিটি'র উদ্যোগে প্রচার আন্দোলন, জাতীয়-আন্তর্জাতিক ক্যাম্পেইন, গণস্বাক্ষর সংগ্রহ, পদযাত্রা, মানববন্ধন, বিক্ষোভে-সমাবেশসহ বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। কমিটি ক্যালেন্ডার ও লিফলেট ছেপে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে বিলি করেছে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28813033 http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28813033 2008-06-24 02:21:01
১৮৭২ সালের চুক্তি আইন অনুযায়ী সাম্রাজ্যবাদী বহুজাতিক কোম্পানির সাথে সম্পাদিত জাতীয়স্বার্থ বিরোধী সকল 'পিএসসি' চুক্তি বাতিল করা সম্ভব ১৪ই জুন মাগুরছড়া দিবস
মাগুরছড়া ব্লো-আউটের ১১ বছর পূর্ণ
ক্ষতিপূরণ আদায়ে কিছু সুপারিশ
(ধারাবাহিক-৮)
---সৈয়দ আমিরুজ্জামান

১৮৭২ সালের চুক্তি আইন অনুযায়ী সাম্রাজ্যবাদী বহুজাতিক কোম্পানির সাথে সম্পাদিত জাতীয়স্বার্থ বিরোধী সকল 'পিএসসি' চুক্তি বাতিল করা সম্ভবঃ
দেশের জনগণের ও জাতীয়স্বার্থ পরিপন্থী জ্বালানি প্রকল্পের বিরুদ্ধে বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে অবস্থান নিতে হবে। বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে এ ব্যাপারে সজাগ হতে হবে। বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে বিষয়টি গভীরভাবে উপলব্ধি করতে হবে। দেশের প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা প্রজাতন্ত্রের তথা জনগণের সম্পত্তি। সংবিধানের ১৪৩ (১)নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- 'ক. বাংলাদেশের যে কোনো ভূমির অন্তঃস্থ সব খনিজ ও অন্যান্য মূল্যসম্পন্ন সামগ্রী; খ. বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় জলসীমার অন্তর্বর্তী মহাসাগরের অন্তঃস্থ কিংবা বাংলাদেশের মহীসোপানের উপরিস্থ মহাসাগরের অন্তঃস্থ সকল ভূমি, খনিজ ও অন্যান্য মূল্যসম্পন্ন সামগ্রী; ···', প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তি- প্রকৃত অর্থে জনগণ এর মালিক। কাজেই তথাকথিত রয়ালটির নামে জনগণের সম্পত্তি কোনো বিদেশি কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করা যাবে না। দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে গ্যাস ও কয়লা বা গ্যাস-কয়লাজাত কোনো পদার্থ বিদেশে রফতানি করা যাবে না। যদি করা হয়, তবে জ্বালানি নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
অতীতের ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, দেশি-বিদেশি স্বার্থান্বেষী বিভিন্ন মহল জ্বালানি খাতের প্রস্তাবগুলোতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থির সময় বেছে নেয়। উদাহরণস্বরূপ, ২০০১ সালে গ্যাস রফতানি প্রস্তাব, একই বছরে আগে আবিস্কৃত ও কিছুকাল উৎপাদনরত টেংরাটিলা-ছাতক গ্যাসক্ষেত্র, ২০০৫ সালে টাটার বিতর্কিত বিনিয়োগ প্রস্তাব এবং এশিয়া এনার্জি কোম্পানির ফুলবাড়ী কয়লাখনি প্রস্তাবগুলো। এগুলো তো নেহাত কাকতালীয় ব্যাপার না। হিসাব করা ঝুঁকি দেশের জন্য। বিগত সরকার কি একবারও ভেবেছিল, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দেশে জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতা কি চরম আকার ধারণ করতে পারে? একটা কথা সাম্রাজ্যবাদী ও বহুজাতিক কোম্পানীর তথাকথিত বিনিয়োগ প্রস্তাবকারীরা ভালোভাবেই প্রচার করে থাকে যে, যেনতেন প্রকারে একটি চুক্তি হয়ে গেলেই- সম্পাদিত চুক্তির শর্ত যতই দেশের মানুষের স্বার্থবিরোধী হোক না কেন তা নাকি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী মেনে নিতে সরকার বাধ্য থাকবে। সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমানও ফুলবাড়ী কয়লা খনি সংক্রান্ত এশিয়া এনার্জির সঙ্গে চুক্তিকে দেশের··· স্বার্থবিরোধী আখ্যা দিয়েও চুক্তি বাতিল করা যাবে না বলে বক্তব্য দিয়েছিলেন! আসলে দেশের স্বার্থবিরোধী হলে চুক্তি বাতিল করা যাবে না কথাটা ঠিক নয়। কারণ ১৮৭২ সনের চুক্তি আইনে চুক্তির সংজ্ঞা, চুক্তি গঠন বা সম্পাদনে অত্যাবশ্যকীয় যেসব উপাদানের কথা বলা হয়েছে, বিদেশী কোম্পানীগুলো সেইসবের অনুসরণ করতে দেয় নি বলে সম্পাদিত চুক্তিই তার প্রমাণ।
Under Section 2 (h) of the Contract Act, 1872, 'An agreement enforceable by Law is a Contract'. According to Sir Salmond, 'A Contract is an agreement creating and defining obligations between the parties'. Sir Frederic Pullock defines, 'Every agreement and promise enforceable at Law is a Contract.' According to Sir Anson, 'A Contract is an agreement enforceable at Law made between two or more persons by which rights are acquired by one or more to act or forbearance on the part of the other.' Essential elements necessary for the formation of a valid Contract: '1. Offer and Acceptance, 2. Agreement, 3. Legal Relationship, 4. Lawful Consideration, 5. Capacity to Contract, 6. Legality of the Object, 7. Free Consent, 8. Certainty, 9. Possibility of Performance, 10. Must not be in abuse of Legal Process, 11. Contract not expressly declared void by Law, 12.Writing and Registration.'
এ ছাড়া ১৮৭২ সনের চুক্তি আইন অনুযায়ী চুক্তি গঠনের অপরিহার্য উপাদান হচ্ছে বিষয়বস্তুর বৈধতা। কোন চুক্তিকে বৈধ হতে হলে এর উদ্দেশ্য ও প্রতিদান অবশ্যই বৈধ হতে হবে। অবৈধ, নীতি-বিগর্হিত, জনস্বার্থ বিরোধী, জাতীয়স্বার্থ বিরোধী ইত্যাদি সম্মতি অবৈধ উদ্দেশ্য বিবেচনায় চুক্তি হিসেবে বিবেচিত হয় না বিধায় উহা আদালত কর্তৃক বলবৎযোগ্য হয় না। কোন চুক্তির বিষয়বস্তু বা এর উদ্দেশ্য যদি প্রচলিত আইনের বা জন-নীতির পরিপন্থী হয়, কিংবা তা নৈতিকতা-বিরোধী হয়, তবে সংশ্লিষ্ট চুক্তিটি বৈধ হতে পারে না। ১৮৭২ সনের চুক্তি আইনের ২৩ ধারায় বলা হয়েছে যে, নিম্নলিখিত অবস্থায় সম্মতির উদ্দেশ্য ও প্রতিদান অবৈধ বলে গণ্য হয়ে থাকে। যেমনঃ- (ঘ) গণনীতি বিরুদ্ধ সম্মতি (Agreement against Public Policy), 'যে সম্মতি বলবৎ করলে জনস্বার্থ ক্ষুন্ন হয়, সেই সম্মতিকে গণনীতি বিরুদ্ধ সম্মতি বলা হয়। যে সম্মতির উদ্দেশ্য বা প্রতিদান গণনীতির পরিপন্থী, সেই সম্মতি বাতিল বলে গণ্য হবে।' যেমন জাতীয়স্বার্থ বিরোধী 'উৎপাদন অংশীদারী চুক্তি'(Production Sharing Contract’-PSC)-পিএসসি চুক্তি, JVA, (Supplemental Agreement) বা সম্পূরক চুক্তি, দেশের জনস্বার্থ বিরোধী অসম বাণিজ্য চুক্তি ইত্যাদি।
১৯৯০-২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয় দলের নেতৃত্বে বিগত ৩টি সরকারের আমলে যেহেতু গ্যাস ও তেল উত্তোলন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিদেশী তেল কোম্পানির সঙ্গে সংগঠিত আলোচনা ও সম্পাদিত অসম, অযৌক্তিক, লুণ্ঠন ভিত্তিক, জাতীয় স্বার্থবিরোধী, দেশের জন্য স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদী ক্ষতিকর উৎপাদন অংশীদারী চুক্তিগুলো দুর্নীতিরই ফসল; সেহেতু সেইসব চুক্তি ১৮৭২ সালের চুক্তি আইনে বাতিলযোগ্য। অবৈধ, নীতি-বিগর্হিত, জনস্বার্থ বিরোধী, জাতীয়স্বার্থ বিরোধী ইত্যাদি সম্মতি অবৈধ উদ্দেশ্য বিবেচনায় চুক্তি হিসেবে বিবেচিত হয় না বিধায় বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার অবৈধ প্রভাব ও দুর্নীতির কারণ দেখিয়ে সেইসব চুক্তি বাতিল বলে ঘোষণা করতে পারেন। এবং আমি মনে করি সরকারের উচিত এসব চুক্তি বাতিল ঘোষণা করা। একটি কথা মনে রাখা দরকার যে, বিদেশীরা যদি নগদ টু-পাইস, কমিশন ও নানা সুযোগ-সুবিধা প্রদানসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দাতা সংস্থার প্রভাব বলয় সৃষ্টি করা না হতো তাহলে কি আমাদের দেশের কোনো সরকার বিভিন্ন বিদেশী বহুজাতিক তেল কোম্পানির সঙ্গে অসম, অযৌক্তিক, লুণ্ঠন ভিত্তিক, জাতীয় স্বার্থবিরোধী, দেশের জন্য স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদী ক্ষতিকর উৎপাদন অংশীদারী চুক্তিগুলো সম্পাদন করতো? কেউ কি নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ করতে পারে? একান্ত বাধ্য করা না হলে কোনো দেশপ্রেমিক সরকারের পক্ষে এই জাতীয় চুক্তি সম্পাদন করা সম্ভব নয়। অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে বিদেশীরাই আমাদের দেশের সরকারকে দুর্নীতিগ্রস্ত করেছে। পরিণামে উন্নয়ন বিরোধী এসব ভয়ংকর চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। যার দায়ভার বিদেশীরা এড়াতে পারে না। এর খেসারত আমাদের দেশীয় লুটেরা দুর্নীতিবাজদের পাশাপাশি বিদেশী বহুজাতিক লুটেরা দুর্নীতিবাজদেরকেও দিতে হবে। শাস্তি দেশী-বিদেশী সকল দুর্নীতিবাজকেই পেতে হবে। শাস্তির প্রাথমিক পদক্ষেপ হবে, বিদেশী বহুজাতিক কোম্পানী সমূহের সাথে সম্পাদিত সকল অসম চুক্তি বাতিল করা। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28812741 http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28812741 2008-06-23 10:39:57
মাগুরছড়ার ক্ষতিপূরণ, ইউনোকলের এক ভূতুরে হিসাব ১৪ই জুন মাগুরছড়া দিবস
মাগুরছড়া ব্লো-আউটের ১১ বছর পূর্ণ
ক্ষতিপূরণ আদায়ে কিছু সুপারিশ
(ধারাবাহিক-৭)
---সৈয়দ আমিরুজ্জামান
মাগুরছড়ার ক্ষতিপূরণ, ইউনোকলের এক ভূতুরে হিসাবঃ মাগুরছড়া গ্যাসকূপ বিস্ফোরণের ক্ষতিপূরণ প্রদানের ব্যাপারে এক হিসাব দিয়েছে মার্কিন কোম্পানি ইউনোকল। তারা বলছে, ক্ষতিপূরণ হিসাবে পেট্রোবাংলাকে ১৩৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। পেট্রোবাংলার তৎকালীন চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন বলেছেন, 'পেট্রোবাংলা এ ধরনের কোনো টাকাই পায়নি।' মাগুরছড়া গ্যাস কূপ বিস্ফোরণের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, ক্ষতিপূরণ পাওয়া ও বিতরণের জন্য গঠিত সংসদীয় সাব-কমিটির জন্য পেট্রোবাংলা ইউনোকলের কাছে কাগজপত্র চাইলে তারা এব্যাপারে যে কাগজপত্র সরবরাহ করেছে, তাতেই ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়। পেট্রোবাংলা যথারীতি সরবরাহকৃত কাগজপত্র সাব-কমিটির কাছে দিলে বিষয়টি সর্ব প্রথম কমিটির নজরে পড়ে। সাব কমিটি বলেছে, ইউনোকলের দেয়া এ টাকা গেল কোথায়? সাব-কমিটি ইউনোকলের কাগজপত্রে মাগুরছড়ার ব্যাপারে ক্ষতিপূরণ হিসাবে ১৭৪ কোটি ১৭ লাখ ৪৯ হাজার ১১৫ টাকা পরিশোধের তথ্য পেয়েছে। কাগজপত্রের আরেক স্থানে ২০০০ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ৩৩২ কোটি ৩২ লাখ ৮৮ হাজার ৯০০ টাকা প্রদানের কথা উল্লেখ আছে। সংসদীয় সাব-কমিটি ইউনোকলের ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়টিকে 'বিভ্রান্তিকর' বলে অভিহিত করেছে। অত্যন্ত গোপনে আমলাদের সহযোগিতায় অক্সিডেন্টাল চূড়ান্ত গোপনীয়তা রক্ষা করে ইউনোকলের কাছে ১২, ১৩, ১৪ নং গ্যাস ব্লকের মালিকানা '৯৮ সালে বিক্রি করে আরো কয়েক হাজার কোটি মার্কিন ডলার লাভ করে। অক্সিডেন্টালের মালিকানাধীন গ্যাসক্ষেত্র লুণ্ঠনের ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত ও প্রচারিত হয় অক্সিডেন্টালের উন্নত ও সভ্য দেশের প্রচার মাধ্যমে । বাংলাদেশের সংবাদপত্রেও সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয় অক্সিডেন্টালের মালামাল লুটপাটের।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28812631 http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28812631 2008-06-23 00:33:26
অক্সিডেন্টাল কোম্পানীর ক্ষতিপূরণ বাবদ ১০ কোটি মার্কিন ডলার লাভ ১৪ই জুন মাগুরছড়া দিবস
মাগুরছড়া ব্লো-আউটের ১১ বছর পূর্ণ
ক্ষতিপূরণ আদায়ে কিছু সুপারিশ
(ধারাবাহিক-৬)
--সৈয়দ আমিরুজ্জামান
অক্সিডেন্টাল কোম্পানীর ক্ষতিপূরণ বাবদ ১০ কোটি মার্কিন ডলার লাভঃ
মাগুরছড়া থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেওয়ার সময় নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর উত্তরসূরী অক্সিডেন্টাল এলাকার প্রতিবাদকারী জনগণের সামনে বিছিয়ে দেয় ষড়যন্ত্রের জাল। কূপ এলাকায় কর্মরত শ্রমিকদের বলা হয় তারা ইচ্ছে করলে পরিত্যক্ত মালামাল কুড়িয়ে নিয়ে যেতে পারে। নব্য ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির মহানুভব অনুমতি পেয়ে শত শত বছর ধরে শ্রম ও সম্পদ শোষণের ফলে পুরুষানুক্রমে দরিদ্র শ্রমিকরা হাতুড়ি শাবল নিয়ে পরিত্যক্ত মালামাল কুড়ানোর সংবাদ আশপাশে ছড়িয়ে পড়লে বিএনপি-আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতৃত্বে জনগণের একটা অংশও এ মালামাল সংগ্রহে শরিক হয়ে যায়। এ দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী করার জন্যে আগে থেকেই ওঁৎ পেতে ছিল অক্সিডেন্টালের ষড়যন্ত্রের ভিডিও ক্যামেরা। কয়েকদিন ধরে অক্সিডেন্টালের ফেলে যাওয়া মালামাল সংগ্রহের উদ্দীপনা-কামড়া-কামড়ি চলে। শাসক শ্রেণীর আমলাতান্ত্রিক রাজনৈতিক কাঠামোতে জনগণের চিন্তা ও আচরণ অক্সিডেন্টালের স্থানান্তর কার্যক্রমকে করে তোলে প্রতিরোধহীন, নির্বিঘ্ন। লুটপাটেরও ভিডিও দেখিয়ে অক্সিডেন্টাল বীমাকৃত মালামালের বিপরীতে বীমা কোম্পানিকে লোকসানের হিসাব বাড়িয়ে দেখাতে সক্ষম হয়। বিস্ফোরণের কারণে অক্সিডেন্টাল কোম্পানি ক্ষতিপূরণ বাবদ লাভ করেছে ১০ কোটি মার্কিন ডলার। যা বর্তমানে বাংলাদেশী মুদ্রায় ৭৩০ কোটি টাকা। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28812338 http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28812338 2008-06-22 11:42:32
শেভরনের জাতীয় গ্রীডে গ্যাস সরবরাহ, বছরে ভর্তুকী ৫,১৫৬ কোটি টাকা ১৪ই জুন মাগুরছড়া দিবস
মাগুরছড়া ব্লো-আউটের ১১ বছর পূর্ণ
ক্ষতিপূরণ আদায়ে কিছু সুপারিশ
(ধারাবাহিক-৫)
---সৈয়দ আমিরুজ্জামান
শেভরনের জাতীয় গ্রীডে গ্যাস সরবরাহ, বছরে ভর্তুকী ৫,১৫৬ কোটি টাকাঃ
মাগুরছড়া মৌলভীবাজার জেলার অন্তর্গত শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের একটি জায়গার নাম। ১৯৯৭ সালের জুন মাসে স্থানটি রাতারাতি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ শিরোনামে পরিণত হয়। এখনো প্রতি বছর 'মাগুরছড়া দিবস'- ছাড়াও মাঝে মাঝে সংবাদ শিরোনামে মাগুরছড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে জনগণের সামনে আবির্ভূত হয়। বিদেশী বহুজাতিক কোম্পানীর সাথে হিসেব-নিকেশ শেষে উৎপাদন অংশীদারী চুক্তি বা Production Sharing Contract-'পিএসসি' চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ পাচ্ছে তেল-গ্যাস সম্পদের ২১ ভাগ ( অবশ্য কষ্ট রিকোভারি হিসেব করলে আমাদের ২১ ভাগও থাকে না), আর বিদেশী বহুজাতিক কোম্পানী লুটে নিয়ে যাবে গ্যাস-তেল সম্পদের ৭৯ ভাগ। আর বাপেক্স উত্তোলন করলে পুরোটার মালিক হতো দেশ। বিদেশী কোম্পানী গ্যাস অনুসন্ধান করার ক্ষেত্রে তারা আবার বড় বড় বিপর্যয় ঘটাতে পারে, যা ইতিমধ্যেই মাগুরছড়া ও টেংরাটিলা (ছাতক) গ্যাসকূপ সমূহের দুর্ঘটনায় প্রমাণিত। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, এক হাজার ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনে বাংলাদেশের উৎপাদন খরচ হয় ৫৮ টাকা, যা জনগণ কেনে ৬২ টাকায়। এক্ষেত্রে প্রতি হাজার সিএফটিতে ৪ টাকা লাভ থাকার কথা। কিন্তু সেই গ্যাস বিদেশী কোম্পানীর কাছ থেকে কিনতে হচ্ছে ৮ ডলারে অর্থাৎ ৫৮৪ টাকায় এবং সেটা কিনতে হবে বিদেশী মুদ্রায় বা ডলারে। সরকার ভর্তুকী দিয়ে কেনার ফলে হাজার হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা দেশ থেকে চলে যাচ্ছে এবং এরই বিষময় ফল হচ্ছে জনগণকে বেশী দামে গ্যাস ও বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে। বর্তমানে আমাদের দেশের মাটির তলার সেই গ্যাস শেভরন কোম্পানীর কাছ থেকে প্রতি হাজার ঘনফুট গ্যাস ৫৮৪ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে। এতে দেশ অচিরেই বিরাট বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। শেভরন এমবি-২ ও এমবি-৩ কূপ থেকে ৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দৈনিক জাতীয় গ্রীডে সরবরাহ করছে। প্রতিদিনের উত্তোলন খরচ ৩২ লক্ষ ৭ হাজার টাকা। বাপে উত্তোলন করলে তা জনগণ কিনতে পারতো ৪৩ লক্ষ ২৮ হাজার টাকায়। কিন্তু জাতীয় গ্রীডে সরবরাহকৃত দৈনিক ৭০ মিলিয়ন ঘনফুটের মধ্যে তাদের ৭৯ ভাগ অর্থাৎ ৫৫.৩ মিলিয়ন গ্যাস শেভরন কোম্পানীর কাছ থেকে ৩,২২,৯৫২০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে এবং বছরে তা দাঁড়াচ্ছে ১,১৭৮ কোটি টাকা। এতে বাংলাদেশকে শেভরন কোম্পানীর স্বার্থে মুনাফা যোগান দিতে গিয়ে প্রতিদিন ভর্তুকী দিতে হচ্ছে ২ কোটি ৯০ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকা এবং বছরে ভর্তুকী ১,০৬১ কোটি ৭১ লক্ষ টাকা। এমবি-২, এমবি-৩, এমবি-৪ ও এমবি-৫ কূপগুলো থেকে গ্যাস উত্তোলন করে জাতীয় গ্রীডে দৈনিক ১৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। তাতে জাতীয় গ্রীডে সরবরাহের জন্য দৈনিক ১৪০ মিলিয়ন ঘনফুটের মধ্যে তাদের অংশ ৭৯ ভাগ অর্থাৎ ১১০.৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস শেভরন কোম্পানীর কাছ থেকে ৬ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকায় কিনতে হচ্ছে এবং বছরে তা দাঁড়াচ্ছে ২,৩৫৭ কোটি টাকা। এতে বাংলাদেশকে শেভরন কোম্পানীর স্বার্থে মুনাফা যোগান দিতে গিয়ে প্রতিদিন ভর্তুকী দিতে হচ্ছে ৫ কোটি ৮১ লক্ষ ৭৬ হাজার টাকা এবং বছরে ভর্তুকি ২,১২৩ কোটি ৪৩ লক্ষ টাকা। এ ছাড়া হবিগঞ্জের বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলন করে জাতীয় গ্রীডে দৈনিক ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশকে শেভরন কোম্পানীর স্বার্থে মুনাফা যোগান দিতে গিয়ে প্রতিদিন ভর্তুকী দিতে হচ্ছে ৮ কোটি ৩১ লক্ষ ৯ হাজার টাকা এবং বছরে ভর্তুকি ৩,০৩৩ কোটি ৪৮ লক্ষ টাকা। তাতে বাংলাদেশের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে হলে সরকারকে জনগণের জ্বালানী গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের দাম দ্বিগুণ বৃদ্ধি করতে হবে। এর ফলে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দামও চক্রবৃদ্ধিহারে কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে। তেল-গ্যাস উত্তোলনের জন্য বাংলাদেশের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান রয়েছে বাপেক্স। বাংলাদেশের জাতীয় প্রতিষ্ঠান তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের তুলনায় কয়েকগুণ বেশী সাফল্য দেখিয়েছে। বিদেশী কোম্পানীর কাছে তেল-গ্যাসক্ষেত্র ইজারা দেয়ায় বাপেক্সের ৩০০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে পড়ছে, ১৩০০ দক্ষ কর্মকর্তা বেকার হচ্ছে ও জাতীয় প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংস হচ্ছে। বিদেশী কোম্পানীকে ইজারা দেয়ায় গ্যাস আবিষ্কারের খরচ দিতে হচ্ছে আমাদের। অথচ তেল-গ্যাস অনুসন্ধান-উত্তোলনে বাপেক্সের খরচ বিদেশী কোম্পানীর চেয়ে অনেক অনেক কম। প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের সকল গ্যাসক্ষেত্র দেশীয় কোম্পানী বাপেক্স দিয়েই কূপ খনন-উত্তোলন-বিপণন করা যেত। এজন্য বিদেশী বহুজাতিক কোম্পানীকে শেয়ার দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। আর্থিক অনটনের প্রশ্ন অবান্তর। হাজার হাজার কোটি টাকার গ্যাস উত্তোলনের জন্য মাত্র ৪০ কোটি টাকা দিয়ে কূপ খনন করা যায়। দেশের বর্তমান চাহিদা অনুযায়ী প্রতিবছর মাত্র ৪ টি কূপ খননের জন্য ১৬০ কোটি টাকা করা দরকার হয়। এছাড়া প্রতিবছর পেট্রোবাংলা ২,০০০ কোটি টাকার উপরে সরকারকে প্রদান করে, এর শতকরা ১০ ভাগ অর্থাৎ ২০০ কোটি টাকা অন্তত গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়নে ব্যয় করা হলে তেল-গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়ন খাতে বিদেশী বিনিয়োগ প্রয়োজন হয় না। কারিগরি দক্ষতার প্রশ্নও অবান্তর। ইতিমধ্যে বাপে ফেঞ্চুগঞ্জ, সালদা নদী ইত্যাদি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে উৎপাদন চালু রেখেছে। তাহলে মাগুরছড়া, ছাতক-টেংরাটিলাসহ সকল গ্যাসক্ষেত্রে কূপ খনন করতে বাপেক্সের পক্ষে কোনো অসুবিধা ছিল না। সরকার যদি শেভরন কোম্পানীর স্বার্থে মুনাফা যোগান দিতে গিয়ে মৌলভীবাজারের ২টি কূপের গ্যাস ক্রয় বাবদ ১,০৬১ কোটি ৭১ লক্ষ টাকা অথবা ৪টি কূপের গ্যাস ক্রয় বাবদ ২,১২৩ কোটি ৪৩ লক্ষ টাকা অথবা হবিগঞ্জের বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রের গ্যাসক্রয় বাবদ ৩,০৩৩ কোটি ৪৮ লক্ষ টাকা বছরে ভর্তুকি দিতে পারে। তাহলে প্রতিবছর পেট্রোবাংলা যে উদ্বৃত্ত ফান্ড সরকারকে প্রদান করে, এর শতকরা ১০ ভাগ তেল-গ্যাস উত্তোলনকারী জাতীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের মাধ্যমে গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ দেয়া সম্ভব নয় কেন ? গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়নের নামে এ কোন শুভঙ্করের ফাঁকি! শেভরনের কাছ থেকে ২টি কূপের গ্যাস ক্রয় বাবদ ১,০৬১ কোটি ৭১ লক্ষ টাকার ভর্তুকী দিয়ে বাপেক্স ২৬টি অথবা ৪টি কূপের গ্যাস ক্রয় বাবদ ২,১২৩ কোটি ৪৩ লক্ষ টাকার ভর্তুকী দিয়ে ৫৩টি গ্যাসকূপ অথবা হবিগঞ্জের বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রের গ্যাসক্রয় বাবদ ৩,০৩৩ কোটি ৪৮ লক্ষ টাকা বছরে ভর্তুকি দিয়ে ৭৫টি গ্যাসকূপ প্রতি বছরে উন্নয়ন ও উত্তোলন করতে পারতো। তাহলে গ্যাসক্ষেত্রগুলো শেভরনসহ অন্যান্য বিদেশী কোম্পানীকে দেওয়া হলো কেন? ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28812132 http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28812132 2008-06-21 19:57:44
মাগুরছড়া ব্লো-আউট, বিশেষজ্ঞদের প্রথম দিকের প্রাথমিক ধারণা ১৪ই জুন মাগুরছড়া দিবস
মাগুরছড়া ব্লো-আউটের ১১ বছর পূর্ণ
ক্ষতিপূরণ আদায়ে কিছু সুপারিশ
(ধারাবাহিক-৪)
--সৈয়দ আমিরুজ্জামান
মাগুরছড়া ব্লো-আউট, বিশেষজ্ঞদের প্রথম দিকের প্রাথমিক ধারণাঃ
মূল গ্যাস জোনের আয়তন ছিল দীর্ঘ ৫ কিলোমিটার এলাকা। এ কূপে এক ট্রিলিয়ন ঘনফুটেরও অধিক গ্যাস মজুদ ছিল বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। এক ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের বর্তমান বাজার মূল্য ছিল ৮ হাজার কোটি মার্কিন ডলার অর্থাৎ বাংলাদেশী মুদ্রায় ৫৮ হাজার ৪শ' কোটি টাকা। টাকার বারবার অবমূল্যায়নের কারণে এ মূল্য বর্তমানে আরো অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। জীব বৈচিত্রে সমৃদ্ধ এ সংরক্ষিত প্রাচীন অরণ্য ভূমির পরিবেশের যে ক্ষতি হয়েছে তার অর্থনৈতিক মূল্যও হবে সমপরিমাণ। যদি প্রয়োজনীয় অর্থ বিনিয়োগ করা হয় তা হলেও ১৯৯৭ সালের ১৪ জুনের পূর্বেকার পরিবেশগত অবস্থা ফিরিয়ে আনতে লাগবে একশত বছরের অধিক কাল। গ্যাস সম্পদ ও পরিবেশ ও বন সম্পদের যৌথ ক্ষতির পরিমাণ ১ লক্ষ ১৬ হাজার ৮শ' কোটির টাকারও বেশি। বিশ্ব ব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি ) জাপানের ঋণ এবং এক দশকেরও অধিককাল ধরে জনগণের পকেট থেকে সংগৃহীত যমুনা সারচার্জের টাকায় নির্মিত যমুনা সেতুর নির্মাণ ব্যয় ৩ হাজার ৬শ' কোটি টাকা। ১ লক্ষ ১৬ হাজার ৮শ' কোটি টাকা দিয়ে একচেটিয়া ঋণমুক্ত স্বাধীন অর্থনীতির নীতিমালায় ৩২টি যমুনা সেতুর পরিকল্পনা গ্রহণ করা যেত। মাগুরছড়ার ভূমিতে ও আকাশে বিলীন হয়ে যাওয়া সম্পদের বিনিময়ে ৪টি স্বাধীন জাতীয় বাজেট দেয়া যেত। এরফলে আমরা হয়তো চিরদিনের জন্যে অর্থনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ স্বাধীন-স্বয়ম্ভর হতে পারতাম। গ্যাসকূপ বিস্ফোরণের কারণে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিপরীতে ব্যয় দেখিয়ে অক্সিডেন্টাল ৩ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলারের মাগুরছড়া গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়নের একটি হিসেব পেট্রোবাংলায় দাখিল করে। যা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ২৬২ কোটি ৮০ লাখ টাকা দাঁড়ায়। গ্যাসকূপ খনন কাজে নিয়োজিত রয়েছে পেট্রোবাংলার অঙ্গ সংস্থা বাপেক্স। এ সংস্থার কর্মকর্তাদের ঘুষ-দুর্নীতি ইত্যাদি যুক্ত পেট মোটা করে হজম সম্পন্ন করার পরও সার্থকভাবে একটি কূপ খননে সর্বোচ্চ ব্যয় হয় ৪০ কোটি টাকা। কিন্তু ক্ষমতাসীন বিগত রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে বিদেশী বিনিয়োগের মন্ত্র ও পবিত্রতা রক্ষায় জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের আত্মঘাতী ভ্রাতৃত্বমূলক হস্তক্ষেপের হাত অক্সিডেন্টালের মাগুরছড়ার বন, পরিবেশ, জীব বৈচিত্র ও গ্যাস পোড়ানো হাতের দিকে ঘুষ দুর্নীতি-সুযোগ সুবিধা নগদ টু-পাইসের বিনিময়ে মোলাকাতের জন্যে এগিয়ে আসে। ১১ বছর পূর্ণ হলেও অক্সিডেন্টাল বা অক্সি'র উত্তরসুরী ইউনোকল পরবর্তীতে শেভরনের কাছ থেকে মাগুরছড়া বিস্ফোরণের ক্ষতিপূরণ আদায় করা যায়নি। মাগুরছড়া গ্যাসকূপ এলাকা পরিত্যাগকালে অক্সিডেন্টাল প্রচারণার সর্বোচ্চ মারণাস্ত্র প্রয়োগ করে। আড়াইশত বছরেরও অধিককাল ধরে ব্রিটিশ পুঁজিপতিদের নিয়ন্ত্রণ ও বহুজাতিক একচেটিয়া পুঁজির অধীনে শেকল টানা এ বিধ্বস্ত জনগোষ্ঠীর মুখে লেপন করে দেয়া হয় লুটেরা ও সন্ত্রাসীর কালিমা। জ্বালানী মন্ত্রণালয় ও অক্সিডেন্টালের প্রচারণা বাস্তবতার সাথে যে সংগতিপূর্ণ নয় এ সত্যটি জনগণের কাছে অনেক আগেই পরিস্কার হয়ে যায়। প্রাচীনকাল থেকে মানুষ লক্ষণ দেখে বাস্তবতা উপলব্ধির অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। কোন তদন্ত কমিটির রিপোর্ট বা বিচারকের রায়ের ওপর নির্ভর না করেই ঘটনা জাত সম্পর্ক, পরিবেশ ও লক্ষণসমূহ বিশ্লেষণ করে সঠিক অনুমানে পৌঁছে যেতে পারে মানুষ। অক্সিডেন্টালের প্রচারণা সত্ত্বেও শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ এলাকার জনগণসহ বৃহত্তর সিলেটবাসী অক্সিডেন্টালের বিরুদ্ধে আক্রোশে-আন্দোলনে মাগুরছড়া গ্যাস কূপের আগুনের মত জ্বলে উঠতে থাকে। ছয় মাসেরও অধিককাল ধরে আগুনের গ্যাস উদগীরনকারী গ্যাস কূপের উৎস মুখ সিল করার কাজ সম্পন্ন হয় ৯ জানুয়ারি ১৯৯৮। তারও আগে ২০ ডিসেম্বর ১৯৯৭ থেকে অক্সিডেন্টাল মাগুরছড়া থেকে রাতের আঁধারে প্রয়োজন ফুরিয়ে যাওয়া জিনিসপত্র আস্তে আস্তে সরাতে আরম্ভ করে। চোরের মতো অবস্থান পরিবর্তন করতে দেখে জনগণের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ১০ জানুয়ারি ১৯৯৮ সালে কমলগঞ্জের রাস্তায় বড় বড় গাছ ফেলে ব্যারিকেড তৈরি করা হয়। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বামগণতান্ত্রিক ফ্রন্ট, জাসদ, বাসদ, গণতন্ত্রী পার্টি, সিপিবি-এর উদ্যোগে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ-মৌলভীবাজার সমগ্র সিলেট বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল, পদযাত্রা আন্দোলন হয়েছে। কিন্তু ষড়যন্ত্রের কারণে অক্সিডেন্টালের বিরুদ্ধে জনগণের ক্রোধ-আন্দোলনেও জনগণের সম্পদ ধ্বংসের ক্ষতিপূরণ আদায় করা সম্ভব হয়নি। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28811975 http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28811975 2008-06-21 11:54:24
মাগুরছড়া ব্লো-আউট, গ্যাস সম্পদ, তদন্ত রিপোর্ট ও আমাদের পরিবেশ ১৪ই জুন মাগুরছড়া দিবস
মাগুরছড়া ব্লো-আউটের ১১ বছর পূর্ণ
ক্ষতিপূরণ আদায়ে কিছু সুপারিশ
(ধারাবাহিক-৩)
-সৈয়দ আমিরুজ্জামান
মাগুরছড়া ব্লো-আউট, গ্যাস সম্পদ, তদন্ত রিপোর্ট ও আমাদের পরিবেশ ঃ
মৌলভীবাজার গ্যাসফিল্ডের মাগুরছড়া ১৪ নং গ্যাস ব্লকের অন্তর্গত একটি সমৃদ্ধ গ্যাসক্ষেত্র, এদেশের খনিজ সম্পদের মানচিত্রে পূর্ণিমার চাঁদের মতো রৌশন ছড়িয়ে জনগণের স্বার্থে স্বাবলম্বী অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি ঘটাতে পারতো। বিদেশী বহুজাতিক কোম্পানীর বিনিয়োগের জন্য আগত বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী ও অংশীদারেরা ১৯৯৭ সালের ১৪ জুন দিবাগত রাতে মাগুরছড়া ১নং অনুসন্ধান কূপে খনন চলাকালে বিস্ফোরণ ঘটায়। মাগুরছড়া গ্যাসকূপ বিস্ফোরণের পরপরই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের জন্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহফুজুল ইসলামকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি এক মাসের মধ্যে ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়ে ১৯৯৭ সালের ৩০শে জুলাই মন্ত্রণালয়ের সে সময়ের সচিব ড.তৌফিক-ই-এলাহি চৌধুরীর কাছে দু’টি ভলিউমে প্রায় ৫০০ পৃষ্ঠার তদন্ত রিপোর্টটি জমা দেয়। পরবর্তীতে বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এ বিস্ফোরণের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ,ক্ষতিপূরণ পাওয়া ও বিতরণের বিষয়ে তদন্ত কমিটির সদস্য ক্যাপ্টেন (অব.) এ বি তাজুল ইসলামকে আহবায়ক করে ৩ সদস্যের একটি সাব কমিটি গঠন করে। কমিটির অন্য দু'জন সদস্য ছিলেন আওয়ামী লীগের এমপি ইমরান আহমেদ ও জাতীয় পার্টির এমপি মুকিত খান। তদন্ত কমিটির একজন সদস্য সাব-কমিটিকে জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে অক্সিডেন্টালের ব্যর্থতার জন্যই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। কমিটির তদন্তে অক্সিডেন্টালের কাজে ১৫/১৬টি ত্রুটি ধরা পড়ে। অক্সিডেন্টালের কর্মকর্তা ২/৩টি ত্রুটির ব্যাপারে আপত্তি জানালেও বাকিগুলো স্বীকার করে নিয়ে তদন্ত রিপোর্টে স্বাক্ষর করে। তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, মার্কিন কোম্পানী অক্সিডেন্টালের খামখেয়ালিপনার কারণেই ঘটে যাওয়া এ বিস্ফোরণে চা বাগান, বনাঞ্চল, বিদ্যুৎলাইন, রেলপথ, গ্যাসপাইপলাইন, গ্যাসকূপ, মৌলভীবাজারস্ট্রাক্‌চার, গ্যাস রিজার্ভ, পরিবেশ-প্রতিবেশ, ভূমিস্থ পানি সম্পদ, রাস্তা মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে । তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী ছোট বড় ২৯টি চা বাগানের ক্ষতির পরিমাণ ৪৬ কোটি ৬ লক্ষ ৮৪ হাজার ৮৩০টাকা। বনাঞ্চলের ৬৯·৫ হেক্টর এলাকার ২৫ হাজার ৬৫০টি পূর্ণ বয়স্ক গাছ আগুনে পুড়ে গেছে বলে হিসাব করা হয়, যার ক্ষয়ক্ষতি ধরা হয় প্রায় ৩৩.৬১ কোটি টাকা। একটি বনের স্বাভাবিক উচ্চতার গাছ বাড়তে প্রয়োজন হয় ৫০ থেকে ৬০ বছর। এ বনের স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে কমপক্ষে ১১০ বছর সময় লাগবে। প্রতি বছর ৮০·৩০ কোটি টাকা হিসাবে ১১০ বছরে বনাঞ্চলের পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ দেখানো হয় ৮,৮৩৯ কোটি টাকা। বনাঞ্চলের আংশিক ক্ষতির পরিমাণ হচ্ছে ৮,১০০ গাছ এবং ২২.৫০ হেক্টর ভূমি ; উক্ত ক্ষতি থেকে উদ্ধার পেতে সময় লাগবে ২০ বছর ; উক্ত ক্ষতি বাবদ ধরা হয়েছে ৫০৭.১২ কোটি টাকা। এছাড়া বনাঞ্চলের সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা ধরা হয়েছে ৪০ হেক্টর ভূমি এবং ১৫,৪৫০ গাছ; উক্ত ক্ষতি থেকে পুনরুদ্ধার পেতে সময় লাগবে ১০ বছর এবং ক্ষতি বাবদ ধরা হয়েছে ৪৮৪.৫৮ কোটি টাকা । অর্থাৎ বনাঞ্চলের মোট ক্ষতি ধরা হয়েছে ৯,৮৫৮ কোটি ৩১ লক্ষ টাকা। বিস্ফেরণের ফলে ২ হাজার ফিট রেলওয়ে ট্র্যাক ধ্বংস হয়েছে, এতে ক্ষতি দেখানো হয়েছে ৮১ লক্ষ ৫৪ হাজার ৩৯৫ টাকা (রাজস্ব ব্যতীত)। সড়ক পথ (রাজস্ব ব্যতীত ) বাবদ ক্ষতি ২১ কোটি টাকা। গ্যাস পাইপ লাইন (রাজস্ব ) বাবদ ক্ষতি ১৩ লক্ষ টাকা । বিদ্যুৎ লাইন (রাজস্ব ব্যতীত) বাবদ ক্ষতি ১ কোটি ৩৫ লক্ষ ৯১৮৬ টাকা। খাসিয়া পানপুঞ্জির অধিবাসীদের পানের বরজ সমূহ (রাজস্ব ব্যতীত) বাবদ ক্ষতি ধরা হয়েছে ১৮ লক্ষ টাকা। বাস মালিকদের রাজস্ব ক্ষতি ধরা হয়েছে প্রতিদিন ৪৭,৭৫০ টাকা হারে মোট ১২ লক্ষ টাকা। ( তথ্যসূত্রঃ তদন্ত রিপোর্ট, ৩০ শে জুলাই, ১৯৯৭ ইং ) তদন্ত রিপোর্টে মাগুরছড়া বিস্ফোরণে পুড়ে যাওয়া ভূ-গর্ভস্থ গ্যাসের পরিমাণ ৪৮৫·৮৬ বিসিএফ এবং এর মধ্যে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ ২৪৫·৮৬ বিসিএফ উল্লেখ করা হলেও আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হয়নি। এক্ষেত্রে বর্তমানে আন্তর্জাতিক দর অনুযায়ী প্রতি ১০০০ সিএফ গ্যাস ৮ মার্কিন ডলার হিসাবে বাংলাদেশী টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী মাগুরছড়া বিস্ফোরণে পুড়ে যাওয়া ভূ-গর্ভস্থ উত্তোলনযোগ্য ২৪৫.৮৬ বিসিএফ গ্যাসের দাম ১৯৬,৬৮,৮০০০০ মার্কিন ডলার অর্থাৎ বাংলাদেশী মুদ্রায় ১৪,৩৫৮,২২৪০০০০ টাকা (প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার উপরে)। তদন্ত রিপোর্টের ৮.৪.৬ ও ৮.৬ অনুচ্ছেদে যথাক্রমে ভূ-গর্ভস্থ পানি সম্পদ ও পরিবেশের ক্ষয়-ক্ষতির বিবরণ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হয়নি। ভূ-গর্ভস্থ পানি সম্পদ ও পরিবেশের ক্ষয়-ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ বিশেষজ্ঞদের দ্বারা নিরূপণের সুপারিশ করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী মাগুরছড়ার মোট ক্ষতির পরিমাণ হচ্ছে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা।
মাগুরছড়া গ্যাস কূপ এলাকায় দুর্ঘটনার সময় ৬ জন শ্রমিক, ৫ জন সিকিউরিটি ও ১ জন রিগম্যান কর্মরত ছিলেন। রাত প্রায় একটার দিকে গ্যাসকূপে প্রথম মৃদু ভূকম্পন, তারপর বিদঘুটে আওয়াজ শুরু হলে রিগম্যান দ্রুত রিগ থেকে নেমে পড়েন। কূপ খননের জন্যে মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানী অক্সিডেন্টাল যে উপ-ঠিকাদার নিয়োগ করে গ্যাসকূপ খননে তাদের অভিজ্ঞতা ছিল আনকোরা। খননকাজে জার্মান ডয়টেগ-এর অভিজ্ঞ লোকবলের যেমন অভাব ছিল তেমনি পূর্ব কোন সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা ছিলো না। ছিলনা কার্যোপযোগী প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি। কূপ খনন কাজে ডয়টেগের যন্ত্রপাতি ছিল পুরানো ও ত্রুটিযুক্ত। এর মান চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ছিল না। দায়িত্বরত রিগম্যানও ছিল সহকারী পর্যায়ের। উৎপাদন বণ্টন চুক্তির শর্তানুসারে কূপ খননের প্রকল্প এলাকায় অক্সিডেন্টাল থেকে একজন, পেট্রোবাংলা থেকে একজন খননবিদ সার্বক্ষণিকভাবে উপস্থিত থাকার কথা। অক্সিডেন্টাল চুক্তির এ শর্তকে তেমন কোনো গুরুত্ব প্রদান করেনি। বিস্ফোরণকালে কূপ এলাকায় কোনো খননবিদ উপস্থিত ছিল না।
দুর্ঘটনা এড়ানো ও খনন কাজ সহজ করার উদ্দেশ্যে কূপ খননের সময় যে কেসিং প্রতিরক্ষা বহিরাবরণ তৈরি করা হয় তার নকশায় ছিল মারাত্মক ধরনের ত্রুটি। অক্সিডেন্টাল ও ডয়টেগের আনাড়ি প্রযুক্তিবিদরা এ নকশা তৈরি করে। অক্সিডেন্টালের খনন কাজে আনাড়িপনা, অনভিজ্ঞতা, দায়িত্বে অবহেলা, উদাসিনতা, ত্রুটি, অযোগ্যতা দুর্ঘটনাকে অনিবার্য করে তোলে। দায়িত্ব পালনে অক্সিডেন্টালের অযোগ্যতা ও খনন কাজের নিম্নমান হওয়ার প্রধান কারণ হলো টাকা বাঁচানোর উদ্দেশ্যে সস্তায় লোকবল নিয়োগ করা। উন্নয়ন অংশীদার আমেরিকার কোম্পানি অক্সিডেন্টাল এদেশের গ্যাসক্ষেত্র লুণ্ঠনে অত্যন্ত দক্ষতা ও যোগ্যতার সাথে বিনিয়োগ তত্ত্ব প্রয়োগ করেছে বৈকি। এ তত্ত্বকে কার্যকর করার জন্যে অক্সিডেন্টাল কোম্পানী সব সময় চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে পেট্রোবাংলার কাছে তথ্য গোপন করে যায়। চুক্তির শর্তানুসারে গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়নে তাদের গৃহীত যাবতীয় কর্মসূচি, পদক্ষেপ ও অত্যাবশ্যকীয় টেকনিক্যাল বিষয়ে জানাতে হলে অক্সিডেন্টাল তা পেট্রোবাংলাকে জানায় একেবারে শেষ মুহূর্তে অথবা কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর।
নির্দিষ্ট তথ্যটি অবগত হওয়া ছাড়া পেট্রোবাংলার তখন আর কিছুই করার থাকে না। গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়নে অক্সিডেন্টালের তথ্য গোপন করার অভিযোগে অক্সিডেন্টালকে ইতিপূর্বে নাইজেরিয়া থেকে পাততাড়ি গুটাতে হয়েছে। লিবিয়া থেকেও তাড়া খেয়ে ফিরে যায়। তাদের অপকর্মে নাইজেরিয়ার গ্যাস-তেল সম্পদ নিঃশেষীকরণ, পরিবেশ ও উর্বর বন ভূমি ধ্বংস হয়েছে। মানুষ রোগে ভূগছে। পরিবেশ বিষাক্ত আকার ধারণ করেছে। অনুসন্ধান কূপ খনন করার সময় বিস্ফোরণ ঘটাতে হয়। এ কাজে সাধারণত ডিনামাইট জাতীয় বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়। কিন্তু অক্সিডেন্টাল চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে মাগুরছড়ার গ্যাস কূপ খনন কাজে বিস্ফোরক হিসেবে প্রাণঘাতী ও পরিবেশ বিনাশী তেজস্ত্র্নিয়যুক্ত 'রেডিও একটিভ সোর্স' ব্যবহার করে। পেট্রোবাংলা এ সংবাদ জানতে পারে গ্যাস কূপ বিস্ফোরণের কয়েক মাস পর। পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য খনন কাজ স্বল্পতম সময়ে সম্পন্নকরণ। যত কম সময়ে কাজ সম্পন্ন করা যায় তত বেশী মুনাফা লাভ করা যায়। জনগণের স্বাস্থ্য, জীবন ও পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব নিয়ে আমেরিকার কোম্পানী অক্সিডেন্টালের বিনিয়োগ বাংলাদেশে আসেনি। বহুজাতিক পুঁজির আগমন ঘটেছে বহুজাতিক তান্ডব ও লুণ্ঠনের আদর্শ নিয়ে আমাদের উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে নয়।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28811696 http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28811696 2008-06-20 17:00:17
মাগুরছড়া ব্লো-আউটের ১১ বছর, জনমনে হাজারো প্রশ্ন ১৪ই জুন মাগুরছড়া দিবস
মাগুরছড়া ব্লো-আউটের ১১ বছর পূর্ণ
ক্ষতিপূরণ আদায়ে কিছু সুপারিশ
( ধারাবাহিক-২ )
-সৈয়দ আমিরুজ্জামান
মাগুরছড়া ব্লো-আউটের ১১ বছর, জনমনে হাজারো প্রশ্ন?

১৪ই জুন মাগুরছড়া দিবস। এবার মৌলভীবাজার গ্যাসফিল্ডের মাগুরছড়া ব্লো-আউটের ১১ বছর পূর্ণ হয়েছে। ১৯৯৭-২০০৬ সময়কালে বিগত দলীয় সরকারসমূহ মাগুরছড়ার গ্যাস সম্পদ, পরিবেশ-প্রতিবেশ ধ্বংসের হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ মার্কিন কোম্পানী অিডেন্টাল-ইউনোকল-শেভরনের কাছ থেকে আদায়ে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। মাগুরছড়ার গ্যাস সম্পদ, পরিবেশ-প্রতিবেশ ধ্বংসের হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ মার্কিন কোম্পানী অক্সিডেন্টাল-ইউনোকল-শেভরনের কাছ থেকে আদায়ে বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিশেষভাবে তৎপর হতে পারেন। যদিও দেশপ্রেমিক বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ জনমনে নানা প্রশ্ন, উদ্বেগ-উৎকন্ঠা এখনো রয়েই গেছে। আমরা বিশ্বাস করতে চাই যে, স্বাধীন সার্বভৌম একটি দেশে দুর্নীতি বিরোধী অভিযান পরিচালনাকালে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে মাগুরছড়ার ক্ষতিপূরণ আদায়ে কার্যকর উদ্যোগ ও ভূমিকা নেওয়া সম্ভব হবে। আমরা আরও বিশ্বাস করতে চাই যে, মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানী এতটা শক্তিশালী নয় যে, মাগুরছড়ার ক্ষতিপূরণ আদায়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ ও ভূমিকা নেওয়ায় সরকার বাধাগ্রস্ত হবেন। মাগুরছড়ার ক্ষতিপূরণ আদায়ে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে যদি কার্যকর উদ্যোগ ও ভূমিকা নেওয়া সম্ভব না হয় তাহলে আধুনিক দুনিয়ার গণতান্ত্রিক যুগে স্বাভাবিকভাবে 'রাষ্ট্রে'র সংজ্ঞা, সরকারের ক্ষমতায়ন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে সংশয় জাগবে। আর জনমনে প্রশ্ন থেকে যাবে যে, ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির মধ্য দিয়ে বৃটিশ ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণের যুগ ও ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা-মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে জাতিগত নিপীড়ন-শাসন-শোষণের শেষ হলেও নতুন সংস্করণে সাম্রাজ্যবাদের মোড়ল আমেরিকার নেতৃত্বে নয়া ঔপনিবেশিক শোষণ-লুণ্ঠনের মহাতান্ডবের আমরা শিকার কিনা? জানিনা যে, রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে কী বক্তব্য বা ব্যাখ্যা হাজির করবেন।

এটা কেমন কথা হলো, বিদেশী একটি কোম্পানী আমাদের দেশের গ্যাস সম্পদ, পরিবেশ-প্রতিবেশ ধ্বংস করলো, তাও তাদের অবহেলা-ত্রুটির কারণে, তাতে আমাদের সরকার ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারবে না। সম্পদ ধ্বংসের জবাবদিহিতা চাওয়া যাবে না- পাওয়া যাবে না। তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ নিয়ে চিনিমিনি খেলা মেনে নেওয়া যায় কী? ক্ষতিপূরণ আদায়ে বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে সফল হতেই হবে। এভাবে আর যাতে মাগুরছড়ার গ্যাস সম্পদ-পরিবেশ-প্রতিবেশ ধ্বংসের ক্ষতিপূরণের বিষয় নিয়ে লিখতে না হয়। আর যাতে আগামী বছর থেকে মাগুরছড়ার গ্যাস সম্পদ-পরিবেশ-প্রতিবেশ ধ্বংসের ক্ষতিপূরণের দাবী নিয়ে জনগণকে আন্দোলন করতে না হয়। আশা করা যায় যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এর যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন। আমার খুব জানতে ইচ্ছে করছে যে, আমাদের দেশের সম্পদের হাজার হাজার কোটি টাকার যে ক্ষয়ক্ষতি হলো, তাতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের মনে কষ্ট আছে কি না? দেশের সম্পদের এতবড় ধ্বংসযজ্ঞের পর ক্ষতিপূরণ আদায় করতে না পারলে মর্মপীড়া ও অনুশোচনাবোধ সৃষ্টি হবে কি না? আর আমাদের দেশের সকল রাজনৈতিক দলের এ ব্যাপারে স্পষ্ট অবস্থান জানতে ইচ্ছে করছে। আমার একটাই কথা তা হলো, আমাদের দেশের তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদের এভাবে ধ্বংসযজ্ঞ ও লুণ্ঠন ব্যক্তিগতভাবে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। এজন্য প্রতিনিয়ত আমার মর্মপীড়া ও মনোকষ্ট হয়। যাদের ন্যূনতম দেশপ্রেম আছে, তাদের পক্ষেও এটাকে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।

বিঃ দ্রঃ আর ১৫ মিঃ পর শ্রীমঙ্গল চৌমুহনাতে ২৫ হাজার কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবীতে মানববন্ধন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28809354 http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28809354 2008-06-14 09:47:19
মাগুরছড়া ব্লো-আউটের ১১ বছর পূর্ণ, এখনো ক্ষতিপূরণ আদায় করা যায় নি। ১৪ই জুন মাগুরছড়া দিবস
মাগুরছড়া ব্লো-আউটের ১১ বছর পূর্ণ
ক্ষতিপূরণ আদায়ে কিছু সুপারিশ
( ধারাবাহিক-১ )

-সৈয়দ আমিরুজ্জামান

ভূমিকাঃ

বাংলাদেশের প্রধান এবং প্রায় একক জ্বালানী উৎস গ্যাস সম্পদ সাম্রাজ্যবাদী বহুজাতিক কোম্পানীর নগ্ন থাবার কবলে। গ্যাস সম্পদ নিয়ে বাংলাদেশ এক মহা সংকটের সম্মুখীন। উৎপাদন অংশীদারী চুক্তি'র নামে সাম্রাজ্যবাদী বহুজাতিক কোম্পানীগুলো দেশীয় কমিশনভোগীদের সাহায্যে তেল-গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়নের নামে অধিক মুনাফা লুন্ঠনের যে উন্ম্‌ত্ততা চলছে, রপ্তানী স্থগিত হলেও প্রতিটি কূপ থেকে তাদের ভাগের ৭৯ ভাগ গ্যাসক্রয় বাবদ শত শত কোটি টাকা ভর্তুকী দিতে হচ্ছে। বাংলাদেশের জনগণ, দেশপ্রেমিক বিশেষজ্ঞ এবং রাজনৈতিক শক্তি এইসব হাস্যকর পদক্ষেপ ও প্রতারণামূলক যুক্তির আসল চেহারা উন্মোচন করে দিলেও বিগত সরকারসমূহ বেপরোয়াভাবে সাম্রাজ্যবাদী লুন্ঠনের খেদমতে নিযুক্ত ছিলেন। জনগণ এ ক্ষেত্রে অবশ্য বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে ব্যতিক্রম হিসেবে দেখতে চায়।

অক্সিডেন্টাল, ইউনোকল, নাইকো, শেভরণ, কেয়ার্ন, টাল্লো ইত্যাদি বহুজাতিক কোম্পানী সারা দুনিয়ার তেল-গ্যাস সম্পদ লুন্ঠনের এক উন্মত্ত খেলায় নিযুক্ত। পৃথিবীর অন্যতম তেল সমৃদ্ধ দেশ নাইজেরিয়াকে ডলার ও সমৃদ্ধির লোভ দেখিয়ে ভিখিরি বানিয়েছে। ইন্দোনেশিয়াকে সর্বশান্ত করেছে। দেশ সর্বশান্ত হলেও লুটের ভাগ পেয়ে স্থানীয় শাসকরা ব্যক্তিগত সম্পদের পাহাড় বানিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থা দেশে দেশে এই লুটপাট নিশ্চিত করার জন্য সামরিক শাসন অথবা বেসামরিক স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। নির্যাতনমূলক আইন করে, সামরিক বাহিনী পাঠিয়ে লুটের বিরুদ্ধে যে কোন প্রতিরোধকে দমন করেছে। বাংলাদেশ এই লুন্ঠন প্রক্রিয়ারই শিকার। গ্যাসের মজুদ যা দেশের জন্যই অতি সামান্য, সেটাও এরা লুটে নিতে চায়। বাংলাদেশের বিগত শাসকরা নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পদের পাহাড় গড়ার জন্য এই লুন্ঠনের প্রত্যক্ষ সহযোগী।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28809288 http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28809288 2008-06-14 02:17:03
চা শ্রমিকদের ভোটাধিকার ও নাগরিকত্ব বাংলাদেশের চা শিল্প ও চা শ্রমিকরা হুমকীর মুখে। প্রতিকার কী?
( ধারাবাহিক-১৩ )
-সৈয়দ আমিরুজ্জামান

চা শ্রমিকদের ভোটাধিকার ও নাগরিকত্বঃ

বর্তমান বাংলাদেশের চা শ্রমিকরা অবিভক্ত ভারতবর্ষেরই আদি বাসিন্দা। বৃটিশ কোম্পানীগুলো বিহার, মধ্যপ্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, উড়িষ্যা, মাদ্রাজসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চা শ্রমিকদের নিয়ে এসে আসাম ও বৃহত্তর সিলেটের বিভিন্ন চা বাগানে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে বাধ্য করে। চা শ্রমিকরা চা বাগানের স্থায়ী বাসিন্দা হলেও বসত ভিটার স্থায়ী বন্দোবস্ত দেওয়া হয় নি। তাদের জীবন প্রবাহ আবর্তিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে চা কোম্পানীগুলোর চাপিয়ে দেয়া নিয়ম কানুনের অধীনে। অনেকেই বলে থাকেন চা বাগানগুলো হচ্ছে states within state. ফলে চা শ্রমিকরা বাগানে এসে সবকিছু হারানোর সঙ্গে সঙ্গে মানবিক ও নাগরিক অধিকারটুকুও হারিয়ে ফেলে। যুগ যুগব্যাপী শোষিত-বঞ্চিত চা শ্রমিকরা সুদীর্ঘ সময় পর ১৯৩৫ সালে ইন্ডিয়ান এ্যাক্টের আওতায় আসাম অ্যাসেম্বলিতে ভোটাধিকার অর্জন করে। এই এ্যাক্ট অনুযায়ী তাদের জন্য আসাম অ্যাসেম্বলীতে ২টি সংরক্ষিত আসনও রাখা হয়েছিল। ১৯৩৭ সালে প্রথম দু'জন চা শ্রমিক সর্দার জীবন সাওতাল ও ধীরেন মাঝি এমএলএ নির্বাচিত হন। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর চা শ্রমিকদেরকে ভাসমান জনগোষ্ঠী হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের ভোটাধিকার রহিত করা হয়। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে চা শ্রমিকরা পুনরায় ভোটাধিকার পায়। ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে চা শ্রমিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও অবদান অনস্বীকার্য। মুক্তিযুদ্ধে চা শ্রমিকরা লড়াই করেছে, জীবন দিয়েছে, অবর্ণনীয় লাঞ্ছনার শিকার হয়েছে। কিন্তু যুগযুগব্যাপী চা শ্রমিক জনগোষ্ঠী শ্রেণী শোষণ ও নিপীড়ন থেকে মুক্তির যে আকাংখাকে বুকে নিয়ে লড়াই চালিয়ে এসেছে, সেই আকাংখা আজও পূর্ণ হয় নি। '৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের পর গত ৩৭ বছরে কয়েক দফায় সরকারের পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু চা শ্রমিক জনগোষ্ঠীর জীবনে উন্নতি ঘটেনি। স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের স্বাদ জনগণ পায় নি। জাতীয় ও গণস্বার্থ বিরোধী শোষক শ্রেণীর নিষ্ঠুর শোষণে চা শ্রমিকদের জীবনে আজ নাভিঃশ্বাস উঠেছে। বেকার সংখ্যা ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশের চা শ্রমিকরা সারাদিন পরিশ্রম করেও দু‘বেলা পেটপুরে খেতে পারে না। ক্ষুধা-দারিদ্র্য নিত্য সাথী। বর্তমান প্রজন্মের চা শ্রমিকরা জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক, ভোট দেয়, দেশের প্রচলিত নিয়ম মেনে চলে, নাগরিক কর্তব্য পালন করে কিন্তু তারা মানবিক ও নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত। এই অবস্থা চলতে দেয়া যায় না। এই দুঃসহনীয় অবস্থা থেকে চা শ্রমিকরা মুক্তি চায়। চা শ্রমিক জনগোষ্ঠী আজ শোষণ অত্যাচারের যন্ত্রণা থেকে মুক্তির সুতীব্র আকাংখায় ছটফট করছে। চা শ্রমিকরা চায় পরিবর্তন। গোটা সমাজ ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিবর্তন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28808066 http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28808066 2008-06-10 12:07:38
চা বাগানে শোষণ-বঞ্চণা-দারিদ্র্যের শৃঙ্খল ও মৌলিক অধিকারের হালচিত্র বাংলাদেশের চা শিল্প ও চা শ্রমিকরা হুমকীর মুখে। প্রতিকার কী?
( ধারাবাহিক-১২ )
-সৈয়দ আমিরুজ্জামান

শোষণ-বঞ্চণা-দারিদ্র্যের শৃঙ্খল ও মৌলিক অধিকারের হালচিত্রঃ
মানুষের খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থানসহ মৌলিক অধিকার ও চাহিদা মেটানোর সব পথ বন্ধ করে দেয় শোষণ-বঞ্চণা-অনুন্নয়ন থেকে সৃষ্ট দারিদ্র্য। এ একটা শৃঙ্খলের মত - যেহেতু শোষণ করা হয় শ্রমিকদের, তাই ওরা দরিদ্র। যেহেতু শোষণ-বঞ্চণা-অনুন্নয়ন থেকে সৃষ্ট এই দারিদ্র্য তাই খাদ্য ঘাটতি আর অপুষ্টি। যেহেতু খাবারই যোগাড় করতে পারছে না তাই শিক্ষা নেই। যেহেতু শিক্ষার অধিকারসহ মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা নেই তাই রোগব্যাধী জন্ম-মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশী। শোষণ-বঞ্চণা-অনুন্নয়ন-বৈষম্য থেকে সৃষ্ট দারিদ্র্যের শৃঙ্খলে বাধা চা শ্রমিকদের জীবনে যেহেতু রোগব্যাধী বেশী তাই তারা ঋণ নিচ্ছে বেশী। সামন্তীয় জমিদারী কায়দায় শাসিত-শোষিত বাগান জীবনের হাজারো বাধা-নিষেধের শৃঙ্খলে চা শ্রমিকদের কোন স্বাধীনতা নেই। বাগান জীবনের এই নির্মম বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসা চা শ্রমিকদের পক্ষে সম্ভব নয়। রাষ্ট্রের ভিতরে 'বাগান' নামক রাষ্ট্রের শৃঙ্খল ভেঙ্গে বিদ্রোহী ও সংগ্রামী-প্রতিবাদী-আলোকিত-স্বাধীন মানুষ হিসেবে বেরিয়ে না আসতে পারে তার জন্যই দেড়শ' বছর আগে বৃটিশ বেনিয়া বহুজাতিক চা কোম্পানীর মালিকরা পরিকল্পিতভাবে চা শ্রমিকদেরকে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রের মাঝে ফেলে দিয়েছিল। সেই দুষ্টচক্রে এখনও তারা ঘুরপাক খাচ্ছে। চা বাগানসমূহে মানবতা-মানুষের মত জীবনযাপন-মানবিকতা বিকাশের সুযোগ ও অধিকার না থাকলেও নেশা করার সুযোগ আছে অফুরন্ত। বাগানে বৈধ-অবৈধ মদের দোকান আর পাশাপাশি চুয়ানী মদের ব্যবস্থাও চালু আছে। সরকারী চিফলিকার আর লাইনের চুয়ানীতে চা শ্রমিকদের মাতাল হওয়ার অধিকার ও সংস্কৃতি জারি আছে বাগানে। চা বাগানে এসব মদ সহজলভ্য করা হয়েছে দু'টি কারণেঃ- ১· চা শ্রমিকদের হাতে যাতে সঞ্চয় গড়ে না ওঠে। ২· শোষণ-বঞ্চণা-অনুন্নয়ন-বৈষম্য থেকে সৃষ্ট দারিদ্র্য-নির্যাতনের কষ্ট-যন্ত্রণা ভূলে কল্পনার জগতে ডুবে যাওয়া, প্রতিবাদী নৈতিক মনোবল ভোঁতা করে দেওয়া।
এদেশে চা বাগান প্রতিষ্ঠার সময় ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে সরলমতি মানুষদেরকে ভূলিয়ে-ভালিয়ে জোর করে এনে 'চা শ্রমিক' নামক আধুনিক ক্রীতদাসে পরিণত করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, আসাম চলো, 'সেখানে টাকার গাছ আছে, সামান্য পরিশ্রমে আরাম আয়েশে থাকবে।' চা শ্রমিকরা দেখলো টাকার গাছের পরিচর্যা তারা করে কিন্তু তাদের শ্রমে তৈরী চা বিক্রী বাবদ প্রায় সম্পূর্ণ টাকা যায় মালিকের ঘরে। চা শ্রমিকরা দেখলো তাদের সম্পূর্ণ শ্রমে তৈরী চা যে মূল্য সৃষ্টি করে তার ন্যায্য হিস্যা বা সম্পূর্ণ পারিশ্রমিক 'মজুরী' হিসেবে পাচ্ছে না, কারণ শ্রমের উদ্বৃত্তমূল্য শোষণের ফলে বাগানের স্বত্ব মালিকের, গাছের স্বত্ব মালিকের, লাভ মালিকের, ভোগ-বিলাস-আরাম আয়েশ মালিকের। জীবনধারনের জন্য যা দেওয়া হয়, তাকেই বলা হচ্ছে 'মজুরী', যা আবার আইনসিদ্ধ করা হয়েছে। শ্রমের উদ্বৃত্তমূল্য আত্মসাৎ বা শোষণ-বঞ্চণা-বৈষম্য-অনুন্নয়নের অবশ্যম্ভাবী ফলাফল প্রতিবাদ-পুঞ্জিভূত ক্ষোভ-বিক্ষোভ ও আন্দোলন। এটা ঠেকাতেই উৎসাহ দেয়া হয়েছিল নেশা আর অতিরিক্ত ধর্মীয় উৎসবে। চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরী মাত্র ৩১ টাকা।

চা শ্রমিকদের মধ্যে অনৈক্য-বিভক্তির জন্য দায়ী প্রায় ৭০ ধরণের জাত-পাত-বর্ণ-গোষ্ঠীর ভেদ। বিভিন্ন জাত-পাত-বর্ণ-গোষ্ঠী চিহ্নিত করার উপাধীসমূহ হচ্ছেঃ- কুর্ম্মী, কৈরী, কর্মকার, কানু, কালোয়ার, কাহার, বারই, বোনার্জী, বাউরী, বীন, হাজরা, যাদব, রাজভর, নাইঢু, রবিদাস, গোয়ালা, মাঝি, দাস, নায়েক, পার্শি, বাগতী, লোহার, সাওতাল, মুন্ডা, ছত্রী, দোষাদ, রিকিয়াসন, বাড়াইক, কালিন্দি, ছবর, ভর, মাদ্রাজী, পাশী, খাড়িয়া, খয়ড়া, ঘাটুয়াল, তাঁতী, রেলী, অলমিক, ঘাশী, উরাং, উরা নদী, মোহালী, ফুলমালী, রাউতিয়া, মৃধা, তুড়িয়া, নাগবংশী, ভূইয়া, মাহারা, গৌড়, গড়, ভূমিজ, তন্তবাই, মোসহর, বাঁশফর, কর, হাঁড়ী, বীনবংশী, দুধবংশী, বাড়াইত, গাঢ়, চৌহান, নুনিয়া, তেলিপাল, কুমার, দেব, নাগ, শীল, হাজং, তংলা, নেপালী, বর্মা, মনিপুরী, সুনারী ইত্যাদি। বাগানের চা শ্রমিকদের মধ্যে প্রধান ভাষাসমূহ হচ্ছে, বাংলা, ভুজপুরী, উড়িষ্যা, মুন্ডা, সাওতালী, মাদ্রাজী, ছবর, খাসী ইত্যাদি। চা শ্রমিকদের মধ্যে অধিকাংশরাই বাংলা ও ভুজপুরী ভাষায় কথা বলে। ভুজপুরী, উড়িষ্যা, তেলেগু ও মাদ্রাজী ভাষার নিজস্ব বর্ণমালা রয়েছে। হিন্দু সনাতন ধর্মের চা শ্রমিকদের মধ্যে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র হিসেবে বর্ণভেদ প্রবল। এ ছাড়াও আছে মুসলমান ও খৃষ্টান। বাগানে অনেক কিছুরই পরিবর্তন ঘটলেও জাতি-গোষ্ঠী-বর্ণভেদের দেয়ালটা রয়েই গেছে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28807932 http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28807932 2008-06-09 23:03:26
জাতীয় বাজেট ও কৃষি খাতের জন্য বরাদ্দ জাতীয় বাজেট ও কৃষি খাতের জন্য বরাদ্দ

-সৈয়দ আমিরুজ্জামান

জুন মাস বাজেটের মাস। এই মাস আসা মাত্রই বাজেট উত্থাপনের আগে পরে এ নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠে। বর্তমান অনির্বাচিত সরকার ২০০৮-০৯ অর্থ বছরের জন্য ৯৯ হাজার ৫শ' কোটি টাকার এক গতানুগতিক বাজেট ঘোষণা করবেন। বাজেটে রাজস্ব ব্যয় ধরা হবে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিপি) বা উন্নয়ন ব্যয়ের পরিমাণ হবে ২৫ হাজার ৫শ' কোটি টাকা। সামগ্রিক ঘাটতি ২১ হাজার কোটি টাকার ৬০ ভাগ স্থানীয় এবং ৪০ শতাংশ বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ নিয়ে অর্থায়ন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। কৃষিতে বড় ধরনের ভর্তুকির কথা বলা হয়েছে। প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়ার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। গত অর্থ বছরে এ খাতে ভর্তুকি রাখা হয়, ২ হাজার ২শ' কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা ৩ হাজার ৯শ' কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। দেশের মোট রফতানিতে কৃষিপণ্যের অবদান ৭·৩৪ শতাংশ। বিগত অর্থ বছরে জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান ছিল ২১·১১ শতাংশ। সর্বোচ্চ ভর্তুকি আর বরাদ্দের কথা বলা হলেও দেশের উৎপাদন ব্যবস্থার অগ্রগতির জন্য যতো না তার চেয়ে আগামী অর্থবছরে সরকারি ঠাটবাট কিভাবে কতটুকু বজায় রাখা যায় তার ব্যবস্থাপত্র উপস্থাপন করা হবে বলে সহজে অনুমেয়। যদিও কৃষি উৎপাদন, কৃষিপণ্য রফতানি, থাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি গবেষণাসহ গোটা কৃষি খাতে দ্বিগুণ বরাদ্দ আর সার, ডিজেল ও বীজ এই ৩টি খাতে ভর্তুকি বর্তমান অর্থ বছরের তুলনায় দ্বিগুণ করার কথা বলা হয়েছে। দাতা সংস্থার উপর নির্ভর করে তৈরি এই ব্যবস্থাপত্রে কতটুকু গণস্বার্থ ও জাতীয়স্বার্থ রক্ষিত হবে এ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। তবে সাধারণভাবে এক কথায় বলা যায়, আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের পরামর্শ ও নির্দেশনার উপর নির্ভর করে তৈরি এই বাজেট দিয়ে যে প্রকৃত গণস্বার্থ ও জাতীয়স্বার্থ রক্ষিত হবে না, তা বলাই বাহুল্য। এটা মেনে চলা যাবে কি না, সেই প্রশ্নও থেকে যায়। দাতারা টাকা দিলে কাজ হবে, না হয় পরিকল্পনা ছাঁটাই করা হবে। আর শর্ত হিসেবে যখন যেটা বলবে সেটা শুনতে হবে। জ্বালানি তেল-গ্যাসের দাম বাড়াও, এটা কর, সেটা করো আর না হয় ঋণ পাওয়া যাবে না। ফলে প্রতি বছরের ন্যায় জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বাড়ানো হবে, বাড়ানো হবে গাড়ি ভাড়া, বাড়ি ভাড়া, নিত্যনৈমেত্তিক জিনিসের দাম। ফলে দেখা যাবে যে, বাজেটে এক ধরনের কর ও মূল্য পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। বাজেট পাস হওয়ার ক'দিন পর দেখা যাবে যে, আবার সরকারি নির্দেশের মাধ্যমে দফায় দফায় বিভিন্ন জিনিসের দাম বৃদ্ধি করা হবে। সুতরাং এ ধরনের বাজেট থেকে জনগণ উপকৃত হয় না এবং কোনো দিক নির্দেশনাও পায় না। এ ধরনের বাজেটে সাম্রাজ্যবাদ, বিদেশি বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানি বা কর্পোরেশন, সাম্রাজ্যবাদ নির্ভর আমলা মুৎসুদ্দী বুর্জোয়া-লুটেরা ধনিক-বণিক শ্রেণীর লোকজনের ও তাদের প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ যতটা দেখা হয়, ততটা দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ কৃষক-খেতমজুর-শ্রমিক-নিম্নবিত্ত-মধ্যবিত্তসহ সাধারণ মানুষের স্বার্থ ততটা দেখা হয় না। দেশের সরকার যতোদিন বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের মতো সংস্থার পরামর্শে চলবে এবং দেশকে বিদেশি ঋণ নির্ভর করে রাখবে ততোদিন এ ধরনের কর্মকান্ড চলতেই থাকবে।

সরকার এ বছর কৃষি ক্ষেত্রে বিরাট সাফল্যের দাবি করছে। এবার অর্থ ও প্রধান উপদেষ্টা বড় অংকের কৃষি বাজেটের কথা বলছেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে বিগত দিনগুলোতে কৃষিতে যে কয় টাকা বরাদ্দ বা ভর্তুকি দেয়া হয়েছে সেটা কি যথেষ্ট ছিল? ওই টাকা খোদ কৃষক-খেতমজুররা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কতটুকু পেয়েছে? তাছাড়া চলতি সরকার কৃষকদের জন্য যতোটুকু সহায়তা ঘোষণা করেছিল তা কি কৃষক পেয়েছে এবং এ প্রক্রিয়ার মধ্যে কি কোনোরকম দুর্নীতি আর অনিয়ম হয়নি? সরকারের কৃষি ও অর্থ মন্ত্রণালয় এবং সরকার কি এসব পর্যালোচনা করেছেন? তাছাড়া পরামর্শ ও দিক নির্দেশনার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ কৃষক-খেতমজুর সংগঠনগুলোর সাথে বসে আলাপ-আলোচনার কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করছি না।

আমি যেগুলো গুরুত্বপূর্ণ সেগুলো উল্লেখ করছি এবং এই আঙ্গিকে বাজেটে কৃষি খাতের জন্য বরাদ্দ করলে কৃষক-খেতমজুররা উপকার পাবে। আমি মনে করি যে কোনো বিষয় নির্ধারণের আগে তা পূর্ণাঙ্গভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হয়। সেটা না করে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু করলে তাতে সামগ্রিকভাবে বিষয়টি অগ্রসর হয় না।

কৃষির জন্য যা যা প্রয়োজন তা আগে নির্ধারণ করতে হবে। যেমন সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ ব্যবস্থা এগুলো ছাড়া কোনো কৃষি হবে না। এগুলোর চাহিদা অনুযায়ী পরিমাণ নির্ধারণ করা এবং এগুলো কৃষকের কাছে সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে। বিগত প্রায় বিশ বছর হলো এই উপকরণে সামান্য অংশ সরকারিভাবে সরবরাহ করা হয়। বেশিটাই ব্যক্তি মালিকদের মাধ্যমে হচ্ছে- ডিলারদের মাধ্যমে হচ্ছে।

আর এ প্রক্রিয়ায় ব্যক্তি মালিকদের অতি মুনাফার লোভে বাড়ছে ভেজাল। ভেজাল বীজ, ভেজাল সার, ভেজাল কীটনাশক। এতে উৎপাদন ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এবারেও বহু কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ডিজেল ও সারের ভর্তুকির টাকা বিতরণে দুর্নীতি হয়েছে। ব্যাংক সুপারভাইজার ও স্থানীয় প্রশাসন মিলে একাজ করেছে। এ ক্ষেত্রে কৃষক-খেতমজুর সংগঠনগুলো কিছু করতে পারলো না। কিছু করতে গেলেই নাকি জরুরি অবস্থা আর পুলিশের বাধা। সাধারণ কৃষক কিন্তু আন্দোলন করেছে। আর কৃষক-খেতমজুর সংগঠনগুলো শুধুমাত্র স্থানীয় প্রশাসনকে ডেপুটেশন দিয়েছে। তবুও সরকার কথা শুনে নি।

এখন পর্যন্ত যেটা লক্ষ্য করা যায় সেটা হলো কৃষিক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংকের পরামর্শ অনুযায়ী কৃষিতে ভর্তুকিসহ বিএডিসি সংকুচিত করে ফেলা, সেচ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ব্যক্তি মালিকানায় ছেড়ে দেয়া প্রভৃতি পদক্ষেপ কৃষি ব্যবস্থাকে সার্বিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে সন্দেহ নাই। আজ এই দূরাবস্থা দূর করতে হলে বিএডিসিকে তার অতীতের পূর্ণ অবয়বে চালু করা দরকার। সার, বীজ, কীটনাশক ও সেচ বিএডিসি'র মাধ্যমে করা জরুরী হয়ে পড়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ড কৃষি সম্প্রসারণের নামে যে সকল কর্মকান্ড করতো সেগুলো ফের চালু করা দরকার। কৃষি গবেষণার ওপর গুরুত্ব প্রদান এবং এ খাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা কেন্দ্রে'র বিজ্ঞানীরা ইতোমধ্যেই উন্নত জাতের উফসি ধানসহ নানা ধরনের ধান উৎপাদন করে তাদের কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। তারা প্রমাণ করেছেন পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোর তুলনায় তারা কোনো অংশেই কম নন। হাইব্রিড ও জিএম ফুডসহ বিদেশি বহুজাতিক কোম্পানির কৃষিপণ্যের প্রতি না ঝুঁকে দেশের কৃতী সন্তানদের কৃতিত্বকে স্বীকৃতি ও সম্মান দিয়ে এবং তাদের প্রতিভাকে দেশের কল্যাণে বিকাশের সুযোগ করে দিতে বাজেটে যে কোনো মূল্যে কৃষি গবেষণার জন্য মোটা অংকের অর্থ বরাদ্দ করতে হবে।
আর বর্তমানে বাজার ব্যবস্থা সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে। কৃষকেরা কোনো ফসলের ন্যায্য দাম পায় না। এমনকি কৃষক ফসলের যে দাম পায়, তাতে তার উৎপাদন খরচও উঠে না। এখানে মধ্যসত্ত্বভোগীরাই লাভবান হয়। এটা দূর করার জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেয়া উচিত।

গ্রামের প্রতিটি হাটে মনিটরিংসহ সরকারি ক্রয়কেন্দ্র খোলার পদক্ষেপ গ্রহণ অথবা সুবিধামতো জায়গায় সরকারি উদ্যোগে বাজার বসাতে হবে। বগুড়া জেলায় সেনা প্রধানের নেতৃত্বে একটি সরকারি বাজার হয়েছে। তাতে কৃষক লাভবান হচ্ছে। একইভাবে সারা দেশে এ ধরনের বাজার গড়ে তোলা এবং শাক-সবজি আর শস্য দানা অর্থাৎ চাল, গম, আলুসহ যে কোনো ফসল সংরক্ষিত করার জন্য কোল্ড স্টোরেজ এবং বড় বড় এলএসডি গোডাউন বানানো দরকার। এরপর বিক্রয় ও বিতরণ ব্যবস্থা। বর্তমান সরকার হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে যে সমস্ত বাজার ব্যবস্থা ব্যক্তি মালিকদের কাছে ছেড়ে দিলে কি অবস্থার সৃষ্টি হয়! শেষ পর্যন্ত বিডিআরের মাধ্যমে ওএমএস ব্যবস্থায় চাল, চিনি ইত্যাদি বিক্রি করা হচ্ছে। তাও কোনো কিনারা করতে পারছেন না। বিশ্ব বাজারে মূল্যবৃদ্ধি দেখিয়ে তো আপনারা পার পাবেন না। উন্নত বিশ্বে ক্রেতা-ভোক্তাদের মূল্যবৃদ্ধির জন্য ভাতা দিচ্ছে। খোদ আমেরিকায় ১০ কোটি লোককে মাসে ৬শ' ডলার করে দিচ্ছে। আমাদের দেশেও এ ধরনের ব্যবস্থা চালু হওয়া দরকার অথচ সরকার কিছুই করেনি। রেশনের কথা উঠেছিল বিশ্বব্যাংক নিষেধ করেছে। এখন সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, সরকার বিশ্বব্যাংকের কথা শুনবে না জনগণের কথা শুনবে। আমাদের মতো গরিব দেশে গ্রাম থেকে আরম্ভ করে শহর পর্যন্ত রেশনের ব্যবস্থা ও ন্যায্যমূল্যের দোকান থাকতে হবে। জনগণের আয়ের সংস্থান গড়ে তুলতে হবে।

সকল বিষয় বৃহত্তর জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে কৃষির জন্য বাজেটে বরাদ্দ নির্ধারণ করতে হবে। এটাই সরকারের জরুরি বিষয়। অতীত সরকারের মতো মিগ, ফ্রিগেড আর অস্ত্রশস্ত্র কেনার খাতে বেশি বরাদ্দ না দিয়ে উৎপাদন খাতে বিশেষ করে খাদ্য উৎপাদন অর্থাৎ কৃষি খাতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দিয়ে খাদ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে খাদ্য ব্যবস্থাপনায় মৌসুমি মজুদ রাখা দরকার। এ জন্য বছরের ৪টি সময়কে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে খাদ্যশস্য সংগ্রহ বাবদ ৯ হাজার ৫শ' ২০ কোটি বরাদ্দ রাখার সুপারিশ করেছেন । দেশের আমলা মুৎসুদ্দী বুর্জোয়া-লুটেরা ধনিক-বনিক ও সুবিধা ভোগী শ্রেণীর ভোগ বিলাস কমানোর ব্যবস্থা করুন। ভোগ ও বিলাস সামগ্রী এবং দামি গাড়ি আমদানি বন্ধ করুন। জ্বালানি তেলের জন্য ঋণের টাকা খরচ বন্ধ করুন। দেশের কৃষি বাঁচান, কৃষক ও খেতমজুর বাঁচান। দেশকে খাদ্যে স্বনির্ভর করুন। এটাই এই অর্থ বছরের বাজেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হওয়া উচিত। <img src=" style="border:0;" /><img src=(" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" />
<img src=(" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" />
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28807460 http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28807460 2008-06-08 15:05:44
চা বাগানে শিক্ষার হালচিত্র বাংলাদেশের চা শিল্প ও চা শ্রমিকরা হুমকীর মুখে। প্রতিকার কী? ( ধারাবাহিক-১১ ) <img src=" style="border:0;" />
-সৈয়দ আমিরুজ্জামান
<img src=" style="border:0;" />
চা বাগানে শিক্ষার হালচিত্রঃ
<img src=(" style="border:0;" />
ড. মনিরুজ্জামান মিঞা শিক্ষা কমিশনে প্রতি ১৫০০ মানুষের জন্য একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু প্রতিটি চা বাগানে গড়ে প্রায় ৪,৪৮৭ জনবসতি থাকলেও কোন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। ১৫৮ টি চা বাগানে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত ১৪০ টি বেসরকারী শিক্ষা কেন্দ্র থাকলেও সেগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। ড. মনিরুজ্জামান মিঞা শিক্ষা কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী প্রতিটি বাগানে প্রায় ৩টি এবং সকল বাগানে মোট ৪৬৬ টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কথা। জীর্ণ-শীর্ণ স্কুলঘরে ছেলেমেয়েরা আসা-যাওয়া করলেও লেখাপড়া তেমন একটা হয় না। চা বাগান কর্তৃপক্ষ চায় না চা শ্রমিক শিশুরা শিক্ষিত হোক। লাইনের মলিন পরিবেশ, কুসংস্কার আর বিধি-নিষেধ চা শ্রমিক সন্তানের কচি মনে বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
<img src=(" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28807338 http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28807338 2008-06-08 07:57:23
চা শ্রমিকদের অবস্থা ( ধারাবাহিক-১০ ) <img src=" style="border:0;" />
সৈয়দ আমিরুজ্জামান
<img src=" style="border:0;" />
চা শ্রমিকদের অবস্থাঃ
<img src=" style="border:0;" />
সকালে এক কাপ গরম চা পানের মধ্য দিয়েই অধিকাংশ মানুষের দিনের যাত্রা শুরু হয়। উচ্চবিত্তদের তো 'বেড টি' না হলে চলে না। দেশের গ্রাম-শহর নির্বিশেষে লক্ষ লক্ষ মানুষ সকাল-সন্ধ্যা বা অনেকেরই দিনব্যাপী ৫/৭ বা তারও বেশী কাপ চা পান করার অভ্যাস। প্রতিদিন যখন পরম তৃপ্তিতে চা পান করে সকালের ঘুমের আমেজ, কর্মস্থলে শরীরের ক্লান্তি আর জড়তা কাটাই, সতেজ আর উজ্জ্বীবিত হই, তখন কখনও কারো মনে পড়ে কি যে, যাদের শ্রমে এই চা প্রস্তুত হচ্ছে, সেই চা শ্রমিকরা কেমন আছে? তাদের জীবন কেমন যায়? চা শ্রমিকদের শ্রমে প্রক্রিয়াকরণের অনেকগুলো ধাপ অতিক্রম করে পান উপযোগী এই চা মানুষের কাছে পৌঁছায়। চায়ের প্রথম ধাপ সম্পন্ন হয় হাজার হাজার পরিশ্রমী নারীর নিপুণ হাতের স্পর্শে। যদিও চা পাতা তোলার মৌসুমে এখন পরুষ শ্রমিকদেরকেও কাজে লাগানো হয় বলে জানা যায়।

বাংলাদেশের প্রত্যেকটি বাগানে রয়েছে লেবার পাড়া বা লাইন। এসব লেবার পাড়ার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে জীর্ণ কুটিরে চা শ্রমিকরা বাস করে। অনাহারে, অর্ধাহারে, অশিক্ষায়, অপুষ্টিতে, কুসংস্কারে, শোষণ-বঞ্চনা-অনুন্নয়নের শৃঙ্খলে তাদের জীবন আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা।

সরজমিনে গেলে দেখা যায় যে, শ্রমিক লাইনের প্রায় প্রত্যেক চা শ্রমিককে প্রতিটি ১২×৬ হাত আয়তনের একটি জীর্ণ কুটিরে গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগীর সাথে পরিবারের ১০/১২ জন সদস্য নিয়ে একত্রে গাদাগাদি করে বসবাস করতে হয়। চা শ্রমিকরা চা শিল্পের মূলশক্তি হলেও তাদের জীবন করুণ-দুর্বিসহ-ভয়াবহ। চা বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী রেজিস্টার্ড ও অনিয়মিত মিলে এর মধ্যে প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ শ্রমিক ৩৯, ৬৮৭ জন, নারী শ্রমিক ৪১,৪১৪ জন, কিশোর-কিশোরী শ্রমিক ৯,৭১৫ জন, শিশু শ্রমিক ৬,৭৫৭ জন। বাগানসমূহে চা জনগোষ্ঠীর মোট সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ। একজনের আয়ে ৭/৮ জনের সংসার চালাতে হয়। উৎপাদন অনুযায়ী চট্টগ্রাম ভ্যালী বাদে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের চা বাগানগুলোকে এ, বি, সি-এই তিন শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়েছে। আর চট্টগ্রাম ভ্যালীতে এ, বি, সি এই তিন ক্যাটাগরীতে বিভক্ত করা হয়েছে। চা শ্রমিকদের মজুরীও সেভাবে বিভক্ত করা হয়েছে। 'এ' ক্লাশ বা ক্যাটাগরীভুক্ত বাগানসমূহে চা শ্রমিকদের দৈনিক হাজিরা বা মজুরী হিসেবে দেওয়া হয় ৩১ টাকা। রেশন হিসেবে সপ্তাহের ১.৩০ টাকা ধরে ৩·২৭ কেজি খাওয়ার অযোগ্য আটা ও অন্যান্য সুবিধা মিলে টাকার অঙ্কে তা ৪০ টাকা হয়। বাগানসমূহে চা শ্রমিকদের প্রতিটি পরিবারের সদস্য সংখ্যা গড়ে ৭ জন। তাহলে ৭ জনের পরিবারে প্রতি সদস্যের দৈনিক প্রাপ্তি ৫·৭১ টাকা মাত্র। আর মজুরী হিসেবে এ অঙ্ক ৪·২৮ টাকা। প্রতি চা শ্রমিকের রেশন হিসেবে দৈনিক প্রাপ্তি ০·৪৬৭ কেজি আটা। ৭ জনের পরিবারে প্রতি সদস্যের দৈনিক রেশন প্রাপ্তি ০·০৬৬ গ্রাম আটা। ·০৬৬ গ্রাম আটার বাজার মূল্য ০·৭৯ টাকা। চা শ্রমিকদের অনেকেই রেশনে প্রাপ্ত এই আটা ১২ টাকা কেজি ধরে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে দেয়। রেশনের এই আটা পশু খাদ্য হিসেবে স্থানীয় ক্রেতারা ক্রয় করে থাকেন। ৩·২৭ কেজি আটার বর্তমান বাজার মূল্য ৩৯·২৪ টাকা হয়। সেই হিসেবে চা শ্রমিকের রেশনের আটা বিক্রি বাবদ দৈনিক প্রাপ্তি ৫·৬০ টাকা। তাতেও ৭ জনের পরিবারে প্রতি সদস্যের দৈনিক প্রাপ্তি ০·৮০ টাকা মাত্র। দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক উর্ধ্বগতির বাজারে এতে একজন মানুষ কিভাবে চলবে?

একে তো সারাদিনের পরিশ্রম, তার উপর প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার না পাওয়া, যা পাওয়া যায় তাও মানসম্মত নয়। ফলে অপুষ্টি চা শ্রমিকদের নিত্য সাথী। এসব কারণে রোগ-ব্যাধী চা শ্রমিক জনগোষ্ঠীর শরীরে বাসা বাধে। ন্যূনতম ২২০০ কিলো-ক্যালরী সম্পন্ন বা মানসম্মত খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা নেই, নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই, চিকিৎসা নেই, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশসম্মত বাসস্থান নেই। আমাশয়, ডায়রিয়া, বহু ধরণের পেটের পীড়া, টিবি, কুষ্ঠসহ বিভিন্ন ব্যাধীতে এরা আক্রান্ত হয়। এই স্বাস্থ্য সমস্যার সর্বাধিক শিকার সন্তান সম্ভবা নারীরা। সন্তান জন্মের পূর্বে ও পরে এরা নানা জটিলতায় ভোগে। জন্ম দেয় অপুষ্ট সন্তান।

১৯৬২ ও ১৯৭৭ সালের শ্রম আইন অনুযায়ী চা শ্রমিকদের চিকিৎসা সুবিধাসহ স্বাস্থ্য সেবার দায়িত্ব বাগান কর্তৃপক্ষের। এসব আইনে নিরাপদ পানীয় জলের সরবরাহ, মানসম্মত রেশন, উন্নত পয়ঃপ্রণালী ও ড্রেনেজ সিস্টেম, মানুষের বাস উপযোগী আবাসিক সুবিধা দেয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে বাগানসমূহে এসবের দেখা মেলা ভার। এসব নিয়ম লঙ্ঘিত হলে বাগান কর্তৃপক্ষ বা মালিকের শাস্তির বিধান রয়েছে। শ্রম আইনের বিধান লঙ্ঘিত হবার কারণে কোনো মালিক বা কর্তৃপক্ষের শাস্তি হয়েছে বলে জানা নেই। <img src=" style="border:0;" />
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28807139 http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28807139 2008-06-07 14:49:47
চা শিল্পের সংকট বাংলাদেশের চা শিল্প ও চা শ্রমিকরা হুমকীর মুখে। প্রতিকার কী?
( ধারাবাহিক-৯ )
-সৈয়দ আমিরুজ্জামান

চা শিল্পের সংকটঃ

বাংলাদেশে বর্তমানে ফাঁড়িসহ মোট ২৪২ চা বাগান রয়েছে। ২০০০ সালে উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড়ে ৬টি চা বাগান সৃজনের কাজ শুরু হয়। সর্বশেষ ২০০৩ সালে তিন পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, খাগরাছড়ি ও বান্দরবানে প্রথম পর্যায়ে ৩০০ হেক্টর জমিতে চা চাষের পাইলট প্রকল্প হাতে নেয়া হয়।

বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী কৃষিভিত্তিক অর্থকরী শিল্পের মধ্যে চা অন্যতম। মানুষের শ্রমভিত্তিক এ শিল্পে চলছে নাজুক অবস্থা। ১৬৬ বছরের পুরনো এ শিল্পের দিকে তাকালে দেখা যায়, অব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনার অভাবে চায়ের উৎপাদন আনুপাতিক হারে বাড়ে নি। চায়ের গুণগত মান ঠিক রাখা হয় নি। পূর্বের মত আন্তর্জাতিক বাজার ধারবাহিকভাবে ধরে রাখার চেষ্টা ছিল না। চা শ্রমিকরা চরম শোষণ-বঞ্চণার শিকার হলেও চা উৎপাদন লাভজনক নয় বলা হচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে, কেন? পাঠক, এর উত্তর আমার লেখা এই নিবন্ধেই পাবেন। দেশ চা শিল্প থেকে কাঙ্খিত বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারছে না। চা শ্রমিকের অবস্থারও উন্নতি হচ্ছে না। শত শত প্রশ্নের উত্তর নেতিবাচক ছাড়া ইতিবাচক হবে না। আসলেই চা শিল্প একটা হুমকী ও সংকটজনক দুঃসময়ের মুখোমুখি। বাগানগুলোতে অধিকসংখ্যক চা গাছ অতিমাত্রায় বয়স্ক, এর অনেকগুলোই ৫০ বছরের উর্ধ্বে। অতি পুরনো গাছ থেকে উন্নতমানের চা উৎপাদিত হয় না। খরা, অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টিসহ প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা তো রয়েছেই। এ ছাড়া আছে গ্যাস-বিদ্যুৎ ও উন্নত চারার অভাব। অনেক বাগানের মালিক চা আবাদ বা সম্প্রসারণের জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তা অন্য খাতে ব্যবহার করছেন। বাংলাদেশ চা বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর মোট আয়তনের ২·৫ শতাংশ হারে বাধ্যতামূলক চা চাষ সম্প্রসারণ করার কথা। কিন্তু এসব নিয়ম মানা হয় না। বাগানে চা আবাদ সম্প্রসারণ বা নতুন গাছ না লাগিয়ে বাগানে পতিত ভূমিতে রাবার চাষ করা হচ্ছে। যা টি বোর্ডের নিয়ম ও লীজ শর্তের সম্পূর্ণ লঙ্ঘন। ফলে চা শিল্পের অব্যাহত বিকাশ-উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লোডশেডিংয়ের জন্যও চা শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেডিংয়ের কারণে কাঁচা চা পাতা পঁচে নষ্ট ও চায়ের গুণগতমান খারাপ হচ্ছে। দিন দিন বাংলাদেশের চা আন্তর্জাতিক বাজার হারাচ্ছে। গড়ে ৩·৫ শতাংশ হারে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ছে। একের পর এক চা বাগান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ৪৪টি চা বাগান রুগ্ন শিল্প হিসেবে চিহ্নিত। এরমধ্যে ২১টি বাগানে চা উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ। ব্যাপক হারে বাগান থেকে ছায়াবৃক্ষ চুরি হওয়ায় চায়ের উৎপাদন ও মান ক্রমাগত কমছে। এভাবে চলতে থাকলে ২০১৫ সালের মধ্যে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশকে চা আমদানী করতে হবে। এটা আমাদের দেশের অর্থনীতির জন্য মারাত্মক আঘাত।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28806771 http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28806771 2008-06-06 09:23:15
বাংলাদেশের চা বাগানসমূহের ভ্যালীওয়ারী অবস্থান ও সংখ্যা ( ধারাবাহিক-৮ )
সৈয়দ আমিরুজ্জামান

বাংলাদেশের চা বাগানসমূহের ভ্যালীওয়ারী অবস্থান ও সংখ্যাঃ
ক্রমিক
নং ভ্যালীর নাম বাগানের সংখ্যা ফাঁড়িসহ বাগানের সংখ্যা
০১· বালিশিরা ভ্যালী
( শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ, বাহুবল, চুনারুঘাট, মৌলভীবাজার সদর উপজেলা ) ২৮টি - ৬৯টি
০২· লস্করপুর ভ্যালী
( চুনারুঘাট, মাধবপুর, বাহুবল, নবীগঞ্জ উপজেলা ) ১৮টি - ২৯টি
০৩· মনু-ধলাই ভ্যালী
( কমলগঞ্জ, কুলাউড়া উপজেলা ) ১৪টি - ২৮টি
০৪· লংলা ভ্যালী
( কুলাউড়া, রাজনগর, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা ) ৩০টি - ৩৮টি
০৫· জুরী ভ্যালী
( কুলাউড়া, বড়লেখা উপজেলা ) ২৮টি - ৩৭টি
ং০৬· উত্তর সিলেট ভ্যালী
( সিলেট সদর, জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট উপজেলা ) ১৪টি - ২২টি
০৭· চট্টগ্রাম ভ্যালী
( ফটিকছড়ি, রাঙ্গুনিয়া, কাপ্তাই, হাটহাজারী উপজেলা ) ২৪টি - ২৪টি
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28804476 http://www.somewhereinblog.net/blog/sazamanblog/28804476 2008-05-30 14:08:15