নন্দলাল তো একদা একটা করিল ভীষণ পণ-
স্বদেশের তরে যে করেই হোক রাখিবেই সে জীবন
সকলে বলিল, “আহা হা, কর কী, কর কী নন্দলাল? ”
নন্দ বলিল, “বসিয়া বসিয়া রহিব কি চিরকাল?
আমি না করিলে কে করিবে আর উদ্ধার এই দেশ”
তখন সকলে কহিল, “বাহবা, বাহবা, বাহবা, বেশ।”
নন্দর ভাই কলেরায় মরে , দেখিবে তাহারে কে বা?
সকলে বলিল, “যাও না নন্দ , করনা ভায়ের সেবা।”
নন্দ বলিল, “ভায়ের জন্য জীবনটা যদি দিই-
না হয় দিলাম, কিন্তু, অভাগা দেশের হইবে কী?
বাঁচাটা আমার অতি দরকার, ভেবে দেখ চারিদিক। ”
তখন সকলে বলিল, “হাঁ হাঁ হাঁ , তা বটে, তা বটে, ঠিক। ”
নন্দ একদা হঠাৎ একটা কাগজ করিল বাহির-
গালি দিয়া সব গদ্যে-পদ্যে বিদ্যা করিল জাহির।
পড়িল ধন্য , দেশের জন্য নন্দ খাটিয়া খুন-
লেখে যত তার দ্বিগুণ ঘুমায়, খায় তার দশগুণ।
খাইতে ধরিল লুচি আর ছোঁকা, সন্দেশ থাল-থাল –
তখন সকলে কহিল, “বাহবা, বাহবা, নন্দলাল।”
নন্দ বাড়ীর হত না বাহির , কোথা কী ঘটে কি জানি,
চড়িত না গাড়ি, কি জানি কখন উল্টায় গাড়িখানি।
নৌকা ফি-সন ডুবিছে ভীষণ, রেলে কলিশন হয়,
হাঁটিলে সর্প, কুক্কুর আর গাড়ি চাপা পড়া ভয়।
তাই শুয়ে শুয়ে কষ্টে বাঁচিয়া রহিল নন্দলাল-
সকলে বলিল, “ভ্যালা রে নন্দ, বেঁচে থাক চির কাল”
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুন, ২০১০ রাত ১১:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



