somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শ্রীলংকাকে যেমন দেখেছি, দেখছি- ০২

২৯ শে জুলাই, ২০১১ বিকাল ৩:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বান্দারানায়েকে আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে কলম্বো শহরেঃ

কলম্বোতে বিমান অবতরণের পরপরই চোখের সামনে পড়ল টার্মিনাল বিল্ডিং এ লেখা : Bandaranaike International Airport.


কলম্বো বিমান বন্দরের ভি আই পি লাউঞ্জ

অনেক পরিচ্ছন্ন একটি বিমান বন্দর। এখানে আপনি ইচ্ছে করলে ফ্রি নেট ব্রাউজ করতে পারেন। মনে চাইলে ব্লগে একটি পোস্ট দিতে পারবেন।

বিমান অবতরণ করার ১৩ টি গেট রয়েছে। একটি মজার ব্যাপার হলো – ১৩ টি গেট থাকলেও গেট নম্বর ১৩ কিন্তু খুঁজে পাওয়া যাবে না। বিমান বন্দরে কর্মরত এক জনকে জিজ্ঞেস করে জানলাম- এক সময় এখানে ১৩ নম্বর গেট না থাকার কারণ। যখন ১৩ নম্বর গেট ছিল সেই সময় বিমানে উঠতে গিয়ে নাকি ইউরোপের বিশেষত ইউকে-এর যাত্রীরা খুব বিরক্ত হত। কেননা তাদেরকে বিমানে উঠতে কিংবা নামতে হচ্ছে ১৩ নম্বর গেট দিয়ে যা কিনা আন লাকি থার্টিন! শুরুতেই যদি হয় আনলাকি তাহলে কার ভাল লাগে বলুন! সেই সময় লন্ডন থেকে আসা বিমানের ফ্লাইট ১৩ নম্বর গেটে ভিড়ত। যাত্রীদের বিরক্তির কারণেই নাকি শেষ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ ১৩ নম্বর গেটকে ১৪ নম্বর বানিয়েছে ।

শ্রীলংকার সাবেক প্রধানমন্ত্রী (তিনি ছিলেন ৪র্থ প্রধানমন্ত্রী।) S.W.R.D. Bandaranaike- ). এর নাম অনুসারে এই বিমানবন্দরের নামকরণ করা হয়েছে। তার পত্নী শ্রীমাভো বন্দরানায়েকে ছিলেন বিশ্বের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী। ( S.W.R.D. Bandaranaike, পুরো নাম - Solomon West Ridgeway Dias Bandaranaike (জন্ম – জানুয়ারি ৮, ১৮৯৯, কলম্বোতে ; মৃত্যু ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৫৯

মুল কলম্বো শহর থেকে বিমানবন্দরটি ৩৫ কি.মি. দূরে অবস্থিত। তবে যাতায়অতে বেশী সময় লাগে না। ৪০/৪৫ মিনিট মূল শহরে চলে যাওয়া যায়। বেশী যান জট থাকলে অবশ্য অনেক সময় লাগে। তবে বেশীর ভাগ সময়ই জট থাকে না।

বিমান থেকে নামলেই দেখবেন বিমান বন্দরের মহিলা কর্মীরা ২ হাত জোর করে আপনাকে অভিবাদন জানাচ্ছেঃ Ayubowan! এর বাংলা অনেকটা এই রকম – আপনি দীর্ঘ জীবি হোন/ “I wish you live long life”. ( আপনার আয়ু বৃদ্ধি হোক )। আপনি যদি কোন অফিসে ফোন করেন তাহলে শুনতে পাবেন ঐ প্রান্ত থেকে প্রথমেই বলবে - Ayubowan! How can I help you?


এই ভাবে আইয়ুবুয়ান বলে সম্ভাষণ জানানো শ্রীলঙ্কার রীতি।

শ্রীলংকানরা আসলেই অনেক বিনয়ী। বিমান বন্দরের মূল টার্মিনাল থেকে ইমিগ্রেশনের দিকে আসতে থাকলেই টের পাবেন একটি গরীব দেশ হলেও বিমান বন্দরটি কত পরিস্কার আর পরিবেশ কত সুন্দর। ইমিগ্রেশনে যাবার পর খুব দ্রুত আপনার কাজ করে দেবে। তবে আপনার পাসপোর্ট হাতে লেখা হলে একটু বেশী সময় লাগতে পারে। কারণ হাতে লেখা পাসপোর্ট এখন আর দুনিয়ার কোথাও নেই। এছাড়া আমাদের নামের বানান ওদের পরিচিত নয়।

ইমিগ্রেশন ৫ মিনিটের মধ্যে শেষ করে লাগেজ সংগ্রহ করতে বেল্টে যেতে হবে। ছোট্ট বিমান বন্দর হলেও এখানে মোট ৬টি লাগেজ বেল্ট রয়েছে। ফলে খুব দ্রুত লাগেজ সংগ্রহ করা যায়। আপনি নিজে লাগেজ বহন করতে না চাইলে কুলী ( Porter) এর সাহায্য নিতে পারিন। সে ক্ষেত্রে প্রতিটি ব্যাগের জন্য আপনাকে ৫০ রুপী করে পরিশোধ করতে হবে।
লাগেজ সংগ্রহ হয়ে গেলে এবার বের হবার পালা। বিদেশী যাত্রীদেরকে কাস্টমস তেমন কিছু চেক করে না। বাইরে এসে মুদ্রা রুপান্তরের অনেকগুলো কাউন্টার পাবেন। এখান থেকে আপনি শ্রীলংকার মুদ্রা নিয়ে নিতে পারেন। এছাড়া এখানে ট্যাক্সি/ক্যাব, ট্রেনের কাউন্টার আছে। আছে মোবাইলের সিম বিক্রির কাউন্টার। এখান থেকে শ্রীলংকার যে কোন একটা সিম নিয়ে নিতে পারেন।

ক্যাবে কলম্বো পর্যন্ত যেতে ভাড়া রাখতে পারে ২৪০০ রুপী। আর যদি ট্রেনে যান তাহলে পড়বে ৫০০ রুপী। আর যারা আরো কমে যেতে চান তারা টার্মিনালের বাইরে অপেক্ষা করতে পারেন। বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষের বাস আছে। এই বাসে নিকটবর্তী বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত আপনাকে নিয়ে যাবে । কোন ভাড়া নেবে না। সেখান থেকে বাসে চড়ে আপনি কলম্বো চলে যেতে পারবেন। এসি বাসে কলম্বো যেতে ১০০ রুপীর বেশী লাগে না।

এয়ারপোর্টটি যে জায়গায় অবস্থিত তার নাম katunayake. এখানে থেকে যেতে হনে Negombo Road প্রায় ২ কিমি । এই রোডে যেতে যেতে পড়বে seeduwa, Ja-Ela, Wattala, Peliyagoda ইত্যাদি জায়গা।

আপনি ইচ্ছে করলেই যে কোন মানুষের সাথে ইংরেজিতে কথা বলতে পারবেন। কারণ এদেশের মানুষ অনেক শিক্ষিত আর তারা ভালো ইংরেজি জানে। এদেশের প্রধান ভাষা সিনহালা আর তামিল। তবে ইংরেজির ভাষার রয়েছে ব্যাপক প্রাধান্য।

ক্যাবে করে কলম্বো যেতে যেতে আপনি দেখতে পাবেন এদেশে কোন রিক্সা নেই। আছে তিন চাকার অটো। এগুলো তেলে চলে । কেননা এদেশে বাংলাদেশের মতো গ্যাস নেই। রাস্তার সাইন বোর্ডগুলো দেখতে থাকুন। বেশীর ভাগই ইংরেজিতে লেখা। তবে কোন কোন টাতে আবার তিনটা ভাষায়ও লেখা থাকতে পারে।


কলম্বো-১ এর একটি দৃশ্য

কলম্বো শহরে প্রবেশ করতে হবে আপনাকে একটি ব্রিজের উপর দিয়ে । এখানে প্রায় পাশাপাশি ৩ টি ব্রিজ রয়েছে। ১ টি ট্রেনের জন্য আর ২ টি অন্যান্য পরিবহনের জন্য। নদীর নাম কেলানী (kelani river)। কলম্বো শহরের ৮০% পানি এই নদী থেকে সরবরাহ করা হয়।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুলাই, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৪৩
৫টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×