somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক জন মিঃ তিলকাসেনা , বাংলা ভাষা ও আমি

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১২ দুপুর ১:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অক্টোবরের এক অলস দুপুরে এক ভদ্র লোক অফিসে এসে আমাকে খোঁজ করছেন? বলেছেন, বেশ দূর থেকে এসেছেন। একটি জটিল সমস্যার সমাধানের জন্য।

আমি তো অবাক। কেননা এই শ্রীলংকাতে এমনকি এই কলম্বো শহরে আমার পরিচিত জনের গন্ডী অনেক অনেক সীমিত। যাদের সাথে কাজ করি তারা মানে সহকর্মীরা ছাড়া আমার পরিচিত গন্ডী নেই বললেই চলে। কে আমাকে খোঁজতে আসবে। তা ছাড়া আমি তেমন কোন বড় চাকরিও করি না যে আমার দ্বারা কোন মানুষের উপকার হতে পারে।

আমি দ্রুত আমার রুম থেকে নীচে নেমে গেলাম ওয়েটিং রুমে। গিয়ে দেখি বয়স্ক এক জন ভদ্র লোক। চুল পাকা ধবধবে সাদা। পরনে হাফ হাতা শার্ট। হাতে কিছু খাতাপত্র। চোখে একটা মোটা ফ্রেমের চশমা। দেখেই মনে হয় পড়াশোনার প্রতি তার খুব ঝোঁক রয়েছে। ভদ্রলোক শ্রীলংকান। কিন্তু আমাকে কেন খোঁজ করবেন? আমি কারো সাতেও থাকি না। পঁচেও নয়। তার উপর আবার শ্রীলংকান ভদ্রলোক। তবে কি কোন জটিল সমস্যা?

দুই হাত জোর করে অভিবাদন জানালেন- Ayubowan! (এর বাংলা অনেকটা এই রকম – আপনি দীর্ঘ জীবি হোন/ ( wish you live long life) (আপনার আয়ু বৃদ্ধি হোক )।
আমিও প্রত্যুত্তরে বললাম- Ayubowan! How can I help you?) আমি কি ভাবে আপনাকে সাহায্য করতে পারি?

তারপর তিনি যা বললেন তা খুবই মজার। তিনি এক জন শ্রীলংকান হলেও তার বাংলার প্রতি আগ্রহ জন্মেছে। খুব শখ হয়েছে বাংলা ভাষা শেখার। তাই বাংলা যার মাতৃভাষা এমন লোক খুঁজছিলেন। আর পেয়েও গেলেন আমাকে। কেউ এক জন হয়তো আমার কথা তাকে বলেছিলেন। তারই সূত্র ধরে আমার কাছে তার আগমন।

মি: তিলকাসেনার বয়স ৬০/৬৫ পেরিয়ে গেছে অনেক আগেই। তবে অনেক বেশী বয়স হলেও হাঁটাচলা করতে পারেন পরিপূর্ণ মানুষের মতোই। এই দেশে খাবার-দাবারে ভেজাল না থাকাই তার এই ভাল স্বাস্থ্যের কারণ বলে এক সময় জানতে পেরেছি। এখানে বিক্রেতারা অসৎ নন। তাই দাম বেশী নিলেও ভেজাল দেয়া হয় না। বৌদ্ধের আদর্শ ছিল অহিংসার । সেই আদর্শের কারণে মানুষ খুব বেশী অসৎ নয়। ২৬০০ বছর পরও এরা বৌদ্ধের আদর্শ ধরে রেখেছে।

মিঃ তিলকাসেনা থাকেন কলম্বো শহরের খুব কাছেই। এক সময় শ্রীলংকার সরকারী শিা বিভাগে চাকরি করতেন। অনেক ব্যস্ত সময় আর বাঁধাধরা কাজের ঝামেলা পেরিয়ে এখন অবসরে আছেন। হাতে অনেক অনেক সময়। তার শখ লেখালেখি করা। সৃষ্টিশীল লেখালেখি (তার নিজের কথায় - ঈৎবধঃরাব ডৎরঃরহমং ) তার অনেক প্রিয় একটি বিষয়। কার কাছে যেন খবর পেয়েেেছন আমি বাংলাদেশের মানুষ। বাংলা আমার ভাষা। তাই ঠিকানা যোগাড় করে ছুটে এসেছেন আমার কাছে। বাংলা ভাষা বিষযক কিছু সমস্যার সমাধান তার অনেক জরুরী । আমি পড়লাম মহা ঝামেলায়। ছাত্র হিসেবে আমি খুব একটা ভাল ছিলাম না কখনোই। নিজেই যেখানে তেমন কিছুই জানি ন্ াতাই অন্যকে শেখানো আমার জন্য একটু কষ্টকর তো বটেই।


প্রাথমিক আলাপচারিতার পর জানালেন যে বাংলা ভাষা নিয়ে তার অনেক আগ্রহ আছে। এই ভাষা তিনি শিখতে চান।

আমি বললাম, আমার তো মনে হচ্ছে আপনি কিঞ্চিত বাংলা জানেন। আমার ধারণা কি ঠিক?

হ্যাঁ। আমি কিছু বাংলা জানি । অনেকটা নিজের চেষ্টাতেই শিখেছি।
কি ভাবে শিখলেন?
বলতে পার নিজের চেষ্টাতেই। তবে বলার মতো কাউকে না পাওয়াতে অনূশীলনটা ঠিক হচ্ছে না। অনূশীলন ছাড়া তো ভাষা চর্চা পূর্ণাঙ্গ হয় না।

আপনি সঠিক বলেছেন। এই আমাকেই ধরুন। এতো বছর ধরে শ্রীলংকাতে আছি আজ পর্যন্ত সিনহালা ভাষাটা মোটেও শিখতে পারলাম না।

আপনাদের সিনহালা ভাষায় স্বরবর্ণ ১৬ টি আর ব্যাঞ্জণ বর্ণ ৪২ টি? আমি কি ঠিক?

হ্যাঁ। তবে বর্ণগুলো যুক্ত করলে আরো বাড়বে। তাই সরাসরি আমরা বলি না যে আমাদের ভাষায় ৫৬ কিংবা ৫৮ টি বর্ণ আছে। এটা অনেকটা একাট অমিমাংসিত বিষয়।

আমাদের বাংলা ভাষার ও ঠিক একই অবস্থা। ১১ টি স্বরবর্ণ আর ৩৯ টি ব্যাঞ্জণ বর্ণ নিয়ে কি যে কান্ড আমাদের! তবে বর্ণগুলো যুক্ত করলে যে চিত্র টা আসে তার সাথে মূল অরগুলোর তেমন কোন মিল পাবেন না আপনি।

আসলে আমাদের উভয় ভাষারই উৎপত্তি মূলত ব্রাহ্মী লিপি থেকে। তাই কিছুটা মিল তো থাকবেই। তবে তোমাদের বাংলা ভাষাটা মাঝে মাঝে আমার কাছে একটু জটিল বলে মনে হয়। বিশেষ করে কাল ( টেন্স) এর ব্যাপারগুলো। আমি বুঝতে পারছি না নীচের কথাগুলোর বাংলা কি হবে? তুমি কি আমাকে এব্যাপারে একটু সাহায্য করতে পার?
.. I go
. I went
. I shall go
. I eat
. I ate
. I shall eat.


আমি বললাম, মিঃ তিলকাসেনা, প্রত্যেকটি ভাষারই কিছু নিজস্ব রীতি আছে। যেমন আপনাদের সিংহালা ভাষার নিয়ম আমার কাছে খুব কঠিন লাগে। তেমনি আমার বাংলা ভাষার কিছু নিয়মও আপনার কাছে কঠিন মনে হতে পারে। তবে আপনি যদি মাঝে মাঝে আমার কাছে আসেন আমি আপনাকে বেশ কিছু জিনিস শিখিয়ে দিতে পারব। যদিও আমার পডাশোনা বাংলা সাহিত্য নিয়ে নয়। আমি পড়াশোনা করেছি কৃষি বিজ্ঞান নিয়ে। আমি কৃষিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়েছি।

তিলকাসেনা বললেন – মিঃ হোসেন, তোমাদের ভাষায় তো সাধু ভাষা আর চলিত ভাষা বলে একটা জিনিস আছে। এটা কি ঠিক?

আমি আশ্চর্য হলাম। এরই মাঝে তিনি সাধু আর চলিত ভাষার ব্যাপারটিও জেনে গেছেন।

বললাম, হ্যাঁ, বাংলা ভাষায় সাধু ভাষা আর চলিত ভাষার একটি ব্যাপার আছে। তবে এটি নিয়ে ভাবনার কিছু নেই।

তিনি বললেন - আমি ভাত খাই এর সাধু ভাষা কি হবে?

আমি বললাম, ব্যাপারটি কিছু টা জটিল । ক্রিয়াপদে তৎসম শব্দের ব্যবহার হলেই সাধু ভাষার রূপটা প্রকাশ পায় । যেমন - আমি খাই এটার সাধুরূপও যা চলিত রূপও তা। আমি যদি তৎসম শব্দ প্রয়োগ করি তাহলে এটার ভাল একটা সাধু রূপ হতে পারে।

যেমন আমি খাই > আমি ভণ করি।
আমি দেখি > আমি দর্শন করি।
আমি শুনি > আমি শ্রবণ করি।

মিঃ তিলকাসেনা কিছুটা হতাশ হলেন। আমি বললাম, হতাশ হবার কোন কারণ নেই। সাধু ভাষা ছিল অনেক আগের দিনের অভিজাত শ্রেণীর ভাষা। বঙ্কিম, ঈশ্বরচন্দ্র , শরৎচন্দ্র এরা এই ভাষায় সাহিত্য চর্চা করতেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই ভাষায় সাহিত্য চর্চা করলেও প্রমথ চৌধুরীর আহবানে তিনিও চলিত ভাষায় সাহিত্য চর্চা করেছিলেন। তবে এখনো বাংলাদেশে কিছু কিছু অফিসের চিঠিপত্রে এবং জমির দলিলে সাধু ভাষার প্রয়োগ দেখা যায়। এ ছাড়া সাধু ভাষার প্রয়োগ নেই বললেই চলে। ২০০১ সালের পর অনেক পুরাতন দৈনিক পত্রিকা দৈনিক ইত্তেফাকও এখন আর সাধু ভাষা ব্যবহার করে না। ইত্তেফাকের কেবল সম্পাদকীয় কলামটি এখন সাধু ভাষায় রচিত হয়।
--------
মিঃ তিলকা সেনা বললেন, তাহলে সাধু ভাষা আলাদা করে শেখার কোন দরকার নেই।
আমি বললাম, কোন প্রয়োজনই নেই। আপনি বাংলা যদি ভাল শিখতে পারেন এক সময় নিজেই সাধু ভাষা বুঝতে পারবেন।
মিঃ তিলকাসেনা মনে হয় খুব খুশী হলেন।
বললেন, তাহলে আমাকে নিচের বাক্যগুলোর বাংলা শেখাও।

মি: তিলকাসেনা যে বাক্যগুলো আমার কাছে শিখতে চেয়েছিলেন তা হলঃ

১। আমি ভাত খাই । (এটা দিয়ে তিনি আরো ১০০ বাক্য বানাতে পারবেন- আমি মাছ খাই, আমি রুটি খাই ইত্যাদি )
২। আমি ভাত খেয়েছিলাম।
৩। আমি ভাত খাব।
৪। আমি বিদ্যালয়ে যাই।
৫। আমি বিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম।
৬। আমি বিদ্যালয়ে যাব।

এরই ফাকে মিঃ তিলকাসেনা জিজ্ঞেস করলেন - আমি ভাত খাব এর সাধু রূপ কি হবে? আমি বুঝতে পারলাম না অবসরপ্রাপ্ত এই শ্রীলংকান ভদ্রলোক সাধু আর চলিত ভাষার প্রয়োগ নিয়ে কেন এতো আগ্রহ দেখাচ্ছেন? আসলেই তো আমি ভাত খাব এর সাধু ভাষার রূপটা কি হবে---- আমি ভাত খাইব > আমি অন্ন ধ্বংস করিব > আমি অন্ন আহার করিব। বুঝলাম, আমি বাংলা ভাষার মানুষ হয়েও বাংলা খুব একটা পারি না। কিন্তু এ কথা তো আর তাকে বলতে পারি না।

তাকে বাংলা শেখানোর ব্যাপারে আমার আগ্রহ দেখে তিনি খুব খুশী হলেন। যাবার সময়ে আমার মোবাইল নম্বর নিয়ে গেলেন। আমি বললাম আপনার নম্বরটা আমার কাছে থাকলে আমিও মাঝে মাঝে আপনার খোঁজ নিতে পারতাম। কত দূর বাংলা শিখতে পারলেন বুঝতে পারতাম।

মিঃ তিলকাসেনা বললেন- আমি মোবাইল পছন্দ করি না। মোবাইল জীবনকে কৃত্রিম করে । আমি সব ধরনের কৃত্রিমতা থেকে দূরে থাকতে চাই। তাই আমি কখনো মোবাইল ব্যবহার করিনি। কখনো ব্যবহার করতেও চাই না।

প্রাকৃতিক পরিবেশ আর প্রাকৃতিক জীবন তার অনেক পছন্দ। কৃত্রিমতা থেকে যত দূরে থাকা যাবে ততই শান্তি। সব মানুষই শান্তি চায়। মিঃ তিলকাসেনা শান্তি চান।

যাবার আগে আবারো দুই হাত জোর করে অভিবাদন জানালেন- Ayubowan! ! আগামী সোমবার আবার আসব। অনেক জটিল সমস্যার সমাধান করা দরকার।

আগামী সোমবার মিঃ তিলকাসেনা আবার আসবেন। বাংলা শিখবেন। সাধু আর চলিত ভাষা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন। মিঃ তিলকাসেনা কিভাবে যেন বুঝতে পেরেছেন, বাংলা অনেক সুন্দর একটি ভাষা।



আমি অপেক্ষায় ছিলাম সোম বারের জন্য । আবার এসে তিনি ভাষার কোন সমস্যা নিয়ে আসেন। আমার বাংলা ভাষা জ্ঞান খুব বেশী নয়। যদিও আমার মাতৃভাষা বাংলা। ইংরেজি ভাষাও যে খুব বুঝি তাও নয়। যে ভাষায় সেই বাল্যকাল থেকে কথা বলছি সেই ভাষাই ভাল করে শিখতে পারলাম না আজ পর্যন্ত। সেই আমাকেই ভাষার শেখার শিক মনে করছেন মিঃ তিলকা সেনা।


সোম বার এলেন না। এমন কি পরের সোমবারও না। এক সময় আমি হয়তো ভুলেও যেতাম। হঠাৎ একদিন দেখি এসে হাজির। তার এবারকার সমস্যা কতিপয় নাম নিয়ে।

Vishwa- বিশ্ব
Apu- অপু
Opu- অপু
Vimal – বিমল
সহজ কথায় বলতে গেলে বিমলকে কেন কেন ইংরেজিতে ভিমল লেখা হল। অপুর উচ্চারণ কি হবে এই সব।

যৌবনে একবার ভারত ভ্রমণ করেছিলেন। পড়াশোনা করেছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কলেজে। ১৯৫৪থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত।

বললেন- সেই সময় তুমি জন্মগ্রহণও করোনি।

কলকাতার এক ভদ্রলোকের কাছে পথের পাঁচালী ছবির নাম শুনে সেটি দেখেও ছিলেন। সেই দেখে অপু আর দুর্গা র ব্যাপারে তার আগ্রহ জন্মে। পথের পাঁচালী একটি অসাধারণ ছবি। মূল বই টি না জানি কত আকর্ষণীয়! তবে ভাষা জানা না থাকাতে মূল বইটি তার পড়া হয়নি। তবে ইংরেজি অনুবাদ পড়েছেন। সত্যজিত রায়ের আরো ছবি তিনি উপভোগ করেছেন।

বিখ্যাত ইংরেজ সাহিত্যিক Arthur C. Clarke তার নিজ দেশ ইংল্যান্ড ছেড়ে শ্রীলংকাতে বসবাস করতেন। ১৯ মার্চ ২০০৮ এ ৯০ বছর বয়সে তিনি কলম্বোতে মৃত্যুবরণ করেন। অসাধারণ একটি দেশের আকর্ষণে তিনি এদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। সেই দেশের নাগরিক তিলকাসেনা । তার মধ্যে একটু বৈচিত্র থাকা তো বিচিত্র কিছু নয়।


জুলাই মাস এসে যাচ্ছে। এখনো বাজারে রাম্বুটান আসছে না।

আমার আড়াই বছরের মেয়ে প্রায়ই বলে – বাবা, রাম্বুটান এনো।

আমি সব সময় দোকানে দোকানে চোখ রাখি। যদি কখনো কোথাও রাম্বুটান পাই । ২০১০ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসা রাজপথের সব দোকান উঠিয়ে দিয়েছেন। ফলে যেখানে সেখানে দোকান আর নেই। তাই আমার কাঙ্তি রাম্বুটান খোঁজতে হচ্ছে অনেক কষ্টে।


গুলিস্তানের মতো এদেশে একটি জায়গা রয়েছে তার নাম পেটা। একে আবার ফোর্ট বলেও ডাকা হয়। সেখানে হকারদের জন্য শেড নির্মাণ করে দিয়েছে কর্তৃপ। সেখানে গিয়ে এক দিন দেখি বেশ কয়েকজন দোকানী রাম্বুটানের পসরা সাজিয়ে বসেছে। দেখে কি যে ভাল লাগল। কাছে এগিয়ে গেলাম। দেখতে খারাপ নয়। তবে দাম গত বছরের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশী। হঠাৎ তাকিয়ে দেখি – তিলকাসেনা! চ কে উঠলাম আমি।

কাছে এগিয়ে গেলাম। না , । দেখতে একরকম হলেও ইনি তিলকাসেনা নন। ঠিক করলাম – যে ফোন নম্বরটি আমার কাছে আছে তাতে ফোন করব।


ফোন পেয়ে মহাখুশী হলেন। অনেক আলাপের পর বললেন- বাংলা ভাষার আরো কটি সমস্যার সমাধান পেতে খুব তাড়াতাড়ি আবার আসবেন। ততে এই বার একটি চমক থাকবে। তার নিজের লেখা বইয়ের ইংরেজি সংস্করণের একটি কপি নিয়ে আসবেন আমাকে উপহার দেবার জন্য।

৯ম দশম শ্রেণীতে পড়ার সময় বাংলা প্রথম পত্রে ৫০ নম্বর পেতে জান বেরিয়ে যেত। স্যারেরা বলতেন, বাংলায় কেউ কখনোই লেটার (মানে ৮০% নম্বর) পায় না। সেই থেকে বাংলা ১ম পত্রের উপর ভয় না অবজ্ঞা ঢুকে গিয়েছিল বুঝতে পারিনি । অথচ বাংলা ভাষা একটি অসাধারণ ভাষা।


আমি এখন অধীর আগ্রহে অপো করছি এই বয়স্ক অথচ মনে প্রাণে তরুণ এই শ্রীলংকান ভদ্রলোকের জন্য । তিনি আমার জন্য একটি বই নিয়ে আসবেন। আমার খুব দেখতে ইচ্ছে করছে কি আছে সেই বইয়ে।

আগামী সোমবার মিঃ তিলকাসেনা আবার আসবেন। বাংলা শিখবেন। সাধু আর চলিত ভাষা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন। মিঃ তিলকাসেনা কি ভাবে যেন বুঝতে পেরেছেন, বাংলা অনেক সুন্দর আর অসাধারণ একটি ভাষা। যেই ভাষার জন্য মানুষ জীবন দিতে পারে সেই ভাষা অনেক সুন্দর মিঃ তিলকাসেনা সেটি ঠিকই বুঝতে পেরেছিলেন।


সর্বশেষ এডিট : ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১২ দুপুর ২:৫৮
৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×