আমার বাবা-মা দুজনেই উত্তম-সুচিত্রার ব্যাপক ভক্ত ছিলেন। আর আমি ছিলাম টিভির পোকা টিভিতে যা চলতো তাই আমি হা করে বসে গিলতাম। অনেক পুরোনো ভারতীয় বাংলা সিনেমাই তাই আমার ততোধিক বার দেখা হয়েছে। তারমধ্যে থেকেই কয়েক টা আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাই।
নায়ক(উত্তম কুমার/শর্মিলা ঠাকুর):
সত্যজিৎ এর সিনেমা। একটা ট্রেন জার্নিতেই পুরো সিনেমা, সাথে এক সেলিব্রিটির স্মৃতিচারণ। অসাধারন মেকিং। আর উত্তম কুমারের অসাধারন অভিনয়।
সিনেমা প্রেমীদের অবশ্য দেখনীয়
জতুগৃহ(উত্তম কুমার):
বিচ্ছেদ হয়ে যাওয়া এক দম্পতির দীর্ঘ সাত বছর পর ট্রেন স্টেশনের ওয়েটিং রুমে দেখা হয়--ততদিনে তারা দুজনেই আবার সংসারী, তাদের আবেগ-অনুভুতি, স্মৃতিচারণ,বর্তমানের চোখে অতীত এসবের এক চমৎকার চিত্রায়ন।
এই সিনেমার শেষ দৃশ্যটা আমার মনে খুব দাগ কেটেছিলো দুজনে স্টেশনে একসাথে চা খায়, তারা চলেযাবার পর কাপদুটো পাশাপাৈ পরে থাকে কিন্তু বেয়ারা কাপধুয়ে রাখার সময় কাপ দুটো স্ট্যান্ডের দু ধারে রাখে কারন মাঝের হুকগুলো আগেই ভর্তি ছিলো। হয়তো তেমন কিছুনা কিন্তু যখন দেখেছিলাম দাগকেটেছিলো।
এটা সম্ভবত কোন বিখ্যাত উপন্যাসের চলচ্চিত্রায়ন, ফারুকীর এই ঘটনা নিয়ে বানানো দুটো নাটক আছে, একটা অনেক পুরোনো তখনো ফারুকী এত হিট না সেই নাটকটা নাম ওয়েটিংরুম (খালেদ খান) আসলেই একটা ভালো নাটক মনে হয়েছিলো আমার, বছর দুই আগে ফারুকীই আবার রিমেক করে ওয়েটিংরুম সেইটা আমার কাছে রাবিশ মনে হইছে।
গৃহদাহ (উত্তম/সূচিত্রা):
শরৎচন্দ্রের গৃহদাহ উপন্যাসের চলচ্চিত্রায়ন। এই উপন্যাসটাই আমার খুব প্রিয়-- অচলা--মানুষের মনের দ্বিধাদ্বন্দ,দোদুল্যমনতা, উদারতা সংকীর্নতা, ভালোবাসা বা না বাসা, মোট কথা এমন টাল-টামাল অবস্থা আর কোন উপন্যাসের চরিত্রে কি এভাবে ফুটে ওঠেছে?
উত্তম-সুচিত্রা এবং সুরেশ চরিত্রে যে অভিনয় করেছে তিনজনই অসাধারন অভিনয় করেছে এই সিনেমায়।
দেবদাস-পরিণীতা না রিমেক আসলে গৃহদাহর ই হওয়া উচিৎ ছিলো।
চৌরঙ্গী(উত্তম কুমার/উৎপল দত্ত/অন্জনা ভৌমিক/সুপ্রিয়া দেবী /বিশ্বজিৎ):
শংকরের বিখ্যাত উপন্যাস চৌরঙ্গী থেকে সিনেমা টা বানানো, বিশাল উপন্যাসের সব ঘটনাই সিনেমায় রাখা সম্ভব হয়নি তবুও এটার আবেদন একটুও কমেনি।
হোটেল চৌরঙ্গীর স্টাফ এবং হোটেলে আগত অতিথীদের বর্নিল জীবন নিয়েই সিনেমার কাহিনী আবর্তিত।
ভ্রান্তি বিলাস
কমেডী, ১০০% কমেডী।
আমার তো মনে হয় একজন উত্তম কুমার অথবা ভানুই দর্শক ধরে রাখার জন্য যথেষ্ট আর এই সিনেমায় আছে এক জোড়া উত্তম কুমার আর একজোড়া ভানু।
নায়িকা সংবাদ(উত্তম কুমার/অন্জনা ভৌমিক):
প্রেমের সিনেমা।
চাওয়া-পাওয়া(উত্তম/সুচিত্রা):
রোমান্টিক ছবি।
এই সিনেমাটা দেখে আমার মনে হয়েছিলো আজকালকার পোলাপাইন রোমান্টিক অভিনয় করতেই পারে না।
শপ্তপদী(উত্তম/সুচিত্রা):
যুদ্ধের ছবি অথবা চিরন্তন ভালোবাসার ছবি; উত্তম-সুচিত্রা জুটির আরেকটি অসাধারন ছবি অথবা শুধুই কৃষ্নেন্দুআর রীণা ব্রাউনের ছবি।
যমালয়ে জ্যান্ত মানুষ(ভানু):
সবগুলো দাত বের করে সব রকম হাসিই হাসবেন সিনেমাটা দেখে
৮০ তে আসিও না(ভানু):
যদি হঠাৎ আপনার বয়ষ ৬২ থেকে ২৬ হয়ে যায় আর আপনার স্ত্রী-সন্তানদের বয়ষ ঠিকি থাকে আপনার সন্তানদের বয়ষ যখন আপনার চেয়ে বেশি ! কি হবে?
হারানো সুর(উত্তম/সুচিত্রা):
সম্পুর্ণ প্রেমের ছবি
সেই বিখ্যাত গান তুমি যে আমার ওগো তুমি যে আমার এর সিনেমা।
সাত পাকে বাধা(সৌমিত্র-সুচিত্রা):
প্রেম-প্রেমের বিয়ে এবং বিবাহোত্তর সম্পর্কের টানপোরনের ছবি
সাড়ে চুয়াত্তর(উত্তম-সুচিত্রা):
রোমান্টিক কমেডি
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১০:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


