বৃষ্টি সব সময় আমাকে অন্যরকম করে দেয়।
কখনো আনমনা করে, কখনো দুঃখি, খনো হঠাৎ উচ্ছল, কখনো বিমর্ষ হতাশ বা অন্যকোন অনুভূতি।
তবে সবচেয়ে বেশি বোধয় অলস করে। এক কাপ আগুন গরম চা অথবা কফি, একটা গল্পের বই অথবা শুধু গান শোনা এবং স্মৃতি রোমান্থন করা, ও আচ্ছা বলতে ভুলে গেছি বৃষ্টি আমাকে স্মৃতিকাতর ও করে।
নাহ্, কোন বৃষ্টির দিনে দমকা হাওয়া হাতের রঙ্গীন ছাতা উড়িয়ে কোন নায়ক বা খল নায়কের কাছে ফেলেনি, তবে হ্যা অনেকবারি ছাতা আমার হাতে উল্টেগেছে আমার আমাকে বিনা আয়োজনে বৃষ্টিতে ভিজতে হয়েছে, কোন হঠাৎ বৃষ্টিতে কোন দোকানের শেডে দাড়িয়ে কোন সুদর্শনের সাথে চোখাচোখিও হয়নি তবু বৃষ্টি আমাকে রোমান্টিক করে তোলে, বৃষ্টি নিয়ে রোমান্টিসিজম বাঙালী মধ্যবিত্ত বোধয় উত্তরাধিকার সুত্রেই পেয়ে যায়।
আমার বয়স তখন কয়েক মাস, আমাদের বাসার চালে অনেক ফুটা ছিলো, বাড়িওয়ালা ঠিক করে দিচ্ছি, দেব করছিলো তখনো ঠিক হয়ে ওঠেনি, সেই সময় নাকি একদিন শিলা বৃষ্টি হয়েছিলো, মুড়ির আকৃতির শিলা আমাদের ঘরে চলে আসছিলো, আমার মা আমাকে নিয়ে রান্না ঘরে বসে ভয়ে কাপছিলো........
আমাদের বাসায় যখন ফ্রিজ আনলো আমি খুব খুশি ছিলাম ইচ্ছেমতন শিল খেতে পারবো ভেবে তবে বরফ আসলে বরফ ই বরফে শিলের মজা পাইনি।
স্কুল লাইফে বৃষ্ট নামলে মনে মনে প্রার্থনা করতাম বৃষ্টি যেন ছুটি পর্যন্ত কনটিনিউ করে তাহলে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে বাড়ি ফিরবো।
বর্ষায় মামাবাড়ি গেলে বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করতাম, বৃষ্টি নামলে ছোট মামা নোকায় করে বৃষ্টিতে ভেজাত, আমি আর ছোটমামা একসাথে বৃষ্টিতে ভিজতাম।
বৃহঃস্পতি বার রাতে চাইতাম ভোররাতে বৃষ্টি হোক, আরাম করে ঘুমুবো, শুক্রবার সকালে উঠতে হবে না, বৃষ্টিগুলো বৃহ:স্পতিবারে হোতো না, আফসোস।
ছোটবেলায় যেমন বৃষ্টি নামলেই ছুটে বেরিয়ে যেতাম এক্টু বড় হবার পর আর সেই স্বাধিনতা ছিলো না তখন বারান্দার রেলিঙ ধরে দাঁড়িয়ে থাকতাম, বৃষ্টির ছাট এসে ভিঁজিয়ে দেবে, হাত বারিয়ে বৃষ্টি ধরতাম, তখন মাঝে মাঝেই কান্না পেত, কি এক অভিমানে বুক ভরে যেত, মনে হোতো কেউ কেন আমাকে বোঝে না........
আমি যেন কত বুঝি আমাকে বা অন্যদের কে........
আমার এই জীবনে আমি কাউকেই বুঝতে পারিনি হয়তো চেষ্টাও করিনি কেউ আমাকেও বোঝেনি হয়তো বুঝতে চেষ্টা করার মতন যথেষ্ট ইন্টারেস্টিং চরিত্র আমি ছিলাম না।
একটানা কয়েকদিন বৃষ্টি হলে মন টা কেমন স্যাতস্যাতে হয়ে যেত, কিছু ভালো লাগতো না, এখনো ভালো লাগে না মেজাজ খারাপ হয়ে যায় কাপর-চোপর শুকোয় না, ঘর ড্যাম হয়ে থাকে, ধুত্তোর।
একসময় খুব আয়োজন করে বৃষ্টি উপভোগ করতাম, বৃষ্টির গান দিয়ে প্লে লিস্ট বানিয়ে রাখতাম বৃষ্টিতে শোনার জন্য, বর্ষা মানে জারুল অথবা কদম ছিলো এখন বৃষ্টি মানে বিরক্তি, কাপড় শুকোনোর জন্য ঘরের ভেতর দড়ির জন্জাল, দফায় দফায় চায়ের চালান দাও, মুড়ি মাখো, ছানাপনা দের খিচুরীর বায়না, আধভেজা হয়ে অফিস কর.......
তবুও আজ ঝুম বৃষ্টিতে তোদের মনে পরে, আমরা ছ'জন সেই উথাল পাথাল বৃষ্টিতে ভিজেছিলাম একসাথে,হয়তো কেউ কেউ একসাথে স্বপ্ন দেখেছিলাম, আজ তারা কে কোথায়................
(পাঠক আপ্নারা লিখুন, পুরোটা না হলেও কিছুটা লিখুন অন্য একজন শেষ করবে, কি হয়েছিলো , কারা বৃষ্টিতে ভিজেছিলো, তারা কে কোথায়)
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুন, ২০০৯ সকাল ১১:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



