ওই আস্তে। ব্লগ আবার আইলাইছে আজাইরা প্যাচালে। আর তাই পোলাপাইনগো মাথা ঠান্ডা করনের লাইগা এইটা চিন্তনীয় টপিক এ এই পোষ্ট-
প্রখ্যাত ভূতত্ত্ববিদ ও জীববিদ ইভান স্যান্তারসন ‘কেট’ ম্যাগাজিনে এক সায়েন্টিকিক আর্টিকেলে লিখেছিলেন, পৃথিবীতে এমন কিছু জায়গা আছে যেখানে নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র তেমন একটা কাজ করে না। ফলে এই এলাকা গুলোতে অদ্ভুদ ও অব্যাখ্যাত সব ব্যাপার ঘটতে দেখা যায়। মেন, এখানে কাজ করে না কম্পাস। জিনিসি পত্রের ওজন হয় ভিন্ন। এখানে পড়ে থাকা ভারি কোন বস্তুকে সরাতে বা উঠাতে গেলে আনুপাতিত হারে কম শক্তির প্রয়োজন হয় ইত্যাদি ইত্যাদি।
এই রহস্যময় অদ্ভুদ জায়গাগুলোর নাম দিয়েছেন তিনি ‘ভোরটেক্স’। ভোরটেক্স অর্থ ঘুর্ণিপাক। সাধারণত ঘুর্ণিপাক পানিরই হয়। তবে স্যান্ডারসনের এই ঘুর্ণিপাক পানির নয় চেতনার। সন্দেহ নেই, জায়গা গুলোর মতো এর সনামটাও অদ্ভুদ। অবশ্য বিজ্ঞানী ব্রাড স্টেইজার এই রহস্যময় জায়গাগুলোকে অভিহিত করেছেন ‘উইনডো এরিয়া’ বলে। উইন্ডো এরিয়াই হোক আর ভোরটেক্সই হোক বিজ্ঞানীরা দিনের পর দিন এই জায়গা গুলোর অস্বাভাবিকত্ব আর অসামঞ্জস্যতা নিয়ে গবেষণা করেছেন। এই গবেষকদের মধ্যে সাইকোলহিস্ট ডঃ স্টেনলি কিপার একজন। ‘সাইকোলজি টুডে’ নামক একটি প্রবন্ধ ভোরটেক্স সমন্ধে তিনি লিখেছেন, ‘এই এলাকাগুলোয় ঢুকলে মানুষ আর প্রাণীর মধ্যে একটা ব্যাপক আচরণগত পার্থক্য দেখা দেয়। অনেক সুস্থ, স্বাভাবিক মানুষকে এখানে এসে উদ্ভট ও অস্বাভাবিক সব আচরণ করতে দেখেছি আমি। এখানে পা রাখা মাত্র কোন মানুষেরই মনে হবে যে সে ভিন্ন এক চেতনার জগতে গিয়ে হাজির হয়েছে।’ সন্দেহ নেই এসব কারণেই বিজ্ঞানীরা তাকে ‘চেতনার ঘুণিপাক’ বা ভোরটেক্স বলেন এবং একই কারণে আবার কেউ এলাকা গুলোকে মাইন্ড ব্যালিং জোন (Mind boggling yone) বলেও অভিহিত করে থাকেন। পৃথিবীতে বেশকিছু এ ধরনের রহস্যময় অঞ্চলের সন্ধান পাওয়া গেছে। যেখানে মহাকর্ষ সুত্র প্রায় অকার্যকর। যেমন ক্যালিফোর্নিয়ার নর্থ শাস্তার অরিজনে এ ধরনের একটি অঞ্চল আছে। বিজ্ঞানীরা যাকে বলেন- ‘অরিজোন ভোরটেক্স।’ বিভ্রম বলে মনে করেছিলেন কিন্তু পরবর্তীতে ব্যাপক গবেষণার পর তাঁরা তাঁদের পূর্ববর্তী ধারণাকে বাতিল করে দিতে বাধ্য হন। তাছাড়া বিভিন্ন ধরনের পরীা-নিরীার সময় তাঁরা এখানে আরো কিছু অদ্ভুদ ব্যাপার প্রত্য করেন যেমন, সমান উচ্চতা সম্পন্ন দুজন লোক এখানে পাশাপাশি দাঁড়ালে সামান্য দূর থেকে উত্তর দিকে ঘষে দাড়ানো লোকটাকে খানিকটা খাটো বলে মনে হয়। ব্যাপারটা অবিশ্বাস্য সন্দেহ নেই তবে বিজ্ঞানীরা এটার ব্যাখা হিসেবে বলেন, একটা শক্তিশালী ম্যাগনেটিক ঘুর্নিাকজ করছে জায়গার ভেতর, যার প্রভাবে ঘটছে এসব। এখানে পানি ঢাললে উপরের দিকে গড়াতে থাকে অথচ পানির ধর্মই হচ্ছে নিচের দিকে গড়িয়ে নামা। এখানে আগুন জ্বাললে কোন কারণ ছাড়াই ধোঁয়া শঙ্খাকারে পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে আকশের দিকে উঠতে থাকে এবং এ ধরনের ঘটনা ভোরটেক্সগুলো ছাড়া পৃথিবীর আর কোথাও ঘটতে দেখা যায় না।
এখানে কোন কম্পাস কাজ করে না। হয় এর দিকে নির্দেশক করে কোন একটা জায়গা স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে এবং আরো আশ্চার্যের ব্যাপার হচ্ছে, পুরো এলাকাটায় কোন জীব-জন্তু বা কীট-পতঙ্গ নেই। একেবারেই বিরাল এমনকি তখনকার আকাশে পর্যন্ত কোন পাখি ওড়েনা কিংবা বলা যায় উড়তে পারে না। সন্দেহ নেই, এক ধরনের ফোর্স ফিল্ড কাজ করছে একানে যার কারণে ঘটছে এতসব ঘটনা। শুধু গোল্ড হীনই নয় এধরনের রহস্যময় জায়গা আরো আছে পৃথিবীতে। যেমন প্রশান্ত মহাসাগরের ‘বাল্ট্রা’ দ্বীপ। এটি ইকুয়েডরের গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জের একটি বিশেষ দ্বীপ। বাল্ট্রা বাদে এখানকার প্রতিটি দ্বীপেই আছে সীলমাছ, ইগুয়ানা দানবীয় কছপ, গিরগিটিসহ বিরল প্রজাতির কিছু পাখি। কিন্তু বাল্ট্রার ব্যাপারটা একেবারেই ভিন্ন। অদ্ভুত এই দ্বীপটায় কোন উদ্ভিদ, প্রাণী বা কীট-পতঙ্গ নেই। পুরোপুরি বিরান। অজ্ঞাত কোন কারণে কখনো বৃষ্টিপাত হতে দেখা যায় না এখানে। অথচ প্রায়ই আশেপাশের দ্বীপ গুলোতে অঝোর ধারায় বৃষ্টি নামে। বাল্ট্রা আর পার্শ্বের দ্বীপ সান্তা ক্রজের মাঝখানে তিনফিট গভীর ও কয়েক ফিট চওড়া একটি খাল আছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্দের সময় এই গ্যালাপাসাস দ্বীপপুঞ্জের কয়েকটা পড়ে দ্বীপে এয়ারবেস স্থান করে ইউ.এস. সরকার। ফ্রেন্সিস ওয়ানার ছিলেন এখানকারই একজন দায়িত্বরত অফিসার। এই দ্বীপপুঞ্জে থাকাকালীন সময় অদ্ভুদ সব ঘটনা আর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন তিনি। যেগুলো পরবর্তীতে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হলে রীতিমতো বিস্ময়ের ঝড় তোলে। তিনি লিখেছেন, জীবনের সবচেয়ে বড় বড় বিস্ময়কর ঘটনা গুলোর মুখোমুখি হয়েছি আমি বাল্ট্রা দ্বীপে গিয়ে। একটা নয় দু'টো ন”য়, একের পর এক অসংখ্যা অবিশ্বাস্য সব ব্যাপার ঘটেছে আমার চোখের সামনে। বিস্ময়ে হতবাক আমি অবাক দৃষ্টিমেলে শুধু দেখেই গেছি এসব, কোন যুক্তিযুক্ত উত্তর বা ব্যাখ্যা খুঁজে পাইনি।
যেমন বৃষ্টিপাতের কথাই ধরুন। একদিন আকাশ কালো করে অঝোর ধারায় বৃষ্টি নামল। গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জের সবগুরো দ্বীপেই মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু চরম আশ্চায়ের ব্যাপার হচ্ছে, বৃষ্টির একটা ফোটা পানিও পড়ল না বাল্ট্রা দ্বীপে।
তারপর অনেকবারই বৃষ্টি দেখার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। প্রতিবারই পাশের দ্বীপ সান্তাক্রুজ থেকে প্রবল বেগে বৃষ্টি ঝরতে ঝরতে ছুটে এসে জলভরা মেঘ কিন্তু পার্শ্ববর্তী খালটা অর্ধেক পেরুনোর পর আর এক ইঞ্চিও এগোয়নি বৃষ্টি। দেখে মনে হচ্ছিল, যেন মাধ্যাকর্ষণ মতা হারিয়েছে দ্বীপটা ফলে এক ফোঁটা পানিও টেনে নামাতে পারেনি আকাশ থেকে। অবশ্য এন্টি গ্রাভিটিশনও এটার কারণ হতে পারে।
‘এই দ্বীপে দিক নির্ণয়ের জন্য কম্পাস বের করে বহুার আহাম্মক বলেছি আমি। কোন কারণ ছাড়াই কেন জানি বনবন করে ঘুরতে থাকে কাটাটা। অবশ্য কখনো কখনো একটা ভূল দিক নির্দেশ করে পুরোপুরি স্থির হয়েও থাকতে দেখেছি কাটাটাকে। শুধু তাই নয় বাল্ট্রার আকাশ সীমা দিয়ে উড়ে যাবার সময় প্লেনের কম্পাসের কাটাও একই ধরনের আচরণ করে। কোন কীটপতঙ্গ বা প্রাণী ভেড়ে না দ্বীপটায়। এমনকি পাখিরাও এড়িয়ে চলে এটার আকাশ সীমা।
বাল্ট্রার পার্শ্ববর্তী খালটায়ও কিছু অদ্ভুদ ব্যাপার ল করেছি আমি। সহজে কোন মাছ, কচ্ছপ বা জলজ প্রাণী ঢুকতে চায় না এটাতে। যদি কারো তাড়া খেয়ে কোনভাবে ঢুকেও পড়ে খালটাতে তাহলে ভুলেও বাল্ট্রা দ্বীপের ধার ঘেষে যাবে না ওটা। যাবে সান্তাক্রজের প্রাপ্ত ছুঁয়ে।
মাথার উপর দিকে ঝাঁকে বেঁধে পাখিদের উড়ে যাবার সময় কিছু অবিশ্বাস্য ব্যাপার ল করেছি আমি। যেমন প্রশান্ত মহাসাগর আর দ্বীপগুলোর উপর দিয়ে উড়তে উড়তে হঠাৎ বাল্ট্রার আকাশে এসে যেন একটা অদৃশ্য দেয়ালে ধাক্কা খায় পাখিগুলো তারপর ভয়ার্তস্বরে কিচিরমিচির করতে উড়ে চলে যায় অন্যদিকে।
যতবারই দ্বীপটায় পা রেখেছি আমি ততবারই একটা অদ্ভুদ মানসিক পরিবর্তন ল করেছি নিজের ভেতর। ওখানে ঢোকামাত্র মাথাটা কেমন যেন ফাঁকা হয়ে যায়। একইভাবে শরীরটাকেও ওজনে অনেক হালকা মনে হয়। মনে হয় বয়স অনেক কমে গেে আমার, সেই সাথে কমে গছে শারীরিক উচ্চতাও। একটা অদ্ভুত ঘোরে মধ্যে বাস করতে থাকি তখন।
খুব বেশিণ দ্বীপটায় থাকলে এই বিচিত্র অনুভূতিটা এমনভাবে জেঁকে বসে মনের ভেতর যে ফিরে আসার পরও সেটার রেশ কাটে না সহজে। তেখ যায় বেশ কিছুদিন। নিজের সীমিত জ্ঞানে যতটুকু বুঝি তাতে মনে হয়, সম্পুর্ন ভিন্ন ধরনের একটা শক্তি কাজ করছে দ্বীপটার ভেতর। যার প্রভাবে ঘটেছে একে পর এক এসব রহস্যময় ও অবিশ্বাস্য ঘটনা।
জ্ঞান বিজ্ঞানের আজ অনেক এগিয়েছে তারপরও এসব অব্যাখ্যাত রহস্যের সমাধান হচ্ছে না কেন, সেটাই বিস্ময়কর। তবে আমি আশাবাদী, একদিন না একদিন এসব রহস্যের সহজ সমাধান দেবে মানুষ।
ফ্রান্সিস ওয়াগনারের মতো আমরাও আশাবাদী নিশ্বয়ই মানুষ একদিন ভেদ করবে এই অদ্ভুদ ভোরটেক্সের রহস্য। সেদিন আমাদের সামনে উন্মুক্ত হবে এক নতুন জ্ঞান দুয়ার। সেই সুদিনের প্রতীায় রইলাম।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



