আমার প্রিয় পোস্ট

সন্দেহে আছি সত্য

২রা অক্টোবর ১৯৭৭: স্বাধীনতার আদর্শ রক্ষায় বাংলাদেশের শেষ সামরিক অভ্যুত্থান

০২ রা অক্টোবর, ২০০৯ রাত ২:৪৫

শেয়ারঃ
0 0 0

আদর্শ শব্দটি ইতিবাচক। তবে আদর্শ একটিমাত্র নয়। পৃথিবীর ইতিহাস, তা যেভাবেই যাচাই করা হোক, আরোহী বা অবরোহী যে উপায়েই হোক, দেখা মেলে অজস্র আদর্শের। দেখা পাই এই সমস্ত আদর্শের লড়াই, গোপনে বা প্রকাশ্যে। কখনো একটি আদর্শ জেতে, বাকিগুলো হেরে যায়। হারা আদর্শ আর গুরুত্ব পায় না, প্রচার পায় জয়ী আদর্শটি। তবে যেই আদর্শই হোক, ঐশী বা অনৈশী সমস্তের মুল কথা হলো মানুষের সামষ্টিকভাবে অরো ভালো থাকবার উপায়, প্রাণ হিশেবে মানুষের চাহিদাগুলো মেটানো, আর মানবিক অন্যান্য সৃষ্টিশীলতা এসবের চর্চার পথ সুগম করা। তা মহাআদর্শ থাকুক বা না থাকুক, এইটুকু চাই-ই চাই। মানুষ জগতের শ্রেষ্ঠ হোক বা না হোক, এইটুকু চাই-ই চাই। যদিয়ো শোষণ, লুণ্ঠন, ধর্ষণ, ইত্যাকার আদর্শের দোহাই দিয়েয়ো চলেছে। তবে হেরে যাওয়া আদর্শ নিয়ে মানুষ মাথা ঘামাতে নারাজ, যদি না তা বিশ্বাসের বস্তু ধর্মের মতো কোনো বিষয় হয়। তবে তত্ত্বের অবক্ষয় বা তার ব্যবহারিক ব্যর্থতা সবসময় এটা নিশ্চিত করে না যে আদর্শটি বা অনাদর্শটি বা মতবাদটি কতটা ঠিক, কতটা বেঠিক। তবে যদি তত্ত্বের ভেতর থাকে পরিবর্তনের পরিবর্ধনের বিবর্তনের বিষয়গুলো, তা ঐশী হোক বা অনৈশী, তবে তা চলতে পারে, এগিয়ে যায়, প্রাচীনবাদিতা প্রতিক্রিয়াশীল শাস্ত্রিক ঝামেলাগুলো থেকে বেরুতে পারে। যদিয়ো আধুনিক বলতে আমরা যা বুঝি তা আর যাই হোক হিপহপ নয়। এমনকি উত্তরআধুনিক ধারণাগুলোয়ো তা বলে না। তবে যার যার মত প্রকাশের দাবি বহাল রাখে। তা গণতন্ত্রেয়ো হয়, যদি তার ভেতর শিক্ষা থাকে। তবে কাকে বলবো শিক্ষা তায়ো একটা তর্কসাপেক্ষ বিষয় বটে! তবে এই কথাটা ঠিক যে মানুষ চিরিদিন বাঁচে না, এটাকে সার্বজনীন মহাবৈশ্বিক সত্য বলা যায়। এবং সে কারণেই মানুষ কি কেবল সুখবাদী হবে, না তার মৃত্যুর পরকে (পরের প্রজন্ম বিষয়ে) নিয়েয়ো ভাববে তা একটা গুরুত্ব অবশ্যই রাখে। হাজার না জানার পরেয়ো যা জানি তার উপর ভর করে এই দাবি। সেই জানা-কে আরো বাড়িয়ে তোলার দাবি। এই দাবি মানুষের অহমকে প্রকাশ করে, তবে সেই অহম কার বিরুদ্ধে কার পক্ষে তা ভেবে দেখবার আছে। তার ভেতর যদি মানুষের জ্ঞান আর প্রজ্ঞার ক্রমউন্নয়েনর বিষয়টি থাকে তবে তা মেনে নেয়া যায়। তবে এই দিকরেখাটি কেমন করে তৈরি হবে, তা বলা মুশকিল। তবে এ কথা ইতিহাস থেকে পরিষ্কার যে, সত্য মেরুতে বাস করে না, করে মধ্যমে। তবে তা গাণিতিক গড়ের মত কোনো বিষয় না বলে তা নির্ধারণ সবচে কঠিন। তাই বিজ্ঞান সেখানে কাজে আসলেয়ো পুরোপুরি আসতে পারে না, আসে দর্শন, এবং সেই দর্শন (তা যেমনতরই হোক) তাতে এই হাজার দ্বন্দ্বের অন্তত একটা আপাত উত্তর তো থাকা চাই। তবে তাকে ব্যবহারের বা প্রয়োগে পারদর্শিতা আর একটা বিষয়।

গৌরচন্দ্রিকা আর না বাড়িয়ে বলি, বাংলাদেশ এমন একটা আদর্শ নিয়ে শুরু হয়েছিল। তার নাম বাঙালি জাতীয়তাবাদ। জাতীয়তাবাদ উগ্র হয়। তবে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদ তেমন ছিল না। তা ছিল সৌম্য, কারণ তার ভেতর ছিল গণতন্ত্র সমাজতন্ত্র অসাম্প্রদায়িকতার এমন আরো অনেক দর্শনের একটা মিশেল। মিশেলটা কতটা সমসত্ত্ব ছিল তা ভাবার বিষয়। তবে তাতে ছিল প্রগতির চিহ্ন। এটাই তার দিকদর্শিতা, যদিয়ো রাষ্ট্র হিশেবে ১৯৭১ এ এই দেশের জন্মের পর তার নানা লঙ্ঘন দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ শিকার হয়েছে নানা বিভীষণীয় আর বহির্দেশীয় ষড়যন্ত্রের। এখনো হচ্ছে। দেশটি ক্রমে বিক্রি হয়েছে অর্থনীতিতে, রাজনীতিতে এবং অন্যান্য হাজার কিছুতে। নিজের মা-কে নিয়ে বেশ্যাবৃত্তিতে নামার বিষয়টি ইতিহাসে বিরল নয়, এর মানসিকতার ব্যাখ্যা মনোবিজ্ঞানীরা দেবেন। বাংলাদেশের বেলাতেয়ো তাই ঘটেছে। আমাদের পিতারা সোল্লাসে বিক্রি করেছেন আমাদের মাতৃভূমিকে। আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এমন খদ্দেরদের যারা আমাদের কম টাকায় কিনে নিয়েছে। আর আমরা সোল্লাসে সেই ধর্ষণ দৃশ্যের দর্শক হয়ে থেকেছি। কেউ যে প্রতিবাদ করেনি তা না। কিন্তু তাদের কথায় কাজ বেশি হয় নি। বাংলাদশেকে বিক্রি করা হয়েছে এক এক করে গত ৩৮টি বছর ধরে। তবে খুব ভালো বেশ্যা হিশেবে তার কদর হয়নি। সে খুব ভালো বেশ্যা হতে পারেনি তার কারণ এই দেশের মানুষের হৃদয়ে, এই দেশের ঐতিহ্যে আর ইতিহাসে একটা না-বলার স্বর সবসময়ই ছিল। তাই সে ভালোমতো ছিনালি করতে পারেনি বা পারছে না। তবে তার শিরায় দূষিত দাসমনোবৃত্তির রক্তই যেন এখন সবেগে ছুটছে। এই আমাদের ইতিহাস গত ৩৮টি বছরের। তবে প্রতিবাদটা আসে ঐতিহ্যের কাছ থেকে। নিরীহ আলাভোলা বিক্রয়োন্মুখ বাঙালি সবসময় নিরীহ থাকে না সেইখান থেকে। এইটুকু বলে আর কথা না বাড়াই।


প্রশ্ন হলো এই বিক্রি কারা করেছে বাংলাদেশকে। করেছে সবাই মিলে। কেউ দর্শক, কেউ নিজেই ধর্ষক। তবে এই ঈদিপাসীয় গূঢ়ৈষার সবচে বড় ভাগীদার হলেন সমস্ত দলের প্রায় সমস্ত রাজনীতিক, যারা একদা হয়তো ছিলেন নিষ্কাম। তবে এই প্রতিযোগিতায় সবচে এগিয়ে সমরনায়কেরা। তারা অপ্রতিরোধ্য এই কাজে, তাদের তুল্য কেউ নাই। তারা যেন একেকজন রাবণ। তারা উন্মত্ত ভোগী লিঙ্গপূজারী, তারা হন্তারক, পাপী, কলুষ এবং মানসিকভাবে অসুস্থ মনোবকিলনগ্রস্ত একেকজন। যদিয়ো-বা তাদের প্রতিষ্ঠানগুলোতে ইদানীং ভর্তি করানো হয় মেয়েদের। কিন্তু আমাদের মনে রাখ চাই পুরুষতন্ত্র একটি মানসিক বিষয়, তা থাকতে পারে পুরুষ স্ত্রী হিজড়ে সকলের, এবং একটি অচিকিৎস্য ব্যাধিস্বরূপ। বা এর চিকিৎসা সুদূরপরাহত, অন্তত ইতিহাস তাই বলে। আমি এই বিকারের একটি নাম দিয়েছি তা হলো আলেকজান্দ্রীয় বিকার। এই বিকার ধর্মবর্ণগোত্রলিঙ্গজাতিনির্বিশেষে সকলকে পেয়ে বসতে পারে যখন তখন। এতে আক্রান্ত মানুষ মৃগী রোগীর মতো হয়ে যায়, তার জয় করতে ইচ্ছা হয় সব কিছুকে, ঋণাত্মক অহম তাকে পেয়ে বসে, সে নিজেকে মনে করে ঈশ্বর বা ঈশ্বরের দূত, এই বিকার প্রাচীন আর আধুনিক যুগের প্রায় সকল সমরনায়কের আন্তরিক প্রতিভাস। এই বিকার এতই সংক্রামক যে তা পেয়ে বসতে পারে যে কাউকে,যে কোনো বয়েসের মানুষকে, এমনকি তথাকথিত ধার্মিক বা দার্শনিকদের। তবে এতে সিদ্ধহস্ত কেবল সমরনায়কেরা। তারা একেকজন উন্মত্ত নেকড়ে, শিকারি বাঘ, হিংস্র হায়েনা যেন। কেনো তারা এমন? তার কোনো সহজ উত্তর নাই। বা থাকলেয়ো আমি জানি না। বাংলাদেশের বেলায় এই উন্মাদনা প্রথম দেখা যায় ১৯৭৫ এর ১৫ই আগস্ট এ। এই তার শুরু। তারপর দীর্ঘদিন মাতৃধর্ষণ, এমনকি এই ছলনাময়ী গণতন্ত্রের সময়কালেয়ো। এবং মনে রাখা চাই বা জনে নেয়া চাই এই বিকারের সবচে বড় ভুক্তভোগী বাংলাদেশের একটি দলের প্রতিষ্ঠাতা- যার নামটি মুখে নেয়া মাত্র এই বিকার পেয়ে বসতে পারে বিধায় তা মুখে নেয়া যাচ্ছে না- কারণ তার যোগ্য উত্তরসূরিরা বেঁচে আছেন এখনো। এবং বিকারকে প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছেন আন্তরিকভাবে। এবং এয়ো সত্য যে তিনি নিজে এই বিকারের শিকার, এবং এই বিকারই তার জন্যে বুমেরাং, এবং তার নৃশংস মৃত্যুর একমাত্র কারণ।


১৯৭৭ এর ২রা অক্টোবর এর কথায় আসি এইবার। বিকারগ্রস্তমানুষটির বিপরীতে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন সামরিকবাহিনীর ভেতরকার কেউ কেউ। এর আগে একজন দাঁড়াতে গিয়েছিলেন, তিনি কর্ণেল তাহের, তাকে বিকারগ্রস্ত মানুষটি হত্যা করেছিলেন নৃশংসভাবে। তবে বাংলাদশের ইতিহাসের সবচে বড় নিধনযজ্ঞটি তিনি পরিচালনা করেছিলেন নিজের কমাণ্ডে, নিজের আওতায়, নিজের অমানবিক কলুষিত হস্তক্ষেপে। আর তা ঘটেছিল ১৯৭৭ এর ২রা অক্টোবরকে কেন্দ্র করে। বিকারগ্রস্ত মানুষটির বিপরীতে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন সেনাবাহিনীর একাংশ, এবং মূলত বিমানবাহিনী। তারা ফিরে যেতে চেয়েছিলেন বাঙালির আদর্শে, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মৌলিক প্রস্তাবনায়, এটাই ছিল তাদের অন্যায়। ১৯৭৭ এর ২রা অক্টোবরের ব্যর্থ অভ্যুত্থানটি তাই বাংলাদশের শেষ স্বাধীনতার পক্ষের বিপ্লব। তারপর আর এমনটি হয়নি এবং নাতিদূর ভবিষ্যতে তা হবে বলে মনে হয় না। এই ক্রোধে ক্রোধান্বিত মানুষটি তাই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হত্যা করেছিলেন প্রায় ১৪০০ সৈনিককে বিদ্রোহ পরবর্তীকালে এই দায়ে। দমন করেছিলেন কঠোরভাবে। সংখ্যাটি নিয়ে মাথা ঘামানোর আছে, একজন মানুষের নির্দেশে হত্যা করা হয়েছে ১৪০০ জনকে। যদিয়ো এই বিকারের উত্তরসূরিদের আমরা ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছি বেশ কয়বার। এবং খুনীদের করেছি আমাদের ভাগ্যবিধাতা। কারা বিপ্লব করেছিল তা নিয়ে আছে বিভিন্ন মত। কোন আদর্শে বিপ্লব করেছিল তা নিয়েয়ো আছে বিভিন্ন মত। এবং তা এই বিকারআক্রান্ত মানুষটি এবং তার পূজারিদের কারসাজি। যারা এখনয়ো দিব্যি পাজেরো হাকাচ্ছে, মহতী বুলি দিচ্ছে, আমরা সেই বৃন্তউচ্ছিষ্টভোগী।

এখানে তুলে দিচ্ছি অ্যান্থনী ম্যাসকার্নহাস এর 'বাঙলাদেশ: এ লিগ্যাসি অব ব্লাড' বইয়ের দ্বাদশ অধ্যায় 'অভ্যুত্থান, বিদ্রোহ আর প্রাণদণ্ড' এর কিছুটা অংশ।

‌'ইতিমধ্যে বিদ্রোহ বিমানবন্দরে ছড়িয়ে পড়ে এবং নৃশংস আকার ধারণ করে। বিদ্রোহীরা প্রথমে বিমান বন্দরের হ্যাঙ্গারের সামনে দুজন বিমান বাহিনীর তরুণ অফিসারকে গুলি করে হত্যা করে। তারপর গ্রুপ ক্যাপ্টেন মাসুদকে বিমান বাহিনীর প্রধানের সামনে গুলি করে হত্যা করা হয়। বিমানবাহিনীর প্রধান( এয়ার ভাইস মার্শাল এ. জি. মাহমুদ)অলৌকিকভাবে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পান। সেখানে আরো যারা মারা যান তারা হচ্ছেন- গ্রুপ ক্যাপ্টেন আনসার আহমেদ চৌধুরী, উইং কমাণ্ডার আনোয়ার শেখ, স্কোয়াড্রন লিডার মতিন, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট শওকত জান চৌধুরী এবং ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট সালাহ্‌উদ্দিন আহমেদ খান( তৎকালীন বিমানবাহিনীর প্রধানের এডিসি), ফ্লাইং অফিসার মাহবুবুল আলম এবং আক্তারুজ্জামান এবং তিনজন পাইলট অফিসার..............।' [ব্র্যাকেটের সংযোজনগুলো আমার নিজের]


প্রশ্নটি হলো- এই প্রথম দফার হত্যাকাণ্ডটি কার? যা ঘটেছিল ১৯৭৭ এর ২রা অক্টোবর এ। প্রথম দফায় হত্যা করা হয়েছিল বিমানবাহিনীর ১১ জন নেতৃস্থানীয় অফিসারকে। এই প্রশ্ন অমীমাংসিত। দেখতে পাচ্ছি উল্লিখিত অধ্যায়টিতে যে বিকারগ্রস্ত মানুষটি আগেভাগেই জেনে গিয়েছিলেন এই বিদ্রোহ সম্পর্কে। মিশরের গোয়েন্দারা তাকে জানিয়েছিল যে বিমানবাহিনী এই বিদ্রোহ করতে যাচ্ছে। তিনি ছিলেন তখন মিশরে। তাহলে কি পুরো হত্যাকাণ্ডটি ছিল শুরু থেকেই বিকারগ্রস্ত মানুষটির নিয়ন্ত্রণে। তিনি হত্যা করেছিলেন ১১ জন অফিসারকে? (যারা অগত্যা ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল জাপানী রেড আর্মির হিদাকা ইউনিটের ছিনতাই করা একটি বিমান নিয়ে, যা তারা অবতরণ করিয়েছিল ঢাকায়), তার পর তিলে তিলে ১৪০০ জনকে। এবং রটিয়েছেন যে তার বিরুদ্ধে করা বিদ্রোহের কারণে তিনি বিচার করছেন। দেশকে সুসমৃদ্ধ করছেন। দেশকে পবিত্র করছেন। এই প্রশ্নের উত্তর জানা যায় নি। ২রা অক্টোবরের তদন্ত হয়নি, এবং কোনোদিন হবে না এটাই এই দেশের অলিখিত বাঞ্ছা। তদন্ত হয়নি তার পর ধীরে ধীরে হত্যা করা ১৪০০ জন সৈনিকের হত্যাকাণ্ডের। এবং সূচিত হয়েছে একটি নিষ্ফল বিদ্রোহের এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষের শেষ সামরিক অভ্যুত্থানটির এমনতর গর্ভপাত। এবং বিকারগ্রস্তদের উল্লাস। যা আজো শুনতে পাচ্ছি এই দেশের দূষিত বাতাসে। বিকারগ্রস্ত মানুষটির( হাজার হাজার মানুষের তিনি আরাধ্য দেবতা এই দেশে) একটি উক্তি দিয়ে লেখাটি শেষ করছি, তা নেয়া হয়েছে উল্লিখিত তথ্যসূত্র থেকে:

'যতক্ষণ পর্যন্ত ওরা না মরে, ততক্ষণ পর্যন্ত ওদের গলায় ফাঁসি লাগিয়ে ঝুলিয়ে রাখো'









 

সর্বশেষ এডিট : ০২ রা অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১১:০৯ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০২ রা অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৩:০০
ফিউশন ফাইভ বলেছেন: লিগাসি অফ ব্লাড থেকে উদ্ধৃত নাতিদীর্ঘ অংশটুকু ছাড়া পুরো পোস্টটাই পণ্ডশ্রম - সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের প্রচারপত্রের মতো। দুঃখিত।
০২ রা অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৩:১৭

লেখক বলেছেন: ধৈর্য্যের সাথে পড়বার জন্য ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।

২. ০২ রা অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৩:৩৪
ওয়াচডগ৫৭ বলেছেন: বিকারগ্রস্ত মানুষটির নাম নিতে এত দ্বিধা কেন? আপনার জন্যে সহজ করে দেই, স্বনাম ধন্য জেনারেল জিয়া। এবং এই সে জিয়া যিনি রক্তের সাগরে অবগাহন করে প্রথম বাংলাদেশে আমার শেষ বাংলাদেশ গানে গানে বাংলাদেশের পরতে পরতে নষ্টামীর বীজ বপন করেছিলেন। রক্তাক্ত নদীর জোয়াড়ে ভেসে এই দূষিত রক্তের আবির্ভাব, আবার একই নদীর ভাটায় এর প্রস্থান। দুঃখ কেন? তার পাওনা ত সে পেয়ে গেছে। গামছা দিয়ে কুড়াতে হয়েছিল এই জল্লাদের লাশ!
৩. ০২ রা অক্টোবর, ২০০৯ ভোর ৬:১২
তাহ্‌লীল আহেমদ চৌধুরী বলেছেন: "তবে এই প্রতিযোগিতায় সবচে এগিয়ে সমরনায়কেরা। তারা অপ্রতিরোধ্য এই কাজে, তাদের তুল্য কেউ নাই। তারা যেন একেকজন রাবণ। তারা উন্মত্ত ভোগী লিঙ্গপূজারী, তারা হন্তারক, পাপী, কলুষ এবং মানসিকভাবে অসুস্থ মনোবকিলনগ্রস্ত একেকজন।"

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ আর্মিকে যোগ্য মর্যাদা না দেয়ায় এবং তার ব্যার্থতার কারনে ১৯৭৫ সালে জাতির জনককে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকান্ডের আগে তাজউদ্দিন আহমেদ বাকশাল গঠন করায় বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলেন যে তিনি এর মাধ্যমে তাকে ক্ষমতা থেকে অপসারন করার সব শান্তিপুর্ণ পথকে তিনি বন্ধ করে দিলেন।

তার পরবর্তী সময় দেশ খুবি অস্থীতিশীল অবসথায় ছিল।তাই একের পর এক সামরিক অভুথ্যান।

আর একটা ব্যাপার আজগুবি লাগল আজ পর্যন্ত ১৯৭৭ সালের বিদ্রোহ নিয়ে অনেক মন্তব্য শুনেছি কিন্তু "বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষের শেষ সামরিক অভ্যুত্থানটির" এমন মন্তব্য প্রথম!!!!


"মিশরের গোয়েন্দারা তাকে জানিয়েছিল যে বিমানবাহিনী এই বিদ্রোহ করতে যাচ্ছে। তিনি ছিলেন তখন মিশরে। "

এই তথ্যের রেফারেন্স দিতে পারবেন?? কারন জাপানি রেড আর্মি তখনও ঢাকা এয়ার পোর্টের দখলে। তখন কোন দেশের প্রেসিডেন্ট অন্য দেশে সফরে থাকবেন এটা গাজাখুরি।আর বিদ্রহীরা জিয়ার বাসায় হামলা করেছিল তাকে মারার জন্য। কিন্তু ব্যার্থ্য হয়।তিনি যদি দেশেই না থাকেন তাহলে তার বাসায় হামলা কেন হবে???

আর আমি এটা শিকার করি তিনি একটা জল্লাদ ছিলেন।বিচারের নামে গনহত্যা করেছিলেন। তাকে পশু বললে ভুল হবে না।

কিন্তু আপনার এই পোষ্ট ইচ্ছাকৃত ভাবে সেনাবাহিনীর সম্পর্কে ভুল এবং আজগুবি তথ্য প্রদান করে বিদ্বেষ ছড়ানোর প্রচেষ্টা ছাড়া আর কিছু না।

মাইনাস।
০২ রা অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ৮:০০

লেখক বলেছেন: আমি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বলি নাই। আমি বলেছি সমরায়ন আর সমরনায়কদের বিরুদ্ধে। এই দুইয়ের ফারাক নিশ্চয় আপনি বুঝেন। না হলে সমরনায়কটিকে 'জল্লাদ' বললেন কেনো? পৃথিবীর ইতিহাসে তাকিয়ে দেখেন সমরায়ন আর সমরনায়কদের কুৎসিত নৃশংস প্রভাব।

কেবল ঐ কারণগুলোতে শেখমুজবকে হত্যা করা হয়েছিল? তা হলে তো দেশে এর পর সোনা ফলার কথা। শ্রদ্ধেয় তাজ্‌উদ্দিন আহমেদ এর বেঁচে থাকার কথা?! তাই নয় কি?

রেফারেন্সটি দেয়া আছে। পুরো দ্বাদশ অধ্যায়টি পড়বেন। ইতিহাস মেলানোর ঘোর কেটে যাবে।


একটা জিনিশ প্রথম শুনলেন বলেই আজগুবি মনে হলো?! আমি আপনাকে চিলের পেছনেয়ো দৌড়াতেও বলছি না। কর্নেল তাহের নিয়ে আপনার মনোভাব জানা বাঞ্ছনীয়। না হলে এর উত্তর দেয়া যাচ্ছে না। দুঃখিত।

এই ঘটনার পর জল্লাদ (আপনার ভাষায়) নিষিদ্ধ করেছিলেন বামপন্থী জাসদ, মণিসিংহের কমিউনিস্ট পার্টি এবং আর একটি ডানপন্থী দল ডেমোক্র্যাটিক লীগকে < রেফারেন্স: ড: মোহাম্মদ আব্দুল ওদুদ ভূইয়া রচিত 'আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান' বইটি। এই নিষিদ্ধকরণকে যদি আপনার হরকাতুল মুজাহিদিন নিষিদ্ধ করার মত মনে হয়। তাহলে বলার নেই কিছুই!

আপনার দীর্ঘ মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।


৪. ০২ রা অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ৭:৪৩
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন:
রক্ষীবাহিনী দিয়ে ৪০ হাজার মানুষকে কোন বিচারে হত্যা করা হয়েছিল..........???
০২ রা অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ৮:০৬

লেখক বলেছেন: এটা কি মধ্যযুগ? যে এক খুনের জন্য আরো একটা খুন?! রক্ষীবাহিনী ঐ একই বিকারে আক্রান্ত একটা বাহিনী। খালি তার কলকাঠি ছিল আরেক রকম। এই বিকারের হাতে বিনা বিচারে একজন মানুষ মারা গেলেয়ো তার বিচার চাই। সেটাই আসল কথা! সেটাই নির্মোহ রাজনীতিক চিন্তা!

৫. ০২ রা অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ৭:৪৯
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন: @ওয়াচ ডগ ও লেখক:

১৪০০ কোর্ট মাশাল হওয়াতে জিয়া জল্লাদ, আপনাগো পিতা ৪০ হাজার মানুষ মারছে রক্ষী বাহিনী দিয়া হেরে কি কইবেন...??

আপনাগো বইনে ৭৫ অফিসার মাইরা ম্যানহোলে ফালাইছে, নারী-শিশুদের ৩৪ ঘন্টা আটকে রেখে গণ ধর্ষণ করেছে, ৪৬ জন বিডিআর মাইরা গামছা দিয়া ঝুলাইয়া রাখছে তারে কি কইবেন....??

৭ হাজার বিডিআরকে ফাসিতে ঝুলানোর বন্দোবস্ত করতাছে, হেইডা কে কইবো........???

০২ রা অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১১:০৩

লেখক বলেছেন: লেখাটা মন দিয়া পড়েন ভাই। কারে কখন পিতা বললাম? জাতির পিতা ধারণাটাই একটা অতিকল্পনা। একটা শভিনিস্ট ফাজলামি। কাউকে অমনিভাবে সম্মান দেয়া যায় কি? বাস ট্রাক ফেরির নাম রেখে রেখে। কে কারে দোষে? সকলি আমার পাপ, তোমার পাপ। তবে পাপ বইলা পালায়ে কী বেশি দূর যাওয়া যাবে? নির্মোহ না হইলে কোনো লাভ নাই।

আগের ঘটনার বিচার চাই, এখন যা ঘটছে তারো। আমরা প্রথমে চাইতে পারি। তারপর না দিলে আদায় করে নেবার কাজ তো আমাদেরই। তবে অবশ্যই তা নির্মোহভাবে। নইলে আসল শত্রু সবসময় পালিয়ে যায়। আমরা যাদের ব্যক্তিপূজায় অভ্যস্ত, সেই পূজা আমাদের কোনোদিন কিছু দেবে না।

৬. ০২ রা অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১০:৪৭
জর্জিস বলেছেন: বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত এর প্রশ্নের জবাব চাই।
০২ রা অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১১:০৫

লেখক বলেছেন: পরতে পরতে জবাব লুকায়ে আছে। পড়েন, পেয়ে যাবেন।

৭. ০২ রা অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১১:৩৩
জর্জিস বলেছেন: মেহবুব রেহমান খান,
আপনার লেখাটি একতরফা মুলক। লেখায় আপনি তথাকথিত সমরনায়ক (জেনারেল জিয়া) বা সমরনায়কদেরকে অভিযুক্ত করেছেন। ভাল কথা। যুক্তিযুক্ত কথা। কিন্তু আপনি এটাও জানেন যে স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত এদেশে মুক্তিযোদ্ধা থেকে শুরু করে অসংখ্য নিরীহ মানুষ হত্যা করা হয়েছে। এবং এর জন্য যে শুধুমাত্র জেনারেল জিয়া বা অন্যান্য সমরনায়কেরা দায়ী তা আপনি বলতে পারেন না। তার কিছুটা উদাহরণ আপনি পেয়েছেন বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত এর মন্তব্য থেকে। বাংলাদেশের নিরীহ মানুষ হত্যার কথা বলতে গিয়ে শুধুমাত্র জেনারেল জিয়ার নাম নিলে চলবে না অন্যান্য সকল হত্যাকারীর নাম সামনে আনতে হবে।


লেখক বলেছেন: পরতে পরতে জবাব লুকায়ে আছে। পড়েন, পেয়ে যাবেন।

ভাই, আপনি যদি জানেন তাহলে এইসব জবাব লুকিয়ে রেখে কি লাভ?? এই জবাব গুলো সহজলভ্য করা উচিত নয়?? নইলে সবাই প্রকৃত ইতিহাস জানবে কি করে।
০৩ রা অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১২:৩০

লেখক বলেছেন: অবশ্যই। আপনি যা বলেছেন, তা ন্যায়সঙ্গত। তা অবশ্যই করা চাই। এবং সময়মতো নিশ্চয় হাজির করা হবে। সব কিছুর বিশ্লেষণ কি একই সাথে একই দিনে করা যায়? ধন্যবাদ।

৮. ০২ রা অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১১:৫৭
হাসান শহীদ ফেরদৌস বলেছেন: ্জিয়া তখন মিশরে ছিল, এই তথ্যটি ঠিক না। মিশরের আনোয়ার সাদাত তাকে সাবধান করে দেয়, তিনি বাসা ছেড়ে বিশ্বস্ত একটি সেনা ইউনিটে অবস্থান নেন এবং তাদের দিয়ে এমবুশ তৈরি করেন। পড়ে দেখতে পারেন - তিনটি সেনা অভ্যুত্থান ও কিছু না বলা কথা, লে কর্নেল আব্দুল হামিদ।
০৩ রা অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১২:৪৫

লেখক বলেছেন: লেখায় কোথায়ো বলি নাই যে অভ্যুত্থানের সময় জিয়া মিশরে ছিলেন। বলেছি তিনি মিশরে গিয়েছিলেন এবং (সেখানেই আনোয়ার সাদাত এবং তার গোয়েন্দারা), তাকে এই অভ্যুত্থান সম্পর্কে আগে জানিয়ে দেয়া হয় সেখানেই।

ঘটনাটা ২রা অক্টোবর এর। অ্যান্থনি ম্যাসকার্নহাস এর বই থেকে উদ্ধৃতি দিচ্ছি:

'১৯৭৭ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জেনারের জিয়া মিশরের প্রেসিডেণ্ট আনোয়ার সাদাত-এর সংগে পরবর্তী বছর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশের সদস্য পদের ব্যাপারে আলোচনা এবং সমর্থন আদাযের জন্র কায়রোতে যান।..................কায়রো থেকে জিয়া দেশে ফিরবেন ২৭ শে সেপ্টেম্বর। পরদিন অর্থাৎ ২৮ তারিখে বিমান বাহিনী দিবস।

.....................

২৭ শে সেপ্টেম্বর ঢাকায় জিয়া বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল এ. জি. মাহমুদকে হাতে লিখে একটি ছোট নোট পাঠিয়ে দেন। তিনি ঐ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারছেন না বরে নোটে উল্লেখ করেন। এতে তিনি কোনো কারণ দেখান নি। কিংবা সাদাতের সতর্কবাণীর কথা উল্লেখ করেননি। সম্ভবত জিয়া বিমানবাহিনীর প্রধানের আনুগত্য সম্বন্ধে নিশ্চিত ছিলেন না...........'। কাজেই প্রস্তুতির সময় জিয়া পেয়েছেন ভালো মতোই। এবং সে কারণেই প্রশ্ন যে বিমান বাহিনীর যেই অফিসারদের(১১ জন) প্রথমে হত্যা করা হয়েছিল তাদের কি হত্যা করেছিল বিদ্রোহীরা না কি জিয়া নিজেই?

কারণ তিনি পুরো ঘটনার নিয়ন্ত্রণ নিতে পেরেছিলেন খুব দ্রুতই।

৯. ০২ রা অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১:৪৮
জর্জিস বলেছেন: হাসান শহীদ ফেরদৌস ভাই@

বইটার লিংক দিতে পারবেন?
১১. ০২ রা অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৩:২২
বিদগ্ধজন বলেছেন: গেলমানগিরি করতে করতে ক্লান্ত, পাগল হইতো তোর আর বাকি নাই।
০৩ রা অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১২:৪৮

লেখক বলেছেন: ক্যান তোর কি হুর পছন্দ? তোর মতো সভ্য এখনো হইতে পারি নাই। হইলে জানামু।

১২. ০২ রা অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৩:৩২
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: এইটা কোনো বিচারেই স্বাধীনতার আদর্শ রক্ষায় শেষ অভ্যুত্থান হইতে পারে না। চরম ডানগো কলকাঠিতে চরম বামগো উস্কানিকে এই অভ্যুত্থান যার পূর্ব বাঙলা কম্যুনিস্ট পার্টি। কারা কারা জড়িত ছিলো নামগুলা আনোয়ার কবিরের তথ্যচিত্রেই পাইবেন। এই হঠকারিতার বেনিফিশিয়ারি জিয়া আর যার জন্য প্রচুর মুক্তিযোদ্ধা অফিসাররে মরতে হইছে। মূল উদ্দেশ্য একটাই, পাকিস্তান প্রত্যাগত (রিপার্টিয়েটেড) অফিসারদের অবস্থান আরো সংহত করা
০৩ রা অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৮:৪৫

লেখক বলেছেন: আপনার তথ্য(???) আর মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৭১১ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
সন্দেহে আছি সত্য
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই